ফন্ট সাইজ:
থিম:
গোলমেলে গুষ্টি

পর্ব ৬ ও ৭

লেখক: Jannatul Naima

গোলমেলে গুষ্টি

লেখিকা: জান্নাতুল নাঈমা

পর্ব ৬: ভুল করে বিয়ের কার্ড ছাপা! 🤣

বিয়ের বাজার শেষ করে সবাই বাড়ি ফিরেছে।

সবাই ক্লান্ত।

শুধু দাদু ক্লান্ত নন। তিনি সোফায় বসে এক কাপ চা হাতে নিয়ে এমন ভাব করছেন, যেন দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটা তিনিই করে ফেলেছেন।

আদনান সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে বলল,

—আমি আর পারছি না। একদিনের বাজারে আমার পুরো জীবন শেষ হয়ে গেল।

রাফি বলল,

—ভাইয়া, বিয়ে তো এখনো হয়নি।

—সেটাই তো ভয়!

মেহের পাশ থেকে বলল,

—আমারও একই অবস্থা।

দাদি হঠাৎ বললেন,

—চুপ কর তোরা। কাল বিয়ের কার্ডের ডিজাইন দেখতে যাব।

আদনান উঠে বসল।

—কার্ড?!

দাদি অবাক হয়ে বললেন,

—হ্যাঁ। বিয়ের কার্ড।

—কিন্তু বিয়ে তো এখনো ঠিক হয়নি!

দাদু গম্ভীরভাবে বললেন,

—বিয়ে ঠিক করতে হলে আগে কার্ড ঠিক করতে হয়।

আদনান মাথায় হাত দিল।

—এই যুক্তি পৃথিবীর কোন বইতে লেখা আছে?

দাদু বললেন,

—আমার বইতে।

পরদিন দুপুরে দাদু, দাদি, আদনান, মেহের আর রাফি গেলেন কার্ডের দোকানে।

দোকানদার অনেক ডিজাইন বের করলেন।

লাল, গোলাপি, সোনালি, নীল—হাজার রকম।

মেহের একটা কার্ড হাতে নিয়ে বলল,

—এইটা সুন্দর।

আদনান বলল,

—হ্যাঁ, ভালো।

দাদি বললেন,

—তাহলে এটিই হবে।

দোকানদার জিজ্ঞেস করলেন,

—বরের নাম?

আদনান বলল,

—আদনান চৌধুরী।

—কনের নাম?

সবাই মেহেরের দিকে তাকাল।

মেহের লজ্জায় বলল,

—মেহের আফরোজ।

দোকানদার নাম লিখে নিলেন।

আদনান তখনও বুঝতে পারেনি বিপদটা কোথায়।

বিকেলে সবাই বাড়ি ফিরল।

দুদিন পর হঠাৎ বাড়ির সামনে একটা গাড়ি এসে থামল।

একজন লোক বড় একটা বাক্স নিয়ে নামলেন।

—চৌধুরী সাহেবের বাড়ি কোনটা?

দাদু এগিয়ে এলেন।

—আমার বাড়ি।

লোকটা বাক্স খুলে বললেন,

—আপনাদের বিয়ের কার্ড।

দাদু খুশি হয়ে বললেন,

—আহা! এত তাড়াতাড়ি!

কার্ড বের করা হলো।

দাদি একটা কার্ড হাতে নিয়ে পড়তে শুরু করলেন।

তারপর হঠাৎ তাঁর চোখ বড় হয়ে গেল।

—এটা কী?!

সবাই ছুটে এল।

কার্ডে বড় বড় অক্ষরে লেখা—

“শুভ বিবাহ—আদনান চৌধুরী ও মেহের আফরোজ।”

নিচে লেখা—

“অনুষ্ঠানের স্থান: চৌধুরী বাড়ি।”

আদনান হতভম্ব।

—এটা কে ছাপিয়েছে?!

রাফি হাসতে হাসতে বলল,

—ভাইয়া, তুমি তো দোকানে নাম দিয়েছিলে!

—আমি নাম দিয়েছি, কিন্তু বিয়ে তো দিইনি!

মেহের কার্ডটা হাতে নিয়ে বলল,

—আমার তো মনে হচ্ছে বিয়েটা সত্যিই হয়ে যাচ্ছে।

আদনান বলল,

—তুমি এত খুশি কেন?

—আমি খুশি না!

—তোমার মুখে হাসি কেন?

—তোমার বিপদ দেখে হাসছি।

দাদু তখন আনন্দে কার্ড হাতে নিয়ে উঠানে বের হয়ে চিৎকার করলেন,

—শুনছ সবাই? বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে!

পাশের বাড়ির শিরিন আপা পাঁচ মিনিটের মধ্যে হাজির।

—কী শুনলাম?

দাদি বললেন,

—কার্ডও ছাপা হয়ে গেছে।

শিরিন আপা একটা কার্ড হাতে নিয়ে বললেন,

—আহা! তাহলে তো বিয়ে পাকাপাকি!

আদনান মাথায় হাত দিল।

—না! কিছুই পাকাপাকি হয়নি!

কিন্তু ততক্ষণে খবর পুরো পাড়ায় ছড়িয়ে গেছে।

একজন এসে বলল,

—অভিনন্দন!

আরেকজন বলল,

—বিয়ের দাওয়াত কবে?

আরেকজন বলল,

—মিষ্টি কোথায়?

রাফি চুপিচুপি আদনানকে বলল,

—ভাইয়া, মনে হচ্ছে পালানোর সময় এসেছে।

আদনান বলল,

—তুই আগে পালা।

ঠিক তখন দাদু এসে বললেন,

—কোথাও কেউ যাবে না! কাল থেকেই বিয়ের প্রস্তুতি শুরু!

মেহের হতবাক হয়ে আদনানের দিকে তাকাল।

আদনানও তার দিকে তাকিয়ে বলল,

—আমাদের জীবন শেষ।

মেহের দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

—না। আমাদের জীবন এখনো শুরুই হয়নি।

দুজনের কথা শুনে দাদু হেসে বললেন,

—এই তো! কথা বলছিস এমনভাবে, যেন বিয়েটা তোদেরই খুব দরকার!

আদনান আর মেহের একসঙ্গে চিৎকার করল,

—দাদুওওওওওওও!!😂

চলবে... ❤️

পাঠক, ভুল করে ছাপা বিয়ের কার্ডের পর এবার কী হবে? সত্যিই কি বিয়ে হয়ে যাবে? 🤣

___________

গোলমেলে গুষ্টি

লেখিকা: জান্নাতুল নাঈমা

পর্ব ৭: বিয়ে আটকানোর গোপন মিশন! 🤫🤣

বিয়ের কার্ড ছাপা হয়ে যাওয়ার পর চৌধুরী বাড়িতে যেন ঈদের আনন্দ।

সবাই ব্যস্ত।

শুধু দুজনের মুখ কালো—

আদনান আর মেহের।

রাতে দুজন চুপিচুপি ছাদের এক কোণে দাঁড়িয়ে।

মেহের ফিসফিস করে বলল,

—এভাবে চলতে পারে না।

আদনান মাথা নাড়ল।

—একদম না।

—আমাদের কিছু একটা করতে হবে।

—হুম।

—বিয়েটা আটকাতে হবে।

আদনান চারদিকে তাকিয়ে বলল,

—ঠিক আছে। কিন্তু কীভাবে?

মেহের কিছুক্ষণ ভেবে বলল,

—আমরা এমন একটা ঝগড়া করব, যাতে সবাই মনে করবে আমরা একে অপরকে সহ্যই করতে পারি না।

আদনান চোখ বড় করে বলল,

—তুমি অভিনয় করবে?

মেহের বলল,

—আমি অভিনয় করব না। তোমার সঙ্গে ঝগড়া করলেই তো সত্যি সত্যি রাগ হয়!

আদনান মুখ বাঁকিয়ে বলল,

—বাহ! আমিও তোমাকে খুব পছন্দ করি।

—কী বললে?

—বললাম, পরিকল্পনা শুরু করি।

পরদিন সকাল।

নাশতার টেবিলে সবাই বসেছে।

আদনান ইচ্ছা করেই বলল,

—মেহেরের রান্না একদম ভালো না।

মেহের সঙ্গে সঙ্গে তাকাল।

—কী বললে?

—বললাম, লবণ বেশি।

মেহের বলল,

—তোমার মুখটাই বেশি নোনতা!

রাফি হেসে ফেলল।

দাদু বললেন,

—বাহ! বিয়ের আগেই ঝগড়া শুরু হয়েছে। খুব ভালো লক্ষণ!

আদনান হতভম্ব।

মেহেরও হতভম্ব।

পরিকল্পনা প্রথম ধাপেই ব্যর্থ!

দুপুরে তারা আবার চেষ্টা করল।

মেহের সবার সামনে বলল,

—আদনান খুব অলস। ওকে দিয়ে সংসার চলবে না।

আদনান বলল,

—আর মেহের এত কথা বলে যে, সংসারে টিভির দরকার হবে না।

সবাই হেসে উঠল।

দাদি বললেন,

—আহা! কী সুন্দর বোঝাপড়া!

মেহের মনে মনে বলল,

“এই বাড়ির মানুষজনের বুদ্ধি কি সত্যিই নেই?”

সন্ধ্যায় তারা তৃতীয় পরিকল্পনা করল।

আদনান ঘোষণা দিল,

—আমি এই বিয়ে করব না!

দাদু শান্তভাবে বললেন,

—ঠিক আছে।

আদনান অবাক।

—সত্যি?

—হ্যাঁ।

মেহেরও অবাক হয়ে গেল।

দাদু চা খেতে খেতে বললেন,

—বিয়ে না করলে সমস্যা নেই। তবে কাল থেকে বাড়ির সব কাজ তুই করবি।

আদনান চুপ।

দাদু বললেন,

—সকালে বাজার, দুপুরে রান্নাঘরে সাহায্য, বিকেলে কাপড় শুকানো, রাতে বাসন ধোয়া।

আদনান ধীরে ধীরে বলল,

—দাদু...

—হুম?

—বিয়ের তারিখটা কবে বলেছিলেন?

সবাই হেসে উঠল। 🤣

মেহের মুখ ঢেকে হাসছে।

আদনান তার দিকে তাকিয়ে বলল,

—হাসছ কেন?

—তোমার সাহস দেখে।

—তোমার কী হবে?

মেহের বলল,

—আমি বিয়ে করে ফেলব।

আদনান অবাক হয়ে বলল,

—কাকে?

মেহের একটু থেমে বলল,

—তোমাকেই তো!

পুরো ঘর এক মুহূর্তে চুপ।

মেহের নিজেই বুঝতে পারল সে কী বলে ফেলেছে।

আদনানের মুখে ধীরে ধীরে হাসি ফুটল।

—আচ্ছা... তাহলে বিয়ে আটকানোর মিশন বাতিল?

মেহের লজ্জায় বলল,

—চুপ!

দাদু দূর থেকে চিৎকার করলেন,

—আমি কিন্তু সব শুনেছি!

মেহের মাথায় হাত দিল।

আর আদনান হাসতে হাসতে বলল,

—এই পরিবারের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো দেয়ালেরও কান আছে!

চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব ৬ ও ৭ শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন