উপন্যাস : ভালোবাসা আমার
লেখিকা : শেখ হালিমা
পর্ব : ৯
-- আয়ান নীলিমার কথা বুঝতে পেরেছে তা বোঝার ভঙ্গিতে মাথা নারায়।
- নীলিমা আর কিছু না বলে আয়ানকে ফ্রেশ হওয়ার জন্য বলে নিচে চলে যায়।
-নীলিমা চলে যেতেই আয়ান ফ্রেশ হওয়ার জন্য ওয়াশরুমের চলে যায়। আয়ান সকাল সকাল গোসল করে একে বারে খাবার খেয়ে অফিসের জন্য চলে যাবে। এটা আয়ানের প্রতিদিনের কাজ।
-ততক্ষনে বাসার সকলেই ফ্রেশ হয়ে নিচে খাবারের জন্য চলে এসেছে। সকলেই এত খাবার দেখে তেমন প্রতিক্রিয়া দেখাই না কারন এই সব খাবার প্রতিদিনই রান্না করা হয়। কিন্তু বাসার সকলে বেশ অবাক হয় যখন শুনতে পায়। এই সকল খাবার নীলিমা রান্না করেছে। নীলিমা রান্না করেছে শুনে আনোয়ার হোসেন সাথে সাথে খাবে না বলে জানিয়ে দেয়। যা শুনে নীলিমার বেশ মন খারাপ হয়।
- নীলিমা রান্না করেছে শুনে আদিবা কারো কথার পরোয়া না করে একটু একটু করে সকল খাবার টেস্ট করে। আদিবা কিছু না বলে দারিয়ে থাকে।
-তা দেখে নীলিমা জিজ্ঞেস করে কি হয়েছে আদিবা খাবার মনে হয় মজা হয়নি..?
- আদিবা চেচিয়ে নীলিমাকে জরিয়ে ধরে.. উফফফফ ভাবি কি রান্না করেছো । বলেই নীলিমাকে জরিয়ে ধরে গালে চুমো দেয়।
- ঠিক সেই সময় আয়ান নিচে নামে। আদিবাকে নীলিমাকে জরিয়ে গালে কিস করতে দেখে সাথে সাথে গট গটিয়ে নিচে নেমে নীলিমা টান দিয়ে নিজের কাছে নিয়ে আসে। আর আদিবাকে উদ্দেশ্য করে বলে। এত চুমু খেতে মন চাইলে বল তকে বিয়ে দিয়ে দেই তখন যত পারিস নিজের জামায়কে চুমু খাস আর জরিয়ে ধরিস। আমার বউর কাছে থেকে একশ হাত ধুরে থাকবি। আর যদি দেখি তোকে আমার বউকে জরয়ে চুমু খেয়েছিস তাহলে বিয়ে দিয়ে দূরদেশে পাঠয়ে দেবো।
- আয়ানের মুখে বিয়ের কথা শুনে আদিবার রাগ মাথায় চরে বসে। আমি কী তোমার বউ কে খেয়ে ফেলবো নাকি..? আর আমাকে বিয়ে দিলে আমি এখানেই থাকব আমি ভাবিকে ছেরে কোথাও যাবো না। বেশি করলে রাতে গিয়েও তোমার আর ভাবির মাঝে গিয়ে ঘুমিয়ে পরবো।
- এমনিতেই আমার বউ আমাকে নিজের কাছে, এমনকি নিজের পাশে খাটের একপাশেও জায়গা দেয় না। এ নাকি আমাদের মাঝে গিয়ে ঘুমাবে..?একে তো বিয়ে দিয়ে বিদায় করতেই হবে নাহলে আমার বউ কে আর আমার করে পেতে হবে না।
- কী হলো কি ভাবছো..? যা বলার বলছো না কেন..? মনে মনে বলছো কেন ..?
- আয়ান আর আদিবার কথা শুনে নীলিমা বেশ লজ্জা পেলো। মনে মনে আয়ানকে বেশ গালি দিতে থাকে। এই নির্লজ্জ লোক কখনই ভালো হবে না। মানলাম আদিবা না হয় ছোট তাই বলে কী এই লোকের এমন করতে হবে..? যত্তসব এমন ভাব যেন তার একাই বউ আছে আর কারো নেই বলেই নীলিমা মুখ বাকালো।
- তোর সাথে আমি অযথা কথা বলতে চায় না। সর খাবার খেতে দে আমাকে আমার অফিস আছে। আমি অযথা তোর মতো খাবার ধ্বংস করি না। আমার অনেক কাজ আছে।
- আয়ানের কথা শুনে আদিবা আরো বেশি রেগে যায়। তাই খাবারের টেবিলে বসতে বসতে বলে উঠে। আমার যত ইচ্ছা খাবার নষ্ট করব তোমার কী..? আমি আমার বাবার টাকাই খাবার খাই হুউউউউ।
- সকলেই খাবারের টেবিলে বসলেও আনোয়ার হোসেন বসে না। আনোয়ার হোসেনকে বসতে না দেখে
- আয়না বেগম বলে উঠে.. তোমার আবার কী হলো খাবার না খেলে চলে যাও। তোমার জন্য কেউ বসে নেই। আর ইচ্ছে হলে নিজের খাবার নিজে রান্না করে খাবে।
-আয়না বেগমের কথাই আনোয়ার হোসেন মুখ থমথমে করে খাবারের টেবিলে বসে।
- এই পৃথিবীর সকল পুরুষই নিজের স্ত্রীর কাছে ভিতু বিড়াল। তাই আনোয়ার হোসেন যানে কিছু বললেই তার খাবার বন্ধ।
- আনোয়ার হোসেন বসতেই নীলিমা সকলকে খাবার বেরে দেয়। আর উৎসুক হয়ে খাবার কেমন হয়েছে তার জানার জন্য দারিয়ে থাকে।
- নীলিমাকে দারিয়ে থাকতে দেখে। আয়না বেগম নীলিমাকেও খাবার খাওয়ার জন্য বসতে বলে। নীলিমা সামান্য ইতস্তত করলেও দ্বিতীয় বার যখন আয়ান খাবারের জন্য বসতে বলে তখন কোন দ্বীধা ছাড়ায় খেতে বসে যায়।
- সকলেই খাবার মুখে দেয়। সকলেই বেশ অবাক হয়। আনোয়ার হোসেন ভেবেছিল খাবার তেমন মজা হয়নি তা নিয়ে নীলিমাকে কিছু কথা শোনাতে পারবে। কিন্তু তার চিন্তার মাঝে এক বালতি পানি ডেলে। নীলিমার খাবার বেশ মজা হয়েছে। নীলিমাকে কিছু না বললেও মনে মনে আনোয়ার হোসেন বেশ প্রসংশা করে। আবারও নীলিমার উপর মুগ্ধ হয়।
- আজকে খাবার রান্না করেছে কে..? এটা তো আম্মু তোমার হাতে রান্না না তাহলে..? আয়ানের কন্ঠর সুর শুনে আয়ানের দিকে সকলে তাকায়। আয়ানের কথার জবাবে
- আয়না বেগম বলে আজকে আমার বউমা রান্না করেছে।
- নীলিমা রান্না করছে শুনে আয়ান তেমন প্রতিক্রিয়া দেখাই না। কিন্তু নীলিমা ভেবেছিল আয়ান তার প্রসংশা করবে। কিন্তু তা না হওয়ায় নীলিমার সামান্য মন খারাপ হয়। কিন্তু নীলিমা তা বুঝতে না দিয়ে নিঃশব্দে মাথা নিচু খাবার খেতে থাকে।
- আয়ান নীলিমার ভাব ভুংগি দেখে সামান্য হাসে কিন্তু তা সকলে দেখার আগেই নিজেকে সামলিয়ে নেয়।
- সকলেই খাবার খেয়ে নিজ নিজ কাজে চলে যায়।
- ভাবি... ভাবি...ভাবি..কোথায় তুমি .. ভাবি..
-আদিবার অনবরত ভাবি ডাক শুনে নীলিমা নিজের রুম থেকে বাহিরে আসে। খাবার খেয়ে বাসায় কোন কাজ ছিলো না বলে নিজের রুমে চলে যায়। কিন্তু এতখন পরে কেন আদিবা এই ভাবে ডাকছে তা জানার জন্য নিচে আসে।
- ভাবি কখন থেকে তোমাকে ডাকছি..? তুমি শুনতে পাওনি..?
- আসলে আমি ওয়াসরুমে ছিলাম। তাই আসতে দেরি হয়েছে।
- আচ্ছা বাদদেও আমি যা বলতে এসেছি আমি আর তুমি আজকে বিকেলে মলে যাবো। কিন্তু কেনা কাটার জন্য আর ঘুরতে। তুমি আর আমি এক সাথে ঘুরবো আর কেনা কাটা করব। অনেক মজা হবে। আমি আর কোন কথা শুনতে চাই না তুমি আমার সাথে যাবে ব্যাস। আদিবা নীলিমার আর কোন কথা না শুনে আর বলতে না দিয়ে নিজের রুমে চলে যায়।
- পিছু থেকে নীলিমা ডাকতে থাকে আদিবাকে.. আদিবা আরে শোনততোমার ভাইয়াকে না বলে আমি কিভাবে যাবো আদিবা.. উফফফফ এখন আমি কি করব..? দুই ভাই - বোন একই হয়েছে। কিন্তু এই নির্লজ্জ লোক কে কিভাবে বলব। আর না বলে গেলে যদি রাগ করে। না বাবা থাক যেয় রাগ দেখা যাবে যেখানে গিয়েছি সেখান থেকে তুলে আনবে।
- আয়ান অফিসের কিছু স্টপদের সাথে অফিসের কিছু কাজ নিয়ে কথা বলছিল। ঠিক সেই সময় নীলিমার ফোন আসে। আয়ান নীলিমা ফোন এসেছে দেখে নিজের অজান্তেই মুচকি হাসি ফুটে আয়ানের মুখে। আয়ান ফোন রিসিভ করে কানে নিতেই শুনতে পায়। রিন রিনের কন্ঠের সালাম। আয়ান সালামের জবাব দেই। তার পর বেশ কিছুক্ষণ দুপাশে নিরবতা চলে।
- নীলিমা ইতস্তত করে কি বলবে খুজে পায় না। নীলিমা আবারও হ্যালো বলতেই..
-আয়ান বলে উঠে কী বলবে বলো আমি শুনছি।
- আসলে আমি
- হুমমমমম বলো তুমি..?
-উফফফ আপনি আমার কথার মাঝে কথা বলছেন কেন..?
- আচ্ছা ঠিক আছে আর বলবো না।
- উফফ আবারও.. এই বার নীলিমা রেগে যায়।
- আচ্ছা আর বলব না তুমি বলো আমি শুনছি।
- নীলিমা ভয়ে নাকি ইতস্তত করে বলতে পারছে না সেটা নীলিমা নিজেও বলতে পারবে না। নীলিমা লম্বা একটা নিঃশ্বাস ছেড়ে আয়ানকে বলে... আসলে আমি আর আদিবা মলে যেতে চাচ্ছি..?।