ফন্ট সাইজ:
থিম:
শেষ নিঃশ্বাসেও তুমি

পর্ব 59

লেখক: Mafiya Queen

শেষ নিঃশ্বাসেও তুমি

লেখক: Mafiya Queen 👑

৫৯তম পর্ব: C-14 ফাইলের অজানা ঠিকানা

পরদিন সকাল থেকেই নীরার মধ্যে একধরনের অস্থিরতা কাজ করছিল।

C-14 ফাইলটি কোথায় আছে, কে সেটি সরিয়েছিল, আর কেন পারিবারিক ট্রাস্টের বাইরে রাখা হয়েছিল—প্রশ্নগুলো বারবার মাথায় ঘুরছিল।

আরিয়ান অফিসে পৌঁছেই রাফিকে ডেকে পাঠাল।

—গুদামের ঠিকানাটা পেয়েছ?

রাফি একটি কাগজ এগিয়ে দিল।

—জি স্যার। পুরোনো ঠিকানাটা নারায়ণগঞ্জের দিকে। তবে জায়গাটা এখন একটি বেসরকারি সংরক্ষণাগারের অধীনে।

নীরা কাগজটি হাতে নিয়ে বলল,

—আমরা আজই যাব।

আরিয়ান তার দিকে তাকাল।

—যাব। তবে সেখানে যাওয়ার আগে একটা বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। ফাইলটি কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, তাই অনুমতি নিয়েই দেখতে হবে।

নীরা মাথা নাড়ল।

—আমি শুধু সত্যটা জানতে চাই।

১. পুরোনো সংরক্ষণাগার

দুপুরের দিকে নীরা, আরিয়ান, ইমরান ও রাফি সংরক্ষণাগারে পৌঁছাল।

জায়গাটি বেশ পুরোনো। লম্বা করিডরের দুই পাশে সারি সারি আলমারি। প্রতিটি আলমারিতে নম্বর দেওয়া।

সংরক্ষণাগারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি তাঁদের পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা করলেন।

—আপনারা C-14 ফাইলটি খুঁজছেন?

আরিয়ান বলল,

—জি। পুরোনো নথির তালিকায় এই নম্বর পাওয়া গেছে।

লোকটি একটি রেজিস্টার খুলে দেখলেন।

—ফাইলটি এখানে আসার রেকর্ড আছে। তবে অনেক দিন আগে সেটি অন্য একটি শাখায় পাঠানো হয়েছিল।

নীরা অবাক হয়ে বলল,

—কোথায়?

লোকটি রেজিস্টারের পাতায় আঙুল রাখলেন।

—এখানে লেখা আছে, “বিশেষ যাচাইয়ের জন্য সাময়িকভাবে স্থানান্তর।”

ইমরান জিজ্ঞেস করল,

—কার কাছে?

লোকটি পাতাটি আরও ভালো করে দেখলেন।

—প্রাপকের নামের জায়গায় শুধু একটি কোড লেখা। S-09।

নীরা আরিয়ানের দিকে তাকাল।

S-09!

নাসিমা বেগমের নামে থাকা পুরোনো লকারের নম্বর ছিল ০৯।

২. নাসিমার সঙ্গে যোগাযোগ

আরিয়ান সঙ্গে সঙ্গে নাসিমা বেগমকে ফোন করল।

—নাসিমা খালা, আপনার কাছে কি S-09 কোডের কোনো নথি ছিল?

ওপাশ থেকে কিছুক্ষণ নীরবতা।

তারপর নাসিমা বললেন,

—S-09... এই কোডটা অনেক পুরোনো। তবে আমার মনে আছে, একবার আমাকে একটি ফাইল গ্রহণ করতে বলা হয়েছিল।

নীরা ফোনের কাছে এগিয়ে এল।

—ফাইলটির নাম কি C-14 ছিল?

নাসিমা কিছুক্ষণ ভেবে বললেন,

—সম্ভবত। কিন্তু আমি ফাইলটি নিজের কাছে রাখিনি। আমাকে শুধু গ্রহণের স্বাক্ষর দিতে বলা হয়েছিল।

—কার কাছ থেকে পেয়েছিলেন?

—একজন অফিস সহকারী নিয়ে এসেছিল। তার সঙ্গে একটি ছোট চিঠি ছিল। চিঠিতে লেখা ছিল, ফাইলটি যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দেওয়া যাবে না।

আরিয়ান জিজ্ঞেস করল,

—চিঠিটি কি এখনো আপনার কাছে আছে?

—জানি না। তবে পুরোনো কাগজপত্রের মধ্যে খুঁজে দেখতে পারি।

নীরা বলল,

—দয়া করে খুঁজবেন। এই ফাইলটি আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।

৩. একটি পুরোনো খাম

বিকেলের দিকে নাসিমা বেগম আবার ফোন করলেন।

—নীরা মা, একটা খাম পেয়েছি।

নীরা দ্রুত বলল,

—খামের মধ্যে কী আছে?

—একটি ছোট চিঠি আর গ্রহণের রসিদ। তবে চিঠিতে প্রেরকের নাম নেই।

তিনি চিঠির ছবি পাঠিয়ে দিলেন।

নীরা ছবিটি খুলল।

চিঠিতে লেখা—

“C-14 ফাইলটি আপাতত সংরক্ষিত থাকবে। এতে থাকা আর্থিক হিসাব এবং হাসপাতালের সংযুক্ত কপিকে আলাদা করে যাচাই করতে হবে। কোনো একটি বিষয়ের সিদ্ধান্ত অন্যটির ওপর নির্ভর করে নেওয়া যাবে না।

যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত মূল নথি কারও হাতে দেওয়া যাবে না।”

নিচে তারিখ—২১ সেপ্টেম্বর, ২০০৮।

আর কোনো নাম নেই।

শুধু একটি সিল।

বিশেষ নথি যাচাই বিভাগ।

ইমরান বলল,

—দেখেছ? কেউ তখন থেকেই জানত, দুটি বিষয় আলাদা করে যাচাই করা দরকার।

আরিয়ান বলল,

—কিন্তু কে এই নির্দেশ দিয়েছিল, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

৪. রসিদের পেছনের লেখা

নাসিমা বেগম রসিদের ছবিও পাঠালেন।

রসিদের সামনে গ্রহণকারীর স্বাক্ষর ছিল অস্পষ্ট। কিন্তু পেছনে পেন্সিল দিয়ে ছোট করে কিছু লেখা।

নীরা ছবিটি বড় করল।

সেখানে লেখা—

“প্রথম যাচাই অসম্পূর্ণ। দ্বিতীয় কপি পাঠানো হয়েছে জে.উ.-এর কাছে।”

ইমরান সঙ্গে সঙ্গে বলল,

—জে.উ. মানে কি জহির উদ্দিন?

আরিয়ান উত্তর দিল,

—হতে পারে। কিন্তু শুধু আদ্যক্ষর দেখে নিশ্চিত হওয়া যাবে না।

নীরা বলল,

—জহির চাচার কাছে জানতে হবে।

আরিয়ান ফোন বের করল।

কিছুক্ষণ পর জহির উদ্দিন ফোন ধরলেন।

আরিয়ান রসিদের কথাটা জানাতেই তিনি চুপ হয়ে গেলেন।

তারপর ধীরে বললেন,

—হ্যাঁ, C-14-এর কথা আমার মনে আছে।

নীরা উত্তেজিত হয়ে বলল,

—আপনার কাছে কি ফাইলটি ছিল?

জহির উত্তর দিলেন,

—ফাইলটি আমার কাছে এসেছিল। কিন্তু পুরো ফাইল নয়। আমাকে শুধু দ্বিতীয় কপিটি যাচাই করতে বলা হয়েছিল।

—আপনি কি জানতেন, প্রথম কপিটি কোথায়?

—না। তবে দ্বিতীয় কপির সঙ্গে একটি নির্দেশনা ছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, মূল নথি না পাওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া যাবে না।

৫. জহিরের নতুন তথ্য

আরিয়ান জানতে চাইল,

—নির্দেশনাটি কে পাঠিয়েছিল?

জহির বললেন,

—চিঠির নিচে একটি দায়িত্বশীল কর্মকর্তার পদবি ছিল। নাম ছিল না। আমি তখন ভেবেছিলাম, অফিসের ঊর্ধ্বতন কেউ পাঠিয়েছেন।

নীরা প্রশ্ন করল,

—আপনি কি সেই চিঠির কপি রেখেছিলেন?

—একটি কপি আমার কাছে থাকার কথা। তবে অনেক পুরোনো কাগজ। খুঁজে দেখতে হবে।

নীরা বলল,

—চাচা, এত বছর ধরে আমরা একটার পর একটা নথি খুঁজছি। দয়া করে এবার কিছু লুকাবেন না।

জহিরের কণ্ঠ ভারী হয়ে এল।

—আমি আর কিছু লুকাতে চাই না, নীরা। কিন্তু একটা কথা মনে রেখো, আমি যেসব কাগজ হাতে পেয়েছিলাম, সেগুলোর সবকিছু আমার জানা ছিল না। আমার ভুল ছিল—প্রশ্ন না করে দায়িত্ব পালন করেছি।

কথাটি শুনে নীরা আর কিছু বলল না।

৬. অচেনা দায়িত্বশীল কর্মকর্তা

সন্ধ্যায় সবাই আবার এক জায়গায় বসল।

ইমরান বলল,

—এখন পর্যন্ত আমরা যা পেয়েছি, তাতে বোঝা যাচ্ছে C-14 ফাইলটি একাধিকবার স্থানান্তর হয়েছে। কিন্তু মূল ফাইলের অবস্থান কেউ নিশ্চিত করতে পারছে না।

আরিয়ান বলল,

—আর নির্দেশনাটি পাঠিয়েছিল এমন একজন, যার নাম নেই। শুধু পদবি রয়েছে।

নীরা রসিদের সিলের দিকে তাকিয়ে রইল।

হঠাৎ তার চোখে পড়ল, সিলের নিচে খুব ছোট করে একটি কোড লেখা।

D-02।

সে বলল,

—এটা আগে খেয়াল করিনি!

আরিয়ান কাগজটি হাতে নিল।

—D-02?

ইমরান বলল,

—এটা হয়তো কোনো বিভাগ বা দায়িত্বের কোড।

ঠিক তখনই রাফি নিজের ল্যাপটপ খুলে পুরোনো কর্মীদের তালিকা বের করল।

কিছুক্ষণ খোঁজার পর সে থেমে গেল।

—স্যার, একটা তথ্য পেয়েছি।

আরিয়ান বলল,

—কী?

রাফি পর্দাটি সবার দিকে ঘুরিয়ে দিল।

তালিকায় লেখা—

D-02 — Special Document Authorization
দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা: আজহার রহমান।

নীরা বিস্ময়ে তাকিয়ে রইল।

আজহার রহমান!

যিনি বহু বছর আগেই মারা গেছেন, তাঁর দায়িত্বের কোড ব্যবহার করে C-14-এর নির্দেশনা পাঠানো হয়েছিল।

কিন্তু প্রশ্ন হলো—

নির্দেশনাটি কি আজহার রহমান নিজে দিয়েছিলেন, নাকি তাঁর মৃত্যুর পর কেউ তাঁর দায়িত্বের পরিচয় ব্যবহার করেছিল?

নীরা ধীরে বলল,

—আমাদের এবার আজহার চাচার পুরোনো স্বাক্ষরের সঙ্গে এই নির্দেশনার স্বাক্ষর মিলিয়ে দেখতে হবে।

আরিয়ান মাথা নাড়ল।

—হ্যাঁ। আর সেই সঙ্গে জানতে হবে, তাঁর মৃত্যুর পর D-02 দায়িত্বটি কার হাতে গিয়েছিল।

ঘরের সবাই নীরব হয়ে গেল।

কারণ এবার রহস্যের দরজা খুলতে গিয়ে তাঁরা এমন একজনের দায়িত্বের চিহ্ন খুঁজে পেয়েছেন, যিনি আর পৃথিবীতেই নেই।

চলবে…

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 59 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন