ফন্ট সাইজ:
থিম:
শেষ নিঃশ্বাসেও তুমি

পর্ব 89

লেখক: Mafiya Queen

শেষ নিঃশ্বাসেও তুমি

পর্ব ৮৯: হারিয়ে যাওয়া স্বীকৃতি

লেখক: Mafiya Queen 👑

সকাল আটটা।

আরিয়ানের অফিসে তখনও তেমন কেউ আসেনি। কাচের জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ফোনে ইমরানের সঙ্গে কথা বলছিল সে।

—চাচা, আপনার ফাইলটা কি পেয়েছেন?

ওপাশ থেকে ইমরান বললেন,

—পেয়েছি। তবে একটা সমস্যা আছে।

আরিয়ান ভ্রু কুঁচকে বলল,

—কী সমস্যা?

—ফাইলের কয়েকটা পৃষ্ঠা নেই। বিশেষ করে সেপ্টেম্বর আর অক্টোবর মাসের কিছু নোট।

—যেগুলোতে M-04-এর তথ্য থাকতে পারে?

—হ্যাঁ। তবে একটা কাগজ পেয়েছি। সেটি আগে তোমাদের দেখানো দরকার।

—আমরা কখন আসব?

—আজ দুপুরে চলে এসো।

ফোন রেখে আরিয়ান নীরার দিকে তাকাল।

নীরা এতক্ষণ চুপচাপ সব শুনছিল।

—কী বললেন?

—ফাইল পেয়েছেন। কিছু পৃষ্ঠা নেই, তবে একটা গুরুত্বপূর্ণ কাগজ আছে।

নীরা বলল,

—তাহলে আজ ব্যাংকে যাওয়ার আগে ইমরান চাচার কাছে যাই।

আরিয়ান মাথা নাড়ল।

—ঠিক আছে।

১. ইমরানের পুরোনো ফাইল

দুপুরে ইমরানের বাসায় পৌঁছাল নীরা ও আরিয়ান।

ইমরান তাদের একটি ঘরে নিয়ে গেলেন। টেবিলের ওপর পুরোনো ফাইলটি রাখা।

তিনি বললেন,

—এই ফাইলটা আমি বহু বছর ধরে রেখেছি। প্রথমে ভেবেছিলাম, এগুলো সাধারণ হিসাবের কাগজ। পরে বুঝলাম, কিছু নথির সঙ্গে ট্রাস্টের বিষয়ও জড়িত।

নীরা ফাইল খুলল।

ভেতরে কয়েকটি হিসাবের কপি, মিটিংয়ের নোট এবং হাতে লেখা কিছু পর্যবেক্ষণ।

ইমরান একটি কাগজ বের করে আরিয়ানের দিকে এগিয়ে দিলেন।

—এটা দেখো।

কাগজের তারিখ—

২৮ সেপ্টেম্বর ২০০৮

লেখা ছিল—

আজকের আলোচনায় M-04-এর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়নি। জিহির উদ্দিন জানিয়েছেন, পরিচয় যাচাইয়ের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নীরা বলল,

—তার মানে ২৮ সেপ্টেম্বরেও M-04-এর পরিচয় নিশ্চিত ছিল না?

ইমরান মাথা নাড়লেন।

—ঠিক তাই।

আরিয়ান পরের লাইন পড়ল।

প্রাথমিক অনুমোদন থাকলেও প্রাপকের স্বীকৃতি ছাড়া মূল নথির দায়িত্ব হস্তান্তর করা যাবে না।

আরিয়ান বলল,

—এটা তো নিহারিকা খালার ফাইলে পাওয়া নির্দেশনার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে।

ইমরান বললেন,

—আরও একটা বিষয় আছে।

তিনি ফাইলের ভেতর থেকে একটি ছোট কাগজ বের করলেন।

সেখানে লেখা—

M-04 — Identity verification pending.

নীরা অবাক হয়ে বলল,

—তাহলে ২৮ সেপ্টেম্বরেও পরিচয় যাচাই চলছিল!

ইমরান বললেন,

—হ্যাঁ। আর সেই কারণেই আমি তখন বিষয়টা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলাম।

—আপনি কাকে প্রশ্ন করেছিলেন?

—জিহিরকে। তিনি বলেছিলেন, সবকিছু নিয়ম মেনেই হচ্ছে।

আরিয়ান জিজ্ঞেস করল,

—আপনি কি তাঁর কথায় বিশ্বাস করেছিলেন?

ইমরান মৃদু হাসলেন।

—বিশ্বাস করেছিলাম। কিন্তু পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হতে পারিনি।

২. ব্যাংকের নথি সংরক্ষণ বিভাগ

বিকেলে নীরা ও আরিয়ান পুরোনো সিটি ট্রাস্ট ব্যাংকের বর্তমান শাখা অফিসে গেল।

তাদের সঙ্গে ছিল আজহার রহমানের ব্যক্তিগত নথির রেফারেন্স, R-18/10-M04 নম্বর এবং একটি পুরোনো চিঠির কপি।

ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা তাদের বসতে বললেন।

—আপনারা ঠিক কোন ধরনের নথি খুঁজছেন?

আরিয়ান বলল,

—২০০৮ সালের একটি ব্যক্তিগত নথি সংরক্ষণের রেকর্ড। সম্ভবত আমাদের পরিবারের একজন প্রবীণ সদস্যের নামে রাখা হয়েছিল।

কর্মকর্তা নথিগুলো পরীক্ষা করে বললেন,

—এ ধরনের তথ্য দেওয়ার আগে মালিকানা ও অনুমোদনের বিষয়টি যাচাই করতে হবে।

নীরা বলল,

—আমরা বুঝতে পারছি। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে পারব।

কিছুক্ষণ পর কর্মকর্তা একটি পুরোনো রেকর্ড বের করলেন।

—এখানে ২০০৮ সালের অক্টোবর মাসে একটি বিশেষ সংরক্ষণ অ্যাকাউন্টের উল্লেখ আছে।

আরিয়ান দ্রুত জিজ্ঞেস করল,

—কার নামে?

কর্মকর্তা কাগজটা পরীক্ষা করলেন।

—আজহার রহমানের নামে খোলা হয়েছিল। তবে ১৮ অক্টোবর একটি নথি জমা দেওয়ার কথা উল্লেখ আছে।

নীরা আগ্রহ নিয়ে সামনে ঝুঁকল।

—কী নথি?

—একটি সিল করা খাম। রেফারেন্স নম্বর R-18/10।

আরিয়ান বলল,

—খামের ভেতরে কী ছিল, সেটা জানা যাবে?

কর্মকর্তা মাথা নাড়লেন।

—এই রেকর্ডে বিষয়বস্তু উল্লেখ নেই। তবে খামটি জমা দেওয়ার সময় একজন প্রতিনিধির স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল।

নীরা বলল,

—স্বাক্ষরটি কি দেখা যাবে?

কর্মকর্তা কিছুক্ষণ ভেবে বললেন,

—নিয়ম অনুযায়ী অনুমোদন ছাড়া মূল নথি দেখানো যাবে না। তবে আপনাদের আবেদনের ভিত্তিতে সংরক্ষণ রেকর্ডের একটি প্রত্যয়িত অনুলিপি পাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা যেতে পারে।

আরিয়ান বলল,

—আমরা সেই আবেদনই করতে চাই।

৩. স্বাক্ষরটি কার?

ব্যাংক থেকে বেরিয়ে নীরা বলল,

—আমরা কি তাহলে খামের ভেতরের কাগজটা পাব?

আরিয়ান বলল,

—এখনই নিশ্চিত নই। তবে অন্তত খাম জমা পড়েছিল, সেটা প্রমাণিত হয়েছে।

—কিন্তু খামটা কে জমা দিয়েছিল?

—সেটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

নীরা হাতে থাকা নোটের দিকে তাকাল।

—যদি M-04 নিজের স্বীকৃতিপত্র ব্যাংকে না পাঠিয়ে থাকে, তাহলে এই খাম অন্য কেউ জমা দিয়েছিল?

আরিয়ান বলল,

—সম্ভব। তবে খাম জমা দেওয়া আর দায়িত্ব গ্রহণ করা এক বিষয় নয়।

নীরা মাথা নাড়ল।

—আমাদের প্রত্যেকটা তথ্য আলাদা করে যাচাই করতে হবে।

ঠিক তখন রাফির ফোন এল।

আরিয়ান কল রিসিভ করল।

—বলো, রাফি।

—স্যার, একটা পুরোনো রেকর্ড পেয়েছি।

—কী রেকর্ড?

—১৮ অক্টোবর ২০০৮-এর ব্যাংক সংরক্ষণ রসিদের সঙ্গে একটি অতিরিক্ত কাগজ ছিল। সেটার স্ক্যান কপি পুরোনো ফাইলের মধ্যে পাওয়া গেছে।

—কী লেখা আছে?

রাফি বলল,

—জমাদানকারীর পরিচয় স্পষ্ট নয়। তবে একটি নামের অংশ দেখা যাচ্ছে।

আরিয়ান জিজ্ঞেস করল,

—কোন নাম?

রাফি কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে বলল,

—মাহবুব আলম।

নীরা থমকে গেল।

আরিয়ানও চুপ করে গেল।

৪. মাহবুব আলমের নাম

অফিসে ফিরে তারা রাফির পাঠানো স্ক্যান কপি খুলল।

কাগজটি পুরোনো। কয়েকটি অংশ অস্পষ্ট।

তবুও নামটি পড়া যাচ্ছে—

Submitted by: Anwar Hossain, Personal Secretary to Mahbub Alam.

নীরা বলল,

—মাহবুব আলমের ব্যক্তিগত সচিব আনোয়ার হোসেন!

আরিয়ান কাগজের নিচের অংশ পড়ল।

সেখানে লেখা—

Sealed packet received for restricted preservation. Contents not verified by receiving desk.

নীরা বলল,

—ব্যাংকও খামের ভেতরের বিষয়বস্তু যাচাই করেনি?

—না। তারা শুধু সিল করা খাম গ্রহণ করেছে।

রাফি বলল,

—স্যার, আরও একটা তথ্য আছে। সংরক্ষণ রসিদে খাম জমা দেওয়ার পর একজন দ্বিতীয় ব্যক্তির কাছে একটি কপি পাঠানোর কথা লেখা।

আরিয়ান জিজ্ঞেস করল,

—কার কাছে?

—নাম নেই। শুধু কোড লেখা—M-04.

নীরা বলল,

—তাহলে ব্যাংক জানত M-04 কে?

রাফি মাথা নাড়ল।

—না ম্যাডাম। এখানে শুধু কোড উল্লেখ করা হয়েছে।

আরিয়ান ধীরে বলল,

—এখন বিষয়টা পরিষ্কার হচ্ছে। আনোয়ার হোসেন খাম জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু খামের ভেতরে M-04-এর স্বীকৃতিপত্র ছিল কি না, সেটা কেউ যাচাই করেনি।

নীরা বলল,

—তাহলে আমাদের আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে কথা বলতে হবে।

৫. আনোয়ারের স্বীকারোক্তি

সন্ধ্যার দিকে আরিয়ান আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করল।

প্রথমে তিনি কথা বলতে রাজি হচ্ছিলেন না।

কিন্তু ব্যাংকের রসিদের কপি দেখানোর পর তিনি দেখা করতে সম্মত হলেন।

একটি শান্ত ক্যাফেতে তাদের সাক্ষাৎ হলো।

আনোয়ার হোসেন এখন বয়স্ক। কথা বলার আগে বেশ কয়েকবার চশমা ঠিক করলেন।

—আপনারা এত বছর আগের বিষয় নিয়ে কেন খোঁজ করছেন?

আরিয়ান বলল,

—C-14-এর মূল নথি নিয়ে কিছু প্রশ্ন আছে।

আনোয়ার নামটা শুনে চুপ হয়ে গেলেন।

নীরা বলল,

—আপনি কি ১৮ অক্টোবর ২০০৮ সালে একটি সিল করা খাম ব্যাংকে জমা দিয়েছিলেন?

আনোয়ার ধীরে মাথা নাড়লেন।

—হ্যাঁ। মনে আছে।

—খামের ভেতরে কী ছিল?

—আমি জানতাম না।

আরিয়ান বলল,

—আপনি কি খামটা খুলেছিলেন?

—না। আমাকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল, খাম খুলব না।

—কে বলেছিলেন?

আনোয়ার কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন,

—মাহবুব সাহেবের দপ্তর থেকে নির্দেশ এসেছিল।

নীরা জিজ্ঞেস করল,

—মাহবুব আলম নিজে?

—না। নির্দেশটি তাঁর নামে এসেছিল। কিন্তু আমি সরাসরি তাঁর কাছ থেকে পাইনি।

আরিয়ান বলল,

—তাহলে কে দিয়েছিল?

আনোয়ার বললেন,

—একটি লিখিত নির্দেশনা এসেছিল। তাতে স্বাক্ষর ছিল ‘J’।

নীরা আরিয়ানের দিকে তাকাল।

দুজনের মাথায় একই নাম এল।

জিহির উদ্দিন।

আরিয়ান বলল,

—আপনি কি নিশ্চিত, স্বাক্ষরটি জিহির উদ্দিনের ছিল?

আনোয়ার মাথা নাড়লেন।

—না। শুধু J লেখা ছিল। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারব না।

নীরা জিজ্ঞেস করল,

—খাম জমা দেওয়ার পর আপনি কি কারও হাতে কোনো কাগজ দিয়েছিলেন?

—হ্যাঁ। কয়েক দিন পরে আমাকে একটি রসিদে স্বাক্ষর করতে বলা হয়েছিল। সেখানে লেখা ছিল, নথির একটি অনুলিপি একজন প্রতিনিধির কাছে পাঠানো হয়েছে।

আরিয়ান বলল,

—প্রতিনিধির নাম?

আনোয়ার বললেন,

—আমার যতদূর মনে আছে, সেখানে M-04 লেখা ছিল।

নীরা ধীরে বলল,

—আপনি কি সেই প্রতিনিধিকে দেখেছিলেন?

আনোয়ার মাথা নাড়লেন।

—না। কখনো দেখিনি।

৬. পুরোনো খামের পেছনে

সাক্ষাৎ শেষ হওয়ার আগে আনোয়ার হঠাৎ বললেন,

—একটা কথা আপনাদের জানানো দরকার।

আরিয়ান তাকাল।

—বলুন।

—সেই সময় আমি কয়েকটি কাগজ নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলাম। কারণ আমার মনে হয়েছিল, নির্দেশনাগুলো সম্পূর্ণ পরিষ্কার ছিল না।

নীরা অবাক হলো।

—কাগজগুলো এখনো আপনার কাছে আছে?

—একটি খাম আছে। তবে অনেক দিন খোলা হয়নি।

আনোয়ার নিজের ব্যাগ থেকে একটি পুরোনো বাদামি খাম বের করলেন।

খামের ওপর লেখা—

C-14 — Dispatch Reference

আরিয়ান খামটা হাতে নিয়ে দেখল।

সিল অক্ষত।

নীরা বলল,

—আপনি এটা এত বছর ধরে রেখেছেন?

—হ্যাঁ। আমি জানতাম না, এর গুরুত্ব কী। তবে ফেলে দিতেও মন চায়নি।

আনোয়ার বললেন,

—আমি আপনাদের এটা দিতে পারব না। তবে এখানে বসে খুলে দেখতে পারেন।

আরিয়ান কিছুক্ষণ ভেবে সম্মতি দিল।

খামের ভেতরে তিনটি কাগজ ছিল।

প্রথমটি একটি পুরোনো প্রেরণ রসিদ।

দ্বিতীয়টি মাহবুব আলমের দপ্তরের একটি নির্দেশনার কপি।

তৃতীয়টি ছিল হাতে লেখা ছোট একটি নোট।

নীরা নোটটি হাতে নিল।

সেখানে লেখা—

Original C-14 shall remain under temporary custody until M-04 submits personal acknowledgment.

নীরা বিস্মিত হয়ে বলল,

—এখানে তো স্পষ্ট লেখা, M-04-এর ব্যক্তিগত স্বীকৃতি না আসা পর্যন্ত মূল নথি অস্থায়ী দায়িত্বেই থাকবে!

আরিয়ান নোটের তারিখ দেখল।

১৯ অক্টোবর ২০০৮।

অর্থাৎ ১৮ অক্টোবরের চূড়ান্ত দায়িত্ব হস্তান্তরের রেকর্ড থাকার পরও পরদিন নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, M-04-এর স্বীকৃতি না পাওয়া পর্যন্ত মূল নথি অস্থায়ী দায়িত্বে থাকবে।

নীরা বলল,

—তাহলে ১৮ অক্টোবরের হস্তান্তর আসলে সম্পূর্ণ হয়নি!

আরিয়ান ধীরে বলল,

—অন্তত ১৯ অক্টোবরের নথি সেটাই ইঙ্গিত করছে।

আনোয়ার বললেন,

—আমি তখনও বুঝতে পারিনি, এতগুলো আলাদা নির্দেশনা কেন আসছিল।

নীরা প্রশ্ন করল,

—আপনি কি জানেন, মূল নথিটি কোথায় ছিল?

আনোয়ার মাথা নাড়লেন।

—না। তবে নির্দেশনায় একটি নাম ছিল।

—কার নাম?

আনোয়ার কাগজের নিচের অংশ দেখালেন।

সেখানে লেখা—

Temporary Custody Contact: Jihir Uddin.

৭. যে দায়িত্ব শেষ হয়নি

রাত হয়ে গেছে।

নীরা ও আরিয়ান গাড়িতে বসে আছে।

নীরার হাতে ১৯ অক্টোবরের সেই নোটের কপি।

সে বলল,

—এখন বুঝতে পারছি, কেন এতগুলো রেকর্ডে আলাদা আলাদা তথ্য আছে।

আরিয়ান বলল,

—১৮ অক্টোবর চূড়ান্ত দায়িত্ব হস্তান্তরের অনুমোদন তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ১৯ অক্টোবরও M-04-এর স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি।

—তাহলে P-07-এর অস্থায়ী দায়িত্ব কি তখনও চলছিল?

—সম্ভবত। তবে সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

নীরা জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,

—জিহির সাহেব জানতেন মূল নথি কোথায় ছিল। কিন্তু তিনি কি জানতেন M-04 কখনো স্বীকৃতি দেয়নি?

আরিয়ান বলল,

—এই প্রশ্নের উত্তর জিহিরই দিতে পারবেন।

ঠিক তখন রাফির ফোন এল।

আরিয়ান কল রিসিভ করল।

—স্যার, একটা জরুরি খবর আছে।

—কী হয়েছে?

—আমি ১৯ অক্টোবরের নোটের রেফারেন্স নম্বর দিয়ে পুরোনো সংরক্ষণ তালিকা খুঁজছিলাম। সেখানে একটি নতুন তথ্য পেয়েছি।

—কী তথ্য?

রাফি বলল,

—২০ অক্টোবর ২০০৮ তারিখে C-14-এর অস্থায়ী দায়িত্ব আবার নবায়ন করা হয়েছিল।

নীরা অবাক হয়ে বলল,

—কত দিনের জন্য?

রাফি উত্তর দিল,

—মাত্র সাত দিনের জন্য।

আরিয়ান জিজ্ঞেস করল,

—কোন ব্যক্তির নামে?

রাফি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,

—সেখানে P-07 লেখা আছে।

নীরা দ্রুত বলল,

—তাহলে P-07-এর অস্থায়ী দায়িত্ব ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত চলেছিল!

আরিয়ান বলল,

—ঠিক। কিন্তু ২৭ অক্টোবরের পর কী হয়েছিল, সেটা জানতে হবে।

রাফি এবার বলল,

—স্যার, আরও একটি বিষয় আছে।

—বলো।

—২৭ অক্টোবরের পরের পাতাটি রেজিস্টার থেকে ছেঁড়া। তবে তার পরের এন্ট্রিতে একটি নতুন রেফারেন্স নম্বর আছে।

আরিয়ান জিজ্ঞেস করল,

—কী নম্বর?

রাফি উত্তর দিল,

“C-14/FINAL/28-10.”

নীরা নিঃশব্দে আরিয়ানের দিকে তাকাল।

২৮ অক্টোবর ২০০৮।

M-04-এর স্বীকৃতি তখনো পাওয়া যায়নি।

তাহলে সেই দিন C-14-এর চূড়ান্ত দায়িত্ব কার হাতে গেল?

আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—

P-07-এর অস্থায়ী দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর মূল নথিটি কোথায় গেল?

আরিয়ান ফোন রেখে নীরাকে বলল,

—আগামীকাল আমাদের জিহির উদ্দিনের সঙ্গে দেখা করতে হবে।

নীরা কাগজগুলো শক্ত করে ধরে বলল,

—এবার আর কোনো অসম্পূর্ণ উত্তর মেনে নেব না।

গাড়ি ধীরে সামনে এগিয়ে গেল।

আর তাদের সামনে খুলে গেল ২৮ অক্টোবর ২০০৮-এর আরেকটি বন্ধ দরজা।

চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 89 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন