ফন্ট সাইজ:
থিম:
ওগো মেঘলা আকাশ একলা

পর্ব 13

লেখক: কবিতা রহমান মর্তুজা (পুতুল)

ওগো মেঘলা আকাশ একলা 

লেখিকা : পুতুল। 

(কপি করা নিষিদ্ধ) ❌❌❌

 পর্ব,১৩

হাসপাতালের সিসিটিভি কন্ট্রোল রুমের ভেতরের পরিবেশটা অত্যন্ত নিস্তব্ধ। এসি-র একটা মৃদু গুঞ্জন ছাড়া আর কোনো শব্দ নেই। বড় বড় মনিটরের সামনে দাঁড়িয়ে আছে আকাশ এবং আয়ান। আকাশের সেই মোহনীয় আকাশী রঙের চোখ দুটো  নিবদ্ধ হয়ে আছে স্ক্রিনের ওপর। সিকিউরিটি অফিসার মাউস স্ক্রল করে রাজিয়া বেগমের কেবিনের সামনের করিডোরের গত চব্বিশ ঘণ্টার ফুটেজ বের করল।

মনিটরের পর্দায় দেখা গেল, সাদা চাদরে ঢাকা বেডে রাজিয়া বেগম অবচেতন অবস্থায় শুয়ে আছেন।

 করিডোরে আত্মীয়স্বজনদের ভিড়। 

কিন্তু হঠাৎ করেই আকাশের চোখ আটকে গেল একটা দৃশ্যে।

 গভীর রাতে, যখন করিডোর প্রায় জনশূন্য ছিল, তখন চৌধুরী ম্যানশনের একজন অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও পুরোনো কাজের লোক রাজিয়া বেগমের কেবিনে জলের ফ্লাস্ক নিয়ে ঢুকেছিল।

 তার চলে যাওয়ার ঠিক এক ঘণ্টা পর থেকেই রাজিয়া বেগমের শরীর নীলাভ হতে শুরু করে।

আয়ান স্ক্রিনের দিকে আঙুল নির্দেশ করে উত্তেজিত গলায় বলল, "আকাশ ভাইয়া  ! দেখ, এই লোকটাই তো প্রতিদিন আম্মুর ঘরে খাবার আর জল নিয়ে যেত! তার মানে কুমিল্লায় সেই নায়েব যে কথা বলেছিল, তা অক্ষরে অক্ষরে সত্যি! চৌধুরী ম্যানশনের ভেতরের কেউ এই লোকটাকে ব্যবহার করে আম্মুকে বছরের পর বছর ধরে ওই ধীরগতির বিষ দিচ্ছিল!"

আকাশের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল, রাগে তার উজ্জ্বল শ্যামলা মুখটা থমথম করতে লাগল। 

সে সিকিউরিটি অফিসারকে ফুটেজটা পেনড্রাইভে সেভ করতে বলে আয়ানের দিকে ফিরল। 

আকাশ আয়ানের দিকে তাকিয়ে  বলল, "আয়ান, তোকে এখন শান্ত থাকতে হবে।

……

 এই সিসিটিভি ফুটেজ আর কুমিল্লার প্রমাণ দিয়ে আমরা আজ রাতেই চৌধুরী ম্যানশনে আসল অপরাধীর মুখোশ টেনে খুলব। কিন্তু তার আগে আমাদের মেঘলার কাছে যেতে হবে। মেয়েটা ক্যাফেটেরিয়াতে একা আছে, ও এমনিতেই খুব ভয় পেয়ে গেছে।"

দুই ভাই দ্রুত পায়ে কন্ট্রোল রুম থেকে বেরিয়ে হাসপাতালের দোতলার ক্যাফেটেরিয়ার দিকে এগিয়ে গেল। সেখানে এককোণের বড় টেবিলটাতে মেঘলা এখনো আকাশের বন্ধুদের সাথে বসে আছে। নিলয়, আবির, নীরব, আরহাম, মাহিন এবং রোদ্দুর মেঘলাকে চাঙ্গা করার জন্য নানা রকম মজার গল্প বলছিল, কিন্তু মেঘলার মন কিছুতেই শান্ত হচ্ছিল না। তার দৃষ্টি বারবার ক্যাফেটেরিয়ার প্রবেশদ্বারের দিকে যাচ্ছিল।

আকাশকে ভেতরে ঢুকতে দেখেই মেঘলার চোখে-মুখে একরাশ স্বস্তি ফুটে উঠল। বন্ধুদের সামনে সে আকাশকে যেভাবে নামে ডাকে, সেভাবেই সোফা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বলল, "আকাশ! তোমরা এসেছ? সিসিটিভি ফুটেজে কী দেখলে? কোনো ক্লু পাওয়া গেছে?"

বন্ধুদের সামনে মেঘলার মুখে সরাসরি নিজের নাম ‘আকাশ’ শুনে আকাশের ভেতরের সমস্ত ক্লান্তি নিমেষেই উধাও হয়ে গেল। 

সে মেঘলার খুব কাছাকাছি এসে বসল। বন্ধুদের সামনে তাদের এই মিষ্টি রসায়ন দেখে নিলয় আর আবির আড়চোখে চেয়ে হাসল। আকাশ অবশ্য বন্ধুদের হাসিকে পাত্তা না দিয়ে সবার আড়ালে মেঘলার হাতটা আলতো করে চেপে ধরল। 

সে নিচু ও গভীর সুরে মেঘলাকে ‘তুই’ করে বলল, "মেঘলা, তুই একদম চিন্তা করিস না। আমরা আসল অপরাধীর খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। আজ রাতেই সব সত্য সবার সামনে আসবে। তুই দুপুর থেকে কিচ্ছু খাসনি, এবার এই স্যুপটা একটু খেয়ে নে দেখি।"

আকাশের এই পজেসিভ যত্ন দেখে মেঘলার বুকের ভেতর এক আলোড়ন সৃষ্টি হলো। সে মাথা নেড়ে বলল, "আমার গলা দিয়ে কিছু নামছে না আকাশ।"

ঠিক তখনই করিডোর থেকে এক নার্সের হন্তদন্ত হয়ে ছুটে আসার শব্দ পাওয়া গেল। নার্স ক্যাফেটেরিয়ার দরজায় দাঁড়িয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, "ডক্টর আকাশ! ডক্টর আয়ান! আপনারা জলদি ভিআইপি কেবিনে আসুন! পেশেন্ট রাজিয়া বেগমের কন্ডিশন হঠাৎ করে ভীষণ খারাপের দিকে যাচ্ছে! লাইফ সাপোর্ট মেশিনের অ্যালার্ম বাজতে শুরু করেছে!"

নার্সের এই কথাটি শোনা মাত্রই পুরো ক্যাফেটেরিয়াজুড়ে এক বজ্রপাতের মতো নীরবতা নেমে এল। 

মেঘলার হাতের পানির গ্লাসটা ফ্লোরে পড়ে ঝনঝন করে ভেঙে গেল।

 আকাশ আর আয়ান মেডিসিন বিশেষজ্ঞের ক্ষিপ্রতা নিয়ে এক সেকেন্ডও নষ্ট না করে কেবিনের দিকে ছুটল। 

মেঘলা এবং আকাশের বন্ধু মহলও তাদের পেছনে পেছনে দৌড়াতে লাগল।

কেবিনের সামনে পৌঁছাতেই দেখা গেল, বাইরের করিডোরে আকাশের বাবা আয়ুশ চৌধুরী আর মা আয়েশা চৌধুরীসহ সব আত্মীয়স্বজন কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। কেবিনের ভেতরে ডাক্তাররা রাজিয়া বেগমকে সিপিআর দেওয়ার চেষ্টা করছেন। 

আকাশ এবং আয়ান দ্রুত ভেতরে ঢুকে সব মেডিকেল প্যারামিটার চেক করতে লাগল।

কিন্তু মনিটরের স্ক্রিনে দেখা গেল, প্রতিষেধক দেওয়ার পর সাময়িকভাবে হার্ট সচল হলেও, পঁচিশ বছরের সেই পুরোনো বিষ রাজিয়া বেগমের ফুসফুস এবং লিভারকে ভেতরে ভেতরে পুরোপুরি ঝাঁঝরা করে দিয়েছে। 

ওনার অর্গানগুলো একে একে ফেইলিউর হতে শুরু করেছে। মেডিকেল সায়েন্সের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে রাজিয়া বেগমের নিঃশ্বাস ক্রমশ ছোট হয়ে আসছিল।

রাজিয়া বেগম কাঁপা কাঁপা হাতে আকাশকে ইশারা করে ডাকলেন। আয়ান নির্বাক হয়ে চেয়ে আছে মায়ের মুখ পানে। বেচারার মুখে রা নেই। শুধু চুপচাপ দেখছে মায়ের ছটফটানি।তার বুকের ভেতরটায় তোলপাড় চলছে। কেন জানি জ্বলছে চোখ দুটো। বুকের ভেতরে শূন্য শূন্য অনুভব করছে সে।

 আকাশ ভিআইপি মেশিনের কাছ থেকে ছুটে এসে ধপাস করে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল রাজিয়া বেগমের মাথার কাছে। 

রাজিয়া বেগমের শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত গতিতে চলছে। খুব জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছেন শ্বাস  নিতে কষ্ট হচ্ছে বোধ হয় তাই এমন করছেন উনি। আকাশ ফুফির  হাতটা ধরে বলল, 

“ খুব বেশি খারাপ লাগছে ফুঁপি?  কোথায় কষ্ট হচ্ছে বলো? কী বলতে চাইছ তুমি?  ও ফুঁপি এমন কেন করছো? আমরা সবাই আছি কো তোমার সাথে!”

আকাশের কথা শুনে রাজিয়া বেগম  আরোও বেশি উত্তেজিত হয়ে উঠলেন। আগের চেয়েও বেশি ছটফট করছেন তিনি।তারপর কাঁপা কাঁপা গলায় বললেন,

“ আমার.. মেঘলাকে ডাক, আকাশ!  কথা আছে.. ! 

আয়ান এখনো চুপচাপ চেয়ে আছে মায়ের মুখপানে। সে যেন বাকরুদ্ধ  হয়ে গেছে। রাজিয়া বেগম ছেলেকে ও হাতের ইশারায় ডাকলেন। আয়ান যেন হাটার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। সে মায়ের কাছে ছুটে আসতে চাইছে কিন্তু পা দুটো অবশ হয়ে আছে। তারপরও কোন মতে এসে দাঁড়ালো মায়ের সামনে। হাঁটু গেড়ে বসে পড়লে সে। রাজিয়া বেগম ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। 

“আব্বু.. ..  আয়ান!  আমার সাত রাজার ধন!  এভাবে কাঁদিস বাপ?  জন্মের আগে যখন তোর বাবা এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়, তখন তোকে আমি খুব কষ্ট করে জন্ম দিয়েছিলাম। তোর বাবার মৃত্যুর দুই দিন পরই তোর দাদু আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলেন। 

 তোর জন্ম হয়, তোর মামার বাড়িতে ঢাকায় এসে। 

একটু থেমে…… 

“তোমাকে  তোমার  মামা- মামি নিজের সন্তানের মতো মানুষ করেছে। আকাশ আর তোর মধ্যে কোনো দিন পার্থক্য করেননি। 

আমার চলে যাওয়ার সময় হয়ে এসেছে। ওপারের ডাক এসেছে। 

তুমি কখনো কাঁদবে না মাকে কথা দাও আব্বু?মামা মামিকে কষ্ট দিবে না, তাদের কথার অবাধ্য হবে না।  

দুই ভাই মিলেমিশে থাকবি। আর আমার মেঘলাটাকে সবসময় দেখে রাখবি। যেন চোখের আড়াল না হয়।

বোকা মেয়েটা আমার কিছু বুঝে না। যে যা বুঝায় তাই বিশ্বাস করে।”

আয়ান এবার মায়ের দু'হাতে চুমু এঁকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। মাথা দুলিয়ে বলল, “ সব কথা মানবো। কিন্তু তুমি আমাকে ছেড়ে কোথাও যাবে না বলো, আম্মু! 

আমি কখনো বাবার ভালোবাসা পাইনি। কিন্তু তুমি  আমাকে বাবার  সেই শূন্য  অভাব টা কোনোদিন বুঝতে দাওনি।” 

তুমি ও যদি চলে যাও তাহলে আমি একেবারে এতিম হয়ে যাবো গো আম্মু।”

আয়ান কাঁদছে বাচ্চাদের মতো করে। কি করুণ সেই কান্নার সুর। রাজিয়া বেগমের বুকের ভেতর তোলপাড় চলছে সন্তানের আর্তনাদ শুনে। 

এতক্ষণ যাবত আকাশ সবকিছু শুনলো নিরব দর্শক হয়ে। আকাশ কেবিন থেকে অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মুখে বাইরে বেরিয়ে এল। তার সেই আকাশী রঙের চোখ দুটোতে এখন আর কোনো স্বস্তির আলো নেই, সেখানে এখন এক বুক অসহায়ত্ব আর জল টলমল করছে।

 সে করিডোরে দাঁড়িয়ে থাকা মেঘলার দিকে তাকাল। এখন সামনে অনেক আত্মীয়স্বজন দাঁড়িয়ে আছেন, তাই আকাশ সামাজিকতা বজায় রেখে অত্যন্ত মায়াবী ও কাঁপা গলায়   বলল, "মেঘলা... ফুঁপি বোধহয় আমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। ওনার জ্ঞান ফিরেছে, ওনার শেষ সময়ে উনি শুধু তোমাকেই কাছে ডাকছেন। তুমি ভেতরে যাও।"

বড়দের সামনে আকাশের এই সম্বোধন আর ভাঙা কণ্ঠস্বর শুনে মেঘলার পুরো পৃথিবী যেন ওলটপালট হয়ে গেল। 

সে চোখ মুছতে মুছতে বড়দের সামনে যেভাবে ডাকে, সেভাবে চিৎকার করে কেঁদে উঠে বলল, "আকাশ ভাই! আপনি এমন কথা বলবেন না! আপনি তো বড় ডাক্তার, আপনি ফুঁপিকে বাঁচান!"

আকাশ মাথা নিচু করে রইল। মেঘলা কাঁপতে কাঁপতে কেবিনের ভেতরে ঢুকল। বেডের পাশে গিয়ে রাজিয়া বেগমের বরফের মতো ঠান্ডা হাতটা নিজের দু-হাতে তুলে নিল। রাজিয়া বেগম খুব কষ্ট করে চোখ মেললেন। মেঘলাকে দেখে ওনার ঠোঁটের কোণে এক চিলতে ম্লান হাসি ফুটে উঠল। তিনি অত্যন্ত ক্ষীণ কণ্ঠে বললেন, "মা... মেঘলা... আমার সময় শেষ।  তোরা দুজনে একসাথে থাকিস... আকাশকে বলিস আমার আয়ানকে দেখে রাখতে..."

তোরা ছাড়া আমার আয়ানের আর কেউ নেই!  আমার ছেলেটা বড্ড একা। দেখে রাখিস আকাশ, তোর ভাইকে।” 

মেঘলা কান্নাজড়িত কন্ঠে বলল, 

“ফুঁপি তোমার কিচ্ছু হবে না। আকাশ ভাই আর আয়ান ভাইয়া তোমাকে সুস্থ করে তুলবে।তোমার জন্য আমার অনেক কষ্ট হচ্ছে ফুঁপি। 

তোমাকে আমি কোথাও যেতে দিব না।” 

বলেই ঠোঁট উল্টে  বাচ্চাদের মতো মেঘলাও কুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো। আকাশ কাকে শান্তনা দিয়ে কাকে সামলাবে কিছু বুঝে উঠতে পারছে না। 

আয়েশা চৌধুরী এবং আয়ুশ চৌধুরী ধীর পায়ে এগিয়ে এলেন রাজিয়া বেগমের সামনে। চোখের সামনে নিজের ছোট বোন টা কে এভাবে দেখে উনার বুকটা ফেটে যাচ্ছে। 

হায়!!  আপসোস কিন্তু উনি কিছু প্রকাশ করতে পারছেন না।

রাজিয়া বেগম বড় ভাই আর বড় বোনের সমতুল্য ভাবিকে দেখে মৃদু হেসে বললেন, 

“বড় ভাইজান আর ভাবি,আমি আপনাদের কাছে আমার আয়ানকে রেখে যাচ্ছি। পরপারে আমাদের আবারো পুনরায় দেখা হলে  আমি সর্বপ্রথম  আপনাদের কাছে জবাব চাইবো, আমার রেখে যাওয়া আমানতকে আপনারা আগলে রেখেছেন কি না।আর আকাশ - মেঘলাকে মেনে নিবেন ।”

ব্যাস এতোটুকুই। আর কিছুই বলতে পারলেন না রাজিয়া বেগম। তবে ঠোঁটের আগায় ঠোঁট নাড়িয়ে শুধু একটা লাইন পড়ে গেলেন উনি,  “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু!”

কথাটা শেষ করার আগেই কেবিনের মনিটরের স্ক্রিনে এক দীর্ঘ 'বিপ' শব্দ শোনা গেল। লাইফ সাপোর্ট মেশিনের সোজা সরল রেখাটি জানিয়ে দিল—রাজিয়া বেগম আর এই পৃথিবীতে নেই।

কেবিনের ভেতর থেকে মেঘলার এক আকাশ ভাঙা কান্নার আওয়াজ বাইরের করিডোরে আছড়ে পড়ল।  সেই আসন্ন কালো মেঘ যেন এক আগেই চৌধুরী ম্যানশনের ওপর তার অন্ধকার ডানা মেলে দিল।সকলে হু হু করে অজুড়ে  কেঁদে ফেললেন। 

 ফুঁপির এই আকস্মিক মৃত্যুর পর চৌধুরী ম্যানশনের সেই রাজকীয় অন্দরমহলে এখন কোন ভয়ঙ্কর সত্যের মুখোমুখি হতে চলেছ আকাশ আর মেঘলা? কে সেই আসল খুনি?

(চলবে...)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 13 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন