উপন্যাস : তুমি আমার
পর্ব : ১১
লেখিকা : শেখ হালিমা
-দেখেছো ভাইয়া আমাকে কী বললো আমি নাকি ড্রামা কুইন...?
- উফফ তোরা কী ছোট বাচ্চাদের মতো শুরু করেছিস। আর আমিরা তুই এখানে কেন.? আয়রা কোথায়..?
- আয়রা অফিসের নিচে.. আসলে ভাইয়া..
- অওও আচ্ছা.. কী বলবি বল কিছু কী হয়েছে..?
- না ভাইয়া আসলে। আমাদের ভার্সিটি থেকে কালকে ট্যুরে যাবে। মাঝে ১ দিন থেকে শনিবার ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিবে। তাই তুমি যদি অনুমতি দিতে তাহলে বাসা কেউ কিছু বলবে না।
- আলিফ আমিরার মাথাই গাট্টা দিয়ে বলে.. ইসসস শোক কত যা দূরে গিয়ে মর।
- আলিফ.. আবরারের ধমকে আলিফ চুপ হয়ে যায়।
- কিন্তু চোখ দিয়ে আমিরাকে সাসাতে ভুললো না।
- আলিফের চোখ ঘুরানো দেখে আমিরা বেংচি কাটে। ভাইয়া প্লিজ আমরা তো কখন কোথাও স্কুল বা কলেজ থেকে কোথাও যায়নি। প্লিজ ভাইয়া এখন তো আর আমরা ছোট নেই যায় না ভাইয়া।
- কোথায় নিয়ে যাবে। আর তোরা এখন এতো বড় হয়ে জাসনি যে তোদের একা ছেরে দিবো।
- কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। ভাইয়া আমরা একা কথাই আমাদের সকল ফ্রেন্ডরা যাবে তো। প্লিজ ভাইয়া যাই না, আমরা কোথাও তো ফ্রেন্ডের সাথে যাইনি এইবার যায় প্লিজ।
- আমি তোদের নিয়ে যাবো। তখন যত ইচ্ছে ঘুরে আসিস।
- ভাইয়া.. আমিরার চোখ ছল ছল করে উঠে।
- আবরার একটি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেরে বলে আচ্ছা ঠিক আছে। তবে একটা শর্ত আছে।
- জি ভাইয়া বলো।
- আমি, আলিফ আর আরাবও যাবো। আর আমরা সকলে প্লেনে করে যাবো। প্রয়োজন হলে সেখানে গিয়ে নিজের ফ্রেন্ডদের খুজে নিস।
- আবরার যেতে দিবে এই কথা শুনে আমিরা যেতো না উৎসাহিত হয়েছিল । আবরারদের যাওয়ার কথা শুনে তার চেয়েও বেশি আমিরার মুখ চুপসে যায়।
- কিন্তু ভাইয়া আমরা তো ভার্সিটি থেকে বান্ধবীদের সাথে জাবো তোমরা গেলে তো বর হবে।
- তাহলে তোদেরও যেতে হবে না।
- না না না ঠিক আছে। তোমরাও যেও।
- ঠিক আছে যা এখন আমার কাজ আছে। বাসায় গিয়ে আমি সকলকে বলে দিবো।
- আমিরা আর কিছু না বলে অফিসের নিচে চলে আসে।
- কীরে ভাইয়া রাজি হয়েছে..?
- আমিরা উপর নিচ মাথা নারাই
- তা দেখে আয়রা খুশিতে লাফিয়ে উঠে।
- কিন্তু ভাইয়ারাও আমাদের সাথে যাবে৷
- আয়রার মুখের হাসি ধপ করে নিভে যায়। কীইই.. ভাইয়ারা মানে..? আবরার, আলিফ আর আরাব ভাইয়াও যাবে..?
- আমিরা উপর নিচ মাথা নারাই।
- আয়রা মাথাই হাত দিয়ে নিচে বসে
পরে।
- চল বাসায় যায়। ভাইয়া এখন এখানে দেখলে পরে দেখা যাবে যেতেই দিবে না। আর এমনেও সব কিছু পেক করতে হবে। কালকে সকাল সকালই তো যেতে হবে। এখন চল।
- আমার বাবু সোনা টা কোথায়..? দেখি দেখি এইযে আর একটু আমার লক্ষি বাবাটা খেয়ে নিবে।
- হাবিবের ৫ মাস শেষ হয়ে ৬ মাসে পরেছে। হিয়া এখন থেকেই সকল খাবার একটু একটু করে হাবিবকে খাওয়া শিখাচ্ছে।
- হিয়া..! কি করছিস..?
- এই তো ভাইয়া হাবিবকে খাওয়াচ্ছি।
- আমার গুলুমুলু মামমা টা কোথায়।
- হিয়া হাবিবকে খাইয়ে মুখ মুছে দেয়।
- হাবিব নিজের আঙ্গুল মুখে দিয়ে চুউ চুউ শব্দ তুলে চুসতে থাকে।
- মামমা.. এই যে মামমা.. হোসেন অনবরত হাবিবের সামনে মামমা বলাই।
- হাবিব মুখ থেকে হাত সরিয়ে চুউ চুউ ধ্বনি তুলি আধ আধ শব্দে ভেঙ্গে ভেঙ্গে বলে মাম মাম।
- হাবিবের মুখে মাম মাম শুনে হিয়া আর হোসেন উচ্চ শব্দে হেসে উঠে।
- হিয়া আর হোসেনের হাসি দেখে। হাবিবও খিল খিলিয়ে হেসে উঠে।
- উফফ হিয়া যা বলতে এসেছি তাই তো বলা হলো না ..!
- জী ভাইয়া কিছু কী বলবে..?
- হ্যাঁ..! কালকে তো বৃহস্পতিবার স্কুল তারা তারি ছুটি হবে। তাই আমি ভেবেছি বাসার সকলে মিলে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত দেখতে জাবো। আর শনিবার চলে আসবো।
- ভালো তো তোমরা যাও ঘুরে আসো আমি যাবো না।
- আমি তো তোর জন্যই বলছি। সমুদ্র দেখলে তোর ভালো লাগবে। আর কবে থেকে আমরা কোথাও এক সাথে যায় না। দেখিস তোর ভালো লাগবে।
- না ভাইয়া তোমরা যাও আমি আর হাবিব এখানেই থাকি। আমার কোথাও যেতে ইচ্ছে করে না।
- হিয়া তুই কেন তোর অতীতে ঘটে যাওয়া বিষয় নিয়ে নিজেকে সকলের কাছে থেকে আরাল করে নিবি..?
- না ভাইয়া তেমন কিছু না।
- তাহলে কেমন কিছু..? যাই হোক আমার বলার প্রয়োজন ছিল বলে দিয়েছি আর আমরা যাবো এটা ফাইনাল। আর আমি তোর কোন কথা শুনতে ইচ্ছুক না আমাকে বড় ভাই মনে করে থাকলে আর মানা করিস না।
- হিয়া নিজের ভাইয়ার উপর দিয়ে আর কোন কথা বলে না। ঠিক আছে ভাইয়া।
- আচ্ছা তুই তাহলে গোছ গাছ শুরু করে দে। আমি আম্মুকে বলে আসি। আর আমরা প্লেনে করে যাবো। বলেই হোসেন বাহিরে চলে যায়।
- সূর্য পশ্চিম আকাশে ডেকে গিয়েছে। ধরণীতে আধার নিমে এসেছে।
- আবরার, আলিফ আর আরাব সবে মাত্র বাসায় ফিরলো।
- চৌধুরী বংশের ৩ ছেলে অফিসে জয়েন করার পর থেকে সুমন আর সুজন চৌধুরীরা তেমন অফিসে যায় না প্রয়োজন ছাড়া। আর গেলেও চলে আসে। কারণ আবরার বিদেশ থেকে আসার পর থেকে আবরারই সকল কাজ সামলায়।
- আজকে বিসার কক্ষে চৌধুরী পরিবাবের সকলেই উপস্থিত রয়েছে। তাই আবরার আগে বসার কক্ষে এসে বসে।
- আব্বু..! তোমাদের কিছু বলার ছিল।
- কী বলবে বলো..?
- আয়রা আর আমিরার ভার্সিটি থেকে ঘুরতে যাবে। তাই আমি ভেবেছি ওদেরকে তো আর একা ছাড়া যায় না। তাই আমরা ৩ ভাইও যাবো।
- তোমরা গেলে ঠিক আছে। নইতো অদেক একা যাওয়ার প্রয়োজন নেই।
- হুম যে জন্যই আমরাও যাবো।
- আচ্ছা ঠিক আছে। সাবধানে যেও।
- আবরার আর কিছু না বলে নিজের কক্ষে চলে যায়। ফ্রেশ হয়ে রোজ কার মতো। হাতে ফোন নিয়ে চিরো পরিচিত একটি ছবি বের করে। একটি মেয়ের ছবি কমপক্ষে মেয়েটির বয়স ১০ বা ১১ হবে। ৪ বছর জান এই ৪ বছর আমার জন্য মৃত্যুর সমতুল্য হয়ে গিয়েছিল। কেউ বুঝলো না আমি আমি একা দিন রাত কীভাবে কাটিয়েছি কেউ যানে না। কেন তুই আমার জন্য অপেক্ষা করলি না..? কেন..? তুই বিয়ে করে নিলি..? কেন সেই জঘন্য দিন গুলো সেই নরকে কাটিয়ে দিলি। বিশ্বাস কর জান আমি অই কুত্তার বা** দের নিজ হাতে খুন করব। তুই চিন্তা করিস না তোর আর আমার মাঝে আমি আর কাউকে আসতে দিব না যে আসবে তাকে আমি নিজ হাতে শেষ করব। আর কয়েকটা দিন তার পর তোকে আমি নিজের কাছে নিয়ে আসবো। তুই না আসতে চাইলেও আমি নিয়ে আসবো। প্রয়োজন পরলে জর করে উঠিয়ে আনবো।
- সূর্য পূর্ব আকাশে নিজের উপস্থিত জানান দিচ্ছি। নতুন সকালের সূচনা হয়েছে। যে যার কাজে ব্যাস্ত হয়ে পরেছে।
- হিয়া আজ সকাল সকাল উঠে রোজ কার মতো সকল কাজ শেষ করে স্কুলে চলে যায়।
- আয়রা তারা তারি কর বোন আমার আবরার ভাইয়া রেগে গেলে যাওয়াই বন্ধ করে দিবে।
- এই তো হয়ে গিয়েছে আর ২ মিনিট।
- আমিরা রেডি হয়ে দারিয়ে আছে। আর আয়রা এদিক সেদিকে দৌড়া দৌড়ি করছে।
- তোকে না কালকে বলেছি সব কিছু রেডি করে রাখতে।
- আমিরা হয়েছে তোদের..?
- জী ভাইয়া এই তো আসছি। তুই থাক আমি যায় তোর আর যেতে হবে না। বলেই আমিরা চলে যায়।
- কীরে আয়রা কোথায়..?
- এইতো আমি, আয়রা পা উচু করে মেয়ে জুতা পরতে পরতে আসছে।
- তা দেখে আবরার বলে, তুই আর মানুষ হইলি না..?
- উফফ ভাইয়া চলতো পরে ফ্লাইট মিস করে যাবো।
- হিয়া হয়েছে তোর..?
- জী ভাইয়া এইতো আসছি। নেও হয়েছে চলো এখন।