ফন্ট সাইজ:
থিম:
ভালোবাসা আমার

পর্ব 4

লেখক: শেখ হালিমা

উপন্যাস : ভালোবাসা আমার

লেখিকা : শেখ হালিমা

পর্ব : ৪

মায়ানের বাবা ছাড়া পেয়েই মায়ানের গালে ঠাশ করে একটা থাপড় মারে। যার জন্য মায়ান সামান্য হেলে যায়। একমাত্র ছেলে কে মারতে দেখে মায়ানের মা আঁতকে উঠে। কী করছেন মায়ানের আব্বু ছেলে টা কে মারছেন কেন? মায়ান কী আর যান্ত নাকি ওই মেয়ে কে আয়ান পছন্দ করে। সূর্য পূর্ব আকাশে নিজের উপস্থিত জানান দিচ্ছে। আজকে নীলিমা কলেজে যায়নি। মহা রানির ঘুম ভাঙ্গলো তা আমি কী জানতে পারি আজকে কলেজে যাওয়া হয়নি কেন? মায়ের কথা শুনে নীলিমা পিছু থেকে জরিয়ে ধরে বলে উফফ আম্মু একদিনই তো আর এমনেও আজকে আমরা শরীর টা ভালো না। মেয়ের কথা শুনি লিমা বেগম উত্তীর্ণ হয় প্রশ্ন করে কী হয়েছে অনেক বেশি খারাপ লাগছেব? মায়ের অস্থিরতা টের মেয়ে নীলিমার বলে আম্মু তেমন কিছুই না তুমি চিন্তা কইর না। মেয়ে কথাই লিমা বেগম স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। হোসেন ভিলার সাধারণত সকলেই এক সাথে খাবার খায় কিন্তু আজকে আয়ানের নিচে নামতে সামান্য ধেরি হয়। আনোয়ার হোসেন আয়না বেগম কে জিজ্ঞেস করে।তা তোমার ছেলে কথাই এখন নিচে নামলো না যে? আয়না বেগম স্বামীর কথার জবাবে কিছু বলবে তার আগেই আয়ান নিচে আসে। আনোয়ার হোসেন আর আয়ানের মধ্যে কিছু ঝামেলা হওয়ার পর থেকে কথা বলা বন্ধ হয়। আনোয়ার হোসেন এই কয়েক বছরে কথা বলতে আসলেও আয়ান এরিয়ে গিয়েছে তাই আনোয়ার হোসেন ও হাল ছেড়ে দিয়েছে। আয়না তোমার ছেলে কে বল বিয়ে বয়স হয়েছে আমি আমার বন্ধু মেয়ে কে এই বাসার বউ করে আনতে চাই। আম্মু আমি এখন বিয়ে করব না আর করলেও নিজের ইচ্ছে করব কারো পছন্দ করা বউকে না। সব সময় বাপ ছেলের মাঝে আয়না বেগম ফেশে যায়। এখন আয়না বেগম কি করবে ভাবার মাঝে আনোয়ার হোসেন গম্ভীর কন্ঠ সামনে থেকে ভেসে আসে। আয়না তোমার ছেলে কে বলে দেও আমার কথাই শেষ কথা আমি আমার বন্ধু কে কথা দিয়ে এসেছি। আম্মু তোমার স্বামীকেই তাহলে বিয়ে করতে বইল। আমি যার সাথে সংসার করব সে আমার পছন্দের হবে বলেই আয়ান চলে গেল। আয়না বেগম বেশ বুঝতে পেল সামনে বাপ ছেলের দন্ধ বাজতে চলেছে। সরি বস আসতে লেট হয়ে গেল আসলে না অসু.. আমি কী তোর কাছে কিছু শুনতে চেয়েছি? না মানে বস... চুপ আর এক টা কথাও না আজকে কোন মিটিং আছে? দারান বস এক্ষুনি দেখে বলছি। জী বস আজকে মিটিং আছে। আচ্ছা তাহলে তুই আজকে কলেজের সামনে যাবি। ঠিক আছে বস বলেই শাকিব বাহিরে চলে আসে। আয়ান বাহিরে যেমনই থাকুক না কেন বা দেখাক না কেন ভেতর টা সাদা পানির মত পরিস্কার। শাকিব কে নিজের ভাই ভাবে সব সময় শাকিব কে সাহায্য করে। শাকিব সব সময় আয়ানের সাথেই থাকে কিন্তু বেশ কয়েক দিন শাকিবের মা অসুস্থ তাই শাকিবকে তার বাসায় থাকতে হয়। আয়ান এই কথা জানার পর শাকিবের মার জন্য হরেক রকমের খাবার পাঠিয়েছিল। আর শাকিব কেও ছুটি দিয়েছিল কিন্তু শাকিব রাজি হয়নি। এমনেই আয়ান তার জন্য অনেক করে তাই সে ছুটি নেই না এই কথা ভাবতে ভাবতে শাকিবের অজান্তেই চোখ দিয়ে এক ফোটা পানি পরে যা লোক চক্ষের আরালে মুছে ফেলে। কলেজ ছুটি মাত্র নীলিমারা সকলেই এক সাথে বের হচ্ছে আজকে মায়ান আসল না কেন ? মারুফার কথাই লিয়া বলল তাই তো নীলিমা তুই কি কিছু জানিস নাকি মায়ানের কথা শুনে নীলিমা বেশ বিরক্ত হলো। নীলিমা কালকের সব কিছু ওদের কে বলেছে তাও তারা মায়ানের কথা নীলিমার কাছে জিজ্ঞেস করায় ঝাঁঝালো কন্ঠে জবাব দেয় আমি কি মায়ান কে নিয়ে বসে আছি নাকি। নীলিমার ঝাঝালো কন্ঠ শুনে কেউ আর কোন কথা বারায় না। এতক্ষেন তারা কলেজ গেটের কাছে চলে এসেছে। লিয়া সকলের কাছে থেকে বিদায় নিয়ে সামনে পা বারায় কিছু দূর আসতেই কার সক্ত পক্ত বুকের সাথে ধাক্কা খেয়ে পরে লিয়ার কনয়ে ব্যাথা পায়। লিয়া আর্তনাদ করে উঠে.. উফফফফ লিয়া উপরে তাকিয়ে অপরিচিত ছেলে কে দেখে রেগে যায় । লিয়া উঠে দাঁড়িয়ে শাকিব কে উদ্দেশ্য করে বলে উঠে আপনি কি অন্ধ নাকি দেখতে পান না? শাকিব এতক্ষণ একটা ঘোরে ছিল লিয়ার ঝাঝালো কন্ঠে ধ্যান ভাঙ্গে। শাকিব লিয়ার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকার জন্য লিয়াবকে উঠানোর কোথাও ভুলে গিয়েছে। লিয়ার কথাই শাকিব জবাব দেয় সরি আসলে আমি দেখতে পাইনি। হ্যাঁ তা কি করে দেখতে পাবেন অন্ধ দের মত চসমা পরে থাকলে কেই বা দেখতে পাবে। লিয়া শাকিব কে আর কিছু না বলতে দিয়ে পাশ কেটে চলে যায়। লিয়ার যাওয়ার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে শাকিব সামনে পা বাড়ায়। শাকিব নীলিমার বাসা পর্যন্ত নীলিমা পিছু পিছু গিয়েছে এটা দেখার জন্য যে নীলিমা ঠিক ভাবে বাসায় গিয়েছে নাকি আর রাস্তায় কোন ছেলে বিরক্ত করে নাকি? আয়ান নীলিমা দের বাসার চার পাশে গার্ড লাগিয়েছে যাতে তার প্রেয়সীর কোন সমস্যা হলেই জানতে পারে। সময় চল মান মাঝে কেটে গিয়েছে বেশ কয়েক দিন। আনোয়ার হোসেন আয়ানের কথা শুনে কিছু একটা আনদাজ করেছিল তাই তার লোক গোপনে আয়ানের লোক দের পিছু লাগিয়ে ছিল সেখান থেকেই আনোয়ার হোসেন জানতে পারে নীলিমার কথা। এমনই তে ধনী গরিবের ভেদাভেদ করে না কিন্তু তার বন্ধুর মেয়ে কে হোসেন ভীলার পুত্র বুধু করতে চাই। তাই নীলিমার কথা শুনার পর নীলিমাদের বাসায় আসে আয়ানের গার্ড দের চোখ ফাকি দিয়ে। দেখুন নিল আহমেদ আমার আপনের মেয়ে কে নিজের ছেলের বউ করতে কোন সমস্যা ছিল না কিন্তু আমি আমার বন্ধু কে কথা দিয়েছি তার মেয়ে কেই আমি আমার ছেলের বউ করে আনবো। কিন্তু আমার ছেলে আপনার মেয়ে কে পছন্দ করে আমি যেত দূর আমার ছেলে জানি আপনি পাতালে গিয়েও লোকালে আমার ছেলে বের করে আনবে তাই বলছি নীলিমাকে ভালো ছেলে দেখে বিয়ে করিয়ে দিলে আমার ছেলে আর কিছু করতে পারবে না। আনোয়ার হোসেন কথাই নীল আহমেদ কিছু বলে না সে এখন তার মেয়ে কে বিয়েও দিতে চাই না কিন্তু আনোয়ার হোসেন যেখানে নিজে এসেছে তার কথাও ফেলা ঠিক হবে না। আচ্ছা আমি কাল পুরশুই আমার মেয়ে কে বিয়ে দিয়ে দেব। আর আরেক টা কথা আনোয়ার হোসেন কথাই নীল আহমেদ উৎসুক দৃষ্টি তাকালেন। আমার ছেলে যদি জানতে পারে এর পিছে আমি আছি আমারে ছেড়ে কথা বলবে না তাই আমি চাই নীলিমার বিয়ে টা গোপনে হোক। আনোয়ার হোসেন কথাই নীল আহমেদ বোঝার ভুংগিতে মাথা নারাই। এই দিকে এত কিছু হয়ে যাওয়া পৃথিবীর এক কনে থাকা আয়ান কিছুই জানতেই পারে না। তবে কি আয়ান তার প্রেয়সীকে পাবে না? পৃথিবী নামক এই জগতে কী এভাবেই হাজারো ভালোবাসা নিঃশেষ হয়ে যাবে। এভাবেই কী ভাঙা হৃদয় নিয়ে বেঁচে থাকবে হাজারো মানুষ তবে কী সত্যিই এই ভালোবাসা এক মানুষের জীবনে দূরবিহ বয়ে আনে। আজকে নীলিমাকে দেখতে এসেছে। নীল আহমেদ অফিসে কলিগ ছেলে ইউরোপ থাকে বিয়ের পর নীলিমাকেও নিয়ে যাবে। নীল আহমেদ মেয়ের সুন্দর ভবিষ্যতে কথা ভেবে রাজি হয়ে যায়।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 4 শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন