ফন্ট সাইজ:
থিম:
তব_ফিরি_নব_ফাল্লুনে

পর্ব 2

লেখক: মিথিলা_জামান_নিভা

#তব_ফিরি_নব_ফাল্গুনে
#মিথিলা_জামান_নিভা
পর্ব: ২

ধুপধাপ আওয়াজ আর 'ও বাবা গো' 'ও মাগো' জাতীয় শব্দ শোনা যাচ্ছে শাওনের ঘর থেকে। বাইরে থেকে মনে হচ্ছে যেনো গাছ থেকে তাল পড়ছে। শাওন একবার লাফিয়ে ঘরের একদিকে যাচ্ছে, ফারদিন ওখান থেকে তাকে ধরে এনে আরো গোটা কয়েক লাগিয়ে দিচ্ছে তার পিঠে।

"চাচ্চু এবার তো থামো।"
"কোনো থামাথামি নেই। আজ আমার হাতে তোর জান কোরবান। নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবর।"
শাওন কোনোরকমে কিছুটা দূরে যেয়ে হাত বুলায় পিঠে। ফারদিন হিংস্র চোখে তাকিয়ে আছে তার দিকে।

"আগে আমার দোষটা কি সেইটা তো বলো। এরপর নাহয় আবার শক্তি সঞ্চয় করে মেরো।"
ফারদিন ফোঁসফোঁস করে শ্বাস ফেলে বললো,"তুই জানিস না তোর দোষ কি? হতচ্ছাড়া নেংটি ইঁদুর।"
শাওন মুখ গোঁজ করে বললো,"আর যা-ই বলো নেংটি ইঁদুর বলবে না। আর কি দোষ আমার? টিচার গার্ডিয়ান ডেকেছিলো। আমি কি এখন বাড়িতে এসে আবার বাবাকে নিয়ে যাবো? তুমি যখন গিয়েছোই তোমাকে অনুরোধ করলাম। তাতেই আমার দোষ হয়ে গেলো?"
ফারদিন শাওনের কলার চেপে ধরে বললো,"টিচারটা যে ওই ভদ্রমহিলা তা বলিসনি কেনো আগে? এরচেয়ে এনাকোন্ডার সামনে যেয়ে তাকে বলবো 'আয় আয় ছোবল দে', তাও ভালো।"
শাওন ধপ করে বিছানায় বসে পড়ে।

"কিন্তু তুমি কাজটা কি করলে? কোনো কথা না বলে এভাবে চলে এলে? এটা কি ঠিক করেছো? ওটা আমার কলেজ চাচ্চু। একটু ফর্মালিটি নাহয় করতে। আর তাছাড়া...."
ফারদিন চেয়ারের উপর বসে পা ছড়িয়ে দেয়। এখনো রাগী চোখে শাওনের দিকে তাকিয়ে সে।

"কোনো ফর্মালিটির ধার ধারিনা আমি ওই মহিলার সাথে। এরচেয়ে ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত দাগী আসামীর সাথে ফর্মালিটি দেখাতে বল আমাকে, আমি তাতেও রাজি।"
শাওন কিছুটা শান্ত চোখে ফারদিনের দিকে তাকায়। ফারদিন যেনো উত্তপ্ত পানিতে ফুটছে। এতোটা অস্থির তাকে লাগেনা। সে সবসময়ই প্রায় শান্ত ও স্বাভাবিক থাকে।

"চাচ্চু।"
ফারদিন সাড়া দেয়না শাওনের ডাকে।
"তুমি লাবণ্য ফুপুকে এখনো ভুলতে পারোনি তাইনা? এখনো সেই আগের মতোই ভালোবাসো উনাকে?"
ফারদিন চমকে ওঠে। জ্বলে ওঠে যেনো তার চোখ দু'টো। বুকের মধ্যটা মুহুর্তেই একবার মোচড় দিয়ে ওঠে। কিন্তু সাথে সাথে সামলে নেয় নিজেকে।

"না। উনার প্রতি আমার হৃদয়ে বিন্দুমাত্র কোনো ভালোবাসা অবশিষ্ট নেই। আমি উনাকে ঘৃণা করি।"
"চাচ্চু...."
"এ নিয়ে আর কোনোদিন কোনো কথা বলবি না তুই। যে বই আমি একবার চিরদিনের জন্য বন্ধ করে দিয়েছি। সেই বই আর কোনোদিন খুলবো না আমি।"
ফারদিন দ্রুত বেগে উঠে সশব্দে দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে যায়। সেদিকে তাকিয়ে মাথা চুলকে হাসে শাওন। সে মুখে যতো যা-ই বলুক, ফারদিনের বুকের মধ্যে এখনো যে সে শুধু লাবণ্যের নামটাই খোদাই করে লেখা তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আজই সে প্রমাণ আরো একবার পেলো শাওন। মারধোর খেলেও বেশ খুশি খুশিই লাগছে তার। কেনো লাগছে সে জানেনা। কখনোই কি তাদের আর মিলে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই? একেবারেই কি অসম্ভব?

-----

রাত নেমেছে অনেক আগেই। সেই কখন ছাদে উঠেছে লাবণ্য। এখনো নামেনি। একনাগাড়ে পায়চারি করে যাচ্ছে সে। দুই বালতি ঠান্ডা পানি মাথায় ঢেলে গোসলও দিয়েছে সে। তবুও রাগ পড়েনি এতোটুকুও। পুরো শরীর যেনো জ্বলছে টগবগ করে।
"ম্যানারলেস ইডিয়ট একটা। ওকে কে বলেছে আমার সাথে দেখা করতে? এতোগুলো টিচারের সামনে আমাকে অপমানিত করে চলে গেলো। যে সাহস এখন পর্যন্ত কেউ পায়নি। ইচ্ছা করছে চাবকে সিধে করে দিতে। রাবিশ...."
দুই হাতের তালু ঘষতে ঘষতে হাঁটে সে। কোনোভাবেই শান্ত হতে পারছে না সে।

"কি রে লাবণ্য, কখন থেকে তোকে খেতে ডাকছি। শুনতে পাসনি নাকি? আয় খেয়ে নিবি।"
"আমি খাবো না ভাবী। তোমরা খেয়ে শুয়ে পড়ো।"
"ওমা! সে কি কথা? তোকে ছাড়া আমরা খেয়েছি কখনো? কি হয়েছে তোর?"
"কিছু না, কিচ্ছু না।"

নির্জনা ধীর পায়ে হেঁটে লাবণ্যের পাশে এসে দাঁড়ায়। মেয়েটাকে অশান্ত লাগছে। সে যখন স্কুল, কলেজে পড়তো তখন ক্ষণে ক্ষণে এমন অশান্ত হয়ে যেতো, রাগে ফেটে পড়তো। পরক্ষণেই আবার হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়তো। বড্ড বেশি ছটফটে ছিলো মেয়েটা। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে উঠলো, রঙিন জীবন শুরু হলো তার। প্রেমে পড়লো মেয়েটা প্রথমবারের মতো। নিজেকে পাল্টাতে শুরু করলো। কাঁধ পর্যন্ত ছিলো যে চুল, সে চুল কোমর ছাড়ালো কিছু মাসের মধ্যে। শাড়ি দেখলেই যে শত হস্ত দূরে থাকতো, সে মাঝে মাঝেই শাড়ি পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া শুরু করলো। রাগ কমলো, ছটফটানি কমলো। দস্যি মেয়েটা শান্ত হতে শুরু করলো হঠাৎ।

এরপর কি থেকে কি যেনো হয়ে গেলো। একটা ঝড় এসে এলোমেলো করে দিলো খান পরিবার আর সৈয়দ পরিবারের মানুষগুলোকে। বিভেদের শুরু সেই সাথে প্রেমের ভাঙন। অনেক কিছু বদলে গেলো। লাবণ্যের চুল আবার কাঁধ পর্যন্ত নেমে এলো। পালটানো না কেবল লাবণ্যের সেই শান্ত আচরণ। কিন্তু আগে সে লাজুক শান্ত ছিলো, এখন অদ্ভুত রকম গম্ভীর শান্ত।

"কি হয়েছে তোর? আমাকে বল। এমন অস্থির লাগছে কেনো তোকে?"
লাবণ্য নির্জনার দিকে তাকিয়ে কি যেনো ভাবলো কিছুক্ষণ।

"আচ্ছা ভাবী।"
"হুম বল।"
"ওই লোক বাড়িতে এসেছে কবে জানো?"
নির্জনা অবাক হয়ে বললো,"কোন লোক? কার কথা বলছিস?"
লাবণ্য অসহিষ্ণু হয়ে বললো,"আরে ওইযে ওই অসভ্যটা। সৈয়দ বাড়ির সবচেয়ে ঘাড়ত্যাড়া শয়তানটা।"
নির্জনা মুচকি হেসে বললো,"ও ফারদিন?"
"হাসছো কেনো?"
"না এমনি।"
"শুনেছিলাম বহুদিন নাকি বাড়ি আসেনা। কবে এসেছে?"
নির্জনা ছাদের রেলিং-এ হেলান দিয়ে বললো,"কেনো? দেখেছিস নাকি?"
"তুমি আমার কথার উত্তর দাও আগে। জানো এ বিষয়ে কিছু?"
নির্জনা তাকায় পাশের বাড়ির দিকে। ও বাড়ির বড় বউ অঞ্জুর সাথে বেশ ভাব ছিলো তার আগে। কিন্তু দুই পরিবারের শত্রুতার জের ধরে তাদের মধ্যেও সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে।

"অঞ্জুর সাথে বাজারে দেখা হয়েছিলো বেশ কিছু দিন আগে। ও-ই প্রথম এগিয়ে এলো কথা বলতে। টুকটাক অনেক কথা বললো। সেদিনই শুনলাম ফারদিনের চাকরিতে কি যেনো একটা সমস্যা হচ্ছে। কি একটা অভিযানে গিয়েছিলো টিম নিয়ে। ওখানে আহত হয় ও। তবে এতোটাও গুরুতর ছিলো না চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার মতো। উপরমহল থেকে জোরপূর্বক অবসরের চাপ আসছিলো নাকি। এরপর কি হয়েছে জানিনা।"
লাবণ্য মুখ বাঁকিয়ে বিড়বিড় করে বললো,"সব জায়গায় পাকামি না করতে পারলে তো শয়তানটার শান্তি হয়না। নিশ্চয়ই অতিরিক্ত সততা দেখাতে গেছে। বেশ হয়েছে, অসভ্য জানি কোথাকার।"
"কি রে কিছু বলছিস?"
"না কিছু না।"
নির্জনা লাবণ্যের কাঁধে হাত ঠেকিয়ে বললো,"কিন্তু হঠাৎ ওর কথা জানতে চাচ্ছিস যে? দেখা হয়েছে নাকি ওর সাথে?"
লাবণ্য উত্তর দেয়না। রেলিং এ হাত ঠেকিয়ে দূরে আকাশের দিকে তাকায়। নির্জনা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে তার দিকে তাকিয়ে। এরপর নিঃশব্দে চলে যায় সেখান থেকে। একা থাকুক মেয়েটা। ওর উপর দিয়ে এতোটুকু বয়সে যে ঝড় গেছে, তা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া এতো সহজ না। নিজেকে সময় দিক এখন।

সৈয়দ বাড়ি থেকে গানবাজনার আওয়াজ আসছে। লাবণ্য ভ্রু কুঁচকে তাকায় সেদিকে। একটা সময় ছিলো, রোজ ওদের উঠোনে আসর বসতো। ফারদিন গান গাইতো, কবিতা আবৃত্তি করতো। তার ভরাট পুরুষালী কণ্ঠ অসাধারণ। লাবণ্য কান খাড়া করে রাখতো। ফারদিন যে গানটা গাইতো বা যে কবিতাটা আবৃত্তি করতো সবই যেনো ওকেই উৎসর্গ করতো। গান বা কবিতার মধ্যে সে একটা লাইন ঢুকিয়ে দিতো 'ম্যাডাম কি শুনছেন?'
বাকিরা হাসাহাসি করতো। নিজের ঘরে বসেই লজ্জায় লাল হয়ে যেতো লাবণ্য। আহা সেসব স্মৃতি!

আজ এতো বছর পর আবারও সেই গানের আসর। শাওনের কণ্ঠই শোনা যাচ্ছে বেশি। ফারদিনের কথা শোনা যাচ্ছে না। লাবণ্য শুনতে চায়ও না অবশ্য।
এখানে দাঁড়িয়ে থাকে মশার কামড় খাওয়ার কোনো মানে হয়না। সে সিঁড়ির দিকে এগোতে যাবে, ঠিক তখনই দাঁড়িয়ে যায় সহসাই।

"ভালো আছি, ভালো থেকো।
আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো।
দিও তোমার মালাখানি,
দিও তোমার মালাখানি।
বাউলের ওই মনটারে,
আমার ভিতর ও বাহিরে, অন্তরে অন্তরে।
আছো তুমি হৃদয় জুড়ে।
আমার ভিতর ও বাহিরে, অন্তরে অন্তরে।
আছো তুমি হৃদয় জুড়ে।"

ফারদিন গান থামায়। ইচ্ছা ছিলো না গাওয়ার। শাওনের জোরাজোরিতে গাইতেই হলো। আজ আবার তার বড় বোনের ছেলে ঋজু এসেছে। সে আবার এক কাঠি সরেস। ছোট মামার গান শোনার আবদার নিয়েই আসর বসিয়েছে সে।

লাবণ্যের হঠাৎ মনে হলো কোনো কারণ ছাড়াই দাঁড়িয়ে গেছে সে। পা দু'টো অনড়। নিজের উপরই সীমাহীন রাগ হয় তার। এমনিতেই দুপুরের ওই ঘটনার পর থেকে মাথার তালু জ্বলছে রাগে। এখনের রাগটা নিজের উপরই। এভাবে দাঁড়িয়ে পড়ার কারণ কি? আশ্চর্য!

-----

"আনা আনা কয় আনা? চার আনা না আট আনা?"

ক্লাস শেষে বান্ধবীদের সাথে কলেজ ক্যান্টিনের দিকে যাচ্ছিলো আনা। হঠাৎই দাঁড়িয়ে পড়ে সে। ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে কলেজের পাঁচিলের উপর বসে আছে শাওন, তার বন্ধুবান্ধবদের সাথে। আড্ডা আর হাসাহাসিতে ব্যস্ত সে। পারিবারিক ঝামেলার জের ধরে তাদের মধ্যেও যোগাযোগ বন্ধ। তবে একটা সময়ে তাদের বেশ ভালো বন্ধুত্ব ছিলো। শাওন আনার এক বছরের বড় হলেও তারা ছোটবেলায় একই সাথেই খেলাধুলা করে বড় হয়েছে।

আনা ওদের দিকে যেতে গেলে ওর এক বান্ধবী ওর ওড়না টেনে ধরে।
"আরে কি করছিস? যাস না।"
আনা অবাক হয়ে বললো,"কেনো যাবো না? শুনলি না ও ইভটিজিং করলো?"
"কি মুশকিল! তাই বলে এখন সিনিয়রের সাথে লাগতে যাবি নাকি? র‍্যাগ দিয়ে দিবে।"
আনা মুচকি হেসে বললো,"ওর পুরো খানদানের সে সাহস আছে? আমার ফুপুকে বলে দিবো না আমি? ভয়ে প্যান্ট ভিজিয়ে ফেলবে দেখিস।"
"তবুও...."
"আরে আয় তো।"

আনা ওদের সামনে দুই হাত বুকে বেঁধে দাঁড়ায়।
"একটু আগে কে ওই কথাটা বললেন আপনাদের মধ্যে?"
শাওন ভ্রু উঁচু করে তাকায় আনার দিকে।
"কোন কথাটা?"
"বুঝতে পারছেন না তাইনা?"
শাওন লাফ দিয়ে পাঁচিল থেকে নামে। বাকি বন্ধুরাও নামে। হাত ঝাড়তে ঝাড়তে আনার কাছাকাছি এগিয়ে আসে।

"না বুঝতে পারছি না। তুমি বুঝিয়ে দিলে ভালো হয়।"
আনা ঘোঁৎ করে একটা শ্বাস ফেলে বললো,"আনা আনা কয় আনা? চার আনা না আট আনা। এসব কি বলছিলেন?"
শাওন মুখ টিপে হেসে বললো,"নিজেদের মধ্যে ছড়া পাঠ করছিলাম। তাতে আপনার কি ম্যাডাম?"
আনা রাগে চোখ সরু করে।
"আমি খুব ভালো করেই জানি আমাকে উদ্দেশ্য করে এ কথা বলছিলেন আপনি।"
শাওন বন্ধুদের দিকে তাকিয়ে হাসে।

"এমন কোনো রসগোল্লা নন আপনি, যে আপনাকে উদ্দেশ্য করে ছড়া কাটবো। অযথাই কথা না বাড়িয়ে নিজের রাস্তা মাপুন।"
"আপনি...."

"কি হচ্ছে এখানে?"
লাবণ্যের কণ্ঠ পেয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ায় সবাই। কয়েকজন শুকনো ঢোক চাপে। এই ভদ্রমহিলা আবার এখানে কেনো?
আনা এগিয়ে যায় লাবণ্যের দিকে।

"ফুপু শোনো না...."
লাবণ্য হাত উঁচু করে তাকে থামিয়ে দেয়।
"এটা কলেজ। এখানে আমি কারো ফুপু নই। ম্যাডাম বলে ডাকবে আমাকে। আর আপনি করে। তারপর বলো কি হয়েছে?"
আনা কিছুটা দমে যেয়ে বললো,"ম্যাডাম, ও আমাকে ইভটিজিং করেছে।"
শাওন লাফ দিয়ে এগিয়ে এসে বললো,"না না ম্যাডাম, অসম্ভব। আমি ওরকমই ছেলেই নই।"
আনা চোখ লাল করে শাওনের দিকে তাকিয়ে বললো,"চুপ কর বাঁদর।"
"তুই চুপ কর পোড়ামুখী।"

"জাস্ট শাট আপ। হাউ ডেয়ার ইউ? তোমরা ভুলে যাচ্ছো আমি এখানে উপস্থিত আছি।"
ওরা দুইজনই চুপ করে যায়। রাগে ফুঁসছে দুইজনই।

"এইযে তুমি, আমাকে বলো। কি ইভিটিজিং করেছে ও?"
"আমাকে দেখে ছড়া কেটেছে। আনা আনা কয় আনা? চার আনা না আট আনা?"
লাবণ্য শান্ত চোখে শাওনের দিকে তাকায়।

"তুমি বলেছো এটা ওকে?"
"ম্যাডাম আমার কথাটা শুনুন..."
"ইয়েস অর নো।"
শাওন থেমে যায়। মাথা নাড়ায় হ্যা-সূচক।

"কেনো বলেছো? এটা কি তোমাদের পারিবারিক শিক্ষা?"
"ম্যাডাম আমি বলেছি ঠিকই। কিন্তু ওকে বলিনি তো। চার আনা, আট আনা পয়সা আছে না? তা-ই বলেছি। ও কি পয়সা?"
লাবণ্য দুই হাত বুকে বেঁঁধে শাওনের দিকে তাকিয়ে বললো,"আমাকে কি বোকা মনে হয়?"
শাওন উত্তর না দিয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে।

"আর কখনো যেনো এসব না শুনি। আজকের মতো ছেড়ে দিলাম। আর কোনোদিন যদি এমন অভিযোগ আসে সেদিন ভয়ানক শাস্তি হবে। মনে থাকে যেনো।"
শাওন কি মনে করে লাবণ্যের দিকে তাকিয়ে বললো,"গার্ডিয়ান নিয়ে আসতে হবে না ম্যাডাম?"
লাবণ্য কখনোই ছাত্র-ছাত্রীদের সেভাবে বকাবকি করে না। রেজাল্ট খারাপ করলে বা কোনো বেয়াদবি করলে গার্ডিয়ান ডেকে পাঠায় সোজা। তাদের নালিশ করা হয়, এরপর তারা যা ভালো মনে করে!

লাবণ্য তীক্ষ্ণ চোখে শাওনের দিকে তাকিয়ে বললো,"প্রয়োজন হলে আমিই নিজেই ডেকে পাঠাবো। অতিরিক্ত কথা বলবে না।"
শাওন ঘাড় কাত করে।

লাবণ্য বিরক্ত হয়ে আনার দিকে তাকিয়ে বললো,"ক্লাস নেই তোমাদের? যাও ক্লাসে যাও।"
গটগট করে হেঁটে লাবণ্য চলে যায়।
আনা যেতে যেতে পেছন ফিরে শাওনকে মুখ ভেংচি দেয়। কি মনে করে হেসে দেয় শাওন।

(চলবে.....)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 2 শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন