ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেমের শেষ কিস্তিমাত

১ম পর্ব

লেখক: Farzana Yesmin

#প্রেমের_শেষ_কিস্তিমাত

#লেখনিতে_ফারজানা_ইয়াসমিন_মহুয়া

#পর্ব_১

❌কপি করা যাবে না❌

~~~~

ভরা ক্যাম্পাসের সামনে আচমকা একটি মেয়ের হাতে থাপ্পড় খেয়েছে তাসফিন খান ইয়াশ। মেয়েটিকে সে চিনে না। নতুন হবে হয়তো। জুনিয়র ইয়াশ তো রেগে ফায়ার। মেয়েটিকে আজ পায়নি বলে মেয়েটা বেঁচে গেছে। নয়তো একটা থাপ্পড়ের জন্য ১০টা থাপ্পড় খেতো।

ইয়াশ ওর সব রাগ আদির উপর ঝাড়ছে। কারণ তখন আদির ধাক্কার জন্যই সে মেয়েটির উপর পড়েছে এবং থাপ্পড় খেয়েছে। তার মেয়ে ফ্রেন্ডস আছে, কিন্তু তার মেয়েদের প্রতি কোন ইন্টারেস্ট নেই।

"শালা ধাক্কা দেওয়ার আর মানুষ পেলি না, মেয়েদের উপরেই! তার সাথে আবার থাপ্পড়ও খাই। তার জন্য ক্যাম্পাসের সবার সামনে আমি থাপ্পড় খেয়েছি। আমি খান বংশের ছেলে আর আমার মান সম্মান এখন কোথায় বল!"

"সরি ভাই! আমি কি জানতাম এমন হবে!"

"তোর সরি তোর পকেটে রাখ। সব জমিয়ে তোর বউকে দিবি। শালা বাবা জানতে পারলে কি হবে ভেবেছিস? সাইফুল খানের ছেলে পুরো ইউনিভার্সিটির সামনে একটা মেয়ের হাতে থাপ্পড় খেয়েছে। কতটা অপমানজনক বল!"

"ভাই চিন্তা করিস না। ভার্সিটির সবাই তোদের ভয় পায়। কিছু বলবে না।"

"ওরা কিছু বলুক বা না বলুক, আমি তো ওই মেয়েকে ছাড়বো না। আমাকে থাপ্পড় মেরেছে।"

ইয়াশের কথার প্রতি উত্তরে আদি কিছু বলতে যাবে, তার আগেই রাজ বলে উঠলো,

"ইয়াশ কিছু করার আগে ভেবে চিন্তে করিস। তোরা কেউ মেয়েটাকে খেয়াল করিস নি। পুরাই তো আগুন সুন্দরী। ক্রাশ খাইছি রে 😫"

"শালা! তুই আর সুন্দরী না! মেয়েটা ইয়াশকে থাপ্পড় মেরেছে আর তুই ওর উপর ক্রাশ খাইছিস!"

রেগে বলতে শুরু করল আদি। কিন্তু ইয়াশের মাথায় এখন ঘুরছে অন্য কিছু। মেয়েটা কে? এত বড় দুঃসাহস দেখাল! সে কি ইয়াশকে চেনে না?

ইয়াশ চুপচাপ আছে। আদি, রাজ, সামির, সোহাগ তর্কাতর্কি করছে।

ইয়াশের মনে পড়ছে সকালের ঘটনা।

ক্যাম্পাসে মাঠে গোল হয়ে বসে ছিল ইয়াশ, আদি, রাজ, সোহাগ, সামির, রোদেলা, মিষ্টি। গল্প করছে সবাই। আজকে ইয়াশ একটু চুপচাপ ছিল, কিন্তু আদি হলো একটা চিজ। ইয়াশ কে না খোঁচালে ওর পেটে ভাত হজম হবে না। সত্যিই বোধ হয় না। রোজ ভাত না খেয়ে থাকতে পারবে, তবুও ইয়াশ কে খোঁচাতেই।

ইয়াশ কে জ্বালানোর জন্য আদি বলে উঠল,

"ইয়াশ কে দেখ! মনে হচ্ছে ঝাঁকা খেয়েছে।"

ইয়াশ কটমট দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আদির দিকে।

"ওভাবে আমাকে দেখিস না বাবা। লজ্জা করে। আর যাই করিস, ইজ্জতে হাত দিস না। ওটা তোর ভাবীর সোনা।"

"তুই আর ভালো হবি না আদি।"

হাসতে হাসতে বলে উঠলো সোহাগ।

"আমি আর কত ভালো হব? আমার মতো ভালো পোলা আর কোথাও পাবি?"

রাজ সোহাগকে উদ্দেশ্য করে বলে,

"সোহাগ ওর সাথে লাগিস না। শালার মাথায় সমস্যা আছে, ভুলে গেলি নাকি!"

"ওই! তাই তো! ধন্যবাদ রে, দোষ মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য।"

আদি রেগে গিয়ে বলল,

"আমার মতো মানুষ শিশুর সাথে এমন ব্যবহার করলি। তোর বউ ডাইনির মত হবে।"

সবাই হাসছে আদির কথা শুনে, কিন্তু ইয়াশ কিছুই বলছে না। এমন মনে হচ্ছে সত্যিই ঝাঁকা খেয়েছে।

আবার আদি বলা শুরু করল,

"ইয়াশ একটু স্বাভাবিক হ। হাসলেই বুঝব তুই ঝাঁকা খেয়েছিস।"

এইবার ইয়াশ সত্যিই খুব রেগে গেল। তারপর আদির কলার ধরে বলল,

"তোর মুখটা বন্ধ রাখবি নাকি সেলাই করার ব্যবস্থা করবো।

আদি কিছু বলছে না ধাক্কা দিয়ে সরাতে চাচ্ছে। একসময় সুযোগ বুঝে জোরে ধাক্কা দিয়েছে। কিন্তু কেলো টা তো সেখানেই। ইহাশ একটা মেয়ের উপর পড়ে যায়। মেয়েটাকে দেখতে পায়নি কারণ সে বোরকা পড়ে আছে।

মেয়েটা রেগে ঠাস করে একটা থাপ্পড় দিয়ে বলেছে,

"অসভ্য কোথাকার! দেখতে চলতে পারেন না। চোখ কি পকেটে নিয়ে ঘোরেন। আজব মানুষ।"

বলেই মেয়েটা আর এক মুহূর্তও দাঁড়ায় না চলে যায়।

সব ভেবে একবার দীর্ঘ শ্বাস ফেলল ইয়াশ। তারপর বাসায় ফিরে যায়। সে ভেবেছিল কালকে মেয়েটাকে দেখে নেবে। কত বড় কলিজা যে ইহাশের গায়ে হাত তোলে।

<<<<<<<

খান বাড়ির বড় এবং সুযোগ্য পুত্র হচ্ছে তাসফিন খান ইয়াশ।সাদিকুল খান ও তানিয়া খানের একমাত্র ছেলে ইয়াশ। তার কোন ভাই নেই, শুধু একটা বোন আছে তানিমা খান ইমু।ইহাশের খুব আদরের ছোট বোন ইমু। এছাড়া তার ১ চাচা ও ২ ফুফু আছে।

লিয়ানা খান আর লিহার খান ইহাশের চাচাতো ভাই বোন। তার চাচা তালহা খান আর চাচি লামিয়া খান।

.

১ মাস হয়ে গেছে ওই ঘটনার। কিন্তু মেয়েটার দেখা আর কেউ পেল না। কে জানে মেয়েটা কে? মেয়েটাকে পাননি বলে আর মাথা ঘামায়নি ইয়াশ। কিন্তু খোঁজ লাগিয়ে ছিল।

কালকে ভার্সিটি তে বসন্ত উৎসব। বসন্তের রঙে রঙিন হবে সবাই। এজন্য ইয়াশসহ কলেজের সিনিয়ররা মিলে কাজ করছে। ইয়াশ শুধু এই ভার্সিটির স্টুডেন্ট না, তার বাবার শেয়ার আছে এই ভার্সিটিতে। সবাই তাদের ভয় পায়। বাট পুরো ভার্সিটির মেয়েদের ক্রাশ তাসফিন খান ইহাশ।

সবাই কাজ শেষ করে বিশ্রাম নিচ্ছে মাঠের মধ্যে বসে। ইহাশদের গ্যাং টাও বসেছে। ওরা সবসময় একসাথে থাকে— ইয়াশ, আদি, রাজ, সামির, সোহাগ, রোদেলা, মিষ্টি। ওদের গ্যাং এর নাম হচ্ছে বাঁশ খাওয়া গ্যাং। আদি সেখানে থাকলে সবাই বাঁশ খাবে।

৭ বন্ধু মিলে এখন গানের আড্ডা দিচ্ছে। ইয়াশের এসব ইন্টারেস্ট নেই, সে নিজের মতো বসে আছে। সবাই একে একে গান গাইছে। ইহাশ কে বললে সে রাজি হয় না। এবার রোদেলা গান গাবে কিন্তু কি গান গাবে বুঝতে পারছে না। তখন ইহাশ বলল,

"আমাকে যেতে হবে।"

আদি ওকে খোঁচা দিয়ে বলল,

"ইয়াশ তুই তোর হবু বউয়ের গান শুনে তারপর যা।"

ইয়াশ কটমট দৃষ্টিতে পিছন ফিরে তাকালো। তখন রোদেলা গান ধরে—

"বন্ধু হাঁটলে যখন যায়,,,

পিছন ফিরে ফিরে চায়,,,

দেখলে তারে মনের মাঝে,,,

দোতারা বাজায়,,,"

"আহা! কি ভালুপাশা।"

খোঁচা মেরে বলল আদি। ইয়াশ আবার রেগে ওর দিকে এগিয়ে আসবে তখনই দৌড় দিয়ে বলে,

"শালা! জীবনে এমন একটা বন্ধু পাইছি কথায় কথায় শার্টের কলার ধরে যায়। তোর মতো বন্ধু আমার লাগবে না।"

বলেই আদি হাওয়া। তাকে আর পায় কে।ইয়াশও চলে যায় বাকিরা বসে অনেকক্ষণ আড্ডা দিল!তারপর একে একে নিজের গন্তব্যে চলে গেল।

,

পরের দিন সবাই সকাল সকাল এসেছে। সব রেডি হয়ে গেছে। ইয়াশ আর আদি এখন ভার্সিটির গেটের কাছে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছে। তখন গেট দিয়ে এক অপরূপ সুন্দরী নারী প্রবেশ করে। লাল শাড়ি পরিহিত, তাকে আকাশের পরী লাগছে।

মেয়েটিকে দেখে তার জীবন থমকে গেছে। সাথে সাথে সে যাত্রা স্থগিত করে। তার মূল উদ্দেশ্য মেয়েটি সম্পর্কে জানা। সে কোন পিক তুলে নিয়ে গেল না কারণ মেয়েটার ছবি তার হৃদয়ে গেঁথে গেছে।

ইয়াশ অফিস কক্ষে গেছে মেয়েটি সম্পর্কে জানতে। মেয়েটির নাম আইরিন ইসলাম ইনায়া। বাবা আব্দুল ইসলাম আর মা ইরাবতী বেগমের মেয়ে ইনায়া। অফিস কক্ষ থেকে এতটুকু জানা গেল।

ইয়াশের এতটুকুতেই চলবে। সে মেয়ের নাম জানতে এসেছিল জেনেছে, ১৪ গোষ্ঠীর নাম জানতে যাবে কেন?

ইনায়া সবার বড়। ওর ছোট বোনের নাম ইশানা। ওরা আপন ২ বোন কিন্তু ইনায়ার মামাতো বোন অবনি সাথে ওর সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক। একদম বেস্ট ফ্রেন্ড এর মতো।

সবকিছু একে অপরকে শেয়ার করে।অবনীর তিন বছরের রিলেশন শিপের কথা ইনায়া ছাড়া কেউ জানে না।ইনায়ার বাবা একা তার কোন চাচা নেই শুধু ২ ফুপু আছে।

:

বসন্ত উৎসব শুরু হয়েছে চিপ গেস্ট হিসেবে এসেছে ইয়াশের বাবা,স্বয়ং সাফিকুল খান।তিনি এসে ইয়াশ কে খু্ঁজছেন কিন্তু পাচ্ছেন না।সাফিকুল ইসলাম কে শুভেচ্ছা জানিয়েছে ইনায়া।ইনায়া কে সাফিকুল ইসলামের খুব ভালো লেগেছে।মেয়ে অনেক গুছিয়ে সুন্দর করে কথা বলে।তাকে স্বাগতমও জানিয়েছে সুন্দর করে।

:

:

ইনশাআল্লাহ চলবে.....!

আল্লাহ হাফেজ..।।।।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন