পথহারা মন
পাখি
রাত ১২ টার কাছাকাছি এত রাতে একা জমিদার বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছে শুভ । অনেক খুজাখুজির পর পায়েলের মালিককে পেল । কিন্তু মেয়েটির মুখ দেখতে পারেনি। শুধু পা দেখেছে । যার পা এত সুন্দর নাজানি তার মুখ কত সুন্দর । সবকিছু ভাবতে ভাবতে ভিতরে গেল শুভ । বাড়ির গেটের সামনে দুইজন বলিষ্ঠ পুরুষ চাকু নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে । শুভ সবকিছু ভালো করে দেখে নিলো । তারপর পেছনের বারান্দা পেয়ে উপরে উঠলো । সেখানে গিয়ে সবগুলো জানালা দিয়ে দেখলো । কিন্তু পায়েলের মালিককে খুঁজে পেলো না । শুভ আরো কিছু আর খুজলো । অবশেষে পেয়ে গেল সেইখান থেকে মানুষটিকে । কাজল এত ক্ষণে ঘুমিয়ে পড়েছে । শুভ সামনে এগোলো । কি অপরুপ সুন্দর । এটা কি মানুষ নাকি পড়ি ।
শুভকে কাজলের পায়ের কাছে বসলো । তারপর এক পা নিজের উরুর উপর উঠালো । কিন্তু এতক্ষণে কাজলের ঘুম ভেঙ্গে গেছে ।
: কে আপনি ? এখানে কিভাবে আসলেন ?
কাজলের কথায় শুভ কোনো উওর দিলো না ।
এবার কাজল কিছুটা ভয় পেয়ে উত্তেজিত কন্ঠে বলল
: দাদা দা..
বলার আগেই শুভ কাজলের মুখ চেপে ধরলো।
এবং নিজের পকেট থেকে পায়েল টা বের করে কাজলের সামনে ধরলো ।
: আপনি কি আমাকে পায়েল দিতে এসেছেন ?
: পায়েলের মালিককে অনেক জায়গায় খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে পেলাম । তা ম্যাডাম দৌড়াদৌড়ি করার সময় নিজের পায়ের দিকেও একটু খেয়াল রাখতে পারেন নাকি ।
কাজলের আর কিছু বলার আগেই শুভ থামিয়ে দিল । পায়েল টি পড়িয়ে উঠে দাঁড়ালো ।
: এইবার থেকে নিজের পায়েলের খেয়াল রাখবেন ম্যাডাম । বারবার হারিয়ে গেলে আমি কিন্তু খুঁজে দিব না ।
এই বলে শুভ রুম থেকে বেরিয়ে গেল । কাজল কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থাকলো । কি হলো বুঝতে কিছুটা সময় লাগলো । সারা রাত কাজল না ঘুমিয়ে জেগে থাকলো ।
___________
সকাল ১১ টার কাছাকাছি । কাজলের অবস্থানটা ছাদের উপর । তবে একা নেই সাথে তার বৌদি আছে ।
: আচ্ছা বৌদি ভালোবাসা কি ?
কাজলের কথায় রেখা হালকা হেসে উওর দিলো
: ভালোবাসা এমন একটা জিনিস যা সবার জীবনে আসে । তাঁকে দেখার পর থমকে জাওয়া । তাকে নিয়ে কল্পনা করা ইত্যাদি ।
রেখা কিছুক্ষণ পর আবার বলল
: তোকে একটা গল্প শোনাই । একটা দেশে একটা রাজ কন্যা ছিলো । রাজকন্যা দেখতে অনেক সুন্দর । কিন্তু তাকে বাড়ি থেকে বের হতে দিতো না । এই জন্য রাজকন্যার মন খারাপ হতো ।
একদিন রাজকন্যা কান্না করছিলো । একটা কাঠুরে সেখান দিয়ে জাওয়ার সময় সেটা শুনলো । তারপর রাজকন্যার রুমে গিয়ে তাঁকে বলল । আমি তোমাকে নিতে এসেছি । রাজকন্যা আর কিছু না ভেবে কাঠুরের সাথে চলে গেল ।
রেখা থামে , কিছু একটা মনে করে কাজল কে বলল
: কাজল তুই আমাকে এই প্রশ্ন করলি কেনো ।
: এমনি।
: এমনি না কিছু তো হয়েছে কি হয়েছে সত্যি করে বল ।
কাজল কিছুক্ষণ চুপ থাকলো । তারপর রাতের সব ঘটনা খুলে বলল ।
সব শুনে রেখা বলল
: কাজল তুই কি ছেলেটাকে পছন্দ করিস ?
: জানিনা ।
____________
: শুভ ভাই তোমাকে না বললাম একটা মাছ ধরে দিতে ।
ইয়ারার কথায় শুভ বলল
: পারবো না ।
: প্লিজ প্লিজ ।
শুভ এবারও না করে দিলো । এতে ইয়ারার মন বেশ খারাপ হলো । দুঃখ ভরা মন নিয়ে বলল
: আমি তো তোমার কেউ না । আজকে যদি আপন বোন হতাম তাহলে ঠিক মাছ ধরে দিতে ।
আসলে আমি এতিম তো তাই আমাকে কেউ পছন্দ করে না । সরি , তোমাকে ডিস্টাভ করার জন্য ।
১৪ বছরের মেয়ে ইয়ারা । তার যখন দশ বছর তখন তার মা বাবা গাড়ি নিয়ে যেতে ভুলবসত পানিতে গাড়ি পড়ে যাওয়ায় মারা যায় । তারপর থেকে শুভ ইয়ারার দেখা শোনা করছে । সম্পর্কে ইয়ারা শুভর মামাতো বোন হয় ।
: থাপড় দিয়ে সব দাঁত ফেলে দেবো বেয়াদব ।
: দাঁত ফেলতে হবে না মাছ ধরে দিলেই হবে ।
______________
: আচ্ছা বৌদি একটা মানুষ কতটা সাহসী হলে
নিজের জীবন এর চিন্তা না করে আমাকে পায়েল দিতে আসে ।
কাজলের কথায় রেখা কিছুটা রেগে বলল
: তুই ঐ ছেলেটারকে নিয়ে ভাবা বন্ধ করবি ।
: তোমাকে কিছু বলাই ভূল ।
কাজল আর কিছু না বলে হাঁটতে হাঁটতে তার দাদা অর্জুন এর রুমের সামনে দাড়ায়
: কিছু বলবি কাজল ?
: হুম । আমার অনেক গুলো চকলেট চাই ।
কাজলের কথায় জমিদার অর্জুন হালকা হেসে উওর দিলো
: তোর বয়স ১৮ বছর তাও তুই বাচ্চা দের চকলেট খেতে চাস ।
কাজল স্বাভাবিক ভাবেই বলল
: হুম। চাই ।
_____________
: কিরে রাজ কই জাস ?
শুভর কথায় রাজ থেমে বলল
: জমিদার বাড়িতে ।
জমিদার বাড়ির দাম শুনে শুভ উঠে বসলো । স্বাভাবিকভাবে বলল
: কেন ?
: রং করার কাজ পাইছি তাই ।
শুভ স্বাভাবিক ভাবে বলল
: জানিস আমার অনেক শখ ছিলো রং করার কাজ করা । কিন্তু শালা বাপের লাইগা করতে পরিনাই ।
: তোর শখ যে এটা তাতো জানতাম না ।
: আচ্ছা বাদ দে । তুই কি তোর সাথে আমাকে নিয়ে জাইতে পারবি । তোর সাথে আমিও কাজ করবো ।
: আচ্ছা নিয়ে যাব ।
: আজকেয় যাব ।