ওগো মেঘলা আকাশ একলা
(অনুমতি ছাড়া কেউ কপি করবেন না) 🚫🚫🚫
লেখিকা :পুতুল (এটা লেখিকা মানে আমার আসল নাম পুতুল না।পুতুল নামটা আমার ছন্দ নাম)
পর্ব, ২
আকাশ চৌধুরী পেশায় একজন ডাক্তার। বেশ নামডাক আছে তার। আকাশ চৌধুরীর বাবা আয়ুশ চৌধুরী দেশের টপ বিজনেসম্যান। আয়েশা চৌধুরী বাড়ির গৃহিনী।মেঘলা কলেজে ভর্তি হয়েয়ে তিন মাস হচ্ছে। সে তার পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকে।
আয়ুশ চৌধুরীর বোন রাজিয়া সিকদার এবং উনার এক ছেলে আয়ান সিকদারও থাকেন চৌধুরী বাড়িতে।
আয়ান সিকদারও পেশায় ডাক্তার। আকাশের সমবয়সী আয়ান।এবং তারা দুজনেই একই হসপিটালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ।
আয়ান সিকদারের বাবা নেই। তার বাবা মারা গেছেন বহুকাল আগে।
__________________________,,
বাইকে চড়ে ঘুরতে যাওয়ার মজাটাই যেন আলাদা এক অনুভূতি। মেঘলারও তেমন অজানা অনুভূতি হচ্ছে। কারণ এই প্রথম সে বাইকে চড়েছে।
এইতো মাত্র দিন তিনেক হলো আকাশ নতুন বাইক কিনেছে।
সে বাইক কিনেছে এটা নিয়ে বাড়ির গুরুজনেরা সকলে না’রা’জ। তবে মেঘলা, আয়ান, নিলয় ওরা মহা খুশি। নিলয়ের নিজস্ব বাইক-কার দুটোই আছে।চৌধুরী বাড়িতে চারটে প্রাইভেট কার আছে। একটা আয়ুশ চৌধুরীর, আকাশের আলাদা গাড়ি, আয়ানের জন্য একটা, বাকি টা মেঘলা বা বাড়ির বউ- মেয়েদের জন্য বরাদ্দ।
যদিও মেঘলা, আকাশ, আর আয়ানের সাথে কলেজ যায়।
ফুরফুরে শীতল কনকনে ঠান্ডা হাওয়া মন- মস্তিষ্ক সব জুড়িয়ে দিচ্ছে শরতের আমেজে। বাইক চালাচ্ছে আকাশ। তাদের পেছনে আরেকটি বাইকে আয়ান আর নিলয় আসছে।তাদের গাড়ি টা নিলয়ের।
এখানে নেই কোনো জটিল শহরের যানবাহনের চাপ।ফাঁকা রাস্তার মধ্যে কয়েকটি বাইক চলছে আর তরুণ তরুণীরা জুড়া হয়ে হাঁটছে।
সাদা রঙের সিল্ক শাড়ি পরেছে মেঘলা। মাথায় সাদা শিফনের ওড়না দিয়ে হিজাব বাধানো। ভীষণ মিষ্টি লাগছে মেয়েটাকে। তীব্র বাতাসের তালে তালে উড়ার তাড়না করছে গায়ের শাড়ি টা।সামলাতে বেশ হিমশিম পোহাতে হচ্ছে রমণীকে।
কারো মাঝে কোনো টু শব্দ নেই। শুধু বাতাসের উড়ন্ত সাঁ সাঁ শব্দ শুনা যায়।
নীরবতা ডিঙিয়ে আকাশ বলল,
: “ফুলঝুরি রাণী শক্ত করে ধরে বসুন। না হলে যে, হাওয়ার বেগে শুকনো পাতার মতো উড়ে যাবেন।”
হিতে ফুঁসে ওঠে মেঘলা। রাগে মেয়েটার নাকের পাটা
ফোলে উঠল লালচে হয়ে।
“তুমি আমাকে পাতার সাথে তুলনা করলে, আকাশ ভাইয়া।”
কটমট করে শুধালো মেঘলা। তার চেয়েও দ্বিগুণ জ্বলে উঠেছে আকাশ
দাঁতে দাঁত পিষে বলে,
“তুই আমাকে ভাইয়া বললি কোন সাহসে?
কে তোর ভাই? হ্যাঁ! তুই আমার আপন বোন না।তোর সাথে আমার রক্তের সম্পর্ক কখনোই ছিল না।আর না আছে।”
শেষের কথাগুলো হিসহিসিয়ে বলল আকাশ।
মেঘলা নরম কন্ঠে মিউ মিউ করে বলে,
“ভাইয়া বলে না ডাকলে কি ডাকব?”
“আকাশ বলে ডাকবি।”
মুখ বাঁকাল মেঘলা। সে জানে এই লোকটার সঙ্গে কথায় পেরে উঠা অসম্ভব। তাই বাধ্য মেয়ের মতো অষ্টাদশী চুপ করে গেল। মুচকি হাসল আকাশ।
অদূর থেকে দেখা যাচ্ছে রাস্তার ধারে ঝাঁক বাধানো কাশবন। তা দেখে মেঘলার মন প্রফুল্লে নেচে উঠেছে। কাশবনের কাছে এসে বাইকের ব্রেক কষল আকাশ।
হেঁচকা টান খেয়ে আষ্টে- পৃষ্ঠে আকাশের পিঠের শার্ট খামচে ধরেছে মেঘলা।
পড়ে যাওয়ার ভয়ে বুকের ভেতর তোলপাড় চলছে কা স্পষ্ট টের পাচ্ছে আকাশ।
আকাশ : “নামুন, ফুলঝুরি পাখি।”
মেঘলা : “এভাবে কেউ ব্রেক কষে? এক্ষুণী পরে যেতাম আমি।”
আকাশ : “জ্বী, না ম্যাডাম! আপনাকে আমি পরতে দিতাম না।”
তাদের পেছন পেছন নীলয়রাও এসে থামলো গাড়ি। বাইক দুটো রাস্তার সাইটে রেখে চাবি নিয়ে হাটা ধরল তারা চারজনে।আকাশ, মেঘলা, আয়ান, নিলয় ওরা শুকনো মাটির রাস্তা বেয়ে এগোচ্ছে। ঝোপে -ঝোপে কাশফুলের তোড়া।
যেন আকাশের বুকে আরেক তরফা সাদা মেঘলা আকাশ।
এ যেন কোনো বিখ্যাত চিত্র শিল্পীর হাতে স্বযত্নে রং তুলি দিয়ে আকাঁ একটুকরো স্বর্গের ছায়া ছবি। চারপাশে শীতল বাতাস বইছে দমকা হাওয়ায়। লম্বা লম্বি ঝাড়গুলো বাতাসেে বেগে দুলছে অবিরাম অগ্রযাত্রাহীন।বিশাল বিস্তার মাঠ।আইসক্রিম, ঝালমুড়ি, আচার, পোড়া মাটির মালাই চা, হাওয়াই মিঠাই ইত্যাদি বিক্রি করছেন বিক্রেতারা।জায়গাটা আসলেই জনপ্রিয় স্থান এবং মনোরম পরিবেশ।
মেঘলার শাড়ির আঁচল বাতাসে উড়ছে অবধ্য হয়ে। চিরাচরিত মুক্ত পাখির ন্যায় ছুটাছুটি করছে।
আকাশ তার গভীর আকাশী চোখ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে মেঘলাকে।
হ্যা! শুনতে অবাক লাগলেও এটা সত্যি যে আকাশের দু চোখ সমুদ্রের মতো নীল, আকাশী রঙের। জন্মগত ভাবে ছেলেটার চোখ দুটো এমন। চোখের মণির সাথে মিল রেখে বাবা -মা ছেলের নাম রেখেছিলেন আকাশ চৌধুরী। এক্কেবারে মানাসই নিখুঁত নাম। উজ্জ্বল শ্যামলা গয়ের রং এলাকার মেয়েদের ক্রাশ বললে চলে।
বাবা মায়ের নয়নের মণি আকাশ ছিল। তারপর হঠাৎ একদিন মেঘলা এলো। কথায় বলা যায় মেঘলার সাথে আকাশের বা তার বাবা -মায়ের কারো রক্তের সম্পর্ক নেই। যাকগে সেসব এখন শুধুই পুরনো সৃতি।
মেকি রাগী স্বরে আকাশ মেঘলাকে ডাক দিল,
আকাশ :”মেঘলা শোন দৌড়াদৌড়ি করিস না বলছি।”
কে শুনে কার কথা। রমণী ডাক, বাক কিছুই মানছে না।আচমকা হাওয়ার বেগে ছুটে এলো মেয়েটা। আকাশের নিকট এসে হাঁপড়ের মতো হাঁপাচ্ছে সে। আকাশ চিন্তিত হয়ে হাতে থাকা পানির বোতল টা দিল মেঘলাকে।মেঘলার শ্বাসকষ্ট আছে।
নিলয় আর আয়ান ঘাসের উপর বসে প্লাসটিকের কাপে পোড়া মাটির চা পান করছে গল্প করতে করতে।
মেঘলা আবদারের সুরে বলল,
মেঘলা : আমি পানি খাবো না।আমাকে আইসক্রিম, হাওয়াই মিঠাই, ঝালমুড়ি কিনে দাও। আমি খাবো।”
আকাশ প্রশ্ন করার আগে শুধালো মেঘলা।
এই টুকুর জন্য এভাবে দৌড়ানোর কী আছে শুনি? ভুলে যাস না তুই শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগী। কত লোকজন আছে! যদি কারো সাথে ধাক্কা লেগে পরে ব্যথা পেতিস? তখন হতো কি?”
মুখ কাচুমাচু করে ফেলল মেঘলা। ঝাঁঝালো কণ্ঠে ধমক দিয়েছে আকাশ। মেঘলা কিছু বলল না শুধু মাথা নুইয়ে আছে। স্বস্তির নিঃশ্বাস নিল আকাশ।
আকাশ : “চল কি যেন খাবি বলেছিস?”বলে উষ্ট যোগফল নাড়িয়ে মৃদু হেসে গেয়ে উঠলো আকাশ,,
…….তাকে নৃত্য নতুন যায় কে সাজায়………
সব স্বপ্ন সত্যি হয় কার…………?
……..তবুও দেখতে দেখতে কাটছি………….
আর হাঁটছি যেদিকে আমার দু -চোখ যায়……….
……..বোঝে না,...... সে বোঝে না………
বোঝে না,......... সে বোঝে না……….
……বোঝে না,......... সে বোঝে না……..
বোঝে না,...... সে বোঝে না…….
______________________________……,
ইরা গাল ফুলিয়ে কপালে ভাজ ফেলে বসে আছে চৌধুরী বাড়ির ড্রয়িং রুমে। সে ঘুম থেকে উঠার আগে আকাশ, মেঘলাসহ বাকিরা ঘুরতে বেরিয়েছে।
ইরার মা মিসেস মিথিলা মজুমদার মেয়ের পাশের চেয়ারে বসলেন। ঢং ঢং করে ঘড়ির কাটা জানান দিচ্ছে সময় বাজে ১২:০০। মিথিলা মজুমদার চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছেন তো মেয়ের ভাবমূর্তি বোঝার চেষ্টা করছেন। ইরার হঠাৎ দেশে ফিরা নিয়ে অনেক দুশ্চিন্তার মধ্যে আছেন ভদ্র মহিলা। কিচেন রুম থেকে টুংটাং শব্দ আসছে। আয়েশা চৌধুরী বেরিয়ে এলেন কিচেন থেকে। উনার হাতে গরম ধোঁয়া ছুটা পরোটা। খাবার নিয়ে পায়ে, পায়ে এগিয়ে এসে ডাইনিং টেবিলে রাখেন।
তিনি ইরার উদ্দেশ্যে বললেন,
“ইরা তুমি কি খাবে বলো। আমি বেড়ে দিই।”
ইরা হ্যাঁ বা না কিছু বলছে না।শুধু মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে অন্যদিকে।
আয়েশা চৌধুরী বলেন, “ফুফির প্রতি বুঝি রাগ হয়েছে।
আয়েশা চৌধুরীর চোখে দৃষ্টি মিলিয়ে ইরা বলে,
“ তোমার ছেলে আর ওই মেয়েটা বাইরে ঘুরতে গেছে। আমিও যাবো বলেছিলাম কাল তাদের। কিন্তু ওরা আমার মুখের উপর বলে দিল,তারা আমাকে সঙ্গে নিতে পারবে না। নিবে কেন ওদের মহা সমস্যা হবে আমি সাথে যদি যায়।” এক নাগাড়ে বলে ইরা লম্বা নিশ্বাস নিয়েছে।
আয়েশা চৌধুরী এগিয়ে এসে ইরার মাথায় হাত বুলিয়ে শুধালেন, “ওই মেয়েটা বলছো কেন মা? বলো মেঘলা। কতো সুন্দর মিষ্টি নাম আমার মেয়েটার। ওরা ভাই, বোনেরা এমনই তা তুমি জানো মা। আচ্ছা রাগ করো না। পরের বার আমি আকাশকে বলবো তোমাকেও সাথে নিয়ে যায় যেন।”বলতে বলতে চেয়ার টেনে বসলেন আয়েশা চৌধুরী।
“ফুপি মণি প্লিজ ওই মেয়েটির নাম আমার সামনে উচ্চারণ ও করবে না বলে দিলাম। আর কী বললে তোমার মেয়ে মানে! রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া এক তাচ্ছিল্য মেয়েকে কেন বারংবার নিজের মেয়ে বলছো?”
দু চোখ বুজলেন আয়েশা চৌধুরী।
“রাস্তার কুড়িয়ে পাওয়া কন্যা হোক বা নিজের সহজ কথায় মেঘলা আমাদের মেয়ে। চৌধুরী বাড়ির একমাত্র ছোট মেয়ে, মেঘলা চৌধুরী।”
গুরুগম্ভীর স্বর ভেসে এলো আয়ুশ চৌধুরীর।
কিছুটা কেঁপে উঠলেন আয়েশা চৌধুরী।নিচ তলার সিড়ি বেয়ে নেমে আসছেন আয়ুশ চৌধুরী। এতক্ষণ ইরার মা মিথিলা মজুমদার নীরব দর্শক হয়ে বসে ছিলেন এখনও তাই আছেন।
আয়ুশ চৌধুরীর ছোট বোন রাজিয়া সিকদার ও উপস্থিত হলেন।
রাজিয়া বেগম পরনের শাড়ির মাথায় আঁচল ভালো করে জড়িয়ে এসে বসতে বসতে শুধালেন, “বড় ভাইজান একটা কথা বলি কিছু মনে করবেন না আমাদের বাড়ির মেয়ের সম্বন্ধে অন্যদের মাথা না ঘামালেও চলবে। তাই মেঘলাকে নিয়ে কোন বাজে কথা শুনতে চাইছি না।
ফুঁসে মুখ ভেংচি কেটে মিথিলা মজুমদার ক্রুধে কটমট করে বললেন, “অন্যদের বলতে কাদের বুঝিয়েছেন আপনি।”
“আচ্ছা তোমরা সবাই কি শুরু করলে?”কথাটি আয়েশা চৌধুরীর ভাই নওশাদ মজুমদার।
আয়ুশ চৌধুরীর পাশের চেয়ার টেনে বসলেন তিনি। সকলে খেতে বসলেন। মনোযোগ স্থির এখন খাওয়ার প্রতি সকলের। পিনপতন নীরবতা নেমে এলো গোটা ডাইনিং টেবিল জুড়ে।চৌধুরী বাড়ির ডাইনিং টেবিলটা বিশাল বড়। যার পরিমাপ করা মহা মুশকিল। খাবার চিবোনোর শব্দ আর চামুটের টুং-টুং আওয়াজ বিরাজ করছে।
________________________….
“জায়গাটা খুব সুন্দর তাই না ভাইয়েরা।”
বিস্ময়ের অনুনয়ের কথাটি বলে মেঘলা। তার কথায় সম্মতি জানালো আকাশ আয়ান এবং নিলয়। সবুজ ঘাসের ওপর বসে ঝালমুড়ি চিবোচ্ছে মেঘলা। তার কোলের উপর কয়েক পদের আচারের প্যাক আর দুটো হাওয়াই মিঠায়।। আকাশ আড়চোখে দেখছে মেঘলাকে।
অথচ কেউ ধরতে পারবে না আকাশের দৃষ্টি ফোন স্ক্রল করতে নাকি মেঘলাকে দেখতে ব্যস্ত। এই ছেলেটার ভাব ভঙ্গিমা বোঝা বড্ড মুশকিল। আকাশের দিকে অনেকেই তাকাচ্ছে বিশেষ করে তার ওই নীল সমুদ্রের মতো গভীর চোখ দুটোর দিকে। সবার নজরে আসছে চোখ দুটো। কেউ ফিসফিস করছে বা কেউ দেখে চলে যাচ্ছে নিজ গন্তব্যে। এসব নিয়ে আকাশের কোন মাথা ব্যাথা নেই।
অনেক ঘোরাঘুরি, ছবি তোলা, খাওয়া-দাওয়া হয়েছে চার জনের। সবাই বেশ খুশি। এখন তাদের বাড়ি ফেরার পালা। বিকেল চারটা বাজে পাঁচটার দিকে হসপিটালে যেতে হবে আকাশ এবং আয়ানকে । নিলয় একজন রাজনৈতিক নেতা। তার তেমন তাড়াহুড়ো নেই বললেই চলে কাজের।
একগুচ্ছ কাশফুল আকাশ তুলে দিয়েছে মেঘলার হাতে। কত রকমের যে পোজ দিয়ে ছবি তুলেছে তার হিসাব নেই আকাশের। সব মেঘলার ছবি। বাইকের কাছাকাছি এসে আকাশ যখন গাড়ির চাবি পকেট থেকে বের করছিল তখন একটা বাচ্চা মেয়ে দৌড়ে এসে আকাশের হাতখপ করে ধরে ফেলে । অবাক হয় আকাশ!
মেয়েটার হাতে তাজা ফুলের ঝুড়ি।
“সাহেব! সাহেব একটা ফুল নিবেন ওই যে আপনার বউকে এই মালাটা খুব মানাবে! আমার মা নিজ হাতে বানিয়েছে এই মালাটা।”
বাচ্চা মেয়েটা মেঘলার দিকে আঙুল তাক করে বলেছে । বউ শব্দটা শুনে মেঘলা চোখ ঠাসা ছানাবড়া হয়ে গেল। সবে মাত্র মেয়েটা হাওয়াই মিঠাইয়ের এক টুকরো মুখে দিয়েছিল। হাওয়াই মিঠাই টুকরোটাও আনমনে মিলিয়ে গেল মুখের ভেতর।মিষ্টি খাবারটার স্বাদটুকু বুঝতে পারল না খেতে কেমন।আকাশ মুচকি হেসে মেয়েটার হাত নিজের কাছ থেকে ছাড়িয়ে ওয়ালেট বের করে ধরিয়ে দিল ১০০ টাকার নোট। আর ডান হাত বাড়িয়ে ঝুড়ি থেকে একটা লাল টকটকে গোলাপ সহ গাজরা ফুলের মালা নিল। নিলয় ও আয়ান চোখে চোখে ইশারা করছে।
মেঘলা কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে আকাশ।এহেন কাণ্ডে নিলয় দ্রুত ফোন বের করে ভিডিও অন করল। ফিসফিস করে বলছে,
নিলয়: “আয়ান মজাটা জমে যাবে ভাই! আকাশ এখন মেঘলাকে প্রপোজ করবে।”
আয়ানও মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানাল।
বলে নিলয় ফটাফট কিছু ফটো এবং একটা ভিডিও করে নিল। ভবিষ্যতে কাজে লাগবে আকাশকে খোঁচা দিতে।
সিনামার নায়কদের মতো মেঘলার হাতে গারা ফুলের মালা টা ধীরস্থিতে বেঁধে পরিয়ে দিল।চিবুক উঁচিয়ে এক পলক দেখল মেঘলাকে। মেঘলা হা করে তাকেই দেখছে।
আকাশ : “মুখটা বন্ধ কর। যেভাবে হা করে রেখেছিস, মাছির দল ঢুকবে।”
হুট করে উঠে দাঁড়াল আকাশ।
“ছ্যাৎ! শালা বা’ল কোথাকার! দেখলি ভাই আয়ান? এই গাদা করল কি?”
“দে পেছনে ফির, চুলে গুঁজে দিই।”আকাশ গোলাপ ফুলটা মেঘলার খোলা চুলের ভাঁজে পেচিয়ে গুঁজে দিল।
____________________…..
ইরা এবং তার পরিবার তাদের বাড়ি ফিরে গেছে দুপুরের পর। মেঘনাদের বাড়ি আসতে প্রায় সন্ধ্যা সাতটা বেজেছে।
মেঘলাকে বাড়ির গেইটের সামনে নামিয়ে দিয়ে আকাশ, আয়ান, নিলয় ওরা চলে গেছে। নামাজ পড়ে বারান্দায় পায়চারি করছে মেঘলা। বেশ কিছুক্ষণ পর মেঘলা বই হাতে নিয়ে বসলো কিছু তৈরি নোটস করতে হবে কলেজের।
প্রায় ঘন্টা দু এক পর নোটস তৈরি করে সেটা শেষ হলো। তারপরে মেঘলা তার অতি প্রিয় শখের নীল ডায়রিটা নিল। ডায়েরির পাতায় তার আজকের দিনলিপি লিখবে। এই ডায়েরির পাতায় কষ্টের কিংবা সুখের কাহিনী লিখে। ডায়েরি টা আকাশ গত বছর তার জন্মদিনে গিফট হিসেবে দিয়েছিল।
আয়েশা চৌধুরী ভাইয়ের সাথে বাপের বাড়িতে গেছেন বেড়াতে। আয়ুশ চৌধুরী সিলেট গেছেন ব্যবসার কাজে। সাতদিন পর ফিরে আসবেন সিলেট থেকে ঢাকায়।
রাজিয়া বেগম রান্না করছেন। বাড়ির ছেলেরা ফিরবে রাত সাড়ে দশটায়।
চলবে………..