ফন্ট সাইজ:
থিম:
বন্ধ দরকার ওপাশে কে❔

পর্ব 3

লেখক: রহস্য কন্যা

👻 বন্ধ দরজার ওপাশে কে?

✍️ লেখিকা: রহস্যকন্যা

পাঠ ৩ — যে মেয়েটি আমার মুখ নিয়ে বেঁচে আছে! 🥀

🌑 জমিদারবাড়ি, রাত ১২টা ১ মিনিট 🌑

ঘরের ভেতর তখন অদ্ভুত নীরবতা।

মেঘলা জানালার দিকে তাকিয়ে আছে। বাইরে সত্যিই একজন মহিলা দাঁড়িয়ে আছেন। পরনে সাদা শাড়ি, এলোমেলো চুল আর চোখে অদ্ভুত আতঙ্ক।

মেঘলা চিৎকার করে উঠল,

— মা!

মহিলাটি জানালার কাচে হাত রেখে বললেন,

— মেঘলা, আমার কাছে আয় মা! তাড়াতাড়ি!

মেঘলা দরজার দিকে ছুটতে গেল। কিন্তু নীলাঞ্জনা তাকে আটকে দিল।

— না! তুমি বাইরে যেতে পারবে না!

মেঘলা রেগে বলল,

— তুমি কে আমাকে আটকানোর? বাইরে আমার মা দাঁড়িয়ে আছে!

নীলাঞ্জনা মাথা নিচু করে বলল,

— ওটা তোমার মা নয়।

মেঘলা অবাক হয়ে তাকাল।

— আবার একই কথা! সবাই কেন বলছে আমার মা আমার মা নয়? তোমরা আসলে কী চাও আমার কাছে?

নীলাঞ্জনা কিছু বলার আগেই জানালার ওপাশের মহিলাটি হঠাৎ হাসতে শুরু করলেন।

সেই হাসি ধীরে ধীরে বিকট হয়ে উঠল।

তারপর তিনি কাচের ওপর আঙুল দিয়ে লিখলেন—

মেঘলা, তোমার মাকে আমি নিয়ে গেছি।

মেঘলার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।

— না! এটা হতে পারে না!

ঠিক তখনই ঘরের আয়নার ওপর রাখা কাপড়টি নিজে থেকেই মেঝেতে পড়ে গেল।

আয়নার ভেতর থেকে সেই যমজ মেয়েটি বেরিয়ে এল।

তার মুখ মেঘলার মতো, কিন্তু চোখে অদ্ভুত শূন্যতা।

মেয়েটি মুচকি হেসে বলল,

— অবশেষে দেখা হলো, আপু!

মেঘলা পিছিয়ে গেল।

— তুমি কে?

— আমি তোমার বোন। আমার নাম মায়া।

মেঘলা অবিশ্বাস নিয়ে বলল,

— আমার কোনো যমজ বোন নেই!

মায়া হেসে বলল,

— তোমার মা তোমাকে সব সত্যি বলেনি। তোমাদের দুজনকে একই দিনে জন্ম দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু জন্মের পর একজনকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল অন্য পরিবারে।

মেঘলা নীলাঞ্জনার দিকে তাকাল।

— এটা কি সত্যি?

নীলাঞ্জনা ধীরে মাথা নাড়ল।

— হ্যাঁ, মেঘলা। তোমাদের জন্মের সময় এই বাড়িতে ভয়ংকর একটি ঘটনা ঘটেছিল।

মেঘলা প্রশ্ন করল,

— কী ঘটনা?

নীলাঞ্জনা টেবিলের ড্রয়ার খুলে একটি পুরোনো ছবি বের করল।

ছবিতে তিনজন মানুষ। একজন পুরুষ, একজন মহিলা এবং তাদের কোলে দুটি নবজাতক শিশু।

ছবির পেছনে লেখা—

১৭ নভেম্বর, ২০০৯।

নীলাঞ্জনা বলল,

— তোমাদের বাবা ছিলেন এই জমিদারবাড়ির শেষ উত্তরাধিকারী। তাঁর নাম ছিল অরিন্দম রায়। আর তোমাদের মায়ের নাম ছিল অনামিকা রায়।

মেঘলা অবাক হয়ে বলল,

— তাহলে আমার বাবা কোথায়?

নীলাঞ্জনা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,

— তোমার বাবা নিখোঁজ হয়েছিলেন তোমাদের জন্মের পরের রাতেই।

মায়া হঠাৎ চিৎকার করে উঠল,

— মিথ্যা! বাবা নিখোঁজ হননি! তাঁকে এই বাড়ির মানুষই লুকিয়ে রেখেছে!

সবাই তার দিকে তাকাল।

নীলাঞ্জনার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।

— মায়া! তুমি এসব কথা কোথায় শুনেছ?

মায়া উত্তর দিল না। সে মেঘলার দিকে এগিয়ে এসে ফিসফিস করে বলল,

— আপু, তুমি কি জানতে চাও আমাদের বাবা কোথায়?

মেঘলা মাথা নাড়ল।

মায়া আঙুল তুলে ঘরের উত্তর পাশের দেয়াল দেখাল।

— ওই দেয়ালের পেছনে একটা গোপন ঘর আছে। সেখানে বাবার শেষ চিঠি রাখা।

মেঘলা দেয়ালের কাছে এগিয়ে গেল। সেখানে একটি পুরোনো কাঠের আলমারি রাখা। আলমারিটি সরাতেই একটি ছোট দরজা দেখা গেল।

দরজার ওপর লাল রঙে লেখা—

যে এই দরজা খুলবে, সে নিজের অতীত হারাবে।

মেঘলা কাঁপা হাতে দরজার হাতল ধরল।

নীলাঞ্জনা চিৎকার করে বলল,

— থামো! ওই দরজা খোলা যাবে না!

কিন্তু মেঘলা ততক্ষণে দরজাটি খুলে ফেলেছে।

ভেতরে একটি ছোট ঘর। দেয়ালে অসংখ্য ছবি ঝুলছে। প্রতিটি ছবিতে একই পরিবার—অরিন্দম, অনামিকা এবং তাদের দুই মেয়ে।

কিন্তু শেষ ছবিটি দেখে মেঘলার চোখে পানি চলে এল।

ছবিতে তার বর্তমান মায়ের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছেন একজন অচেনা পুরুষ।

ছবির নিচে লেখা—

যে মানুষটি মেঘলাকে নিজের মেয়ে পরিচয়ে বড় করেছে, সেই মানুষটিই জানে অরিন্দমের মৃত্যুর সত্যি।

মেঘলা ফিসফিস করে বলল,

— তাহলে আমার বাবা...?

ঠিক তখনই পেছন থেকে একটি পুরুষ কণ্ঠ শোনা গেল।

— মেঘলা, ওই ছবিতে হাত দিও না!

সবাই ঘুরে তাকাল।

দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন একজন বৃদ্ধ। তাঁর হাতে একটি লণ্ঠন, চোখে মোটা চশমা।

মেঘলা তাঁকে চিনতে পারল।

তিনি গ্রামের সেই বৃদ্ধ, যিনি ছোটবেলা থেকে তাদের বাড়িতে আসতেন।

মেঘলা অবাক হয়ে বলল,

— রহিম চাচা! আপনি এখানে?

বৃদ্ধ কাঁপা গলায় বললেন,

— মা, এত বছর পরও তোমাকে এই বাড়িতে আসতেই হলো?

মেঘলা প্রশ্ন করল,

— আপনি আমার পরিবার সম্পর্কে সব জানেন?

বৃদ্ধ চোখ মুছলেন।

— জানি মা। আর একটা সত্যি এতদিন লুকিয়ে রেখেছি।

মেঘলা তাঁর কাছে এগিয়ে গেল।

— কী সত্যি?

বৃদ্ধ চারদিকে তাকিয়ে দরজাটি বন্ধ করে দিলেন।

তারপর নিচু গলায় বললেন,

— তোমাদের মা অনামিকা এখনো বেঁচে আছেন। কিন্তু তিনি এই বাড়িতে নেই।

মেঘলার চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল।

— তাহলে আমার মা কোথায়?

বৃদ্ধ উত্তর দেওয়ার আগেই ঘরের দেয়ালের ভেতর থেকে তিনবার শব্দ হলো।

ঠক! ঠক! ঠক!

তারপর একটি নারীকণ্ঠ ভেসে এল—

— মেঘলা, আমি তোমার আসল মা। আমাকে এখান থেকে বের করো!

বৃদ্ধের হাত থেকে লণ্ঠনটি মেঝেতে পড়ে গেল।

তিনি আতঙ্কিত হয়ে বললেন,

— অসম্ভব! এই কণ্ঠ তো বিশ বছর আগে মারা গেছে!

মেঘলা ভয়ে বৃদ্ধের হাত ধরল।

— চাচা, দেয়ালের ওপাশে কে আছে?

রহিম চাচা কাঁপতে কাঁপতে বললেন,

— মা, এই বাড়িতে এমন একজন আছে, যার মৃত্যু হয়েছে বিশ বছর আগে। অথচ প্রতি রাতেই সে তোমার নাম ধরে ডাকে।

হঠাৎ দেয়ালের ভেতর থেকে আবার আওয়াজ এল।

— মেঘলা... আমি তোমার মা নই, আমি তোমার জন্মের সাক্ষী!

তারপর ঘরের সব দরজা একসঙ্গে বন্ধ হয়ে গেল!

চলবে.

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 3 শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন