ফন্ট সাইজ:
থিম:
ভালোবাসা আমার

পর্ব 6

লেখক: শেখ হালিমা

উপন্যাস : ভালোবাসা আমার

লেখিকা : শেখ হালিমা

পর্ব : ৬

নীলিমার অজান্তেই চোখ দিয়ে এক ফোটা পানি গোরিয়ে পরে। নীলিমা বুঝতে পারছে না কেন সে কান্না করছে। সে তো কখন আয়ান কে দেখিনি ভালোও বাসিনি তাহলে তাহলে সে কার জন্য কান্না করছে? কাজী নীলিমাকে আবারও কবুল বলতে বললে পাশ থেকে নীল আহমেদ নীলিমার মাথায় হাত রাখে। নীলিমা বাবার প্রশ্রয় পেয়ে কোন মতে নিজের কান্না গুলো গিলে ফেলে। নীলিমা যেই না নিজেকে শক্ত করে কবুল বলতে যাবে ঠিক তখনই অনেক গুলো মানুষ অস্ত্র হাতে ভেতরে আশে। হুট করে এত মানুষ দেখে ঘরে থাকা মানুষ গুলো ভরকে যায়। এ কী তোমরা কারা? কার অনুমতি নিয়ে ভিতরে এসেছ? নীল আহমেদ কথা লোক গুলোর মাঝ থেকে আয়ান বেরিয়ে এসে বলে উঠে.... আরে শুশুর মসাই.... এরা আর কেউ আমারই গার্ড আমার সাথে বর যাত্রী হয়ে এসেছে।

আয়ানের কথাই নীল আহমেদ সামান্য ভরকে যায় কিন্তু তা মুখে প্রকাশ করে না। মানে তুমি কি বলতে চাইছ..?... ছেলে পক্ষ এত ক্ষণে উঠে দারিয়েছে... নীল আহমেদ এই সব কী হচ্ছে? আমরা কিছু বুঝতে পারছি না।

আয়ান নিঃশব্দে ছেলের বাবার সামনে গিয়ে দারায়। শুনুন আঙ্কেল আমি হচ্ছি নীলিমার আসল বর আর আপনারা নকল... মানে? মজা করছ তুমি আমার সাথে..?... আরে আঙ্কেল মজা করব কেন আমি কি আপ্নের বিয়াই হয়? আরে আমার পুরো কথা টা তো শুনবেন... আমার বাবা আর এই আমার শুশুর মসাই মিলে আমার বউ কে আপনার ছেলের সাথে বিয়ে দিয়ে দাওয়ার কথা ভাবে। কিন্তু আমি হলাম আয়ান হোসেন আমাকে কী বকা বানানো এতই সহজ? আমি যেটা একবার নিজের মনে করি তা আমি অন্য কারো ছুতে তো দূরেই থাক চোখ তুলে তাকাতেও দেই না। আর এটা তো আমার প্রেয়সীর কথা তাহলে তাকে আমি কি ভাবে অন্য কারো হতে দেই। দূরে দারিয়ে থাকা নীলিমার সারা গা শির শির করে উঠে আয়ানের মুখে বউ আর আমার প্রেয়সীর সম্মোধন শুনে।

তো কি যেন বলছিলাম... হ্যাঁ আমার প্রেয়সীকে বিয়ে করতে আসার অপরাধের জন্য আমি চাইলে এখন আপনার ছেলে কে কি করতে পারি তা কল্পনাও করতে পারবেন না এখন বলেন এখানে থাকবেন কি না? আয়ানের ঠান্ডা গম্ভীর কন্ঠের হুমকি শুনে বর পক্ষ আর দারায় না। এখন বাসায় শুধু নীলিমারা আর তাদের কিছু আত্মীয় আছে। আয়ান সবাই কে ডেংগিয়ে নীলিমার সামনে এসে দারায়। নীলিমা আয়ানের দিকে মায়া ভরা দৃষ্টিতে তকিয়ে থাকে কিন্তু আয়ান নিজেকে সামলিয়ে নিয়ে নীলিমার গালে ঠাস করে থাপ্পড় মারে। নীলিমা কিচ্ছু ক্ষণের জন্য নির্বাক হয়ে যায়। নীল আহমেদ আয়ানের এমন কান্ডে ভরকে যায় কিন্তু নিজেকে সামলিয়ে নীলিমার কাছে আসতে গেলে আয়ানের গার্ডরা গিরে ধরে। নীলিমার মা লিমা বেগম মুখে হাত দিয়ে কান্না শুরু করে দেই। আয়ান এতক্ষণ নিজেকে সামলিয়ে রাখতে পারলেও এখন সব কিছু শেষ করে ফেলতে মন চাচ্ছে। আয়ান নিজেকে আর না থামিয়ে নীলিমার সামনে থাকা টি-টেবিলে লাথি মারে যা উল্টে গিয়ে ভেংগে যায়। নীলিমা এতে করে বেশ ভয় পায়। আয়ান নীলিমাকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠে এই আল্লার বান্ধী এই মনে কী ভয় নাই? মরার শখ জাকছে? তুমি আমার না হয়ে অন্য কারো জন্য কিভাবে বউ সাজলি? বল কিছু বলছিস না কেন? আয়ান নীলিমার বাহু ধরে জাকিয়ে বলে বল তুমি কিভাবে অন্যের বউ হওয়ার কথা ভাবলি? নীলিমার এতক্ষণ দম বন্ধ হয়ে আসলেও এখন আয়ানের মার খেয়েও কেন জানি ভালো লাগে ছরিয়ে গিয়েছে। আয়ান নীলিমা কে ছেড়ে দিয়ে কাজী কে বলে উঠে এখন কি আপনাকে বিয়ে পড়ানোর জন্য নিমন্ত্রণ করতে হবে। কাজী আয়ানের কথাই থতমত খেয়ে বিয়ে পড়ানো শুরু করে। পরে না দেখা যায় কাজী কেই মেরে ফেলল। আয়ান নীলিমার বসা সামনের সোফায় গিয়ে বসে। কাজী নীলিমার কাছে বিয়ের কার্যক্রম শেষ করে কবুল বলতে বলে। নীলিমা কারো দিকে না তাকিয়ে নিঃশব্দ একটি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে কবুল বলে ফেলে। নীল আহমেদ মেয়ের দিকে শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। এতক্ষন নীলিমার ভাই নাঈম দূরে দারিয়ে সব কিছু ভিডিও করছিল। যেন সে আগে থেকেই জান্ত যেন এই সব কিছু হবে। কাজী নীলিমাকে রেখে আয়ানের কাছে গিয়ে সব কিছু শেষ করে দেন মররের কথা বলে। বাবা দেন মহর কত লিখবো? আয়ান নীলিমার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকেই বলে আমার কবরের পাশে আল্লাহর বান্ধীর কবর দেওয়া হবে এটা লিখুন..। আয়ানের তাকানো দেখে নীলিমার অস্বস্তি হয়। কাজী আবারও আয়ানকে উদ্দেশ্য করে বলে.. আসলে বাবা দেন মহর পরিশোধ করে মেয়ের কাছে যেতে হয়। আয়ানকে এখন বিরক্ত হতে দেখা গেল যার দুরুন আয়ানের কপালে ২ টা ভাজ পরে। আয়ান শান্ত শুরে বলে তাহলে ৫০ লাক্ষ লিখুন। ৫০ লাক্ষের কথা শুনে সেখান কার সকল মানুষের চোখ কপালে। শাকিব.....! জী বস... আয়ানের কিছু বলার আগেই যেন শাকিব সব কিছু বুজে যায়। শাকিব আয়ানের হাতে চেক বই ধরিয়ে দেয়। আয়ান কোন দ্বিধা ছাড়াই ৫০ লাক্ষ টাকা বসিয়ে সাইন করে দেয়। তার পর সাইন করা কাগজ টি নীলিমার হাতে দিয়ে দেয়। কাজী আয়ান কে উদ্দেশ্য করে আবারও বলে উঠে কবুল বলার জন্য। আয়ান কোন দ্বিধা ছাড়াই কবুল বলে এই বিয়ে সম্পূর্ণ করে। তার পর আয়ান উঠে সকলের উদ্দেশ্যে বলে উঠে মাত্র ১০ মিনিট যা করার এর মধ্যে করবেন আমি আমার বউ নিয়ে চলে যাবো। আয়ানের মুখে আবারও বউ সম্মোধন শুনে নীলিমা চোখ তুলে আয়ানের দিকে তাকায়। তখন আয়ান নীলিমার দিকে তাকিয়ে ছিল। একে অপরের সাথে চোখের মিল হলে নীলিমা তারা হুরু করে চোখ নামিয়ে নেই। তা দেখে আয়ানের অভিব্যক্তি বুঝা যায় না। আয়ান কোন কথা ছাড়াই বাসার বাহিরে চলে যায়। তার পিছু পিছু নীলিমার ভাই নাঈমও যায়। আয়ান রা বাহিরে এসে তাদের গাড়ির সামনে এসে দারায়। নাঈম কে দেখে আয়ান নাঈমের কাছে গিয়ে কাধে হাত রেখে বলে যাক অবশেষে আমি তোমার দুলা ভাই হয়েই গেলাম। নাঈম আয়ানের কথাই সামান্য হাসি দেয়। তার পর এতক্ষণে করা ভিডিও গুলা দেখাতে থাকে।

মূলত নাঈমকে আয়ান বেশ আগে থেকেই নিজের অনুসারী করে ফেলেছিল। যখন নীলিমাকে আয়ান দেখেছে তার পরই নীলিমার সকল ডিটেলস বের করে ফেলে। আয়ান যখন জানতে পারে নীলিমার ১৫ বছর বয়সি একটা ভাইও আছে। তখন আয়ান কোন কিছু না ভেবে নাঈম কে নিজের টপ বানায়। আয়ান যান্ত বাহিয়ে যেতই গার্ড দিয়ে রাখুক না কেন ভিতরের খবর জানতে পারবে না। তাই আয়ান শুরু ত্থেকেই নাঈম কে কাজে লাগিয়ে ভিতরের সকল খোজ রাখে। এমন কি এই বিয়ের কথাও নাঈম আয়ান কে বলে। এই কথা ভাবতে ভাবতে সায়ান সামনে তাকিয়ে দেখতে পাই নীলিমা সহ বাসার সকলে চলে এসেছে। আয়ান কোন কিছু না বলে গাড়িতে চরে বসে। নীলিমা নিজের বাবা কে জরিয়ে ধরে কান্না করতে থাকে। মেয়ে দের জন্ম হয় পরের ঘরে যাওয়ার জন্য এটাই নিয়ম। এই সময় টা প্রত্যেক মেয়ের সময় আসবে। নিজের জন্ম স্থান ছেরে যাওয়া টা কি যে বেদনাময় তা মেয়েরা ছাড়া অন্য কেউ বলতে পারবে না। নীল আহমেদ মেয়ে কে গাড়ি তে বসিয়ে আয়ান কে উদ্দেশ্য করে বলে বাবা আমার এক টা মাত্র মেয়ে দেখে দেখ। আয়ান নীল আহমেদের দিকে তাকিয়ে ঠান্ডা কিন্তু দৃঢ় কন্ঠে বলে কখন কী দেখেছেন মানুষ অক্সিজেন ছাড়া বাচে? আপনার মেয়ে আমার অক্সিজেন যাকে ছাড়া আমি নিঃস্ব।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 6 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন