#প্রেমের_শেষ_কিস্তিমাত
#লেখনিতে_ফারজানা_ইয়াসমিন_মহুয়য়া
#পর্ব_২
⛔কপি করা যাবে না⛔
_______
ইনায়ার মামার বাড়ি মানিকগঞ্জ। ইনায়ার বাবার পৈতৃক নিবাসও ওখানেই, কিন্তু তারা ঢাকার মিরপুরে থাকে। আজ তারা কোন এক জরুরি কারণে মানিকগঞ্জ যাচ্ছে। ইনায়ার বাবা আব্দুল ইসলাম ছাড়া কেউ জানে না কেন তারা মানিকগঞ্জ যাচ্ছে। এমনকি ইনায়ার মা ইরাবতীও জানে না কেন সে বাবার বাড়ি যাচ্ছে।
ইরাবতী তার বাবার বাড়ির গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বিতীয় আর সবচেয়ে বড় হচ্ছে তার ভাই রফিকুল ইসলাম। বলতে গেলে মেয়েদের মধ্যে ইরাবতী বড় তাই তার ভাইয়ের পর তার স্বামীকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়।
~
ইয়াশ আরও কিছু তথ্য জানতে পারে ইনায়ার সম্পর্কে। সন্ধ্যার বাসায় ফিরেছে ইয়াশ। বাসায় ফিরে শাওয়ারের নিয়ে সেই একটু বিছানায় বসলো। ঠিক তখনই নিচে থেকে এত আওয়াজে বিরক্ত হয় সে।
একটু পর ইমু এসে বলে,
-"লিহাবের বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।"
ইয়াশ গম্ভীর গলায় প্রশ্ন করে,
-“কোথায়?”
-“মানিকগঞ্জ জেলায়।”
-“তা চাচু এত আগে বিয়ে দিচ্ছে কেন?”
-“ভাইয়া, চাচু তো রাজি ছিল না! রিলেশন করে বিয়ে করেছে।বাট এখন রাজি হয়েছে।এখান থেকে মাত্র আসলাম। বিয়ের ডেটও ফিক্সড হয়ে গেছে।
ভাইয়া জানো যে সব কাহিনী হয়েছে বলার মত না”
-“কী হয়েছে?”
-"অনেক কিছু হয়েছে!বাদ এসব আর না বলি!
-"বিয়ের তারিখ টা কবে?“
-“সামনে শুক্রবার।”
-“সামনে শুক্রবার মানে ফেব্রুয়ারির ২১ তারিখ।”
-“হ্যাঁ আজকেই আংটি পড়িয়ে আসলাম আমরা।”
-“উফ! বেশি দিন তো নেই! আজকেই তো শনিবার।”
-“হ্যাঁ তাড়াতাড়ি বিয়ে করতে চায় তাই এই ডেটটাই ফিক্সড করলো।”
-“ওহ।”
-“ভাইয়া, আমি গেলাম।”
-“আচ্ছা যা।”
_
ইনায়ারা রফিকুল ইসলাম এর বাড়ি এসেছে দুপুরের দিকে। এখন সন্ধ্যা। এখানে এসে ইনায়া জানতে পারলো তার প্রিয় মামাতো বোনের বিয়ে! ও তো খুব খুশি, কিন্তু ইনায়ার একটু অভিমান হয়েছে। অবনির রিলেশনের সব জানে ইনায়া। ওদের রিলেশনে অনেক সাহায্য করেছে, কিন্তু বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে এটা এসে জানতে পারলো। তাই ইনায়া অবনির মা আয়েশা বেগমকে বলল,
-“মামনি! তোমার মেয়ে কই?”
আয়েশার সাথে ইনায়ার সম্পর্ক অনেক ভালো। অনেকে বলে মামিরা নাকি হিংসুটে হয়, কিন্তু আয়েশা বেগম একদম উল্টো। ইনায়াকে নিজের একটা মেয়ে মনে করে। তার ১ মেয়ে ১ ছেলে। ছেলের বয়স ১৫ বছর, নাম আবিদ ইসলাম।
আয়েশা বেগম ইনায়ার কথা শুনে হেসে বললেন,
-“দেখ ছাদে আছে হয়তো, লজ্জা পেয়ে গেছে এখন থেকে।”
-“তোমার মেয়ের এত চং কই থেকে শিখছে? ৩ বছর ধরে রিলেশন করে এখন এসব করলে মানায় না।☹️”
পিছন থেকে ইরাবতী রেগে বলে উঠলো,
-“ইনায়া! তুই আর ভালো হবি না?”
ইনায়া মামির মুখের দিকে তাকিয়ে বলে,
-“মামনি, তোমার ননদ আমায় খারাপ বলছে কেন গো! আমি তো ভালোই।লজ্জা করে তার তোমার বাড়িতে দাঁড়িয়ে থেকে তোমার বড় মেয়ে কে গালি দিচ্ছে।”
ইরাবতী কটমট দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ইনায়ার পানে। তখনই আয়েশা বেগম বলল,
-“ইরা রাগ করছো কেন? বাচ্চা মেয়ে ভুল হয়ে গেছে।”
-“আমি একদম বাচ্চা নেই, আমি এবার ভার্সিটি তে উঠেছি। 😎”
-“তাহলে তো এবার ইনায়া মামনির বিয়ের ব্যবস্থা করতে হবে তাই না! কি বলিস ইরা? পাত্র দেখবো নাকি?”
পিছন থেকে বলে উঠলেন রফিকুল ইসলাম। ইনায়া বেশ লজ্জা পেল। ও এক দৌড়ে ছাদে চলে গেল। সবাই বুঝতে পারলো মেয়েটা লজ্জা পেয়েছে।
রফিকুল ইসলাম আবার বোনের দিকে তাকিয়ে একটু উদাসীন ভাবে বলে,
-“দেখতে দেখতে দিন কেমন করে চলে যাচ্ছে। কয়দিন আগেই না অবনি হলো। আর কিছু দিন পর বিয়ে মানা যায়।”
-“ঠিক বলেছ ভাইয়া। কিছু দিন পর তো ইনায়ারও বিয়ে দিয়ে দিতে হবে। ☺️”
ইনায়া ছাদে এসে দেখল অবনি এক কোণে দাঁড়িয়ে কি যেন ভাবছে। ইনায়া পিছনে থেকে গিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরলো। অবনি প্রথমে বুঝতে পারেনি,পরে যখন বুঝতে পারল তখন অস্পষ্ট স্বরে উচ্চারণ করল,
-“ইনায়া!”
-“হুম! তুই কি স্বার্থপর রে? তোর রিলেশনে যত ধরনের সাহায্য লেগেছে আমি করেছি, আর তোকে আংটি পড়িয়ে গেছে আমি জানি না!”
-“সরি রে! ওরা হঠাৎ করে এসেছে। বাবা তো তাদের ফোন দিয়ে বলেছে।”
-“বাবাকে বলেছিস হয়তো।”
-“কেন আংকেল তোকে কিছু বলেনি?”
-“না! শুধু বলেছে রেডি হয়ে তোমার মামার বাড়িতে যাবো। জানিস তো বাবার মুখের উপর কথা বলার সাহস আমাদের নেই।”
-“তোকে বলছি কেন বলতে হবে, তোর হবু বর কে? আজকে যে তোকে আংটি পড়িয়েছে আমার থেকে বুদ্ধি নিয়ে! তোদের এত সাহায্য করি আর তোরা আমার কোন মূল্যই দিস না।☹️”
ইনায়ার কথায় অবনির সন্দেহ হল। সে একটু কুঁচকে প্রশ্ন করল,
-"ইনায়া কি করেছিস তুই? আমার কিন্তু সন্দেহ হচ্ছে!"
ইনায়া কিছু বলতে যাবে তখনই লিহাবের ফোন আসে।
অবনি ফোন রিসিভ করে কিছু বলতে যাবে তার আগেই ওই পাশ থেকে লিহাব বলে উঠলো,
-"অবনি আমি এখানেই আছি, আমাদের বাগান বাড়িতে। কালকে তুমি আর ইনায়া আপু আমার সাথে দেখা করবে।"
একটু রাগের সাথেই বলল লিহাব। অবনি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বলল,
-"কি হয়ে? মনে হচ্ছে রেগে আছো।"
-"তোমরা কালকে আসো তারপর বলবো।"
বলেই ফোন রেখে দেয়। অবনি চিন্তায় পড়লো। এরপর ইনায়ার দিকে তাকিয়ে মনে পড়ল লিহাব ইনায়া কে নিয়ে যেতে বলেছে। ইনায়ার দিকে তাকিয়ে বলল,
-"কাহিনী কি? আমি না হয় যাবো! লিহাব তোকে নিয়ে যেতে বলছে কেন?"
-"তোর হবু জামাই শালী কে নিয়ে যেতে বলছে কেন আমি কিভাবে বলবো? আহাম্মক!😒"
-"গন্ডগোল লাগছে। কি করেছিস তুই?"
-"শালী বুঝে শুনে কথা বল। আমি যেমন তোদের বিয়ে তে সবাই কে রাজি করতে পেরেছি, তেমন সবাই কে না করতে আমার ১ সেকেন্ডও সময় লাগে না। এই বংশের বড় মেয়ে আমি।😎"
-"বড় মেয়ে হয়ে মাথা কিনেছিস নাকি! বল তুই কি করেছিস?"
ইনায়া সব বলতে শুরু করলো,
-"আজকে সকালে তোর হবু শ্বশুর কে গিয়ে বলেছি। তোরা পালিয়ে যাওয়ার প্ল্যান করেছিস। তোদের বিয়ের জন্য তোর পরিবার রাজি না তাই তোরা পালিয়ে যাবি। তার জন্য তোদের বিয়ে কথা বলার জন্য এক বেলার মধ্যে চলে আসছে।
আমি ভাবিনি এত ফাস্ট চলে আসবে। এর মধ্যে আবার তোর শাশুড়ি মা ও কোর্টে আছে। ওনার একমাত্র ছেলে পালিয়ে যাবে শুনেছে আর সাথে সাথে স্বামীকে রাজি করিয়েছেন।
অনেক পাপ মারতে হয়েছে বুঝলি। সকালে মামা কেও অনেক পাপ মারছি। শুধু তোদের এক করে দেওয়ার জন্য। এর প্রতিদান হিসেবে কিছু দে।😎"
অবনি কষ্টের দৃষ্টি তে তাকিয়ে আছে ইনায়ার পানে।
-"আয় তোকে এর অবদান দিচ্ছি।"
বলতেই ইনায়ার পিছনে ধাওয়া করতে লাগলো পেলে বুঝি ছাড়বে না।
~
পরদিন সকাল,
সকাল ইনায়া আর অবনি একটা ক্যাফেতে বসে আছে।
একটু পর লিহাব আসলো। লিহাব কে দেখে বলল,
-"আসসালামু আলাইকুম, দুলাভাই! ভালো আছেন।"
লিহাব সালামের উত্তর দিল। তারপর একটু চুপ থেকে বলতে আরম্ভ করল,
-"তুমি ভালো থাকতে দিলে তো থাকবো।"
ইনায়া ইনোসেন্ট ফেস বানিয়ে বলল,
-"কেন দুলাভাই? কি করেছি আমি?"
-"জিজ্ঞাসা করছো আবার?"
-"দেখ লিহাব যা করেছি তোদের ভালোর জন্য। আমি এই কাজ না করলে সামনে সুন্দরভাবে বিয়ে করতে পারতি না। আরও বছর লেগে যেত। কারণ আমি বিয়ে না করলে অবনির বিয়ে হতো না। আর আমি বিয়ে করবো আরও ১ বছর পর। তাই আমাকে সাহায্য করতে বলছিলিস, করেছি।"
-"তাই এই রকম সাহায্য করলে?"
-"কেন গো দেবরজি পছন্দ হয় নি?"
-"আপু তোমাকে কত বার বলেছি দেবর বলবে না। আমি কিভাবে তোমার দেবর হই? আমার কোন ভাই নেই তো।"
-"সেজন্য মজা করে বলছি। ভাই থাকলে জীবনেও বলতাম না।"
অবনি হা করে এদের কথা শুনছিল। ইনায়া অবনির দিকে তাকিয়ে বলল,
-"আমার মনে হয় তোদের প্রাইভেসি প্রয়োজন। আমি বাইরে গিয়ে ঘুরে আসছি।"
এরপর লিহাব এর দিকে তাকিয়ে বলল,
-"বোন কে রেখে যাচ্ছি। বিয়ের আগে খারাপ কিছু করবি না।নয় তো তোকে মাটিতে পুতে রেখে দিবো"
লিহাব ইনায়ার কথায় হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ালো।
ইনায়া ক্যাফে থেকে বের হয়ে হাঁটছে। অনেক ভালো লাগছে এই পরিবেশ।
:
খান পরিবারের সবাই আজকে বাগান বাড়িতে এসেছে। এখানেই থাকবে ২ সপ্তাহ। আদির মা অনিতা ইসলাম ও এসেছে এখানে। আদি যেমন ইয়াশের বন্ধু ঠিক তেমন তানিয়া খান ও অনিতা ইসলাম ছোট বেলার বান্ধবী। আদি আর ইয়াশের বিয়ের ২ দিন আগে আসবে। ওদের পুরো গ্যাং আসবে একসাথে।
ইনায়া আর অবনি বাড়ি ফিরেছে বেলা ১২ টার দিকে। বাড়ি এসে দুজনেই শাওয়ার নিয়ে ফ্রেশ হয়েছে এবং খাবার খেয়েছে।তারপর একসাথে ঘুমিয়ে ছিল।ঘুমিয়ে ছিল নাকি যুদ্ধ করেছিল কে জানে।বিছানার অবস্থা খারাপ।আশেয়া বেগম দেখে কপাল চাপরে বলতে লাগলেন,
-'আল্লাহ গো!এরা এখনও মানুষের মত ঘুমাতে শিখল না।বিয়ের পর যে কি হবে! 🤦♀️
বিকালের দিকে লিহাব এর বাবা তালহা খান বড় চাচা সাফিকুল খান এসেছেন কিছু কথা বলতে। অবনি তাদের সালাম দিয়ে টুকটাক কথা বলে আসে। ইনায়া বাইরে গিয়েছিল। মাত্র ফিরেছে। সে তালহা খান কে চিনে তাই সালাম দিয়ে জিজ্ঞাসা করলো,
-"আপনারা কেমন আছেন?"
সাফিকুল খান ঘাড় বাঁকিয়ে ইনায়ার দিকে তাকালো…
ইনায়ার মনে পড়ে ভার্সিটি তে প্রধান অতিথি হিসেবে ওনিই ছিলেন আর ওনাকেই ইনায়া শুভেচ্ছা জানিয়েছিল।মনে পড়তেই ইনায়া বলল,
-"স্যার আপনি?
উপস্থিত সবাই ইনায়ার পানে তাকালো।তালহা খান বললেন,
-"তুমি কি ভাইয়া কে চিনো?
-"জ্বী!ভার্সিটি তে দেখেছিলাম।বসন্ত উৎসবের দিন।
-"ওহ্!
সাফিকুল খান ইনায়ার দিকে তাকিয়ে নরম কন্ঠে বললেন,
-"কেমন আছো আম্মু!
সাফিকুল খান যে তাকে আম্মু বলে সম্বোধন করবে তা ভাবতে পারেনি ইনায়া।খুব অবাক হলো সে।মিনি মিনিয়ে বলল,
-"জ্বী!আঙ্কেল আলহামদুলিল্লাহ ভালো!আপনি?
-"হ্যাঁ আলহামদুলিল্লাহ আছি ভালোই।
তালহা খান সাফিকুল খান কে বললেন,
-"ভাইয়া ওই হচ্ছে ইনায়া।যে আমাদের কে সব বলেছিল।
-"ভালোই করেছে।কত ভদ্র ভালো মেয়ে।খুব ভালো লেগেছে আমার ওকে।
-"হুম!ভাইয়া।
-"আমরা ভিতরে যাই।
বলে অবনির হাত ধরে যেতে যেতে বিরবির করল,
-"এহহহ?আমার মত শয়তান কে ভদ্র বলছে!🤣🤣🤣
বলেই হাসতে হাসতে উপরে চলে গেল।
:
:
ইনশাআল্লাহ চলবে!
(লেখায় কোন ভুল ক্রুটি থাকলে ক্ষমা করে দিবেন।)
আল্লাহ হাফেজ....!!