ফন্ট সাইজ:
থিম:
গোলমেলে গুষ্টি

পর্ব ৪ ও ৫

লেখক: Jannatul Naima

গোলমেলে গুষ্টি
লেখিকা: জান্নাতুল নাঈমা
পর্ব ৪: বিয়ের খবর ছড়িয়ে গেল! 🤣
দাদুর মুখ থেকে আদনান আর মেহেরের বিয়ের কথা বের হওয়ার পর চৌধুরী বাড়িতে যেন ভূমিকম্প শুরু হয়ে গেল।
সকাল হতে না হতেই খবরটা পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে গেছে।
কিন্তু সমস্যা হলো—খবরটা শুধু বাড়ির মানুষই জানেনি।
কাজের বুয়া থেকে শুরু করে পাশের বাসার খালা পর্যন্ত সবাই জেনে গেছে!
আদনান ঘুম থেকে উঠে নিচে এসে দেখল, সবাই তাকে অদ্ভুতভাবে দেখছে।
সে বিরক্ত হয়ে বলল,
—সবাই এভাবে তাকিয়ে আছ কেন?
রাফি মুচকি হেসে বলল,
—বর সাহেব ঘুম থেকে উঠেছেন!
আদনান থমকে গেল।
—কী বললি?
—কিছু না। বললাম, ভাইয়া সাহেব ঘুম থেকে উঠেছেন।
মেহের রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে বলল,
—বর সাহেবের জন্য নাশতা তৈরি হয়েছে।
আদনান চোখ কুঁচকে তাকাল।
—তুমিও শুরু করেছ?
—আমি তো কিছু বলিনি!
তিশা পাশে বসে বলল,
—ভাবি, চা দেব?
মেহের সঙ্গে সঙ্গে বলল,
—তিশা!
তিশা হেসে পালিয়ে গেল।
আদনান মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ল।
—আমি এই বাড়িতে থাকব না।
ঠিক তখন দাদু এসে বললেন,
—কোথায় যাবি?
—যেখানে কেউ আমাকে বর বলে ডাকবে না।
দাদু শান্তভাবে বললেন,
—সেখানে যাওয়ার আগে বিয়ের শেরওয়ানি পছন্দ করে যাস।
সবাই হেসে উঠল।
আদনান এবার মেহেরের দিকে তাকিয়ে বলল,
—তুমি কিন্তু খুব হাসছ!
মেহের বলল,
—তোমাকে বর সাজলে কেমন লাগবে সেটা ভাবছি।
—কেমন?
—দেখতে নিশ্চয়ই ভালো লাগবে।
আদনান একটু থেমে গেল।
—সত্যি?
মেহের সঙ্গে সঙ্গে বলল,
—হ্যাঁ। বিশেষ করে যদি মুখে একটা বড় ঘোমটা দিই!
আদনান মুখ বাঁকিয়ে বলল,
—তুমি না থাকলে আমার জীবন শান্তিতে কাটত।
—আমিও একই কথা ভাবি।
এমন সময় দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ হলো।
বড় চাচা গিয়ে দরজা খুলতেই দেখা গেল—একজন মহিলা হাতে মিষ্টির বাক্স নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।
তিনি ঢুকেই বললেন,
—কোথায় বর-কনে?
সবাই একসঙ্গে চুপ।
আদনান ফিসফিস করে বলল,
—এবার আবার কী হলো?
দাদু আনন্দিত হয়ে বললেন,
—আসুন, আসুন! আপনি ঠিক সময়েই এসেছেন।
মহিলা মিষ্টির বাক্স এগিয়ে দিয়ে বললেন,
—শুনলাম বাড়িতে বিয়ের কথা হয়েছে। তাই মিষ্টি নিয়ে এলাম।
আদনান অবাক।
—আপনি কে?
মহিলা বললেন,
—আমি পাশের বাসার শিরিন আপা।
মেহের মুখ চেপে হাসল।
রাফি বলল,
—আপা, আপনি এত তাড়াতাড়ি খবর পেলেন কীভাবে?
শিরিন আপা গর্ব করে বললেন,
—আমাদের এলাকায় খবর পৌঁছাতে সময় লাগে না। বাতাসের চেয়েও দ্রুত!
দাদি বললেন,
—বিয়েটা এখনো ঠিকই হয়নি।
শিরিন আপা অবাক হয়ে বললেন,
—কী! তাহলে আমি মিষ্টি আগে দিয়ে ফেললাম?
দাদু বললেন,
—না না, রেখে যান। বিয়ে হোক বা না হোক, মিষ্টি তো মিষ্টিই।
আদনান বলল,
—দাদু, আপনার আত্মবিশ্বাস দেখে আমি অবাক।
ঠিক তখন শিরিন আপা মেহেরের পাশে গিয়ে বসে বললেন,
—মা, তোমার শাড়ির রংটা খুব সুন্দর।
মেহের হাসল।
—ধন্যবাদ।
—বিয়ের শাড়ি ঠিক করেছ?
মেহের এবার থমকে গেল।
—না!
শিরিন আপা বললেন,
—আমি কিন্তু খুব ভালো শাড়ি চিনি।
আদনান ফিসফিস করে বলল,
—এখনই পালাও।
মেহেরও ফিসফিস করে বলল,
—তুমিও পালাও।
দুজন দরজার দিকে এগোতেই দাদু চিৎকার করলেন,
—এই যে! কোথায় যাচ্ছিস?
আদনান বলল,
—হাওয়া খেতে।
দাদু বললেন,
—দুজন একসঙ্গে?
রাফি হেসে বলল,
—দাদু, হাওয়া খেতে যাচ্ছে না। বিয়ের ভয় থেকে বাঁচতে যাচ্ছে!
পুরো বাড়ি আবার হাসিতে ফেটে পড়ল।
আদনান আর মেহের একে অপরের দিকে তাকাল।
দুজনের মুখেই বিরক্তি।
কিন্তু তাদের অজান্তেই দাদি দূর থেকে মুচকি হাসছিলেন।
কারণ তিনি বুঝে গেছেন—
এই দুই ঝগড়াটে মানুষ একদিন না একদিন সত্যিই একে অপরের জীবনের সবচেয়ে বড় গোলমাল হয়ে যাবে। 😂❤️
চলবে...
____________

গোলমেলে গুষ্টি
লেখিকা: জান্নাতুল নাঈমা
পর্ব ৫: বিয়ের বাজারে মহাযুদ্ধ! 🤣
পরদিন সকালেই দাদি ঘোষণা দিলেন,
—আজ সবাই বাজারে যাবে। বিয়ের কেনাকাটা শুরু হবে!
আদনান নাশতার প্লেট হাতে থেমে গেল।
—কোন বিয়ে?
দাদি শান্তভাবে বললেন,
—তোমার।
আদনান চামচ নামিয়ে বলল,
—আমি তো এখনো রাজি হইনি!
দাদু পাশ থেকে বললেন,
—তোর রাজি হওয়ার প্রয়োজন নেই। পরিবার রাজি হয়েছে।
মেহের চুপচাপ চা খাচ্ছিল।
আদনান তার দিকে তাকিয়ে বলল,
—তুমি কিছু বলছ না কেন?
মেহের কাপ নামিয়ে বলল,
—আমি ভাবছি, বিয়ের পর তোমাকে কীভাবে সামলাব।
আদনান হেসে বলল,
—তুমি আমাকে সামলাবে?
—হ্যাঁ।
—আগে নিজের রাগ সামলাও।
মেহের সঙ্গে সঙ্গে বলল,
—তোমার মাথায় কাপড়ের ব্যাগ চাপিয়ে বাজারে রেখে আসব!
রাফি হাততালি দিয়ে বলল,
—বাহ! বিয়ের আগেই সংসার শুরু!
দাদি বললেন,
—চুপ কর তোরা। সবাই তৈরি হও।
এক ঘণ্টা পর সবাই বাজারে।
দাদু, দাদি, বড় চাচা, ছোট চাচা, আদনান, মেহের, রাফি আর তিশা—পুরো দল।
দোকানে ঢুকেই দাদি বললেন,
—প্রথমে শাড়ি।
মেহের একটা শাড়ি হাতে নিতেই আদনান বলল,
—এটা ভালো না।
মেহের অবাক হয়ে তাকাল।
—কেন?
—রংটা তোমার সঙ্গে যায় না।
মেহের ভ্রু তুলল।
—তুমি এত কিছু বোঝো?
আদনান আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলল,
—অবশ্যই।
দাদি বললেন,
—তাহলে তুই একটা শাড়ি পছন্দ করে দে।
আদনান চারদিকে তাকিয়ে একটা উজ্জ্বল গোলাপি শাড়ি তুলে নিল।
—এইটা।
মেহের শাড়িটা দেখে বলল,
—এটা আমি কখনো পরব না!
আদনান বলল,
—কেন?
—এটা দেখে মনে হচ্ছে মিষ্টির দোকানের পর্দা!
দোকানদার মুখ চেপে হাসছে।
রাফি আর তিশা পেছনে দাঁড়িয়ে খিলখিল করছে।
আদনান বলল,
—তাহলে তুমি নিজেই পছন্দ করো।
মেহের একটা হালকা রঙের শাড়ি তুলে বলল,
—এইটা।
আদনান বলল,
—ঠিক আছে।
মেহের অবাক।
—এত সহজে রাজি?
—হ্যাঁ।
—কেন?
আদনান একটু হেসে বলল,
—কারণ তোমার পছন্দটাই ভালো।
মেহের কিছু বলতে গিয়ে থেমে গেল।
তিশা পাশে দাঁড়িয়ে ফিসফিস করে বলল,
—ভাবি, মুখ লাল হয়ে গেছে!
মেহের সঙ্গে সঙ্গে বলল,
—চুপ!
এরপর শুরু হলো পাঞ্জাবি কেনা।
দাদু নিজের জন্য একটা পাঞ্জাবি পছন্দ করলেন।
দাদি দেখে বললেন,
—এটা তুমি পরলে তোমাকে বিয়ের বর না, নাটকের ভিলেন লাগবে।
দাদু রেগে বললেন,
—আমি ভিলেন?
রাফি বলল,
—দাদু, আপনি তো বিয়ের পাত্রী খুঁজছেন। ভিলেন হলে চলবে?
দাদু রাফির দিকে তাকিয়ে বললেন,
—তোর বিয়ের পাত্রী আমি আজই ঠিক করব।
রাফি সঙ্গে সঙ্গে চুপ।
সবাই হেসে উঠল।
হঠাৎ তিশা একটা খেলনার দোকানের সামনে থেমে গেল।
—আমি এই পুতুলটা নেব!
ছোট চাচা বললেন,
—তোর বয়স কত?
—বয়স বড় হয়েছে বলে কি পুতুল ভালো লাগবে না?
আদনান বলল,
—নাও। তোমার ভবিষ্যৎ সংসারের ট্রেনিং হবে।
তিশা পুতুলটা হাতে নিয়ে আদনানের মাথায় ঠুকল।
—তোমার আগে ট্রেনিং দরকার!
সবশেষে সবাই যখন দোকান থেকে বের হচ্ছে, তখন মেহেরের হাতে অনেকগুলো ব্যাগ।
আদনান বলল,
—দাও, আমি ধরছি।
মেহের বলল,
—প্রয়োজন নেই।
—এতগুলো ব্যাগ নিয়ে কীভাবে হাঁটবে?
—আমি পারব।
আদনান জোর করে কয়েকটা ব্যাগ নিয়ে নিল।
মেহের কিছু বলল না।
রাফি দূর থেকে সব দেখে তিশাকে বলল,
—দেখেছিস?
তিশা বলল,
—কী?
—বিয়ের আগে থেকেই ভাইয়া স্বামী হওয়ার প্র্যাকটিস করছে!
দুজন হেসে দৌড় দিল।
আদনান তাদের পেছনে ছুটতে যাবে, এমন সময় দাদু চিৎকার করলেন,
—আদনান! দাঁড়া!
—কী?
দাদু বললেন,,,
—তোর বিয়ের জুতা কিনতে হবে।
আদনান মাথায় হাত দিয়ে বলল,
—এই বাজার শেষ হবে কবে?
মেহের মুচকি হেসে বলল,
—যেদিন তোমার বিয়ে শেষ হবে।
আদনান তাকিয়ে বলল,
—তাহলে মনে হয় আমাদের অনেক দূর যেতে হবে।
মেহের হেসে ফেলল।
আর পেছন থেকে দাদি বললেন,
—হ্যাঁ, অনেক দূর। কারণ তোদের বিয়ের পরেই আসল কাণ্ড শুরু হবে! 😂
চলবে... ❤️
পাঠক, বিয়ের বাজারে কার কাণ্ডটা সবচেয়ে মজার লাগল? কমেন্টে জানাও! 🤣

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব ৪ ও ৫ শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন