ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রণয়ের মহাকাব্য

পর্ব 2

লেখক: ๓𝐑𝐞𝐝ℓ𝐑𝐨𝐬𝐞✿

~প্রণয়ের মহাকাব্য ~
লেখিকা :"๓𝐑𝐞𝐝ℓ𝐑𝐨𝐬𝐞✿ "
পর্ব : ২
🚫🚫কপি করা নিষিদ্ধ 🚫🚫
(সাধারণ চিন্তাধারা আর মন মানসিকতার খুঁতখুঁতে রুচি সম্পন্ন পাঠক পাঠিকাদের জন্য এই উপন্যাসটি পড়া কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ। যাদের এই উপন্যাসটি পড়ার আগ্রহ হচ্ছে কোনটাই নেই তারা এই উপন্যাসটি থেকে দয়া করে দুরে থাকবেন)🚫🚫🚫
(কঠোর মন মানসিকতা আর মস্তিষ্ক সম্পন্ন পাঠক পাঠিকাদের জন্য প্রযোজ্য)

শহরটা এখন নিঃশ্বাস বন্ধ করে ঘুমিয়ে আছে। রাস্তার সোডিয়াম লাইটগুলো হলুদ হয়ে জ্বলছে, যেন ক্লান্ত চোখে তাকিয়ে আছে খালি রাস্তার দিকে। কোথাও কুকুরের একটানা ডাক, কোথাও দূরে কোনো ট্রাকের গর্জন - বাকি সব চুপ।

আকাশে চাঁদটা আজ একটু ঝাপসা। মেঘের আড়ালে লুকোচুরি খেলছে, মাঝে মাঝে মুখ বের করে পুরো শহরে রুপালি আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে। বাতাসে হালকা শীত, সাথে ভেজা মাটির গন্ধ। রাত ২টার পর বাতাসটাও যেন ধীর হয়ে যায়, ফিসফিস করে কথা বলে।

কোথাও একটা ছায়া নড়ে উঠলো। পরিত্যক্ত গলির মুখে একটা বিলাই জ্বলজ্বল চোখে তাকিয়ে আছে। দেয়ালের গায়ে পুরনো পোস্টারগুলো বাতাসে একটু একটু ছিঁড়ে উড়ছে। সময় এখানে থেমে গেছে মনে হয়।
গভীর রাতের এই পীতন নীরবতার মাঝে শুধু বইয়ের পাতা উল্টানোর শব্দ। বরিশাল চৌমাথা লেকের কিছুটা দুরেই একটা বিল্ডিং এ বরিশাল মহিলা কলেজ এর কিছু ছাত্রী ব্যাচেলার থাকে। ব্যাচেলার ফ্ল্যাটটা বিল্ডিং এর ৩ নাম্বার ফ্লোরে। ওই ফ্লোরেরই একটা রুমে বসে আছে এক রমনী। সেই এই গভীর রাতে রুমের এক কোনায় জানালার পাশে রাখা টেবিলটায় টেবিল ল্যাম্প জ্বালিয়ে পড়ছে কয়েক মাস পর তার HSC পরীক্ষা। তাই-ই এত রাতে উঠে পড়তে বসা। যদিও তার ভোরে উঠে পড়ার অভ্যাস তবুও ইদানিং সে ভোর রাতের আগেই উঠে পড়তে বসে। গায়ে ck লোগো সমৃদ্ধ কালো গেঞ্জি আর পড়নে কালো কার্গো প্যান্ট। সাধারণ মেয়েদের থেকে একটু লম্বা গঠনের শরীর হবে ৫ ফুট ৪ কি ৫ ইঞ্চি। গায়ের গেঞ্জি গরমে একটু উপরে উঠানো তাই ধনুকের ন্যায় বাঁকা কোমর আর রোগা পাতলা গঠনের শরীর দৃশ্যমান। কোমরের নিচ পর্যন্ত হাঁটু ছুঁই ছুঁই মাঝারি ধাঁচের সিল্কি চুল গুলো ঘাড়ের কাছে খোপা করা। কালচে বাদামি চোখের মনি নিবদ্ধ বইয়ের পাতায়। চোখের পাপড়ি আর ভুড়ুর মাঝখান বরাবর বাম চোখের ডান পাশ ঘেশে একটা বাদামি রঙের অত্যন্ত আকর্ষণীয় একটা তিল। চেহারা লম্বা ধাঁচের কঠোর চোয়াল বিশিষ্ট। মেরুন গোলাপি বর্নের উপরের ঠোঁটের বাম কোণায় গাড়ো বাদামি রঙের একটা তিল তবে তুলনা মূলক ছোট।

***

চোয়ালেও কালচে বাদামি রঙের একটা তিল। মানানসই এরকম ছোট বড় আরও অনেক গুলো তিল বিদ্যমান তার মুখে। তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় তার চোখের ওপরের তিলটা,ঠোঁটের ওপরের তিলটা আর তার চোয়ালের এই তিলটা। লম্বা -পাতলা গঠনের মুখ টায়ও সে হাসি দিলে বাম ডালে টোল পড়ে ডানগালেও পড়ে তবে তুলনা মূলক অনেক কম এর থেকে ও আকর্ষণীয় হচ্ছে বাম গালে যেই জায়গাটায় টোল পড়ে সেই জায়গায়ই অবস্থান রত কালচে বাদামি রঙের তিলটা। ফর্সা মুখের মানানসই সবগুলো তিলের মধ্যে এটাও কম নজর কাড়ে না। তার বক্ষের হাড় গুলো চামড়ার ওপর দিয়েও স্পষ্ট দৃশ্যমান তার থেকেও দৃশ্যমান বাম বক্ষের ওপর অবস্থান রত তিলটা। ফর্সা গঠনের শরীরে মানানসই সহ লজ্জাজনক স্থান গুলোতে অবস্থান রত তিল গুলো জায়গা গুলোকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। শরীরের দৃশ্যমান জায়গা ব্যতীত শরীরে অবস্থান রত সবগুলো রগই তুলনা মূলক ফোলা ফোলা। এমনকি তার গলার এডামস অ্যাপেলটাও তুলনা মূলক অনেক টাই বড়। শারীরিক গঠন জানলে এখনও তো তার সম্পর্কে জানা আরো অনেক বাকি। সে খুবই শান্ত স্বভাবের। সে তার বন্ধুদের সাথে না হোক তবে বেস্ট ফ্রেন্ড এর সাথে মন খোলা এক প্রাণী। তবে রাগলে তার থেকেও বেশি ভয়ংকর। মাথা ঠান্ডা থাকলে যেমন শান্ত ভাবে স্পষ্ট ও ধীরে সুস্থে কথা বলে। রাগলে ঠিক তার থেকেও বেশি খারাপ ব্যবহার করে।
----

কাকে কোথায় কিভাবে কোন কথা বললে তার জয়েন্টে জয়েন্টে লাগবে সেটা সে খুব ভালো করেই জানে। রাগের মাথায় কথা বললে তার চারপাশে যারা থাকবে তাদের মুখ থেকে শুধু একটা আওয়াজ-ই বের হবে 'আস্তাগফিরুল্লাহ '।উপন্যাস প্রেমী যেহেতু তাই চিন্তা ভাবনা,মুখের ভাষা,চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এরকম হবে এটাই স্বাভাবিক। তবে সে রাগের মাথায় কথা বললে ও সে যথেষ্ট বুঝে শুনে যুক্তি সহকারে কথা বলে যার মধ্যে বা-হাত ঢুকানোর ক্ষমতা আল্লাহ ব্যতীত কারোর নেই। সে শুধু মাত্র আল্লাহ কেই ভয় করে ফলস্বরূপ পর্দা, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া, আর আদব আখলাক পরিপূর্ণ চরিত্র তার। মাঝে মাঝে তার এমন খারাপ আচরণ নিয়ে সে নিজেই বলে,'সব সময় সবার সাথে আদবের সহীহ ভালো ভাবে কথা বলা উচিত না মাঝে মাঝে মুখের ভাষা খারাপ করে হলেও তাদের স্থান বুঝিয়ে দেওয়া উচিত কেননা মানুষ সেই তারেই কাপড় শুকায় যেই তারে কারেন্ট নাই'।সে অত্যন্ত মেধাবী একজন ছাত্রী। বিঙ্গান বিভাগ দিয়ে দাখিল পাস করে বর্তমানে সে একজন HSC পরীক্ষার্থী। পরিবারের বড় সন্তান। মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে সে। বরগুনা বিভাগের ছোট্ট একটি গ্রাম পূর্ব সফিপুরের বসবাসরত প্রবাসী আসাদুজ্জামান হাওলাদার আর মনিরা বেগম বড় মেয়ে নুসাইফা আসাদ তানজিলা। তার মা একজন গৃহিণীর সাথে সাথে একজন দর্জি। বাবা আসাদুজ্জামান আর মা মনিরার সে ব্যতীত ছোট আরও দুই সন্তান আছে। একমাত্র ছেলে তামিমুল এহসান হাওলাদার একজন হাফেজ বর্তমানে কিতাব খানায় পড়ুয়া একজন ছাত্র। আর ছোট মেয়ে তামিমা আসাদ মুনা পরিবারের ছোট সদস্য তার বয়স মাত্র পাঁচ বছর। তানজিলা তার বাড়ির সবার কাছে যেমন আদরের তার থেকেও বেশি সে সবার কাছে জমের মতো এমনকি তার বাবার কাছেও। আগে পরিবারের কাছে থেকে পড়াশোনা করলেও তার বর্তমান অবস্থান বরিশালে।

*****

কারণ একটাই তার পড়াশোনা। পড়াশোনার সুবাদেই পরিবারের কাছ থেকে এত দুরে থাকা। তার স্বপ্ন একটাই পড়াশোনা করে সে ভবিষ্যতে একজন নামকরা বিখ্যাত দক্ষ, পারদর্শী আর চিকিৎসা শাস্ত্রে অবিঙ্গ ডাক্তার হওয়া। বরিশালে তার মামাদের বাসা থাকলেও সে সেখানে থেকে পড়াশোনা করে না কারণ তারাও তার পরিবার আর পরিবারের কাছে থাকলে তার পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটতেই পারে আর সে তার পড়াশোনা নিয়ে কোনো প্রকার রিস্ক নিতে চায় না।

------

চারপাশের পিতন নিরবতা ভেঙে 'Lvbel C5 ' song এর কর্কশ আওয়াজে বেজে উঠল তানজিলার ফোন। ফোনের দিকে তাকাতেই চোখের নজর গিয়ে আটকালো 'মাহমুদুল হাসান ' লিখে সেইফ করা নাম্বারটায়। নাম দেখেই ভ্রু কোঁচকালো তানজিলা অতঃপর লম্বা শ্বাস ছেড়ে কল রিসিভ করে কানে তুলল। ফোন রিসিভ হতেই ওই পাশ থেকে এক রমনীর গলার স্বর ভেসে এলো,
-ওই তানজু কেমন আছো। কি অবস্থা কি করো?
-তা পড়ে বলতাছি হুমু আগে তুই বলত ভাইয়া কখন বাসায় আসছে
- তুই কি করে বুঝলি ভাইয়া বাসায় আসছে?
-আহম্মকের মতো প্রশ্ন করিস কেন বলতো হুমু ভাইয়া বাসায় না আসলে কি তোর ভাতা রের কাছে ফোন পাঠাইয়া দিছে আর ভাইয়ার সাথে আমার কালকে দুপুরেও কথা হইছে বলছে কখন আসবে শিওর না।
- ভাই তুই মুখে একটু লাগাম দে আমার বিয়ে হয় নাই তো আমার জামাই কোথা থেকে আসবে!
-তুই আগে আহম্মকের মতো প্রশ্ন করছ ভাইয়ায় কখন আসছে জিজ্ঞেস করছি।
-এই তো দেড়টা বাজে আইসা খাওয়া দাওয়া কইরা ঘুমাইছে।
- ফোন কেন দিছ এই ভোর রাতে?
- আরে দেখছ তোরে যা বলতে ফোন দিছি তাই বলতে ভুইলা গেছি।
-কি কবি?
- আরে তেমন কিছু না আবার তেমন অনেক কিছুই তুই আমাদের বাসায় কালকে দুপুরে থাকবি এটাই কথা
- আমি পারব না আমার কলেজে ক্লাস আছে।
- আমি কিছু জানি না বাবা আম্মু বলছে।
-তুই মামিরে বইলা দিস যে আমার ক্লাস আছে।
-আমি কিছু জানি না বাপু আম্মু বলছে তুই যদি আম্মুর দুধ এক ফোটাও খাইয়া থাকো তাহলে আম্মু যেন দুপুরে আমগো বাসায় তোরে পায় আর আর একটা কথা তুই আমগো বাসায় আসতে না পারলে আম্মুর সাথে কথা বলিস আমি আম্মুরে কিছু বলতে পারুম না তোমাগো দুই না বেডির বিষয় তোমরাই বুইঝা লইও।
এই একই ব্লাক মেইল ছোট বেলা থেকে শুনতে শুনতে অব্ভস্ত তানজিলা তাই আর কথা না বাড়িয়ে বলল,
-ঠিক আছে আসবো এবার খুশি।
-আই লাভ ইউ জানু উম্মা।
- হইছে আর তেল মারতে হবে না আসব বলছি তো।
-মনে থাকে যেন আচ্ছা তাহলে রাখছি বাকি কথা তুই বাসায় আসলে হবে।আল্লাহ হাফেজ।
-ওকে আল্লাহ হাফেজ।
এই বলেই তানজিলা ফোন ছুড়ে মারল বিছানায়। এগিয়ে গেল আলমারির দিকে আলমারি খুলে আবারও একটা কালো কার্গো প্যান্ট আর একটা কালো কালার গেঞ্জি বের করে নিল। হালে গেঞ্জি আর প্যান্ট নিয়ে এগিয়ে গেল ওয়াশরুমের দরজার দিকে। ওয়াশরুমের ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিল। প্রায় এক ঘন্টা পর ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে আসল। এটা তার প্রতিদিন রুটিন ফজরের আগে গোসল করে তারপর নামাজ পড়া।

*****

তানজিলা প্রতি দিনই আধাঘন্টা থেকে এক ঘন্টা করে শাওয়ার নেয় ভোর রাতে। শুধু ভোর রাতেই না দুপুরে সন্ধ্যায় এমনকি রাতে ও এই রকমেরই সময় নিয়ে শাওয়ার নেয় সে। তবে শীতের দিন হলে প্রতিদিন ভোর রাতে আর সন্ধ্যায় গরম পানি দিয়ে হলেও এই রকম সময় নিয়ে শাওয়ার নেয় তানজিলা। চারপাশে আজানের প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে। আলমারি খুলে হাতে জায়নামাজ আর হিজাব নিল তানজিলা। অতঃপর নামাজ পড়ে এগিয়ে গেল তাদের ফ্ল্যাট এর রান্না ঘরে নিজের জন্য এক কাপ করা ব্লাক কফি করে রান্না ঘরের কিচেন কেবিনেট থেকে কাখন দেওয়া উচিত অন-টাইম ব্রেড বের করে নিয়ে এগিয়ে গেল তার রুমের দিকে। রুমে গিয়ে কফির মগ আর ব্রেড পড়ার টেবিলের ওপর রেখে দরজা লাগিয়ে দিয়ে গিয়ে বসে পড়ল তার পড়ার টেবিলের পাশে রাখা ইজি চেয়ারে। পড়তে পড়তে খেতে লাগল খাবার। একটু আগে শাওয়ার নিয়ে বের হওয়ার পরও ঘেমে নেয়ে একাকার অবস্থা হয়েছে তানজিলার। গরম সহ্য করতে না পেরে উঠে দাড়িয়ে পড়নের গেঞ্জিটা উরুর ওপর উঠিয়ে নিল প্যান্ট আর নামানোর দরকার পড়ে নি সে আপনা আপনিই নিজের জায়গা দখল করে নিয়েছে আরো আগে যখন তার অবস্থান হয়েছিল তানজিলার পড়নে। ধনুকের ন্যায় বাঁকানো কোমর থেকে প্যান্ট খসে পড়বে এটাই স্বাভাবিক। তানজিলার পাঁজরের হাড় গুলো যদি উচু না হতো তাহলে এতক্ষণে তার প্যান্টের অবস্থা তার তল পেটে না হয়ে অবস্থান হতো একদম বিপদসীমা বরাবর। আবারো চেয়ারে গিয়ে বসে পড়ায় মনোযোগ দিল তানজিল.....।.

চলবে......

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 2 শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন