ফন্ট সাইজ:
থিম:
শেষ নিঃশ্বাসেও তুমি

পর্ব 90

লেখক: Mafiya Queen

শেষ নিঃশ্বাসেও তুমি

পর্ব ৯০: ২৮ অক্টোবরের শেষ হস্তান্তর

লেখক: Mafiya Queen 👑

সকাল থেকেই নীরার মন অস্থির।

গত রাতের পাওয়া তথ্যগুলো বারবার মাথায় ঘুরছে।

১৮ অক্টোবর—চূড়ান্ত দায়িত্ব হস্তান্তরের অনুমোদন।

১৯ অক্টোবর—M-04-এর স্বীকৃতি না পাওয়া পর্যন্ত মূল নথি অস্থায়ী দায়িত্বে রাখার নির্দেশ।

২০ অক্টোবর—P-07-এর অস্থায়ী দায়িত্ব সাত দিনের জন্য নবায়ন।

২৮ অক্টোবর—C-14/FINAL/28-10।

সবকিছু যেন একটা নির্দিষ্ট তারিখের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

কিন্তু সেই তারিখে কী ঘটেছিল, কেউ পরিষ্কার করে বলতে পারছে না।

নীরা ফোন হাতে নিয়ে আরিয়ানকে কল করল।

—তুমি কি বের হয়েছ?

—হ্যাঁ। তোমাকে নিতে আসছি।

—আজ জিহির সাহেবের কাছ থেকে সব জানতে হবে।

আরিয়ান শান্ত গলায় বলল,

—আজ অন্তত ২৮ অক্টোবরের রেকর্ডটা বুঝতে হবে।

১. জিহিরের সামনে শেষ প্রশ্ন

পুরোনো একটি অফিসকক্ষে বসে আছেন জিহির উদ্দিন।

নীরা, আরিয়ান ও রাফি তাঁর সামনে বসেছে।

আরিয়ান প্রথমেই ১৯ অক্টোবরের নোটটি টেবিলে রাখল।

—এই নথিটা কি আপনার পরিচিত?

জিহির কাগজটি হাতে নিলেন।

কিছুক্ষণ পড়ে বললেন,

—হ্যাঁ। এটা আমার কাছে এসেছিল।

নীরা দ্রুত প্রশ্ন করল,

—তাহলে আপনি জানতেন, ১৮ অক্টোবর M-04-এর দায়িত্ব হস্তান্তর সম্পূর্ণ হয়নি?

জিহির বললেন,

—আমি জানতাম, প্রাপকের ব্যক্তিগত স্বীকৃতি তখনো পাওয়া যায়নি। তাই মূল নথির অস্থায়ী সংরক্ষণের নির্দেশ ছিল।

আরিয়ান বলল,

—কিন্তু ১৮ অক্টোবরের রেজিস্টারে তো লেখা আছে, চূড়ান্ত দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়েছে।

জিহির দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।

—রেজিস্টারে অনুমোদনের প্রক্রিয়াকে হস্তান্তর হিসেবে লেখা হয়েছিল। কিন্তু অনুমোদন আর বাস্তব দায়িত্ব গ্রহণ এক বিষয় নয়।

নীরা বলল,

—তাহলে রেজিস্টারের ভাষা ভুল ছিল?

—ভুল বলা যাবে না। তবে অসম্পূর্ণ ছিল।

আরিয়ান এবার ২০ অক্টোবরের নথিটি সামনে রাখল।

—এখানে P-07-এর অস্থায়ী দায়িত্ব সাত দিনের জন্য নবায়ন করা হয়েছে।

জিহির মাথা নাড়লেন।

—ঠিক।

—২৭ অক্টোবরের পর কী হয়েছিল?

জিহির কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।

তারপর বললেন,

—২৮ অক্টোবর একটি বিশেষ পর্যালোচনা হয়েছিল।

নীরা জিজ্ঞেস করল,

—কোথায়?

—পুরোনো ট্রাস্ট অফিসে।

—কারা উপস্থিত ছিলেন?

জিহির উত্তর দিলেন,

—আমি, একজন নথি পর্যবেক্ষক এবং ট্রাস্ট বোর্ডের একজন অনুমোদিত প্রতিনিধি।

আরিয়ান বলল,

—M-04 কি উপস্থিত ছিল?

জিহির সরাসরি উত্তর দিলেন না।

তিনি টেবিলের দিকে তাকিয়ে বললেন,

—আমি ব্যক্তিটিকে দেখিনি।

২. FINAL রেকর্ড

রাফি ব্যাগ থেকে একটি ফটোকপি বের করল।

—স্যার, এটা আমরা পুরোনো রেজিস্টারের পরের পাতায় পেয়েছি।

জিহির কাগজটা হাতে নিলেন।

সেখানে লেখা—

C-14/FINAL/28-10

নিচে তিনটি লাইন।

Temporary custody review completed.

Original document status: Not confirmed.

Final transfer: Subject to separate verification.

নীরা অবাক হয়ে বলল,

—এখানে তো লেখা, মূল নথির অবস্থান নিশ্চিত নয়!

জিহির বললেন,

—হ্যাঁ। ২৮ অক্টোবরের পর্যালোচনায় আমরা মূল নথির অবস্থান নিশ্চিত করতে পারিনি।

আরিয়ান প্রশ্ন করল,

—তাহলে P-07 কি মূল নথি ফেরত দিয়েছিল?

জিহির বললেন,

—আমার কাছে এমন কোনো গ্রহণ রসিদ নেই।

—তাহলে নথি কার কাছে ছিল?

—সেটাই তো সমস্যা।

নীরা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,

—আপনি কি বলতে চাইছেন, ২৮ অক্টোবরের পর মূল C-14-এর কোনো নিশ্চিত দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছিল না?

জিহির ধীরে মাথা নাড়লেন।

—অন্তত আমার কাছে থাকা রেকর্ডে তা প্রমাণিত নয়।

৩. সেই নীল পাথরের আংটি

আরিয়ান এবার অন্য একটি বিষয় সামনে আনল।

—চাচা, ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আপনি কি একজন ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করেছিলেন, যার হাতে নীল পাথরের আংটি ছিল?

জিহিরের চোখে সামান্য পরিবর্তন দেখা গেল।

—কে বলেছে?

নীরা বলল,

—আব্দুস সালাম তাঁকে দেখেছিলেন। ইমরান চাচাও একজন ব্যক্তির কথা বলেছেন।

জিহির কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন।

—হ্যাঁ। এমন একজন মানুষ এসেছিলেন।

আরিয়ান জিজ্ঞেস করল,

—তিনি কি M-04?

—আমি নিশ্চিত নই।

নীরা বলল,

—কিন্তু তাঁর সঙ্গে আপনার কথা হয়েছিল?

—হয়েছিল।

—কী বিষয়ে?

জিহির উত্তর দিলেন,

—তিনি জানতে চেয়েছিলেন, C-14-এর মূল কপি কোথায় রাখা হয়েছে।

আরিয়ান বলল,

—আপনি কী বলেছিলেন?

—আমি বলেছিলাম, মূল কপি অস্থায়ী দায়িত্বে আছে। চূড়ান্ত হস্তান্তর সম্পন্ন হয়নি।

নীরা জিজ্ঞেস করল,

—তারপর তিনি কী বলেছিলেন?

জিহির কিছুক্ষণ ভেবে বললেন,

—তিনি বলেছিলেন, ‘যে কাগজে স্বাক্ষর নেই, সেই কাগজের ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে দেবেন না।’

নীরা অবাক হলো।

—তিনি কি M-04-এর স্বীকৃতির কথাই বলেছিলেন?

—সম্ভবত।

আরিয়ান জিজ্ঞেস করল,

—তাঁর নাম মনে আছে?

জিহির মাথা নাড়লেন।

—না। তবে একটা বিষয় মনে আছে। তিনি নিজেকে কোনো পদবিতে পরিচয় দেননি। শুধু বলেছিলেন, তিনি আজহার রহমানের পুরোনো নির্দেশনার বিষয়ে অবগত।

৪. একটি অসম্পূর্ণ রসিদ

কথা চলার একপর্যায়ে জিহির নিজের আলমারি খুললেন।

সেখান থেকে একটি পুরোনো ফাইল বের করলেন।

—তোমাদের একটা জিনিস দেখানো দরকার।

তিনি ফাইলের ভেতর থেকে একটি রসিদ বের করলেন।

তারিখ—২৮ অক্টোবর ২০০৮।

রেফারেন্স—C-14/FINAL/28-10।

রসিদে লেখা—

Original document not received at review desk.

Previous temporary holder's status remains unverified.

Further inquiry required.

নীরা বলল,

—তাহলে ২৮ অক্টোবর P-07-এর কাছ থেকেও মূল নথি পাওয়া যায়নি?

জিহির বললেন,

—ঠিক তাই।

আরিয়ান রসিদের নিচের অংশ দেখল।

সেখানে একটি স্বাক্ষর।

J. Uddin

তার পাশে আরেকটি ছোট কোড—

M-04 / Pending

নীরা ধীরে বলল,

—এখানে M-04-এর নাম আবার এসেছে।

আরিয়ান বলল,

—কিন্তু এবারও Pending লেখা।

জিহির মাথা নাড়লেন।

—কারণ তখনো M-04-এর ব্যক্তিগত স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি।

নীরা বলল,

—তাহলে ১৮ অক্টোবরের অনুমতিপত্র তৈরি হওয়ার পরও ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত স্বীকৃতি ছিল না।

—হ্যাঁ।

—কিন্তু ১৮ অক্টোবরের রেজিস্টারে কেন চূড়ান্ত হস্তান্তর লেখা হয়েছিল?

জিহির এবার কিছুটা অস্বস্তিতে পড়লেন।

—সেই রেজিস্টারের ভাষা আমি লিখিনি।

আরিয়ান দ্রুত প্রশ্ন করল,

—কে লিখেছিল?

জিহির উত্তর দিলেন,

—আমাকে একটি প্রস্তুত খসড়া দেওয়া হয়েছিল। আমি শুধু নিজের অংশে স্বাক্ষর করেছিলাম।

৫. খসড়ার লেখক

নীরা অবাক হয়ে বলল,

—আপনাকে কে খসড়া দিয়েছিল?

জিহির বললেন,

—আমি নিশ্চিত নই। খসড়াটি একটি বন্ধ ফাইলের মধ্যে এসেছিল।

আরিয়ান বলল,

—সেই ফাইলের কোনো রেকর্ড আছে?

—থাকার কথা।

রাফি সঙ্গে সঙ্গে বলল,

—স্যার, আমি কি সেই ফাইলের রেফারেন্স খুঁজব?

আরিয়ান মাথা নাড়ল।

—হ্যাঁ। খসড়া প্রস্তুতকারীর নাম জানতে হবে।

জিহির এবার বললেন,

—তোমাদের একটা বিষয় জানানো উচিত।

নীরা তাঁর দিকে তাকাল।

—কী বিষয়?

—২৮ অক্টোবরের পর্যালোচনার সময় আমি একটি আলাদা নির্দেশ পেয়েছিলাম। সেখানে বলা হয়েছিল, C-14-এর মূল কপি খুঁজে না পাওয়া গেলে কোনো নতুন হস্তান্তর রেকর্ড তৈরি করা যাবে না।

আরিয়ান বলল,

—নির্দেশটি কে দিয়েছিল?

জিহির বললেন,

—সেই কাগজে একটি সিল ছিল।

—কোন সিল?

—A.R.-03.

নীরা ও আরিয়ান দুজনেই চমকে উঠল।

আজহার রহমানের ব্যক্তিগত সিল!

নীরা বলল,

—কিন্তু আজহার সাহেব তো তখন জীবিত ছিলেন না।

জিহির বললেন,

—আমি জানি। তাই সিলটি দেখে আমিও প্রশ্ন করেছিলাম।

আরিয়ান জিজ্ঞেস করল,

—কে নির্দেশটি নিয়ে এসেছিল?

—একজন প্রতিনিধি।

—নাম?

—নাম মনে নেই। তবে তিনি বলেছিলেন, সিলটি বৈধভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।

নীরা বলল,

—আপনি কি সেটি যাচাই করেছিলেন?

জিহির মাথা নিচু করলেন।

—না। এটাই আমার ভুল ছিল।

৬. সিলের অধিকার

অফিস থেকে বেরিয়ে গাড়িতে উঠল নীরা ও আরিয়ান।

নীরা বলল,

—এবার বিষয়টা আরও জটিল হয়ে গেল।

আরিয়ান বলল,

—কেন?

—আজহার রহমানের মৃত্যুর পর তাঁর ব্যক্তিগত সিল কে ব্যবহার করার অনুমতি পেয়েছিল?

—সেটাই জানতে হবে।

নীরা বলল,

—সালেহ সাহেবের কাছে তো সেই সিলের বিষয়ে তথ্য ছিল।

আরিয়ান ফোন বের করল।

সালেহ রহমানকে কল করা হলো।

কিছুক্ষণ পর তিনি ফোন ধরলেন।

—হ্যালো, আরিয়ান?

—চাচা, A.R.-03 সিল সম্পর্কে কিছু জানতে চাই।

ওপাশে সালেহ চুপ হয়ে গেলেন।

—কোথায় পেয়েছ?

আরিয়ান বলল,

—২৮ অক্টোবর ২০০৮-এর একটি নির্দেশনায়।

সালেহ বললেন,

—এটা অসম্ভব নয়। তবে একটা বিষয় পরিষ্কার করে বলি, আজহার ভাইয়ের ব্যক্তিগত সিল ব্যবহারের ক্ষমতা সবার ছিল না।

নীরা ফোনের কাছে এগিয়ে এসে বলল,

—কারা ব্যবহার করতে পারত?

সালেহ উত্তর দিলেন,

—আজহার ভাই জীবিত থাকাকালে সিলটি তাঁর নিজের কাছে ছিল। মৃত্যুর পর সেটি ট্রাস্টের সিল হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

আরিয়ান বলল,

—তাহলে ২০০৮ সালের ২৮ অক্টোবর কেউ যদি সেটি ব্যবহার করে থাকে, সেটা কি অনুমোদিত ছিল?

সালেহ বললেন,

—আমার জানা মতে, না।

নীরা ধীরে বলল,

—তাহলে নির্দেশনাটি জাল হতে পারে?

সালেহ উত্তর দিলেন,

—এখনই সেটা বলা যাবে না। সিলটি আসল হলেও ব্যবহারকারী অনুমোদিত ছিলেন কি না, সেটা আলাদা প্রশ্ন।

আরিয়ান বলল,

—আপনার কাছে কি সিল ব্যবহারের কোনো পুরোনো রেকর্ড আছে?

—হ্যাঁ। আমার কাছে একটি ব্যক্তিগত তালিকা আছে। আগামীকাল তোমাদের দেখাব।

৭. শেষ পাতার অদ্ভুত চিহ্ন

রাত।

নীরা নিজের ঘরে বসে ২৮ অক্টোবরের রসিদগুলো দেখছিল।

আরিয়ান একটি কাগজের ছবি পাঠিয়েছে।

কাগজটির নিচে একটি ছোট চিহ্ন রয়েছে।

নীরা ছবিটা বড় করে দেখল।

সেখানে লেখা—

A.R.-03 / SUSPENDED USE

নীরা সঙ্গে সঙ্গে আরিয়ানকে ফোন করল।

—তুমি কি দেখেছ?

—কী?

—সিলের পাশে SUSPENDED USE লেখা আছে!

আরিয়ান বলল,

—হ্যাঁ। আমিও দেখেছি।

—তার মানে ২৮ অক্টোবর সিলটির ব্যবহার স্থগিত ছিল?

—ঠিক তাই। আর সেই অবস্থায় সিল ব্যবহার করে নির্দেশ দেওয়া হয়ে থাকলে বিষয়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

নীরা বলল,

—তাহলে যে ব্যক্তি নির্দেশটি নিয়ে এসেছিল, সে কি জানত সিলের ব্যবহার স্থগিত?

আরিয়ান উত্তর দিল,

—জানত কি না, সেটা প্রমাণ করতে হবে।

নীরা চুপ করে গেল।

হঠাৎ তার ফোনে একটি মেসেজ এল।

অপরিচিত নম্বর।

“২৮ অক্টোবরের নির্দেশটি আসল ছিল। কিন্তু সিলটি ব্যবহারের অনুমতি ছিল না।”

নীরা মেসেজটি আরিয়ানকে পাঠাল।

কয়েক সেকেন্ড পর আরিয়ানের উত্তর এল।

“তাহলে নির্দেশদাতা সিলের আসল মালিক নয়।”

এরপর আরেকটি মেসেজ এল।

“M-04-কে খুঁজবেন না। আগে খুঁজুন, কে A.R.-03 সিলটি নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল।”

নীরা ফোনের দিকে তাকিয়ে রইল।

এতদিন তারা খুঁজছিল M-04-কে।

কিন্তু এখন নতুন প্রশ্ন—

আজহার রহমানের ব্যক্তিগত সিল কার হাতে ছিল?

সেই ব্যক্তি কি ২৮ অক্টোবরের নির্দেশ তৈরি করেছিল?

আর যদি তাই হয়, তাহলে সে কি C-14-এর মূল নথির অবস্থান জানত?

নীরা ধীরে জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়াল।

এই রহস্যের প্রতিটি উত্তর যেন আরেকটি বন্ধ দরজার সামনে নিয়ে যাচ্ছে তাদের।

কিন্তু এবার নীরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কোনো প্রশ্নের উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত তারা থামবে না।

চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 90 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন