উপন্যাস : ভালোবাসা আমার
লেখিকা : শেখ হালিমা
পর্ব -২
যা দেখে আয়ানের মুখে ক্ষীন হাসির রেখা ফুটে উঠলো যা কারো চোখে পড়লো না।
সূর্য তখন পুশ্চিমা আকাশে তলিয়ে গেছে। নীলিমারা সবেমাত্র বাসায় ফিরল। সবাই তাদের নিজ নিজ কক্ষে গিয়ে ফ্রেশ হলো। নীলিমার আম্মু লিমা বেগম রাতের খাবারের তৈরি করা শুরু করল। সকলেই রাতের খাওয়া দাওয়া করে ঘুমের দেশে পারি জমালো। সূর্য তখন নীল আকাশে নিজের উপস্থিত জানান দিচ্ছে। রোজকার মতো সকলেই যে যার গন্তব্যে গেল। নীলিমা কলেজে এসে দেখে লিয়া, লুনা, মারুকা কলেজ প্রাঙ্গণের একপাশে বসে আড্ডা দিচ্ছে। নীলিমা সামনে গিয়ে ধপ পাস করে তাদের কাছে বসে পরলো। এতে তারা সকলে একটু হকচকে উঠলো। কিরে তোরা কি নিয়ে কথা বলছিস? তোর এখন আসার সময় হয়েছে? আমরা সেই কখন থেকে তোর জন্য মারিত আর মায়ানির জন্য অপেক্ষা করছি। মারুফার কথার জবাব এ নীলিমা বলল আরে রাস্তায় জ্যাম ছিল তাই আসতে একটু দেরি হয়েছে। ঐতো সামনে মারিত ও মায়ান আসছে। লিয়ার কথায় সকলেই সামনে তাকালো। মায়ান কলেজে ঢুকতেই নীলিমার দিকে তাকিয়ে ছিল কিন্তু যেই না নীলিমা তাদের দিকে তাকালো তখনই মায়ার নিজের চোখ সরিয়ে নিল। মায়ান,মারিত আসতেই সকলে দাঁড়িয়ে পরল ক্লাস রুমে যাওয়ার জন্য। সকলে ক্লাস করে ক্যান্টিনে খাওয়ার জন্য যায়। সকলেই কিছু না কিছু অর্ডার করে। খাওয়া দাওয়া শেষে সকলে আবারও ক্লাসরুমে যায়।কলেজ ছুটি হওয়ার পর যে যার গন্তব্যে চলে গেল। নীলিমা রিক্সার জন্য তখনো রাস্তায় দাঁড়িয়েছিল। সে সময় থেকে মায়ান দিকে উঠলো। নীলিমা চল আজকে আমি আর তুই একসাথে যাই। নীলিমা এতে সামান্য ভ্রু কুচকালো। মায়ান বলল চল সামনে রিক্সা পাওয়া যাবে। নীলিমা বেশি কিছু না ভেবে মায়ানের সাথে সামনে পা বাড়ালো। তারা একসাথে রাস্তার পাশ দিয়ে হাঁট ছিল। ঠিক সেই সময় নীরবতা ভেঙে মায়ান বলল আচ্ছা নীলিমা তুই কিভাবে বিয়ে করতে চাস না মানে লাভ ম্যারেজ নাকি অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ? মায়ানের কথার নীলিমা জবাব দিল আমি ভালোবাসায় আগ্রহী নই আর আমার আব্বু যে ছেলেকে পছন্দ করবে আমি তার সাথেই বিয়ে করব। নীলিমার জবাবে মায়ানের মন কিছুটা ক্ষৃন হলো। মায়ান ভেবেছিল আজকে তার মনের কথা নীলিমা কে বলে দেবে। কিন্তু এখনতো নীলিমা বলে দিল সে ভালোবাসায় আগ্রহী নয়। কিছুদূর আসতেই তার একটা রিক্সা পেল। মায়ান রিক্সাটা দাঁড় করিয়ে নীলিমাকে উঠতে বলল এবং যেই না মায়ান উঠতে যাবে ঠিক সে সময় রিক্সাওয়ালা মামা বললেন। আমি এক মাইয়ার পাশে এক পোলারে নিতে পারবো না। রিক্সাওয়ালার কথা শুনে মায়ান সামান্য বিরক্ত হলো।কিন্তু আর কোন কথা বলল না রিক্সার ভাড়া মিটিয়ে নীলিমাকে বিদায় জানালো। দূর থেকে কাল মারসিটিসে ভেতর থেকে আয়ান এই দৃশ্য দেখে সামান্য হাসলো। ঠিক সে সময় কিছু একটা ভেবে তার চোখ লাল বর্ণ ধারণ করল। সেই লাল চোখ দিয়ে মায়ান কে দেখতে থাকলো।এমন ভাবে যেন ওই চোখ দিয়েই মায়ান কি গিলে খাবে। তারপর ফুল স্পিডে কারটি চালিয়ে মায়ানের পাস খেয়ে এসে গেল। মায়ান বেশি আঘাত না পেলেও। তার ডান হাত ভেঙে গেল । আয়ান গাড়িটি কিছু দূর থামিয়ে পিছু ফিরে আবার তাকালো তারপর সামান্য কুটিল হাসি দিয়ে চলে গেল। নীলিমা বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে ঘুম দিল। হঠাৎ তার ঘুম ভাঙ্গে ফোনের রিংটোনে। ফোন ধরে নীলিমা অবাক হলো।তাদের ফ্রেন্ডস গ্রুপে অনেকগুলো মেসেজ এবং কল দেওয়া হয়েছে। গুরুতর কিছু হয়েছে ভেবে নীলিমা সাথে সাথে গ্রুপে কেন। গ্রুপে কি নীলিমা শুনতে পেল আজকে মায়ান এক্সিডেন্ট হয়েছে এবং তার ডান হাত ভেঙে গিয়েছে । নীলিমা এতে বেশ অবাক হলো এবং মনে মনে ভাবলো এটা কি করে হতে পারে মায়ান তো তাকে রিকশায় উঠিয়ে নিজের বাসার জন্য আসছিল তাহলে কি সে সময় এক্সিডেন্ট করেছে। নীলিমা কিছু না বেবি গ্রুপ কলি এড হলো। সকলেই নীলিমা এসেছে দেখে নীলিমাকে সবকিছু বলতে শুরু করল। সবকিছু শুনে বেশ অবাক হলো। রাতে নীলিমা কিছুক্ষণ পরে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে তখনই শোয়ার প্রস্তুতি নিবে ঠিক তখনই তার ফোনে মেসেজ আসলো। নীলিমা ফোনটি হাতে নিয়ে দেখতে পেল একটি আননোন নাম্বার থেকে মেসেজ এসেছে। মেসেজটি কিছুটা এমন ছিল, আজকে সামান্য ড্রেমও দেখালাম। নীলিমা মেসেজটি আকামাথা কিছু বুঝলো না। তাই নাম্বারটি ব্লক করে দিল। আয়ান তখন তার রুমের সিক্রেট রুমে ছিল এই রুমের কথা পরিবারের সকলে জানলেও কেউ এটা জানে না রুমটি ঠিক কোথায় আছে সকালে জানে আয়ানের রুমে একটি সিক্রেট রুম রয়েছে। রুমটির চারপাশে নীলিমার কলেজের সংস্কৃতি অনুষ্ঠানের ছবি যেগুলোতে নীলিমা অন্যমনস্ক হয়ে আছে এবং নীলিমার কলেজ ড্রেস পড়া কিছু ছবি। সেই ছবিগুলো খুব সতর্ক ভাবে তোলা হয়েছে তা দেখেই বোঝা গিয়েছে। আয়ানের পরিবারে তার বাবা আনোয়ার হোসেন মা আয়না হোসেন এবং সব শেষে বোন আদিবা হোসেন। আদিবা সবেমাত্র এসএসসি পরীক্ষা দিল। রোজকার মত নীলিমা আজকেও কলেজে এসেছে আজকে সকলে মিলে কলেজের প্রাঙ্গনে আড্ডা দিচ্ছে। কিন্তু আজকে মায়ার নেই। সমস্ত কথার রীতি টেনে নীলিমা গম্ভীর সুরে বলল সামনে এইচ এস সি পরীক্ষা চলে এসেছে এখন থেকে ভন্ডামি বাদ দিয়ে ভালোভাবে করতে হবে। নীলিমার কথার সকলের সম্মতি জানালো। কলেজ শেষে আজকেও নীলিমাকে দূর থেকে আয়ান ফলো করছে। নীলিমা কিছু দূর যেতে রিক্সাটি হঠাৎ করে থেমে গেল। নীলিমা দের বাসায় যাওয়ার পথে একটি নির্জনগুলি পরে যেখানে রোজ কিছু ছেলে তাকে বিরক্ত করে। নীলিমা দেখতে পেল কিছু ছেলে রিক্সা টি থামিয়েছে। এগুলো সেই ছেলে। ছেলেগুলোকে দেখে নীলিমা বেশ ভীতু হলো। নীলিমাকে নামিয়ে দিয়ে রিক্সাওয়াল চলে গেল। যখনই সেখান থেকে একটি ছেলে নীলিমার হাত ধরতে যাবে তখনই সামনে থেকে আয়ান ছেলেটির বুক বরাবর লাকি বসানো। আয়ান কে দেখে ছেলেগুলো এবং নীলিমা সামান্য ভর কালো। তারপর ছেলেগুলো নিজেদের সামলিয়ে আয়ানের উপর হামলা করতে গেল।কিন্তু আয়ান কে ছয়া তো দূরে থাক কিছুই করতে পারল না। আয়ান সব গুলো ছেলে কে মেরে রাস্তায় ফেলে রাখলো। এবং শাকিবকে ফোন করে তাদের সিক্রেট গোডাউনে নিয়ে যেতে বলল। নীলিমা এতক্ষণ কি হলো কিছুই বুঝতে পারল না আয়ানের কথাই তার ধ্যান ভাঙ্গলো। আয়ান গাড়ির গেট খুলে নীলিমাকে বসতে বলল। নীলিমা সামান্য ইতস্তত বোধ করে গাড়িতে উঠে বসলো।নীলিমা কে নামিয়ে আয়ান অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা হলো। অফিস শেষে আয়ান তাদের সিক্রেট গোডাউনে গেল। যেখানে ছেলেগুলোকে শাকিব বে ধরম পিটাচ্ছে। ছেলেগুলো অনুব্রত নিজেদের হাত জোর করে। তাদের ছেড়ে দিতে বলছে। আয়ান ছেলেদের সামনে এসে হাটু গেড়ে বসে বলল। তোরা আমার কলিজায় হাত দেওয়ার সাহস করলি কিভাবে? বলেছিলে ছেলেগুলোকে আবারো মারতে শুরু করল। ছেলেগুলো অনবরত চিৎকার করে বলছে তাদেরকে ছেড়ে দিতে। আয়ান তাদের মারতে মারতে যখন হাপিয়ে উঠল তখন ছেলে গুলোকে বলল। আজকে থেকে নীলিমাকে ভাবি বলবি। আর তার সকল সুবিধা অসুবিধার খেয়াল রাখবি। কোন সমস্যা হলে আমাকে জানাবি। ছেলে গুলো নিজেদের সম্মতি জানিয়ে অনবরত মাথা উপর-নিচ করতে থাকলো। এতে আয়ান সামান্য হাসি ফুটালো। নীলিমা কলেজে যাওয়ার পথে কেউ সেই ছেলেদের সাথে দেখা হল। তাদের কারো মাথায় হাতে পায়ে করা। ছেলেগুলো নীলিমাকে দেখেই সালাম দিল।