ফন্ট সাইজ:
থিম:
ভালোবাসা আমার

পর্ব 7

লেখক: শেখ হালিমা

উপন্যাস : ভালোবাসা আমার

লেখিকা : শেখ হালিমা

পর্ব : ৭

আপনার মেয়ে আমার অক্সিজেন যাকে ছাড়া আমি নিঃস্ব। বলেই গাড়ী নিঃশব্দে চলতে থাকলো। গাড়ী এসে হোসেন ভীলার সামনে থামলো। আয়ান গাড়ি থেকে বের হয়ে নীলিমার উদ্দেশ্যে হাত বারিয়ে দিল। নীলিমা ইতস্তত করে আয়ানের হাতের উপর নিজের হাত রাখলো। আয়ান আর নীলিমা নিঃশব্দে বাড়ির মূল ফোটকের দিকে পা বারাই। আয়ান নীলিমাকে বাসার ভিতরে নিয়ে আসে। আয়ান চেচিয়ে বাসার সকলকে ডাকতে থাকে। আম্মু.. আদিবা.. আম্মু..কোথায় তোমরা সবাই..? আয়ানের ডাকে আনোয়ার হোসেন, আয়না বেগম, আদিবা সকলে নিচে মেনে আসে। আয়ান আয়না বেগম কে দেখে বলতে শুরু করে আম্মু তোমার জন্য বউ নিয়ে এসেছি। আয়না বেগম নীলিমাকে দেখে বেশ খুশি হলেন। নীলিমাকে বেশ পছন্দ হয়েছে। আয়না বেগম কিছু বলার আগেই পাশ থেকে আদিবা বলে উঠে ভাইয়া সত্যি এই পরীর মতো দেখতে মেয়ে টা আমার ভাবী..? আয়ান হ্যাঁ সুচুক মাথা নারাই। আদিবা গদ গদ হয়ে দৌড়ে নীলিমার সামনে এসে দারায়। নীলিমা এতে করে সামান্য ভরকে যায়। ভাবি সত্যিই তুমি আমার ভাবি আমি তো বিশ্বাস করতে পারছি না। আমি কিন্তু তোমাকে তুমি করে বলব ঠিক আছে। তুমি কিন্তু সারা দিন আমার সাথে থাকবে, আমার সাথে কথা বলবে, আমার কথা শুনবে ঠিক আছে। নীলিমা আদিবার কথা শুনে সামান্য মুচকি হাসি দিয়ে হ্যাঁ সুচুক মাথা কাত করে। তা দেখে আদিবা গদ গদ হয়ে নীলিমাকে জরিয়ে ধরে। আয়না বেগম নীলিমাকে ভেতরে রুমে নিয়ে যেতে বলে আদিবাকে। আয়না বেগমের কথা শুনে আনোয়ার হোসেন রেগে বলে কী বলছ তুমি..? এই মেয়ে কে আমি আমার ছেলের বউ হিসেবে মানি না। আনোয়ার হোসেনের কথা শুনে আয়না বেগম তেতে উঠে বলে তুমি মানো বা না মানো আমার ছেলে বিয়ে করে এনেছে এই মেয়েই আমার ছেলের স্ত্রী। আয়না বেগমের রাগী কন্ঠ শুনে আর আনোয়ার হোসেন চুপ হয়ে গেলো আর কোন কথা বলার সাহস করলেন না পরে দেখা যাবে আয়না বেগম তাকেই তার বাসা থেকে বের করে দিবে। এমনেতেও নীলিমাকে তার ভালো লাগে কিন্তু তার বন্ধুর মেয়ের সাথে বিয়ে কথা হয়েছে বলে নীলিমাকে নিজের ছেলের বউ করতে রাজি হয়নি কিন্তু নীলিমা তার বাসার বউ হওয়ার জন্য সকল গুন রয়েছে। এখন যখন আয়ান নীলিমাকে বিয়ে করে নিয়ে এসেছে আর বাসার সকলেই যখন খুশি এখানে তার আর কিছুই করার নেই। কিন্তু আনোয়ার হোসেন এই ভেবে চিন্তিত হলো যে তার বন্ধুকে কী জবাব দিবে..? আনোয়ার হোসেনের দিকে তাকিয়ে নিঃশব্দে নীলিমাকে নিয়ে আদিবা আর আয়ান উপরে চলে গেলো আর আয়ান যাওয়ার সময় বুঝিয়ে দিয়ে গেলো যা তার তা তার কাছে থেকে আল্লাহ ব্যতীত কেউ কেরে নিতে পারবে না। যায় হয়ে যাক না কেন সে তা নিজের করে ছাড়বে। আদিবা নীলিমাকে আয়ানের কক্ষে নিয়ে এসে খাটে বসিয়ে দিয়ে বলে ভাবি তোমাকে আমি আমার একটি পোশাক দিয়ে যাচ্ছি তুমি আজকেও জন্য সেটা পরে নিও কালকে আমরা তোমাকে নিয়ে শপিংয়ে যাবো ঠিক আছে বলেই আদিবা পোশাক আনার উদ্দেশ্যে নিজের কক্ষে গেলো। ঠিক তখনই আয়ান নিজের কক্ষে প্রবেশ করে। এত কিছুর মাঝে নীলিমাকে ঠিক মত দেখার সুজক হয়ে উঠেনি আয়ানের কিন্তু এখন নিজের রুমে নিজের ভালোবাসার মানুষটা কে দিখে মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে আছে। নীলিমা আয়ানের গর লাগানো মুগ্ধ দৃষ্টি দেখে সামান্য ইতস্তত করে কাশি দিলো। নীলিমার কাশির শব্দে আয়ানের গোর ভাঙ্গে আয়ান নিজেকে সামনিয়ে তারা হুরু করে কাভাড থেকে নিজের পোশাক নিয়ে ফ্রেশ হওয়ার জন্য ওয়াসরুমে চলে যায়। আয়ান যেতেই নীলিমা এক বার সারা রুমে নিজের চোখ বুলিয়ে নিল। নীলিমা আয়ানের রুম দেখে বেশ অবাক হয় নীলিমার ২ রুমের সমান হবে আয়ানের রুম। আয়ানের রুমের মাঝে খাট আর তার বাপাশে ওয়াসরুম পাশে পোশাক রাখার জন্য কাভাড তৈরি করা হয়েছে। ডানপাশে আয়ানের বড় করে ছবি বাদিয়ে রাখা হয়েছে। আর একটি রুমে যা যা থাকা প্রয়োজন সকল আসবাপত্র রয়েছে। নীলিমার সকল কিছু পর্যবেক্ষণ করার মাঝে আদিবা নীলিমার জন্য পোশাক নিয়ে এসেছে। ঠিক সেই সময় আয়ানও ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে আসে। ভাবি ভাইয়া চলে এসেছে এখন তুমি তারা তারি ফ্রেশ হয়ে আসো আমি তোমাদের জন্য খাবার নিয়ে আসি আজকে তোমাদের আর নিচে যেতে হবে না খাবার খেয়ে বিশ্রাম নিও এমনেতেও তোমাদের উপর দিয়ে সারা দিন বেশ ধকল গিয়েছে বলেই আদিবা খাবার আনার উদ্দেশ্যে নিচে চলে যায়। নীলিমাও ফ্রেশ হওয়ার জন্য ওয়াশরুমে চলে যায়। নীলিমা বেহিরে এসে দেখে আয়ান রুমের কোথাও নেই তখনই নীলিমার চোখ বারান্দায় যায় আয়ান কারো সাথে ফোনে কথা বলছে। নীলিমার সামান্য ইতস্তত করে আয়ানকে খাবারের জন্য ডাকতে বারান্দায় যায়। নীলিমা ওয়াশরুম থেকে বাহিরে আসার আগেই আদিবা খাবার দিয়ে গিয়েছে। নীলিমা আয়ানকে পিছু থেকে ডেকে উঠে এইযে শুনছেন..? আয়ান পিছু ফিরে নীলিমাকে দেখে ফোন রেখে দেয়। কী মেডাম আমাকে ছাড়া কি আপনার একা থাকতে কষ্ট হচ্ছে নাকি। নীলিমার আয়ানের কথা শুনে রাগ হয় তাই ঝাঝালো শুরে বলে উঠে আপনাকে ছাড়া আমার থাকতে কেন কষ্ট হবে আমি তো মানবতার জন্য খাবার খেতে ডাকতে আসলাম। অওহহহহ বুঝতে পেরেছি..? নীলিমা সামান্য ভুরু কুঁচকে আয়ানকে জিজ্ঞেস করে কি বুঝতে পেরেছেন..? এই যে তুমি তোমার হাজব্যান্ড কে ছাড়া খেতে পারছ না। উফফ আপনার খেতে হবে না বলেই নীলিমা চলে যাচ্ছিল। ঠিক তখনই আয়ান নীলিমার হাত টেনে ধরে নিজের বুকে এনে ফেলে। কিছুক্ষন আয়ান আর নীলিমা একে উপরের দিকে উপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে কিন্তু কিছুক্ষণ পর নীলিমা নিজেকে সাম্লিয়ে নিয়ে আয়ানের কাছে থেকে দূরে সরে আসে। খাবার ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে আমি যাচ্ছি আপনিও আসেন বলেই নীলিমা ভেতরে চলে যায়। আয়ান কিছু একটা ভেবে মুচকি হাসি দিয়ে নিজেও ভেতরে এসে দেখে নীলিমা খাবার নিয়ে বসে আছে। আয়ান নীলিমার পাশ গেসে বসে আর বলে উঠে বউ আমাকে খাইয়ে দেও। কীইইই বলেই নীলিমা দারিয়ে যায়। আয়ান সাথে সাথে নীলিমার হাত ধরে টান দিয়ে আবারও বসিয়ে দেই। আরে আগে আমার কথা তো শুনবে। তোমার বিয়ের কথা শুনে আমি রাগের মাথাই নিজের হাতে আঘাত করি দেখ আমার হাতের কি অবস্থা। আমি নিজে নিজে খেতে পারব না তুমি আমার স্ত্রী তুমি আমার যত্ন না নিলে কে নিবে বলো বউ। নীলিমা দেখলো আয়ানের হাতের অবস্থা সত্যিই খারাপ তাও আয়ানকে খাইয়ে দিতে রাজি হয় না। না আমি আপনাকে খাইয়ে দিতে পাবো না। নীলিমার না সুচুক কথা শুনে আয়ান আবারও নীলিমার উদ্দেশ্যে বলে উঠে আমি গত ২ দিন ধরে ঠিক মত কিছু খাইনি সমস্যা নেই আজকেও না হয় না খেয়ে ঘুমিয়ে যাবো বলেই আয়ান উঠে ধারায়। নীলিমা আয়ানের হাত ধরে থামিয়ে দেই আয়ান পিছু ফিরে তাকিয়ে দেখে নীলিমা তার হাত ধরে আছে। নীলিমা আয়ানের দৃষ্টি অনুসরণ করে নীলিমার আয়ানের হাত ধরে রেখেছে সেই দিকে তাকাই। নীলিমা সাথে সাথে আয়ানের হাত ছেড়ে দিয়ে বলে বসেন আমি খাইয়ে দিচ্ছি। আমি তো আর একজন ক্ষুদার্থ মানুষ কে না খাইয়ে ঘুমাতে দিতে পারি না। আয়ান নীলিমার কথাই সামান্য হেসে নীলিমার পাশে আবারও বসে পরে।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 7 শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন