ফন্ট সাইজ:
থিম:
ভালোবাসা আমার

পর্ব 1

লেখক: শেখ হালিমা

উপন্যাস : ভালোবাসা আমার

লেখিকা :শেখ হালিমা

পর্ব : ১

এই নীলিমা ওঠ তোর না কলেজে আজকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আছে.? যাবি না ওঠ...

আম্মুর ডাক শুনে নীলিমা কিছুটা বিরক্ত হলো কিন্তু যখন তার কলেজের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কথা মনে পড়ল তখনই ধর ফুরিয়ে বিছানা থেকে দৌড়ে ওয়াশরুমে গেল।

নীলিমা আজকে গোলাপি শাড়ি পড়েছে, কোমর ছাড়িয়ে চুলগুলো খুলে রেখেছে এবং হরিণী টানা টানা চোখে গারো করে কাজল দিয়েছে আর চিকন শুরু ঠোঁটে হালকা লিপস্টিকের পরশ দিয়েছে। নীলিমাকে দেখতে আজকে বেশ লাগছে। যে একবার দেখবে সে নিজের চোখ সহজে ফেরাতে পারবে না

নীলিমারা ঢাকা মিরপুর দশে থাকে।নীলিমার বাবা নীল আহমেদ তার স্ত্রী লিমা বেগম এবং ছেলে নাঈম আহমেদ। নীলিমার বয়স ১৮ বছর তার থেকে দু বছরের ছোট নাঈম । নীলিমা দের ছোট্ট পরিবার, নীলিমাদের আত্মীয়-স্বজন বলতে তেমন কেউ নেই। আর যারা আছে তারা গ্রামে থাকে।

আজকে নীলিমাদের কলেজে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান যেখানে সকল ছেলেরা সাদা পাঞ্জাবি এবং মেয়েরা গোলাপি শাড়ি পড়েছে।

নীলিমার মা, লিমা বেগম পিছু ডেকে নীলিমাকে কিছু খেয়ে যাওয়ার কথা বলল কিন্তু নীলিমা তার আগেই বাসার গেট দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছে। নীলিমা একটা রিক্সা নিয়ে কলেজের গেটের সামনে থামলো। নীলিমা রিকশা থেকে নেমে ভাড়া মিটিয়ে কলেজের ভেতরে ঢুকলো। দূর থেকে নীলিমার বন্ধু-বান্ধবী নীলিমাকে দেখে অবাক নয়নে তাকিয়ে ছিল। নীলিমা তাদের কাছে এসে আলতো সুরে ডাকলো। নীলিমারা মোট ৬ জন নীলিমা, লিয়া, লুনা, মারুফা, মারিত, মায়ান। নীলিমা তোকে আজ বেশি সুন্দর লাগছে আমরাই তোর উপর থেকে চোখ ফেরাতে পারছিনা তাহলে ভাব কলেজের আর ছেলেদের কি অবস্থা হবে। আশেপাশে নীলিমা তাকিয়ে দেখল তার দিকে সবাই তাকিয়ে রয়েছে। এতে করে নীলিমা বেশ অস্বস্তিতে পড়লো। মারফুয়া বলল, তোরা কি এখানেই থাকবি? ওই দিকে দেখ সকল চেয়ারে ছাত্র-ছাত্রী বসে পড়েছে। পরে বসার জন্য কোন জায়গা পাওয়া যাবে না চল তাড়াতাড়ি। মারুফার কথায় সবাই স্টেজের দিকে যাওয়া শুরু করল।পিছু থেকে মারিত এক দৃষ্টিতে নীলিমার দিকে তাকিয়ে রইল। মায়ান শান্ত ভাবে মারিতের কাঁধে হাত রাখল আর বলল এখন তো বলে দে আর কত সময় নিবি?

যদি নীলিমা আমাকে মেনে না নেই? আমাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক নষ্ট করে ফেলে? তখন আমি সে কষ্ট নিতে পারব না, বলেই মারিত একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়লো ।

সামনে থেকে লুনা মারিত এবং মায়ানকে ডাক দিল।

তারা সামনের দিকে যেতে লাগলো। ছেলেমেয়েদের বসার জন্য দুই শাড়ি তৈরি করা হয়েছে।

নীলিমারা স্টেজের মাঝখানে বসলো এবং মারিত আর মায়ান তাদের পাশে ছেলে দের শাড়িতে বসলো।

আশেপাশে ছাত্র-ছাত্রীদের বেশ কোলাহল, এতে নীলিমা বেশ বিরক্ত। তার এসব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আসার কোন ইচ্ছে ছিল না। তবে বান্ধবীদের অনুরোধে আসতে হলো।

হঠাৎ মাইকে এনাউন্স করা হলো কলেজের প্রধান অতিথি ইতিমধ্যে চলে এসেছে। নীলিমার বান্ধবীরা সহ আশেপাশের সকল শিক্ষার্থীরা উঁকি ঝুঁকি দিয়ে মেন গেট দিকে তাকিয়ে রয়েছে। তারা জানতে পেরেছে প্রধান অতিথি এই শহরের টপ বিজনেসম্যান আনোয়ার হোসেনের ছেলে আয়ান হোসেন। যে দেখতে কোন উপন্যাসের নায়কের চেয়ে কম না। নীলিমা তার বান্ধবীদের এইভাবে উঁকিঝুঁকি মেরে গেটের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে বেশ বিরক্ত হলো। তাই নীলিমা সেখান থেকে উঠে ওয়াশরুমে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালো। পিছু থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের চিলানোর শব্দ শোনা যাচ্ছে। নীলিমা পিছেও ফেরে তাকানোর প্রয়োজন করলো না। ২ টা কালো মার্সিটি এবং ১ নরমাল কার এসে কলেজের মেন গেটের সামনে থামল প্রথম টি তে থেকে আনোয়ার হোসেন নামলেন এবং দ্বিতীয়টি থেকে আয়ান এবং তার assistant শাকিব নামলো। এবং তৃতীয়টি থেকে আয়ানদের বডিগার নামলো। প্রধান শিক্ষকের সাথে কৌশল বিনিময় করে। তারা অফিস রুমের দিকে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালো। সকলে অফিস রুমে চলে গিয়েছে কিন্তু আয়ান কিছু প্রয়োজনে পিছে রয়ে গিয়েছে। ঠিক সেই সময় নীলিমা ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে, করিডোর পেরিয়ে সিঁড়ির কাছে আসতে শক্তপোক্ত কারো বুকের সাথে ধাক্কা লেগে পড়তে নিলেই তার হাত কেউ ধরে ফেলে। নীলিমা আতংকে নিজের চোখ বন্ধ করে ফেলে। যখন বুঝতে পারলো তার কিছু হয়নি তখন আস্তে করে পিটপিট করে নিজের চোখ খুলল। সামনের গম্ভীর শক্তপোক্ত মানুষটাকে দেখে তার বুক কেঁপে উঠলো। তাড়াহুড়ো করে সরি বলে নিচে তার বান্ধবীদের কাছে চলে আসলো। নীলিমা হাপাচ্ছিল তাকে এই অবস্থায় দেখে সকলে উচ্চ দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল। মারুফা জিজ্ঞেস করল কি হয়েছে? নীলিমা তোকে এমন দেখাচ্ছে কেন ? নীলিমা পুরো ঘটনাটাকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে গেল। কিছুক্ষণ পর প্রধান অতিথিরা সকলেই স্টেজে এসে বসলো সকল ছাত্র-ছাত্রী নজর সামনে বসা আয়ানের উপর। আয়ান এদিক সেদিক তাকিয়ে হঠাৎ তার চোখ আটকে যায় নীলিমার ওপর। নীলিমা আয়ানকে থাকতে দেখে আঁচল দিয়ে ঘোমটা দিল। এতে করে আয়ানের মুখে অভিব্যক্তি বোঝা গেল না। আয়ান তার এসিস্ট্যান্ট সাকিবকে ডাক দিল এবং কানে কানে কিছু বলল। শাকিব সম্মতি সূচক মাথা নাড়িয়ে সেখান থেকে প্রস্থান করল।সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর, যে যার মত নিজের বাসায় চলে গেল। নীলিমা আজকে বেশ ক্লান্ত এর আগে কখনো সে সারাদিন শাড়ি পড়ে কাটাইনি। তবে নীলিমা কে একটা জিনিস বেশ ভাবা ছিল? সব মেয়েকে রেখে আয়ান কেন তার দিকে তাকিয়ে ছিল? নীলিমা নিজেকে সান্ত্বনা দিয়ে ভাবলো হয়তো অন্য কারো দিকে তাকিয়ে ছিল সে ভুল করে নিজের কথা ভাবছি। সূর্য তখন আসমানে নিজের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে। ভোরের আলো জানালা ভেদ করে নীলিমার মুখে এসে পড়ল। এতে নীলিমা বেশ বিরক্ত। সময় দেখে তার চোখ কপালে। আজকে তার কলেজ বন্ধ। নীলিমা ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করার জন্য নিচে গেল। ঠিক তখনই টাইম এসে তার জন্য রাখা ডিম নিজের মুখে পুরে দিল।

নীলিমা চেয়ে চেয়ে তার আম্মুকে ডাক দিল।

আম্মুউউউউউ....

লিমা বেগম খুন্তি হাতে থেকে কিচেন রুম বেরিয়ে আসলো। তোরা কি বড় হবি না?এমনি কি করবি সব সময়, বলেই নাঈমের পিঠে দুগা লাগালেন।

এই দৃশ্য দেখে নীলিমা হাসিতে ফেটে পড়লো।

কিং কিং কলিং বেল এর শব্দ শুনে। গেট খোলার উদ্দেশ্যে নীলিমা সামনে পা বাড়ালো। গেট খুলতেই সামনে নীল হোসেনকে দাঁড়ানো দেখা গেল। ভেতরে আসতে লিমা বেগম স্বামীকে জিজ্ঞেস করল আজকে এত তাড়াতাড়ি কিভাবে আসলে?নীল সাহেব জবাবে উত্তর দিলেন আজকে ব্যাংকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মিটিং ছিল তাই ব্যাংক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই কথা শুনে নীলিমা বেশ খুশি হল। চলো তাহলে আজকে কোথাও ঘুরতে যাই। ঘুরতে যাওয়ার কথা শুনেই নীলিমার আম্মু কুঁছকালীন। নীল সাহেব মেয়ের আগ্রহ দেখে ঘুরতে যাওয়ার জন্য সম্মতি দিল। বাবার সম্মতি পেয়ে নাঈম আর নীলিমা লাফিয়ে উঠলো। সিদ্ধান্ত নেওয়া হল তারা দুপুরের খাবার বাহির থেকে খেয়ে ঘুরাঘুরি করে বাসায় ফিরবে।

সূর্য তখন পশ্চিমা আকাশে নিজের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে। নীলিমারা রেস্টুরেন্ট থেকে দুপুরের খাওয়া-দাওয়া করে এখন ঘুরতে বের হয়েছে। আশেপাশের প্রকৃতি দেখতে সকলে ব্যস্ত। ঠিক তখনই নীলিমা দেখতে পেল কালো মার্সিডিসের ওপর হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আয়ান। ঠিক তখনই আয়ান নীলিমার দিকে ঘুরে তাকালো। এতে করে নীলিমা ভোরকে গেল। যা দেখে আয়ানের মুখে ক্ষীন হাসির রেখা ফুটে উঠলো যা কারো চোখে পড়লো না।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন