চিঠি থেকে ভালোবাসা
দ্বিতীয় পর্ব :
প্রথম দেখার পর নাবিলের সঙ্গে আমার খুব একটা কথা হতো না। আসলে কথা বলার সুযোগই তেমন ছিল না। সে বেশিরভাগ সময় বাসায় থাকত না। তখন সে বরিশালের একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। তাই মাঝেমধ্যে ছুটিতে বাড়িতে এলে তবেই দেখা হতো।
দেখা হলেও খুব বেশি কথা হতো না।
কখনো দু-একটা সাধারণ কথা, কখনো শুধু সামনে দিয়ে চলে যাওয়া—এই ছিল আমাদের পরিচয়।
তবুও প্রথম দেখার পর থেকেই নাবিলকে আমার ভালো লাগত।
তখন অবশ্য ভালোবাসা বলতে কী বোঝায়, সেটা আমি বুঝতাম না। আমার বয়সও তখন খুব কম। শুধু এটুকু বুঝতাম, নাবিলকে দেখলে আমার ভেতরে কেমন একটা ভালো লাগা কাজ করত। অন্য সবার মতো তাকে দেখলেও কেন যেন মনটা একটু অন্যরকম হয়ে যেত।
কেন এমন হতো, তার কোনো উত্তর আমার নিজের কাছেই ছিল না।
পরে জেনেছিলাম, নাবিলেরও প্রথম দেখাতেই আমাকে ভালো লেগেছিল। তবে তখন আমাদের দুজনের অনুভূতিই ছিল খুব সরল। আমরা কেউই আসলে বুঝতাম না, এই অনুভূতির নাম কী।
কোনো বড় বড় কথা ছিল না।
কোনো ভবিষ্যতের পরিকল্পনাও ছিল না।
ছিল শুধু একে অপরকে দেখলে ভালো লাগা।
আর সেই ছোট্ট অনুভূতিটাই তখন আমাদের কাছে যথেষ্ট ছিল।
---
এদিকে কাকির বাসায় আমার পড়াশোনার দিনগুলো বেশ ভালো যাচ্ছিল।
অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই কাকির পরিবারের মানুষগুলোর কাছ থেকে এতটা আপনভাব পেয়েছিলাম যে, জায়গাটা আমার কাছে আর অপরিচিত কোনো বাড়ি মনে হতো না। মনে হতো, আমিও যেন তাদের পরিবারেরই একজন।
কাকি খুব ভালো একজন শিক্ষক ছিলেন। পড়ানোর সময় তিনি খুব যত্নশীল ছিলেন। কোনো কিছু বুঝতে না পারলে বিরক্ত হতেন না। বারবার বুঝিয়ে দিতেন।
বিশেষ করে ইংলিশ আমার কাছে একটু কঠিন লাগত।
ইংলিশের কোনো বিষয় বুঝতে না পারলে কাকি খুব সুন্দর করে, সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দিতেন। আমি ভুল করলে আবার বুঝিয়ে দিতেন। একই জিনিস কয়েকবার জিজ্ঞেস করলেও কখনো বিরক্তি দেখাতেন না।
তাঁর কাছে পড়তে গিয়ে আমার ইংলিশের ভয়টাও ধীরে ধীরে কমে গেল।
কাকি শুধু পড়াশোনার দিক থেকেই ভালো ছিলেন না, তাঁর ব্যবহারও ছিল খুব সুন্দর। তাঁর কাছ থেকে আমি একটা আলাদা মায়া আর আপনভাব পেয়েছিলাম।
তাই কাকির বাসায় পড়তে যাওয়ার দিনগুলো আমার খুব ভালো লাগত।
আমার স্কুলের দিনগুলোও তখন বেশ ভালো যাচ্ছিল।
নতুন জায়গার সঙ্গে ধীরে ধীরে মানিয়ে নিয়েছিলাম। স্কুলের শিক্ষক, সহপাঠী, মাঠ—সবকিছুই পরিচিত হয়ে উঠছিল।
তবে স্কুলে এমন একটা ঘটনা ঘটেছিল, যেটা আজও আমার খুব মনে আছে।
একদিন স্কুলের মাঠে আমাদের ক্লাসের একজন ছেলে, সাকিব, আমার কাছে এসে একটা ফুল দিল।
তারপর সে আমাকে বলল,
—“আই লাভ ইউ।”
আমি তখন কথাটার আসল অর্থই বুঝতাম না।
প্রপোজ কী, ভালোবাসা কী—এসব বিষয় আমার কাছে তখন একেবারেই পরিষ্কার ছিল না।
তাই ফুলটা নিয়ে কী করব বুঝতে না পেরে আমি সরাসরি স্যারের কাছে চলে গেলাম।
স্যারকে গিয়ে বললাম,
—“স্যার, সাকিব আমাকে ফুল দিয়েছে। আর বলেছে, আই লাভ ইউ।”
আমার কথা শুনে স্যার খুব রেগে গেলেন।
তিনি আমাকে বুঝিয়ে বললেন, কোনো ছেলে এভাবে ফুল দিলে তার কাছ থেকে নেওয়া যাবে না এবং এসব বিষয়ে কোনো ছেলের সঙ্গে কথা বলা উচিত নয়।
স্যারের কথাগুলো আমি খুব ভালোভাবে মনে রেখেছিলাম।
এরপর আরেকজন ছেলেও আমাকে এভাবে প্রপোজ করেছিল। কিন্তু সেবার আমি তার কাছ থেকে কিছুই নিইনি।
তখন এসব ব্যাপার আমার কাছে শুধু অদ্ভুত লাগত।
আমি তখন বুঝতামই না, মানুষ কেন কাউকে ফুল দিয়ে এমন কথা বলে।
আর মজার ব্যাপার হলো, আমার নিজের ভেতরেও নাবিলকে দেখলে যে ভালো লাগাটা কাজ করত, সেটাকেও আমি ভালোবাসা বলে চিনতাম না।
আমি শুধু জানতাম—
নাবিলকে দেখলে আমার ভালো লাগে।
এইটুকুই।
---
নাবিল আর তার দুই ভাইয়ের সম্পর্কও খুব ভালো ছিল।
নাবিল ছিল সবার বড়। তার মেজ ভাই নাজিল আর ছোট ভাই নাফি।
তিন ভাইয়ের মধ্যে নাবিলের সঙ্গে দুজনেরই ভালো সম্পর্ক ছিল।
আমার সঙ্গে নাফিরও খুব সুন্দর একটা সম্পর্ক হয়ে গিয়েছিল।
নাফি তখন ছোট। ওর সঙ্গে থাকতে থাকতে কখন যে ও আমাকে এতটা আপন করে নিয়েছিল, আমি নিজেও বুঝতে পারিনি।
ওদের বাসায় যতদিন থাকতাম, দুপুর আর রাতের খাবারের সময় একটা ঘটনা প্রায়ই ঘটত।
নাফি আমার হাত ছাড়া ভাত খেতে চাইত না।
আমি নিজের হাতে ওকে ভাত খাইয়ে দিতাম। বেশিরভাগ দিনই দুপুরে কিংবা রাতে ও আমার হাত থেকে ভাত খেত।
কখনো ওকে নিয়ে মজা করতাম, কখনো একটু বকা দিতাম। আবার কিছুক্ষণ পর নিজেরাই হেসে ফেলতাম।
ছোট্ট নাফির সঙ্গে কাটানো সেই সময়গুলো আমার খুব ভালো লাগত।
ওর সঙ্গে আমার সম্পর্কটা ছিল একেবারে সহজ আর আপন।
নাজিলের সঙ্গে অবশ্য আমার তেমন একটা ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়নি। কারণ নাজিল বেশিরভাগ সময় বাসায় থাকত না। তাই তার সঙ্গে খুব বেশি কথা বলার সুযোগও হয়নি।
বলতে গেলে, নাজিলের সঙ্গে আমার তেমন কথাই হতো না।
কিন্তু নাফি আর আমি যেন খুব দ্রুতই একে অপরের আপন হয়ে গিয়েছিলাম।
---
নাবিল নিজেও খুব ভালো, নম্র আর ভদ্র ছেলে ছিল।
তবে তার একটা জেদি স্বভাবও ছিল। নিজের কোনো বিষয়ে একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললে সহজে সেখান থেকে সরত না। একটু ঘাড় ত্যাড়া বলা যায়।
তারপরও সব মিলিয়ে সে খুব ভালো ছেলে ছিল।
আমার আগে তার জীবনে আর কোনো সম্পর্ক ছিল না। আমিই ছিলাম তার জীবনের প্রথম ভালো লাগার মানুষ—এমনটাই পরে জানতে পেরেছিলাম।
আমার জীবনেও তখন তার আগে এমন কেউ ছিল না।
তবে তখন এসব বিষয় নিয়ে আমরা কেউই খুব গভীরভাবে ভাবতাম না।
আমাদের বয়সই বা কত ছিল!
জীবন তখন খুব সহজ ছিল।
কাউকে ভালো লাগলে কেন ভালো লাগে, সেটা জানার প্রয়োজন মনে হতো না। শুধু অনুভূতিটা থাকত।
আর সেই অনুভূতিটা ছিল খুব সরল।
---
গ্রামের দিনগুলোও আমার কাছে দিন দিন আরও ভালো লাগতে শুরু করেছিল।
সত্যি বলতে, তখন আমার শহরে ফিরে আসার কোনো ইচ্ছাই হতো না।
গ্রামের মাটির রাস্তা আমার খুব ভালো লাগত।
চারপাশের পরিবেশ, সবুজ গাছপালা, খোলা জায়গা—সবকিছুতেই একটা শান্তি ছিল।
শহরের ব্যস্ততার তুলনায় গ্রামের জীবন আমার কাছে অনেক বেশি সুন্দর মনে হতো।
কখনো কখনো মনে হতো, যদি সবসময় এখানেই থাকতে পারতাম!
স্কুলে যেতাম।
কাকির কাছে পড়তাম।
বাড়িতে ফিরে নিজের মতো সময় কাটাতাম।
নাফির সঙ্গে সময় কাটত।
মাঝেমধ্যে নাবিল বাড়িতে এলে তাকে দেখা যেত।
আবার কিছুদিন পর সে বরিশালের মাদ্রাসায় ফিরে যেত।
এইভাবেই দিনগুলো কেটে যাচ্ছিল।
কখনো বুঝতেই পারতাম না কখন সকাল হয়ে দুপুর হলো, কখন দুপুর পেরিয়ে সন্ধ্যা হলো।
আর দেখতে দেখতে মাসের পর মাস চলে গেল।
কখন যে প্রায় এগারোটা মাস কেটে গেল, আমি নিজেই বুঝতে পারিনি।
মনে হতো, এই তো সেদিন মাত্র গ্রামে এসেছি!
---
এর মধ্যে আমার পঞ্চম শ্রেণির পড়াশোনাও শেষের দিকে চলে এলো।
বার্ষিক পরীক্ষা সামনে।
সবাই পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত।
আমিও নিজের মতো করে প্রস্তুতি নিতে শুরু করলাম।
ইংলিশ নিয়ে একটু চিন্তা থাকলেও কাকির পড়ানোর কারণে আগের মতো ভয় লাগত না। তিনি আমাকে বারবার অনুশীলন করাতেন এবং ভুলগুলো ঠিক করে দিতেন।
আমি চেষ্টা করছিলাম ভালোভাবে পরীক্ষা দিতে।
অবশেষে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হলো।
একটার পর একটা পরীক্ষা দিতে থাকলাম।
পরীক্ষার সময়টায় নিজের মধ্যে একটা চাপ অনুভব করতাম। আবার পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর একটা অদ্ভুত স্বস্তিও লাগত।
শেষ পর্যন্ত আমার বার্ষিক পরীক্ষাও শেষ হলো।
মনে হলো, অনেকদিন পর একটু স্বস্তি পেলাম।
পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরও কিছুদিন কাকির কাছে গিয়ে বেসিক কিছু পড়তাম। আগের মতোই পড়াশোনা চলছিল, তবে পরীক্ষার চাপটা আর ছিল না।
সেই সময়ের মধ্যেই একদিন নাবিল বাড়িতে এলো।
অনেকদিন পর তাকে দেখে স্বাভাবিকভাবেই ভালো লাগল।
সেদিন রাতে একটা ঘটনা ঘটেছিল, যেটা পরে অনেকবার আমার মনে পড়েছে।
রাতে সবাই যার যার মতো ছিল। আমিও নিজের মতো বসেছিলাম।
হঠাৎ নাবিল দুষ্টুমি করে বলল,
—“তোমার একটা ছবি তুলেছি।”
কথাটা শুনেই আমার রাগ উঠে গেল।
আমি ভাবলাম, সত্যিই যদি আমার ছবি তুলে থাকে!
তাই এক মুহূর্ত দেরি না করে জোর করে তার কাছ থেকে ফোনটা নিয়ে নিলাম।
তারপর গ্যালারি খুলে ছবি দেখতে শুরু করলাম।
একটার পর একটা ছবি দেখছি।
কিন্তু কোথাও আমার কোনো ছবি নেই।
তখন বুঝলাম, নাবিল আমাকে শুধু দুষ্টুমি করে ভয় দেখিয়েছিল।
ফোনটা ফেরত দেওয়ার আগে হঠাৎ একটা ছবিতে আমার চোখ আটকে গেল।
সেখানে লেখা ছিল—
“জান্নাত + নাবিল।”
আমি তখন সেই লেখার কোনো বিশেষ অর্থ বুঝিনি।
খুব একটা পাত্তাও দিইনি।
ভাবলাম, হয়তো নাবিলের আরেকটা দুষ্টুমি।
তাই ফোনটা তার হাতে ফিরিয়ে দিলাম।
তখন কে জানত, এই ছোট্ট ঘটনাটাও একদিন আমার মনে এতটা জায়গা করে নেবে!
---
এরপর ডিসেম্বর চলে এলো।
পঞ্চম শ্রেণির পড়াশোনা শেষ।
এখন শুধু ফলাফলের অপেক্ষা।
২৮ ডিসেম্বর আমাদের বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের দিন ছিল।
সকাল থেকেই আমার ভেতরে অন্যরকম একটা উত্তেজনা কাজ করছিল।
বারবার মনে হচ্ছিল—
ফলাফল কেমন হবে?
আমি কি ভালো করতে পারব?
এতদিনের পরিশ্রমের ফল কী হবে?
অবশেষে যখন ফলাফল পেলাম, তখন আমার আনন্দের সীমা ছিল না।
আমি জিপিএ ৫ পেয়েছিলাম।
সেদিন আমার খুশি দেখে কে!
মনে হচ্ছিল, এতদিনের পরিশ্রম সত্যিই সফল হয়েছে।
পরিবারের সবাই আমার ফলাফলে খুব খুশি হয়েছিল।
আব্বু-আম্মুর মুখের আনন্দ দেখে আমার নিজের আনন্দ আরও বেড়ে গিয়েছিল।
কাকিও খুব খুশি হয়েছিলেন। তিনি আমাকে আরও ভালোভাবে পড়াশোনা করার জন্য উৎসাহ দিয়েছিলেন।
সেদিন মনে হচ্ছিল, আমার জীবনের একটা সুন্দর অধ্যায় শেষ হলো।
কিন্তু আসলে সেখান থেকেই আরেকটা নতুন অধ্যায় শুরু হওয়ার অপেক্ষা ছিল।
---
ফলাফল পাওয়ার পর আব্বু সিদ্ধান্ত নিলেন, আমাকে কাকার মাদ্রাসায় ভর্তি করাবেন।
সেই মাদ্রাসার বাংলা শিক্ষক ছিলেন নাবিলের আব্বু।
আব্বু আমাকে সেখানেই ভর্তি করিয়ে দিলেন।
নতুন মাদ্রাসা।
নতুন পরিবেশ।
নতুন শিক্ষক।
নতুন সহপাঠী।
সবকিছু যেন আবার নতুন করে শুরু হতে যাচ্ছিল।
তখনও আমি জানতাম না, এই নতুন জায়গার সঙ্গে নাবিলের পরিবারের সম্পর্ক আমার জীবনের গল্পকে আরও একটু কাছে নিয়ে আসবে।
আমি তখন শুধু নিজের পড়াশোনা নিয়েই ভাবছিলাম।
পঞ্চম শ্রেণিতে জিপিএ ৫ পাওয়ার আনন্দ তখনও আমার মনে তাজা।
পেছনে পড়ে রইল গ্রামের সেই এগারোটা মাস।
কাকির কাছে পড়াশোনা।
ইংলিশ বুঝতে না পারলে কাকির ধৈর্য ধরে বুঝিয়ে দেওয়া।
স্কুলের মাঠে সাকিবের দেওয়া ফুল।
স্যারের বকুনি।
নাফির আমার হাত থেকে ভাত খাওয়ার অভ্যাস।
নাজিলের সঙ্গে প্রায় কথা না হওয়া।
নাবিলের সঙ্গে মাঝেমধ্যে দেখা হওয়া।
তার দুষ্টুমি করে বলা—
“তোমার একটা ছবি তুলেছি।”
তারপর ফোনের গ্যালারিতে পাওয়া সেই ছোট্ট লেখাটা—
“জান্নাত + নাবিল।”
আর শেষে বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল আর জিপিএ ৫ পাওয়ার আনন্দ।
সব মিলিয়ে ২০২১ সালের সেই সময়টা আমার জীবনের খুব সুন্দর একটা অংশ হয়ে রইল।
তখন বুঝিনি, ছোট ছোট এই ঘটনাগুলো একদিন এত বড় স্মৃতি হয়ে যাবে।
তখন জানতাম না সামনে কী অপেক্ষা করছে।
শুধু জানতাম, আমি বড় হচ্ছি।
আমার পড়াশোনা নতুন জায়গায় শুরু হবে।
আমার চারপাশের মানুষগুলোও ধীরে ধীরে বদলাবে।
আর কোথাও খুব নিঃশব্দে, আমার জীবনের গল্পের সঙ্গে নাবিলের নামটাও একটু একটু করে জড়িয়ে যাচ্ছে।
কিন্তু গল্পের আসল অধ্যায় তখনও শুরু হয়নি।
সামনে ছিল আরও অনেক দিন।
আর সেই দিনগুলোর মধ্যেই লুকিয়ে ছিল এমন কিছু ঘটনা, যেগুলো তখন কল্পনাও করতে পারিনি।
চলবে…