ফন্ট সাইজ:
থিম:
শুকনো পাতার নূপুর পায়ে

৫৬তম পর্ব

লেখক: আয়েশা শেখ

#শুকনো_পাতার_নূপুর_পায়ে

#আয়েশা_রিন

#পর্ব৫৬

[কপি ও রিপোস্ট করা থেকে বিরত থাকবেন।]

সীমান্তের বয়স যখন পঁচিশ, সে তখন সবেমাত্র মাস্টার্সে ভর্তি হয়েছে। কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র; পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের খরচের জন্য সে তখন কয়েকটি টিউশন করাত। যদিও এর প্রয়োজন নেই, তবু তার স্টুডেন্টরা তার মেধার ওপর মুগ্ধ হয়ে তার কাছে পড়তে চাইত। এর মধ্যে সবচেয়ে জুনিয়ার ব্যাচ ছিল এসএসসি'র ব্যাচ। জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি থেকে একটু দূরে একটা স্কুল ছুটি হওয়ার পর নিয়মিত সেখানে পড়াতে আসত সে।

আজও বিকেলে সেখানেই পড়াতে এসেছে সীমান্ত। স্কুল ছুটি হয়ে যাওয়ার পর চারপাশটা প্রায় ফাঁকা হয়ে গেছে। আশপাশে কাউকে দেখা যাচ্ছে না, তার স্টুডেন্টদেরও কোনো পাত্তা নেই। কয়েক মুহূর্ত সে বেঞ্চে সেভাবেই বসে রইল, কিন্তু একজনকেও পেল না। পরক্ষণেই তার মনে পড়ল, স্কুলে কিছুদিন বাদেই একটা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আছে। ওদিকে অডিটোরিয়াম রুম থেকেও ভেসে আসছে গান-বাজনার আওয়াজ। বিরক্ত হয়ে সে নিজেই পা বাড়াল সেদিকে; তার স্টুডেন্টরাও নিশ্চয়ই সেখানেই আছে, কারণ সেদিন তাদের মধ্যে একজন বলেছিল স্কুলের প্রোগ্রামে সে পারফর্ম করবে। অডিটোরিয়াম রুমের দিকে যাওয়ার পথেই একটা বড় জানালার পাশে এসে হঠাৎ থমকে দাঁড়াল সীমান্ত। ভেতরের দৃশ্যটা তার চোখে পড়ল। তার স্টুডেন্ট ‘সামিরা’ মঞ্চের মাঝখানে দাঁড়িয়ে নাচছে, চারপাশে দাঁড়িয়ে দেখছে আরও কয়েকজন, যার মধ্যে তার আরও দুজন স্টুডেন্ট রয়েছে। ব্যাকগ্রাউন্ডে বেজে চলেছে ‘শুকনো পাতার নূপুর পায়ে’ গানটা। সীমান্ত প্রথমে এগোয়নি, সে চাইল না গিয়ে এখনই ওদের রিহার্সাল থামিয়ে দিতে। ভাবল, গানটা শেষ হোক, তারপর না হয় ডেকে নিয়ে যাবে।

এই ভেবে সে জানালার পাশেই দাঁড়িয়ে রইল; তার দৃষ্টি চলে গেল বাইরের স্কুলমাঠের সবুজ ঘাসের দিকে। এসব নাচানাচি দেখার বিন্দুমাত্র আগ্রহ তার নেই। কিন্তু খানিকবাদেই গানটা হুট করে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সীমান্ত ভেবে বসল, রিহার্সাল বুঝি শেষ। তাই সে আবার চোখ ফেরাল ভেতরের দিকে।

আর তখনই সে দেখতে পেল, ভিড়ের মধ্য থেকে বেরিয়ে এসে একটা মেয়ে সোজা গিয়ে দাঁড়াল সামিরার সামনে। মেয়েটার পরনে একটা দামী ঢিলেঢালা লেডিস প্যান্ট আর তার ওপর একটা টি-শার্ট, যার ওপর আবার জড়ানো একটা ফুলহাতা শার্ট। পুরো পোশাকটাই তার শরীরের সঙ্গে ফিট করা। মেয়েটা বিরক্তি নিয়ে সামিরাকে উদ্দেশ করে বলে উঠল,

“বোরিং! তোর নাচ একদম বোরিং লাগছে! পুরো খেত মার্কা!”

মেয়েটার কথা শুনে সামিরা হাঁপাতে হাঁপাতে প্রতিবাদ করে,

“স্কুল-কলেজের স্টেজে তো এভাবেই নাচতে হয়! আর এটা একটা খাঁটি বাংলা গান; বাংলা গানের নাচের ধরন এমনই হয়। এই গানের সঙ্গে ক্লাসিকাল নৃত্যই বেশি মানায়।”

চোখ কুঁচকে মেয়েটা একপাশে একটু ঝুঁকে তাচ্ছিল্যের সুরে বলল,

“কে বলেছে তোকে? এই গানেও ওয়েস্টার্ন ফিউশন ডান্স করা যায়, যেটা তোরটার মতো এতটা ব্যাকডেটেড আর চিপ লাগবে না।”

সামিরা জেদ ধরে বলল,

“তাহলে তুই নিজে নেচে দেখা! দেখি তুই কেমন পারিস।”

পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বাকিরাও সমস্বরে বলে উঠল, “হ্যাঁ, দেখি তুই কেমন পারিস!”

মেয়েটা একটু উদাসীন ভঙ্গিতে ভ্রু উঁচাল,

“তোরা আমাকে চ্যালেঞ্জ করছিস?”

সামিরা আর বাকিরা একসঙ্গে ঘাড় নেড়ে সায় দিল

“হ্যাঁ, করছি! তবে গানের ফ্লেভার ঠিক রেখে করতে হবে, একদম স্টেপ বাই স্টেপ। উল্টোপাল্টা ডিস্কো ডান্স করলে চলবে না কিন্তু।”

ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ফুটিয়ে মেয়েটা বলে উঠল,

“পারলে আমাকে কী দিবি তোরা?”

সামিরা বলল,

“আগে তো নেচে দেখা, তারপর দিচ্ছি।”

মেয়েটা এক পা এগিয়ে এসে বেশ সাবলীল ভঙ্গিতে জবাব দিল,

“নো ওয়ে, আগে বল।”

সামিরা জানতে চাইল,

“কী চাস তুই?”

মেয়েটা না ভেবেই বলল,

“পঁচিশটা রেডবুল লাগবে আমার।”

তৎক্ষনাৎ টেবিলে হাত চাপড় দিয়ে বলে উঠল সামিরা,

“ওকে ডান! লেটস স্টার্ট!”

সময় নষ্ট না করে মেয়েটা এক ঝটকায় গায়ে জড়ানো ফুলহাতা শার্টটা খুলে দক্ষ হাতে তা কোমরে শক্ত করে বেঁধে ফেলল। ভেতরে শুধু রইল স্লিভলেস টি-শার্ট। শার্টের বন্দিদশা থেকে মুক্ত হওয়া তার সুগঠিত বাহু, কাধের শাণিত রেখা আর কোমর ও পিঠের প্রতিটি ছাঁদের গতিময় ওঠানামা স্পষ্ট হয়ে উঠল।

সীমান্ত সঙ্গে সঙ্গে বিরক্তিতে মুখ ফিরিয়ে নিল। ঠিক এই কারণেই শহুরে মেয়েদের প্রতি তার একধরনের জন্মগত ঘৃণা কাজ করে! এরা শরীর জাহির করে ঠিক কী ধরনের মানসিক তৃপ্তি পায়? নারীর শরীর কি এভাবে সবার সামনে প্রদর্শনের কোনো বস্তু? আর মেয়েটার বয়সই বা কত হবে বড়জোর ষোলো-সতেরো! এই বয়সের বখে যাওয়া আধুনিকতাই এদের এমন বেপরোয়া করে তোলে।

ব্যাকগ্রাউন্ডে মিউজিক বেজে উঠতেই মেয়েটি পজিশন নিয়ে নিল। ঠিক তখনই অডিটোরিয়ামের বাতাসে ভেসে এল সেই চেনা সুর,

— দীঘির বুকে শতদল দলি...

ঝরায়ে বকুল চাঁপার কলি

চঞ্চল ঝর্ণার জল ছলছলি,

চঞ্চল ঝর্ণার জল ছলছলি,

মাঠের পথে সে ধায়…

জল তরঙ্গে ঝিলমিল ঝিলমিল

ঢেউ তুলে সে যায়—

গানের তালে সর্পিল ভঙ্গিতে শরীরকে বাঁকিয়ে সে এমন এক মন্ত্রমুগ্ধকর পরিবেশ তৈরি করল, যা যেকোনো শিল্পীকেও হার মানায়। হাতের আঙুলের নিখুঁত লহী, চোখের কোলজুড়ে খেলে যাওয়া এক্সপ্রেশন আর কোমর ও পায়ের সুনিপুণ মুভমেন্ট। বাংলা গানেও ওয়েস্টার্ন ফিউশনে এমন পারফেক্টলি নাচা যায় তা এই মেয়েটাকে না দেখলে যেন বোঝাই যেত না। প্রতিটি স্টেপ, ব্যালেন্স এবং পায়ের ড্রিল এতটাই নিখুঁত যে তা দেখতে অবিশ্বাস্যরকম আকর্ষণীয় লাগছিল।

তাকাবে না বলেও সীমান্ত শেষ পর্যন্ত চোখ ফিরিয়ে রাখতে পারল না। আচ্ছন্ন হয়ে সে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল সেই নাচের দিকে। পুরো সময়টা জুড়ে সে যেন এক প্রকার ঘোরের মধ্যে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে দেখল। নাচের তালে তালে আন্দোলিত হওয়া সেই মেয়েটির মায়াবি মুখটার দিকে তাকিয়ে সীমান্তের অবচেতনেই মনে হলো, এই শিল্পসত্তা আর এমন মায়াবী মুখের সঙ্গে এই বাজে আধুনিক পোশাকগুলো একটুও মানায় না! এটা যেন একটা বড় অপচয়।

ঠিক সেই মুহূর্তেই কানে এল তারই এক স্টুডেন্টের গলা।

“স্যার! আপনি কখন এলেন? ডাকবেন তো! আসলে আমরা একটু... সরি স্যার।”

স্টুডেন্টের ডাকে সম্বিৎ ফিরে পেয়ে সীমান্ত এক নিমেষে মেয়েটার দিক থেকে চোখ সরিয়ে নিল। চশমাটা নাক থেকে একটু ওপরে ঠেলে দিয়ে সে গম্ভীর গলায় বলল,

“সমস্যা নেই, বেশিক্ষণ হয়নি এসেছি। চলো, বাকিদের ডাকো, পড়া শুরু করব।”

বলেই সে বেরিয়ে এল অডিটোরিয়াম এড়িয়া থেকে। কিছুক্ষণ পর বাকি স্টুডেন্টরা একে একে আসতেই সীমান্ত তার স্বাভাবিক গম্ভীর ভঙ্গিতে পড়ানো শুরু করে দিল। কিন্তু পড়ার ফাঁকে হঠাৎ করেই সে সামিরার দিকে তাকিয়ে কৌতূহলী গলায় জিজ্ঞেস করে বসল,

“ওরা তোমাদের ফ্রেন্ড? আগে তো কখনো এদিকে দেখিনি ওদের।”

সামিরা খাতা থেকে চোখ তুলে বলল,

“হ্যাঁ স্যার, ফ্রেন্ড। তবে ওরা এদিকের না, আজ এমনি আমাদের সঙ্গে মিট করতে এসছিল।”

“ নাচছিল সেই মেয়েটার নাম?” সীমান্ত জিজ্ঞেস না করে থাকতে পারল না।

সামিরা বলল,

“দীপানূর…।”

সীমান্তের মনে আরও কিছু জানার কৌতূহল জাগলেও সে আর কোনো প্রশ্ন করল না। কিন্তু সেদিনটার পর থেকে অদ্ভুত ভাবেই ওই গানটি আর সেই বেপরোয়া মেয়েটি না চাইতেও তার মাথার ভেতর জেঁকে বসল। দিন নেই, রাত নেই প্রতি মুহূর্তে, প্রতি প্রহরে অবচেতনেই সেই গানের সুর তার মনের ভেতর বাজতে থাকে। রাতে ঘুমানোর সময় চোখ বন্ধ করলেই স্ক্রিনের মতো ভেসে ওঠে সেই লাগামছাড়া অথচ অদ্ভুত সুন্দর মেয়েটির মুখ। অথচ মনে মনে সে এমন ধরনের মেয়েদেরই সবচেয়ে বেশি অপছন্দ করে! তবে অদ্ভুত ব্যাপার হলো, এর পর থেকে সে আর কখনো সেই স্কুলে বা আশপাশে ওই মেয়েটিকে দেখেনি সে।

সীমান্তের বয়স এখন সাতাশ। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও সেই মেয়েটির দ্বিতীয়বার দেখা সে পায়নি। অথচ এই দীর্ঘ সময়েও কত শত ব্যস্ততার ভিড়ে মেয়েটা বারবার ফিরে এসেছে তার স্মৃতির ফ্রেমে। সামিরাদের সেই টিউশন কবেই ছাড়িয়ে এসেছে সে, স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে তারা এখন কোথায় বা কোন কলেজে ভর্তি হয়েছে তার কোনো খবরই জানে না সীমান্ত।

আর আজ, তুরান যখন তাকে নিজের মনের গোপন কথাটা খুলে বলল, তখন থেকেই সেই পুরোনো মুখটা আরও বেশি করে তার মাথার ভেতর ঘুরপাক খাচ্ছে। তুরান যখন সরাসরি জানতে চেয়েছিল, সীমান্ত অন্য কাউকে ভালোবাসে কি না সে উত্তর দিতে পারেনি। সে কাউকে ভালোবাসে না, এটাই তো সত্য। সে তো কোনো দিন কাউকে ভালোবেসেও দেখেনি। তাহলে কেন মাঝেমধ্যে সেই অচেনা মেয়েটার কথা মনে পড়ে তার? এ জীবনে চলার পথে কম তরুণীর সঙ্গে তো পরিচয় হয়নি তার, তবে কেন কয়েক মুহূর্তের জন্য দেখা দেওয়া এক বেপরোয়া মেয়েকে সে আজও ভুলতে পারে না?

সারা রাত ধরে বিছানায় এপাশ-ওপাশ করে সীমান্ত। তুরানের কথাগুলো মাথা থেকে সে কিছুতেই সরাতে পারছে না। তুরান আজ তার কাছে অনেক বড় একটা আবদার করে বসেছে। তুরান তাকে পাগলের মতো ভালোবাসে! কথাটা অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটাই নির্মম সত্য, অথচ এই মুহূর্তে তুরানের অন্য কোথাও বিয়ে পাকাপাকি হয়ে যাওয়ার জোগাড়। কিন্তু যে মেয়ে তাকে নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসে, তাকে কি সে ফিরিয়ে দিতে পারে? সীমান্তর জীবনে তো আর কেউ নেই! সে বিয়ে তো আজ হোক বা কাল, একদিন না একদিন করতেই হবে। তাহলে যে মেয়ে তাকে এতটা ভালোবাসে, তাকে কেন জীবনসঙ্গী হিসেবে মেনে নেবে না সে? কিন্তু সমস্যা হলো, তার মন যে মাঝেমধ্যে অন্য এক নারীর অবয়ব খুঁজে ফেরে! যদিও সে জানে, সেই মেয়েকে সে ভালোবাসে না, আর ভালোবাসলেও কি সেই অধরা মেয়েটি কোনো দিন তার নাগালে আসত?

ভাবতে ভাবতে ক্লান্ত ও বিরক্ত হয়ে ওঠে সীমান্ত। এ কোন অদ্ভুত এক মানসিক বেড়াজালে এসে আটকে গেল সে? এর সমাধানই বা কী? ঠিক এই মধ্যরাতে হঠাৎ করেই তার কান্নার মৃদু আওয়াজ কানে আসে। গলার স্বরটা খুব চেনা। তুরান কাঁদছে! বিনা বাক্যব্যয়ে বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ে সে। পা টিপে টিপে এগিয়ে যায় তুরানের রুমের দরজার সামনে। দরজাটা পুরোপুরি বন্ধ নয়, সামান্য ফাঁক হয়ে আছে। আলতো করে একটা ধাক্কা দিতেই দরজাটা আরও একটু মেলে গেল। ভেতরে চোখ পড়তেই সীমান্ত দেখতে পেল, তুরান জায়নামাজে বসে আছে। তার দুচোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে অবিরাম জল, দৃষ্টি ওপরের আকাশের পানে নিবদ্ধ। সৃষ্টিকর্তার কাছে সে বুকফাটা কান্নায় নিজের না পাওয়ার বেদনা নিবেদন করছে। আজ রাতে বাড়িতে নেই ইরান; মায়ের সঙ্গে নানাবাড়ি গেছে। চারপাশটা তাই একেবারে নিঝুম।

তুরানের কান্নার প্রতিটা শব্দে যেন বুক ভেঙে আসছে। সে সৃষ্টিকর্তার কাছে বারবার মিনতি করে বলছে, সে জীবনে আর কিছু চায় না, শুধু সীমান্তকেই তার চাই।

মেয়েটার এই আর্তনাদ শুনতে শুনতে সীমান্তের বুকের ভেতরটা কেমন যেন মোচড় দিয়ে উঠল। তার সমস্ত দ্বিধাদ্বন্দ্ব নিমেষে বরফ হয়ে গলে গেল। একটা মেয়ের এমন নিঃশর্ত ভালোবাসা আর কষ্ট সে আর সহ্য করতে পারছে না। তারওপর তুরান তার অনেক আদরের। নিজের মনের ভেতর সেই একই প্রশ্নটা আবারও জোরালো হয়ে উঠল---তার জীবনে তো আর কেউ নেই! সে তো আজ হোক কাল বিয়ে করবেই, তাহলে তুরানকে নয় কেন? যে মেয়ে তার জন্য এত চোখের জল ফেলছে, তাকে আপন করে নিলে ক্ষতি কী?

নিঃশব্দে সীমান্ত ঘরে প্রবেশ করে সে গিয়ে বসল তুরানের পাশে। পাশে কারো উপস্থিতি টের পেয়ে তুরান চকিতে মাথা তুলে তাকাল। ঘরের আবছা আলোয় সীমান্তের মুখখানা ভেসে উঠতেই তার বুকটা কেঁপে উঠল। সমস্ত বাঁধ ভেঙে সে তখন ছোট বাচ্চার মতো ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল, ঘনঘন বুক চিরে বেরিয়ে আসতে লাগল দীর্ঘশ্বাস। সীমান্ত বাড়িয়ে দিল তার উষ্ণ হাত দুটো, দুহাতে তুরানের ভেজা মুখটা আগলে ধরে নরম গলায় ধমকের সুরে বলে উঠল,

“চোখদুটোকে একদম টিউবওয়েল বানিয়ে ফেলেছিস! আমি তোকে কতবার বুঝিয়ে বলেছি, রিয়াজ ছেলেটা ভালো; ও তোকে অনেক ভালো রাখবে।”

কান্নায় ভেঙে পড়া গলায় তুরান তৎক্ষনাৎ মাথা নেড়ে প্রতিবাদ করে উঠল,

“কিন্তু আমি তার সঙ্গে ভালো থাকতে পারব না! আমার জীবন তো একটাই, তবে কেন সেই জীবনে আমি আপনাকে পাব না?”

সীমান্ত মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাকিয়ে রইল তুরানের কাঁচভাঙা চোখের দিকে। সে নিচু গলায় বোঝাতে চাইল,

“দেখ তুরান, আমি তোর অভিভাবকের মতো, একটা স্নেহের জায়গায় তোকে অনেক ভালোবাসি। কিন্তু...”

সীমান্তের কথা শেষ হতে দিল না তুরান। ফুঁপাতে ফুঁপাতে সে একরকম আর্তনাদ করে উঠল,

“আপনার ভালোবাসতে হবে না, সেটার কোনো প্রয়োজন নেই! আপনার যদি অন্য কাউকে ভালোবেসে থাকেন, আপনি তাকেই বিয়ে করে নিয়েন—আমি তাকে ভাইয়ের বউ হিসেবে মেনে নেব! কিন্তু আমি পারব না অন্য কোনো মানুষের হাত ধরতে। তার চেয়ে বরং সারাজীবন একা কাটিয়ে দেব, তবুও এই খাঁচায় বন্দি হব না!”

“পাগলামি করিস না। এভাবে একটা মানুষের জীবন একা একা চলে না।”

“দরকার নেই চলার! আমি নিজ দায়িত্বে আমার জীবন এভাবেই চালিয়ে নেব।”

“তুরান...” সীমান্ত একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

চোখ মুছতে মুছতে তুরান অভিমানে এক অদ্ভুত কথা বলে বসল,

“আমি কি দেখতে খুব বিশ্রী, সীমান্ত ভাইয়া? আপনার চোখে আমি কি সুন্দর না? আপনি যাকে ভালোবাসেন, সে কি আমার চেয়ে অনেক বেশি সুন্দরী?”

তুরানকে থামিয়ে দিয়ে সীমান্ত একটু শক্ত গলায় বলে উঠল,

“আমি কি একবারও তোকে বলেছি যে আমি অন্য কাউকে ভালোবাসি?”

অভিমানী সুরে তুরান জানতে চাইল,

“তাহলে কেন আপনি আমাকে এভাবে ফিরিয়ে দিচ্ছেন? এর একটা যৌক্তিক কারণ আমাকে দেখান! আজ নিজের সব আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে আপনার সামনে ছ্যাঁচড়ার মতো বলছি আপনাকে চাই! অথচ জীবনে কোনোদিন আমি কারও কাছে একটা সুতোও চেয়ে নিইনি!”

সীমান্তের বুকটা মোচড় দিয়ে উঠল ফের। সে আবার অনেক কিছু ভাবল। তার নিজের জীবনে তো চাওয়ার মতো আর কেউ নেই। সেই অচেনা মেয়েটার মুখ কেবল এক মায়াবী স্মৃতির মতো ঘুরে বেড়ায়, যাকে সে কোনো দিন খুঁজেও পাবে না। তাহলে কেন একটা জলজ্যান্ত মানুষের এই নিঃশর্ত ভালোবাসাকে সে ঠেলে ফেলে দেবে? আর এমন না যে তুরান তার অচেনা কেউ। তুরান তার খুব আদরের। দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে নরম গলায় বলল,

“ঠিক আছে... আমি বাবাকে বলব রিয়াজদের না করে দিতে।”

কান্নাভেজা চোখ দুটো মুহূর্তের জন্য চড়কগাছ হয়ে গেল তুরানের। কাঁপা কাঁপা গলায় প্রায় অবিশ্বাসের সুরে জানতে চাইল,

“সত্যি.. মানে সত্যি বলছেন?”

একটু ম্লান হেসে বলল সীমান্ত,

“আমাকে আজ অব্দি কোনো দিন মিথ্যে বলতে দেখেছিস?”

বাক্যটা কান পর্যন্ত পৌঁছাতেই তুরানের মলিন মুখটা হঠাৎ করেই খুশিতে ঝলমল করে উঠল। মেঘ কেটে যাওয়ার মতো তার ভেজা চোখেই ফুটে উঠল এক চিলতে বাঁধনহারা হাসি। সে ব্যাকুল হয়ে জিজ্ঞেস করল,

“তাহলে... আপনি কি আমাকে বিয়ে করবেন?”

সীমান্ত একটু গম্ভীর ভাব বজায় রেখে মৃদুস্বরে বলল,

“করলে খুশি হবি?”

তুরান লজ্জার মাথা খেয়ে মাথা নেড়ে ফেলল,

“হুম!”

সীমান্ত একটু থেমে, খানিকটা সতর্ক গলায় বলল,

“কিন্তু... আমার জীবনের এই গোছানো স্বভাব, ব্যস্ততা আর খামখেয়ালিপনার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া তোর জন্য সহজ হবে না। তাছাড়া আমাদের সম্পর্কের সমীকরণটাও একটু অন্যরকম...”

সীমান্তের কথা শেষ হওয়ার আগেই তুরান একটু কাছে এগিয়ে এসে উদ্দীপ্ত কণ্ঠে বলল,

“আমার আর কিচ্ছু চাই না! দুনিয়ার কিচ্ছু না! কেবল আপনার নামের পাশে আমার নামটুকু জড়িয়ে থাকলেই এই জীবন সার্থক!”

—— লেখিকার পেইজ নেইম: Ayesha Rin—রিন

রাতের নিস্তব্ধতায় সীমান্ত এবং তুরানের কথপোকথন সীমান্তের বাবা সুলেমান সাহেব মাঝরাতে তৃষ্ণার্ত হয়ে পানি খাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হয়ে দুর্ঘটনাবশত সবটাই শুনে ফেলেছিলেন। পরের দিন সকালে কাউকে কিছু টের হতে না দিয়ে, নিজ দায়িত্বে সে সরাসরি রিয়াজদের পরিবারকে ফোন করে জানিয়ে দেন যে এই বিয়ে আর এগোচ্ছে না। নিজের পরিবারকে জানায় সীমান্তের সঙ্গেই তুরানের বিয়ে হবে।

বাবার এমন একতরফা ও দৃঢ় সিদ্ধান্তে সীমান্ত নিজে থেকেই হাঁপ ছেড়ে বাঁচে। তাকে আর নিজের মুখে বাবার কাছে লজ্জা ভেঙে কথাগুলো বলতে হলো না। খবরটা কানে পৌঁছানোর পর থেকে তুরানের অবস্থা ছাদখোলা ছাদের মতো। সে যেন আকাশেই উড়ছে!

তবে গোল বাঁধল তুরানের মাকে নিয়ে। মেয়ের বিয়ে ভাঙানোর জন্য যিনি সীমান্তকে ডেকে এনেছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেই সীমান্তের সঙ্গেই মেয়ের বিয়ে ঠিক হচ্ছে! তাই প্রথমে সে রাজি ছিল না। কিন্তু তুরানের চোখের সেই মরা কান্নার জায়গায় উপচে পড়া খুশির ঝিলিক, আনন্দ দেখে আস্তে আস্তে সব মেনে নিলেন সব। শত অমত সত্ত্বেও মেয়ের মুখের ওই এক ফালি হাসির কাছে শেষ পর্যন্ত হার মানতে বাধ্য হলেন তিনি।

এরপর থেকেই শুরু হয়ে গেল বিয়ের ব্যস্ত প্রস্তুতি আর শপিংয়ের পালা। চারপাশটা মেতে উঠল উৎসবের আমেজে। বিয়ের বাজার মানেই অন্যরকম আনন্দ, আর তুরানের জন্য তো এটা রূপকথার চেয়েও কম কিছু নয়। নিজের পছন্দমতো একে একে বিয়ের চমৎকার সব শাড়ি, ম্যাচিং গয়না, প্রসাধন আর রকমারি পোশাক কেনার পাশাপাশি তুরানের সমস্ত মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠল সীমান্ত। সে ভালো করেই জানে, নিজের পছন্দের ব্যাপারে সীমান্ত কতটা উদাসীন আর খামখেয়ালি। নিজের জন্য একটা ভালো শার্ট বা প্যান্ট কেনাতেও তার হাজারটা আলসেমি। তাই তুরান নিজেই দিয়ে সীমান্তের জন্য কেনাকাটা করতে শুরু করে। সব কিছু নিজের পছন্দ অনুযায়ী কিনে নিল।

দেখতে দেখতে গায়ের হলুদের পর্ব শেষ হয়ে মুহূর্তের মধ্যে উপস্থিত হয় বিয়ের সেই কাঙ্ক্ষিত সন্ধ্যা। বাড়ির বড় উঠোনের মাঝে রঙিন কাপড়, গাঁদা ফুলের মালা আর চারপাশের ঝলমলে আলোয় চমৎকারভাবে সাজানো হয়েছে বিয়ের আসর। চারদিকে আমন্ত্রিত অতিথি, আত্মীয়স্বজন আর প্রতিবেশীদের কোলাহলে মুখর পরিবেশ। মাঝখানের লাল বেদিতে পাশাপাশি বসে আছে সীমান্ত আর তুরান। একটু পরেই কাজি সাহেব এসে পড়াবেন পবিত্র আক্দ, সম্পন্ন হবে জীবনের নতুন অধ্যায়।

আত্মীয়স্বজনরা একে একে এসে দুজনকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে, কেউবা হাসিমুখে মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করছে। এই ভিড়ভাট্টা আর কোলাহলের মাঝেও সীমান্তের মনের একটা কোণ কোথায় যেন একটু কেমন জানি অস্থির হয়ে আছে, কিন্তু তার পাশেই বসে থাকা তুরানের মুখের উদ্ভাসিত খুশির হাসি দেখতেই তার সেই অস্থিরতা নিমেষে উবে যাচ্ছে। মনে মনে ভাবতে থাকে সে, সে কি কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে? একদম না। জীবনে ভালো থাকতে হলে যে মানুষটি নিঃশর্ত ভালোবাসে, তাকেই আপন করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। আর তুরান তো তাকে নিজের প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসে।

সীমান্ত চোখ ফিরিয়ে তাকাল তুরানের দিকে। তুরান আজ উজ্জ্বল, দীপ্ত চোখে চারপাশের আনন্দময় দৃশ্যটা দেখছে। নিজের মনের মতো করে, বড় যত্নে আজ সেজেছে মেয়েটা। সারাদিন ধরে সে সীমান্তকে একশবার জিজ্ঞেস করেছে, তাকে কেমন লাগছে? অথচ আজ যদি এই বিয়েটা রিয়াজ নামের ওই ছেলেটির সঙ্গে হতো, তবে মেয়েটার চোখের জলে বুক ভেসে যেত। সীমান্ত তুরানের একটু কাছাকাছি ঘেঁষে বসল, গলা নামিয়ে মৃদু স্বরে ফিসফিস করে বলল,

“আজ সত্যিই তোকে খুব সুন্দর লাগছে।”

তুরান সামনের দিকেই তাকিয়ে রইল। বলল,

“আপনার চোখ কিন্তু তা বলছে না।”

ভ্রু কুঁচকে সীমান্ত জানতে চাইল,

“আমার চোখ কী বলছে?”

একটু মুচকি হেসে নিচু গলায় জবাব দেয় তুরান,

“আপনার চোখ বলছে, আমি আপনাকে এই বিয়ে করতে বাধ্য করেছি।”

“ইচ্ছে না থাকলে এই সীমান্তকে বাধ্য করার সাধ্য কারোর নেই।”

তুরান এবার চকিতে ফিরে তাকাল সীমান্তের চোখের দিকে। তার কণ্ঠে আকুলতা,

“তবে কি নিজ ইচ্ছায় আমায় নিজের বউ করছেন?”

সীমান্ত পলকহীন তাকিয়ে থেকে গম্ভীর অথচ নরম গলায় বলল,

“হ্যাঁ, করছি।”

পুরুষটির একটিমাত্র কথায় শীতল প্রশান্তিতে ভরে গেল তুরানের বুকের ভেতরটা। আজ হয়তো সীমান্ত তাকে জোর করে বা বাধ্য হয়ে কবুল বলবে, কিন্তু একদিন সেও তুরানকে ভালোবাসবে। অনেক, অনেক বেশি ভালোবাসবে। আর তাদের সেই ভালোবাসার সংসারে হয়তো একদিন দীঘি বা দিগন্ত আসবে। তুরানের গালদুটো লজ্জায় রাঙা হয়ে উঠল।

সীমান্তের বুক চিরে বেরিয়ে এল দীর্ঘশ্বাস। বিয়ের আসরে বসেও সে কিছুতেই নিজের অবচেতন মনকে আটকাতে পারছে না; সে এই মুহূর্তে অন্য কোনো নারীকে নিয়ে ভাবতে চায় না, অথচ মানুষ মাঝে মাঝে অদ্ভুত এক মায়াজালে এমন সবকিছুর দিকে আকৃষ্ট হয়ে পড়ে---যা একসময় ঘৃণার তালিকায় থাকে সবার প্রথমে।

নিজেকে সামলে নিয়ে সীমান্ত তুরানের দিকে তাকিয়ে আবারও নিচু স্বরে কৌতুক ও কৌতূহল মিশ্রণে বলল,

“তোর ভালোবাসার মানুষকে তো শেষ পর্যন্ত পেয়েই গেলি। বল, এখন তোর অনুভূতি কেমন?”

তুরান এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। সে মনে মনে ফিরে গেল পেছনের সেই দীর্ঘ রাতগুলোতে। যে রাতগুলো সে কেবল এই সীমান্তকে পাওয়ার আকুল প্রার্থনা করে বিনিদ্র কাটিয়ে দিয়েছে। স্নিগ্ধ হাসি ফুটিয়ে মেয়েটা ফিসফিস করে বলল,

“উহু, আপনি আমার ভালোবাসা নন, আপনি আমার রাত জেগে তাহাজ্জুদ পড়ার ফল।”

তুরানের এমন সরল তবে ভারী বাক্যটা শোনার পর সীমান্ত এর বিপরীতে কিছু একটা বলতে যাবে, ঠিক তখনই পকেটে থাকা ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে সে দেখল, তাদের কর্মচারী ফোন করেছে। সন্দেহ নিয়ে কল রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে ভেসে এল লোকটির কান্নায় ভেঙে পড়া রুদ্ধশ্বাস গলা,

“ভাইজান! তাড়াতাড়ি আসেন! ওই কোম্পানির সেই লোকগুলো দলবল নিয়ে সোজা আমাদের খেতের মধ্যে এসে হামলা করেছে! ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে কু/পি/য়ে মেরে ফেলেছে ওরা! আপনারা রক্ষা করুন!”

সীমান্তের পায়ের তলার মাটি সরে গেল। মুহূর্তের মধ্যে তার সারা শরীরে বিদ্যুৎ খেলে গেল তার। বিন্দু মাত্র সময় নষ্ট না করে সে উঠে দাঁড়াল বিদ্যুতের বেগে। তবে হুলস্থুল বাঁধিয়ে এখনই বাড়িতে উপস্থিত সবাইকে আতঙ্কে ফেলতে চাইল না সে। তুরান তার এমন হঠাৎ ওঠানামা দেখে চমকে উঠে জিজ্ঞেস করল,

“কী হয়েছে? হঠাৎ এমন ফ্যাকাশে লাগছে কেন আপনার মুখ?”

নিজেকে শক্ত করে তুরানের কাঁধে হাত রেখে চাপা গলায় বলল যুবক,

“জরুরি একটা কাজে একটু বাইরে যাচ্ছি। তুই চুপচাপ এখানেই বসে থাকবি, কোথাও যাবি না।”

তুরান আরও ঘাবড়ে গিয়ে খপ করে তার হাত খামচে ধরে বলল,

“সবাই তো আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে! এখন হুট করে এভাবে মাঝপথ থেকে চলে গেলে মানুষ কী ভাববে?”

সীমান্ত তার হাতটা আলতো করে ছাড়িয়ে নিয়ে আশ্বাস দিয়ে বলল,

“আমি আসছি তো। তুই ভয় পাস না... জাস্ট একটু জরুরি কাজ, যাব আর আসব।”

বলেই পা বাড়ায়। তুরানের মনটা কেমন লাগছে। সে আবারও ধরে ফেলে সীমান্তর হাত। আতঙ্কিত চোখে তাকিয়ে বলে,

“দ্রুত ফিরে আসবেন, ওকে? আমার কেন যেন ভালো লাগছে না।”

সীমান্ত মাথা নাড়ল। আর অপেক্ষা না করে লম্বা পায়ে প্যান্ডেল ছেড়ে বেরিয়ে গেল। যাওয়ার পথে তার বাবা সুলেমান সাহেব, চাচা সুলতান সাহেব এবং অন্য আত্মীয়রা তাকে ডেকে উঠলেও সে পেছন ফিরে তাকাল না, কোনো উত্তর না দিয়ে সোজা বাড়ির প্রধান গেটের দিকে পা বাড়াল। সে যেতেই কিছুক্ষণের ভেতর হুড়মুড় করে উঠোনে প্রবেশ করল কয়েকটা জিপ গাড়ি। গাড়ি থামার সঙ্গে সঙ্গে দরজা খুলে লাফিয়ে নামল একদল হিং/স্র চেহারার লোক। তাদের প্রত্যেকের হাতে র/ক্তপিপাসু ধারালো দা, কু/ড়া;ল আর বিশাল আকারের রা/মদা! হঠাৎ ন/রপিশা/চগুলোর এমন তাণ্ডবলীভী উপস্থিতি দেখে উঠোনে উপস্থিত সবার র/ক্ত হিম হয়ে এল। ভয়ে তুরানের গলা শুকিয়ে কাঠ। লোকগুলোকে এভাবে অ/স্ত্র হাতে তেড়ে আসতে দেখে সুলেমান সাহেব ও সুলতান সাহেব আত্মরক্ষার জন্য, হাতে তুলে নিলেন উঠোনে থাকা একটা দা।

কিন্তু কোনো কথা বলারই সুযোগ দিল না ওরা। কোনো বাক্যবিনিময় ছাড়াই, পলকের ভেতর সুলেমান সাহেবের দিকে এগিয়ে গিয়ে এক কো//প বসল তাঁর ঘাড়ে!

এক কো//পেই সুলেমান সাহেবের মা//থাটা গ/লা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে শরীর থেকে আ/লাদা হয়ে দূরে ছিটকে পড়ে গেল! র//ক্তে ভেসে গেল বিয়ের লাল গালিচা। এমন বিভীষিকাময় দৃশ্য চোখের সামনে দেখতেই তুরান, ইরান, রূপালি বেগম ও সোহানা বেগম কান্নার রোল বিকট চি/ৎকারে ফেটে পড়ল। ভারী করে তুলল আকাশ-বাতাস। পাখিগুলো কেমন করে ডেকে উঠল। সুলতান সাহেব আতঙ্কিত হয়ে পিছিয়ে গেলেন। বিয়ের আসরে উপস্থিত সমস্ত আত্মীয়স্বজন নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে যে যেদিকে পারল হুড়মুড় করে ছুটতে শুরু করল। তুরান দেখল তাদের দিকে এগিয়ে আসছে কয়েকজন। সে ইরানের হাত ধরে ছুটটে শুরু করে।

সকলে রেসপন্স করিয়েন, আগামী পর্ব দ্রুতই দিয়ে দেব।

চলবে…

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৫৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন