ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রিয় ফুল

পর্ব 2

লেখক: শেখ হালিমা

উপন্যাস : প্রিয় ফুল

লেখিকা : শেখ হালিমা

পর্ব : ২

সত্যি বলছো ভাইয়া

হ্যাঁ

ইমনদের গ্রামের দুই পাশে খ্যাত ও বিল মাঝ দিয়া চওড়া মাটির রাস্তা গিয়েছে, কিছু দূর যাওয়ার পর সারি সারি ঘর দেখা যায়।

ইমন আর ফুল কিছু দূর যাওয়ার পর তাদের সাথে দেখা হয় করিম মিয়া, করিম মিয়ার যেমন চরিত্র খারাপ ঠিক তেমনি আসে-পাশের সকল গ্রামের খবর তার কাছে থাকে।

আরে তালকদারের পোলা দেহি, তা কবে আয়লা

ইমন মিকি হাসি দিয়ে জবা দিল এই তো চাচা আজকেই আসছি।

তা ঠিক মত কাম- কায়জ করনি, নাকি খারাপ কাম কর।

চাচা আপনি মুখ সামলে কথা বলবেন,

এতখন আর চোখে ফুল কে খারাও দৃষ্টি তে দেখলে ও এখন সরাসরি ফুলের দিকে তাকালেন ফুলের আপাত-মস্তক ললব দৃষ্টিতে তাকিয়ে করিম মিয়া বললেন তালকদারের মাইয়ার তো দেহি রূপ আর তেজ গা দিয়া ডায়লা পরতাছে।

চাচা আপনের সাথে ভদ্র ভাবে কথা বলছি মানে এই না যে আপনি আমাদের সম্পর্কে বাজে কথা বলবেন।

ইমনকে রেগে যেতে দেখে করিম মিয়া বাড়ির পরে চলে গেলেন, এর পর মিথ্যা কথা বলে পুরো গ্রামে রোটাবে।

আরু কিছুটা সামনে যাওয়ার পর ইমন দেখলো তার ছোট বেলার বন্ধুরা চায়ের দোকানের সামনে বসে আছে।

সালাম বলল আরে দেখ দেখ কেডায় আইছে, আমগো শহরের ইমন বাবু আইছে।

রাকিব,রবিন,রহিম,রিফাত,রায়হান সকলে সামনে তাকালো।

সকলের দৃষ্টি যখন সামনে তখন রাব্বি এক দৃষ্টিতে ফুলের দিকে তাকিয়ে ছিল। ফুল তা বুজতে পেরে কিছু টা অসুস্থি হলো।

ভাইয়া আসলে শাপলাদের বাসা আম ওখানে যায়।

ইমন রাব্বি কে এক দৃষ্টিতে ফুলের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে কিছুটা বুজতে পারলো,

ঠিক আছে যা আমি যাওয়ার সময় ডাক দিয়ে নিয়ে যাবো।

ঠিক আছে ভাইয়া, বলেই ফুল সামনে পা বারালো।

তার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল রাব্বি।

আরে রাব্বি কি হয়েছে..?

কয় না তো কিছু তো হয়নি..

তা বল তোর কি খবর শহরে দিন কাল কেমন যায়..?

আলহামদুলিল্লাহ! তোদের কি খবর..?

আমদের খবর সেই আগের মতই...!

তোরা কাজ করতে শহরে চল তাহলে গ্রামে জমি জামা চাষাবাদ করে আর কি বা করতে পারবি..

শহরে তো যেতে চাই কিন্তু আম্মা আব্বা রাজি হবে না, তারা ভয় পাই যদি আমাদের কিছু হয়ে যায়।

ফুল কিছুটা সামনে যাওয়ার পর অন্যমনস্ক হয়ে হাটতে গিয়ে হোটাত কার শক্তপোক্ত গায়ের সাথে ধাক্কা খেয়ে মাটিতে পড়ে গেল।

উফফ..মুখ কুচকে ফুলের মুখ থেকে মৃদু গঙ্গানি বেরিয়ে আসলো।

কে গো দেখে চলতে পারেন না বলেই মাথা উপরে উঠাল.... আয়ায়ারে সুজন ভাই আপনি...?

আমি দেখে হাটছি তা আপনার মন কথাই ছিল শুনি একটু... না না মানেনেনে সুজন ভাই.....

কি মানেনেনে করছ শুনলাম নাকি ইমন এসেছে...?

জি ভাইয়া...

তা এখন তোমার ভাইয়া কথাই..?

ওই যে সামনে চায়ের দোকানে রাব্বি ভাইয়া দের সাথে..?

ফুলের মুখে রাব্বি নাম টা শুনে... কিছুক্ষণ এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল...

.... ভাইয়া... ফুলের ডাক শুনে সুজনেত দেন ভাংলো..

দেখি সর তোমার ভাইয়ের কাছে যেতে দেও।

ফুল সুজনের যাওয়ার পথে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল...

ফুলের এই ২২ বছরের এই সেম বর্ণের যুবক কে বেশ ভালোলাগে তার গায়ের রং চাপা হলেও মুখে অগাত মায়া ওই ঘন পিসি যুক্ত চোখে তাকালে যে কেউ মুগ্ধ হতে বাধ্য ... হালকা মুচকি হাসি দিয়ে ফুল শাপলাদের বাসা দিকে যেতে লাগলো।

সুজনের বাবা ইয়াছিন রহমান আলামিন তালকদারের বেশ ভালো বন্ধু ছিলেন আলামিন তালকদার শহরে ইয়াছিন রহমানের সাথেই গিয়েছিল তারা এক সাথেই কাজ করতো।

যখন ইমনের জন্ম হয় তার ২ মাস পরেই সুজনের জন্ম হয়

২ বন্ধু তা নিয়ে বেশ খুশি ছিল। তার ৬ বছর পর ফুলের জন্ম হয় ইয়াসিন রহমান ফুলকে দেখে বলেছিল আলামিন তোর মেয়েকে আমি আমার ছেলের বউ করে নিয়ে যাবো আলামিন তালুকদার হাসতে হাসতে বলেছিল এটাতো আমার সৌভাগ্য

কিন্তু সুজনের ৭ বছর পর একদিন সুজনকে ইস্কুলে রেখে তার বাবা – মা ঢাকা কিছু দরকারে যায় সেই দিন ই তাদের এক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়।

সুজন - ইমন এক সাথে ইস্কুল থেকে সুজনদের বাসায় আসে...

পুরো প্রাঙ্গণ জুড়ে মানুষের কান্না ও আহাজারি শুনে সুজনের ছোট্ট মনটা অনবরত লাফাচ্ছিল... মানুষের ভির ঠেলে সামনে যেতেই দেখতে পায় তার বাবা মার নিথর দেহ পার্টিতে শুয়ে রাখা হয়েছে..

আব্বা –আম্মা

আম্মা এই আম্মা উথো আম্মা কান্নার জোরে মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছিলো না সুজনের

সেই দিন এর পর থেকে সুজন আগের মত খেলা দুলা কথা বলা মানুষের সাথে মেশা কবিয়ে দেয়।

একা একা থাকা শুরু করে।

তবে ইমন কখন সুজনকে একা রেখে যায়নি।

আলামিন তালকদার সুজনকে নিজের বাসায় রাখতে চাইলেও সুজনের কাকা কাকি দেয়নি।

তবে আলামিন তালকদার সব সময় সুজনকে নিজের ছেলের মত করে দেখতেন।

সুজনকে সব সময় সাহায্য করার চেষ্টা করতেন

কিন্তু সুজন নিতে চাই তো না।

সুজন মাঝে মাঝে তালকদার বাসায় গেলেও ফুলের দিকে চোখে তুলে তাকাতো না আর এই সব ভাবটা ফুলের ভালো লাগতো

কিন্তু ফুল উঁকি ঝুঁকি দিয়ে সব সময় সুজনকে দেখতো তখন থেকেই কিশোরী মনে সুজনের জন্য অনুভূতির তৈরি হয়।

ওই তো সুজন চলে এসেছে... আরে ভাই কেমন আছোত

ইমন হাসি দিয়ে বলল আমি ভালোই আছি তা তোর খবর কি যেমন দেখছিস তারা আরু কিছু সময় নিজেদের মত কাটানোর পর ইমন বলল আজকে যায় আম্মা সন্ধ্যার বাসায় ফিরতে বলেছে আমি একা থাকলে সমস্যা ছিল না সাথে ফুল

ফুলের কথা শুনে রাব্বি একটু নড়ে চরে বসলো তা সকলের চোখ ফাকি দিলেও সুজনের চোখে পরে... সুজন চল আম্মা তকে নিয়ে যেতে বলেছে..

না আজকে না আজকে একটু কাজ আছে..

তোর এই সন্ধ্যায় কি কাজ..?

একটু ক্ষেতের দিকে যাব.

এই সন্ধ্যার ওই দিকে কেন যেতে হবে আম্মা আমার সাথে তোকে যেতে বলেছে আমার সাথে চল

না.. কালকে সকালে যাব

ঠিক আছে আমি ফুলকে শাপলাদের বাসায় থেকে নিয়ে আসি তোরা থাক

তার পর যে যার মত যেতে শুরু করলো

ঘেটে খটখট শব্দ শুনে শাপলা দরজা খুলে দেখলো ইমন দারিয়ে আছে আরে ভাইয়া আপনি

হ্যাঁ, ফুলকে নিতে আসলাম পাঠিয়ে দাও

ঠিক আছে ভাইয়া আমি ওকে এখনই ডেকে আনছি

শাপলার যাওয়ার পথে ইমন মায়া ভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল

ফুল তোর ভাইয়া আসছে তোকে যেতে বলছে

আচ্ছা আমি আজকে যাই তুই যায়স আমাদের বাসা

আচ্ছা

বলেই ফুল আর শাপলা বাহিরে আসলো

ছল সন্ধ্যা হয়ে আসছে আম্মা আবার রাগ করবে

বলেই সাম্নের দিকে পা বারালো ইমন

কথাই গিয়েছিলে আম্মাজান

ভাইয়ার সাথে ঘুরতে বের হয়েছিলাম আব্বাজান

আছা মন ভরে ঘুরেছেন

জি আব্বাজান

জান তার মুখ ধুয়ে ঘরে আসে খাওয়া-দাওয়া শেষ করেন

আচ্ছা আব্বা জান

বলেই ফুল কলেপার গেল

তোমাকে না বললাম সুজনকে আসতে

আমি বলেছি আম্মাজান সুজন বলেছে আজকে কাজ আছে কালকে সকালে আসবে

আচ্ছা

যাও তুমিও মুখ ধুয়ে খেতে আসো

আচ্ছা আব্বাজান

দাদাভাই আহ আমি তোমারে খাওয়ায় দেই

ঠিক আছে দিদা

হ্যাঁ এখন তো তোমার নাতি চলে এসেছে এখন কি আর আমাকে কেউ পাত্তা দিবে বলে ফুল গাল ফুলালো

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 2 শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন