চিঠি থেকে ভালোবাসা
লেখিকা:মারজান আক্তার
প্রথম পর্ব : গল্পের শুরু
জীবনে কিছু কিছু দিন থাকে, যেদিন আসলে বিশেষ কিছুই ঘটে না। দিনটা অন্য দিনের মতোই শুরু হয়, মানুষ নিজের কাজ করে, সময় নিজের নিয়মে চলে যায়। কিন্তু অনেক বছর পর সেই দিনটার কথা মনে পড়লে মনে হয়—সেদিনই হয়তো জীবনের কোনো একটা গল্পের প্রথম পাতা খুলেছিল।
আমার গল্পের শুরুটাও ছিল তেমনই এক সাধারণ সময় থেকে।
তখন আমি খুব ছোট। বয়স মাত্র নয় বছর। পৃথিবীটা আমার কাছে খুব বেশি বড় ছিল না। পরিবার, স্কুল, কয়েকজন পরিচিত মানুষ আর নিজের ছোট্ট কিছু স্বপ্ন—এই নিয়েই আমার পৃথিবী।
আমাদের পরিবারে আমরা তিন বোন আর এক ভাই। আমি সবার বড় মেয়ে। ছোটবেলা থেকেই চট্টগ্রামে বড় হয়েছি। চট্টগ্রামের পরিবেশ, পরিচিত রাস্তা, আশপাশের মানুষ—সবকিছুর সঙ্গেই আমার একটা আলাদা পরিচয় ছিল। শহরের জীবনটাই তখন আমার কাছে স্বাভাবিক মনে হতো।
কিন্তু ২০২০ সালের শেষের দিকে আমাদের জীবনে কিছু পরিবর্তন আসে।
২৮ নভেম্বর আমার ছোট বোন জন্ম নেয়। একই সময়ে আমাদের পরিবারে আরও কিছু দায়িত্ব বেড়ে যায়। মা একসঙ্গে ছোট ভাই-বোনদের সামলাতে বেশ কষ্ট পাচ্ছিলেন। সংসারের নানা ব্যস্ততার মধ্যে আমাদের দেখাশোনা করাও সহজ ছিল না।
তাই সিদ্ধান্ত হলো, কিছুদিনের জন্য আমরা গ্রামের বাড়ি ভোলায় থাকব।
তখন আমি এত ছোট ছিলাম যে, শহর থেকে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে থাকা বড়দের চিন্তাগুলো পুরোপুরি বুঝতে পারিনি। আমার কাছে বিষয়টা ছিল খুব সহজ—চট্টগ্রাম ছেড়ে গ্রামে যাব।
শুরুতে মনটা একটু খারাপ হয়েছিল।
চেনা জায়গা ছেড়ে নতুন জায়গায় যাওয়া তো আর সহজ নয়। পরিচিত মানুষগুলোকে ছেড়ে অন্য পরিবেশে গিয়ে থাকতে হবে—এই ব্যাপারটা আমার ছোট্ট মনে একটু ভয়ও তৈরি করেছিল।
অবশেষে ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি আমরা গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হলাম।
চট্টগ্রাম থেকে ভোলার পথে যেতে যেতে জানালার বাইরে তাকিয়ে অনেক কিছু দেখছিলাম। শহরের ব্যস্ততা ধীরে ধীরে পিছনে পড়ে যাচ্ছিল। চারপাশের দৃশ্য বদলে যাচ্ছিল। রাস্তার দুই পাশে সবুজ, খোলা জায়গা, গ্রামের পথ—সবকিছুই আমার চোখে নতুন লাগছিল।
গ্রামে পৌঁছানোর পর প্রথম কয়েকদিন কেমন যেন অন্যরকম কেটেছিল।
চট্টগ্রামে যেভাবে দিন কাটত, এখানে সেভাবে কাটত না। সকালে ঘুম থেকে উঠলে চারপাশে অন্যরকম একটা পরিবেশ। শহরের গাড়ির শব্দের বদলে পাখির ডাক, খোলা আকাশ, গাছপালা আর গ্রামের মানুষের ব্যস্ততা।
প্রথমে একটু অচেনা লাগলেও কয়েকদিন পর ধীরে ধীরে ভালো লাগতে শুরু করল।
গ্রামের জীবনের সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয় ছিল—এখানে সবাই যেন সবাইকে চিনত। আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে যাওয়া, কারও সঙ্গে দেখা হওয়া, গল্প করা—সবকিছুতেই একটা আপন ভাব ছিল।
এর মধ্যেই আমার পড়াশোনার বিষয়টাও ঠিক করা হলো।
আমাকে স্থানীয় একটি স্কুলে ভর্তি করানো হলো। তখন আমি পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ি।
বাবা সবসময় আমার পড়াশোনার ব্যাপারে বেশ সচেতন ছিলেন। তিনি চাইতেন, জায়গা বদলালেও যেন আমার পড়াশোনায় কোনো সমস্যা না হয়।
স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর নতুন পরিবেশে পড়াশোনা শুরু করলাম।
নতুন স্কুল, নতুন শিক্ষক, নতুন সহপাঠী—সবকিছু ধীরে ধীরে পরিচিত হয়ে উঠতে লাগল।
কিন্তু বাবা শুধু স্কুলের পড়াশোনার ওপর নির্ভর করতে চাইলেন না। তাই আমার জন্য একজন প্রাইভেট শিক্ষকও ঠিক করে দিলেন।
প্রথম দিকে সব ঠিকঠাকই মনে হচ্ছিল। কিন্তু কিছুদিন যাওয়ার পর বুঝতে পারলাম, আমি যেভাবে পড়তে চাচ্ছি, সেভাবে পড়াশোনা হচ্ছে না। অনেক বিষয় বুঝতে সমস্যা হতো। শিক্ষকও সবকিছু ভালোভাবে বুঝিয়ে দিতে পারতেন না।
প্রায় দুই মাস পর বাবা বিষয়টা বুঝতে পারলেন।
একদিন বাবা বললেন,
—“এভাবে হচ্ছে না। তুমি কাকির কাছে গিয়ে পড়বে। ওখানে পড়লে ভালোভাবে পড়তে পারবে।”
আমি বাবার কথা শুনে রাজি হয়ে গেলাম।
কাকির বাড়ি আমার কাছে একেবারে অপরিচিত ছিল না। আত্মীয়ের বাড়ি হওয়ায় সেখানে যাওয়া-আসা ছিল। তবে তখনও জানতাম না, সেই বাড়ির সঙ্গে আমার জীবনের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে যাবে।
কাকির পরিবারে ছিল তিন ছেলে।
সবার বড় ছেলে জুনায়েদ হাসান নাবিল।
নাবিলের বয়স তখন ১৩ বছর। সে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। তাদের তিন ভাইয়ের মধ্যে সে বড়। তার মেজ ভাইয়ের নাম নাজিল, আর ছোট ভাইয়ের নাম নাফি।
বড় ছেলে হওয়ার কারণে পরিবারের মধ্যে নাবিলের একটা আলাদা জায়গা ছিল। ছোট দুই ভাইয়ের সঙ্গে তার সম্পর্কও ছিল আপন ভাইয়ের মতোই। কখনো তাদের সঙ্গে সময় কাটাত, কখনো ছোটখাটো বিষয় নিয়ে তাদের সঙ্গে মজা করত।
নাবিলকে নিয়ে পরিবারে অনেক কথাই শুনেছিলাম।
কিন্তু একটা বিষয় ছিল—
আমি তাকে আগে কখনো সামনে থেকে দেখিনি।
একই আত্মীয়তার মধ্যে থেকেও আমাদের দেখা হয়নি। কারণ আমরা আগে চট্টগ্রামে থাকতাম, আর নাবিলের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত দেখা হওয়ার সুযোগও ছিল না।
তাই নাবিল তখন আমার কাছে পরিচিত একটা নাম মাত্র।
“কাকির বড় ছেলে নাবিল।”
এর বেশি কিছু না।
তার চেহারা কেমন, স্বভাব কেমন, কীভাবে কথা বলে—এসব কিছুই আমার জানা ছিল না।
তারপর এলো ৫ মে ২০২১।
দিনটা শুরু হয়েছিল একেবারে স্বাভাবিকভাবেই।
সেদিন আমার কোচিং ছিল। আমি নিজের মতো করে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। বই-খাতা গুছিয়ে নিলাম। পড়াশোনার চিন্তাই তখন মাথায় ছিল।
কোচিংয়ে যাওয়ার পর চারপাশে সবাই নিজের নিজের কাজে ব্যস্ত।
আমি তখনও জানতাম না, সেদিনই এমন একজন মানুষের সঙ্গে আমার প্রথম দেখা হবে, যাকে কয়েক বছর পরেও মনে থাকবে।
হঠাৎ নাবিলকে সামনে দেখলাম।
প্রথম মুহূর্তে আমি শুধু তাকিয়ে ছিলাম।
মনে হলো, এটাই তাহলে নাবিল!
যার কথা এতদিন পরিবারের কাছ থেকে শুনেছি, আজ তাকে প্রথমবার সামনে থেকে দেখলাম।
প্রথম দেখায় কোনো বড় ঘটনা ঘটেনি। আমাদের মধ্যে দীর্ঘ কোনো কথাও হয়নি। কোনো নাটকীয় পরিস্থিতিও তৈরি হয়নি।
শুধু একজন আত্মীয়কে প্রথমবার সামনে থেকে দেখা।
কিন্তু অদ্ভুতভাবে সেই মুহূর্তটা আমার মনে থেকে গেল।
নাবিল তখন ১৩ বছরের একটি ছেলে। মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। তিন ভাইয়ের মধ্যে বড়। প্রথম দেখায় তাকে বেশ শান্ত ধরনেরই মনে হয়েছিল।
আমি তখন নিজেও খুব ছোট।
জীবনের অনেক বিষয় তখনও আমার কাছে পরিষ্কার ছিল না। মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক কীভাবে তৈরি হয়, কোনো মানুষকে কেন অন্যদের চেয়ে বেশি পরিচিত মনে হয়—এসব বোঝার বয়স তখনও হয়নি।
তাই সেদিনের অনুভূতিটাকেও আমি কোনো নাম দিইনি।
শুধু মনে হয়েছিল—
“এই তো নাবিল!”
এরপর কোচিংয়ের ব্যস্ততায় দিনটা এগিয়ে গেল।
কিন্তু প্রথম দেখা হয়ে যাওয়ার পর থেকে নাবিল আর আমার কাছে অচেনা রইল না।
পরিবারের মানুষ হিসেবে দেখা হতে লাগল। কখনো দূর থেকে দেখা, কখনো সামান্য কথা—এইভাবেই পরিচয়টা একটু একটু করে বাড়তে লাগল।
নাজিল আর নাফির সঙ্গেও তখন আমার পরিচয় হতে শুরু করল।
তিন ভাইকে একসঙ্গে দেখলে বোঝা যেত, তাদের মধ্যে নিজেদের একটা আলাদা জগৎ আছে। ছোট দুই ভাই কখনো বড় ভাইকে নিয়ে মজা করত, আবার কখনো কোনো প্রয়োজন হলে নাবিলের কাছেই যেত।
নাবিলও বড় ভাই হিসেবে তাদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই থাকত।
এই ছোট ছোট দৃশ্যগুলো আমার কাছে তখন খুব সাধারণ ছিল।
কিন্তু সময় চলে যাওয়ার পর বুঝেছি, মানুষের জীবনে বড় স্মৃতি তৈরি হয় অনেক সময় এমনই ছোট ছোট মুহূর্ত থেকে।
একটা কথা।
একটা দেখা।
একটা হাসি।
একটা পরিচয়।
তারপর ধীরে ধীরে সেই মানুষটি পরিচিত হয়ে ওঠে।
আমার ক্ষেত্রেও ঠিক তাই হয়েছিল।
নাবিল তখন আমার কাছে শুধু একজন আত্মীয় ছিল। তার সঙ্গে দেখা হলে ভালো লাগত, কথা হলে স্বাভাবিক মনে হতো। তার মাদ্রাসায় পড়াশোনা, তার দুই ভাই, পরিবারের মানুষজন—এসবই ছিল আমাদের পরিচয়ের অংশ।
দিনগুলো নিজের গতিতে চলছিল।
সকালে স্কুল।
তারপর পড়াশোনা।
কোচিং।
বাড়ির কাজ।
ছোট ভাই-বোনদের সঙ্গে সময় কাটানো।
এইভাবেই সময় কেটে যাচ্ছিল।
আমি তখন ভবিষ্যৎ নিয়ে তেমন কিছু ভাবতাম না। আমার কাছে ভবিষ্যৎ মানে ছিল পরের ক্লাসে ওঠা, ভালোভাবে পড়াশোনা করা আর বাবার-মায়ের কথা শোনা।
কখনো কখনো অবশ্য গ্রামের জীবনটাকে খুব ভালো লাগত।
বিকেলে বাড়ির আশপাশে বসে থাকা, আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা হওয়া, পরিচিত মানুষদের সঙ্গে কথা বলা—সবকিছুতেই একটা আলাদা শান্তি ছিল।
আর সেই পরিবেশের মধ্যেই নাবিলের সঙ্গে পরিচয়টা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে উঠছিল।
প্রথম দেখার অস্বস্তি চলে গেল।
“ও কে?”—এই প্রশ্ন আর ছিল না।
এখন জানতাম—
ও নাবিল।
জুনায়েদ হাসান নাবিল।
আমার কাকির বড় ছেলে।
মাদ্রাসায় পড়ে।
তার দুই ভাই নাজিল আর নাফি।
একটা মানুষের পরিচয় আসলে কতটা ছোট হতে পারে, তাই না?
নাম, পরিবার, পড়াশোনা—এই কয়েকটা কথার মধ্যেই তখন নাবিলকে আমি চিনতাম।
কিন্তু সময় যে মানুষকে আরও ভালোভাবে চিনিয়ে দেয়, সেটা তখন বুঝিনি।
২০২১ সালের সেই দিনগুলো এখন মনে করলে মনে হয়, তখন সবকিছু কত সহজ ছিল।
কোনো জটিলতা ছিল না।
কোনো বড় প্রত্যাশা ছিল না।
ছিল শুধু পরিচিত মানুষদের নিয়ে একটা ছোট্ট পৃথিবী।
সেই পৃথিবীর মধ্যে নাবিলও ধীরে ধীরে একটা পরিচিত মুখ হয়ে উঠছিল।
তবে একটা বিষয় আজও মনে পড়ে।
প্রথমবার দেখা হওয়ার দিনটা খুব সাধারণ হলেও, কেন যেন সেটা আমার মনে আলাদা করে থেকে গিয়েছিল।
অনেক মানুষের সঙ্গে দেখা হয়।
সবাইকে কি মনে থাকে?
না।
কিছু মানুষকে কেন যেন মনে থাকে।
তখন তার কারণ বোঝা যায় না।
শুধু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই মানুষটাকে আরও পরিচিত মনে হতে থাকে।
আমার ক্ষেত্রেও হয়তো সেটাই হয়েছিল।
সেদিন যদি কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করত,
“নাবিল কে?”
আমি খুব সহজেই উত্তর দিতাম—
“আমার কাকির ছেলে।”
যদি আবার জিজ্ঞেস করত,
“ও কী করে?”
বলতাম,
“মাদ্রাসায় পড়ে।”
“ভাই কয়জন?”
“তিন ভাই। ও সবার বড়। নাজিল আর নাফি ওর ছোট ভাই।”
এই ছিল আমার কাছে নাবিলের পরিচয়।
এর বাইরে আর কিছু নয়।
কিন্তু গল্পের মজার ব্যাপার হলো, আমরা যখন কোনো গল্পের শুরুতে দাঁড়িয়ে থাকি, তখন শেষটা কখনো দেখতে পাই না।
আমরা জানি না কোন মানুষটা ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
কোন দিনটা পরে গিয়ে সবচেয়ে বেশি মনে পড়বে।
কোন ছোট্ট ঘটনাটা একদিন বড় একটা স্মৃতিতে পরিণত হবে।
আমিও জানতাম না।
আমি শুধু আমার ছোট্ট জীবন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলাম।
স্কুলে যাচ্ছিলাম।
পড়াশোনা করছিলাম।
পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছিলাম।
আর মাঝেমধ্যে কাকির বাড়িতে গিয়ে নাবিল, নাজিল আর নাফির সঙ্গে দেখা হচ্ছিল।
সবকিছুই স্বাভাবিক ছিল।
কিন্তু সময় ধীরে ধীরে বদলাচ্ছিল।
আমি বড় হচ্ছিলাম।
চারপাশের মানুষগুলোকেও নতুনভাবে চিনতে শিখছিলাম।
আগে যে বিষয়গুলো বুঝতাম না, সেগুলো বুঝতে শুরু করছিলাম।
মানুষের আচরণ, কথাবার্তা, সম্পর্ক—এসব ধীরে ধীরে আমার কাছে অর্থপূর্ণ হতে লাগল।
নাবিলের সঙ্গেও পরিচয়টা একটু একটু করে বদলাচ্ছিল।
অচেনা থেকে পরিচিত।
পরিচিত থেকে আপনজনের মতো।
তবে সবকিছুই তখনও খুব স্বাভাবিক ছিল।
কেউ জানত না সামনে কী হতে চলেছে।
আমিও না।
আমার পরিবারও না।
নাবিলও না।
কখনো কখনো মনে হয়, জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায়গুলো শুরু হওয়ার আগে আমরা বুঝতেই পারি না যে নতুন কোনো অধ্যায় শুরু হয়ে গেছে।
সেদিনও ঠিক তেমনই ছিল।
৫ মে ২০২১।
একটা সাধারণ দিন।
একটা সাধারণ কোচিং।
একজন ১৩ বছরের ছেলে, যার নাম জুনায়েদ হাসান নাবিল।
আর আমি—তখনও ছোট্ট একটা মেয়ে, যার কাছে পৃথিবীটা ছিল খুব সহজ।
সেদিন আমাদের শুধু পরিচয় হয়েছিল।
কিন্তু সেই পরিচয়ের গল্পটা যে এতদূর যাবে, সেটা কেউ জানত না।
সময় তখনও অনেক কিছু দেখানো বাকি রেখেছিল।
আর সেই সময়ের ভেতরেই আসছিল নতুন নতুন দিন, নতুন নতুন কথা, নতুন স্মৃতি।
২০২১ সাল ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছিল।
আমিও আমার নিজের মতো করে বড় হচ্ছিলাম।
আর আমার জীবনের গল্পের এক কোণে, খুব নিঃশব্দে, একটা নতুন নাম জায়গা করে নিচ্ছিল—
জুনায়েদ হাসান নাবিল।
তখনও সে ছিল শুধু আমার কাকির বড় ছেলে।
তখনও গল্পের কোনো নাম ছিল না।
কোনো প্রতিশ্রুতি ছিল না।
কোনো ভবিষ্যৎ কল্পনাও ছিল না।
ছিল শুধু একটা পরিচয়।
একটা প্রথম দেখা।
আর কিছু ছোট ছোট স্মৃতি।
কিন্তু আজ পেছনে তাকিয়ে বুঝতে পারি—
গল্পের শুরু কখনো বড় কোনো শব্দ দিয়ে হয় না।
কখনো কখনো গল্প শুরু হয় খুব ছোট একটা বাক্য দিয়ে।
আমার গল্পটাও শুরু হয়েছিল ঠিক সেভাবেই—
“৫ মে ২০২১—সেদিন প্রথমবার নাবিলকে দেখেছিলাম।”
তখন জানতাম না, এই প্রথম দেখাটাই একদিন আমার স্মৃতির সবচেয়ে পরিচিত দিনগুলোর একটি হয়ে থাকবে।
তখন জানতাম না, সামনে আরও কত কথা জমে আছে।
আর সবচেয়ে বড় কথা—
তখনও জানতাম না, এই গল্পের আসল অধ্যায় শুরু হতে এখনও অনেকটা সময় বাকি।
চলবে...