উপন্যাস : ভালোবাসা আমার
পর্ব : ১০
লেখিকা : শেখ হালিমা
- আসলে আমি আর আদিবা মলে যেতে চাচ্ছি..।
- কী কোথায় যাবে..?
- নীলিমা আবারও মৃধু শুরে বলে.. মলে..।
- আয়ান এতক্ষণ নীলিমার সব মেনে নিলেও৷ মলে যাওয়ার বেপার নামতে নারাজ।
- আদিবাকে একা একা মনে যাওয়ার অনুমতি কে দিয়েছে..?
- নীলিমা বুঝতে পারে আয়ান রাজি হবে না তাই নীলিমা মনে মনে একটি দুষ্টু ফন্দি আটে।
- নীলিমা কিছুটা আয়ানের সামনে এসে আয়ানের বুকে আংগুল দিয়ে আকি বুকি করতে থাকে। আর বলে দেখুন না আমাদের বিয়ে টা তো হুট করে হয়ে গেলো। আমার তো তেমন কিছু কেনা কাটা করা হয়নি। তাই আমারও কিছু কিনতে যেতে হবে। তাই বলি কী আমরা যায়। তারা তারি চলে আসবো প্রমিজ।
- নীলিমার এত কাছে আসতে দেখে আয়ানের বেশ ভালোই লাগে কিন্তু নীলিমার মুখে একা একা মলে যাওয়ার কথা শুনে বেশ বিরক্ত হয়। বিরক্ত ভাব মুখে ফুটিয়ে নীলিমার উদ্দেশ্যে আয়ান বলে - আমি তোমাদের একা কোথাও যেতে দিবো না। প্রয়োজন হলে আমি নিজে তোমাদের নিয়ে যাবো।
- কিন্তু আপনার না কাজ আছে..?
- হ্যাঁ তো.. কাজ শেষ করে নিয়ে যাবো।
- আসলে আমার জিনিস গুলো অনেক প্রয়োজন আমার এক্ষুনি লাগবে। প্লিজ আমরা যাবো আর আসবো কোন দুষ্টুমি করব না।
- নীলিমার এত আকুতি মিনুতি দেখে অবশেষে আয়ান রাজি হয়ে যায়। ঠিক আছে যেতে দিব কিন্তু আমার একটা শর্ত আছে
- ঠিক আছে বলুন আপনার কী শর্ত আছে..?
- আমি যা বলব তাই মানতে হবে আর বাসার গাড়ি নিয়ে যেতে হবে।
- নীলিমা বেশি কিছু না ভেবে আয়ানের শর্তে রাজি হয়ে যায়। ঠিক আছে আপনি যা বলবে তাই হবে।
- আয়ান নীলিমার কথার বিপরীতে কিছু বলতে যাবে তার আগেই মুঠোই থাকা ফোনটি জংকার তুলে বেজে উঠে।
-উপাস থেকে কী বললো নীলিমা তা শুনলো না কিন্তু আয়ান যে বেশ রেগে গিয়েছে তা বুঝতে পারে।
- নীলিমা কিছু বলার আগেই আয়ান বলে উঠে আমি অফিসে জাচ্ছি আমার কিছু রাজ আছে আস্তে দেরি হতে পারে। তুমি আর আদিবা তারা তারি বাসায় চলে আসবে। বলেই আয়ান নিজের উস্ট নিয়ে নীলিমার কপালে গারো করে চুম্বন আকে। নীলিমাকে আর কিছু বলার সুজক না দিয়ে আয়ান গট গট পায়ে কক্ষ ত্যাগ করে।
- ভাবিই ভাবি...
- হ্যাঁ বলো..
- ভাইয়া কী বললো..?
- তোমার ভাইয়া যেতে বলেছে।
- ভাইয়া রাজি হয়েছে..
- হ্যাঁ কিন্তু..
- কিন্তু কী ভাবি..
- তোমার ভাইয়া বাসার গাড়ি নিয়ে যেতে বলেছে।
- উওওও।তা নিয়ে তুমি চিন্তা করো না। আমি সব মেনেজ করে নিবো।
- ঠিক আছে তাহলে তৈরি হয়ে আসি।
- নীলিমা আর আদিবা তৈরি হয়ে এক সাথে নিচে নামে।
- আংকেল গাড়ি বের করেন আমরা মার্কেট যাবো।
- ঠিক আছে আম্মা।
- বলেই ড্রাইভার গাড়ি বের করতে যায়।
- একটি বন্ধ কারখানায় অনবরত একজন লোকের আর্তনাদ বেসে আসছে।
- আয়াহহহ আমাকে ছেরে দিন। আমি সব বলে দিব। আমাকে আর মারবেন না।
- হুম এখন লাইনে এসেছিস তা বলো তোকে কে পাঠিয়েছিলো..? আমাদের অফিসের সকল খবর পাচার করার জন্য..?
- আমাকে লিমন সাহেব পাঠিয়েছিল। আপনি নাকি তার মেয়েকে না বিয়ে করে অন্য মেয়েকে বিয়ে করেছেন। তাই আপনাদের উপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আমাকে আপনাদের অফিসে পাঠিয়েছিল। আপনাদের সম্পর্কে সকল খবর নেওয়ার জন্য। আপনি বা আপনার পরিবারের সবাই কখন কী করে সব কিছুর খবর তাকে দেওয়া আমার কাজ ছিল।
- শাকিব আমার বন্দুক টা দে।
- না না আমাকে মারবেন না আমি তো সব বলেই দিয়েছি।
- তোকে বাচিয়ে রাখলে তুই এখান কার সব খবর আবারও তাকে পাচার করবি আর আমি তা চাই না। আমি আমার শত্রুকে কখন বাচিয়ে রাখি না। ঠাস..
- শাকিব লোকটাকে সরিয়ে ফেল।
- হুট করে আয়ানের ফোনটি আবারও বেজে উঠে। ওপাশ থেকে কী বললো তা বোঝা যায় না কিন্তু আয়ানের মুখে ভয় আর রাগের ছাপ ফুটে উঠে। আয়ান কিছু না বলে গাড়ি নিয়ে বের হয়ে যায়।
- আর শাকিব তার লোকদের বাকি কাজ শেষ করতে বলে নিজেও আয়ানের পিছু পিছু যায়।
- নীলিমা আর আদিবা যমুনা ফিউচার পার্কের সাথে এসে দারায়।
- নীলিমা এর আগে এত বড় মলে শপিং করেনি। তাই বেশ আগ্রহ নিয়ে এসেছে।
- ভাবি চলো। ওও দারাও.. আংকেল আসলে আম্মু নানু বাসায় যাবে তাই তোমাকে চলে যেতে বলেছে।
- কিন্তু আম্মা আপনাদের ছেড়ে গেলে আয়ান বাবা তো আমার উপর রাগ করবে।
- উফফ আংকেল আপনিকি নিজ ইচ্ছায় জাচ্ছেন নাকি? আপনাকে তো আম্মুই যেতে বলেছে।
- ঠিক আছে আম্মা আমি যায় তাহলে আপনেরা সাবধানে থাইকেন।
- আচ্ছা আংকেন।
- তুমি আংকেলকে চলে যেতে বললে কেন..?
- উফফ ভাবি চলো তো একা একা ঘুরতে আর রাস্তাই দারিয়ে ফুসকা খেতে বেশ মজা। আর আংকেল থাকলে আমরা তা করতে পারব না। এখন চলো
- নীলিমার আর কিছু না বলে আদিবার সাথে সামনে পা বারায়।
- উফফ আজকে অনেক কিছু কেনা - কাটা হয়েছে। চলো ভাবি এখন ফুসকা খেয়ে বাসায় যায়।
- উফফ আদিবা আজকে না চলো আরেকদিন আসবো।
- না ভাবি ভাইয়া আর আসতে দিবে না আজকেই খেয়ে যায়।
- আদিবার আগ্রহ দেখে নীলিমা আর মানা করতে পারে না।
- তারা দুজলে মল থেকে কিছু টা দূরে দারিয়ে থাকা ফুসকার দোকানে যায়।
- আদিবা দোকান দারের উদ্দেশ্য করে বলে.. মামা ২ প্রেট ফুসকা দিয়েন তো।
- একটু দারান আমি বানিয়ে দিচ্ছি।
- ঠিক আছে আমরা অই দিকে আছি। আপনার হলে ডাক দিয়েন। -ভাবি চলো আমরা রাস্তার অই পাশে যায়।
- না আদিবা আমি একটু বসি।
- উফফ ভাবি তুমি কী আর এইভাবে একা রাতের শহর দেখতে পারবে..?চলো তো। আদিবা একপ্রকার জোর করে নীলিমাকে টেনে নিয়ে আসে।
- আদিবা আগে রাস্তা পার হলেও নীলিমা রাস্তা পার হতে তেমন পারে না তাই নীলিমা আদিবার থেকে কিছুটা পিছিয়ে পরে। ঠিক সেই সময় সামনে থেকে একটি বিশাল ট্রাক আসে।
- আয়ায়ায়ায়া...
- আদিবা নীলিমার চিৎকার শুনে তারা হুরু করে পিছে ফিরে। ভাবিইইইই বলেই আদিবা দৌড়ে রাস্তাই পরে থাকা নীলিমার দিকে যায়।
-ঠিক সেই সময় গাড়ি নিয়ে আয়ানও পৌঁছে যায়। তখন আয়ানকে একজন লোক ফোন করে বলে আজকে তোর বোন আর বউকে আমার হাত থেকে কেউ বাচাতে পারবে না। যা শুনে আয়ান পাগলের মতো গাড়ি চালিয়ে ছুটে আসে।
- নীলিমার মাথা থেকে অনবরত রক্ত গড়াচ্ছি। নীলিমার জামা পুরো টা রক্তে মাখা মাখি হয়ে গিয়েছে। ট্রাক টি পুরো পুরি ভাবে নীলিমার উপর দিয়ে না গেলেও নীলিমার মাথার সাথে আগাত লাগে। যার জন্য নীলিমা মাথাই বেশ বাজে ভাবে আগার পায়।
- ভাবি ভাবি চোখ খুলো..
- আদিবাকে সরিয়ে আয়ান পাগলের মতো নীলিমাকে ডাকতে থাকে। জান.. জানপাখি.. এই পাখি চোখ খুলো.. জান.. অজান..জান চোখ খুলো.. এই বউ.. বঊ.. তুমি ছাড়া আমি কীভাবে থাকবো.. বউ.. দেখো আমার নিঃশ্বাস আঁটকে আসছে। বউ ওবউ.. চোখ খুলো আমি মরে জাচ্ছি তো.. বউউউউ.. বলতে বলতে আয়ান নীলিমার পাশে গেন হারায়।
- শাকিব এসে আয়ান আর নীলিমাকে এই ভাবে রাস্তাই পরে থাকতে দেখে আঁতকে উঠে। পাশে কান্দনরত আদিবাকে কিছু জিজ্ঞেস না করেই বলে উঠে মিস- আদিবা এখন কান্না করার সময় নয়। বসকে আর মেমকে আমার দ্রুত হসপিটালে নিয়ে যেতে হবে। আমি বসকে গাড়িতে তুলছি বলেই আয়ানকে গাড়িতে তুলে নেয়। আর নীলিমাকে আদিবার সাহায্য গাড়িতে তুলে নেয়।