ওগো মেঘলা আকাশ একলা
লেখিকা :পুতুল।
আসল নাম, কবিতা রহমান মর্তুজা
(কপি করা নিষিদ্ধ) 🚫🚫🚫
পর্ব, ৩
মেঘলার পেটে ব্যথা করছে প্রচন্ড। রাজিয়া বেগম রাতের খাবার খেয়ে ঘুমের ওষুধ নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছেন।রাত প্রায় ৯টার কাছাকাছি। মেঘলা খাবার খায়নি। গুঙাচ্ছে করিডোরের কোণে। সে তার ফোনটা ডিভানের উপর থেকে হাতড়ে নিয়ে দেরি করল না।ডায়াল করল আকাশের নম্বরে। রিং হওয়ার পর কেটে যায় কল।
__________________________………
আকাশ চেম্বারে বসে পেশেন্টকে কিছু মেডিসিন বুঝিয়ে দিচ্ছে। এমন সময় ফোনের ভাইব্রেশন বেজে চলেছে। ফোনের স্ক্রিনে জ্বলজ্বল করছে হাস্যজ্জল মেয়ের ছবি। পাশে বড় বড় অক্ষর জুড়ে সোনালী লেখা “My phultushi”.
ভ্রুঁ যুগল কুচঁকালো সে। আকাশ তার পেশেন্টকে বললেন,
আকাশ: “excuse me… আপনি কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। জাস্ট চার মিনিট।”
ব'লে আকাশ তড়িঘড়ি করে দূরে সরে এসে মেঘলাকে ফোন করে। আকাশের জানা মতো সচারাচর যখন-তখন মেঘলা বা বাড়ির অন্য সদস্যরা ফোন করে না। বিশেষ করে এই সময়টাতে তো একদমই মানা। তাই চিন্তা হচ্ছে খানিকটা। সন্ধ্যার পর রোগীদের সিরিয়ালে ভীড় জমে।
কল দেওয়ার পরপরই রিসিভ করেছে রমণী।বেগ পোহাতে হলো না আকাশকে।ফোনের ওপাশ থেকে ভেসে আসা শব্দ শুনে জমে গেল আকাশ কয়েক মুহূর্তের মধ্যে। ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে মেঘলা। বিচলিত কন্ঠে শুধালো আকাশ,
আকাশ : “কী হয়েছে ফুলটুসি কাঁদছিস কেন? বল আমাকে, কেউ কিছু বলেছে তোকে?”
আকাশের কন্ঠ স্বর শুনে ডুকরে কেঁদে ফেলে মেঘলা।কান্নাজড়িত কন্ঠে বলে,
আ..আকাশ তুমি কখন ফিরবে?”
ব্যাস এইটুকু কেটে গেল ফোন কল। মেঘলার ফোনের চার্জ নেই।
আকাশ রেগে স- শব্দে তার ফোনটা ছুড়ে মা’র’ল।
কেঁপে বিকট শব্দ ধ্বনিত হলো পুরো কেবিন রুম জুড়ে। যিনি medicine বুঝয়ে নিচ্ছিলেন উনি বৃদ্ধ মহিলা ছিলেন।
বাম হাতের দুই আঙ্গুল দিয়ে কপালে স্লাইড করে চুলে আঙুল বুলালো আকাশ। কেমন ফাঁকা জানি লাগছে তার মস্তিষ্ক টা। আকাশ টের পায তার কাঁধে কেউ হাত রেখেছে। ঘাড় ফিরিয়ে দেখল বৃদ্ধ মহিলাটা। ফোঁস করে শ্বাস ছাড়ল আকাশ।
“বউকে খুব ভালোবাসো বুঝি!”বৃদ্ধ মহিলার বাক্যে বুকের ভেতর ছ্যাত উঠলো আকাশের। চিবুক নামিয়ে গভীর ভাবনায় ভাবছে আকাশ।তার চোখের পাতা বোঝে আসছে বারংবার। মাথার সামনে ঘুরঘুর করছে বউ-বউ-বউ শব্দটা।মহিলার হাতটা তার কাঁধ থেকে ছাড়িয়ে নিল আকাশ। তারপর হনহনিয়ে বেরিয়ে গেল কেবিন থেকে। বৃদ্ধ মহিলা বোকা বনে গেল এমন কান্ডে।
আয়ানের কেবিনের সামনে এসে হস্তদ্বন্দ হয়ে আকাশ বলে,
আকাশ :আয়ান তুই আমার পেশেন্টদের মেডিসিন গুলো বুঝিয়ে দিস আমি আসছি। এদিকটা সামনে নিস।”। এতটুকু বলেই চলে গেল আকাশ।
হতবিহ্বল হয়ে আকাশের প্রস্থান দেখলো আয়ান।
স্বাভাবিকের তুলনায় স্পিডে গাড়ির স্টেয়েরিং ঘুরাচ্ছে আকাশ। হাতের রগ গুলো নিলচে হয়ে ফুঁলে উঠেছে।
আয়ান ছেলেটা বেশ শান্ত স্বভাবের এবং বুঝদার দায়িত্বশীল মানব।।এমনও সময় ছিল হয়তো সে ও চঞ্চল ছিল কিন্তু তার বাবার মৃত্যুর পর সে নরম স্বভাবের এবং বুঝদার হয়েছে।ছেলেকে নিয়ে রাজিয়া বেগম গর্ব করেন। সবার প্রিয় বটে। আকাশ, মেঘলা এরো চঞ্চল- রাগী -অভিমানী স্বভাবের মানুষ। মাথাটা ঝাঁকিয়ে অতীত থেকে বর্তমানে ফিরলো আয়ান ফের কাজে মনোযোগ দিলে সে।
______________________________মজুমদার বাড়ি,
আয়েশা চৌধুরীর পিতা -মাত নেই। ইরার নানু মজুমদার বাড়িতে থাকেন। উনার ছেলে আর ছেলের বউ মিলে বাড়িতে জায়গা দেননি। বৃদ্ধা বয়সে তাড়িয়ে দিয়েছেন সংসার থেকে। আয়েশা চৌধুরী এবং আহমেদ মজুমদার ভাই বোন দুইজন। আয়েশা চৌধুরীর বিয়ে হয়েছিল প্রচুর ধনী, সৎ আর ভালো লোক আয়ুশ চৌধুরীর সাথে
আয়েশা চৌধুরীর ভীষণ ভালো লাগে উনার আর আয়ুশ চৌধুরীর নামের প্রায় কতটা মিল।
আয়েশা চৌধুরী মায়ের ঘরে আসলেন। এখানে একটা সময় এই ঘরটা নিহারা মজুমদার সাজিয়ে রাখতেন। আর আজ সে ঘরে মাকড়সার জালি, ধুলোবালি জমে গেছে প্রত্যেকটা আসবাবপত্রের কোনায় কোনায়।
“ওয়াক!! ছি, ছি,ছি ফুফি তুমি এখানে কি করছ এত নোংড়ার মাঝে? চলে আসো প্লিজ! আমার তো বমি পাচ্ছে তুমি এখানে আসলে?”
ইরার কথায় তাচ্ছিল্যের হাসি হাসলেন আয়েশা চৌধুরী। আয়েশা চৌধুরীর অভিমানী চোখ দুটো টলমল করছে টুম্বুর হয়ে। ইরার বাক্যটা পছন্দ হলো না উনার।
মৃদু স্বরে তিনি ইরাকে বললেন, “তুমি বুঝবে না মা। তোমার কাছে ঘরটা নোংরা মনে হলেও আমার কাছে অনেক দামি। অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই ঘরটার চার দেওয়ালের মাঝে। তোমার দাদু দাদি থাকতেন ঘরটাতে।”
মুখ বাঁকাল ইরা।
তোমার থাকতে হলে তুমি থাকো। আমি গেলাম, আমার ফ্রেন্ডদের সাথে একটা পার্টি আছে। আমি পার্টিতে গেলাম।বাই……
হেলেদুলে চলে গেল ইরা।শুধু রয়ে গেলেন স্মৃতিমাখা ঘরটাতে আয়েশা চৌধুরী। নিরবে চোখে অশ্রু বিসর্জন দিলেন অনেকক্ষণ তারপর সযত্নে ঘরটাকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে গুছিয়ে রাখলেন জিনিসপত্র সবকিছু।
মিথিলা মজুমদার রান্না বসিয়েছেন। রাতের খাবার হিসেবে পোলাও দিয়ে খাসির মাংস চলবে। সাথে আরো অনেক আইটেম আছে।
আহমেদ মজুমদার সিগারেটের ধোঁয়া ফুঁকছেন।বাড়িতে একটা কাজের মেয়ে আছে সে তার মত কাজ করছে। কখনো বা মিথিলা মজুমদারকে সাহায্য করছে রান্নার কাজে। কাজের মেয়েটার নাম সিমা ।
“খালাম্মা আপনার কোন সাহায্য লাগবো? লাগলে আমারে কইয়েন আমি আছি তো। সাহায্য না লাগলেও আমি যাই আমার প্রিয় সিরিয়াল টা আবার মিস হইয়া যাইবো।” সিমার বেপরোয়া কথাই রাগী চোখে চাইলে মিথিলা মজুমদার। মেয়েটা সবসময় কাজে ফাঁকি দেয়।
মিথিলা মজুমদার কুড়াইতে কুনতি নাড়িয়ে নাড়িয়ে বললেন, “সামনে থেকে দূর হ। কোন কাজে না অকর্মা একটা, এসব কে কেন ধরে নিয়ে আসে কে জানে!”
সিমা মুখ কাচুমাচু করে চলে গেছে টিভি দেখতে।
_______________________________…..
আকাশের গাড়ি দেখা মাত্রই ফারুক মিয়া মেইন গেট খুলে দিলেন। আকাশ তাড়াতাড়ি নেমে এলো গাড়ি থেকে। গানের ভিতরে এসছিল তারপর ঘেমে চুপচাপ তার পরনের ব্লেজারটা।চোখ, মুখ কেমন অস্বাভাবিক ফোলা লাগছে। চুলগুলো এলোমেলো অগোছালো। ফারুক মিয়া ছুটে এলেন।
“বাপ এই অবস্থা ক্যান আপনার? কিতা হইছে আমারে কন!”
আকাশ কোনো জবাব না দিয়ে ধুপধাপ পা বাড়িয়েই বাড়ির ভেতর ঢুকে গেল।
ফারুক মিয়া ভোতা বনে গেলেন।আকাশ কলিং বেল চাপতেই নুড়ি নামক কাজের মেয়েটি দরজা খুলে দিল।বাতাসের বেগে সিঁড়ির দিকে চলে যায় আকাশ। মেয়েটা ভয়ে সিটিয়ে বুকে হাত রেখে আল্লাহর নাম জপছে।
কোনো কিছু না ভেবে বড় বড় পা ফেলে,সিঁড়ি ডিঙিয়ে দুইতলার মেঘলার কক্ষের সামন এসে হাঁফাতে -হাঁপাতে মেঘলা, মেঘলা করে চেচিয়ে ডেকে চলেছে আকাশ। মেঘলার সাড়া শব্দ নেই। রুমের দরজা খুলা তাই ভেতরে প্রবেশ করে থমকালো আকাশ। সব লাইট অপ। অন্ধকারে অশী নিশিরীর ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে রুম জুড়ে। মেঘলা অন্ধকারে ভয় পায়, তাহলে?
আকাশের কন্ঠনালী প্রায় শুকিয়ে কাঠ।সে ঢোক গিলছে বার বার।
আস্তে আস্তে শব্দ না করে পা ফেলে ভিতরে ঢুকে রুমের লাইট গুলো অন করে দিল ।
আকাশ বারান্দায় এসে দেখলো দেওয়ালের কোণায় গাপটি মে’রে জড়োসড় হয়ে বসে আছে মেঘলা।হাটুর বাজে মুখ গুজে রেখেছে প্রেয়সী তার। ছুটি এসে বসলো মেঘনার সামনে।মেঘলার চিবুক উঁচিয়ে দেখলো চোখ মুখ ফুলে গেছে কান্নার কারণে।
“কী হয়েছে পরী? কাঁদছিস কেন? আমি এসেছি দেখ! আর কাঁদিস না।বল কী হয়েছে।
ব্যথা পেয়েছিস?”
মেঘলা না সূচক মাথা নেড়ে জানালো।
আকাশ ফের আবারও বলতে লাগল,
“তাহলে কী বল আমাকে।শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে হ্যা!নাকি মাথা ব্যথা করে?”
মেঘলা ভাঙ্গা গলায় বলে,
“পেটে ব্যথা করছে।”
“ওহ এই ব্যাপার!নিশ্চয় হাবিজাবি খেয়ে পেটে ব্যথা করছে।”
একটু থেমে আবার বলল আকাশ, ওহ গড়ে! কতটা ভয় পেয়েছি আমি। জানিস তুই?”
“হাবিজাবি খায়নি।”
মেঘলার কথায় চোখ সরু করে চাইল আকাশ।
“তাহলে পিরিয়ড হয়েছে?”
লজ্জা আর সংকোচে মাথা নিচু করে ফেলল মেঘলা।
কথা টা একজন পুরুষ কে কীভাবে বলবে সে। তাকে ভাবার কোনো চান্স না দিয়ে আকাশ বলে,
“যা ওয়াশরুমে গিয়ে ড্রেস চেঞ্জ করে আয়। আমি হট বেগে করে গরম জল আর ওষুধ নিয়ে আসছি।”
_________________…….
পাখিদের কিচিরমিচির সুর ভেসে আসছে অদূর থেকে। অধর ঘুমের ঘোরে তলিয়ে আছে মেঘলা। শহরের আনাচে, কানাচে জানান দিচ্ছে দিনের উপমা শুরু। বস্তি এলাকার অলিতে-গলিতে মানুষের কোলাহল বাড়ছে ক্রমশ।
ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি হচ্ছে ধরত্রী জুড়ে। বৃষ্টি পড়ার কারণে হালকা ঠান্ডা অনুভব করে কুঁকড়িয়ে দু হাত ভাজ করে ডান কাত হয়ে বেঘোরে ঘুমাচ্ছে মেঘলা।
কি নিষ্পাপ চেহারা দেখলেই দৃষ্টি ফেরানো অসম্ভব।
আকাশ দুই হাত ভাজ করে ডিভানের উপর পা ঝুলিয়ে বসে আপন মনে দেখছে তার ফুলটুসিকে।
সারা রাত ভর চোখের পাতা লেক করেনি সে।সেবা করেছে মেঘলার।
একটা পাতলা কম্বল এনে জড়িয়ে দিল।কম্বলের নরম তুলতুলে ওম পেতেই নড়েচড়ে উঠলো মেঘলা। ঘুম না ভাঙ্গার জন্য আকাশ মেঘলার মাথায় হাত বুলিয়ে দিল।
আকাম কাবার্ডের সামনে দাঁড়িয়ে কিছু ভাবছিল আনমনে। হটাৎ খেয়াল হলো কাবার্ডের সাইটের চাবি আলগা হয়ে ঝুলছে।।আকাশ সেদিকে পা বাড়ায় চাবিটা লক করে দেওয়ার জন্য, ভুলবশত হাত ফঁসকে কাবার্ডের সাইটের দরজা টা খটখট শব্দ তুলে খুলে গেছে।
আকাশ পিলে চমকে গেছে। কারণ কাবার্ডের ভেতর সব কাপড় দলা ফুটলি পাকিয়ে বস্তা বানিয়ে রেখেছে মেঘলা। হতাশতার শ্বাস ছাড়ল বেচারা আকাশ। মেঘলা মেয়েটা ছোট থেকে অগোছালো টাইপের মানুষ। কাপড় থেকে শুরু করে গুছিয়ে দিয়েছে আকাশ। অনেকে ভাবে কিংবা বলাবলি করে মেঘলা মেয়েটা খুব ন্যাকামো করে।
আসলে যে তা নয় যে জন্ম থেকে অনাথ, তার জীবন কিভাবে গোছানো হবে।
…………………….
সকাল ৯ঃ০০ টার দিকে মেঘলার ঘুম ভাঙ্গে। ফোন হাতে নিয়ে স্ক্রিন খুলতেই চোখে পড়ে স্ক্রিনের উপর বড় বড় অক্ষরে লেখা মাই বেস্টু। মেঘলার বান্ধবী ফোন করেছে। বান্ধবী বললে ভুল হবে দুজন আর পরানের পরান একজন আরেকজনের কাছে তেমনই। প্রিয়র চেয়েও প্রিয় বান্ধবী । একজনের সাথে আরেকজনের একদিন কথা না হলে চলে না। তাদের দুটো প্রাণ যেন এক আত্মায় নিবদ্ধ ।
মেঘলার বেস্ট ফ্রেন্ডের নাম বর্ষা। পুরো নাম উম্মে কায়নাত বর্ষা।। দুজনের সেই ক্লাস 3 থেকে পরিচয়।
________________________________……
মেঘলা ভিডিও কল দিলো বর্ষাকে। বর্ষা ও বসে বসে অপেক্ষা করছে কখন মেঘলা ফোন করবে সেই আশায়। বর্ষার অপেক্ষার অবসান ঘটলো ফোনের ভাইব্রেশন এর শব্দে। ফোন রিসিভ করেই বর্ষা বলে,
“শুভ সকাল জানে মান!আজ এত দেরি কেন হলো?”
মেঘলার মুখশ্রী মলিন হয়ে গেল উদাসীন কণ্ঠে বলে,
“জানিস তো কাল রাতে আমার অনেক পেট ব্যাথা করছিল। আকাশ ভাই এসে ওষুধ খাইয়ে দিয়েছিল আবার খাইয়ে দিয়েছিল তারপর পেটে ব্যথা কমে গেল আর আমি ভালো হয়ে গেল।”
বর্ষা অবাক হয়ে বলে,
“হায় আল্লাহ! খুব কষ্ট হয়েছে তাই না।”
বর্ষার প্রায় কাঁদু কাঁদু কথা শুনে মেঘলা ফিক করে হেসে ফেলল।
বর্ষা : “তুই হাসছিস।আচ্ছা বাদ।দে সেসব, আগে বল আজ কলেজ যাবি?”
মেঘলা মন খারাপ করে বলে,
মেঘলা : “ নারে যাবো না। আকাশ ভাই বারণ করেছেন।”
বর্ষা : “ওহ আচ্ছা। তোকে ছাড়া ভালো লাগবে না, তাই আমিও কলেজ যাবো না।তার কোচিং?”
মেঘলা : “ হ্যাঁ কোচিং যাবো। আচ্ছা বাই পরে কথা বলব এখন ফ্রেশ হয়ে আসি।…….
বর্ষা :bye!....
……………
আকাশ কাজের মেয়ে নুড়ি কে কিচেন থেকে বের করে দিয়েছে। সে নুড়ি কে বলেছে রান্না সে করবে। তাই নুড়ি আর দ্বিমত করার সাহস পাইনি। চুপচাপ মেনে নিয়ে বেরিয়ে গেছে কিচেন রুম থেকে। স্যেঁতসত সকালে ফারুক মিয়া বাজার করে এনেছিলেন টাটকা শাকসবজি, মাছ, মাংস ইত্যাদি। সাথে করে দুইটা স্বাস্থ্যবান থেকে কবুতর কিনেছেন।
কবুতরের মাংস দিয়ে স্যুপ বানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে আকাশ।
প্রথমে মাংসগুলো কেটে সিদ্ধ করতে দিল তারপর বাকি উপকরণগুলো তৈরি করে রাখল আগেভাগেই। কারণ রান্নার সময় কোন জিনিসটা কোথায় আছে সে ভুলে যায়।
কবুতরের মাংস দিয়ে সুপ বানানো খাবারটা বিদেশি ডিস। এটা সে বিদেশে থাকাকালীন খেয়েছিল। স্বাস্থ্যকর বটে খুব।
আগুনের তাপে ঘেমে নেমে একাকার একাকার অবস্থা বেচারার।
খাবারের সুস্বাদু ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়েছে দারুণভাবে। তারপর একটা কাঁচের বাটিতে দিলে প্রায় অর্ধেক স্যুপ।
মেঘলার কামরায় এসে নিজের হাতে খাইয়ে দিল স্যুপ মেঘলা ততক্ষণে ফ্রেশ হয়ে বসেছিল বেলকনিতে। তার বেলকনিতে ফুলের রাজ্যের সমূহর সবগুলো গাছগাছালি ভরপুর বেলকনি।দেখলে বাগান বিলাস মনে হবে। আসলেই বারান্দার নাম দিয়েছে মেঘলা বাগান বিলাস।
__________________________ মজুমদার বাড়ি,
আয়েশা চৌধুরী ব্রেকফাস্ট সেরে ওনার বেডরুমে এসে শুয়েছেন। রুমটা অনেক শখের আয়েশা চৌধুরীর কাছে। ছোটবেলার অনেক স্মৃতি জমে আছে এই রুমে। বাপের বাড়িতে বছরে চার-পাঁচবার আসা হয় উনার।
সবুজ কালকে শ্যাওলা ধরেছে মজুমদার ভিলার বাইরের দেয়ালগুলোতে।
তাতে কিছু যায় আসে না আহমেদ মজুমদারের। মেরামত করার প্রয়োজন বোধও করলেন না বাড়িটা।
রাস্তাঘাটে মাথা উঁচু করে চলার সম্মানটুকু নেই বিন্দুমাত্র আহমেদ মজুমদােরর। তাতে কোনো চিন্তাভাবনা নেই আহমেদ মজুমদারের। টাকা পয়সা ধার নিতে নিতে পুরো এলাকার এমন একটা ঘর বাকি নেই যেখান থেকে উনি হাওলা নিয়েছেন।
আহমেদ মজুমদার টাকা পরিশোধ করার কথা মাথায় ঢুকান না।এ কারণে আয়েশা চৌধুরীর বাপের বাড়ি আসতে লজ্জা লাগে। পাওনাদাররা পথে ধরে দেখলে ধার করিয়ে আট -পাঁচ কথা শুনিয়ে দেন আহমেদ মজুমদারকে।আয়েশা চৌধুরী অনেক সাহায্য করেছেন ভাইকে।
আয়েশা চৌধুরী চোখ বুজেছেন কি বুঝেন নি ওমনি কাঠের দরজায় টক টক করা পরল। পায়ে পায়ে উঠে এসে দরজা খুলে দিলেন তিনি। দেখলেন ইরা দাঁড়িয়ে আছে। তার হাতের ফোনটা বেজে চলেছে খনেকক্ষণ।
সাদা টপস আর স্কার্ট পড়েছে ইরা।পাতলা কাপড়ের অংশ ভেদ করে ইরার নারী দেহ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।
খোলামেলা পোশাক পরা আয়েশা চৌধুরী পছন্দ করেন না। রাশভারি কড়াভাবে বলেন,
“ইরা কি ধরনের পোশাক পড়েছ । তুমি মুসলিম পরিবারের মেয়ে এটা কি ভুলে গেছো? তোমাদের বাড়িতে এসেছি দুদিন হলো।অথচ দেখছি একবারও তুমি, তোমার বাবা, মা এবং নানি সহ নামাজও পড়োনি কেউ!”
উপস ফুফি আকাশ ফোন করেছে। তোমার ফোন নাকি সুইচ অপ। এটা বলতে এসেছি, জ্ঞান শুনতে না।”
আর এক মুহূর্ত দাঁড়ানো না ইরা।বেপরোয়া ভঙ্গিমায় চলে গেল নিজের কক্ষে।
আয়েশা চৌধুরী উল্টা ঘুরে এলেন টেবিল থেকে মোবাইল নিয়ে দেখলেন চার্জ হয়েছে। ফোনে চার্জ ছিল না বিধায় ফোন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
দেখেন আকাশ মেঘলা এবং আয়ুশ চৌধুরী অনেক বার কল করেছেন।
সর্বপ্রথম তিনি আকাশকে ভিডিও কল দিলেন।
আকাশ : “আম্মু আপনি তো মামার বাড়ি বেড়াতে গিয়ে আমাদের ভুলে গেছেন দেখছি। সন্তানদের ছাড়া বাপের বাড়িতে কেমনে আছেন, আশা করি ভাল আছেন। আই মিন ভুল কিছু বলিনি।”
আয়েশা চৌধুরী : “ওরে আমার ফাজিল ছেলে, তোর কোন দিন মনে পড়েছে আমার কথা। যখন ছোট ছিলি তখন আমাকে ঠেলে তুলে পাঠিয়ে দিতে আর এখন বাড়ি থেকে বেরোতে দিস না কোথাও।”
আকাশ : “ওসব পুরনো কথা বাদ দাও। এখন বলো কেমন আছে?খাওয়া দাওয়া করেছো?
মামা মামীরা সবাই কেমন আছে?”
আয়েশা চৌধুরী : “হ্যাঁ খাওয়া দাওয়া করেছি। তোরা করেছিস আর তোর মামা-মামিরা সবাই ভালো আছে।”
আকাশ: “আমরাও খেয়েছি। কবে ফিরবে বলো। আমি নিয়ে যেতে আসবো।আব্বু নেই, তোমরা দুজন কে ছাড়া ভালো লাগছে না। ফুফির শরীর অসুস্থ। মেঘলা, আয়ান তোমাকে খুব মিস করছে!”
আয়েশা চৌধুরী আকাশকে খোদা হাফেজ বলে ফোন কেটে দিলেন।
চলবে…….