পথহারা মন
পাখি
: কাজল তোর মাথা ঠিক আছে । আমি পারবো না । তাছাড়া আমার জীবনেরও তো একটা দাম আছে তাই না ।
কাজল কিছু টা রেগে বলল
: বৌদি কালকে আমার জন্মদিন তুমি আমার জন্য এতটুকু করতে পারবে না ।
: না পারবো না । সর সামনে থেকে আমার কাজ আছে ।
: বৌদি আমি গত ১২ বছর বাড়ির বাইরে যায়না প্লিজ তুমি কিছু একটা করো ।
কাজল হিন্দু পরিবারের একজন মেয়ে । দেখতেও ভারি সুন্দর । মা বাবা মারা যাওয়ার পর তার দাদা ( ভাই ) এবং বৌদির ( ভাবির ) কাছে বড় হয়েছে । তার বাবা মারা যাওয়ার পর তার দাদা অর্জন বাবার দায়িত্ব হিসেবে জমিদার রয়েছে । তার দাদা জমিদার হওয়ায় নানা খারাপ কাজেও জড়িত এইজন্য তিনি কাজলকে বাড়ির বাইরে যেতে দেন না যদি কোন সমস্যা হয় এইজন্য ।
: বৌদি তুমি কিছু একটা করো প্লিজ ।
কাজলের এত অনুরোধে রেখার ( কাজলের বৌদি ) মন গোললো ।
: আচ্ছা রাতে আমি তোকে বাইরে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিবো । এখন যা পড়তে বস ।
: থ্যাংক ইউ বৌদি। আমি জানতাম তুমি আমাকে বাইরে যেতে সাহায্য করবে ।
____________
: কিরে শুভ তুই দেখছি নামাজ কালাম পড়া বাদ দিয়ে দিস ইস ।
বাবা কথায় শুভ কিছুটা বিরক্তি হলো । কিছুক্ষণ চুপ থেকে গম্ভীর মুখে বলল
: কে বলেছে তোমারে ।
: আমি কি চোখে দেখি না ।
: আচ্ছা যায়তাছি । আমার আসতে রাত হইবো তুমি ঘুমিয়ে পড়ো।
_____________
: কি কন মেডাম আমি পারবো না । আমার জীবনের একটা দাম আছে না ।
সারভেন্সের কথাই রেখা কিছু টা বিরক্ত হলো । আসলে সে কাজলের বাহিরে যাওয়ার জন্যে সাহায্য চেয়েছিল । কিন্তু সে সরাসরি না করে দিচ্ছে । রেখা কিছু পর হাত থেকে এক হাজার টাকা বের করে বলল
: এবার
: টাকার জন্য আমি সবকিছু করতে পারি । শুধু বলেন কি কি করতে হইবো ।
__________
রাত ১২ টা বাজতে আর ৩০ মিনিট । এই সময় কাজলের দাদা বাড়িতে নেই ।
: মেডাম মই আনছি ।
: কাজল তারাতাড়ি আয় ।
: বেশি দেরি করবিনা । একটু ঘুরে চলে আসবি ।
: আচ্ছা
________
রাত ১২ টা মানে গ্রামে অনেক রাত । আশে পাশে কেউ নেই । সুন্দর নিরিবিলি পরিবেশে একা দাঁড়িয়ে আছে কাজল । আজ গোটা বারো বছর পর বাড়ির বাইরে আসতে পারলো ।
কাজল জেনো আজ মুক্ত পাখি । অনেক টা রাত হয়ে গেছে । ১ টা বাজবে । কাজল আর বেশি দেরি কোরলো না । বাড়ি চলে গেল ।
_______
একা একা বাড়ির উদ্দেশ্যে হাঁটছে শুভ । অনেকটা রাত হয়ে গেছে । নামাজ শেষে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে গিয়ে একটু দেরি হয়ে গেল আজ শুভর । হাঁটতে হাঁটতে একটু দূরে চকচকে কিছু পড়ে থাকতে দেখলো শুভ । আরেকটু সামনে যেতে দেখল একটি পায়েল । শুভ সেখানে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে আশেপাশের কাউকে খোঁজার চেষ্টা করল । কিন্তু কাউকে দেখল না । তাই পায়রাটা সে নিজের কাছে রেখে দিলো ।
________
সকাল থেকে শুভ না হলেও বিশটা বাড়ি ঘুরেছে তবুও পায়েলের মালিককে খুঁজে পেল না ।
: এই পায়েলের মালিককে খুঁজে পাওয়া যাবে না । তার থেকে ভালো হবে এই পায়েল টা বেজে পার্টি করতে পারব।
রাজ এর কথায় শুভ কিছু টা বিরক্ত হলো ।
কপাট রাত দেখিয়ে বলল
: শর শালা এমনি মাথা গরম আছে রাগাবি না ।
: তোরা এখানে আমি তোদের অনেকক্ষণ ধরে খুজতেছি । চল আমার সাথে আজ জমিদারের একমাত্র বোনের বোনের জন্মদিন । আমাদের সেখানে যেতে বলেছে ।
বাবার কথায় শুভর রাগটা আরো বেরে গেলো ।
এমনি সে পায়েলের মালিক কে খুঁজে পাচ্ছে না তার উপর আবার এক্সট্রা ঝামেলা ।
: আমি কোথাও যেয়তে পারবো না ।
: যাওয়াটা বাধ্যতামূলক ।
__________
দুপুর বারোটা, শুভর অবস্থানটা জমিদার বাড়িতে । এখানে এসেও যেন শুভ থামছে না প্রত্যেকটা মেয়ের পায়ের দিকে তাকিয়ে পায়েলের মালিককে খুঁজেই চলে চলেছে ।
: এই শালা বাড়িতে যাবি না ।
শুয়োর কথায় রাজ স্বাভাবিকভাবে বলল
: জমিদার বলছে খাওয়ার পরে সবাইকে নাকি পোশাক দেবে । তাই বাড়ি থেকে বের হতে পারবি না ।
: ধুর শালা ভাল লাগে না আবার ঝামেলা ।
খাওয়া দাওয়া শেষে এখন সবাইকে পোশাক দেওয়া হবে । সবাই যার যার মতো লাইনে দাঁড়িয়ে আছে । কিন্তু শুভ ? সে এখনো পায়েলের মালিককে খুঁজে বেরাচ্ছে ।
: কিরে শুভ দাড়িয়ে আছিস কেন । যা পোশাক টা নে ।
পোশাকটা নিতে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে যোগ গেল মেয়েটির পায়ের দিকে । হ্যাঁ, শুভ ঠিক ধরেছে । এটাই সেই মেয়ে যার পায়েল শুভর কাছে আছে । কিন্তু মানুষের ভিড়ে মেয়েটির মুখ দেখায় আর হলো না ।
বিকাল ৫ টা শুভ রাজকে বললো
: ভাই জানিস পায়েলের মালিককে খুঁজে পেয়েছে ।
শুভর কথায় রাজ উত্তরে বলল
: কে ?
: জমিদারের বোন ।
শুভর কথায় রাজ ভয়ার্ত গলায় বলল
: কি জমিদারের বোন । তাহলে এই পায়েলটা এখুনি ফেলে দে । ভুলেও দিতে যাওয়ার ভুল করিস না । না হলে তোর মৃত্যু অনিবার্য ।
রাজ এর কথায় শুভ হালকা হেসে বলল
: এটা কখনোই সম্ভব না । আমাকে কেও মারবে এমন মানুষ পৃথিবীতে জন্ম নিয়েছে এটাও আমাকে বিশ্বাস করতে হবে ?
আমি তো যাবোই দেখি আমাকে কে আটকায় ।