#শুকনো_পাতার_নূপুর_পায়ে
#আয়েশা_রিন
#পর্ব৬০
[কপি ও রিপোস্ট করা থেকে বিরত থাকবেন]
নূরজাহান চৌধুরীকে নিজের দিকে বন্দুকের নল তাক করতে দেখেও তাহসিনের মুখে ভীতির লেশমাত্র নেই। উল্টো বক্র হাসি ফুটে উঠল তার ঠোঁটে। ধীর পায়ে এগিয়ে গেল নূরজাহান চৌধুরীর ঠিক মুখোমুখি। হাত বাড়িয়ে সরাসরি ধরে ফেলল রিভলবারের ঠান্ডা ধাতব নলটা। টেনে এনে নিজের বুকের বাঁ পাশে রেখে নূরজাহান চৌধুরীর রক্তিম চোখের দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় সে কেবল বলল,
“নিন, শুট করুন।”
দীঘি দিগন্তকে বুকে জড়িয়ে পাথরের মতো দাঁড়িয়ে। নূরজাহান চৌধুরীর মুখটা শক্ত। তাহসিনের আপাদমস্তক একবার দেখে নিয়ে কঠোর গলায় প্রশ্ন করলেন,
“কে তুমি? সাধারণ একটা অ্যাসিস্ট্যান্টের সাথে তো আর এতগুলো গার্ড থাকতে পারে না।”
তাহসিনের মুখে সেই পূর্বের ন্যায় বাঁকা, ঠান্ডা হাসিই ফুটে উঠল। বলল,
“প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আমার যা হয়ে ওঠার দরকার ছিল, আমি তার চেয়েও ভয়ানক কিছু।”
আগুনে ঘি ঢালার মতো জ্বলে উঠলেন নূরজাহান চৌধুরী,
“চুপ করো! তুমিই সেদিন আমার মেয়ের জীবন নষ্ট করেছ!”
জবাবে তাহসিন বলল,
“আর আপনি আমার গোটা পরিবারটাকে ধ্বংস করে দিয়েছেন!”
“কী চাও তুমি?” নূরজাহান চৌধুরী বললেন।
“আপনি সেটা জানেন। আজ যেমন আপনার পুরো পরিবার জেনেছে আপনার সব কুকীর্তি, ঠিক তেমনি কাল সকালে পুরো দেশ জানুক আপনার আসল রূপ! আর তারপর... নিজের হাতে আপনার গলাটাও আমি কে//টে নেব। যদি নিজেকে বাঁচাতে চান, তবে এখনই আমায় শু/ট করুন।”
বাবার বুকে এভাবে বন্দুকের নল সেঁটে থাকতে দেখে ছোট্ট দিগন্তের অবুঝ মনটা ঘাবড়ে গেল। সে দীঘির কোল থেকে ছটফট করে উঠতে চাইল। ভীতিমাখা ছোট হাত দুটো বাড়িয়ে সে কেঁদে কেঁদে ডাকল,
“বাবা! বাবা!” দীঘির মুখের দিকে তাকিয়ে ফুপিয়ে বলে উঠল,
“মাম্মাম, বাবাকে মারচে।”
সন্তানের আর্তনাদে দীঘির বুকটা চিরে বসল। ভাঙা গলায় মায়ের উদ্দেশ্যে বলে উঠল সে,
“ওকে ছেড়ে দাও, মা! ওর সাথে আমার অনেক বোঝাপড়া বাকি আছে। নিজের অপরাধ স্বীকার করো... তুমি এত জঘন্যভাবে তার পরিবারকে শেষ করে দিয়েছ, তোমার কি ন্যূনতম শাস্তির ভয় হয় না?”
ঝিলমিলও আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না।
“দাদীমা, প্লিজ! আঙ্কেলকে কিছু করো না!”
তাহসিনের চোখে কোনো কাঁপনি নেই। নির্বাক সে পাথরের ন্যায়। এইসব নাটকের মাঝখানে বারিশের সহ্যসীমা ছাড়িয়ে গেল। সে নূরজাহানের হাত থেকে ব”ন্দুকটা ছোঁ মেরে কেড়ে নেওয়ার জন্য তেড়েফুঁড়ে এগিয়ে এল। কিন্তু হাত বাড়ানোর আগেই নূরজাহান চৌধুরী এক ঝটকায় রিভলবারটা নিজের দিকে ঘুরিয়ে সোজা নিজের মাথায় ঠেকিয়ে দিলেন!
চারপাশে ক্ষনিকের জন্য নেমে এল পিনপতন নীরবতা। সবার দিকে একবার পা”গলের মতো চোখ বুলিয়ে নূরজাহান চৌধুরী দাঁতে দাঁত চেপে বলে উঠলেন,
“আমাকে বিচার করার, কিংবা আমার জীবন কেড়ে নেওয়ার অধিকার বা ক্ষমতা তোমাদের কারও নেই! এমনিতেও আমি সেদিনই মরে গিয়েছিলাম... যেদিন দেখেছিলাম আমার স্বামী তার নিজের মেয়ের নাম তার প্রাক্তনের নামে রেখেছে। এতদিন শুধু এই তিনটে সন্তানের মুখ চেয়ে বেঁচে ছিলাম। আজ মনে হচ্ছে, সেই বোঝাও টানার আর কোনো প্রয়োজন নেই!”
এই দৃশ্য দেখে ঝিলমিল আতঙ্কে দৌড়ে যেতে চাইল দাদীমার কাছে,
“দাদীমা! কী করছো তুমি! ছেড়ে দাও ওটা!”
তার আগেই বারিশ বিদ্যুৎগতিতে এগিয়ে এসে তাকে পেছন থেকে দুই বাহু দিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আটকে ফেলল। ঝিলমিলের কানে ফিসফিস করে কঠোর গলায় বলল,
“আমি তোমাকে চুপ থাকতে বলেছি কি না?”
ঝিলমিল ছটফট করে উঠল,
“আপনি ছাড়ুন আমায়! দাদীমা যদি সত্যি নিজেকে শুট করে দেয়?”
“দিলে দেবে! তার বেঁচে থাকার আর কোনো অধিকারও নেই!”
মেহরাজ আর দীঘি পাথরের মূর্তির মতো নির্বিকার। যে মায়ের নির্মম পৈশাচিকতার কারণে একটা আস্ত পরিবার তছনছ হয়ে গেছে, সেই মায়ের প্রতি নুন্যতম মায়াও তাদের ভেতর অবশিষ্ট নেই।
তবে আলতাফ সাহেব আর চুপ থাকতে পারলেন না। কাঁপাকাঁপা গলায় তিনি এগিয়ে এসে বলে উঠলেন,
“আম্মা! আপনি এসব কী করতে চাইছেন? বন্দুকটা নামিয়ে ফেলেন আম্মা!”
পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নাজমা বেগমও ঠিক একই রকম আর্তনাদ করে উঠলেন। অথচ বারিশের পরিবারের সবাই নিস্পৃহ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। নূরজাহান চৌধুরীর জন্য তাদের মনে আর এক বিন্দু সম্মান বা মায়ার লেশমাত্রও বাকি নেই।
নূরজাহান চৌধুরী ধীরে ধীরে চোখ বন্ধ করলেন। ট্রিগারের ওপর রাখা আঙুলে সামান্য চাপ দিয়ে বিড়বিড় করলেন,
“এবার... তোদের বাপের কাছে গিয়ে বাকি সব হিসেব মিটিয়ে নেব।”
আতঙ্কে ঝিলমিল চোখ বুজে কান চেপে ধরল। দীঘি মুখ ফিরিয়ে নিল অন্যদিকে। মেহরাজ একবার আতিপাতি করে এগিয়ে আসতে গিয়েও থমকে গেল; মায়ের প্রতি জমাট বাঁধা ঘেন্নায় তার পা দুটো আর এগোলো না।
একটা সেকেন্ড, দুটো সেকেন্ড…
কান ফাটানো কোনো বিকট শব্দ হলো না। চারপাশটা কেমন যেন অদ্ভুত রকম নিস্তব্ধ।
সবার চোখ কপালে তুলে দিয়ে, যে গার্ডের কাছ থেকে বন্দুকটি কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, সে অপরাধীর মতো মাথা নিচু করে থরথর কাঁপতে কাঁপতে বলে উঠল,
“মাফ করবেন... আসলে... আসলে ওই ব/ন্দুকের বুলেট শেষ হয়ে গিয়েছিল!”
তাহসিনের ঠোঁটের কোণে ফের বক্র হাসি খেলে গেল। যেন এক মরণঘাতী স্বস্তি। ঝিলমিল বুক ভরে শ্বাস টেনে কোনোমতে নিজেকে সামলে নিল। ঠিক তখনই তাহসিন নিজের লোডেড রি”ভলবার বের করে নূরজাহান চৌধুরীর দিকে তাক করল। বলল শীতল গলায়,
“আপনার পতন তবে আমার হাতেই হোক।”
বিচলিত না হয়ে নূরজাহান চৌধুরী শক্ত চোখে তাকিয়ে রইলেন সেই ব/ন্দুকের নলের দিকে। তক্ষুনি হঠাৎ নিজের সন্তান দিগন্তকে বুকে আগলে বিদ্যুৎগতিতে দীঘি এসে দাঁড়াল মায়ের সামনে। তাহসিনের চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,
“আমার মা পাপ করেছে, কিন্তু তার বিচার করার অধিকার তোমাকে কে দিয়েছে? তাকে আইনের হাতে তুলে দাও! আইন তুমি নিজের হাতে তুলে নিতে পারো না, তাহসিন!”
তাহসিন ভ্রু কুঁচকে তক্ষুনি ধমকে উঠল,
“সরুন সামনে থেকে! ওকে নিয়ে এক্ষুনি এখান থেকে সরে দাঁড়ান!”
দীঘি নড়ল না। ফুঁসে উঠে সে বলল,
“সরব না আমি! তুমি বন্দুক নামাও বলছি। আইন আছে, আদালত আছে! আইন যা করার করবে, আদালত তাকে যথাযথ শাস্তি দেবে। তুমি এখান থেকে চলে যাও!”
ঝিলমিলও এগিয়ে এসে একই অনুরোধ জানাল,
“আঙ্কেল, প্লিজ... দাদীমাকে আর মারবেন না!”
পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আলতাফ সাহেবও কাঁপাকাঁপা গলায় বলে উঠলেন,
“তাহসিন, মাথা ঠান্ডা করো। বন্দুক নামাও।”
এতসব রোমহর্ষক কাণ্ডকারখানায় ছোট্ট দিগন্ত প্রচণ্ড ভয় পেয়ে গেছে। মায়ের কোলে সেঁধিয়ে সে গোল গোল আতঙ্কের চোখে তাকিয়ে আছে নিজের বাবার হাতের ওই ভয়ংকর কালো রিভলবারের দিকে। ছেলের ভীত মুখটার দিকে এক পলক তাকিয়ে তাহসিনের চোখের কঠোরতা মুহূর্তের জন্য কিছুটা নরম হলো। সে দীঘির দিকে তাকিয়ে আবার দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
“শেষবারের মতো বলছি, ম্যাম... সরে যান!”
দৃপ্ত কণ্ঠে জবাব দিল দীঘি,
“না, সরব না!”
দীঘির না-বলা জেদের সামনে আর তর্ক বাড়াল না তাহসিন। শান্ত হয়ে সে রিভলবারটা নামিয়ে শুধু ছোট্ট ইশারা করল গার্ডদের। মুহূর্তের মধ্যে দরজার বাইরে থেকে ভারী বুটের আওয়াজ তুলে ভেতরে প্রবেশ করল একদল পুলিশ। দীঘি কিংবা ঝিলমিল কেউ ঘুণাক্ষরেও কল্পনা করতে পারেনি যে তাহসিন পুলিশকেও সাথে করে নিয়ে এসেছে!
পুলিশের লোকাল অফিসাররা এগিয়ে এসে বিনা বাক্যব্যয়ে নূরজাহান চৌধুরীর হাতে হাতকড়া পরিয়ে দিতেই আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না ঝিলমিল। ফুপিয়ে কেঁদে উঠল। দাদীমাকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কষ্ট তো ছিলই, তার চেয়েও বড় যন্ত্রণার বিষয় এটা যে--- দাদীমা কীভাবে এতটা নিষ্ঠুর হতে পারল!
বারিশ ধীর পায়ে তার একটু কাছে এগিয়ে এল ঝিলমিলের। ঝিলমিলের কাঁধে হাত রেখে সে শান্ত অথচ ভাবলেশহীন গলায় বলল,
“মানুষ তার কর্মফল ঠিকই পায়। এটা নিয়ে এত কষ্ট পাওয়ার কিছু নেই।”
ঝিলমিল বিষাক্ত নজরে বারিশের দিকে তাকিয়ে ফুঁসে উঠল,
“সবাই তো আর আপনার মতো পাষাণ না!”
তাদের কথার মাঝেই দীঘি দিগন্ত সমেত এগিয়ে গেল তাহসিনের মুখোমুখি। বলল দৃঢ় গলায়,
“আর কী চাও তুমি? প্লিজ, এই মানুষগুলোকে নিয়ে এখান থেকে বিদায় হও।”
তাহসিন বাঁকা হাসল। নির্বিকার গলায় সে পালটা প্রশ্ন করল,
“বিদায় নেব মানে? আমার আক্রোশ কী কেবল আপনার মায়ের ওপর? এত সহজে আপনাদের সবাইকে আমি ছেড়ে দেব বলে মনে হয়?”
মেহরাজ বলল,
“খুলে বলো কী চাও তুমি! আমাদের সবাইকে মেরে ফেলতে চাও তো? ওকে মারো তবে।”
মেহরাজের দিকে একবার তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে তাহসিন চোখ ফিরিয়ে নিল। তারপর দীঘির কোলে থাকা দিগন্তের দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে সে শীতল গলায় বলল,
“ওকে আমার কাছে দিন।”
তুরুণী কিছুটা আঁতকে উঠে ছেলেকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল,
“কেন দেব? কী চাও তুমি?”
“আমার ছেলেকে আমি কেন ফেরত নেব, সেই কৈফিয়ত আপনাকে দিতে বাধ্য নই আমি।” রূঢ় শোনাল পুরুষটির গলা।
“ও আমারও ছেলে!” তরুণীর গলাও দৃঢ়।
“ওর কোনো মা নেই, আগেও বলেছি।”
দীঘি প্রায় আর্তনাদ করে উঠল,
“চুপ করো! আমি আমার ছেলেকে ফেরত চাই, তাহসিন। সম্পূর্ণভাবে চাই। ওর সমস্ত দায়িত্ব, ওর লালন-পালন, ওর ভবিষ্যৎ---সবকিছু আমি নিজে সামলাতে চাই। ও আজ থেকে শুধু আমার সাথে থাকবে! আমি আর কিচ্ছু চাই না; তোমাকেও না...।”
কোনো জবাব দিল না তাহসিন। নির্বাক চোখে তাকিয়ে রইল দীঘির ভেঙে পড়া মুখের দিকে। ধীরে ধীরে দৃষ্টি ওপরে তুলে দীর্ঘশ্বাস ফেলল সে। মুহূর্তের মধ্যে এগিয়ে গিয়ে সে দীঘির কোল থেকে দিগন্তকে নিজের বাহুডোরে তুলে নিল। না বোঝার মতো করে বলল,
“কাকে চান আপনি?”
“আমার…আমার সন্তানকে চাই!”
“আপনার সন্তানকে তো সেদিন আপনার মা আবর্জনায় ফেলে দিয়েছিল, ম্যাম।”
দীঘি দুই হাতে নিজের মাথা চেপে ধরে ফ্লোরে বসে পড়ার উপক্রম হলো। কান্নার জলোচ্ছ্বাসে তার গলা দিয়ে আর শব্দ বের হচ্ছে না।
“প্লিজ, তাহসিন! এমন করো না... কেড়ে নিও না ওকে! তোমার যা নেওয়ার সব নিয়ে নাও, কিন্তু ওকে নয়! তোমার কাছে আর কিচ্ছু চাই না আমি…”
এক পা পিছিয়ে এল তাহসিন। যেন সত্যিই এবার ভয় পাচ্ছে তার ছেলেটাকে কেউ নিয়ে নেবে। কিছুটা বিদ্রুপ মিশিয়ে দৃঢ় গলায় ছুড়ে দিল কিছু বাক্য,
“এত সহজ? নিজের বাবা- মায়ের ছিন্নভিন্ন দে/হ দেখেছি। সাত মাসের অপরিণত সন্তানকে মৃ"ত্যুর সঙ্গে লড়তে দেখেছি। মাতৃদুগ্ধের জন্য কাঁদা শিশুটাকে কৃত্রিম খাবার ও যন্ত্রের সাহায্যে
বাঁচিয়ে রেখেছি। পুরোটাই আপনার পরিবারের জন্য, আপনার মায়ের জন্য! জানেন, একটা শিশুকে মা ছাড়া বাঁচিয়ে রাখা কত বড় যুদ্ধ? আর আজ এত সহজেই ওকে দিয়ে দেব? কখনোই না ম্যাম! ও আমার কাছে ভীষণ মূল্যবান। ধ্বংসস্তুপ থেকে ফিরে পাওয়া নতুন জীবন, আমার নতুন দিগন্ত। যে সীমান্ত না থাকলে দিগন্তর অস্তিত্বই থাকত না, সেই সীমান্তের কাছ থেকে দিগন্তকে আলাদা করার অধিকার কারও নেই। এমনকি দিগন্তের মা দীঘিরও নেই!”
কী বলছে তাহসিন এসব? নিজের সন্তান আছে জেনেও দীঘি তাকে ছাড়া বেঁচে থাকবে? এটা কি আদৌ সম্ভব? এটা কি কখনো হয়? দীঘির বুকের ভেতর ওলটপালট হয়ে যাচ্ছে। সে সরাসরি তাহসিনের চোখের দিকে তাকিয়ে কাঁপা গলায় বলে উঠল,
“আমাকে কষ্ট দেওয়াই কী তোমার একমাত্র উদ্দেশ্য? আমি তো ইশানের জন্য...”
তাহসিন তাকে থামিয়ে দিয়ে চোয়াল শক্ত করে বলল,
“বাচ্চাটা যারই হোক---আমার বা ইশানের, সে তো আপনারও ছিল। আপনি কীভাবে পারলেন নিজের মাকে এমন একটা জ/ঘন্য কাজে প্রশ্রয় দিতে? আর আজ কোন মুখে সেই বাচ্চাকে নিজের বলে চাইছেন?”
দীঘির কাছে এর কোনো উত্তর নেই। অপরাধবোধ, ঘৃণা, যন্ত্রণায় তার মুখ দিয়ে কোনো শব্দ বের হলো না; কেবল দুচোখ বেয়ে অবিরত গড়িয়ে পড়তে লাগল জলের ধারা। কাঁপাকাঁপা হাতে ছোট্ট দিগন্তর দিকে হাত বাড়িয়ে ফিসফিসাল,
“এসো বাবা, মায়ের কাছে আসো।”
কিন্তু দিগন্ত মায়ের দিকে একবার তাকিয়েই মুখ ফিরিয়ে নিল। শক্ত করে জড়িয়ে ধরল তাহসিনের গলা। তারপর এক পলক তাকিয়ে রইল ইরানের দিকে। মাম্মাম তো মায়ের কথা বলল! মা মানে তো ওই মানুষটা, যে চুপচাপ এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকে। যে তাকে ভালোবাসে, আবার মাঝেমধ্যে বকেছে।
দীঘির শূন্য হাত ধীরে ধীরে নেমে এল। থম মেরে দাঁড়িয়ে রইল পাথরের মতো। তাহসিন এক চিলতে বিদ্রূপের হাসি হেসে নিচু গলায় বলল,
“ভাগ্যিস আমি এতদিন ওকে চিনিয়ে এসেছি যে আপনি ওর মাম্মাম! নাহলে আজ যতটুকু কাছে গিয়েছে, ততটুকুও যেত না। আপনি জানেন, জন্ম নেওয়ার পর প্রথম কয়েক মাস ও ঠিকমতো তাকাতেও পারত না? অপুষ্টিতে ওর শরীরের হাড়গুলো পর্যন্ত বের হয়ে থাকত।”
দুই চোখ শক্ত করে বন্ধ করে ফেলল দীঘি।
“ব্যস! আর একটা কথাও শোনাবে না আমাকে। মানছি আমি উশৃঙ্খল, তোমার মনের মতো নই। তবু... তবু একটাবার কী আমার কোনো অধিকার ছিল না নিজের সন্তান সম্পর্কে জানার? এতটাই ঘৃণিত আমি তোমার কাছে, তাহসিন?”
”অথচ আপনাকে ভালোবাসতাম বলেই... কোনো এক নারীর মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও আমি তাকে ‘ভালোবাসি’ কথাটা বলতে পারিনি!” সরাসরিই বলে ফেলল তাহসিন।
মুহূর্তের জন্য স্তম্ভিত হয়ে গেল দীঘি। ভালোবাসার কথা তাহসিন তাকে বলছে? কবে থেকে সে তাকে ভালোবাসে? বিভ্রান্ত গলায় সে শুধু বলতে পারল,
“হাহ! তবুও তো তার দেওয়া ‘দিগন্ত’ নামটাই তুমি নিজের সন্তানের নাম রেখেছ!”
দীঘির আরও কাছে এগিয়ে এল পুরুষটি। চোখের কঠোর দৃষ্টিটা কিছুটা বদলে গেল। গলা নামিয়ে, খুব কাছ থেকে ফিসফিস করে সে বলে উঠল,
“দীঘির বিবর্ণ জল রাঙিয়ে ওঠে দিগন্তের নীলিমার মায়ায়, অথচ সেই দীঘির সকল অস্তিত্ব তালাবদ্ধ সূর্যাস্তের শেষ সীমান্তের মালিকানায়!”
কথাটার গভীরতা দীঘির মাথার ওপর দিয়ে বয়ে গেল। সে কেবল ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল তাহসিনের মুখের দিকে। ওদিকে তাদের এই লুকোচুরি কথার মারপ্যাঁচ দেখে ঝিলমিল ফিসফিস করে বারিশের কানের কাছে গিয়ে জানতে চাইল,
“আচ্ছা, উনি কী বললেন একটু বুঝিয়ে দেবেন?”
“আমি জানি না।” বারিশ নির্লিপ্ত।
ঝিলমিল বিরক্তি নিয়ে ফুঁসে উঠল,
“তা জানবেন কীভাবে? এসব সুন্দর কথা কি আপনার মুখ দিয়ে কখনো বের হওয়া সম্ভব?”
বারিশ ভ্রু কুঁচকে ঠান্ডা গলায় জবাব দিল
“নাহ! এসব কথা আমার দ্বারা বলা সম্ভব না। আমি এমন কিছু বলব না, যা তোমার বুঝতে সমস্যা হবে। এমন কিছু বলব, যা সহজেই বুঝতে পেরে তোমার কান দিয়ে গরম হাওয়া বের হয়ে যাবে।”
বারিশের এই কথার ধরন দেখে ঝিলমিলের সত্যিই কান দিয়ে যেন গরম হাওয়া বের হওয়ার উপক্রম হলো। সে আর এক শব্দও বাড়াল না। ওদিকে দীঘি এই কাব্যিক প্যাঁচ এড়িয়ে সরাসরি তাহসিনকে উদ্দেশ করে বলল,
“তুমি তোমার প্রাক্তনের দেওয়া নামই নিজের ছেলেকে দিয়েছ, এটাই সত্যি! আমি কোনোদিন আমার ছেলেকে এই নামে ডাকব না, ডাকতে পারব না। এটা যদি আমার হিংসা বলো, তবে আমি প্রথম থেকেই এমন। কোনো মৃত ব্যক্তির জন্য আমার এই নরম মন বরাদ্দ নয়। তার প্রতি আমার হয়তো সহানুভূতি থাকতে পারে, কিন্তু এই ব্যাপারে নয়!”
”আমি...” তাহসিনকে বাক্য শেষ করার সুযোগ না দিয়ে বারিশ তাকে এক টানে একটু দূরে সরিয়ে নিয়ে গেল। ভ্রু কুঁচকে ফিসফিস করে সে বলল
“কবিতা না বলে সরাসরি বল তো! What the hell! এক্স-হবু বউয়ের দেওয়া নাম তুই কীভাবে তোর নিজের ছেলেকে দিলি? দীঘির জায়গায় আমি হলে তোকে…”
ফুঁসে উঠল তাহসিন,
“শাটআপ! এই নাম যখন রাখি, তখন তুরানের কথা আমার মাথাতেও আসেনি!”
তাহসিনের সত্যিই তখন সেটা মনে ছিল না। তার ছেলের ‘দিহানূর তাহসিন দিগন্ত’ পুরো নামটাই এসেছিল দীপানূর চৌধুরী দীঘির নাম থেকে। কিন্তু পরবর্তীতে যখন ইরান এটা নিয়ে ঝামেলা করে, তখন তার খেয়াল হয়। শুধু তাই নয়, ‘দীঘি’ নামটাও তুরান বলেছিল! অথচ মেয়েটা জানেও না, যে দুটো নাম সে নিজের ছেলে-মেয়েদের জন্য বাঁছাই করেছিল সেই ‘দীঘি’ নামক নারীর সন্তানের বাবা তাহসিন খান সীমান্ত নিজে; আর সেই সন্তানের নাম দিগন্ত! ব্যাপারটা এতটাই কাকতালীয় যে তাহসিন নিজেও এটা ভেবে তুরানের জন্য কষ্ট পাচ্ছিল। দিগন্ত আসার পর তাহসিন একবারের জন্যও তুরানের কবরের সামনে যেতে পারেনি। যদি মেয়েটা জানতে চায়---তার দেওয়া নামই কেন সে নিজের সন্তানকে দিল; যেখানে সে তুরানকে কখনো ভালোইবাসতে পারেনি! কী বলবে সে তখন?
বেশ কিছুক্ষণ কেটে গিয়েছে। তাহসিন আর বারিশকে একপাশে ফিসফিস করতে দেখে ঝিলমিলের আর তর সইল না। সে কৌতূহল ও বিরক্তি ঝেড়ে ফেলে বলে উঠল,
“আপনারা কী ফিসফিস করছেন এতক্ষণ ধরে? যা বলার আমাদের শুনিয়ে বলুন না! আপনাদের মধ্যে আবার কিসের এত ঘনিষ্ঠতা?”
মেহরাজও ভ্রু কুঁচকে এগিয়ে এসে প্রশ্ন করল,
“হ্যাঁ, বারিশ! ওর সাথে তোর কীসের এত কথা? তোরা কি দুজন দুজনকে আগে থেকেই চিনতি? আমার কাছ থেকে কিছু লুকিয়েছিস নাকি তুই?”
বারিশ এক পলক তাহসিনের দিকে তাকাল,
“কী লুকাব? আর ওকেই বা আমি কীভাবে চিনব? ওহ হ্যাঁ, চিনি তো; তোদের সামান্য একটা অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে চিনি!” কথাটা শেষ করে কটাক্ষের হাসি দিল সে।
তাহসিন চোয়াল শক্ত করে ঠান্ডা গলায় জবাব দিল,
“বেশি নাচছিস তুই আজকে।”
বারিশ বাঁকা হেসে পাল্টা বলল,
“নাচলাম আর কই! দীঘির বিয়েটাই তো হলো না। যাইহোক, রেহান বেটার দ্যান ইউ!”
তাহসিন শক্ত গলায় কিছু একটা বলতে যাবে, ঠিক তখনই ঝিলমিল আবার বাধা দিয়ে বসল,
“আরে! আমাদের এখানে দাঁড় করিয়ে রেখে তখন থেকে আপনারা কী শুরু করেছেন বলুন তো?”
“হ্যাঁ, তাহসিন! কী ফিসফিস করছিস? যা বলার সবাইকে শুনিয়ে বল!” বারিশ সাথে সাথে গলা উঁচিয়ে বলে উঠল।
তাহসিন শান্ত অথচ তীক্ষ্ণ চোখে বারিশের দিকে তাকাল,
“সবাইকে শুনিয়ে কী বলব?”
বারিশ গলা নামিয়ে বিদ্রূপের সুরে ফিসফিসাল,
“বল যে, কীভাবে তুই আমার কাছে গিয়ে হেল্প চেয়েছিলি আর আমি তোকে পাত্তাই দিতাম না!”
বারিশের একের পর এক এমন খোঁচা আর অপমান তাহসিনের সহ্যসীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছিল। সে আবারও তেড়েফুড়ে কিছু একটা বলতে গেল, কিন্তু ঝিলমিল তার আগেই ছটফট করে অধৈর্য গলায় বলে উঠল,
“উফফ! বলবেন আপনাদের আসল কাহিনিটা কী?”
বারিশও আবার খোঁচা মেরে বলল,
“হ্যাঁ, তাহসিন! সবাইকে শুনিয়ে দাও না তোমার কীর্তিকলাপ।”
আর সহ্য করল না তাহসিন। সে বিরক্তিতে বারিশের কাছ থেকে কিছুটা সরে এল। তারপর ঝিলমিলের চোখের দিকে সরাসরি তাকিয়ে শান্ত অথচ চাঞ্চল্যকর গলায় বলে উঠল,
“ঠিক আছে, শোনো তাহলে। ঝিলমিল, ইউ নো হোয়াট, তোমাদের এই বিয়ের পেছনে পুরোপুরি হাত ছিল এই বারিশের? মানে, ও দীঘির সাহায্যে ইচ্ছে করেই তোমাকে একটা ফাঁদে ফেলে বিয়েটা করেছিল!”
বারিশের মুখের রঙ চোখের পলকে ফ্যাকাশে হয়ে গেল। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দীঘিও চমকাল। ঝিলমিলসহ মেহরাজ, আলতাফ সাহেব এবং বারিশের পুরো পরিবারের মাথার ওপর যেন আকাশ ভেঙে পড়ল!
ঝিলমিল স্তব্ধ হয়ে বিভ্রান্ত চোখে তাহসিনের দিকে তাকিয়ে কাঁপাকাঁপা গলায় বলল,
“কী বলছেন আঙ্কেল এসব? ওনার আবার কেন এমন প্ল্যান থাকবে? উনি তো আমাকে বিয়েই করতে চাইছিলেন না! উল্টো আমিই একটু ছেলেমানুষি দেখিয়ে প্ল্যান করে ওনাকে বিয়ে করতে রাজি হয়েছিলাম।”
নির্বিকার মুখে বলল তাহসিন,
“কেসটা দুদিকেই ছিল, মামনী। আর দুটোই সমান তালে ছেলেমানুষি ছিল।”
ঝিলমিলের বুক তখন কাঁপছে, হার্টবিট অস্বাভাবিক দ্রুত গতিতে চলছে। সে অস্থির হয়ে বলে উঠল,
“আঙ্কেল, সরাসরি বলুন! আমি কিচ্ছু বুঝতে পারছি না।”
তাহসিন এবার স্পষ্ট গলায় বলল,
“এটাই যে, তোমাদের এই বিয়ের নেপথ্যে বারিশের সুদূরপ্রসারী চাল ছিল। তবে এটা ভুলেও ভেবো না যে সে তোমাকে ভালোবেসে কোনো রোমান্টিক প্ল্যান করেছিল!”
ঝিলমিল ঠিক এটাই ভাবছিল। কারণ সিনেমায় তো সচরাচর এমনটাই হয়---নায়ক আগে থেকেই ভালোবেসে কৌশলে নায়িকাকে বিয়ে করে। কিন্তু তাহসিন তার সেই ধারণায় জল ঢেলে দিল। রুদ্ধশ্বাসে জিজ্ঞেস করল ঝিলমিল,
“তাহলে কেন? কী ছিল ওনার উদ্দেশ্য?”
তাহসিন মুখ খোলার ঠিক আগমুহূর্তে বারিশ গর্জে উঠল,
“সীমান্তর বাচ্চা, মুখ বন্ধ রাখ বলছি! তোর মুখে ঠাডা পড়বে শালা!”
কিন্তু তাহসিন তার কথা কানেই নিল না। সে আগের মতোই শান্ত গলায় ঝিলমিলকে শুনিয়ে দিল,
“ও তোমাকে বিয়ে করেছে কেবল এইচএসসি পরীক্ষায় ফেল করানোর জন্য! তাও পর পর দু’বার। আর সেই উদ্দেশ্যেই ও তোমার কলেজে প্রফেসর হিসেবে জয়েন করেছিল। এর কারণ তোমার বাবার পড়ানো সাবজেক্টে ও ফেইল করেছিল।”
বারিশের মাথার ওপর যেন সাত আসমান আছড়ে পড়ল এবার। তার মনে হলো, ভরা বাজারের মাঝে কেউ যেন তাকে একদম উলঙ্গ করে দিয়েছে! চারপাশের সবাই যেভাবে তার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, তাতে তার লজ্জায় মাটিতে মিশে যাওয়ার উপক্রম হলো; যদিও সে বরাবরই নির্লজ্জ, তবে বর্তমানে তার একটু লজ্জাই লাগছে। কারণ ইতিমধ্যে সে ঝিলমিলের দুটো সন্তানের বাবা হয়ে গিয়েছে।
রাগে সর্বস্ব হারিয়ে দুই হাত শক্ত করে মুঠো পাকিয়ে তাহসিনের দিকে তেড়ে আসতে গেল। কিন্তু তার আগেই তাহসিনের বডিগার্ডরা বিদ্যুৎগতিতে এগিয়ে এসে দুপাশ থেকে তাকে শক্ত করে চেপে ধরে আটকে ফেলল। বারিশ হিংস্র পশুর মতো গর্জে উঠল,
“বিশ্বাসঘাতক! ভালো করে মনে করে দেখ, আমি না থাকলে তোর এই দিনগুলো কোত্থেকে আসত? আমার নুন খেয়ে আজ আমারই পেছনে বাঁশ দিচ্ছিস তুই?”
শীতল হেসে জবাব দিল তাহসিন,
“নুন খাওয়া প্রয়োজন ছিল, তাই খেয়েছিলাম, সেটার জন্য তুই কম কথা শোনাসনি আমাকে! কিন্তু ঘুরেফিরে তুই তো আমার সেই শত্রুপক্ষেরই লোক। তাই তোকেও বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।”
বারিশ বাঁকা হেসে দাঁত কিড়মিড় করে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল,
“কী করবি তুই? আমি কি তোকে ভয় পাই নাকি?”
যদিও তাহসিন কিছু করবে না, তবুও এই মুহূর্তে বারিশকে একটু শায়েস্তা করতে এবং পরিস্থিতি নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সে হঠাৎ করেই পি”স্তলটা তাক করল ঝিলমিলের মাথায়। পরক্ষণেই সে ঠান্ডা গলায় হুমকি দিল,
“এবার নিশ্চয়ই ভয় পাবি?”
হুট করে ঘটে যাওয়া আকস্মিকতায় ঝিলমিল ভয়ে কাঠ হয়ে গেল। যদিও সে তখনও তাহসিনের আগের বলা সেই কথাগুলোর ধাক্কাটাই ঠিকমতো হজম করতে পারেনি!
তাহসিনের এই কাণ্ডেও বারিশ বিন্দুমাত্র ভয় পেল না। উল্টো সে পৈশাচিক হাসিতে ফেটে পড়ল! এক ঝটকায় গার্ডদের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে সে নিজের পকেট থেকে একটা ছোট্ট কালো রিমোট বের করে সবার চোখের সামনে উঁচিয়ে ধরল। বলল,
“আমি জানতাম তুই এমন করবি। তাই আমি আগেই প্রস্তুত ছিলাম।”
তাহসিন সন্দিহান গলায় জানতে চাইল,
“কী ওটা?”
বাঁকা হেসে বিজয়ী সুরে বলল বারিশ।
“তোর কোলে থাকা বাচ্চার ডায়াপারে ফিট করা ছোট্ট একটা বোমের রিমোট! আর বোম ফিট করা তোর ছেলের পাছাটা এই মুহূর্তে... তোর পেটের ওপরেই সেঁটে আছে, ফ্রেন্ড!”
তাহসিনের হাত থেকে পিস্তলটা প্রায় খসে পড়ার উপক্রম হলো। সে অবিশ্বাস্য চোখে নিজের কোলে বসে থাকা অবুঝ শিশুটার দিকে তাকিয়ে রইল। ওদিকে দীঘি রক্তিম চোখে এক পলক বারিশের দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চাপল।
চলবে…