উপন্যাস : প্রিয় ফুল
লেখিকা : শেখ হালিমা
পর্ব : ৬
যেই হাসিতে ছিল প্রেয়সী কে না পাওয়ার যন্ত্রণা এক বুক কষ্ট আর হাহা কার। তার ২ দিন পরেই গোলাপ তালকদার বেশ অসুস্থ হয়ে পরে যার জন্য ফুল আর সুজনের বিয়ে পিছিয়ে দেওয়া হয়। আলামিন তালকদার আর আমেনা বেগম গোলাপ তালকদার কে নিয়ে ঢাকা হাস্পাতালের যায়। বাসায় ইমন আর ফুল কে রেখে যায়। সেই দিন ছিল সোমবার ইমন সুজনের সাথে দেখা করার জন্য তার বাসায় যায়। ফুল তখন নিজ বাসায় একা। রাব্বি তখন গ্রামের বাজারের দিকে যাচ্ছিল। এই রবির পুলা তা কুন হানে যাও? রাব্বি পিছু থেকে কারো কথা শুনে ঘুরে তাকায়। রাব্বি পিছু তাকিয়ে দেখতে পায় জবা বেগম রাব্বি কে ডাকছে। রাব্বি জবা বেগমের প্রশ্নের জবাব দেয় আসলে চাচি আম্মা আমি বাজারের ওই দিকে যায়। কেন কোন দরকার? না আসলে তুমারে তো এই কয় দিন গ্রামা দেখলাম না তাই বল্লুম। তা হুনছনি গোলাপ তালকদার যে অসুস্থ হেরে ঢাহাই লইয়া গেছে। কেন গোলাপ দিদার কি হয়েছে? কেন লো পুলা তুমি যানো না হে তের যে মেলা অসুখ । আলামিন তালকদার হেতের পুলা আর যুবুতি মাইয়া ডা রে রাইখা ঢাহা গেছে। মর যে কি চিন্তা হয় তাছে হেগ লিগা। তা যেও তুমি যেই হানে যাইতাছিলা। আমি ও যায়, বলেই জবা বেগম সামনে পা বারালো। রাব্বি কিছু একটা ভেবে তালকদার বাড়ির দিখে চলে গেল। পিছু থেকে জবা বেগম তা দেখে একটা বাকা হাসি দিল। এহন দেখমু তালকদাররা হেগ সম্মান কেমনে দইরা রাহে। ফুল তখনও বাসায় একা গ্রামে মাগরিফের আযান দেওয়া মানে রাত হয়ে গিয়েছে। ইমন এখন বাসায় আসি নি ফুল এত বড় বাড়িতে একা আগে কখন থাকিনি। তাই ফুল বেশ ভয় পাচ্ছে। হঠাৎ দরজা দাককানোর শব্দ শুনে ফুল কোন কিছু না ভেবেই খুলে দেই এই ভেবে যে তার ভাই এসেছে। কিন্তু দরজা খুলেই দেখতে পাই জবা বেগমের ভাই পো রমজান দারিয়ে আছে। আজকে ফুল বাসায় একা তা রমজান কে জবা বেগমই বলেছে। ফুলের উপর রমজানের বেশ আগে থেকেই নজর ছিল। তাই আজকে শুজুক বুজে চলে এসেছে। ফুল কোন কিছু ভেবে উঠার আগেই রমজান দোরজা আটকিয়ে দেয়। দোরজা আটকানোর শব্দ পেয়ে ফুলের ধেন ভাংগে। কিন্তু ফুল কিছু করার আগেই রমজান ফুল কে আকরে ধরে। ফুল অনবরত চেচাতে থাকে। ফুল দের বাসা গ্রামের শেষ দিকে হওয়াই এই দিকে তেমন কোন বাড়ি নেই। তাই ফুলের চিৎকার কেউ শুনতে পায় না। ফুল নিজের গায়ের সমস্ত শক্তি দিয়ে রমজান কে দাককা দেয়। রমজান সামান্য অপ্রুস্তুত হয়ে পরে যার জন্য ফুলের থেকে বেশ কিছু টা দূরে সরে যায়। ফুল সুজুক পেয়ে বাহিরে চলে আসার জন্য দোরজা খুলতে যায়। কিন্তু তার আগেই ফুলকে রমজান ধরে ফেলে। রমজান ফুলের চুল ধরে টান দেয়। ফুল ব্যথায় আর্তনাদ করে ফেলে। বেশ অনেকক্ষণ যাবত ফুলের সাথে রমজানের দোস্ত দোস্তি হয় যার জন্য ফুলের জামা ছিড়ে যায়। রমজান ফুলকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে একটা থাপড় দেয় যার জন্য ফুলের ঠোঁটের কোন কেটে রক্ত বের হতে থাকে ঠিক সেই সময় রাব্বি ফুলদের বাসায় চলে আসে রাব্বি ফুলকে মাটিতে পরে এই অবস্থায় থাকতে দেখে বেশ অবাক হয় কিন্তু যখন সব কিছু বুঝতে পারে সাথে সাথে গিয়ে রমজানের মুখে ঘুষি মারি যার জন্য রমজানের ঠোঁট কেটে রক্ত পড়তে থাকে। রমজানও কি কম নাকি সাথে সাথে সেও রাব্বি কে মেরে দেই রাব্বির শার্ট টান দিয়ে ছিঁড়ে ফেলে। তাদের মধ্য বেশ কিছুক্ষণ লড়াই হয়। ঠিক সেই সময় জবা বেগম গ্রামের বেশ কিছু মানুষ কে তালকদার বাড়ির নিয়ে আসে। গ্রামের মানুষ ফুলে এই অবস্থা দেখে ছি ছি করতে থাকে। জবা বেগম গ্রামের মানুষ দের কে বলেছে ফুল রবি এহসানের পুলা রে লইয়া পোস্টটি নষ্টি করছে আর তাদের কে তার ভাই পো দেখে ফেলে তাই তার ভাই পো কে রাব্বি মারছে । সেই কথা শুনে সকলেই চলে আসে। রাব্বি কে রমজান ধাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে দেই। আর গ্রামের মানুষের কাছে গিয়ে জবা বেগমের বলা কথা গুলোই বলে। যার জন্য গ্রামের মানুষের মধ্য একজন বলে উঠে রাব্বি আর ফুল কে এক গাছে বেধে ফেলছে। রাব্বি অনবরত বলছে এই রমজান যা বলছে সব মিথ্যা আপনারা কেন আমাকে বিশ্বাস করছেন না? গ্রামের এক জন মানুষ বলে উঠে হয়ছে তোমার আর হাছা কথা কউন লাগব না আমরা সব নিজ চোক্ষে দেইহা লইছি। এই কে আসত রবি এহসানের বাড়ি খবর দে তার বেডাই কি কিরতি কইরা বেরাই তা জানুক। আমরা তো এই পুলারে বেশ ভালাই জানতাম। সকলের মাজ থেকে জবা বেগম বলে উঠে এই তালকদারের মাই যদি দোরজা না খুল তো তাইলে কি এর এই পুলাই ঘরে আয়তে পারে। এই ফুলরে কালি মাহাই দেও মুহে। জবা বেগমের কথাই সকলেই হয় হয় করে উঠলো। ফুল কিছু বুঝছে না সব ফুলের মাথার উপর দিয়ে জাচ্ছে। যখন ফুল কে কালি মাখাতে আসে তখনই ইমন আর সুজন বাসায় আসে আজকে সুজন ইমনের সাথে থাকার জন্য আসছিল কিন্তু বাসার এই সব দেখে দুজনেই অবাক হয়ে যায়। ইমন চেচিয়ে বলে উঠে এখানে কি হচ্ছে? একে একে সকলেই যে জার মত সব কিছু বানিয়ে বলতে থাকে। ইমন কে উদ্দেশ্য করে রাব্বি বলে উঠে ভাই বিশ্বাস কর আমি কি এই রকম করতে পারি ওই রমজান ফুলের সাথে খারাপ কিছু করার জন্য এখানে এসেছিল আমি এখানে এসে এই সব দেখে রমজান কে আটকাই। রাব্বির কথা শুনে ইমন বলে তুই এই রাতে আমাদের বাসায় কেন এসেছিস? ভাই বিশ্বাস কর আমি তো গত দুই দিন ধরে গ্রামেই ছিলাম না আজকে শুনি যে তোর দিদা অসুস্থ তুই আর ফুল বাসায় একা তাই.. তাই তুই আমার বলের সাথে খারাও কিছু করতে আসিস তাই তো? না ভাই তুই ভুল.. রাব্বি কে আর কিছু বলার আগেই ইমন ওর গায়ে হাত তুলে ভাই ভাই তুই ঠাস ভাই শোন ঠাস.. রাব্বি কে আর কিছু বলতে না দিয়ে ইমন বেশ অনেক্ষন যাবত রাব্বি কে মারে। কি হচ্ছে এখানে আলামিন তালকদারের কন্ঠে পেয়ে সকলেই অইছু ফিরে তাকাই.. কি হচ্ছে এখানে... আব্বা.. আব্বা এই কুলাংগার রাব্বির দিকে আংগুল দিয়ে ইমন বলে ওই আমার বোনের সাথে খারাপ কিছু করতে চেয়েছিল। আলামিন তালকদার বেশ বিচক্ষণ একজন মানুষ। তাই সে তার ছেলের কথা না শুনে প্রথম রাব্বি কে উপর নিচ ভালো করে দেখে তার পর রাব্বি কে জিজ্ঞেস করে কি হয়েছে রাব্বি সব কিছু খুলে বলে। তার পর আলামিন তালকদার রমজান কে ডাক দেই রমজানের মুখে থেকে সব কিছু শুনার পর আলামিন তালকদার রমজান কে প্রশ্ন করে তোমার পিসির বাড়ি তো গ্রামের মাজখানে তুমি এই দিকে কি করছ? হঠাৎ এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে বেশ ভরকে যায়। রমজান এই প্রশ্নের কোন জবাব দিতে পারে না। আলামিন তালকদার যা বুঝার বুঝতে পারে। তাই জবা বেগম আর রমজান কে অপমান করে তারিয়ে দেই। কিন্তু গ্রামের কিছু মানুষ আলামিন তালকদারের ভালো দেখতে পারে না তাই সকলের মাঝে থেকে বলে উঠে, কিন্তু আমরা চাই আপনার মেয়ে কে এই ছেলের সাথে বিয়ে দিতে হবে।