ফন্ট সাইজ:
থিম:
শেষ নিঃশ্বাসেও তুমি

পর্ব 18

লেখক: Mafiya Queen

শেষ নিঃশ্বাসেও তুমি

লেখক: Mafiya Queen 👑

১৮তম পর্ব: নীরবতার পেছনে

সাদমানের ফোনে আসা ছবিটি দেখে সবাই অবাক হয়ে গেল।

চিঠির নিচে স্পষ্ট লেখা—

নিহারিকা রহমান।

নীরা অবিশ্বাসের চোখে তাকাল।

“ফুফু কি তাহলে সব জানতেন?”

ইমরান চুপ করে রইলেন। তাঁর চোখে তখন পুরোনো দিনের স্মৃতি ভেসে উঠছে।

নিহারিকা ধীরে বললেন,

“হ্যাঁ, আমি কিছু জানতাম। কিন্তু তোমরা যা ভাবছ, ব্যাপারটা ঠিক তেমন নয়।”

সাদমান প্রশ্ন করল,

“তাহলে আপনার নাম কামাল আহমেদের চিঠিতে কেন?”

নিহারিকা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।

“কারণ সেই সময় কামাল আমাকে একটি চিঠি দিয়েছিল। সেখানে সে স্বীকার করেছিল, ব্যবসার হিসাব নিয়ে বড় ধরনের ভুল হয়েছে। সে আমাকে অনুরোধ করেছিল, বিষয়টি যেন পরিবারের বাইরে না যায়।”

নীরা অবাক হয়ে বলল,

“আপনি কি বাবাকে কিছু বলেননি?”

“বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তার আগেই রাশেদকে অভিযুক্ত করা হয়। আমি তখন প্রমাণ ছাড়া কাউকে দোষ দিতে চাইনি।”

ইমরান এবার বললেন,

“তুমি আমাকে তখন কেন জানাওনি, নিহারিকা?”

নিহারিকা তাঁর দিকে তাকালেন।

“তোমাকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। দুর্ঘটনার পর সবাই ভেবেছিল তুমি আর ফিরে আসবে না। আমি একা হয়ে পড়েছিলাম।”

ইমরানের চোখে কষ্ট ফুটে উঠল।

“আমি ফিরে আসতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার কাছে থাকা কিছু নথি হারিয়ে গিয়েছিল। নিজের নিরাপত্তা নিয়েও ভয় ছিল।”

নিহারিকা নিচু গলায় বললেন,

“তাই বলে এত বছর?”

ইমরান কোনো উত্তর দিলেন না।

পরদিন সকালে নীরা ফুফুর সঙ্গে একান্তে কথা বলতে চাইল।

দুজন বাড়ির ছাদে গিয়ে বসল।

নীরা বলল,

“ফুফু, একটা কথা জিজ্ঞেস করব?”

“করো মা।”

“আপনি কি কখনো ভেবেছেন, আপনার নীরবতার কারণে আমার বাবা আরও বেশি কষ্ট পেয়েছেন?”

নিহারিকার চোখ ভিজে উঠল।

“ভেবেছি। প্রতিটি দিন ভেবেছি। আমি সাহস করে সত্যটা বলতে পারিনি। ভেবেছিলাম, সময় হলে সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু সময় সবকিছু ঠিক করেনি, বরং দূরত্ব বাড়িয়েছে।”

নীরা ফুফুর হাত ধরল।

“আমি আপনাকে দোষ দিতে চাই না। শুধু চাই, এবার আর কিছু লুকাবেন না।”

নিহারিকা মাথা নাড়লেন।

“আর কিছু লুকাব না, মা। তবে একটা কথা তোমাকে জানাতে হবে।”

“কী কথা?”

“কামালের সঙ্গে আমার শেষ দেখা হয়েছিল তোমার জন্মের কয়েক মাস আগে। সেদিন সে আমাকে বলেছিল, পুরোনো ব্যবসার হিসাবের বাইরে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি আছে। সেই নথিতে এমন একজনের নাম রয়েছে, যাকে সে কোনোভাবেই সামনে আসতে দিতে চায় না।”

নীরা অবাক হলো।

“সেই নথি কোথায়?”

নিহারিকা বললেন,

“আমি জানি না। তবে কামাল একবার বলেছিল, নথিটি রহমান পরিবারের পুরোনো বাড়িতে রাখা হয়েছিল।”

অন্যদিকে, আরিয়ান অফিসে বসে পুরোনো কোম্পানির রেকর্ড পরীক্ষা করছিলেন।

রাফি এসে জানাল,

“স্যার, আবদুল করিম সাহেবের কাছ থেকে আরও কিছু তথ্য পাওয়া গেছে।”

“কী তথ্য?”

“তিনি বলেছেন, পুরোনো রহমান বাড়িতে একটা কাঠের আলমারি ছিল। সেখানে ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র রাখা হতো।”

আরিয়ান উঠে দাঁড়ালেন।

“বাড়িটা এখন কার কাছে আছে?”

“জানার চেষ্টা করছি, স্যার।”

আরিয়ান বললেন,

“রাফি, সবকিছু যাচাই করে দেখো। কোনো অনুমান নিয়ে এগোবে না।”

সেদিন বিকেলে সাদমান বাবার পড়ার ঘরে গেল।

কামাল তখন একটি পুরোনো চিঠি পড়ছিলেন।

“বাবা, নিহারিকা ফুফুর নাম লেখা চিঠিটা কী?”

কামাল চিঠিটি ভাঁজ করে ড্রয়ারে রাখলেন।

“তুমি আবার এসব নিয়ে এসেছ?”

“আমি শুধু জানতে চাই, আপনি তাঁকে কেন চিঠি লিখেছিলেন।”

কামাল বিরক্ত হয়ে বললেন,

“সবকিছু জানার প্রয়োজন নেই।”

সাদমান এবার শান্ত কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠে বলল,

“আপনি যদি নির্দোষ হন, তাহলে সত্য বলতে সমস্যা কোথায়?”

কামাল ছেলের দিকে তাকালেন।

“তুমি কি জানো, তোমার মা-বাবার সংসার, তোমার ভবিষ্যৎ—সবকিছুর জন্য আমি কত কিছু করেছি?”

“আমি আপনার কাছে কিছু চাইনি, বাবা। শুধু চাই, আপনি অন্যায় করে থাকলে সেটা স্বীকার করুন।”

কামাল চুপ করে গেলেন।

কিছুক্ষণ পর তিনি বললেন,

“তুমি এখনো পুরো ঘটনা জানো না। রাশেদও সব সত্য বলেনি।”

সাদমান অবাক হলো।

“রাশেদ আঙ্কেল কী লুকিয়েছেন?”

কামাল কোনো উত্তর দিলেন না।

রাত আটটা।

ইমরান তাঁর পুরোনো কাগজপত্র গোছাচ্ছিলেন। হঠাৎ একটি ছোট্ট খাম চোখে পড়ল।

খামটি অনেক পুরোনো।

ভেতরে একটি চাবি এবং হাতে লেখা ছোট্ট কাগজ।

কাগজে লেখা—

“যদি কখনো সত্য প্রকাশের সময় আসে, তাহলে পুরোনো রহমান বাড়ির উত্তর দিকের ঘরটি খুঁজবে।”

ইমরান দ্রুত নিহারিকাকে ফোন করলেন।

“নিহারিকা, একটা জিনিস পেয়েছি।”

“কী পেয়েছ?”

“একটা চাবি। সঙ্গে পুরোনো বাড়ির একটা নির্দেশনা।”

নিহারিকা উত্তেজিত হয়ে বললেন,

“তাহলে আমাদের কালই সেখানে যেতে হবে।”

পরদিন সকালে নীরা, আরিয়ান, ইমরান, নিহারিকা ও সাদমান পুরোনো রহমান বাড়িতে পৌঁছাল।

বাড়িটি অনেক বছর ধরে খালি পড়ে আছে। চারপাশে নীরবতা।

নিহারিকা বাড়ির ভেতরে ঢুকে থমকে দাঁড়ালেন।

“এই বাড়িতে কত স্মৃতি জড়িয়ে আছে!”

ইমরান বললেন,

“চলো, উত্তর দিকের ঘরটা খুঁজি।”

অনেক খোঁজাখুঁজির পর তারা একটি পুরোনো কাঠের আলমারি খুঁজে পেল।

চাবিটি তালায় ঢোকাতেই আলমারি খুলে গেল।

ভেতরে কিছু পুরোনো ফাইল, ছবি এবং একটি ছোট ডায়েরি রাখা ছিল।

নীরা ডায়েরিটি হাতে নিল।

প্রথম পাতায় লেখা—

“যে সত্য এত বছর ধরে চাপা পড়ে আছে, তার সাক্ষী আমি নিজেই।”

নীরা অবাক হয়ে পাতা উল্টাল।

লেখাটি রাশেদ রহমানের!

সে দ্রুত বাবাকে ফোন করল।

“বাবা, তুমি কি পুরোনো রহমান বাড়িতে কোনো ডায়েরি রেখেছিলে?”

ওপাশ থেকে রাশেদ বললেন,

“কোন ডায়েরি?”

নীরা ডায়েরির প্রথম পাতার লেখা পড়ে শোনাল।

কিছুক্ষণ নীরব থাকার পর রাশেদ বললেন,

“নীরা, ওই ডায়েরিটা ভালো করে দেখো। কিন্তু তার আগে একটা কথা শোনো—ওখানে যা লেখা আছে, তা জানার পর তুমি হয়তো অনেক কিছু নতুন করে বুঝবে।”

নীরা উদ্বিগ্ন হয়ে বলল,

“কী লেখা আছে বাবা?”

রাশেদের কণ্ঠ ভারী হয়ে এল।

“সেই রাতের ঘটনার সাক্ষী শুধু ইমরান ছিল না। আমিও ছিলাম।”

নীরা স্তব্ধ হয়ে গেল।

“তুমি?”

“হ্যাঁ মা। কিন্তু আমি এতদিন চুপ ছিলাম, কারণ সেই ঘটনার সঙ্গে এমন একজন জড়িয়ে আছে, যাকে তুমি নিজের মানুষ বলে বিশ্বাস করো।”

নীরা ধীরে ফোন নামিয়ে নিল।

ঘরের সবাই তার দিকে তাকিয়ে আছে।

ডায়েরির পরের পাতায় একটি নাম লেখা—

“সামিরা রহমান।”

নিহারিকার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।

“সামিরা?”

ইমরান বিস্মিত কণ্ঠে বললেন,

“তাহলে সামিরাও সব জানত?”

কিন্তু নীরা এবার আর কোনো কথা বলল না।

কারণ সে বুঝতে পারছিল, তাদের পরিবারের পুরোনো রহস্য এখনো শেষ হয়নি।

চলবে…

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 18 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন