উপন্যাস : তুমি আমার
লেখিকা : শেখ হালিমা
পর্ব : ১০
- মিসেস হিয়া..! আমি কী আসতে পারি..?
- পিছু থেকে আশা পুরুষালী কন্ঠে হিয়া পিছু ফিরে তাকায়।
- জি মিস্টার আদনান আসেন। এখানে সকলের আশার পারমিশন রয়েছে আমাকে বলে আসতে হবে না।
- আদনান সামান্য হাসল, আসলে সকলের প্রাইভেসি নামক কিছু থাকে তাই জিজ্ঞেস করে আসলাম। আমি কী এখানে বসতে পারি
- হ্যাঁ অবশ্যই, এখানে বসুন।
- হিয়ার থেকে কিছু টা দূরত্ব রেখে আদনান বসে।
- তো বলেন তো মিস, হিয়া কী খবর আপনার..? আপনার ছেলে কেমন আছে..?
- জী আলহামদুলিল্লাহ
- হিয়ার যত টুকু সম্ভব স্কুলের সকল ছেলে শিক্ষকদের এরিয়ে চলে। কিন্তু আদনান কে হাজার ইগনোর করার পরেও আদনান প্রতিদিন হিয়ার সাথে কথা বলতে আসে। যা হিয়াকে বেশ বিরক্ত করে তুলে।
- দেখেন হিয়া আমি আজকে যা বলব সরা সরি বলব। আপনার তো আগের হাসবেন্ডের সাথে ডিভোর্স হয়ে গিয়েছে। আমি আপনার সকল অতীত মেনে নিয়ে আপনাকে নিজের করে পেতে। আপনার ছেলেকেও আমি আমার ছেলে হসেবে গ্রহণ করব। আমি আপনাকে কখন কোন অভিযোগ করতে দিবো না। প্লিজজজজ হিয়া আপনি আমার হয়ে যান।
- আদনান কোন কিছু ভেবে উঠার আগে আদনানের গালে হিয়া ঠাস করে চোর বসায়।
- হিয়া আগে থেকেই জানত আদনান তাকে পছন্দ করে। কিন্তু হিয়া কল্পনাও করেনি আদনান এই ভাবে হিয়াকে সরা সরি বলবে। হিয়ার অজান্তেই হিয়া আদনান কে চোর মেরে বসে। হিয়া আদনানকে এইভাবে অপমান করতে চাইনি। কিন্তু আদনানের কথাই হিয়ার বেশ রাগ হয় যার জন্য হিয়া হাত তুলে ফেলে।
- দেখুন মিস্টার আদনান আমি আপনাকে এই ভাবে চোর মারতে চাইনি। আসলে আপনার কথাই আমার প্রচন্ড পরিমাণের রাগ হয়েছে। তাই আমার অজান্তেই আপনার উপরে হাত তুলে ফেলেছি। আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে আপনি আমাকে পছন্দ কিরেন কিন্তু আমি আপনাকে বোঝানোর আগেই আপনি আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে। দেখুন আদনান আমি আর কোন সম্পর্কে জরাতে চাই না। আমি আমার ছেলেকে নিয়ে ভালো আছি। আমি চাই না আমার জন্য আমার ছেলের ভবিষ্যতে কোন সমস্যা বা কষ্ট হয়। তাই প্লিজ আদনান আপনি আমার কথা মাথা থেকে মুখে ফেলেন। প্রথমের কথা গুলো হিয়া অনুশোচনা করে বললেও শেষের কথা গুলোতে রাগ, কষ্ট, জেদ মিসিয়ে বলেছে। হিয়া জানে এই বিষয় নিয়ে আর কোন কথা বললে সে কান্না করে দিবে তাই আর কিছু না বলে সেখান থেকে উঠে চলে যায়।
- হিয়া আপনি যাই বলে আর যাই করেন আমি আপনাকে ছারছি না। আমি আপনাকে নিজের করবই। আমি আপনাকে ভালোবাসি আর আমি আমার ভালোবাসা এই ভাবে হারতে দিতে পারি না।
- আসসালামু আলাইকুম
দেশ-বাংলা নিউজ চ্যানেলে আপনাদের স্বাগতম। গতকাজ এলিফেন্ড রোডে একজন ব্যাক্তির নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্টে জানা গিয়েছে ব্যক্তিটি একজন পুরুষ ছিল। আর তাকে বেশ ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে । আশেপাশে সিসিটিভি ফুটেছে দেখা গিয়েছে ব্যক্তিটি বেশ কয়েকবার অনেককে ছিনতাই করেছিল। ব্যক্তিটির আত্মীয়-স্বজন বলতে কারো খোঁজ পাওয়া যায়নি। আশেপাশের মানুষের বক্তব্য অনুযায়ী ধারণা করা হয় ছিনতাই করতে গিয়ে তাকে মারা হয়েছে।
- দিন দিন দেশ টা অধস্থলে যাচ্ছে এখন একজন ছিনতাইকারীর খবর টিভিতে শুনতে হচ্ছে।
-আজকে হাসান সাহেব অফিসে যায়নি তাই বসে খবর শুনছিল।
- হ্যাঁ এখন সকল নিউজ চ্যানেলের যত আজগবি খবর আছে সব দেখাই। কিন্তু আমার মেয়ের মত হাজারো মেয়ে শুশুর বাড়ী নামক নরকে দিন দিন অত্যাচারিত হচ্ছে তা কোন নিউজ চ্যানেলে দেখানো হয় না।.. এই নেও তোমার চা..
হামিদা বেগমের কথাই সায় জানিয়ে হাসান সাহেব হামিহা বেগমের বারিয়ে দেওয়া হাত থেকে চা টি নেয়।
- স্বামীর সম্মতি পেয়ে হামিদা বেগম আরো বলতে লাগলেন
-আল্লাহ কী এদের চোখে দেখে না..?এরা আমার ফুলের মতো মেয়েটার উপর কত বাজে ভাবে অত্যাচার করেছে। নাজানি আমার মেয়েটার কত টা কষ্ট হয়েছে। আমার মেয়ে টা আমাদের কিচ্ছু বুঝতে দেইনি এত দিন। সকল কষ্ট নিজে একাই বহন করেছে। আল্লাহ আমার মেয়েকে কোন পাপের শাস্তি দিয়েছে..? বলেই হামিদা বেগম মুখে আচল গুজে ডুকরে উঠলে।
- হাসান সাহেব স্ত্রীর মাথাই হাত বুলিয়ে বোঝাতে লাগে। চিন্তা কোর না হামিদা দেখবে আল্লাহ আমার মেয়ের জন্য এমন একজনকে পাঠাবে যার সাথে আমার মেয়ে আ-জীবন সুখে কাটাবে।
- মে আই কামিং বস..?
- ইয়েস...
- বস আজকের ফাইল গুলো।
- ঠিক আছে। এখানে রেখে যাও।
- অমিত যেতে গিয়েও আবার ফিরে আসে। আর সামান্য ইতস্তত করে বলে। বস লোক টাকে কী এভাবে খুন করা ঠিক হলো..? আমরা আবার ফেসে যাবো না তো। সকল নিউজ চ্যানেলে তাকে নিয়ে রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে।
- অমিতের কথা শুনে এতক্ষণ পর আবরার চৌধুরী একটা বাকা হাসি দিয়ে ফাইল মুখের সামনে থেকে নিচে নামিয়ে রাখে। আর শান্ত দৃষ্টিতে অমিতের দিকে তাকায়। টেবিলের পাশ থেকে আবরার একটি ধারালো ছুরি তুলে নেয়।
- যা দেখে অমিতের গাম ছুটে যায়। একমাত্র অমিতইইই জানে এই আবরার চৌধুরী বাহিরে যতটা শান্ত ভেতরে ঠিক ততটাই হিংস্র।
- আবরার ছুরিটি অমিতের দিকে তাক করে বলে এই কথা আর একবার তোর মুখ থেকে বের হলে আমার পরের টার্গেট তুই হবি অমিত।
- আবরারের শান্ত আর ঠান্ডা কন্ঠে হুমকি শুরুপ কথা শুনে অমিতের গাম জরেপরে। অমিত তারা হুরু করে বলে না বস আর কখন বলব না। এই দেখুন আমি সব ভুলে গিয়েছি আমার আর কিচ্ছু মনে নেয়। এমন কি আমার নাম টাও মনে নেই।
- ঠিক আছে মনে না থাকলেই ভালো। এখন তুই যা প্রয়োজন পরলে আমি পরে তোকে ডেকে নেব।
- অমিত কোন মনে নিঃশ্বাস আটকে আবরারের কেবিন থেকে বের হলো। অমিত কেবিন থেকে বের হয়ে আটকে রাখা নিশ্বাস ছেড়ে বলে যাক বাবা বাঘের মুখ থেকে বেঁচে আসলাম। নাহলে যেই লোক পরে দেখা যেত সত্যি সত্যি আমাকে খুন করে ফেলেছে।
- অমিত যেতেই আবরার হেসে উঠে। আবরার কখনই অমিতকে কিছু করতো না শুধু সামান্য ভয় দেখাল।
- অমিতের নিজের বলতে তেমন কেউ নেই আবরারের স্কুলে থেকে বন্ধুদের সাথে ঘুরতে গিয়ে অমিতকে দেখতে পায়। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে ঘুরে খাবার চাচ্ছে তখন অমিতের সামনে গিয়ে আবরার বলে এই পুচকু তোমার কী কেউ নেই..? তুমি কেএ..? আমি আবরার.. তুমি কী আমাকে খাবার দিবে..? অমিতের কথাই আবরারে সে দিন কী হয়েছিল কে যানে..? আবরার কোন কিছু না ভেবে অমিতকে কোলে করে নিয়ে নিজের বাসায় চলে আসে। তখন থেকে এই পযন্ত সকল কাজে আবরার অমিতকে নিজের সাথে নিয়ে গিয়েছে।
- হঠাৎ ফোন বাজার শব্দে আবরার অতীত থেকে বের হয়ে আসে। আবরার ফোন রিসিভ করে কানে ধরতেই অপাশ থেকে কিছু শুনেই আবরারের চোয়াল শক্ত হয়ে আসে। ফোন কেটে আবরার বাকা হাসি দিয়ে বলে মিস্টার আদনান আপনার মরণ ঘন্টা বেজে গিয়েছে।
- ভাইয়া.. ভাইয়া..ভাইয়ায়ায়ায়া..
- ভাইউউউ, ভাইউউউ
- ভাইয়া দেখো না এই বজ্জাত টা আমাকে বিরক্ত করছে..
- ভাইউউ দেখো না এই বজ্জাত তা আমাকে বিরক্ত করছেএ..
- আলিফ কি হচ্ছে..? তুই আমিরাকে বিরক্ত করছিস কেন..?
- আমিরার মাথায় গাট্টা দিয়ে আলিফ বলে আরে ভাই আমি এই ড্রামা কুইন এর বস্তা কে কেন বিরক্ত করতে যাবো। উল্ট ওকে আর আয়রাকে ভার্সিটি থেকে নিয়ে আসলাম।
- দেখেছো ভাইয়া আমাকে কী বললো আমি নাকি ড্রামা কুইন...?