উপন্যাস: আমার ডাক্তার বাবু
🖤 লেখিকা: মাহিয়া ইসলাম হিমি 🖤
সকাল ৭টা ৪৫ মিনিট |
হিমুর কথা শুনে নিলয় এবার ফোন থেকে চোখ তুলে তাকাল।
নিলয়: — কী বললি? আমি লোভী?
হিমু কোমরে হাত দিয়ে বলল—
হিমু: — তা না হলে সকাল সকাল কেউ নাশতার লোভে অন্যের বাড়িতে আসে?
নিলয়: — আরে বাবা! তোর বাড়িতে আসাটাই আমার ভুল হয়েছে। এখন দেখছি নাশতা খাওয়ার আগেই অপমান শুরু হয়ে গেছে।
হিমু: — তাহলে চলে যান। কে আপনাকে আটকে রেখেছে?
নিলয়: — যাব তো! তবে যাওয়ার আগে তোর মায়ের হাতের পরোটা খেয়ে যাব।
হিমু: — অসহ্য!
নিলয় হেসে ফোনটা পাশে রেখে দিল।
নিলয়: — এই যে সুন্দরী, পড়াশোনা কেমন চলছে?
হিমু: — ভালো।
নিলয়: — সত্যি বলছিস?
হিমু: — হ্যাঁ তো!
নিলয়: — তাহলে গতকাল জিসান যে তোকে পড়ার জন্য এতগুলো বই দিয়ে গেছে, সেগুলো শেষ করেছিস?
হিমু একটু থমকে গেল।
হিমু: — আপনি কীভাবে জানলেন?
নিলয়: — জিসান ফোন করে বলেছে, তোর পড়াশোনার খবর নিতে।
হিমু মুখ বাঁকিয়ে বলল—
হিমু: — উফ! ওই জিসান ভাইটা আমার পেছনে গোয়েন্দা লাগিয়ে রেখেছে মনে হয়!
নিলয়: — গোয়েন্দা লাগানোর দরকার কী? তোর পড়ার অবস্থা তো এমনিতেই সবাই জানে।
হিমু: — নিলয় ভাই!
নিলয়: — জি, মহারানি?
হিমু: — আপনি আমার সঙ্গে কথা বলবেন না।
নিলয়: — বেশ! কথা বলব না। তবে একটা কথা বলি?
হিমু: — কী?
নিলয়: — তোর মুখটা রাগ করলে একদম টমেটোর মতো লাগে!
হিমু: — আমি আপনাকে একদম পছন্দ করি না!
নিলয়: — আমিও তোকে খুব একটা পছন্দ করি না। কিন্তু কী আর করা, ছোটবেলার বন্ধুত্ব বলে কথা!
হিমু কিছু বলার আগেই রান্নাঘর থেকে হালিমা বেগমের ডাক এল।
হালিমা: — হিমু! মা, নিলয়কে নিয়ে আয়। নাশতা তৈরি।
নিলয় সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়াল।
নিলয়: — এই তো! অবশেষে জীবনের আসল ডাকটা এসেছে।
হিমু: — আপনার শুধু খাওয়ার চিন্তা!
নিলয়: — অবশ্যই। খালি পেটে বন্ধুত্ব হয় না।
হিমু হাসতে হাসতে সামনে এগিয়ে গেল।
সকাল ৮টা |
ডাইনিং টেবিলে সবাই নাশতার জন্য বসেছে। হালিমা বেগম পরোটা, ডিম ভাজি আর মিষ্টি সাজিয়ে দিচ্ছেন।
নিলয় বেশ আগ্রহ নিয়ে খাবারের দিকে তাকিয়ে আছে।
হালিমা: — নিলয় বাবা, আরও একটা পরোটা দেব?
নিলয়: — জি, আন্টি। আপনার হাতের রান্না খেলে না বলতে ইচ্ছা করে না।
হিমু পাশ থেকে বলে উঠল—
হিমু: — আম্মু, ওকে আর দিয়ো না। ওর পেটের কোনো তল নেই।
নিলয়: — আন্টি, দেখেছেন? আপনার মেয়ে আমাকে খেতেও দেবে না!
হালিমা হেসে ফেললেন।
হালিমা: — আরে, খেতে দে না মা। কত দিন পর এসেছে!
হিমু মুখ বাঁকিয়ে নিজের প্লেটে মনোযোগ দিল।
এমন সময় নিলয়ের ফোন বেজে উঠল।
স্ক্রিনে জিসানের নাম ভেসে উঠতেই নিলয় কল রিসিভ করল।
নিলয়: — হ্যালো, ভাই!
জিসান: — কোথায় তুই?
নিলয়: — হিমুদের বাসায়। নাশতা করছি।
জিসান: — ভালো। হিমু কী করছে?
নিলয় হিমুর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল।
নিলয়: — আপনার আদরের বোন নাশতা করছে। তবে পড়াশোনার কথা বলতেই আমার ওপর রাগ করেছে।
ওপাশ থেকে জিসানের গম্ভীর কণ্ঠ শোনা গেল—
জিসান: — ফোনটা ওকে দে।
নিলয় ফোনটা হিমুর দিকে বাড়িয়ে দিল।
নিলয়: — নে, তোর শাসনকর্তা ফোন করেছে।
হিমু বিরক্ত মুখে ফোনটা কানে ধরল।
হিমু: — হ্যালো, ভাইয়া!
জিসান: — কী করছ?
হিমু: — নাশতা করছি।
জিসান: — পড়ার বই খুলেছ?
হিমু: — ভাইয়া! সকাল সকাল এসব কথা না বললেও হয়।
জিসান: — কেন? পড়াশোনার কথা শুনলে তোর সকাল নষ্ট হয়ে যায়?
হিমু: — উফ! আপনি না!
জিসান: — দশ মিনিটের মধ্যে নাশতা শেষ করে পড়তে বসবি। বিকেলে তোকে ফোন করে পড়া ধরব।
হিমু: — কী! বিকেলে আবার পড়া ধরবেন?
জিসান: — কোনো সমস্যা?
হিমু: — না...!
জিসান: — গুড। আর নিলয়কে বিরক্ত করবি না।
হিমু নিলয়ের দিকে তাকিয়ে বলল—
হিমু: — ও আমাকে বিরক্ত করছে!
জিসান: — তাহলে তোদের দুজনকেই চুপ থাকতে হবে।
নিলয় পাশ থেকে হেসে উঠল।
জিসান: — কী হয়েছে? হাসছিস কেন?
নিলয়: — কিছু না ভাই। আপনার বোনের সঙ্গে একটু গল্প করছিলাম।
জিসান: — গল্প পরে করিস। ওর পড়ার দিকে খেয়াল রাখিস।
নিলয়: — ঠিক আছে, ভাই।
কল কেটে গেল।
হিমু ফোনটা টেবিলে রেখে বিরক্ত মুখে বলল—
হিমু: — আমার জীবনটা একদম পড়াশোনার কারাগার বানিয়ে ফেলেছে সবাই!
নিলয়: — চিন্তা করিস না, মহারানি। তোর মুক্তির ব্যবস্থা করছি।
হিমু আগ্রহ নিয়ে তাকাল।
হিমু: — সত্যি? কীভাবে?
নিলয়: — আগে পড়াগুলো শেষ কর। তারপর তোকে নিয়ে আইসক্রিম খেতে যাব।
হিমুর মুখ মুহূর্তেই উজ্জ্বল হয়ে উঠল।
হিমু: — সত্যি বলছেন?
নিলয়: — হ্যাঁ। তবে একটা শর্ত আছে।
হিমু: — কী শর্ত?
নিলয়: — আজকের পড়া শেষ করতে হবে।
হিমু আবার মুখ বাঁকাল।
হিমু: — ধুর! আপনিও জিসান ভাইয়ের দলে!
নিলয় হেসে বলল—
নিলয়: — এই দলে থাকলে অন্তত আইসক্রিম পাওয়া যায়!
হালিমা বেগম দুজনের খুনসুটি দেখে মুচকি হাসলেন।
অন্যদিকে...
সকাল ৮টা ২০ মিনিট |
নিজের ঘরে বসে ল্যাপটপে কাজ করছিল জিসান। সামনে কয়েকটি ফাইল খোলা। কাজের মাঝেই তার চোখ পড়ল টেবিলের ওপর রাখা হিমুর পড়ার রুটিনের দিকে।
সে ফোনটা হাতে নিয়ে নিলয়ের নম্বরে আবার কল দিল।
জিসান: — নিলয়, একটা কথা শোন।
নিলয়: — বলুন, ভাই।
জিসান: — আজ হিমুকে একটু পড়তে বসিয়ে দিস। আমি বিকেলে সময় বের করতে পারব না। একটা জরুরি কাজ আছে।
নিলয়: — ঠিক আছে। আপনি চিন্তা করবেন না।
জিসান: — আর ও যেন সারাক্ষণ ফোন নিয়ে বসে না থাকে।
নিলয় হেসে বলল—
নিলয়: — ভাই, আপনার বোনকে সামলানো আমার পক্ষে সম্ভব না। তবুও চেষ্টা করব।
জিসান: — চেষ্টা না, কাজটা করিস।
নিলয়: — জি, বস!
কল কেটে নিলয় ডাইনিং টেবিলে ফিরে এল।
হিমু তখন মিষ্টির প্লেট থেকে আরেকটা মিষ্টি নেওয়ার চেষ্টা করছে।
নিলয়: — এই যে মহারানি!
হিমু: — আবার কী?
নিলয়: — আজ থেকে তোর পড়াশোনার দায়িত্ব আমার।
হিমুর হাতের মিষ্টিটা মাঝপথে থেমে গেল।
হিমু: — কীইই!
নিলয় মুচকি হেসে বলল—
— জি, সুন্দরী। আজ তোর কোনো ছুটি নেই!
হিমু মনে মনে বলল—
— আল্লাহ! এই মানুষটার হাত থেকে আমাকে কে বাঁচা
সকাল ৮টা ৩০ মিনিট |
নাশতা শেষ করে হিমু নিজের ঘরের দিকে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই পেছন থেকে নিলয়ের ডাক এল।
নিলয়: — এই যে মহারানি! কোথায় যাচ্ছিস?
হিমু পেছনে ফিরে তাকাল।
হিমু: — নিজের ঘরে।
নিলয়: — কেন?
হিমু: — একটু বিশ্রাম নেব।
নিলয়: — বিশ্রাম পরে হবে। আগে পড়তে বস।
হিমু: — নিলয় ভাই, প্লিজ! আজকে না হয় বাদ দেন।
নিলয়: — না, আজকেই হবে।
হিমু: — আপনার কি আর কোনো কাজ নেই?
নিলয়: — আছে তো। তোকে পড়ানো আমার আজকের প্রধান কাজ।
হিমু বিরক্ত হয়ে বলল—
হিমু: — জিসান ভাই আপনাকে আমার পড়াশোনার দায়িত্ব দিয়ে নিজে বেঁচে গেছেন!
নিলয় হেসে বলল—
নিলয়: — ঠিক ধরেছিস। এবার চল।
হিমু অনিচ্ছা সত্ত্বেও সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠতে লাগল। নিলয়ও তার পেছনে পেছনে গেল।
সকাল ৮টা ৪০ মিনিট |
হিমুর ঘরে ঢুকে নিলয় চারদিকে তাকাল। বিছানার পাশে সুন্দর করে সাজানো বইগুলো দেখে একটা বই হাতে তুলে নিল।
নিলয়: — বাহ! বই তো অনেক আছে। পড়াশোনা কতটুকু হয়েছে?
হিমু: — অনেক!
নিলয়: — কতটুকু?
হিমু: — মানে... শুরু করেছি।
নিলয়: — কবে?
হিমু: — আজ থেকে!
নিলয় হেসে ফেলল।
নিলয়: — তার মানে এত দিন বইগুলো সাজিয়ে রেখেছিলি শুধু ঘর সুন্দর করার জন্য?
হিমু: — আপনি বেশি কথা বলেন!
নিলয়: — আচ্ছা, আর কথা বলব না। চেয়ার টেনে বস।
হিমু গোমড়া মুখে চেয়ার টেনে বসল। নিলয় তার সামনে আরেকটি চেয়ার নিয়ে বসে বই খুলল।
নিলয়: — আচ্ছা, বল তো। গতকাল কী পড়েছিলি?
হিমু: — গতকাল তো অনেক কিছু পড়েছি।
নিলয়: — তাহলে একটা প্রশ্নের উত্তর দে।
হিমু: — করুন।
নিলয় বই থেকে একটা প্রশ্ন পড়ে শোনাল।
হিমু কয়েক সেকেন্ড বইয়ের দিকে তাকিয়ে রইল।
নিলয়: — কী হলো? উত্তর দিচ্ছিস না কেন?
হিমু: — ভাবছি।
নিলয়: — এত সহজ প্রশ্নের উত্তর ভাবতে হচ্ছে?
হিমু: — আপনি চুপ করেন তো! মাথার মধ্যে উত্তর আসতে দিচ্ছেন না।
নিলয় মুখ চেপে হাসল।
নিলয়: — আচ্ছা, আমি চুপ। তুই ভাব।
কয়েক মিনিট পেরিয়ে গেল।
নিলয়: — হয়েছে?
হিমু: — না।
নিলয়: — আর কতক্ষণ?
হিমু: — একটু সময় দেন।
নিলয়: — হিমু, তুই প্রশ্নের উত্তর ভাবছিস, নাকি প্রশ্নটাই নতুন করে আবিষ্কার করছিস?
হিমু এবার খিলখিল করে হেসে উঠল।
হিমু: — নিলয় ভাই!
নিলয়: — কী?
হিমু: — আপনি একদম ভালো না।
নিলয়: — জানি। এবার উত্তর দে।
সকাল ৯টা ১৫ মিনিট |
প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে পড়াশোনা চলছে। হিমু কখনো কলম ঘোরাচ্ছে, কখনো জানালার বাইরে তাকাচ্ছে। নিলয় অবশ্য বেশ মনোযোগ দিয়ে তাকে পড়ানোর চেষ্টা করছে।
নিলয়: — এই হিমু!
হিমু: — হুম?
নিলয়: — বইয়ের দিকে তাকিয়ে পড়।
হিমু: — তাকিয়েই তো আছি।
নিলয়: — তোর চোখ জানালার দিকে কেন?
হিমু তাড়াতাড়ি জানালা থেকে চোখ সরিয়ে নিল।
হিমু: — বাইরে একটা পাখি বসে আছে।
নিলয়: — বাহ! পাখির সঙ্গে পড়াশোনা করবি নাকি আমার সঙ্গে?
হিমু: — পাখিটা অন্তত বকবক করে না।
নিলয়: — আচ্ছা! দাঁড়া, জিসানকে ফোন দিয়ে বলি তোর পড়াশোনার অবস্থা।
হিমু সঙ্গে সঙ্গে সোজা হয়ে বসল।
হিমু: — না না! ফোন দিতে হবে না।
নিলয়: — কেন?
হিমু: — আমি মন দিয়ে পড়ছি তো!
নিলয়: — তাহলে আরেকটা প্রশ্নের উত্তর দে।
হিমু: — আবার!
নিলয়: — জি, আবার। এবার দেখি কতটুকু শিখেছিস।
হিমু মনে মনে বলল—
— এই মানুষটা আমাকে পড়িয়ে ছাড়বে!
সকাল ১০টা |
অবশেষে নিলয় বই বন্ধ করল।
নিলয়: — আচ্ছা, আজকের মতো একটু বিরতি।
হিমু আনন্দে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়াল।
হিমু: — ইয়েস! অবশেষে মুক্তি!
নিলয়: — এত খুশি হওয়ার কিছু নেই। দশ মিনিট পর আবার বসবি।
হিমুর হাসি মুহূর্তেই উধাও হয়ে গেল।
হিমু: — কী! আবার?
নিলয়: — হ্যাঁ। এখন একটু পানি খেয়ে আয়।
হিমু দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
নিলয় তার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল। তারপর টেবিলের ওপর রাখা হিমুর খাতাটা হাতে নিল। কয়েক পৃষ্ঠা উল্টিয়ে দেখল, বেশ কিছু জায়গায় লেখা অসম্পূর্ণ।
নিলয় নিজের মনে বলল—
— মেয়েটাকে পড়াশোনায় একটু মনোযোগী করতেই হবে। নাহলে জিসান ভাই আমাকে আস্ত রাখবে না!
অন্যদিকে...
সকাল ১০টা ১০ মিনিট |
জিসান নিজের অফিসের জন্য তৈরি হচ্ছে। পরনে কালো শার্ট, কালো প্যান্ট। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ঘড়ি পরছিল সে।
এমন সময় ফোন বেজে উঠল।
স্ক্রিনে নিলয়ের নাম দেখে কল রিসিভ করল।
জিসান: — হ্যাঁ, বল।
নিলয়: — ভাই, আপনার বোনকে পড়াতে গিয়ে আমার নিজের পড়াশোনা ভুলে যাওয়ার অবস্থা।
জিসান মুচকি হাসল।
জিসান: — কেন? কী করেছে আবার?
নিলয়: — একটা প্রশ্নের উত্তর দিতে পাঁচ মিনিট চিন্তা করে। আর জানালার বাইরে পাখি দেখলে তো কথাই নেই!
জিসান হেসে বলল—
জিসান: — ওকে একটু বুঝিয়ে পড়াস। ছোটবেলা থেকেই এমন।
নিলয়: — বুঝিয়ে পড়াচ্ছি। তবে আপনার জন্য একটা কথা বলি, ভাই।
জিসান: — কী?
নিলয়: — আজকে আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।
জিসান: — ভালোই তো। তোর ধৈর্যও বাড়বে।
নিলয়: — ভাই, আপনি হাসছেন কেন?
জিসান: — কিছু না। ওকে ঠিকমতো পড়াস। আমি এখন রাখছি।
নিলয়: — আচ্ছা, ভাই।
কল শেষ করে জিসান ফোনটা পকেটে রেখে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
সকাল ১০টা ২০ মিনিট |
হিমু হাতে এক গ্লাস পানি নিয়ে ঘরে ঢুকল। নিলয় তখন খাতায় কিছু একটা লিখছিল।
হিমু: — এই নিন, পানি।
নিলয়: — ধন্যবাদ, মহারানি।
হিমু নিজের চেয়ারে বসে বলল—
হিমু: — আচ্ছা, একটা কথা বলি?
নিলয়: — বল।
হিমু: — আপনি কি সারাদিন আমার বাসায় থাকবেন?
নিলয়: — কেন? সমস্যা?
হিমু: — না, মানে... আপনার তো নিজের বাসাও আছে।
নিলয়: — আছে তো। কিন্তু তোর পড়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি কোথাও যাচ্ছি না।
হিমু হতাশ হয়ে মাথা টেবিলে রেখে দিল।
হিমু: — আমার কপালে আজকে আর শান্তি নেই!
নিলয় হেসে তার মাথায় হালকা টোকা দিয়ে বলল—
নিলয়: — নাটক কম কর, এবার বই খোল।
হিমু মাথা তুলে নিলয়ের দিকে তাকাল।
হিমু: — আপনি সত্যিই খুব পচা!
নিলয়: — জানি। এবার পড়া শুরু কর, সুন্দরী।
হিমু আবার বই খুলে বসল।
তবে মনে মনে ঠিক করে ফেলল, সুযোগ পেলেই নিলয়কে একটু জব্দ করবে!
চলবে...