ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রিয় ফুল

পর্ব 5

লেখক: শেখ হালিমা

উপন্যাস - প্রিয় ফুল

লেখিকা - শেখ হালিমা

পর্ব - ৫

হ্যাঁ না কি তা আমি বুঝতে পেরেছি। হ্যাঁ তুই সবই বুঝতে পারিস। চল আমরা এই পার থেকে ওই পার সাতার দিব দেখি কে আগে যেতে আর আসতে পারে? আচ্ছা, সুজনের কথাই ইমন সম্মতী দিল। ফুল তুই ১-২-৩ বলবি ঠিক আছে? আচ্ছা ভাইয়া। রেডি ১-২-৩ ফুল ৩ বলতেই ইমন আর সুজন সাতার কাটতে শুরু করল। দুজনেই সমান সমান ভাবে সামনে আগাচ্ছে। কিন্তু ফিরে আসার সময় ইমন পিছনে পরে যাওয়াই সুজন জিতে গেল। কি ভাই বলেছি না এই সুজন কে হারানো সম্ভব না। সুজনের কথা শুনে ইমন হাসল। তার আরু কিছুক্ষণ মজা করে নদী থেকে চলে আসল।ফুল তুই যা গিয়ে গোসল করে আয়। আচ্ছা ভাইয়া বলে ফুল উপরে গেল। তোমার আইছ দাদা ভাই যাও গিয়া খাইতে বহ। তুমি ও আস বড় গিন্নি সুজনের কথা শুনে গোলাপ তালকদার হেসে উঠলো। চল যায়। খাওয়া দাওয়া শেষে সকলেই দুয়ারে বসল। আলামিন তালকদার ভেবেছে আজকে ফুলের বিয়ের কথা বলবেন কিন্তু তার আগেই জবা বেগম আসলেন। কি গো গোলাপ বানু তা কিবা আছো? শুনলাম তোমার পুলা আর নাতি আইছে? মই ভালাই আছি তূমার কথা কোউ তুমি কুন হানে গেছিলা? আল কইও না নাতনিডার বাড়ি গেছি। নাতনি ডা মর বেশ ভালাই আছে। তা বাবা আলামিন তোমার মাইয়া বিয়া দিবা না? জি চাচি আম্মা দিব তো এই বার ফুলকে বিয়ে দিয়ে ঢাকাই ফিরব।ফুল নিজের বিয়ের কথা শুনে বেশ ভরকে গেল সেজে সুজন কে ছাড়া আর কেউ কে বিয়ে করবে না। সুজনের দিকে তাকিয়ে ফুল দেখল সুজন নিরলিপ্ত দারিয়ে আছে। তাহলে কি সুজন ভাই আমার জন্য তার মনে কোন অনুভুতি নেই? ফুল আর কিছু ভাবতে পারল না। অওও তা পুলা কিছু আছে না দেখতে হয়বো? আপনের কাছে ভালো পুলার খবর থাকলে বলেন। হ্যাঁ আছে তো তাই তো চালাই চালাই আইলা বলার লিগা। জবা বেগম কুটনামির জন্য সেরা। সকলের বদনাম সকলের কাছে করে জগরা লাগিয়ে রাখে। অই যে উপার গ্রামের পলাসে পুলাডা আছে না হেতে বিয়া করব আমারে কইল তোমার মাইয়া তো চানদের লাহান তাগো টিয়া পয়সা আছে তোমার মাইয়া ভালাই থাকব। পলাসে ছেলের কথা শুনে সকলেই মুখ মুচরালেন। পুলার বউ গেছে গা দেইহা কি হয়ছে পুলা বেশ ভালা। এই কথা শুনে ইমন বলল না আমার বোন কে সেই ছেলের কাছে বিয়ে দিব না। মাইয়া মানুষ ভালা থাকতে বিয়া দিতে হয়। নাইলে পরে তোমার বোইনেরো আকাম কুকাম করতে কতক্ষণ নিজের বলের নামে শুনেই ইমন বলল আর যায় হক আপনার নাতনির মত বেডা মানুষ নিয়া দরা খাইব না। নিজের নাতনির নামে এই গপন সত্যি কথা শুনে জবা বেগমের মুখ কালো হয়ে গেল। আলামিন তালকদার সুজন কে দেখিয়ে বলল সুজনের সাথে আমার মেয়ে বিয়ে হবে। জবা বেগম মিথ্যা হাসি দিয়ে বলল অওও ভালাই তো পুলা তো আমগো চেনা যানাই ভালাই হয়বো। তার পর সকলের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেল। কিন্তু সেও কম কিসে তাকে করা অপমানের জবাব নিতে পারে বেশ ভালো করে। জবা বেগম যেতে ফুলকে ডাকা হলো ফুল তখন বাসার ভেতরে চলে গিয়েছিল। ফুল আসতেই আলামিন তালকদার ফুল কে নিজের কাছে বসিয়ে মাথাই হাত বোলাতে শুরু করল। আম্মা আমি আপনের বিয়ে ঠিক করছি। আপনের কোন পছন্দ আছে? মেয়ে মানুষের কিসের পছন? আমিনা বেগমের কথা শুনে আলামিন তালকদার তার দিকে তাকালেন সাথে সাথে আমিনা বেগম নিজের মাথা নিচু করে ফেলল। বলেন আম্মা আছে কেউ? ফুল না শুচক মাথা নরলো। এতে করে আলামিন তালকদার বেশ সন্তুষ্ট হলেন। তোমার জন্য আমি একটা ছেলে ঠিক করেছি তুমি অনুমতী দিলে তোমার সাথে বিয়ে দিব। ফুলের বুক কেপে উঠলো। কে আব্বাজান? এইযে আমগো চোখের মনি সুজন। সুজনের কথা শুনেই সাথে সাথে ফুল তার নিজের মাথা উঠিয়ে নিজের বাবার দিকে তাকালো? আপনার কি সম্মতি পেলে আপনার আর সুজনের বিয়ে দিয়ে তোবেই ঢাকা ফিরবো। কি আপনার কোন আপত্তি নেই তো? আপনি যা ভালো মনে করবেন। মেয়ের কথা শুনে আলামিন তালকদার সন্তুষ্ট হলেন। ঠিক আছে আম্মাজান আপনি এখন উপরে যান। জবা বেগম সারা গ্রামে ফুল আর সুজনের কথা ছরিয়েছে। এরই মধ্যে শাপলা এসে ফুলের সাথে কথা বলেছে। তা সহী তুই তোর মনের মানুষ পাইতাসত। এই কথা সুনে ফুল বেশ লজ্জা পেয়েছিল। হইছে আর লজ্জা পেতে হবে না। সুজনের চাচা-চাচির কানেও এই কথা যায় তারা অবশ্য কিছু বলে না যেখানে শুজনের বাবাই এই কথা বলে গিয়েছে। আম্মা অ আম্মা কুলি তারা হুর করে বাসায় আসল আম্মা এইডা কি হুনতাছি আমি সুজন ভাইয়ের নাকি বিয়া অই তালকদারের মাইয়ার লগে? আম্মা তুমি কি কউ না কেরে? ও আম্মা... কবিতা বেগম তো জানতেনি এই দিন এক দিন না এক দিন দেখতে হবে। কি করমু কো তোর চাচাই এই বিয়া ঠিক কইরা রাইখা গেছে। আমরা কিছু করতে থরাই পারুম। আম্মা এই গুলা তুমি কি কইতাছ? তাইলে আমি যে সুজন ভাইরে মন দিয়া ভালোবাসালাম । তার কি হয়বো? আল্লাহর কাছে যে নামাজ - তাহাজ্জুত পরা চাইলাম আমার কি হইব আম্মা? আমি তো মইরা যাম। মেয়ের মুখে মরার কথা শুনে কবিতা বেগম আতকে উঠলেন। না আম্মা তুমি এই কথা কউকেরে দেইহ শুজনের থিকাও ভালা পুলা তোমার ভাগ্যে আল্লাহ লেইখা দিব তুমি কাইনদো না। আম্মা আম্মা আমি মইরা যাইতাছি আম্মা আমি সুজন ভাইরে ছাড়া কেম্নে থাকমু আম্মা। অই তালকদারের মাইয়া কি ছিল যহন চাচা- চাচি মারা যাইয়া সুজন ভাই একলা হইয়া গেছিলো এই আমি ছিলাম আম্মা আমি এই কলি ছিল। যারে আমি বুঝ হয়ার পর থিকা চাইতাছি তারে চোহের সামনে অন্য কারো কেম্নে হইতে দেহমু আম্মা কিছু কউ আম্মা কিছু তো কউ আমারে সুজন ভাইরে আইনা দেও। কবিতা বেগম পারলে সত্যিই সুজনকে তার মেয়ের জন্য এনে দিত কিন্তু তা তো সম্ভব না তার এই ১৯ বছরের মেয়ে এই ভাবে কান্না করতে দেখে নিজেরও কষ্ট বুক ফেটে যাচ্ছে কিন্তু তার তো কিছু করার নেই। বিয়ের কথা বলতেই সুজন তার বাসাই চলে যায় তার বাসায়ও কিছু কাজ আছে নতুন বউ ঘরে যাবে গছগাছের ও তো বেপার আছে। সুজন কে বাসায় এসে এই সব করতে দেখে কলি বিশাধ মাখা হাসি দিয়েছিল কিন্তু তা সুজনে চোখে পরে নি। কিরে কলি এই দিকে আই আমার সাথে কাজ করে দে নতুন বউ আসছে এইভাবে থাকলে কেম্ন দেখা যায় কলি কখন কিছু বলেনি কিন্তু তার বুক ফেটে যাচ্ছিল। কলি কিভাবে সইবে এই ব্যাথা? কিরে এই দিকে আয় কবিতা বেগম বাহিরে এসে কলি কে এইভাবে বসে থাকতে দেখে বুক টা ফেটে যাচ্ছিল আসলে বাবা কলির শরির টা ভালা যাইতাছে না তুমি কউ আমি কইরা দেই থাক চাচি আম্মা আমি করি। অর কি হয়ছে অরে ডাক্তারের কাছে লইয়া যাও। হ্যাঁ যাব। কলি এই কথা শুনে বলে মনের বেথা কি আর ঔষধে কাজ হয়? কলির কথা সুজন শুনতে পাইনি তাই আবার ও জিজ্ঞেস করল কি বললি? কিছু না। রাব্বির কানেও এই কথা যায়। রাব্বি তখন সামান্য পরিহাসের হাসি দিয়েছিল। যেই হাসিতে ছিল প্রেয়সী কে না পাওয়ার যন্ত্রণা এক বুক কষ্ট আর হাহা কার।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 5 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন