#Cry_Even_Better_If_You_Beg
#Translator_by_গল্প
#পর্বঃ৬৫
⚠️ সতর্কবার্তাঃ এখানে অনেক ডার্ক সিন রয়েছে, নিজ দায়িত্বে পড়ুন। যারা অতিরিক্ত রোমান্টিকতা পছন্দ করেন না তারা চাইলে এটি স্কিপ করতে পারেন।
Chapter 65
“এতদূর পর্যন্ত আমাকে এগিয়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ, এখান থেকে আমি নিজেই যেতে পারব।”
Layla তার সঙ্গে থাকা লোকটির দিকে অস্বস্তিকর একটি হাসি দিল, যতটা সম্ভব ভদ্র থাকার চেষ্টা করে। কিন্তু মনে হলো, সে এখনো তার কাছ থেকে বিদায় নিতে রাজি নয়।
“ওহ না না, এতে কোনো অসুবিধা নেই, আর সামান্য পথই তো বাকি।” সে জোর দিয়ে বলল।
“না, সত্যিই দরকার নেই,” Layla আবারও ভদ্রভাবে অস্বীকার করল, “আমার uncle খুব কড়া মানুষ,” সে বলল, চারপাশে চুপিচুপি তাকিয়ে, আশা করছিল এখনো কেউ তাদের দেখে ফেলেনি।
Layla যা-ই বলুক না কেন, Arvis-এ কোনো পুরুষের সঙ্গে তাকে একসঙ্গে দেখা গেলে গুজব দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ত। uncle-র নাম ব্যবহার করতে তার ভীষণ খারাপ লাগছিল, কিন্তু কথাটা যে মিথ্যা নয়, সেটাও সে জানত।
“ওহ, বুঝতে পারছি।” অবশেষে সে সম্মত হলো, একটু হতাশ দেখালেও আবার Layla-র দিকে হাসল,
“তাহলে আমাকে যেতে হবে। আজকে বেশ ভালো লেগেছে। রবিবার দুপুরে লাঞ্চে আবার দেখা করলে কেমন হয়?” আশাভরা কণ্ঠে সে জিজ্ঞেস করল, যার উত্তরে Layla দুঃখিত হাসি হাসল।
“আমি দুঃখিত, আমি পারব না…”
“তা না হলে এই সপ্তাহ না হলে আগামী সপ্তাহে?” সে তাড়াতাড়ি কথাটা বদলে নিল, “আমার কোনো আপত্তি নেই। আমি শুধু আবার তোমার সঙ্গে দেখা করার সুযোগটা চাই।” সে শেষ করল, Layla-র দৃষ্টির নিচে হালকা লজ্জা পেয়ে, কিন্তু তার কণ্ঠে ছিল আন্তরিকতা।
“চায়ের সময় এত অল্প সময় তোমার সঙ্গে কাটাতে পেরে আমার খারাপ লাগছে,” সে ব্যাখ্যা করল, “আমি চাই আমাদের সত্যিকারের সুযোগ হোক একে অপরকে ভালোভাবে জানার—যদি তুমি একইভাবে অনুভব করো।” সে স্বীকার করল, “আর যদি না করো, তাহলে আমি আর তোমাকে বিরক্ত করব না—এই প্রতিশ্রুতি রইল।”
Layla বুঝতে পারল, সে সত্যিই সৎ। তার উত্তর যাই হোক না কেন, সে তা সম্মান করবে। কিন্তু ততক্ষণ পর্যন্ত, একটি স্পষ্ট উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত, সে এখান থেকে যাবে না।
Layla আর মুদির দোকানের মালিকের ছেলে আগে কখনো ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত ছিল না। যতদূর সে জানত, সে-ই স্কুলের সাপ্তাহিক জিনিসপত্র সরবরাহের দায়িত্বে ছিল। এর বেশি কিছু জানার কথা Layla কখনো ভাবেনি।
তাই সেদিন বিকেলে হঠাৎ করে যখন তাকে headmistress-এর অফিসে ডাকা হয়, আর সেখানে তাকে তার সঙ্গে দেখে সে ভীষণ অবাক হয়ে গিয়েছিল। পরে সে জানতে পারে, সে headmistress-এর দূর সম্পর্কের আত্মীয়, আর বিয়ে পর্যন্ত গড়াবে—এমন একটি সম্পর্ক খুঁজছে।
এই তথ্য শুনে Layla-র মাথা একেবারে ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল।
আবারও সে চারপাশে তাকাল। ঠিক তখনই, পাকা রাস্তার ওপর দিয়ে গাড়ি চলার পরিচিত শব্দ তার কানে এলো, আর সে সেদিকে তাকাল। বুকের ভেতর আতঙ্ক চেপে বসতে শুরু করল। সে প্রার্থনা করল যেন সে ভুল করে থাকে—কিন্তু তার ভাগ্য কখনোই এতটা ভালো ছিল না।
উজ্জ্বল হেডলাইট তাদের দু’জনকেই আলোকিত করল। গাড়িটি তাদের কাছে এসে ধীরে চলল, তারপর দ্রুতগতিতে পাশ কাটিয়ে চলে গেল…
Layla সেই গাড়িটিকে যে-কোনো জায়গায় চিনতে পারত।
ওটা Duke Herhardt-এর গাড়ি।
“Miss Llewellyn?”
তার কোমল কণ্ঠ Layla-কে চিন্তার জগৎ থেকে টেনে বের করল। এতক্ষণ সে নিশ্চুপ ছিল, সেটা তখনই তার মনে পড়ল।
“আ-আমি দুঃখিত।” সে ক্ষমা চাইল, তার সামনে নত হয়ে, “আমি এখনো এমন কোনো সম্পর্কে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত নই।” সে স্বীকার করল, কণ্ঠে অনুশোচনা।
যদিও headmistress তাদের চায়ের জন্য বসিয়েছিলেন, Layla তার সঙ্গে সময় কাটিয়ে দেখেছে—সে ভদ্র আর ভালো মানুষ। বিয়ের বিরুদ্ধে তার আপত্তি নেই; সে জানে একদিন সে বিয়ে করতে চায়। কিন্তু এখন নয়। আপাতত একটি স্থির চাকরি আর সাধারণ জীবনই তার জন্য যথেষ্ট।
“ওহ, বুঝতে পারছি।” সে বলল, হতাশ হলেও রাগান্বিত নয়। এক কদম পিছিয়ে সে আশ্বস্ত করার মতো হাসল, আর তাকে এই ঝামেলায় ফেলার জন্য ক্ষমা চাইল।
তারা আলাদা পথে গেল। Layla দেখল, সে বিষণ্ণ ভঙ্গিতে চলে যাচ্ছে। এত ভালো মানুষকে ফিরিয়ে দিতে হওয়াটা Layla-কে অস্বস্তিতে ফেলল, কিন্তু এটাই সঠিক সিদ্ধান্ত। খুব তাড়াতাড়ি তাকে গ্রহণ করলে, শেষ পর্যন্ত সে তাকেই কষ্ট দিত।
ঠিক যেমনটা সে Kyle-এর সঙ্গে করেছিল।
নামটা মনে পড়তেই Layla-র দৃষ্টি অন্ধকার হয়ে গেল।
তাদের বিচ্ছেদের পর বহুবার সে ভেবেছে Kyle কেমন আছে। শেষ পর্যন্ত সে শুধু তার মঙ্গল কামনা করেই সন্তুষ্ট থেকেছে। সে তাকে ভীষণ মিস করে, কিন্তু সেই সময়ে ফিরে যাওয়া আর সম্ভব নয়—যখন তার সঙ্গে থাকা এত সহজ ছিল।
সে আর সেই দিনগুলোতে ফিরতে পারে না, যখন Kyle-এর সঙ্গে হাসা, কথা বলা আর অবাধে হাঁটা সম্ভব ছিল।
আকাশ তখন অন্ধকার হয়ে গেছে, রাস্তার বাতিগুলো জ্বলে উঠেছে। স্মৃতিগুলো ঝেড়ে ফেলতেই তার ভেতর উদ্বেগ জমে উঠল। এই অস্থিরতাটা ঠিক সেই প্রথম শরতের মতো, যেটা সে Duke-এর সঙ্গে কাটিয়েছিল।
সে গভীর শ্বাস নিল, চোখ বন্ধ করল, আর দূরের বসন্তের কথা কল্পনা করল। তখন সে থাকবে এক নতুন জায়গায়, জীবনের নতুন একটি অধ্যায় শুরু করার প্রস্তুতিতে।
সে আশা করল, নতুন বাসাটিতে যেন বড় একটা জানালা থাকে, যেখানে দিয়ে সূর্যের আলো ঢুকে তার ঘর ভরে দেবে। আশেপাশে যদি কিছু গাছ থাকে, কিংবা একটা পার্ক দেখা যায়—তাহলে আরও ভালো। জানালা খুললেই যেন কাটা ঘাসের গন্ধ বা বৃষ্টির পর ভেজা বনভূমির ঘ্রাণ পাওয়া যায়।
Arvis ছেড়ে গেলে এই জিনিসগুলোকেই সে সবচেয়ে বেশি মিস করবে।
এই ভাবনাগুলো তাকে ধীরে ধীরে শান্ত করল। সব ঠিক হয়ে যাবে—এই বিশ্বাসে স্থির হয়ে, সে তার সাইকেলের হাতল শক্ত করে ধরল, সাবধানে মোড় ঘুরিয়ে এগিয়ে চলল।
তার দৃষ্টি ছিল শুধু সামনে—ফাঁকা পিচঢালা রাস্তার দিকে, দু’পাশে সারি সারি গাছ, আর চাঁদের আলো তাকে পথ দেখাচ্ছে। গভীর শ্বাস নিয়ে, নিঃসঙ্গতায় স্বস্তি পেয়ে, সে দ্রুত প্যাডেল চালাতে লাগল।
সে একেবারেই টের পায়নি যে Duke Herhardt কাছেই ছিল—নীরবে, ফুটপাথের ছায়ার ভেতর দাঁড়িয়ে, তার অপেক্ষায়।
----------------------
চিঠির বাক্সের দিকে এগোলেই Kyle-এর বুকের ভেতর সেই চেনা অস্বস্তিটা জেগে উঠত। এখন এটা যেন তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে—প্রতিবার চিঠি আনতে গিয়ে সে একটি নির্দিষ্ট চিঠির খোঁজ করত। প্রতিবারই সে ক্ষীণ এক আশায় ভর করত—এইবার হয়তো সে উত্তর পাবে।
কিন্তু চিঠিগুলো ছেঁকে দেখার পরও Leyla-র কোনো চিঠি থাকত না। তার মুখের হাসি মিলিয়ে যেত, সে বিষণ্ন হয়ে পড়ত। সপ্তাহের পর সপ্তাহ সে তাকে লিখে গেছে—সে কেমন আছে, এই খবর পাওয়ার আশায়, তার পাঠানো চিঠিগুলোর জবাব পাওয়ার প্রত্যাশায়। কিন্তু Leyla কখনোই উত্তর দেয়নি—একবারও না।
একটা হতাশ দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে আবার চিঠির বাক্সটা বন্ধ করল, আর নিজের ডরমিটরির দিকে ফিরে গেল। তার ঘরটা ছিল পূর্ব দিকের উইংয়ে, তৃতীয় তলায়। ছুটি প্রায় চলে আসছে বলে শিক্ষার্থীরা সবাই বাড়ি ফেরার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। কিন্তু Kyle-এর মধ্যে এখনো সেই তাড়নাটা জাগেনি।
তার ঘরটা প্রতিদিনের মতোই ছিল। দরজা খুলতেই তাকে স্বাগত জানাল অন্ধকার ঘরটা। দরজার পাশের কনসোল টেবিলের ওপর সে তার অল্প কয়েকটা চিঠি ছুড়ে ফেলল। আজ মাত্র দুটো—একটা আসন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ, আরেকটা বাড়ি থেকে।
সে বিছানায় গা এলিয়ে দিল, চিঠিগুলো পড়ার শক্তিটুকুও তার ছিল না। জানালা দিয়ে ঢুকে পড়া চাঁদের আলো সে দেখছিল—পর্দার ফাঁক গলে তার বিষণ্ন শরীরের ওপর পড়ছে।
‘প্রথম ছুটিতে কোথাও বেড়াতে যাও না কেন?’
কয়েক দিন আগেই ফোনে তার বাবা এমনটা বলেছিলেন। সত্যি বলতে, আজকাল ধনী পরিবারের বেশিরভাগ ছাত্রই ছুটিতে মহাদেশজুড়ে ভ্রমণে যায়, কিন্তু Kyle জানত—তার বাবার মনে অন্য কোনো কারণ আছে।
সে কথাটার কোনো স্পষ্ট উত্তর দেয়নি, শুধু বলেছিল সে ভেবে দেখবে। যাই হোক না কেন, এখন Leyla-কে খুঁজে ফিরে যাওয়া যে অর্থহীন—সে এটা জানত। তাহলে ভ্রমণে যাওয়ারই বা মানে কী?
‘তাহলে কি আমি এখানেই পড়ে থাকব, তাকে ছাড়া দুঃখে ভেঙে?’ সে ভাবল, পেটের ওপর থেকে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ে। ‘কংক্রিটের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে পড়াশোনার ভেতর ডুবে গিয়ে পাগল হয়ে যাওয়া পর্যন্ত?’
‘এই পৃথিবীতে এমন কোনো জায়গা নেই, যেখানে শুধু আমরা দুজন সুখী হতে পারি।’
Leyla-র কথাগুলো মনে পড়তেই সে নিজের চোখের ওপর হাত রাখল, নিজেকেই শুকনো হাসি হাসল।
সেদিন সে তাকে কোনো উত্তরই দিতে পারেনি—কথা বলার শক্তিটুকুও খুঁজে পায়নি। আর এখন তার ভেতরে শুধু আত্মঘৃণার গভীর অনুভূতি।
সে ঘৃণা করত নিজের দুর্বলতাকে—কীভাবে সে তার বাবা-মা ছাড়া কিছুই নয়। কিন্তু সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করত এই সত্যটা যে, সে তার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষটাকেও রক্ষা করতে পারেনি।
‘Leyla, আমি ডাক্তার হতে চেয়েছিলাম, যেন আমরা দুজন একসাথে সুখী হতে পারি এমন একটা জায়গা খুঁজে পাই,’ সে বিষণ্নভাবে ভাবল, চোখে জল জমে উঠল, ‘কিন্তু সেটা তো এখনও অনেক দূরের ভবিষ্যৎ। এতদিন তোমার থেকে আলাদা থেকে কি আমি টিকে থাকতে পারব?’
সে চোখের ওপর দুহাত চেপে ধরে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তারপর হাত নামিয়ে চোখ খুলে চাঁদের আলোটা যেন মুঠোয় ধরতে চাইল।
‘তোমাকে ছাড়া কয়েকটা মাসও যেন অসহ্য নির্যাতন।’
Kyle এখন প্রায় প্রাপ্তবয়স্ক, অর্থাৎ সে শিগগিরই তার দাদার রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার দাবি করতে পারবে। এতদিন আগে এ নিয়ে না ভাবার জন্য তার আফসোস হলো।
সে বিছানায় উঠে বসল, এলোমেলো চুলে আঙুল চালিয়ে ফাঁকা দেয়ালের দিকে তাকাল। সিদ্ধান্ত নিয়ে সে সঙ্গে সঙ্গে উঠে পড়ল, ডেস্কের বাতি জ্বালাল, আর কলম-কাগজ তুলে নিল।
লিখতে বসে সে ভীষণ নার্ভাস ছিল, কিন্তু এটা এমন একটা জরুরি বিষয়—যা আর দেরি করা যায় না।
--------------------
“হঠাৎ করে সবাই কেন তোমার জন্য বর খুঁজতে শুরু করেছে?”
Bill হঠাৎ বলে উঠল, Leyla-কে রাতের খাবারের টেবিল সাজাতে দেখে। দিনের কথা জিজ্ঞেস করায় সে ভাবেনি যে Leyla আজ মুদি দোকানের মালিকের ছেলের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল—যেটা প্রধান শিক্ষিকার আয়োজন।
Leyla বিভ্রান্ত হয়ে তার দিকে তাকাল, কপাল কুঁচকে মাথা একটু কাত করল।
“সবাই বলতে কী বোঝাচ্ছ?” সে কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করল। Bill মাথার পেছনে চুলকাতে চুলকাতে আগের ঘটনাটা মনে করল।
“ওই যে Mrs. Mona—রান্নাঘরের খুব কথা বলা মহিলা?”
Leyla মাথা নেড়ে বুঝিয়ে দিল সে জানে।
“সে নাকি কিছুক্ষণ আগে আমাকে বলল—সে Madam Norma-কে Hessen-এর কাছে তোমার জন্য উপযুক্ত বর খোঁজার কথা বলতে শুনেছে।”
Leyla আরও বেশি বিভ্রান্ত হয়ে পড়ল, একই সঙ্গে কৌতূহলও বাড়ল।
“Madam Norma কেন এমন করবে?”
“জানি না,” Bill কাঁধ ঝাঁকাল, “হয়তো সে তোমাকে পছন্দ করে ফেলেছে।”
কথাটা শুনে Leyla অবিশ্বাস্য ভঙ্গিতে হাসল।
“অসম্ভব।”
“তাহলে আর কোনো কারণ দেখি না,” Bill বলল, চেয়ারে বসতে বসতে।
“তাহলে তুমি কী মনে করো, কেন সে এমন করছে?”
এইবার সে আগ্রহভরে Leyla-র দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল।
“uncle, আমার সঙ্গে থাকতে থাকতে তুমি কি বিরক্ত হয়ে যাচ্ছ ?”
Leyla খুনসুটি করে বলল। Bill একটা ফোঁস করে হাসল, অভিযোগটা উড়িয়ে দিল।
“এ আবার কী ধরনের আজগুবি কথা?”
“যদি তাই না হয়,” সে আরও বলল, “তাহলে আমি যদি সারাজীবন তোমার সাথেই থাকি, তাতে তোমার আপত্তি থাকবে না, তাই তো?”
বলতে বলতে সে হাসল, আর তারা নিজেদের প্লেটে খাবার তুলে খেতে শুরু করল।
কথাবার্তা একটু স্তিমিত হয়ে এল। শুধু থালার ওপর চামচ-কাঁটার ঘষার শব্দ শোনা যাচ্ছিল। Bill চেয়ারে হেলান দিয়ে চিবোতে চিবোতে গভীর চিন্তায় ডুবে গেল, Leyla-র দিকে তাকিয়ে খাবার গিলে ফেলল।
“ধরো, যদি কখনো Madam Norma তোমাকে কোনো সুদর্শন তরুণের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়,”
নীরবতা ভেঙে Bill বলল,
“তুমি কি তাকে ফিরিয়ে দেবে?”
Leyla দুঃখমাখা এক হাসি হাসল। সে তার uncle-র চোখে নিজের জন্য থাকা দুশ্চিন্তাটা দেখতে পাচ্ছিল।
“আমি তো অবশ্যই এমন কাউকে পছন্দ করতাম, যে তোমার মতো, uncle,” সে স্বীকার করল,
“কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, তোমার মতো আর কেউ নেই।”
সে তাকে আশ্বস্ত করতে চেয়ে হাসল, কিন্তু Bill-এর বুকে শুধু ব্যথাই বাড়ল।
আবারও তার মনে হলো—এই সব কিছুর পেছনে Kyle-ই কারণ। তাদের ভাঙা বাগদানের পর Leyla এতটাই আঘাত পেয়েছে যে, সে আর বিয়ে চাইছেই না। তাই একের পর এক সম্বন্ধ সে ফিরিয়ে দিচ্ছে।
তবু Kyle চেষ্টা থামায়নি—সে এখনও Leyla-র সাথে যোগাযোগ করতে চায়। যত কষ্টই হোক, Bill-কে তার কাছে মিথ্যে বলতে হয়েছে। যখনই Kyle-এর কোনো চিঠি সে দেখেছে, Leyla-র চিঠির স্তূপ থেকে সেটা সরিয়ে ফেলেছে। সে জানত, একসময় তাদের সম্পর্ক ভালো ছিল—কিন্তু এখন সেটা আর মেরামতের মতো অবস্থায় নেই।
“যদি… মানে, Leyla…”
Bill কথা থামিয়ে দিল। Leyla হালকা একটা শব্দ করে বুঝিয়ে দিল—সে শুনছে।
‘Leyla-র যদি এখনও Kyle-এর জন্য অনুভূতি থাকে,’
Bill মনে মনে ভাবল,
‘তাহলে Kyle যদি Etman পরিবার থেকে পুরোপুরি সম্পর্ক ছিন্ন করে, সেটা কি কাজে দেবে?’
‘শুরুরটা কঠিন হবে ঠিকই, কিন্তু আমি ওদের সাহায্য করব—প্রয়োজনে রাজধানীতেও চলে যেতে রাজি আছি।’
সে ঠিক করে ফেলেছিল—তেমন হলে সে নিজেও তাদের সাথে চলে যাবে। Arvis ছেড়ে রাজধানীতে মালী হিসেবে কাজ পাওয়া কঠিন হবে, কিন্তু Leyla-র জন্য সে সব ছেড়ে দিতেও প্রস্তুত। আর যদি কোনোদিন Leyla তাদের সন্তানের জন্ম দেয়—তাহলে হয়তো সেই দুষ্ট Mrs. Etman-ও শেষমেশ তাদের সম্পর্ক মেনে নেবে।
“uncle?”
Leyla ডাকল, বেশ কিছুক্ষণ ধরে তার কোনো সাড়া না পেয়ে।
“হুঁ?”
Bill বিভ্রান্ত হয়ে তার দিকে তাকাল।
“তুমি কী বলছিলে?”
Leyla নরম স্বরে মনে করিয়ে দিল।
“আহ, ঠিকই তো—উম, মুরগি!”
Bill হঠাৎ বলে উঠল,
“হ্যাঁ, হ্যাঁ—মুরগি।”
সে টেবিলের ওপর আঙুল ঠুকতে ঠুকতে বলল। Leyla-র মুখে বিস্ময় ফুটে উঠল।
“মুরগি?”
“হ্যাঁ!”
Bill হাসিখুশি গলায় বলল,
“আগামীকাল কি আমরা মুরগি ধরতে যাব?”
তারপর Leyla-র চোখে দুশ্চিন্তা দেখে যোগ করল,
“একটু মন অন্যদিকে চলে গিয়েছিল। বয়সের দোষ বুঝি। আমি ঠিক আছি, Leyla।”
সে লাজুক হাসি হাসল।
পরের বার কথা বলার আগে সে দু’বার ভাববে—এই সিদ্ধান্ত নিল। সৌভাগ্যক্রমে Leyla এখনো তাকে সন্দেহ করেনি। সে শুধু হাসল আর মাথা নাড়ল।
“ঠিক আছে uncle, কাল মুরগি ধরাই যাক।”
সে সহজেই রাজি হলো, আর তারা দুজনেই খাবার শেষ করতে লাগল।
-----------------
পাতলা আঙুলে গ্রামোফোনের ভলিউমের নকটা ঘোরানো হলো—শব্দ বাড়ল। মানুষটা ঘুরে তার উইং চেয়ারের দিকে এগিয়ে গেল। আগুনের আলো তার মুখে পড়ে তাকে চিনিয়ে দিল—Matthias।
অন্ধকার ঘরে সে চুপচাপ বসে ছিল, আগুনের দিকে তাকিয়ে। এই আগুনটাই ছিল তার একমাত্র আলো। হঠাৎ ডানার ঝাপটানি—খাঁচাটা নড়ে উঠল, আর একটা পাখি উড়ে এসে তার আঙুলে বসল।
Matthias ধীরে ধীরে তাকাল, আঙুল নাড়িয়ে সেই সুরটাই শিস দিয়ে তুলল, যেটা বাজছিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার পাখিটা সেই সুরে চিঁ চিঁ করে গাইতে শুরু করল। Matthias নিজের ঠোঁটে একটা আত্মতৃপ্ত হাসি আটকে রাখতে পারল না।
তার পাখিটা খুব বুদ্ধিমান। কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই, নিঃশব্দে তাকে অনুসরণ করত, সুরে সুরে গাইত। তার সুন্দর ক্যানারির জন্যই সে এত সঙ্গীত উপভোগ করত।
সে সাধারণত ওয়াল্টজ চালাত, মাঝে মাঝে অর্কেস্ট্রার সিম্ফনি বা ব্যালে ব্যাগাটেল। যতদূর সে বুঝতে পেরেছে—ওয়াল্টজ বাজলেই তার ক্যানারি সবচেয়ে সুন্দর করে গান গায়।
শেষমেশ সঙ্গীত থেমে গেল। নরম সুর মিলিয়ে গেল, ঘরজুড়ে রইল শুধু কাঠ পোড়ার খটখট শব্দ। Matthias আঙুলের প্যাড দিয়ে পাখিটাকে আদর করল—নীরবে তার স্বাভাবিক প্রতিভার প্রশংসা জানাল।
মালিকের ছোঁয়ায় অভ্যস্ত ক্যানারিটা তার আঙুলের দিকে গা ঘেঁষে এল, ঠোঁট দিয়ে হালকা ঠুকরো খেলাল—যেন চুমু খাচ্ছে। Matthias মুচকি হাসল, খাঁচার দিকে এগিয়ে গেল।
খাঁচার দরজার সামনে হাত নামিয়ে ধরতেই পাখিটা উড়ে ভেতরে ঢুকে নরম, আরামদায়ক বাসায় বসে পড়ল। Matthias সোনালি খাঁচাটা বন্ধ করল, তারপর গ্রামোফোনের দিকে ঘুরে পরের গানের শুরুটাই থামিয়ে দিল।
সে গভীর শ্বাস নিল, ক্লান্ত দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বিছানার ওপর ঢলে পড়ল, ছাদের দিকে তাকিয়ে। তারপর মাথা ঘুরিয়ে পাখিটার দিকে তাকাল—হালকা হাসি ফুটে উঠল, যদিও তার মনে অন্য একজনের ছবিই ভেসে উঠছিল…
“শুভরাত্রি।”
সে বলল, ক্যানারিটাকে ঘুমোতে দেখে।
পাখিটা ঘুমিয়ে পড়তেই Matthias-এর ঠোঁটের হাসিটা মিলিয়ে গেল—সে চুপচাপ তাকিয়ে রইল।
চলবে.......