ফন্ট সাইজ:
থিম:
শেষ নিঃশ্বাসেও তুমি

পর্ব 100

লেখক: Mafiya Queen

শেষ নিঃশ্বাসেও তুমি

পর্ব ১০০: শত রহস্যের মাঝে একটি নাম

লেখক: Mafiya Queen 👑

সকাল ৯টা।

রয়্যাল হোল্ডিংসের কনফারেন্স রুমে নীরা, আরিয়ান ও রাফি বসে আছে।

টেবিলের ওপর ছড়িয়ে আছে পুরোনো কিছু নথি।

P-07-এর অস্থায়ী দায়িত্বের রেকর্ড, E-17-এর হেফাজতের তথ্য, D-04-এর অনুমতিপত্র এবং ১৯ সেপ্টেম্বরের সেই অসম্পূর্ণ রসিদ।

নীরা একটি কাগজের দিকে তাকিয়ে বলল,

— আমাদের হাতে এখন পর্যন্ত যত তথ্য এসেছে, সবই একটা জায়গায় গিয়ে আটকে যাচ্ছে।

আরিয়ান জিজ্ঞেস করল,

— কোথায়?

— Special Trustee-এর দপ্তরে।

রাফি ল্যাপটপ খুলে বলল,

— আমি গত রাত থেকে ২০০৮ সালের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের তালিকা খুঁজছি। পুরোনো অফিসের একটি ডিজিটাল ব্যাকআপ পেয়েছি।

আরিয়ান সোজা হয়ে বসল।

— কী পেয়েছ?

— সম্পূর্ণ তালিকা নয়। তবে একটি প্রাথমিক তালিকা পাওয়া গেছে।

নীরা দ্রুত বলল,

— দেখাও।

রাফি স্ক্রিনটি সবার দিকে ঘুরিয়ে দিল।

সেখানে কয়েকটি নাম দেখা যাচ্ছে।

Special Trustee Office — 2008

১. Azizur Rahman — Senior Trustee
২. Mahmud Rahman — Family Representative
৩. Jihir Uddin — Document Coordination
৪. M. Rahman — Assistant to Special Trustee
৫. P-07 — Temporary Original Holder

নীরা চতুর্থ নামটির দিকে তাকিয়ে রইল।

M. Rahman.

তার মনে পড়ে গেল মোতালেব হোসেনের দেওয়া সেই ছেঁড়া রসিদ।

সেখানে লেখা ছিল—

Received by: M. Rah...

নীরা ধীরে বলল,

— তাহলে M. Rahman সত্যিই Special Trustee-এর সহকারী ছিলেন।

আরিয়ান বলল,

— কিন্তু তাঁর পুরো পরিচয় এখনো নেই।

রাফি বলল,

— তালিকার পরের পাতাটা পাওয়া যায়নি।

নীরা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

— আবারও হারানো পৃষ্ঠা!

আরিয়ান শান্তভাবে বলল,

— এবার পৃষ্ঠা হারানোর আগের রেকর্ড খুঁজব।

১. নিয়োগপত্রের সূত্র

রাফি জানাল, তালিকার সঙ্গে একটি নিয়োগপত্রের রেফারেন্স নম্বরও পাওয়া গেছে।

Appointment Reference: ST-04/2008

আরিয়ান বলল,

— নিয়োগপত্রের কপি আছে?

— একটি ইনডেক্স আছে। মূল কপি পাওয়া যায়নি।

নীরা বলল,

— ইনডেক্সে কী লেখা?

রাফি পড়ে শোনাল।

“Assistant to Special Trustee — Temporary Appointment. Duties include receiving sealed administrative correspondence, maintaining receipt records and coordinating document preservation.”

নীরা বলল,

— অর্থাৎ তিনি সিল করা চিঠি ও প্রশাসনিক নথি গ্রহণ করতেন।

আরিয়ান বলল,

— কিন্তু মূল অনুমতিপত্র যাচাই করার ক্ষমতা তাঁর ছিল কি না, সেটা আলাদা বিষয়।

নীরা মাথা নাড়ল।

— ঠিক। কারও কাছ থেকে খাম গ্রহণ করা আর সেই খামের ভেতরের অনুমতিকে বৈধ ঘোষণা করা এক কথা নয়।

আরিয়ান মৃদু স্বরে বলল,

— তুমি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সতর্ক হয়ে গেছ।

নীরা তার দিকে তাকাল।

— কারণ এই গল্পে একটা কাগজের অর্ধেক লেখা দিয়ে কত মানুষকে ভুল বোঝা হয়েছে, সেটা আমি দেখেছি।

কথাটা শুনে আরিয়ান কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।

তারপর বলল,

— এবার কাউকে ভুল বুঝব না।

২. পুরোনো নিয়োগপত্রের সন্ধান

দুপুরের দিকে রাফি জানাল, ST-04/2008-এর একটি সংযুক্ত রেফারেন্স পাওয়া গেছে।

সেটি ছিল পুরোনো কর্মচারীদের বেতন ও দায়িত্ব বণ্টনের রেজিস্টারে।

তিনজন মিলে রেকর্ডটি খুলল।

সেখানে লেখা—

Temporary Administrative Appointment

Department: Special Trustee Office
Position: Assistant to Special Trustee
Appointment Date: 01 September 2008
Review Date: 30 November 2008

নিচে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির নামের জায়গায় লেখা—

M. Rahman

নীরা বলল,

— সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব ছিল।

আরিয়ান বলল,

— অর্থাৎ ২৮ অক্টোবরের সময় তিনি দায়িত্বে ছিলেন।

রাফি বলল,

— জি, স্যার। তবে এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে।

— কী?

— তাঁর নিয়োগপত্রে একটি সীমাবদ্ধতা দেওয়া ছিল।

রাফি কাগজের নিচের অংশটি বড় করে দেখাল।

“The appointed assistant shall not independently authorize, approve or validate any delegated authority document.”

নীরা কয়েকবার বাক্যটি পড়ল।

তারপর বলল,

— তিনি কোনো অনুমতিপত্র নিজে অনুমোদন করতে পারতেন না।

আরিয়ান বলল,

— হ্যাঁ। তাঁর কাজ ছিল প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়া।

নীরা প্রশ্ন করল,

— তাহলে যদি তিনি ২৮ অক্টোবরের প্রতিনিধির স্বাক্ষর গ্রহণ করে থাকেন, সেটি কি শুধু গ্রহণের রেকর্ড?

আরিয়ান বলল,

— সেটাই যাচাই করতে হবে।

রাফি বলল,

— R-28/10/04-এর একটি কপিতে লেখা আছে, “Signed on behalf of authorized reviewer.”

নীরা বলল,

— কিন্তু কে সেই authorized reviewer, তার পরিচয় নেই।

আরিয়ান বলল,

— আর M. Rahman-এর দায়িত্বের সীমা অনুযায়ী, তিনি একা কাউকে অনুমোদিত প্রতিনিধি ঘোষণা করতে পারতেন না।

নীরা ধীরে বলল,

— তাহলে ওই রেকর্ডে তাঁর স্বাক্ষর থাকলেও সেটি চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রমাণ হবে না।

আরিয়ান বলল,

— একদম।

৩. মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ

নীরা হঠাৎ বলল,

— M. Rahman-এর পুরো নাম জানার একটা উপায় আছে।

আরিয়ান তাকাল।

— কী উপায়?

— পুরোনো কর্মচারীদের পরিচয় তালিকা। মিজানুর রহমান হয়তো জানবেন। তিনি তখন চুক্তি ও আইনি বিভাগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

আরিয়ান বলল,

— তাঁকে ফোন করো।

নীরা ফোন বের করে মিজানুর রহমানের নম্বরে কল দিল।

কয়েকবার রিং হওয়ার পর তিনি ফোন ধরলেন।

— হ্যালো, নীরা?

— আসসালামু আলাইকুম, আঙ্কেল। আপনি কেমন আছেন?

— ভালো আছি মা। বলো।

— ২০০৮ সালের Special Trustee Office-এর একজন সহকারীর পরিচয় জানতে চাইছিলাম। নামের জায়গায় শুধু M. Rahman লেখা আছে।

ওপাশে কিছুক্ষণ নীরবতা।

তারপর মিজানুর রহমান বললেন,

— M. Rahman?

— জি।

— তুমি কি নিয়োগপত্র পেয়েছ?

— হ্যাঁ। ST-04/2008 রেফারেন্স।

মিজানুর রহমান ধীরে বললেন,

— এই রেফারেন্সটা আমার মনে আছে। তখন অফিসে কয়েকজন অস্থায়ী দায়িত্বে ছিলেন। তবে আমি কাউকে শুধু আদ্যক্ষর দেখে শনাক্ত করতে চাই না।

নীরা বলল,

— আপনার কাছে কি কোনো তালিকা থাকতে পারে?

— আমার কাছে পুরোনো চুক্তি বিভাগের কিছু নথি আছে। তবে Special Trustee-এর মূল কর্মচারী তালিকা নয়।

আরিয়ান ফোনের কাছে এসে বলল,

— আঙ্কেল, আমরা কি আপনার কাছে এসে নথিগুলো দেখতে পারি?

মিজানুর রহমান বললেন,

— অবশ্যই। বিকেল চারটার পর এসো।

কল শেষ হলো।

নীরা আরিয়ানের দিকে তাকাল।

— তিনি কাউকে সরাসরি চিনতে পারছেন না।

আরিয়ান বলল,

— সেটাই ভালো। অন্তত অনুমানকে সত্য হিসেবে ধরে নিচ্ছেন না।

৪. পুরোনো ফাইলের ভেতর

বিকেল চারটা বিশ মিনিট।

নীরা ও আরিয়ান মিজানুর রহমানের বাসায় পৌঁছাল।

তিনি আগে থেকেই কয়েকটি ফাইল টেবিলে সাজিয়ে রেখেছিলেন।

— তোমাদের জন্য যতটুকু সম্ভব বের করেছি।

নীরা বলল,

— ধন্যবাদ, আঙ্কেল।

মিজানুর রহমান প্রথম ফাইলটি খুললেন।

সেখানে ২০০৮ সালের কয়েকটি চুক্তি ও অফিস আদেশের কপি ছিল।

একটি পাতায় লেখা—

Administrative Staff Coordination — September 2008

নীরা মনোযোগ দিয়ে নামগুলো পড়তে লাগল।

হঠাৎ একটি নামের ওপর চোখ আটকে গেল।

Mahfuzur Rahman — Office Assistant

নীরা বলল,

— মাহফুজুর রহমান?

মিজানুর রহমান কাগজটি দেখে বললেন,

— তিনি তখন সাধারণ প্রশাসনিক কাজে ছিলেন। তবে Special Trustee-এর সহকারী ছিলেন কি না, সেটা এই কাগজ থেকে বোঝা যাচ্ছে না।

আরিয়ান বলল,

— তাঁর পদবি আর M. Rahman-এর পরিচয় কি মিলে যেতে পারে?

মিজানুর রহমান বললেন,

— হতে পারে। আবার অন্য কেউও হতে পারেন।

নীরা বলল,

— তাঁর নিয়োগপত্র পাওয়া যাবে?

— চেষ্টা করতে পারি। তবে একটা বিষয় মনে রেখো, একই অফিসে একই পদবির একাধিক ব্যক্তি কাজ করতে পারেন।

তিনি আরেকটি ফাইল বের করলেন।

— এটা দেখো।

ফাইলের ভেতরে একটি পুরোনো অফিস মেমো।

তারিখ—১৮ সেপ্টেম্বর ২০০৮।

Subject: Separation of Original and Review Copy

নীরা পড়তে শুরু করল।

“Original record and review copy must be preserved separately. Any transfer of original record shall require a written acknowledgment from the designated temporary holder.”

আরিয়ান বলল,

— এটা C-14-এর সঙ্গে সম্পর্কিত।

মিজানুর রহমান মাথা নাড়লেন।

— সম্ভবত। তবে এই মেমোতে C-14-এর নাম নেই।

নীরা নিচের অংশে চোখ রাখল।

সেখানে ছোট করে লেখা—

“Copy received by M. Rahman for administrative indexing.”

নীরা অবাক হয়ে বলল,

— এখানে M. Rahman লেখা আছে!

আরিয়ান কাগজটি হাতে নিল।

— কিন্তু লেখা আছে শুধু administrative indexing-এর জন্য কপি গ্রহণ করেছেন।

মিজানুর রহমান বললেন,

— ঠিক তাই। মূল নথি গ্রহণ করার কথা বলা হয়নি।

নীরা বলল,

— তাহলে তিনি অন্তত একটি রিভিউ কপি পেয়েছিলেন।

আরিয়ান বলল,

— কিন্তু সেই কপি E-17-এর মূল অনুমতিপত্র ছিল না।

মিজানুর রহমান বললেন,

— তোমরা বিষয়টা ভালোভাবে আলাদা করে দেখছ। এটাই দরকার।

৫. একটি অদ্ভুত সংশোধনী

মিজানুর রহমান আরেকটি কাগজ বের করলেন।

— এই মেমোর সঙ্গে একটি সংশোধনীও ছিল।

নীরা কাগজটি হাতে নিল।

তারিখ—২১ সেপ্টেম্বর ২০০৮।

লেখা—

“Administrative indexing does not constitute custody transfer. Receipt of review copy shall not be treated as acceptance of original document responsibility.”

নীরা বলল,

— অর্থাৎ M. Rahman-এর কাছে কপি গেলেও মূল নথির দায়িত্ব তাঁর কাছে যায়নি।

আরিয়ান বলল,

— ঠিক।

নীরা নিচে তাকিয়ে বলল,

— কিন্তু এই সংশোধনী কেন জারি করা হয়েছিল?

মিজানুর রহমান বললেন,

— আমার মনে হয়, তখন কপি আর মূল নথির দায়িত্ব নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। তবে কে সেই বিভ্রান্তি তৈরি করেছিল, তা বলতে পারব না।

আরিয়ান জিজ্ঞেস করল,

— সংশোধনীটি কে জারি করেছিলেন?

মিজানুর রহমান কাগজের নিচে আঙুল রাখলেন।

সেখানে স্বাক্ষরের পাশে লেখা—

Office of Senior Trustee

নীরা বলল,

— আজহর রহমান সাহেবের দপ্তর?

— হ্যাঁ। তবে তাঁর ব্যক্তিগত স্বাক্ষর এখানে নেই। অফিসের পক্ষ থেকে জারি করা হয়েছিল।

নীরা চুপ করে গেল।

তাহলে আজহর রহমানের দপ্তর আগে থেকেই জানত যে কপি গ্রহণ আর মূল নথির দায়িত্ব গ্রহণ এক নয়।

কিন্তু ২৮ অক্টোবরের রেকর্ডে কেন সেই নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি?

৬. একটি পুরোনো ফোনকল

ফেরার পথে গাড়িতে নীরা চুপচাপ বসে ছিল।

আরিয়ান বলল,

— কী ভাবছ?

নীরা বলল,

— ২১ সেপ্টেম্বরেই যদি এত পরিষ্কারভাবে বলা হয়ে থাকে যে রিভিউ কপি গ্রহণ মানে মূল নথির দায়িত্ব নেওয়া নয়, তাহলে ২৮ অক্টোবরের রেকর্ডে সেই নিয়ম কীভাবে উপেক্ষা করা হলো?

আরিয়ান বলল,

— হয়তো কেউ নিয়মটি ভুলভাবে প্রয়োগ করেছে। অথবা কোনো গুরুত্বপূর্ণ সংযুক্ত নথি বাদ পড়েছে।

নীরা বলল,

— কিন্তু কে বাদ দিয়েছে?

আরিয়ান উত্তর দিল না।

ঠিক তখনই তার ফোন বেজে উঠল।

স্ক্রিনে নাম—

মোস্তাফিজুর রহমান।

আরিয়ান কল ধরল।

— আসসালামু আলাইকুম।

— ওয়ালাইকুম আসসালাম। আরিয়ান, তোমরা কি এখনো ২০০৮ সালের নথি নিয়ে কাজ করছ?

— জি। নতুন কিছু পেয়েছি।

— M. Rahman নামে কাউকে খুঁজছ?

আরিয়ান চমকে উঠল।

— আপনি কীভাবে জানলেন?

মোস্তাফিজুর বললেন,

— আজ পুরোনো রেকর্ডের একটা কপি দেখতে গিয়ে নামটা চোখে পড়ল। আমি তখন এই বিভাগের বাইরের অডিটর ছিলাম।

নীরা দ্রুত ফোনের কাছে এল।

— আপনি কি তাঁকে চিনতেন?

মোস্তাফিজুর বললেন,

— ব্যক্তিগতভাবে নয়। তবে তাঁর নামে একটি রিভিউ কপি গ্রহণের রেকর্ড দেখেছিলাম।

আরিয়ান বলল,

— তিনি কি কখনো মূল নথির দায়িত্ব নিয়েছিলেন?

— আমার কাছে তেমন কোনো প্রমাণ নেই। বরং ২৯ অক্টোবরের আপত্তিপত্রে আমি লিখেছিলাম, প্রতিনিধির মূল অনুমতিপত্র যাচাই হয়নি।

নীরা বলল,

— তাহলে আপনার আপত্তির সঙ্গে M. Rahman-এর কোনো সম্পর্ক ছিল?

মোস্তাফিজুর বললেন,

— সরাসরি নয়। তবে একটি বিষয় মনে আছে। আমি জানতে চেয়েছিলাম, রিভিউ কপি কে গ্রহণ করেছে এবং মূল অনুমতিপত্র কোথায় আছে। তখন আমাকে বলা হয়েছিল, বিষয়টি পরে পরিষ্কার করা হবে।

আরিয়ান বলল,

— কে বলেছিল?

— অফিসের একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা। নামটা এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না। তবে আমার পুরোনো নোটে থাকতে পারে।

নীরা বলল,

— সেই নোট কি পাওয়া সম্ভব?

— আমি খুঁজে দেখব। আগামীকাল জানাব।

কল শেষ হলো।

নীরা বলল,

— এবার অন্তত মোস্তাফিজুর সাহেবের পুরোনো নোট থেকে কিছু পাওয়া যেতে পারে।

আরিয়ান বলল,

— হ্যাঁ। তবে M. Rahman এখনো সন্দেহভাজন নয়। তিনি শুধু রিভিউ কপি গ্রহণ করেছিলেন—এটাই এখন পর্যন্ত প্রমাণিত।

৭. মাহফুজুর রহমান

পরদিন সকালে রাফি একটি নতুন তথ্য নিয়ে কেবিনে ঢুকল।

— স্যার, মাহফুজুর রহমানের ব্যাপারে কিছু পেয়েছি।

আরিয়ান বলল,

— কী?

— ২০০৮ সালের কর্মচারী রেজিস্টারে মাহফুজুর রহমান নামে একজনের তথ্য আছে। তিনি ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত Special Trustee Office-এ অস্থায়ী প্রশাসনিক সহকারী ছিলেন।

নীরা বলল,

— তাহলে কি M. Rahman তিনিই?

রাফি বলল,

— তাঁর নামের আদ্যক্ষর মিলে যায়। পদটাও কাছাকাছি। কিন্তু একটি সমস্যা আছে।

আরিয়ান বলল,

— কী সমস্যা?

— কর্মচারী রেজিস্টারে তাঁর দায়িত্ব লেখা আছে “Office Support Assistant।” আর নিয়োগপত্রের ST-04/2008-এ লেখা “Assistant to Special Trustee।”

নীরা বলল,

— দুটি পদ একই কি না, তা নিশ্চিত নয়।

রাফি বলল,

— ঠিক তাই। আরও একটি তথ্য আছে। মাহফুজুর রহমানের চাকরি শেষ হওয়ার নথিতে লেখা, তিনি ৩০ নভেম্বরের পর আর অফিসে কাজ করেননি।

আরিয়ান বলল,

— তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব?

— পুরোনো কর্মচারী তালিকায় একটি ঠিকানা আছে। তবে ঠিকানাটি অনেক পুরোনো।

নীরা বলল,

— আমরা তাঁকে খুঁজে দেখতে পারি।

আরিয়ান বলল,

— আগে নিয়োগপত্রের মূল কপি খুঁজে বের করো। একই নাম ও কাছাকাছি পদবি দেখে আমরা কাউকে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করব না।

৮. নাসিমা বেগমের ডায়েরির নতুন পাতা

দুপুরে নাসিমা বেগমের কাছ থেকে নীরার ফোন এল।

— মা, তোমাদের একটা কথা বলার ছিল।

— বলুন।

— পুরোনো ডায়েরির আরেকটি পাতা পেয়েছি। আগে খেয়াল করিনি।

নীরা অবাক হলো।

— কী লেখা আছে?

— ২০০৮ সালের ২১ সেপ্টেম্বরের একটা নোট।

নীরা দ্রুত বলল,

— কী লেখা?

নাসিমা বেগম ডায়েরি থেকে পড়ে শোনালেন—

“আজ প্রশাসনিক দপ্তর থেকে জানানো হলো, রিভিউ কপি গ্রহণকারী ব্যক্তি মূল নথির দায়িত্বপ্রাপ্ত নন। মূল নথির হেফাজত আলাদা রেজিস্টারে সংরক্ষ

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 100 শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন