উপন্যাস : তুমি আমার
লেখিকা : শেখ হালিমা
পর্ব : ২
আমি চাই তোর মেয়ে কে আমার ছেলে হামিদের জন্য বউ করে নিতে।
এটা তো বেশ ভালো কথা.. তবে আমি আমার মেয়ে কে জিজ্ঞাস করে দেখি।
ঠিক আছে তবে আমি চাই আমার ছেলে আর তোর মেয়ে একা আগে একে- উপর কথা বলুক।
ঠিক আছে,
মা হিয়া.. জি আব্বু হামিদ কে তোমার কক্ষে নিয়ে যাও।
হামিদ আর হিয়া কক্ষে গেল..তোমার কি কোন ছেলে পছন্দ আছে..?
হিয়া একটু নিশ্চুপ থাকলো তারপর ধীরে জবাব দিল
না..
তোমার কি এই বিয়ে করতে কোন সমস্যা আছে...?
হিয়া কিছু একটা ভেবে জবাব দিল
না...
তুমি আমাকে কিছু জিজ্ঞেস করতে চাও..?
হিয়া বামে ডানে মাথা নাড়ালো
বোঝালাম না..
হিয়া আর হামিদ কক্ষ থেকে বাহিরে সকলের সামনে আসল।
হাসান সাহেব জিজ্ঞেস করলেন.. তোমাদের কি এই বিয়ে তে অসম্মতি আছে..? হামিদ না সূচক মাথা নাড়াল।
সেদিনই হামিদের পরিবার হিয়া কে আংটি পরিয়ে বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করে রেখে গেল।সামনের বৃহস্পতিবার গায়ে হলুদ এবং শুক্রবারে বিয়ে।
দেখতে দেখতে বিয়ের দিন ঘনিয়ে আসলো। আজ হিয়ার গায়ে হলুদ। হিয়ার বাবা মাকে এখনো তাদের পরিবার থেকে মেনে না নেওয়াই তাদের আত্মীয়-স্বজন বলতে আশেপাশের মানুষ এসেছে। হিয়ার গায়ে হলুদ ঠিকঠাক ভাবে হয়ে গেল।
পূর্ব আকাশে সূর্য তখন নিজের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে এবং বোঝাচ্ছে দিনের আলো ফুটেছে। আজ হিয়ার বিয়ে। সকাল সকাল হিয়া ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করে মেকআপ করার জন্য পার্লারে গিয়েছে। দেখতে দেখতে বরযাত্রী চলে এসেছে। খাওয়া-দাওয়ার পর্ব শেষ করে এখন বিয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে হিয়া পার্লার থেকে চলে এসেছে। কাজী প্রথমে হিয়ার কাছে গিয়ে বিয়ে পোড়ানো শুরু করলো। আল্লাহর কালেমা পরে সকল কে সাক্ষী মেনে কাজী হিয়া কে কবুল বলতে বলল। হিয়ার ঠোট সামান্য কেঁপে উঠলো। তার কন্ঠ থেকে কথা বেরোচ্ছে না তবুও বহু কষ্ট করে কবুল বলল। সকলে আলহামদুলিল্লাহ পড়ে কাজী হিয়ার সামনে একটা খাতা এগিয়ে দিয়ে হিয়ার সাইন্স করার জায়গাটি দেখিয়ে দিল। হিয়ার হাত অনবরত কাঁপতে থাকলো। বহু কষ্ট করে নিজের নাম টি খাতায় লেখলো। সাথে সাথে তার চোখের এক ফোঁটা পানি খাতায় পড়লো।
এখন কাজী হামিদের কাছে গেল এবং হামিদকে বলল হাসান সাহেবের বড় কন্যা হিয়া কে তিন লাখ টাকা দেনমোহর দিয়ে আপনি বিয়ে করতে রাজি থাকলে বলেন আলহামদুলিল্লাহ কবুল।হামিদ নির্দ্বিধায় কবুল বলল এবং খাতায় দেখানো জায়গায় টিটে নিজের সাইন দিল।
দেখতে দেখতে হিয়ার বিদায়বেলা চলে আসলো।
এই সময় টা প্রত্যেক মেয়ের ক্ষেত্রে আসবে।
এত খন হিয়া নিজেকে ঠিক রাখতে পারলেও এখন তার বাবা কে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিল। হিয়ার কান্নায় আসে পাশের সকলেই নিজের চোখের জল মুছল।
হিয়া কে তার বাবা গাড়ি তে তুলে দিলেন এবং মুহূর্তের মধ্যে বরের গাড়িটি রাস্তায় মিলিয়ে গেল।
কই গো বউ নিয়ে এসেছে বউ.. বলে দৌড়ে নিচে গেল হামিদের ফুফু। কই গো হামিদের মা তোমার পুলাই তো বউ নিয়া আইছে বরণ করো বউরে ঘরে তুলো। সকল কার্যক্রম শেষ করে হিয়া সবেমাত্র তাদের ঘরে আসলো। হামিদ হিয়াকে বলল তুমি ফ্রেশ হয়ে নেও। আমি নিচ থেকে দেখে আসি সবকিছু ঠিকঠাক আছে নাকি। হিয়া সামান্য দিদা নিয়ে ওয়াশরুমে পা রাখল ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে দেখে হামিদ মাত্রই কক্ষে ঢুকলো।
ও তোমার ফ্রেশ হওয়া শেষ ঠিক আছে এখন ফ্রেশ হয়ে আসি বলে হামিদ টাউজার আর গেঞ্জি নিয়ে ওয়াশরুমে গেল। হামিদ ফ্রেশ হয়ে এসে দেখে, হিয়া খাটের সব ফুলের পাপড়ি গুছিয়ে রেখেছে এবং খাটের একপাশে গুটি শুটি হয়ে হিয়া ঘুমিয়ে রয়েছে। হামিদ আর কিছু বলল না নিজের ফোনটা নিয়ে বারান্দায় দাঁড়ালো। কিছুক্ষণ পর রুমে এসে নিজেও শুয়ে পড়লো। বেলা তখন আটটা হিয়া পিটপিট করে চোখ খুলে সামান্য ভড়কে গেল তারপর ভালোভাবে দেখে বুঝতে পারল এটা তার স্বামীর বাড়ি। ফোনে সময় দেখে চোখ কপালে উঠে গেল। এই ভেবে যে বিয়ের প্রথম দিনে এত বেলা করে ঘুম থেকে উঠেছে কে কি বলবে তা ভেবে তার ভয় করতে লাগলো। হিয়া ওয়াশরুমে গিয়ে মুখ ধুয়ে পরিপাটি হয়ে নিচে আসলো। আরে নতুন বউ দেখি বলেন হামিদের ফুপি হিয়াকে ডাইনিং টেবিলে নাস্তা করার জন্য বসিয়ে দিল। হিয়া আশেপাশে তাকিয়ে কোথাও হামিদকে খুঁজে পেল না। হিয়ার নাস্তা শেষ করে উপরে ফ্রেশ হওয়ার জন্য গেল। আজকে হিয়াকে বাসায় মেকআপ করানো হবে। মেকআপ করে দেবে হামিদের ছোট বোন শাকিলা সে হিয়ার দুই বছরের বড়। শাকিলা হামিদের কক্ষে এসে দেখতে পেল হিয়া নিজের কোমর ছাড়িয়ে চুল তয়লা দিয়ে আলতো করে মুচ্ছে। হিয়া শাকিলাকে দেখে সালাম দিয়ে কৌশল বিনিময় করল। শাকিলা তারপর হিয়া কে সাজিদ দেয়া শুরু করলো। হিয়া কে আজকেও বেশ ভালো লাগছে।
শাকিলা নাচাইতে হিয়ার উপর মুগ্ধ হল। তারপর হিয়া কে রুমে থাকতে বলে বেরিয়ে গেল। অবশেষে বেলা একটার দিকে হামিদ রুমে আসলো। হামিদ হিয়া কে দেখে সামান্য থমকে গেল। তারপর চোখ ফিরিয়ে জিজ্ঞেস করল তুমি খেয়েছো নাকি..?হিয়া ওপর নিচ মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ সম্মতি জানালো।
তারপর হামিদ আর কোন কিছু না বলে ফ্রেশ হওয়ার জন্য ওয়াশরুমে গেল।
কিছুক্ষণ পর হামিদ হিয়া একসাথে নিচে গেল।
খাওয়া-দাওয়া শেষ করে সকলের সাথে কুশল বিনিময় করল। সকলেই হিয়ার বেশ প্রশংসা করলো।
সূর্য তখন পশ্চিমা আকাশে তলিয়ে গিয়েছে।
হামিদ আর হিয়ার সাথে হামিদের কয়েকজন আত্মীয়-স্বজন হিয়াদের বাসায় এসেছি । খাওয়া-দাওয়া শেষ করে সকলেই নিজেদের নির্ধারিত কক্ষে গিয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিল।
হিয়া আর হামিদ কক্ষে গেল, হামিদ হিয়া কে বলল তুমি ঘুমাও আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।
আমি তার পোশাক নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে পরলো।হিয়া কিছুক্ষণ সেই দিকে তাকিয়ে থেকে শুয়ে পড়লো। হামিদ রুমে এসে দেখল হিয়া ঘুমিয়ে পড়েছে। আজও হামিদ নিজের ফোন নিয়ে বারান্দায় গেল। কিছুক্ষণ পর হামিদ চলে আসলো। খাটের একপাশে সেও ঘুমিয়ে পড়ল। হাসান সাহেবের বাড়িতে আজকে বিভিন্ন রকমের খাবার তৈরি করা হচ্ছে। একমাত্র মেয়ের জামাই এসেছে বলে কথা। হিয়া ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিজের আম্মার কাছে গেল। হামিদের সাথে তার নানু আর কিছু বন্ধু এসেছে। হামিদের নানু হিয়াদের বাসা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে, কে কি করলো সবকিছু খুঁটিয়ে নজর রাখছে।
সময় তার নিজ গতিতে চলে সময়কে থামানোর সাধ্যি কারী বা আছে। আবারো হিয়ার যাওয়ার সময় ঘুমিয়ে আসলো। আজও হিয়া কান্না করেছে তবে সেদিনের মতো নয়। বাসায় গিয়ে হামিদ দেখতে পাই, প্রায় সকল আত্মীয়-স্বজনী চলে গিয়েছে।হামিদ কে তার বাবা নিজের কাছে ডাক দিলেন। হাসান তার একমাত্র মেয়ে হিয়াকে আশা করে আমাদের বাসায় পাঠিয়েছে আমি চাই তুমি কখনো হিয়া কে কষ্ট দিও।
হামিদ তার বাবার কথাগুলো মন দিয়ে শুনলো এবং হ্যাঁ সম্মতি সূচক মাথা নাড়ালো। এতে হামিদের বাবা বেশ সন্তুষ্ট হলেন। হিয়া আজকেও ভেবেছিল হয়তো হামিদ তাকে ঘুমিয়ে পড়ার কথা বলবে তবে তার কিছুই হলো না। হামিদ গিয়ে হিয়ার পাশে বসলো।তারপর কিছু কথা বলার জন্য মুখ খুলল। শোনো গো মেয়ে তুমি আমার স্ত্রী তোমার ভালো মন্দ সকল দায়িত্ব আমার। কখন তোমার সাথে কেউ খারাপ ব্যবহার করলে তুমি আমাকে বলবে। হিয়া হামিদের কথায় বেশ সন্তুষ্ট হল। এভাবেই হামিদ তাদের মাঝের দূরত্ব কমিয়ে ভালোবাসার চাদর দিয়ে মুড়িয়ে দিলো হিয়াকে