ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রণয়ের মহাকাব্য

পর্ব 3

লেখক: ๓𝐑𝐞𝐝ℓ𝐑𝐨𝐬𝐞✿

~প্রণয়ের মহাকাব্য ~
লেখিকা :"๓𝐑𝐞𝐝ℓ𝐑𝐨𝐬𝐞✿ "
পর্ব : ৩
🚫🚫কপি করা নিষিদ্ধ 🚫🚫
(সাধারণ চিন্তাধারা আর মন মানসিকতার খুঁতখুঁতে রুচি সম্পন্ন পাঠক পাঠিকাদের জন্য এই উপন্যাসটি পড়া কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ। যাদের এই উপন্যাসটি পড়ার আগ্রহ হচ্ছে কোনটাই নেই তারা এই উপন্যাসটি থেকে দয়া করে দুরে থাকবেন)🚫🚫🚫
(কঠোর মন মানসিকতা আর মস্তিষ্ক সম্পন্ন পাঠক পাঠিকাদের জন্য প্রযোজ্য)

গভীর নিঝুম রাত। এমন নিঝুম যে নিজের নিশ্বাসের আওয়াজও কানে বাজে।চারপাশে দেয়ালের মতো দাঁড়িয়ে আছে গভীর নিরবতা। গাছগুলো দাঁড়িয়ে আছে মুর্তির মতো।হালকা বাতাসে দুলছে গাছের পাতাগুলো।শুধু দুরে অনেক দুরে শোনা যাচ্ছে কুকুরের ভঙ্গুর কন্ঠে ডাক। মাঝে মাঝে জঙ্গল থেকে নেকড়ের হাহাকার ভেসে আছে যেন আকাশ ছিড়ে ফেলবে।ক্ষনে ক্ষনে শিয়ালের তীক্ষ্ণ চিৎকার ছুরি চালিয়ে দিচ্ছে নিরবতার বুকে।এই তিনটা প্রাণীর ডাক ছাড়া আর কিছু না শোনা যাচ্ছে না দেখা যাচ্ছে। যেন পুরো শহর ঘুমিয়ে আছে শুধু জেগে আছে অন্ধকার আর কালো জগতের নির্দয় নিষ্ঠুর রাজ্যপুরি। সুবিশাল কালোয় আবৃত একটা পেন্টহাউজ চারিপাশে দাঁড়িয়ে আছে উঁচু প্রাচীর। প্রাচীরের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য 'Timber Wolf' প্রজাতির নেকড়ে আর 'Red Fox ' প্রজাতির শেয়াল। তারা বাইরে দাঁড়িয়ে পাহাড়া দিচ্ছে পেন্টহাউজটিকে। সুউচ্চ আর সুবিশাল গেটের সামনেই দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য গার্ডস।প্রাচীরের ভেতরও কড়া পাহাড়ায় আবদ্ধ।দেখে মনে হচ্ছে পারমিশন ছাড়া একটা মশা-মাছিরও প্রবেশ নিষেধ। পেন্টহাউজের দোতলায় মন্সটার সাইজ বেডরুমের সোফায় বসে আছে এক মানব। পড়নে 'kiton' ব্র্যান্ডের ব্যাগি প্যান্ট যার অবস্থান নাভির ঠিক নিচে। জিরো লাইটের আলোতে শরীরের পেশিবহুল দৃশ্যমান অত্যাধিক ভোলা ভোলা যা মাত্রাতিরিক্ত শরীর চর্চার ফলাফল। চোখের গভীর হিমশীতল দৃষ্টি নিবদ্ধ ল্যাপটপের ওপারে থাকা রমনীতে
-------
রুমে এসির সাথে সাথে ফ্যানও চলছে সমান তালে তবুও এই মানব ঘেমে নেয়ে একাকার। চরম বিরক্তি নিয়ে রুমের বাইয়ে দরজার সামনে অবস্থান রত গার্ডস গুলোকে হাঁক ছেড়ে বলে উঠল,
-আইস পুল রেডি করো আমি আসছি
কন্ঠ হিমশীতল তবে ক্ষমতায় তেজ যার দ্বারা এই বোঝায় যে আদেশ পালন না করলে মৃত্যু অবধারিত। সঙ্গে সঙ্গে একজন গার্ড এসে দাড়ালো মানবটির সামনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট না করেই নিঃসংকোচে বলে উঠল,
-ফাদার আইস পুল কি পানি দিয়ে রেডি করব নাকি এলকোহল দিয়ে?
এমন প্রশ্নে চটে গেল লোকটা। কপালে ফুটে উঠেছে রগগুলো। চরম বিরক্তি নিয়ে বললে উঠল,
-তোদের রক্ত দিয়ে
লোকটার মতিগতি বুঝতে পেরে আর নিজের জীবন বাঁচানোর উদ্দেশ্যে দৌড় লাগালো গার্ডটা।গার্ডের সাথে সব কথাই ল্যাপটপে দৃষ্টি নিবদ্ধ রেখে বলছিল লোকটা।হঠাৎ করেই সমস্ত রাগ নিভে গেল মিলিয়ে গেল কপালে অত্যাধিক মাত্রায় ফুলে ওঠা রগগুলো। এরই মধ্যে ' l wanna be a gangster ' song এর সুর তুলে বেজে উঠল সোফার উপর অযত্নে পড়ে থাকা ফোনটা। লোকটা চরম বিরক্তি নিয়ে ল্যাপটপ থেকে দৃষ্টি না সরিয়েই চোখের সামনে তুলে ধরল ফোনটা। ফোনে ভেসে ওঠা 'স্বাধীন ' নামটা সুস্পষ্ট। পরমুহূর্তেই ল্যাপটপে দৃষ্টি আবদ্ধ রেখেই ফোন রিসিভ করে কানের কাছে তুলল।ওপাশ থেকে এক মধ্যবয়সী পুরুষের কন্ঠস্বর ভেসে এলো,
-SA কিছু কথা বলার ছিল
বিরক্তি নিয়েই লোকটা বলে উঠল,
- হুম বলো
-ডিস্টার্ব করলাম নাকি ডিস্টার্বড হলে রাখছি
-ডিস্টার্ব যখন করেই ফেলেছ তাহলে কি বলবে বলে ফেল অযথা আমার সময় নষ্ট করো না
-আসলে SA কালকে রাতেও NAT একজনের জাহান্নামের টিকিট কেটেছে
কোনো কিছু একটা হিসাব মিলিয়েই লোকটা বলে উঠল,
-আই হোপ এ্যাম্ড থ্রোট দ্যাট আমার সাথে যার দেখা হয়েছিল সে আর কেউ না স্বয়ং NAT। খোঁজ নাও তার সম্পর্কে
-SA এই নিয়ে কি না ঘাটলেই নয়?NAT সম্পর্কে যে বা যাঁরাই খোঁজ নিয়েছে তারাই তাদের জীবন হারিয়েছে আর যারা NAT সম্পর্কে কিছু না কিছু জানতে পেরেছে তাও তাদের মৃত্যুর আগমুহূর্তে
-এই বলে তুমি কি মিন করতে চাইছ স্বাধীন? যা বললাম তাই করো
-কিছু না SA খোঁজ নিচ্ছি
ওপারের লোকটা কথা শেষ করার সাথে সাথেই কল কেটে আবারও সোফার ওপর অযত্নে ছুড়ে ফেলল ফোনটা। ক্ষুন্ন কন্ঠস্বরে বিড়বিড়াল,
"তোমাকে খুঁজে বের করে তোমার সকল রহস্য তো আমি উদ্ঘাটন করবোই NAT আই মিন 'Necrotic Agony Torment ' "
বলেই ল্যাপটপ থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিল ল্যাপটপ বন্ধ করে উঠে দাড়ালো।
*******
গটগট পায়ে রুম থেকে বেরিয়ে এগিয়ে গেল রুমের পাশের সুবিশাল সুইমিং পুলের দিকে। সুইমিং পুলের সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই দেখতে পেল গার্ডসরা ব্যস্ত হাতে 'Zar's Tear ' নামি মদের বোতলের ঢাকনা খুলে আইস কিউবে পরিপূর্ণ সুইমিং পুলে ঢালছে।'Zar's Tear ' এটা এমন একটা মদ যার এক বোতলের দাম দিয়ে ছোট খাটো একটা দেশ কিনে ফেলা যায়। এর এক বোতলের দাম প্রায় ৩০০০-৪৫০০ ট্রিলিয়ন। পুল ভর্তি হতেই সকল গার্ডস চারপাশ পরিষ্কার করে চলে গেল।সকলে চলে যেতেই লোকটা সুইমিং পুলে নেমে দুই হাত পুলের পাড়ের ওপর রেখে শরীর ছেড়ে দিল 'Zar's Tear' আর আইস কিউব ভর্তি পুলে।
--------
সকাল হতে না হতেই পুরো শহরটা ফিরে গিয়েছে তার চিরচেনা ব্যস্তরূপে।ধীরে ধীরে পুব আকাশে কালচে নীল রঙ বদলে গিয়ে হালকা রক্তিমাভা দেখা দিতে শুরু করে। ঠিক তখনই অলক্ষ্যে শহরের রূপ বদলানোর খেলা শুরু হয়। ডালপালায় পাখিদের কিচিরমিচির দিয়ে নীরবতার প্রথম দেয়ালটা ভেঙে যায়। দূর থেকে ভেসে আসে আজানের ধ্বনি কিংবা মন্দিরের ঘণ্টার আওয়াজ। ঠিক তখনই কুয়াশা মোড়ানো রাস্তায় প্রথম পা পড়ে পত্রিকার হকারের, ঝনঝন শব্দে শাটার খোলে মোড়ের চায়ের দোকানটার। কেটলির গরম জলের ধোঁয়া আর চা পাতার সুবাস জানান দেয়—শহরটা আর ঘুমে নেই।সূর্যটা পুরোপুরি ওঠার আগেই দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে যায়। অলস, নিস্তব্ধ সেই শহরটাকে আর চেনার উপায় থাকে না। ঘড়ির কাঁটা ছোঁয়ার আগেই রাস্তাগুলো নিমেষেই ভরে ওঠে চেনা কোলাহলে। একের পর এক রিকশার টুংটাং, বাসের হর্ন, আর তাড়াহুড়ো করে কাজে ছুটে চলা মানুষের পায়ের আওয়াজে চারপাশ মুখরিত হয়ে ওঠে। যে শহরটা একটু আগেও মৃতবৎ শান্ত ছিল, আলো ফুটতেই সে তার নিজস্ব ছন্দে, চিরচেনা কোলাহলে আর ব্যস্ততার চাদর গায়ে জড়িয়ে আবার প্রাণচঞ্চল হয়ে ওঠে।
*****
ঘড়ির কাঁটা জানান দিচ্ছে এখন সকাল ৯ টা ১৫মিনিট।তানজিলা তার ব্যাগ গুছিয়ে নিচ্ছে কলেজে যাওয়ার জন্য। আজ তার কলেজের লাস্ট ক্লাস কেননা কাল থেকেই সরকারি ভাবে ঈদুল আজহার ছুটি।তাই আজকে কলেজে যাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাগ গোছানো শেষ হতেই দৌড় লাগালো রান্নাঘরের দিকে। না নুডলস পুড়ে যায় নি আর একটু দেরি হলেই পুড়ে যেত।এই ভেবে হাঁপ ছেড়ল তানজিলা তারপর একটা বাটিতে নিজের জন্য নুডলস উঠিয়ে হাঁটা ধরল তার রুমের উদ্দেশ্যে।নুডলস খেতে খেতে ফোন ঘাঁটতে লাগল।আকস্মিক হাতের ফোনটা 'Lvbel C5 'song এর কর্কশ আওয়াজে বেজে উঠল। এই সকাল সকাল আর কেউ না তানজিলার মা স্বয়ং মনিরা বেগম। ফোঁস নিশ্বাস ছেড়ে কল রিসিভ করে কানে তুলল। ওপাশ থেকে ভেসে এলো মনিরা বেগমের গলার স্বর,
-কি রে কি অবস্থা কেমন আছো তুই?
-এই তো আলহামদুলিল্লাহ ভালো তোমার কি অবস্থা তুমি কেমন আছো?
-আলহামদুলিল্লাহ ভালো কলেজে যাবি না তুই?
-হুম এই তো যাবো একটু পরেই।
-ও.. আচ্ছা তোর ছুটি দিবে কবে আর তুই বাড়িই বা আবি কবে?
-আজকে ক্লাস করার পর ছুটি আর বাড়ি কাল বা পরশু যামু।
-একটা কথা বলার ছিল।
-যা কইবেন কইতে থাকেন আম্মা আমি শুনতাছি
-হেয়ালি করবি না একদম
-আমি হেয়ালি করছিও না আমি ভালো করেই জানি তুমি যা বলবে তা না বলা পর্যন্ত তুমি আমারে খোঁচাইতে থাকবা এহন কি কবা কও।
-তোর মামি তোরে বাসায় যাইতে কইছে
-জানি আর কিছু
-তাইলে যাওয়া যেন হয়
-হুম যামু আর কিছু
-না রাখছি
-ঠিক আছে রাখো আল্লাহ হাফেজ
-আআআ....
ওপাশের কথা শেষ কি শুরু করার আগেই কল কেটে দিল।নুডলস খাওয়া শেষ রওনা দিল রান্না ঘরের উদ্দেশ্যে। এঁটো বাসন ধুয়ে রেখে দিল এটা সে প্রতি দিন কি যতবার বাসন এঁটো করে ঠিক ততবারই ধুয়ে রাখে বাসন।নিজের কাজ নিজে করতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে তানজিলা। তাই সে ফ্ল্যাটের এক একজন এক একদিন কাজ করবে এই প্রস্তাবে রাজি হয় নি।
---------
কালো বোরকা গায়ে দিয়ে তার ওপর কালো হিজাব পড়ে মুখে মুকুশ দিয়ে নিল।পায়ে মোজা পরে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে রুমের দরজায় তালা দিয়ে গটগট পায়ে বের হয়ে আসল ফ্ল্যাট থেকে। বের হয়ে পায়ে সু পড়ে নিল নিচে নামতে নামতে দু'হাতে মোজা পড়ে নিল।রাস্তায় বের হয়েই ব্যাগ থেকে চশমা বের করে চোখে পড়ে নিল। চোখ দুটো বাদে পুরো শরীর কালোতে আবৃত এক চুল পরিমাণ ফাঁকা নেই।কালো তানজিলার পছন্দের রং। তাই সব কিছুতেই তার কালো লাগবে কি লাগবেই লাগবে কালো না থাকলে সেই জিনিস সে ছুঁয়েও দেখবে না। চাই তা জামাকাপড় হোক বা তার প্রয়োজনীয় কোনো জিনিস ছুঁবে না তো ছুঁবেই না একটা সিএনজি থামিয়ে তাতে উঠে বসল গন্তব্য বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজ

চলবে.....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 3 শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন