ফন্ট সাইজ:
থিম:
শেষ নিঃশ্বাসেও তুমি

পর্ব 99

লেখক: Mafiya Queen

শেষ নিঃশ্বাসেও তুমি

পর্ব ৯৯: P-07-এর অজানা সংযোগ

লেখক: Mafiya Queen 👑

সকাল থেকেই রয়্যাল হোল্ডিংসের আর্কাইভ বিভাগে ব্যস্ততা।

আরিয়ানের নির্দেশে রাফি পুরোনো ট্রাস্ট অফিসের সব ডিজিটাল ইনডেক্স এক জায়গায় সংগ্রহ করেছে।

নীরা নিজের ডেস্কে বসে গতকালের পাওয়া নথিগুলো আবার দেখছিল।

তার চোখ বারবার আটকে যাচ্ছিল একই তিনটি রেফারেন্সে—

D-04।

E-17।

P-07।

তিনটি আলাদা পরিচয়।

তিনটি আলাদা দায়িত্ব।

কিন্তু কোথাও গিয়ে যেন একে অপরের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে।

নীরা ফাইল বন্ধ করে আরিয়ানের কেবিনে গেল।

— আপনি কি কিছু পেয়েছেন?

আরিয়ান ল্যাপটপ থেকে চোখ তুলে বলল,

— রাফি একটা পুরোনো ইনডেক্স খুঁজে পেয়েছে। তবে সেটি অসম্পূর্ণ।

— কী আছে সেখানে?

— P-07-এর দায়িত্বের মেয়াদ নিয়ে একটি নোট।

নীরা চেয়ারে বসে পড়ল।

— দেখান।

আরিয়ান কাগজটি সামনে এগিয়ে দিল।

সেখানে লেখা—

P-07 — Temporary Original Holder
Assignment Date: 18 September 2008
Review Date: 17 October 2008
Extension: Pending
Final Custody Confirmation: Not Recorded

নীরা বলল,

— অর্থাৎ ১৭ অক্টোবরেও P-07-এর দায়িত্ব স্থায়ী করা হয়নি।

আরিয়ান মাথা নাড়ল।

— ঠিক। অথচ ২৮ অক্টোবরের FINAL রেকর্ডে একজন প্রতিনিধি অন্যের পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করেছে।

নীরা ধীরে বলল,

— তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, সেই প্রতিনিধি কি P-07 ছিল?

আরিয়ান উত্তর দিল,

— এখনো বলা যাচ্ছে না।

১. পুরোনো রেজিস্টারের আরেকটি পাতা

রাফি কেবিনে প্রবেশ করল।

তার হাতে একটি ফাইল।

— স্যার, একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পেয়েছি।

আরিয়ান বলল,

— বলো।

রাফি কাগজটি টেবিলে রাখল।

— P-07-এর নাম সরাসরি কোথাও নেই। কিন্তু ১৮ সেপ্টেম্বর ২০০৮-এর একটি রেজিস্টারে দায়িত্ব গ্রহণকারীর পরিচয়ের বদলে একটি কোড ব্যবহার করা হয়েছে।

নীরা দ্রুত কাগজটি হাতে নিল।

সেখানে লেখা—

Temporary Holder Code: P-07

Identification Method: Personal Reference + Independent Witness Confirmation

নীরা বলল,

— ব্যক্তিগত পরিচিতি আর স্বাধীন সাক্ষীর মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করার কথা ছিল।

রাফি বলল,

— হ্যাঁ। কিন্তু নিচের অংশে সাক্ষীর স্বাক্ষরের জায়গা ফাঁকা।

আরিয়ান কাগজটি পরীক্ষা করল।

— তাহলে P-07-এর পরিচয় সম্পূর্ণভাবে যাচাই করা হয়নি।

নীরা বলল,

— অথচ তাকে মূল নথির অস্থায়ী দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল?

রাফি বলল,

— রেকর্ড অনুযায়ী, হ্যাঁ। তবে দায়িত্বটি ছিল সীমিত সময়ের জন্য।

আরিয়ান চুপ করে রইল।

কিছুক্ষণ পর বলল,

— এই নথির মূল কপি কোথায়?

রাফি উত্তর দিল,

— পুরোনো প্রশাসনিক সংরক্ষণ কক্ষে থাকার কথা।

— আমাদের সেখানে যেতে হবে।

২. প্রশাসনিক সংরক্ষণ কক্ষ

দুপুরের দিকে নীরা, আরিয়ান ও রাফি পুরোনো প্রশাসনিক সংরক্ষণ কক্ষে পৌঁছাল।

কক্ষটি অনেক দিন ব্যবহার করা হয়নি।

দেয়ালের পাশে সারি সারি পুরোনো আলমারি।

কিছু আলমারিতে তালা ঝুলছে।

সেখানে দায়িত্বে থাকা কর্মচারী তাদের প্রয়োজনীয় রেজিস্টার এনে দিলেন।

আরিয়ান নির্দিষ্ট তারিখের রেকর্ড খুঁজতে বলল।

কিছুক্ষণ পর একটি মোটা রেজিস্টার পাওয়া গেল।

রাফি পাতা উল্টাতে উল্টাতে বলল,

— পেয়েছি!

নীরা এগিয়ে গেল।

রেজিস্টারের একটি পাতায় লেখা—

18 September 2008 — Temporary Custody Assignment

P-07: Original Document Holder
Related Record: C-14
Related Authorization: D-04
Verification Status: Incomplete

নীরা বলল,

— এখানে C-14 আর D-04 দুটোই আছে।

আরিয়ান বলল,

— তার মানে একই সময়ে দুটি নথির দায়িত্ব নিয়ে কাজ হচ্ছিল। তবে একটির সঙ্গে অন্যটির অনুমোদন সরাসরি যুক্ত ছিল কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

নীরা পরের লাইন পড়ল।

সেখানে লেখা—

“Holder shall preserve original document until written closure or extension.”

নীরা বলল,

— লিখিতভাবে দায়িত্ব শেষ না হওয়া পর্যন্ত মূল নথি সংরক্ষণ করার কথা ছিল।

রাফি বলল,

— কিন্তু ১৭ অক্টোবরের পর দায়িত্ব বাড়ানোর কোনো অনুমোদন নেই।

আরিয়ান বলল,

— সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

নীরা বলল,

— তাহলে ২৮ অক্টোবরের আগে P-07-এর দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কথা।

আরিয়ান বলল,

— যদি কোনো লিখিত extension না থাকে, তাহলে তাই।

৩. পুরোনো কর্মচারীর সাক্ষ্য

সংরক্ষণ কক্ষের কর্মচারী তাদের জানালেন, এই রেজিস্টার একসময় যিনি দেখাশোনা করতেন, তিনি এখনো জীবিত আছেন।

নাম—মোতালেব হোসেন।

বর্তমানে তিনি অবসর জীবন কাটাচ্ছেন।

রাফি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করল।

ফোনে কথা বলার পর তিনি জানালেন, বিকেলে দেখা করতে পারবেন।

বিকেল পাঁচটায় তারা একটি ছোট বাসার সামনে পৌঁছাল।

মোতালেব হোসেন বয়সের ভারে কিছুটা নুয়ে পড়েছেন।

তবে পুরোনো কাগজপত্রের কথা উঠতেই তাঁর স্মৃতি যেন ফিরে এল।

আরিয়ান পরিচয় দেওয়ার পর তিনি বললেন,

— রহমান পরিবারের পুরোনো অফিসের ব্যাপার?

আরিয়ান বলল,

— জি। আমরা P-07 সম্পর্কে জানতে চাই।

মোতালেব কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।

তারপর বললেন,

— ওই কোডটা আমার মনে আছে।

নীরা আগ্রহ নিয়ে বলল,

— আপনি কি জানেন, P-07 কে ছিলেন?

— পুরো নাম জানতাম না। আমাদের বলা হয়েছিল, নামের পরিবর্তে কোড ব্যবহার করতে।

আরিয়ান বলল,

— কেন?

— নথির নিরাপত্তার জন্য। তবে একটা বিষয় মনে আছে। P-07 নিজে অফিসে আসেননি। তাঁর হয়ে অন্য একজন যোগাযোগ করতেন।

নীরা বলল,

— সেই ব্যক্তির নাম জানেন?

মোতালেব মাথা নাড়লেন।

— নামটা নিশ্চিত নই। তবে তাঁর কাছে একটি লিখিত নির্দেশ ছিল।

আরিয়ান বলল,

— নির্দেশটির কপি কি কোথাও আছে?

মোতালেব উঠে পাশের ঘরে গেলেন।

কিছুক্ষণ পর একটি পুরোনো ফাইল নিয়ে ফিরে এলেন।

— এটা আমার কাছে ছিল। তখন কেউ ফেরত নিতে আসেনি।

তিনি ফাইল খুললেন।

ভেতরে একটি ছোট কাগজ।

তারিখ—১৯ সেপ্টেম্বর ২০০৮।

লেখা—

“Temporary Preservation Instruction”

নিচে উল্লেখ ছিল—

“C-14 Original shall remain separately preserved. No transfer shall be made without written acknowledgment from the authorized office.”

নীরা বলল,

— এখানে কোনো ব্যক্তির নাম নেই।

মোতালেব বললেন,

— নামটা পরের পাতায় থাকার কথা।

তিনি ফাইলের ভেতর থেকে আরেকটি কাগজ বের করলেন।

কিন্তু কাগজটির নিচের অংশ ছেঁড়া।

উপরে শুধু লেখা—

Received by: M. Rah...

নীরা স্থির হয়ে গেল।

আরিয়ান কাগজটি হাতে নিয়ে ভালো করে দেখল।

— M. Rahman?

মোতালেব বললেন,

— পুরোটা দেখা যাচ্ছে না। তাই আমি কাউকে কিছু বলতে পারিনি।

নীরা ধীরে বলল,

— M. Rahman তো অনেকের নাম হতে পারে।

আরিয়ান মাথা নাড়ল।

— শুধু এই কাগজ দেখে কাউকে চিহ্নিত করা যাবে না।

৪. নামের পেছনের মানুষ

বাসা থেকে বেরিয়ে গাড়িতে উঠতেই নীরা বলল,

— M. Rahman!

আরিয়ান বলল,

— এই নামের সঙ্গে আমাদের পরিচিত অনেকেরই সম্পর্ক থাকতে পারে।

— মিজানুর রহমান?

— হতে পারে, কিন্তু তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী তিনি ওই দায়িত্ব নেননি।

— মাহমুদ রহমান?

— তাঁর নামও অনুমান করে বসানো যাবে না।

নীরা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।

তারপর বলল,

— রাশেদ রহমানও তো আছেন।

আরিয়ান এবার নীরার দিকে তাকাল।

— তোমার বাবা?

নীরা মাথা নাড়ল।

— আমি কাউকে সন্দেহ করছি না। শুধু বলছি, M. Rahman লিখলেই আমরা একজন নির্দিষ্ট মানুষকে ধরে নিতে পারি না।

আরিয়ান বলল,

— ঠিক বলেছ।

নীরা জানালার বাইরে তাকাল।

তার বাবা রাশেদ রহমানের অতীতের সঙ্গে এই নথিগুলোর সম্পর্ক বহু পুরোনো।

কিন্তু তিনি কি সত্যিই সব জানেন?

নাকি তাঁকেও কোনো একসময় অসম্পূর্ণ তথ্যের ওপর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা হয়েছিল?

নীরা নিজের মনেই প্রশ্ন করল।

৫. বাবার কাছে একটি প্রশ্ন

সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরে নীরা বাবার পাশে বসল।

রাশেদ রহমান খবরের কাগজ পড়ছিলেন।

নীরা বলল,

— বাবা, একটা কথা জিজ্ঞেস করব?

— বল মা।

— ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তুমি কি পুরোনো ট্রাস্ট অফিসের কোনো মূল নথির দায়িত্ব নিয়েছিলে?

রাশেদ রহমান খবরের কাগজ নামিয়ে তাকালেন।

— হঠাৎ এ প্রশ্ন কেন?

নীরা ব্যাগ থেকে কাগজটির ছবি বের করল।

— এখানে M. Rah... লেখা আছে। পুরো নাম নেই।

রাশেদ রহমান কাগজটি মনোযোগ দিয়ে দেখলেন।

কিছুক্ষণ পর বললেন,

— এই ধরনের রসিদ আমি আগে দেখেছি।

নীরার বুক ধক করে উঠল।

— কোথায়?

— মাহমুদের অফিসে। তবে এই নির্দিষ্ট রসিদটি দেখেছি কি না, নিশ্চিত নই।

— তুমি কি কখনো C-14-এর মূল নথি হাতে নিয়েছিলে?

রাশেদ রহমান কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন।

তারপর বললেন,

— ১৭ সেপ্টেম্বরের মিটিংয়ে নথিটি দেখেছিলাম। কিন্তু কোনো দ্বিতীয় কপিতে অনুমোদন দিইনি। সেটা তো আগেও বলেছি।

— আর P-07?

রাশেদ রহমানের মুখ কিছুটা গম্ভীর হলো।

— P-07 নামটা আমি শুনেছিলাম।

নীরা অবাক হয়ে বলল,

— তুমি আগে বলোনি কেন?

— কারণ তখন আমি জানতাম না P-07 কে। শুধু জানতাম, একজন অস্থায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি মূল নথিটি সংরক্ষণ করবেন।

— তুমি কি তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলে?

— না। আমার সঙ্গে সরাসরি কোনো যোগাযোগ হয়নি।

নীরা বলল,

— তাহলে M. Rah... কে হতে পারে?

রাশেদ রহমান দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।

— মা, পুরোনো দিনের কাগজ দেখে কাউকে অপরাধী বানিয়ে ফেলো না। আমার নামও ওই কাগজে থাকতে পারে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমি কোনো দায়িত্ব নিয়েছিলাম।

নীরা বাবার হাতের ওপর হাত রাখল।

— আমি তোমাকে সন্দেহ করছি না, বাবা। আমি শুধু সত্যিটা জানতে চাই।

রাশেদ রহমান মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন,

— সত্য জানতে হলে পুরো কাগজ খুঁজে বের করো। অর্ধেক লেখা দিয়ে সিদ্ধান্ত নিও না।

৬. আরিয়ানের কাছে অপ্রত্যাশিত তথ্য

রাত সাড়ে নয়টা।

আরিয়ান নিজের কেবিনে বসে মোতালেবের দেওয়া কাগজটি আবার পরীক্ষা করছিল।

হঠাৎ রাফি ফোন করল।

— স্যার, একটা তথ্য পেয়েছি।

— বলো।

— ১৯ সেপ্টেম্বরের ওই রসিদের সঙ্গে আরেকটি ডেলিভারি রেকর্ড পাওয়া গেছে।

আরিয়ান সোজা হয়ে বসল।

— কী লেখা?

— রসিদ নম্বর R-19/09। সেখানে একই তারিখে একটি সিল করা ফাইল প্রশাসনিক সংরক্ষণ বিভাগে পাঠানোর কথা আছে।

— প্রেরক কে?

রাফি বলল,

— প্রেরকের জায়গায় নাম নেই। শুধু লেখা—

“Submitted through Office Liaison.”

আরিয়ান বলল,

— গ্রহণকারী?

রাফি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,

— গ্রহণকারীর নাম পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে স্বাক্ষরের পাশে একটি পদবি লেখা আছে।

— কী পদবি?

রাফি উত্তর দিল,

“Assistant to Special Trustee.”

আরিয়ান স্থির হয়ে গেল।

— Special Trustee?

— জি, স্যার।

— এই পদটি কার অধীনে ছিল?

— আজহর রহমান সাহেবের ব্যক্তিগত ট্রাস্ট ব্যবস্থাপনার অধীনে। তবে ওই সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম এই কপিতে নেই।

আরিয়ান ধীরে বলল,

— মূল রেজিস্টার খুঁজে বের করো।

— চেষ্টা করছি, স্যার।

ফোন রেখে আরিয়ান কিছুক্ষণ চুপ করে বসে রইল।

P-07-এর অস্থায়ী দায়িত্ব।

E-17-এর আলাদা সংরক্ষণ।

M. Rah... লেখা অসম্পূর্ণ রসিদ।

আর এখন Special Trustee-এর সহকারী।

সবকিছু যেন একই জায়গায় গিয়ে মিলছে।

কিন্তু এখনো কোনো প্রমাণ নেই যে একই ব্যক্তি এসব কাজ করেছিলেন।

৭. নতুন দরজা

রাত দশটা পঁয়তাল্লিশে নীরা আরিয়ানের ফোন পেল।

— আপনি কি এখনো অফিসে?

— হ্যাঁ।

— কিছু পেয়েছেন?

আরিয়ান বলল,

— Special Trustee-এর সহকারীর একটি রেকর্ড পেয়েছি।

নীরা চুপ করে গেল।

— তাহলে কি P-07 সেই বিভাগের সঙ্গে যুক্ত ছিল?

— এখনো নিশ্চিত নই। তবে ১৯ সেপ্টেম্বরের রসিদে সেই বিভাগের উল্লেখ আছে।

নীরা বলল,

— আমি বাবার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি P-07 নামটা শুনেছিলেন। কিন্তু ব্যক্তিটিকে চিনতেন না।

আরিয়ান বলল,

— তাহলে একটা কাজ করতে হবে।

— কী?

— Special Trustee-এর ২০০৮ সালের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের তালিকা বের করতে হবে। শুধু নাম নয়, তাদের নিয়োগ ও দায়িত্ব শেষ হওয়ার তারিখও।

নীরা বলল,

— আর যদি তালিকায় এমন কেউ থাকে, যার নাম M. Rahman দিয়ে শুরু?

আরিয়ান কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,

— তাহলে তার পরিচয় যাচাই করব। কিন্তু শুধু নাম মিলে গেলেই সিদ্ধান্ত নেব না।

নীরা বলল,

— ঠিক আছে।

কল শেষ হওয়ার পর নীরা নিজের ডায়েরি খুলল।

শেষ পাতায় লিখল—

“P-07 হয়তো একজন ব্যক্তি, কিন্তু তার পেছনে ছিল একটি প্রশাসনিক যোগাযোগব্যবস্থা। আর সেই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিল Special Trustee-এর দপ্তর।”

তারপর নিচে আরেকটি লাইন যোগ করল—

“M. Rah... — এখনো অজানা।”

নীরা ডায়েরি বন্ধ করল।

সে জানে, সত্যের খুব কাছে পৌঁছেছে তারা।

কিন্তু সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নটির উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি—

যে ব্যক্তি ২৮ অক্টোবর ২০০৮ সালে অন্যের পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করেছিল, সে কি সত্যিই অনুমোদিত প্রতিনিধি ছিল, নাকি একটি অসম্পূর্ণ দায়িত্বকে ব্যবহার করে নিজের পরিচয় আড়াল করেছিল?

আর সেই উত্তর লুকিয়ে আছে Special Trustee-এর হারিয়ে যাওয়া তালিকায়।

চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 99 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন