উপন্যাস : প্রিয় ফুল
পর্ব : ১৫
লেখিকা : শেখ হালিমা
তার মধ্যে কিছু নতুন আর কিছু বেশ অনেক আগের।-
- কী বলছো..?
- জী মেডাম
- সব গুলো লাশ পোস্টমটাম করার ব্যবস্থা কর।
- ঠিক আছে মেডাম।
- বলেই ওপাশের পুলিশটি ফোন কেটে দিয়েছে।
- আসো রাজিব আর অপেক্ষা করা আমাদের ঠিক হবে না। আমার মনে হচ্ছে মেয়েটি সম্পন্ন নির্দোষ। আর আমি চাই না কোন নির্দোষ মেয়ের শাস্তি হোক। বলেই রেশমা ফুলের কাছে গেলো।
- রেশমার পিছু পিছু রাজিব ও গেলো
- সময় চলো মান,
- সময়ের সাথে সাথে গ্রাম থেকে শাপলা নামাক মেয়েটির নাম মুছে গেল। শুধু কী গ্রাম থেকেই না আমাদের মাঝ থেকেই হারিয়ে গেলো ভুলে গালাম সব। শাপলার মৃত্যুর পরের দিনইই আব্বু - আর ভাইয়া ঢাকাই চলে যায়।
তার বেশ কয়েক দিন পর শুনতে পারলাম সুজন ভাইয়ার সাথে কলির বিয়ে হচ্ছে। সুজন ভাইয়ের বিয়ের কথা শুনে আমার ভালোই লাগলো।
- তবে.. তবে সব কিছু কী এতোই সহজ..? না আয়ায়া..
- কলি তৈরি হয়নি আমরা ঢাকায় যাচ্ছি।
- কী..?
- কী বললাম শুনতে পাশনি..?
- না মানে সুজন ভাই আমাদের তো দুই দিন হইলো বিয়া হইছে। আর তুমি না কইছিলা কহন ঢাহাই জাইবা না। তাইলে এহন কেন ঢাহাই যাইতে চাইতাছো..?
- তুই কী যাবি..? না গেলে থাক আমি যায়। আর আমি তোর কোন প্রশ্নের জবাব দিতে বাধ্য নয়। সুজন কথা গুলো একপ্রকার চেচিয়েই বলো।
- কলি সুজনের এমন ব্যবহার দেখে কষ্ট পেল। কিন্তু মুখে কিছু বলল না। আচ্ছা আমি তৈরি হয়ে নিচ্ছি।
- আম্মা আমরা যায় দোয়া কইরো আমগো লইগা।
- চিন্তা করিস না মা। আমার দোয়া সব সময় তগো লগে আছে।
- সুজন বাপ আমার আমার মাইয়াডারে দেইখা রাখিস আমার মাইয়াডা বেশ অবুঝ অরে বুঝাইয়া, শিখাইয়া, পড়াইয়া লইস।
- চিন্তা করো না চাচা তোমার মেয়ে এখন আমার অর্ধাঙ্গিনী আমার দায়িত্ব আর আমি আমার দায়িত্ব নিয়ে কখনো হেল ফেল করি না। এখন আমরা যায় নইলে পরে টলার পামু না।
- আইচ্ছা যাও।
- সুজন আর কলি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিল।
- অজানা গন্তব্য অজানা জায়গা কুলি জানেনা কিভাবে সেখানে গিয়ে নিজেকে মানিয়ে নিবে। এই কথা মনে মনে ভেবে কুলি বেশ ভীতু হলো।
- আইচ্ছা সুজন ভাই হেই হানে আমরা কুন হানে যাম। না মানে আমি কইতে চাইতাছি আমরা থাকমু কুন হানে।
- সুজন বেশ বিরক্ত হয়ে উত্তর দিল। গেলেই দেখতে পারবি এখন আমাকে বিরক্ত করা বন্ধ কর।
- কুলির বেশ মন খারাপ হলো সুজনের এরূপ ব্যবহারে। কুলি ভেবে পাই না হুট করে সুজন কুলিকে বিয়ে করলো কেন।
- শাপলা মরার আজ মাস ২- ১ পেরয়েছে। শাপলা নামক মেয়ের নামটুকুও ফুল গ্রাম থেকে মুছে গিয়েছে। হুট করে ভর দুপুরে সুজন বাড়ি এসে হাজির হয়।
- কীরে পুত তুই এই ভর দুপুরে কুন হান থেইকা আইলি। আর আগে তো কহন দুপুরে বাড়ি ফিরস নাই।
- সুজন জট করে তার চাচির হাত ধরে বলে। চাচি আম্মা আপনি কী নিজের ছেলে মনে করেন আমারে..?
- কী হইছেরে বাপ তুই এই কথা কইতাসত কেরে..? তুই তো আমার পুত আমার পোলা।
- তাইলে চাচি আম্মা আমি কিছু চাইলে তুমি কী দিবে..?
- কী হইছে কো কী চাস কো আমি দিতে পারলে দিয়া দিম।
- আমি কুলিরে বিয়ে করতে চাই। দিবে চাচি আম্মা। কুলিরে আমার কইরা। কউ না চাচি আম্মা।
- সুজনের মুখে বিয়ের কথা শুনে দূরে দারিয়ে থাকা কুলির হাত থেকে থালা বাটি মাটিতে পরে যায়।
- শব্দ শুনে সুজন সামনে তাকায়।
- সুজন চিনের চাচির হাত টা ছেরে দৌড়ে গিয়ে কুলির হাত জাপটে ধরে। এই কুলি করবি বিয়ে আমারে কো না করবি।
- কুলি কিছু বুঝতে পারছে না..। সুজন ভাই কি কইতাছ..? তুমি আমারে বিয়া করতে চাও..? তুমি না তালকদারের মাইয়ারে পছন্দ কর।
- দেখ কুলি ফুল তো বিয়ে করে ঠিকই নিজের সংসার তৈরি করে নিয়েছে। তাহলে আমি কেন না। আমার চোখে তুই একমাত্র যে আমার সকল কষ্টের সময় আমার পাশে ছিলি। কো কুলি তুই বাকি জীবন আমার সাথে থাকবি..? কো কুলি কো..
- কোরবো বিয়া সুজন ভাই থাকমু আমিইই থাকমু তোমার পাশে।
- দেখতে দেখতে বিয়ে হয়ে গেলো তাদের সুজনের কথাই তার পরের দিনিই কাজি দিয়ে ঘরোয়া ভাবে তাদের বিয়ে সম্পন্ন করা হয়।
- বিয়ে রাতে বেয়াহ রাত করে বাড়ি আসে। ততক্ষণে কুলি ঘুমিয়ে গিয়েছে। সুজন গিয়ে নিঃশব্দে কউলির পাশে ঘুমিয়ে পরে।
- বিয়ের পর এক সপ্তাহ তারা গ্রামে ছিল। আর এই একসপ্তাহ কুলির সাথে বেশ বাজে ব্যবহার করেছে সুজন। কুলি মনে মনে সকল প্রকার অভিশাপ ফুলকে করেছে। কুলি ভেবেছে। ফুলকে সুজন এখনো ভুলতে পারেনি। তাই কুলিকে এত অবহেলা করে।
- তুই কী উঠবি নাকি তোকে ছেড়েই চলে যাবো..?
- আমরা কী আইয়া পরছি সুজন ভাই..?
- হ্যাঁ, আমরা চলে এসেছি।
- আসলে আমার চোখ খান লাইগা গিছিলো তাই বুঝতে পারি নাই। চলো যায়।
- সুজন কুলিকে নিয়ে জাদুর শহর ঢাকাই আসে।
- এই জাদুর শহরে কেউ আসবে আর নিঃস্ব হবে না। এটা কী সম্ভব..?
- সুজন কুলিকে নিয়ে এক নিস্তব্ধ কলির ভেতরে গেলো।
- সুজন ভাই এই হানটা এত নিস্তব্ধ কেন..? আর আমরা কুন হানে গেতাছি..? তুমি এত চুপচাপ কেন..? তুমি কী এর আগেও এই হানে আইছো.?
- সুজন কুলির কোন প্রশ্নের জবাব দিলো না। কিছু টা সামনে যেতেই একটা শুনশান পরিত্যক্ত কারখানার ভিতরে সুজন কুলিকে নিয়ে গেল।
- সুজন ভাই আমরা এই হানে আইলাম কেন..?
- জসিম.. এই জসিম..! সুজনের উচ্চ গম্ভীর কন্ঠে সুর।
- জসিম এসে মাথা নিচু করে সুজনের উদ্দেশ্য বলে.. জী বস..!
- এই মা*** জী কে নিয়ে যা যখন থেইকা গ্রাম থিকা লইয়া বাইরাইছি মাথা খাইয়া হালাইছে। মা** তে** বেশি ওর চোপার অনেক জর কমানের ব্যবস্থা কর।
- কুলি কিছু না বুঝে ফেল ফেল করে সুজনের দিকে তাকিয়ে রইলো। কুলির পুরো মাথা ফাকা হয়ে গিয়েছে কি হচ্ছে তার সাথে..? এ কাকে দেখছে সামনে...? এতো তার সুজন ভাই না..? সুজন ভাইয়ের মুখের ভাষা এত খারাপ না..? তাহলে তাহলে এ কে..?
- কী কইলাম হুনস নাই..? আর আসার সময় মাল লইয়া আহিস। মাল না নিলে আজকে থাকা পারুম না।
- মাল.. কুলি মনে মনে বেশ কয়েক বার শব্দটা উচ্চারণ করল।
- জসিম কুলিকে ধরতে আসতেই কুলি নিজের কাধের বেগ দিয়ে গায়ের সমস্ত শক্তি দিয়ে জরে বারি মারে। বারিটা এত টাই জরে মেরেছে যে জসিম কয়েক পা পিছিয়ে যায়।
- সুজন পিছু থেকে কুলির মাথার চুল খামছে ধরে। মা** জী তোর এত চেজ এত আজকে তোর সব ত্যাজ বের কুরুম।
- কুলি অবিশ্বাস্য নয়নে সুজনের দিকে তাকায়। সুজন ভাই..? না না তুমি আমার সুজন ভাই হয়তেই পারো না তুমি তো একটা পিসাচ না তুই একটা জানুয়ার..
- সুজন ঠাস করে কুলির গালে থাপ্পড় মারে।
- কুলি ছিচকে কারখানার শেত শেতে মেঝেতে পড়ে। কুলির ঠোটের কনে লালা তরলের দেখা পাওয়া যায়।
- কিরে জসিম এত চিৎকার চেঁচামিচি কিসের..? আর সুজন আয়ছে..?
- পুরুষালি কণ্ঠ ভেসে আসতেই কুলি মাথা তুলে সামনে তাকায়৷ আর সাথে সাথে যেন কুলের গলাটা কেউ চেপে ধরেছে। কুলির এমন মনে হচ্ছে সে মারা যাচ্ছে। ধীরে ধীরে যেন না- ফেরার দেশে চলে যাচ্ছে। কুলির মনে হচ্ছে সে গভীর অতল সাগরে ডুবে যাচ্ছে।
- তোমরা..? তোমরা এখানে...?