#শুকনো_পাতার_নূপুর_পায়ে
#আয়েশা_রিন
#পর্ব৫৮
[কপি ও রিপোস্ট করা থেকে বিরত থাকবেন]
রাত তখন ঠিক বারোটা বাজে। হিমেল হাওয়া আর গভীর রাতের সুনসান নীরবতা চারপাশটাকে আরও ভারী করে তুলেছে। খোলা আকাশের নিচে ছিমছাম এক কফিশপের শেষ কোণের টেবিলে একাকী বসে কফিতে চুমুক দিচ্ছে লোকটা। ক্যাফেটির চারপাশের আলো ইতিমধ্যে নিভিয়ে দেওয়া হয়েছে, কিছুক্ষণের মধ্যেই কফিশপটি বন্ধ হয়ে যাবে। এই বিশাল খোলা চত্বরে লোকটা ছাড়া এই মুহূর্তে দ্বিতীয় কোনো প্রাণীর উপস্থিতি নেই; কেবল কাউন্টারের ভেতরে বাতি জ্বালিয়ে হিসাব মেলাতে ব্যস্ত কফিশপের একমাত্র কর্মীটি। প্রগাঢ় গভীরতা, চারপাশের গা ছমছমে নিস্তব্ধতা আর পেছনের জমাট বাঁধা অন্ধকার মিলে পরিবেশটাকে করে তুলেছে থমথমে।
লোকটা হুট করে নিজের একদম পাশেই কোনো এক অপরিচিত মানুষের উপস্থিতি টের পেল। সারা শরীরের চামড়া কুঁকড়ে উঠল, শিরশির করে উঠল র/ক্ত। গত কয়েক মাস ধরে তার নিজের অপরাধী দলের একে একে প্রতিটি সদস্য যেভাবে রহস্যজনকভাবে খু//ন হয়েছে, তা তার চোখের সামনে ভেসে ওঠে। সে ভালো করেই জানে, তার সময়ও চলে এসেছে। তাই বাধ্য হয়ে ব্যাগপত্র গুছিয়ে সে সিদ্ধান্ত নিয়েছে গ্রামে ফিরে যাবে। এই কফি শেষ করেই সোজা বাসে চড়ে ঢাকা শহর ছেড়ে চিরতরে পালিয়ে যাবে।
ভয়ে গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেলেও সে আর স্থির থাকতে পারল না। ধীরে ধীরে নিজের ঘাড়টা ঘুরিয়ে পাশের শূন্য চেয়ারটার দিকে তাকাতেই তার মেরুদণ্ড বেয়ে শীতল স্রোত নেমে গেল!
তার ঠিক পাশেই গা ঘেঁষে বসে আছে কুচকুচে কালো রঙের একটা অবয়ব। না, লোকটার গায়ের চামড়া কালো নয়---পুরো মুখমণ্ডল, গলা যেন নিকষ কালো রঙের কিছু একটা মেখে ছদ্মবেশ ধারণ করেছে সে। অন্ধকারের সঙ্গে মিশে থাকা সেই মুখটার দিকে তাকাতেই আতঙ্কে লোকটার হৃৎপিণ্ড বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলো। কোনোমতে অস্ফুটে উচ্চারণ করল সে,
“কে... কে তুই?”
আগন্তক বিকৃত হাসি হেসে ফিসফিস করে বলে উঠল,
“তোর যম!”
বলেই সে একটা মুহূর্তও সময় নষ্ট করল না। বিদ্যুৎগতির চেয়েও দ্রুত হাতে লোকটার ঘাড়ের পেশি শক্ত থাবায় চেপে ধরে এক টানে তাকে টেবিলের নিচে নামিয়ে আনল। এরপর বাঁ হাতে ধরা ধারালো চা//পাটিটা দিয়ে এক কো//পে তার গ/লাটা শ/রীর থেকে নামিয়ে আলাদা করে দিল!
কফিশপের ভেতরে থাকা একমাত্র কর্মী কিছু বুঝে ওঠার আগেই সব শেষ। আগন্তক দ্রুত নিজের মাথার হুডিটা টেনে পুরো মুখটা আড়াল করে ফেলল এবং র//ক্তমাখা চাপাটি হাতে নিয়ে শান্ত পায়ে সেই খোলা ক্যাফে ছেড়ে অন্ধকারে মিলিয়ে গেল।
একটু দূরে অন্ধকার গলির মুখে গিয়ে সে পানির বোতল বের করে নিজের মুখ থেকে সেই কালো রঙের প্রলেপ আর রক্তের ছিটেফোঁটা ধুয়ে ফেলল। পানির ফোঁটায় ফোঁটায় ধুয়ে যাওয়া মুখটা স্পষ্ট হতেই দেখা গেল কয়েক মাস আগে নিঃস্ব হয়ে নিজের সাজানো পরিবারকে চিরতরে হারিয়ে ফেলা সেই র/ক্তপিপাসু ও প্রতিশোধপরায়ণ সীমান্তকে।
পরিবার ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর কিছুদিন সীমান্ত, ইরান আর চাচা সুলতান সাহেব নিজেদের পুরোপুরি গুটিয়ে রাখে পৃথিবীর বাকি সবকিছুর থেকে। সীমান্ত আগের সেই হোস্টেল ছেড়ে দিয়ে একটু দূরে নিরিবিলি একটা এলাকার একটি ছোট্ট বিল্ডিংয়ে একটি ছোট রুম ভাড়া নেয়। সেদিন তাদের বাড়িতে সেই পি/শাচগুলো র/ক্তের হোলি খেলেও শেষ পর্যন্ত তাদের ভিটেমাটা দখল করতে পারেনি। কারণ তুরানের আঘাতে তাদেরই মূল দলপতি ঘটনাস্থলেই মা/রা গিয়েছিল।
এত বড় মর্মান্তিক হ/ত্যা/কাণ্ড ঘটে যাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই সেই গ্রামে পুলিশ আর সাংবাদিকদের উপদ্রব শুরু হয়। কিন্তু পুলিশ না পেল সেই খু/নিদের সূত্র, আর না পেল বেঁচে যাওয়া বাকি তিনজনের কোনো খোঁজ। পুলিশ আসার আগেই গ্রামের সাধারণ মানুষ ও মসজিদের মানুষেরা নি/হতদের দাফন সম্পন্ন করে ফেলেছিল।
যে মসজিদ প্রাঙ্গণে সীমান্ত তুরানকে রেখে এসেছিল, সেখানের খাদেম থেকে শুরু করে স্থানীয়রা তুরানকে গ্রামের মেয়ে হিসেবে খুব ভালো করেই চিনত। তাই তারাই সব দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়ে শরিয়তসম্মতভাবে তুরানকে দাফন করে ফেলে। সীমান্ত ইচ্ছে করেই পুলিশকে এই হ/ত্যা/কাণ্ডের কোনো চাবিকাঠি হাতে তুলে দেয়নি। পুলিশের আইনি প্রক্রিয়ায় এসব ন/র/পিশাচদের বিচার হতে এবং তাদের ফাঁ/সি বা উপযুক্ত শা/স্তি কার্যকর হতে বছরের পর বছর সময় লাগবে--যে দীর্ঘ অপেক্ষার সহ্যশক্তি এই মুহূর্তে সীমান্তের নেই। আইন নিজের গতিতে চললে এই অপরাধীরা অর্থের জোরে বা ক্ষমতার প্রভাবে একসময় ঠিকই পার পেয়ে যেত। তাই গত কয়েক মাস ধরে সে আইনের তোয়াক্কা না করে নিজের নিজস্ব কৌশলে, একা একা একে একে খুঁজে বের করেছে সেই রাতে হামলায় অংশ নেওয়া প্রতিটি পি/শাচকে এবং নিজের হাতে তাদের সবার পরকালের টিকিট কেটে দিয়েছে।
এদিকে গত কয়েক মাসে গভীর রাতে যখনই সুযোগ পেত, ঢাকা থেকে গোপনে গ্রামে ছুটে আসত সীমান্ত। কেউ টের পাওয়ার আগেই রাতের নিস্তব্ধতায় সে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকত তার মা-বাবা চাচী আর তুরানের পাকা কবরগুলোর পাশে। নীরবে চোখের জল ফেলে কবর জিয়ারত করে আবার ভোরের আলো ফোটার আগেই ফিরে যেত ঢাকায়।
খু/নি চুনোপুঁটিগুলোকে একে একে শেষ করার পর এবার সীমান্তের একমাত্র লক্ষ্য হয়ে ওঠে এর পেছনে থাকা নির্দেশ দাতার। কেউ না কেউ তো তাদের এই নারকীয় তাণ্ডব চালানোর নির্দেশ দিয়েছিল। এত বড় একটা হত্যাকাণ্ড, একটা গোটা পরিবারকে ধুলিস্যাৎ করে দেওয়ার চক্রান্ত কার ইশারায় হয়েছিল এটি? নেপথ্যে থাকা সেই কুশীলবরা কারা?
কোন প্রভাবশালী কোম্পানি বা বিত্তশালী পরিবার এই ধ্বংসলীলার নেপথ্যে লুকিয়ে আছে, তা খুঁজে বের করা এবং তাদের শেকড় উপড়ে ফেলাই সীমান্তের চূড়ান্ত লক্ষ্য। অপরাধের মূল হোতাদের মুখোশ উন্মোচন না করা পর্যন্ত তার এই প্রতিশোধের আগুন কোনোভাবেই নিভবে না।
অনুসন্ধানের গোলকধাঁধায় হাঁটতে হাঁটতে একদিন সীমান্তের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠল সব সত্য; বেরিয়ে এল সেই কুখ্যাত ‘চৌধুরী বাড়ি’ আর তাদের বিশাল শিল্পগোষ্ঠীর নাম। সে জানতে পারল, কেবল তাদের গ্রামটিই নয়; নতুন নতুন ফ্যাক্টরি ও প্রজেক্ট গড়ে তোলার লোভে আশপাশের আরও বেশ কয়েকটি গ্রামে এই কোম্পানির ভাড়াটে গুণ্ডারা একই কায়দায় বুলডোজার চালিয়েছে, আগুন জ্বালিয়েছে, মানুষের ভিটেমাটি কেড়ে নিয়েছে।
আর এই গোটা ধ্বংসলীলার মাস্টারমাইন্ড হলো নূরজাহান চৌধুরী। সেদিন রাতে তাদের গ্রামে এসে তাণ্ডব চালানো এবং তুরানের সাথে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তুরানের আ/ঘাতে যে লোকটা মারা গিয়েছিল সে স্বয়ং নূরজাহান চৌধুরীর একমাত্র ভাই! কিন্তু সীমান্তের রক্ত আরও হিম হয়ে আসে যখন সে জানতে পারে নূরজাহান চৌধুরী পরিকল্পিতভাবে সেই ভাইয়ের সাহায্য নিয়ে নিজের স্বামীকে খু/ন করেছে। তবে এর পেছনের কারণ সে আজও জানতে পারেনি।
কিন্তু এইসব খুঁজতে গিয়ে সীমান্ত সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি খেল যখন সে নূরজাহান চৌধুরীর একমাত্র মেয়ের আসল পরিচয় জানতে পারল। চৌধুরী পরিবারের খুঁটিনাটি সব তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সে জানতে পারে নূরজাহান চৌধুরীর বড় ছেলে ও তার পরিবার এবং কানাডায় থাকা ছোট ছেলে মেহরাজের কথা। আর সেই সঙ্গে তার চোখের সামনে উন্মোচিত হয় এমন এক সত্য, যা তার হৃদস্পন্দন কয়েক মুহূর্তের জন্য থামিয়ে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট ছিল---নূরজাহান চৌধুরীর সেই একমাত্র মেয়ে আর কেউ নয়, সে হলো স্বয়ং দীপানূর! দীপানূর চৌধুরী দীঘি!
দুই বছর আগে, যখন সে পঁচিশ বছরের যুবক তখন জীবনে মাত্র একবারই টিউশন করাতে গিয়ে মেয়েটিকে দেখেছিল সে। এরপর আর কোনো দিন তাকে দেখেনি, মাঝখানে কেটে গেছে দুই বছরের বেশি। অথচ অদ্ভুত এক মায়ায় মেয়েটার অবয়ব বারবার তার মনের কোণে এসে কড়া নেড়ে গেছে। আর আজ সেই দীপানূরই দাঁড়িয়ে আছে তার ধ্বংসের তালিকায় থাকা মূল শত্রুর র/ক্ত হিসেবে!
চাঞ্চল্যকর এমন তথ্য পাওয়ার পর সীমান্ত যেন ছায়ার মতো মেয়েটার পেছনে লেগে গেল। দীঘি কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে দেখা করছে, কার সঙ্গে মিশছে---প্রতিটি পদক্ষেপে সে তীক্ষ্ণ নজর রাখতে শুরু করল। এভাবেই কেটে গেল আরও কয়েকমাস।
ঘটনাটি সেদিন রাতের। দীঘির ওপর নজর রাখতে রাখতে সীমান্ত এসে পৌঁছাল গুলশানের এক নাইট ক্লাবে ‘ক্লাব ইনফিনিটি’। ঝাপসা আলো আর ভারী মিউজিকে চারপাশ মুখরিত। মাথার হুডিটা দিয়ে নিজের মুখ আধা-আড়াল করে সে ক্লাবের এক কোণের অন্ধকার টেবিলে নিঃশব্দে বসে ছিল। তীক্ষ্ণ দৃষ্টি তার তখন আটকে আছে ওপাশের বন্ধুদের দলের সঙ্গে উন্মাদনায় মেতে নাচতে থাকা দীঘির ওপর। বরাবরের মতোই তার গায়ে ছিল ওয়েস্টার্ন স্টাইলের পোশাক। দীঘির সবচেয়ে কাছাকাছি যে ছেলেটা ছিল, তার নাম ইশান। এই গত কয়েক মাসে ছেলেটির আদ্যোপান্ত ভালোভাবে চিনে ফেলেছে সীমান্ত।
নাচতে নাচতে ইশান বারবার দীঘির হাতে অ্যা/লকোহলের গ্লাস তুলে দিচ্ছিল, আর দীঘিও অবলীলায় তা পান করছিল। কিন্তু একপর্যায়ে ইশান হঠাৎ দীঘি থেকে একটু দূরে সরে গেল। তারপর পকেট থেকে একটা ছোট্ট কাগজ বের করে দীঘির পানীয়ের গ্লাসে কিছু একটা মিশিয়ে দিল। দূর থেকে সীমান্তের সজাগ চোখ এই সম্পূর্ণ দৃশ্যটি স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছিল। ছেলেটি কাজ শেষ করে খালি কাগজটা মেঝেতে ফেলে দিয়েই আবার দীঘির দিকে এগিয়ে যায়। সীমান্ত দেরি না করে দ্রুত পায়ে সেই ফেলে দেওয়া কাগজের টুকরোটার কাছে গেল এবং সেটা কুড়িয়ে হাতে তুলে নিল।
কাগজের গায়ে লেগে থাকা গুড়ো ও গন্ধ পরীক্ষা করতেই সীমান্তের চোখ দুটো কুঁকড়ে গেল। তার মেধাবী মস্তিষ্ক বুঝতে দেরি করেনি এটা কী হতে পারে। এটি সাধারণ কোনো নেশাদ্রব্য ছিল না।
অত্যন্ত শক্তিশালী অবশকারী ও আসক্তিমূলক ড্রাগ! ‘Date ra/pe dr/ug’ যা কাউকে অচেতন করে তার ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়। স্নায়ুর ওপর এমন এক ধরনের প্রভাব ফেলে যেখানে মানুষের বিচারবুদ্ধি, ভালো-মন্দের বোধ এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ লোপ পায়। সীমান্তর ভ্রু কুঁচকে কাঠিন্য ফুটে উঠল তাতে। সে দ্রুত সেটা পকেটে পুরে আবারও নিজের আগের জায়গায় গিয়ে বসল। ঠিক সেই মুহূর্তে হঠাৎ করেই ক্লাবের আলো-আঁধারি কোণ থেকে একটা অপরিচিত মেয়ে তার ঠিক পাশে এসে হাজির হলো। হাতে একটা ম/দের গ্লাস বাড়িয়ে ধরে সে উসকানিমূলক সুরে বলে উঠল,
“হেই! একা একা এভাবে কর্নারে বসে বয়-ওয়াচিং করছ নাকি কোনো ক্রা/ইম থ্রিলার লিখছ, হ্যান্ডসাম? নাও, এই গ্লাসটা ধরো আর আমার সঙ্গে ফ্লোরে চলো, একটু নাচি।”
ঠান্ডা গলায় সংক্ষিপ্ত উত্তর দিল সীমান্ত,
“আমি এসব খাই না।”
মেয়েটা বাঁকা একটা হাসি দিয়ে মাতালের মতো জড়িয়ে জড়িয়ে বলল,
“উফ, বোরিং তো! নাইট ক্লাবে এসেছ অথচ এসব খাও না? এমন সাধু সাজলে কি কেউ বিশ্বাস করবে? চলো তো, ধরো এটা... খেয়েই দেখো কেমন লাগে!”
সীমান্ত বিরক্ত হয়ে একটু সরে বসল,
“এখান থেকে চলে যান।”
মেয়েটি অতি মাত্রায় মদ্যপ থাকায় সীমান্তের শীতল সতর্কতা তার কানেই গেল না। সে আরও জেদ ধরে বলে উঠল,
“তাহলে তুমি কী খাবে বলো? শুনি! কোনো বিশেষ মতলব বা ধান্দা আছে বলেই তো এভাবে চুপচাপ এসে বসে আছো, তাই না? চি/ৎকার করে এখুনি সব ক্যাফেটার লোকজন ডেকে জড়ো করব কিন্তু! খাবে কিনা বলো…”
সীমান্ত চোয়াল শক্ত করে বলল,
“আমার এসবে অভ্যেস নেই।”
“আরে বাহ! ফাস্ট টাইম শুনলাম কেউ নাইট ক্লাবে এসে বলছে তার নেশায় প্রবলেম আছে! ডোন্ট ওরি, আমার সাথে আড্ডা জমানোর জন্য এটা একদম পারফেক্ট ড্রিংক। নাও, জাস্ট ট্রাই ইট।”
সীমান্ত তাকে পাত্তা না দিয়ে পাশ ফিরে বসতে চাইল। কিন্তু মেয়েটি নাছোড়বান্দা। গ্লাস সামনে বাড়িয়ে দিয়ে চতুর হাসিতে সে বলে,
“এত ভাব নিও না তো! জাস্ট এক চুমুক দিয়ে দেখো, লাইফটাইম থ্যাংকস জানাবে। নাকি আমি চিয়ার্স করে পুরো ক্লাবের এটেনশন তোমার দিকে ড্র করব, বলো?”
বলেই মাতাল মেয়েটি জোর করে পুরো গ্লাসটা সীমান্তের মুখের সঙ্গে ঠেকিয়ে ধরল এবং সুযোগ না দিয়ে এক প্রকার জোর করেই পুরোটা তাকে খাইয়ে ছাড়ল। পরপরই আরও একটা গ্লাস তার গলায় ঢেলে দিল সে।
সীমান্তর মাথা সঙ্গে সঙ্গেই তীব্রভাবে ঝিমঝিম করে উঠল। অপরিচিত ম/দের বিষাক্ত ও অতিরিক্ত উত্তাপ স্নায়ুতন্ত্রকে মুহূর্তের মধ্যে আচ্ছন্ন করে ফেলল তার। রক্তাভ চোখে মেয়েটার দিকে তাকাল সে---যে দৃষ্টিতে খু/ন করার মতো ঠান্ডা আক্রোশ ছিল। কিন্তু মাতাল মেয়েটি এসবসবে ভড়কাল না সামান্যও; উল্টো সে আরও বেপরোয়া ভঙ্গিতে সীমান্তের হাত ধরে তাকে ফ্লোরের দিকে টেনে তুলতে চাইল।
ঠিক সেই মুহূর্তে সীমান্তের ঝাপসা দৃষ্টি আবারও গিয়ে আটকে গেল ওপাশে দীঘি ও ইশানের ওপর। দীঘি এতক্ষণে মারাত্মকভাবে নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। ডেট রে/প ড্রা/গের ককটেল তার র/ক্তে পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়ায় নিজের শরীরের ওপর তার আর সামান্যতম নিয়ন্ত্রণ নেই। চোখের পাতা জড়িয়ে আসছে, পা দুটো থরথর করে কাঁপছে। ইশানের শক্ত বাহুর ওপর কোনো রকমে ভর দিয়ে সে প্রায় ঢুলে পড়ছে। আর ইশান অত্যন্ত সুকৌশলে তাকে ভিড় থেকে সরিয়ে একেবারে গোপনীয়তার আড়ালে কোথাও একটা নিয়ে যাচ্ছে। ঠিক যেন কোনো সিনেমার দৃশ্য!
নিজের শরীরের ভেতর মাদকের নেশা দানা বাঁধলেও মুহূর্তের জন্যও নিজের লক্ষ্য থেকে সরে দাঁড়াল না সীমান্ত। সে এক ঝটকায় তার পাশে থাকা মাতাল মেয়েটাকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দেয়। টলমল পায়ে, ঝাপসা চোখে নিঃশব্দে ইশান আর দীঘির পিছন পিছন এগোতে লাগে। দুই গ্লাস কড়া কেমিক্যালের প্রভাবে এই প্রথম তার নিজের মাথাও চক্কর দিয়ে উঠছে, পায়ের তলার মাটি যেন সরে যেতে চাইছে। কিন্তু মনের জেদ আর প্রতিশোধের আগুন সেই অসাড়নেসকে ছাপিয়ে তাকে টেনে নিয়ে চলল।
ঝাপসা দৃষ্টি আর অন্ধকারের মধ্যেই সীমান্ত দেখতে পেল, ইশান দীঘিকে নিয়ে ক্লাবের করিডোরের শেষ মাথায় একটা প্রাইভেট ভিআইপি রুমে প্রবেশ করছে। কাকতালীয় বা ভাগ্যের এক অদ্ভুত পরিহাসে দরজা তখনো পুরোপুরি লক হয়নি। হয়তো তাড়াহুড়োয় বা অসাবধানতায় ইশান ভুলেই গিয়েছিল। ইশান দীঘিকে ভেতরে নিয়ে সরাসরি বেডের ওপর শুইয়ে দিল। সীমান্ত নিঃশব্দে ঘরের ভেতর ঢুকে চোখের পলকে আড়াল হয়ে যায় রুমের সঙ্গে থাকা সাউন্ডপ্রুফ ওয়াশরুমের ভেতরে। ওয়াশরুমের দরজাটা সামান্য ফাঁকা রেখে সে বাইরেটা পর্যবেক্ষণ করতে লাগল।
অন্ধকার ঘরে ইশান দরজাটা একটু টেনে দিয়ে গিয়ে দাঁড়াল বেডের কাছে। রুমের প্রধান লাইটগুলো ইতিমধ্যেই নিভিয়ে দেওয়া হয়েছিল, কেবল সিলিংয়ের ডিম লাইটের হালকা হলুদ আলো চুঁইয়ে পড়ছে ঘরের ভেতর। বেডের ওপর শুয়ে দীঘি তখন আচ্ছন্ন। তার চোখ দুটো ঘুমে ও নেশায় প্রায় বুজে এসেছে। ঝাপসা দৃষ্টি কোনো রকমে মেলে সে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ছায়াটার দিকে তাকাল। অস্পষ্ট ও ভাঙা গলায় সে বিড়বিড় করে উঠল,
“ইশান... আমার মাথাটা কেমন যেন ঘুরছে... খুব ঘুম পাচ্ছে... আমাকে একটু বাড়ি পৌঁছে দে না প্লিজ...”
কুৎসিত হাসি দিয়ে ইশান বিছানার আরও কাছে ঝুঁকে পড়ল। তার গলায় পৈশাচিক লোভ ও উল্লাস স্পষ্ট। সে বলল,
“বাড়ি যাওয়ার তাড়া কিসের, দীঘি? আজ আর কোথাও যেতে হবে না। আজ শুধু আমার কাছে থাকবি…”
বলেই ইশান তার নোংরা হাত বাড়িয়ে দীঘির দিকে এগিয়ে গেল এবং তার পোশাকের ওপর জঘন্যভাবে হাত দিয়ে জোরপূর্বক অশালীন আচরণ করতে শুরু করল। দীঘি অবচেতনভাবেই ক্ষীণ কণ্ঠে অস্পষ্ট স্বরে রাগ ঝাড়ল,
“ডু নট টাচ মি, ইউ পার্ভার্ট বা/স্টার্ড! সর বলছি, তোর সাহস তো কম না!”
ইশান শুনছে না কিছুই। ওয়াশরুমের দরজাটা নিঃশব্দে খুলে গেল সেই সময়। নেশায় আচ্ছন্ন মাথা, চোখের সামনে ঘুরপাক খাওয়া দুনিয়া কিছুকেই আর তোয়াক্তা করল না সীমান্ত। দীর্ঘ দীঘশ্বাস ফেলে সে বিদ্যুৎগতিতে বেরিয়ে এল ওয়াশরুম থেকে। হাতে তুলে নিল টেবিলের ওপর থাকা শক্ত কোনো ভারী বস্তু। ইশান কিছু বুঝে ওঠার আগেই সীমান্ত তার মাথার ঠিক মাঝবরাবর আ/ঘাত হানল। ভারী শব্দ হলো একটা। সঙ্গে সঙ্গেই ইশান মেঝেতে আছড়ে পড়ল এবং তৎক্ষণাৎ অজ্ঞান হয়ে তামাকের পাতার ন্যায় এলিয়ে পড়ে গেল ঘরের ঠান্ডা মেঝের ওপর।
সীমান্ত দ্রুত গতিতে ইশানের অবচেতন শরীরটা টেনে হিঁচড়ে সোজা ওয়াশরুমের ভেতরে ঢুকিয়ে দিল। লক করে দিল দরজাটাও। ওয়াশরুমের দরজা বন্ধ করে সে যখন হাঁপাতে হাঁপাতে আবার বেডের কাছে ফিরে এল, তখন তার নিজের শরীরের ভেতরেও মদের তীব্রতাও মারাত্মকভাবে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছে। চোখের সামনে সবকিছু দুলছে। সে এসে বসল দীঘির ঠিক পাশে। দীঘিকে টেনে তুলে সোজা করে বসাতে চাইল। ভাঙা গলায় বেশ বিরক্তি ও কটাক্ষের মিশেলে পুরুষটি বলে উঠল,
“এভাবে নাইট ক্লাবে এসে নিজেকে ভাসিয়ে দিলে পরিণতি এমন হওয়াই স্বাভাবিক।”
বিছানায় শুয়ে থাকা দীঘি তখন সম্পূর্ণ জ্ঞান হারিয়ে ফেলার ঠিক আগের মুহূর্তে। নেশা, তন্দ্রা আর আচ্ছন্নতার ঘোরে সে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে এক অবচেতন জগতে। সে সীমান্তের কথার কোনো অর্থই বুঝতে পারল না। উল্টো সীমান্তের হাত শক্ত করে খামচে ধরে সে নিজের শরীরের ওপর প্রায় টেনে ফেলল। মোহাচ্ছন্ন ভঙ্গিতে সে বিড়বিড় করে উঠল,
“ইশান! তোর গা থেকে অন্য রকম স্মেল আসছে... ভীষণ বোল্ড অ্যান্ড ওয়াইল্ড! টোটালি ডিফারেন্ট। জাস্ট কাম ক্লোজার..”
বলতে বলতে দীঘির আঙুলগুলো বুজে আসা চোখের আবেশেই ধরল এবার সীমান্তের শার্টের কলার, যেন অবুঝ শরীরটা নিজেই তাকে আরও কাছে টেনে নেওয়ার জন্য আকুল হয়ে উঠেছে।
রমণীর গায়ের মিষ্টি সুবাস ঝড়ের গতীতে গেল সীমান্তের নাকে; অবিন্যস্ত চুল আর গরম দীর্ঘশ্বাস সরাসরি এসে আঘাত করছে তার নিকট। সীমান্তের নিজের রক্তেও তখন মাদকতার তীব্র আগুন ছুটছে। মাথা কাজ করছে না, শরীর বিদ্রোহ করছে। তবু নিজেকে সামলানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে কড়া গলায় বলতে চাইল,
“আই অ্যাম নট ইশা...”
বাক্যটি আর শেষ হলো না। ঠোঁটের কাছে এসে কথাটা হারিয়ে গেল। কারণ এই আধো-অন্ধকার আর নেশার ঘোরে সীমান্ত নিজেই আর আলাদা করতে পারল না সে আসলে কী চায়! নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়া, নাকি এই মায়াবী আবেশে মেয়েটার আরও গভীরে হারিয়ে যাওয়া।
হালকা আলোতে দীঘি অবয়বটিকে আরও কাছে টানল। জড়িয়ে ধরল পুরুষটির গলা। বলল অস্পষ্ট স্বরে,
“জাস্ট কিপ মি ক্লোজ, ইশান…”
সীমান্ত নিজের ঠোঁট দীঘির কানের কাছে নিয়ে গেল। মদের নেশা আর উত্তেজনায় ভারী হয়ে যাওয়া গলায় সে ফিসফিস করে জানতে চাইল,
“ডু ইউ রিয়েলি ওয়ান্ট মি...?”
দীঘি এবার তার চোখের পাতা সামান্য মেলে ধরার চেষ্টা করল। তবে মেলল না পুরোটা। নেশার ভারী চোখে ঝিলিক দিয়ে উঠল অবদমিত আকুলতা।
“জাস্ট স্টে উইথ মি টু নাইট, ডোন্ট আস্ক এনি মোর কোশ্চেনস...”
আর ঠিক সেই মুহূর্তেই সমস্ত দ্বিধা, সব পরিচয় আর অতীতের হিসাব-নিকাশ ছাই হয়ে গেল সীমান্তের। দুজনেই চলে গেল ঘোর লাগা এক অবচেতন রাজ্যে। কে কার ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে, কে কাকে টানছে---তার কোনো বিচারবুদ্ধি বা হুঁশ কারও মাঝেই নেই।
সীমান্ত নিজের সমস্ত নিয়ন্ত্রণ বিসর্জন দিয়ে ঝুঁকে পড়ল দীঘির ওপর। পুরুষ মনের কঠিন সংযম আর দেওয়াল ভেদ করে সেই প্রবল স্রোতের সামনে নিজেকে স্থির রাখা এক প্রকার অসম্ভব হয়ে উঠল; চোখের পলকে ভেঙে গেল সীমান্তের সমস্ত প্রতিরোধ।
দীঘিও অবচেতন আবেশে কোনো প্রতিরোধ না করে নিজের অবশ হাত দুটো বাড়িয়ে জড়িয়ে ধরল অবয়বটিকে। আলো-আঁধারি সেই রূমে হারিয়ে গেল বাইরের দুনিয়ার সব কোলাহল। নেশাগ্রস্ত দুই হ্নদয়ের প্রমত্ত মিলনে ঘরটি হয়ে উঠল কেবলই তাদের দুজনের। নিঃশ্বাসের দূরত্ব মুছে গিয়ে তারা দুজনে হারিয়ে গেল আদিম, তীব্র ও গভীর নেশার অতলে।
সেই মুহূর্তে সীমান্ত ভুলে গেল কার সঙ্গে কী করছে। কার মেয়ে, কী পরিচয়, অতীত-ভবিষ্যৎ সব ভুলে সে কেবল আটকে রইল দুই বছর আগে মুগ্ধ হওয়া সেই নারীটিতে। এই অপবিত্র মিলনে দীঘি বা সীমান্ত---কারোরই তখন কোনো অপরাধবোধ কাজ করল না, দুজনেই যেন স্বেচ্ছায় ডুবল এক ঘোরে। পার্থক্য কেবল দীঘিকে ফাঁদে ফেলেছে ইশান, সীমান্তকে টেনে নিয়েছে দীঘি।
———
রাইটার পেইজ: Ayesha Rin—রিন
পরদিন সকালে চোখ মেলতেই সীমান্তের মাথাটা কেমন যেন ভারী ঠেকল। চোখের পাতা খুলতেই সে টের পেল, তার বুকের ওপর ঘুমিয়ে আছে দীঘি। অগোছালো চুল, ক্লান্ত অথচ শান্ত মুখখানি তার ঠিক ওপরে এলিয়ে আছে। গতরাতের সেই প্রমত্ত প্রতিটা দৃশ্য সিনেমার স্ক্রিনের মতো মুহূর্তের মধ্যে তার চোখের সামনে ভেসে উঠল। আর সেইসাথেই নিমেষেই এক তীব্র অপরাধবোধে ছেয়ে গেল তার পুরো হৃদয়ে। মোচড় দিয়ে উঠল বুকের ভেতরটা।
দ্রুত সে দীঘিকে নিজের বুক থেকে সরিয়ে দিয়ে উঠে বসল, দুই হাতে শক্ত করে চেপে ধরল নিজের মাথাটা। মনের মাঝে হানা দিল বাবা-মায়ের দেওয়া সেই কঠোর আদর্শ ও নীতিবাক্যগুলো, যা সে সারাজীবন নিজের রক্তে ধারণ করে এসেছে। মনে পড়ল তুরানের কথাও। নিজে কেমন ছিল, আর আজ কী করে বসল! বারবার তাকে কামড়ে খেতে লাগল ভাবনাটা। গলায় যেন অনুশোচনায় কিছু একটা দলা পাকিয়ে আটকে রইল। দীঘির মতো একটা মেয়ের সাথে এমন অন্যায় করায় নিজের ওপরই ঘৃণা ধরে গেল তার।
আর এক মুহূর্তও দেরি না করে সে নিজের শার্টটা গায়ে জড়িয়ে নিল, এরপর মেঝে থেকে দীঘির ছড়িয়ে থাকা কাপড়গুলো তুলে যত্নের সাথে মেয়েটাকে পরিয়ে দিল। দীঘির সেই ক্লান্ত ও ঘুমন্ত মুখের ওপর ঝুঁকে পড়ে, নিজের চোয়াল শক্ত করে ফিসফিস করে বলে উঠল,
“এটা কি করলাম আমি... জীবনটা কোথায় এসে দাঁড়াল! এই ভুলের কোনো ক্ষমা নেই!”
সীমান্ত নিজেকে প্রচণ্ড ঘৃণা করল। এতদিন ধরে সে নিজেকে যে উচ্চতায়, যে কঠোর নীতি আর সংযমের গণ্ডিতে আটকে রেখেছিল, সেদিনের সেই রাতের পর থেকে আর কোনোভাবেই সে সেখানে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে পারল না। বুকজুড়ে জমা হওয়া তীব্র আত্মগ্লানি আর হাহাকার নিয়ে, দীঘিকে সেই অবস্থাতেই ফেলে সে নিঃশব্দে রুম ছেড়ে বেরিয়ে আসে।
এরপর কেটে গেল দীর্ঘ একটি মাস। এই এক মাসে দীঘির ছায়াও দেখতে পেল না সে, কোনো খোঁজ পেল না মেয়েটার। এর মাঝেই ইশান ও তার পুরো পরিবারকে নিজের হাতে চিরতরে শেষ করে দিল সীমান্ত। পরপরই একদিন সে খবর পেল, নূরজাহান চৌধুরী তার মেয়েকে নিয়ে ঢাকা ছেড়ে চট্টগ্রামে চলে গিয়েছেন। এক মুহূর্তও দেরি করল না সীমান্ত; নূরজাহান চৌধুরীর পেছনে পেছনে সেও পাড়ি জমাল চট্টগ্রামে।
চট্টগ্রামে পৌঁছে নূরজাহান চৌধুরী এবং দীঘিকে গোপনে অনুসরণ করে একদিন হাসপাতালের করিডোর ও চিকিৎসকদের গোপন ফিসফিসানি থেকে যা সে জানতে পারল, তাতে যেন তার পায়ের তলার মাটি এক পলকে ধসে গেল। দীঘি প্রেগন্যান্ট! আর নূরজাহান চৌধুরী এই সত্যটা আপ্রাণ চেষ্টা করছেন মেয়ের কাছ থেকেও লুকিয়ে রাখতে, যাতে দীঘি কোনোভাবেই বুঝতে না পারে তার শরীরের ভেতরের এই নতুন সত্যটা।
মাথার ভেতরটা কেমন যেন শূন্য হয়ে গেল সীমান্তের। একটা ছোট্ট প্রাণ... তার নিজের রক্ত, তার নিজের অংশ এই পৃথিবীতে আসছে! যে পাপের স্মৃতি সে কবর দিতে চেয়েছিল, যে অপরাধবোধ তাকে তিলে তিলে শেষ করে দিচ্ছিল, সেটাই আজ এক নতুন অস্তিত্ব হয়ে তার দিকেই প্রশ্ন ছুড়ে দিল। বুকের ভেতরটা দুমড়ে-মুচড়ে উঠল তার; ঝড় বয়ে গেল তার ভেতর দিয়ে।
রেসপন্স পূর্ণ করে ফেলুন। আর একটা পর্বেই অতীত থাকবে এন্ড সেখানে বারিশকে পাবেন।
চলবে...