উপন্যাস : ভালোবাসা আমার
লেখিকা : শেখ হালিমা
পর্ব : ৮
--- আয়ান নীলিমার কথাই সামান্য হেসে নীলিমার পাশে আবারও বসে পরে। হ্যাঁ আমি তো ক্ষুধার্ত কিন্তু খাবারের না অন্য কিছুর 😅
--কিছু বললেন..? -- না " ভাগ্যিস কিছু শুনতে পাইনি, তাহলে আজকে আর খাবার কপালে ঝুটতো না। আয়ান এতো আস্তে কথা টা বলেছে যে পাশে থাকা নীলিমাও কিছু শুনতে পায়নি। আয়ানের ভাবনার মাঝেই,
---নীলিমা আয়ানের মুখের সামনে খাবার তুলে ধরে।
--আয়ান নিঃশব্দে নীলিমার বারিয়ে দেওয়া হাতের দিকে তাকিয়ে, নীলিমার হাতে থাকা খাবার টুকু নিজের মুখে পুরে নিল। সাথে নীলিমার আঙ্গুলে জরে কামরও দিলো। --- নীলিমা সামান্য আর্তনাদ করে আয়ানের মুখ থেকে হাত টি সরিয়ে ফেলে। ততক্ষণে আয়ান নীলিমার হাতে থাকা খাবার টুকু নিজের মুখে পুরে নিয়েছে। আয়ান নীলিমাকে দেখে হেসে উঠে। --নীলিমা আয়ানের কাজে বেশ বিরক্ত হয় কিন্তু কিছু না বলে আবারও খাওয়াতে শুরু করে। খাবার শেষ করে-- আয়ান সব কিছু নিয়ে নিচে রাখার জন্য চলে যায়। -- নীলিমা আয়ান যেতেই বিছানা গুছিয়ে ঘুমানো প্রস্তুতি নেই। -- তার মাঝেই আয়ান এসে হাজির হয়। নীলিমা আয়ানের হাতে বালিস দিয়ে বলে --- আপনার যেখানে মন চাই ঘুমে পরেন, আমি বিছানায় ঘুমাবো। আয়ান বালিশ নিয়ে থ-হয়ে দারিয়ে থাকে। এত খাবার খেয়ে লাভ কী হলো যদি আসল জায়গায় গিয়ে অভক্ত থাকি..? আয়ান কথা টা এত আস্তে বলাই নীলিমা কিছু শুনতে পায় না তাই -- নীলিমা আয়ানের উদ্দেশ্য করে আবারও বলে উঠে "কিছু বললেন, ---- হ্যাঁ... না.... মানে আমি কী বলব..? নীলিমার কথাই আয়ানের ধ্যান ভাঙ্গে। --- তাহলে এখানে দারিয়ে আছেন কেন যান..?!
---- হ্যাঁ.. যাচ্ছি.. আয়ান দোরজার কাছে গিয়েও আবার ফিরে আসে..!
-- আবার কী হলো কিছু বলবেন..?
-- না মানে আমি বাহিরে গিয়ে ঘুমালে তো বাসার মানুষ তা ভালো ভাবে নিবে না..! তাই আমি সোফায় ঘুমে পরি।
-- নীলিমা আয়ানের কথার ধরন দেখে বেশ অবাক হলো.. নীলিমা মনে মনে বলে উঠে এই লোক আমাকে দেখে কী ভয় পাচ্ছে নাকি..? এই ভাবে কথা বলছে কেন..? আমি কী এই লোককে খেয়ে ফেলবো নাকি..?
--- নীলিমার ভাবনার মাঝে আয়ান আবারও নীলিমাকে ডেকে উঠে.. কী মেডাম কী ভাবছেন..?
-- না " কিছু না.. আপনার যেখানে খুশি ঘুমাতে পারেন।
--- নীলিমার কথা শুনে আয়ান খুশি হয়ে যেই না বলতে যাবে তাহলে আমি বিছানায় ঘুমাবো...? ---- ঠিক তখনই নীলিমা আয়ানের উদ্দেশ্য করে বলে উঠে বিছানা বাদ দিয়ে ঘুমাবেন।
___ আয়ানের হাসি হাসি মুখ টা সাথে সাথে চুপসে গেলো... --- নীলিমা কোন মতে নিজের হাসি আটকে বিছানায় ঘুমিয়ে পরে। --আয়ান কিছুক্ষণ দারিয়ে থেকে নিজেকে সামলিয়ে নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করে বিছানায় থাকা চাদোর নিয়ে সোফায় ঘুমিয়ে পরে। --- নীলিমা আয়ান ঘুমিয়েছে কী না তা দেখে নিজেও চাদোর নিয়ে ঘুমিয়ে পরে। আয়ান মনে মনে ভেবে রাখে আজকে প্রথম বলে নীলিমাকে ছার দিবে। কালকে থেকে সে নীলিমার সাথেই থাকবে। আজকে নীলিমাকে সব কিছু মানিয়ে নেওয়ার জন্য সময় দেওয়া হলো । আয়ান না চাই কী নীলিমা কখন আয়ান কে তার পাশে থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারতো। আয়ান না চাইলে তার রব ব্যতীত কেউই নীলিমার পাশে থেকে আয়ানকে দূরে সরিয়ে রাখবে। আয়ান ভাবলো কালকে আয়ান নিজের অধিকার ঠিকই নিজের করে নিবে।
--- সূর্য পূর্ব আকাশে নিজের উপস্থিত জানান দিচ্ছে আর নতুন এক সকালের আগমন ঘটেছে। ব্যাস্ত শহরে যে যার কাজে ব্যাস্ত। নীলিমা রোজ কারের মত আজকেও সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে পরেছে। নীলিমা ঘুম থেকে উঠে বিছানা গুছিয়ে ফ্রেশ হওয়ার জন্য ওয়াশরুমে যায়। ফ্রেশ হয়ে এসে নীলিমা নিচে নেমে আসে। নীলিমা দেখতে পাই বাসার কেউই ঘুম থেকে এখন উঠেনি। নীলিমা মনে মনে বলে উঠে বড় লোক দের বেপার সেপারই আলাদা। নীলিমা চিচিং রুম গিয়ে দেখতে পাই বাসার স্টাফরা রান্নার কাজে ব্যাস্ত। এত সকাল সকাল হোসেন ভিলার কেউই ঘুম থেকে উঠে না তাই এই বাসার একমাত্র ছেলের বউকে (নীলিমাকে) দেখে বাসার সকল স্টাফরা বেশ অবাক হয়। সকলে তারা হুরু করে নীলিমার কাছে গিয়ে বিভিন্ন কথা জিজ্ঞেস করতে থাকে -- যেমন -- মেডাম আপনার কিছু লাগবে নাকি..? মেডাম কোন কিছুর প্রয়োজন হলে আমাদেরকে বলতে পারতেন..! আপনি কষ্ট করে নিচে কেন এসেছেন..? আরো অনেক কিছু... --- নীলিমা বিরক্ত হয়ে সামান্য উচ্চ শব্দে বলে উঠে উফফফফ আপনারা কি শুরু করেছে..? থামেন আমার কিছু লাগবে না.. 😮💨 আমি আজকে সকলের জন্য রান্না করবো। ---স্টাফরা সকলে এক সাথে উচ্চ শব্দের চেঁচিয়ে উঠে -- কীইইইইইই..? --- এত অবাক হওয়ার কী হয়েছে আমি বলেছি আজকে আমি সকলের রান্না করবো.. --মেডাম আপনি কী বলছেন ছোট সাহেব যদি জানতে পারে আপনি রান্না করেছেন তাহলে আমাদের গরদান নিয়ে নিবে। -- চুপ আমার কথা শুনো আমি রান্না করেছি শুনলে তোমাদের ছোট সাহেব হাত চেটে পুটে খাবে। তোমাদের কিছুই বলবে না আর এত ভয় পাওয়ার কী আছে আমি আছি না আমি সব সামলে নিব..
---কিন্তু...
--আর কোন কিন্তু না স্টাফদের আর কিছু বলতে না দিয়ে নীলিমা বলে উঠে.. আর কারো কোন কথা আমি শুনতে চাই না.. আমাকে রান্না করতে না দিলে আমি নিজে তোমাদের নামে আয়ান কে বলে আসবো.. নীলিমার কথাই সকল স্টাফরা সামান্য ভরকে গিয়েও নিজেদের সামলিয়ে এই কুল অই কুল খুজে না পেয়ে নীলিমার কথাই সকলে রাজি হয়ে যায়। নীলিমা কমরে আচল গুজে সকল রান্না শেষ করে। নীলিমা বেশ ভালোই রান্না জানে আর নীলিমার রান্নাও বেশ ভালো হয়। নীলিমা সকল রান্না শেষ করে সকলের ঘুম থেকে ঊথার জন্য অপেক্ষা করে। কিন্তু যখন কেউ ঘুম থেকে উঠে না তখন নীলিমা নিজের রুমে গিয়ে আয়ানকে ঘুম থেকে জাগানোর জন্য সিদ্ধান্ত নেই। যেই ভাবা সেই কাজ নীলিমা রুমে যায় আয়ানকে জাগানোর উদ্দেশ্যে কিন্তু রুমে গিয়ে দেখতে পায় আয়ান তখন ঘুমিয়ে আছে। জানালা দিয়ে আসা সূর্যের জিল এসে আয়ানের মুখের উপরে পরেছে তাতে আয়ান বেশ বিরক্ত হচ্ছে। আয়ান তার ভ্রু কোচকে রেখেছে। নীলিমা আয়ানকে জালানোর জন্য জানালার পরদা সরিয়ে দেই এতে করে সূর্যের জিল এখন সরা সরি আয়ানের মুখের উপর পরছে যার দুরুন আয়ানের ঘুম ভেঙ্গে যায়। আয়ান বিরক্ত হয়ে উঠে বসে। কালকে সারা রাত আয়ানের ঘুম হয়নি যার জন্য আয়ানের মাথা টা বেশ ধরেছে। আয়ান নিজের মাথার চুল খামছে ধরে বসে থাকে। নীলিমা আয়ান কে এই ভাবে মাথা ব্যাথার জন্য বসে থাকতে দেখে মনে মনে বেশ অনুসূচনা হয়। কালকে তো নীলিমার ইচ্ছে করেই আয়ানকে বিছানায় ঘুমাতে দেয়নি। নীলিমা আয়ানের পাশে গিয়ে আয়ানের মাথাই হাত রাখে আয়ান চুকিতে নিজের মাথা উপরে তুলে। সাথে সাথে নীলিমার চোখের সাথে আয়ানের চোখের মিলন ঘটে। এতে করে নীলিমা বেশ অপ্রস্তুত হয়ে পরে। কিন্তু ক্ষণিক মহূর্তেই নিজেকে সামলিয়ে নিয়ে নীলিমা আয়ানের মাথাই চেল মালিশ করে দেই। যার দুরুন আয়ানের বেশ ভালো লাগে। আয়ানকে ছেড়ে নীলিমা সরতেই যাবে ঠিক তখনই আয়ান নীলিমার হাত ধরে নিয়ে নিজের পাশে বসিয়ে দেয়। আয়ান নীলিমার কাদে নিজের মাথা রেখে বলে উঠে তুমি কী আমার উপর রাগ করে আছো ..?
---কেন..? হঠাৎ এই প্রশ্ন করার কারণ..? আর আপনার মনেই কেন হলো আমি রাগ করে আছি..?
-- ওওওও তার মানে তুমি আমাকে পেয়ে খুশি..?
-- আমি সেই কথা কখন বললাম..? আমি সব কিছু আমার ভাগ্য মনে করি। আমার সাথে যা হবে, সব কিছুই আমার তাকদিরে লেখা হয়েছে বলেই হচ্ছে। আর আমি আমার তাকদিরকে মেনে নিতে ব্যাধ।
-- আয়ান নীলিমার কথা বুঝতে পেরেছে তার বোঝার ভঙ্গিতে মাথা নারায়।