ফন্ট সাইজ:
থিম:
Cry EvennBetter IfbYou Beg

১১৪তম পর্ব

লেখক: (সিজন ১)

#Cry_Even_Better_If_You_Beg

#Translator_by_গল্প

#পর্বঃ১১৪

⚠️ সতর্কবার্তাঃ এখানে অনেক ডার্ক সিন রয়েছে, নিজ দায়িত্বে পড়ুন। যারা অতিরিক্ত রোমান্টিকতা পছন্দ করেন না তারা চাইলে এটি স্কিপ করতে পারেন।

Chapter 114

“Dr. Etman কি Matthias-কে দেখতে আসছেন?”

ডাক্তারের যাতায়াতের খবর শুনে প্রশ্ন করলেন Elysee von Herhardt।

“জি, ম্যাডাম… আজই নাকি সেখানে গিয়েছিলেন…”

তীক্ষ্ণ স্বরের ভয়ে কেঁপে উঠে দাসীটি প্রায় ফিসফিস করে কথাগুলো বলল, তার শরীরী ভঙ্গিতেই স্পষ্ট আতঙ্ক।

এই কথা শুনে Elysee কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।

দু’জন Duchess-এর পাশে দাঁড়ানো মধ্যবয়স্ক দাসীটি মাথা নাড়তেই, তরুণ দাসীটি সেটাকেই ইঙ্গিত ভেবে দ্রুত ঘর থেকে খালি থালাবাসন নিয়ে বেরিয়ে গেল। সে চলে যাওয়ার পর নিস্তব্ধ ড্রয়িং-রুমে কেবল দু’টি সাইড ডিশ পড়ে রইল।

“আমি কী করব?” উদ্বিগ্ন চোখে শাশুড়ির দিকে তাকিয়ে বললেন Elysee von Herhardt।

“ও তো এমন একটা ছেলে যে ছোটবেলা থেকে কখনো অসুস্থই হয়নি…”

অন্যদিকে, প্রাক্তন Duchess-এর মুখেও গভীর দুশ্চিন্তার ছাপ স্পষ্ট।

Bill Remmer এবং Layla-র হঠাৎ প্রস্থান Arvis-এর সবাইকে যেমন হতভম্ব করে দিয়েছিল, তেমনি তাঁদের কাছেও ব্যাপারটি ছিল ভীষণ উদ্বেগের। দু’জনের সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও, এর আগে Matthias-এর সঙ্গে Layla-র মেলামেশায় এমন কোনো ইঙ্গিতই ছিল না যে তারা এভাবে হঠাৎ চলে যাবে।

সৌভাগ্যবশত, Matthias তাদের নিখোঁজ হওয়া নিয়ে বিশেষ বিচলিত—এমনটা মনে হয়নি।

ঠিকই তো! Elysee নিজেকেই বোঝালেন—অকারণে দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই। নিশ্চয়ই Matthias বিয়ের দিন যত কাছে আসছে, তা নিয়েই বেশি চিন্তিত।

তার উপর সাম্প্রতিক সময়ে সে দায়িত্বের চাপে ভীষণ ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। আসলেই তাকে আগের চেয়ে অনেকটাই শুকনো লাগছে। তবে এমন চাপ তো স্বাভাবিকই—বিশেষ করে যদি সে হানিমুনে যাওয়ার আগে নিজের সব ব্যবসায়িক বিষয় গুছিয়ে নিতে চায়।

তবুও Elysee দুশ্চিন্তা চেপে রাখতে পারলেন না।

“আমি ভয় পাচ্ছি,” তিনি উচ্চস্বরে বললেন, “ওই মেয়েটার জন্যই কি ও অসুস্থ হয়ে পড়ছে না?”

বলেই দ্রুত বয়স্ক Duchess-এর দিকে ফিরলেন।

তার উত্তরে বাড়ির বৃদ্ধা কর্ত্রী কঠোর দৃষ্টিতে তাকালেন।

“থামো! এমন ভিত্তিহীন ধারণা আমরা মানতে পারি না।”

ঠান্ডা গলায় শাশুড়ি তাঁর কথার ইতি টানলেন।

“ও কেবল একটু অতিরিক্ত কাজ করছে আর মানসিক চাপে আছে। বিশ্রাম নিলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।”

“হয়তো আপনি ঠিকই বলছেন…” Elysee ধীরে বললেন।

“অবশ্যই। পরে Dr. Etman-এর সঙ্গে কথা বললেই Matthias-এর অবস্থা পরিষ্কার জানা যাবে। এখন এসব নিয়ে দুশ্চিন্তা কোরো না।”

Norma দ্রুত তাঁকে আশ্বস্ত করলেন।

Elysee von Herhardt-এর মুখের অভিব্যক্তি গম্ভীর হয়ে উঠল। শাশুড়ির দৃঢ় সুর যেন তার মুখেও ছায়া ফেলল। শেষমেশ তাঁর কথায় ভরসা করে Elysee দৃঢ়ভাবে মাথা নাড়লেন।

‘Layla-কে নিয়ে কি ওর হৃদয়ের ভালোবাসা সত্যিই এত গভীর?’

উদ্বিগ্ন মনে ভাবলেন Elysee।

এটা অসম্ভব নয়। তরুণরা তো খুব সহজেই প্রেমে পড়ে, আর সেই প্রেম হয় অসম্ভব গভীর, অথচ অপরিণত।

নিষ্পাপ আর অপরিপক্ব অবস্থায় মানুষ খুব সহজেই আবেগে ডুবে যায়।

তবু—এটা তো Matthias। অন্য কেউ নয়।

তার ছেলে কখনোই সাধারণ ছিল না।

তার মধ্যে বরাবরই ছিল এক ধরনের অভিজাত উদাসীনতা, রাজকীয় দূরত্ব—যা সবাইকে মনে করাত যে সে এক ঠান্ডা মাথার তরুণ Lord। দীর্ঘদিন Elysee নিজেও তাঁর ছেলেকে ঠিক এভাবেই দেখেছেন।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে Matthias-এর আচরণ কিছুটা অস্বাভাবিক লাগছে। একজন মা হিসেবে এই পরিবর্তন তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলছে—মনে হচ্ছে, হয়তো সত্যিই কিছু একটা ঘটেছে।

Herhardt বংশের আগের Dukes-রা কখনোই বন্ধুত্বপূর্ণ বা সামাজিক মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন না। Matthias-ও আলাদা নয়।

তবু ইদানীং তার স্বভাব যেন তাদের থেকে একটু ভিন্ন মনে হচ্ছে।

তবে সে যদি আগের Lords-দের থেকে সামান্য আলাদা হয়েও থাকে, তাতে আপত্তির কিছু নেই। সে একজন যোগ্য Duke।

সবশেষে, সে তো Herhardt পরিবারের গর্ব।

এর চেয়ে বড় প্রশংসা আর কী হতে পারে?

এই বিশ্বাসেই Elysee সবসময় ভেবেছেন—তিনি জন্ম দিয়েছেন পরিবারের জীবন্ত গৌরব ও সম্মানকে।

ছোটবেলা থেকেই ছেলের কৃতিত্ব তাঁকে এতটাই নিখুঁত মনে করিয়েছিল যে তাদের মাঝে এক অদৃশ্য দূরত্ব তৈরি হয়েছিল—যে দূরত্ব ঘোচাতে তিনি নিজেই ভয় পেতেন।

তিনি তাকে জন্ম দিয়েছেন, সে তাঁর গর্ভের সন্তান—তবু সে যেন একেবারেই পার্থিব নয়।

সে Matthias।

কারও ছেলে নয়—না তাঁর, না তাঁর স্বামীর।

সে শুধু Matthias।

এমন একজন মানুষ কি না-কি কোনো তুচ্ছ অনাথের জন্য কষ্ট পাবে?

কী হাস্যকর ধারণা! কী ভয়ানক ধর্মদ্রোহিতা!

তিনি মাথা ঝাঁকালেন, এসব ভাবনা ঝেড়ে ফেললেন, আর নিজেকে বোঝালেন—অযথা ভয় পাচ্ছেন তিনি।

সত্যিই, তাঁকে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করা বন্ধ করতে

Matthias ধীরে চোখ খুলল।

ঝাপসা দৃষ্টি পরিষ্কার হতেই সে বুঝতে পারল—সে ঠান্ডা এক গদির ওপর চিৎ হয়ে শুয়ে আছে। কিছুক্ষণ সে নড়াচড়া না করে শূন্যে তাকিয়ে রইল।

সময় গড়াতেই সে নিজের ঘরের অন্ধকার চিনতে পারল—খোলা জানালা দিয়ে ঢুকে পড়া গাঢ় ছায়াগুলো। তার মনে পড়ল, সে ভোরে ঘুমিয়েছিল। তাহলে সকাল নিশ্চয়ই পেরিয়ে গেছে।

ঘুমের ওষুধ খাওয়া শুরু করার পর থেকে সময়ের ধারণাই যেন হারিয়ে ফেলেছে সে। দিন আর রাত একাকার হয়ে গেছে।

সে যেন এক অদ্ভুত শূন্যতায় আটকে আছে—যেখানে সেকেন্ড, মিনিট, ঘণ্টা—কোনোটারই আর কোনো অর্থ নেই।

অফুরন্ত ক্লান্তি নিয়েও সে ওষুধ ছাড়া ঘুমোতে পারে না। দিন হোক বা রাত—তার একটাই চাওয়া, ঘুম।

আর তারপর সে অচেতনভাবেই সেই ওষুধগুলো গিলে ফেলে।

হয়তো কোনো এক সময়ে এটা তার স্বভাবেই পরিণত হয়েছে।

হয়তো ঘুমই হয়ে উঠেছে তার একমাত্র পালানোর পথ।

অন্তত ওষুধের ঘোরে, মাতাল অবস্থায়, Layla-র স্মৃতি আর তার শরীরের উষ্ণতা তাকে তাড়া করে না।

কিন্তু চোখ খুললেই সে আবার সেই স্মৃতির চক্রে আটকে যায়।

তার কিছুই করতে ইচ্ছে করে না। শক্তিও নেই।

শুধু ঘুমাতে ইচ্ছে করে।

তার উপর বাড়ির ডাক্তারটার এই অবিরাম যাতায়াত ভীষণ বিরক্তিকর। সে তো ডাকেনি তাকে!

তবু Dr. Etman অনধিকার চর্চা করে তার ঘরে ঢুকছে-বেরোচ্ছে।

ধৈর্য ফুরিয়ে আসছে তার।

গতকাল তো ডাক্তার সাহেবের এমন ধৃষ্টতাই হলো যে বলেই ফেলল—আর কোনো ঘুমের ওষুধ সে লিখে দেবে না!

কী হাস্যকর!

তবু Matthias তাকে কোনো উত্তর দেয়নি। শুধু হেসেছিল।

ভেতরে ভেতরে সে জানত—Dr. Etman এমন কথা হালকাভাবে বলেন না।

সে সত্যিই এমন ব্যবস্থা নিতে পারে।

যাই হোক, অন্য কোনো ডাক্তারকে টাকা দিয়ে প্রেসক্রিপশন জোগাড় করা তো অসম্ভব নয়।

অবশেষে Matthias বিছানা ছেড়ে উঠল। পা দুটো যেন টেনে টেনে নামাল। গোসল করে এক কাপ পানি খেয়ে সে ঘড়ির দিকে তাকাল।

দুপুর পেরিয়ে গেছে।

আজ তার কী সূচি ছিল?

মনে করার চেষ্টা করল, কিন্তু মাথা ফাঁকা।

শেষমেশ সে পোশাক পরতে শুরু করল।

শেষ বোতাম আটকাতে আটকাতে সে ঘণ্টা টানল। ততক্ষণে Hessen দরজায় কড়া নাড়ল।

“ভেতরে এসো।”

“আমি আপনার খাবারের ব্যবস্থা করাচ্ছি, My Lord,” পোশাক পরা অবস্থায় তাকে দেখে দ্রুত বলল Hessen

“না,” Matthias সঙ্গে সঙ্গে বলল,

“শুধু কফি।”

খাওয়ার কোনো ইচ্ছেই নেই তার। এই বাড়ির সবকিছুই বিস্বাদ লাগে।

“My Lord—” Hessen আপত্তি তুলতেই—

“আজ বিকেলের সূচি কী?”

কথা কেটে দিয়ে Matthias জানালার কাছে গিয়ে পর্দা টেনে দিল।

বাইরের আকাশ ভারী, ধূসর। ঘন মেঘ সূর্যের আলো ঢুকতে দিচ্ছে না।

তবু স্যাঁতসেঁতে বাতাসে ফুলের মিষ্টি গন্ধ ভেসে এলো।

অদ্ভুতভাবে, বসন্ত যেন তার ঘরে ঢুকে পড়েছে।

“আজ পুরো বিকেলটাই ফাঁকা, My Lord। আপনি বিশ্রাম নিতে পারেন।”

Hessen-এর কথা তার কানে ভাসল।

আহ্ হ্যাঁ। সে এখনো এখানেই আছে।

“বুঝলাম,” বাইরে তাকিয়েই নরম স্বরে বলল Matthias।

“আপনাকে খেতেই হবে, master…”

Hessen উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বলল,

“আমি কি আবার Dr. Etman-কে ডাকব?”

এই কথায় Matthias-এর ভেতরের বিরক্তি আরও বেড়ে উঠল।

তার বাটলার আগে কখনো এতটা জেদি ছিল না! অথচ আজ Hessen যেন আগের যেকোনো দিনের তুলনায় অনেক বেশি অনড় হয়ে উঠেছে!

এখনো ভেজা চুল পেছনে ঝেড়ে নিয়ে Matthias তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে উঠে দাঁড়াল। অনুভূতি প্রকাশে অভ্যস্ত নন এমন সেই বৃদ্ধ বাটলারও এবার উদ্বিগ্ন চোখে তার দিকে তাকিয়ে আছে। Matthias বুঝতে পারছিল না—সে তাকে এমন দৃষ্টিতে দেখছে কেন। উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণই তো নেই।

কিন্তু যাদের কখনো বোঝার ক্ষমতাই নেই, তাদের কাছে নিজের কথা ব্যাখ্যা করা ভীষণ ক্লান্তিকর।

সে শুধু আবার ঘুমোতে চায়। চায়, ঘুম ভাঙার পর যেন এই সমস্ত জট পাকানো চিন্তা—এই অদ্ভুত অনুভূতিগুলো—ধোঁয়ার মতো মিলিয়ে যায়। এই মুহূর্তে তার একেবারেই দরকার নেই—খাবার, ডাক্তার, আর…

সবকিছুই ভীষণ বিরক্তিকর!

নীরবে Hessen বানিয়ে দেওয়া কফি থেকে এক চুমুক নিয়ে Matthias ধীর পায়ে খাঁচার দিকে এগিয়ে গেল। সাম্প্রতিক সময়ে তার ক্যানারি—যে পাখিটা একসময় সারাক্ষণ ঘরের এদিক-ওদিক উড়ে বেড়াত—এখন নিজেকে গোল করে গুটিয়ে রাখে। যতবারই Matthias তাকে দেখতে যায়, সে সবসময় বাসার ভেতর লুকিয়ে থাকে। সে কি তার মতোই ঘুম আর বিশ্রামের জন্য আকুল হয়ে আছে?

Matthias হাত বাড়িয়ে অসহায় দেখানো পাখিটাকে খাঁচা থেকে তুলে নিল। আচরণের এই পরিবর্তনের কারণটা বোঝার জন্য সে পাখিটাকে নিজের মুখের কাছে আনল। ভালো করে দেখে তার বুঝতে দেরি হলো না—ক্যানারিটা অসুস্থ।

যে সুন্দর পালকগুলো একসময় ঝকঝকে ছিল, রোদে ঝিলমিল করত—সেগুলো এখন এলোমেলো, রুক্ষ।

পাখিটা নিষ্প্রভ, ফ্যাকাসে হলুদ হয়ে গেছে। হঠাৎই একটুকরো স্মৃতি মাথায় ফিরে এলো—এই প্রথম, Layla-কে ছাড়াই। তার পাখিটা প্রতিদিন কয়েকবার করে গোসল করত, তারপর শরীর ঝাঁকিয়ে অতিরিক্ত পানি ঝরাত—এই দৃশ্যটা।

ঠিক তখনই, তার হাতে নিশ্চুপ হয়ে থাকা ক্যানারিটা নড়ে উঠল। নিজের নরম ছোট্ট শরীর আর ঠোঁট দিয়ে Matthias-এর তালুতে গা ঘেঁষল। ঠিক যেন সে উষ্ণতা চাইছে। ঠিক যেন ঠান্ডার সঙ্গে লড়াই করার জন্য Matthias-এর শরীরের তাপের ওপর ভরসা করছে।

Matthias অনেকক্ষণ সেভাবেই দাঁড়িয়ে রইল—পাখিটাকে আলতো করে জড়িয়ে ধরে। আর যত বেশি সময় সে পাখিটাকে অনুভব করল, ততই তার মন আবার ফিরে গেল এক সোনালি চুলের নারীর স্মৃতিতে—যে তাকে বারবার, নিরন্তর যন্ত্রণায় ফেলছে… বারবার… বারবার…

“আমাকে ভালোবাসো।” সেদিন—যেদিন সে ডাইনির মতো হাসি দিয়ে তার ওপর অভিশাপ ফেলেছিল।

“আমি চাই তুমি আমাকে ভালোবাসো।”

বিকেলের শেষ আলোয় বলা সেই কথাগুলো—যেখানে প্রতিটি মধুর শব্দ আসলে তার হৃদয় খুঁড়ে নিচ্ছিল।

“আমাকে তোমার ভালোবাসা দাও… চিরকালের জন্য…”

দিনের প্রতিটি মুহূর্তে, প্রতিটি সেকেন্ডে—Layla।

তার ভয়ংকরভাবে সুন্দর Layla, যে তার জাগ্রত প্রতিটি মুহূর্ত ভরে রাখে। শেষমেশ সে খুব সাবধানে পাখিটাকে তার বাসায় ফিরিয়ে দিল।

একধরনের তাড়না আর দায়িত্ববোধ নিয়ে সে Hessen এর দিকে ঘুরল—যে ধৈর্য ধরে তার নির্দেশের অপেক্ষায় ছিল। Matthias এক মুহূর্তও নষ্ট করল না।

“আমার জন্য চিড়িয়াখানার রক্ষককে নিয়ে আসো।”

সে কঠোর স্বরে বলল,

“ওকে দিয়ে আমার ক্যানারিটা দেখাও।”

বলে আবার খাঁচার দিকে তাকাল।

Hessen বিভ্রান্ত হয়ে চোখ পিটপিট করল।

“এখনই!”

Matthias পুনরায় বলতেই Hessen মাথা নত করল।

“এই মুহূর্তেই, My Lord।”

এরপর আর কোনো কথা না বলে Matthias ঘুরে দাঁড়াল।

ঘর ছেড়ে বেরোতে যাবার সময় বাটলার উৎকণ্ঠিত পায়ে তার পেছনে এল।

“My Lord, আপনি যদি বাইরে যান, Evers—”

“আমি হাঁটতে যাচ্ছি। ওর দরকার নেই।”

সে কড়া স্বরে বলে উঠল।

হঠাৎ করেই সে করিডোরের জানালার সামনে থেমে গেল। এক ক্ষণিকের জন্য মনে হলো—সে যেন কিছু নিয়ে দ্বিধায় আছে। Hessen কিছুটা পেছনে সরে গিয়ে যথাযথ দূরত্ব বজায় রাখতেই, Matthias আবার বড় বড় পায়ে হাঁটা শুরু করল। অচিরেই তার ছায়া করিডোর ছেড়ে মিলিয়ে গেল।

প্রাসাদ ছেড়ে বাগানে ঢোকার সময় আকাশে কালো মেঘ জমে উঠেছে। বৃষ্টির সম্ভাবনা স্পষ্ট। তবু Matthias আবহাওয়ার কোনো তোয়াক্কা করল না। সে এগিয়ে চলল—থামতে নারাজ। সত্যি বলতে, সে নিজেই জানত না কোথায় যাচ্ছে। তবু কোথায় পৌঁছাবে—সেটাও তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল না।

কয়েকদিন ধরে তার মাথার ভেতর শুধু Layla-র হাসি, তার লজ্জিত আর মিষ্টি অভিব্যক্তি ঘুরপাক খাচ্ছিল।

আর এখন—সে ভাবতেই তার ভেতরে তীব্র রাগ উথলে উঠল, সে কতটা অন্ধ ছিল সেটা ভেবে।

এখন মনে করে সে নিজেই অবাক হয়—Layla-র মতো একজন খারাপ অভিনেত্রী কীভাবে এত নিখুঁতভাবে তাকে ঠকাতে পারল! হয়তো সে সত্যিই কামনায় অন্ধ হয়ে গিয়েছিল—তাই স্পষ্ট অভিনয়ও তার চোখে পড়েনি। নিজেকে ঘৃণা করার অনুভূতিটা যেন তার হৃদয়ের আগুনে তেল ঢেলে দিল—আর সে আগুন তাকে পুরোপুরি গ্রাস করল।

সে জানত—রাগ করার তার সম্পূর্ণ অধিকার আছে।

সে রেগেও ছিল। তবু সেই রাগ যথেষ্ট মনে হলো না।

সে চেয়েছিল আরও রাগ করতে। তার বদলে তার হৃদয়ে শুধু অস্বস্তিকর এক স্থবিরতা, এক অবশ শীতলতা।

‘

এইটুকুই কি? এখানেই শেষ? সব শেষ হয়ে গেল?’

ভাবতে ভাবতেই খেয়াল করল—তার পা তাকে নদীর ধারে এনে ফেলেছে। নদীর জলে আকাশের কালো প্রতিফলন—আগের চেয়েও ঠান্ডা, আরও ভারী।

তবু সে নদীর ধারে ধীরে হাঁটতে থাকল—স্রোতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে।

‘সব যদি শেষই হয়ে যায়, তাহলে তাকে খুঁজে বের করার কোনো দরকার নেই, তাই না?’ আবারও সে নিজেকেই প্রশ্ন করল। হয়তো তার চলে যাওয়াটাই ভালো হয়েছে। তার পাশে গেঁথে থাকা কাঁটাটা অবশেষে সরে গেছে। এক ধরনের স্পষ্টতা তাকে আচ্ছন্ন করল। মনে হলো—Layla চলে যাওয়ার পর যে কুয়াশা জমেছিল, তা অবশেষে কেটে গেছে।

তার উচিত আবার Duke Herhardt হিসেবে নিজের জীবনে ফিরে যাওয়া—অটল, অচঞ্চল।

ঠিক তাই।

এটা এতটাই সহজ।

ঠিক তখনই, নদীর ধারে একটি পাখির দৃশ্য তার চোখে পড়ল। ডানা ঝাপটাতে ঝাপটাতে সেটা তার কাছে চলে এল—যতটা কাছে এলে সে চিনতে পারে।

Matthias হেসে ফেলল। দৃশ্যটা অদ্ভুতভাবে হাস্যকর।

পাখিটার পায়ে বাঁধা ছিল পরিচিত রঙের সুতো—Layla Llewellyn যে ফিতা Arvis-এ জন্মানো ও বড় হওয়া পরিযায়ী পাখিদের বেঁধে দিত। পাখিটা ফিরে এসেছে। এই উপলব্ধি আর Layla যে পাখিটার ফেরার অপেক্ষায় ছিল সেটা দেখে—তার হৃদস্পন্দন হঠাৎ বেড়ে গেল। এটা কী?

হৃদয় যেন জোরে জোরে ঢাক বাজাতে লাগল—পুরো শরীরে তার প্রতিধ্বনি। সে যেন কয়েক সেকেন্ড আগেই নেওয়া নিজের সিদ্ধান্তটাই ভুলে গেল।

তার মাথায় একটাই চিন্তা—

‘তাহলে Layla, তোমাকেও আমার কাছে ফিরে আসতেই হবে।’ এটা এতটাই স্বাভাবিক মনে হলো।

মনে হলো—এই আকাঙ্ক্ষা শিগগিরই বাস্তব হয়ে উঠবে।

যে ঠোঁটগুলো এতদিন হাসার কোনো কারণই পায়নি, সেগুলো কাঁপতে কাঁপতে উপরে উঠল। সে নিজেকে থামাতে পারল না—যদিও জানত, এটা অসুস্থ, বিভ্রান্ত মনের তৈরি এক বিভ্রম। সে যেন সম্মোহিত হয়ে পড়েছে। আর কখন যে সে দৌড়াতে শুরু করেছে, সে নিজেও টের পেল না। সবুজ জঙ্গলের ভেতর দিয়ে ছুটে চলল সে—যেখানে বসন্তের ছোট ছোট চিহ্ন ফুটে উঠছে। দৃশ্য উপভোগ করার সময় নেই।

সে ছুটল—অবশেষে পৌঁছাল মালীঘরের কেবিনে।

দড়িতে ঝোলানো সাদা চাদরগুলো ঠান্ডা বাতাসে তীব্রভাবে দুলছে। তবু তার দৃষ্টি আটকে রইল জানালা দিয়ে বেরিয়ে আসা উষ্ণ আলোয়। আর খোলা দরজার ওপারে—একজন এপ্রন পরা মানুষ…

Layla দৌড়ে বেরিয়ে এলো। তার বোনা চুল পেছনে দুলছে।

‘দেখলে? তুমি ফিরে এসেছ।’

কিন্তু তখনই বৃষ্টি নামল। Matthias হেসে ফেলতে চাইল—এক উন্মাদের মতো। তার জানা উচিত ছিল—এটাই হবে। গত কয়েক সপ্তাহ এতটাই নীরব, এতটাই অর্থহীন ছিল। এই উপলব্ধির মুহূর্তেই তার দেখা সব দৃশ্য এক নিমিষে মিলিয়ে গেল।

পরের সেকেন্ডেই সে জোরে নিশ্বাস ছেড়ে হাসল।

ঠিক তখনই সে বুঝল—সে দাঁড়িয়ে আছে এক পরিত্যক্ত কেবিনের উঠোনে, যেখানে অবহেলায় আগাছা গজিয়েছে। বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে সে চারপাশটা শান্তভাবে দেখল। Layla তার কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর সে আর এই কেবিনে আসেনি।

আসার ইচ্ছেও ছিল না। সে চাইলে নিজেকে বোঝাতে পারত—এসব কিছুই ঘটেনি, সবটাই মিথ্যা।

কিন্তু কোনো সুস্থ মানুষের মতো ঘুরে চলে যাওয়ার বদলে—যেমনটা সে মিনিট কয়েক আগেই নিজেকে প্রতিজ্ঞা করেছিল—তার পা নিজে থেকেই কেবিনের দিকে এগিয়ে গেল। কেন সে এটা করছে—সে জানত না। কিন্তু এর স্বাদটা ঠিক তার মতোই—যেমন সে ছাড়তে চায় না।

ছেড়ে দেওয়া আর আঁকড়ে ধরার দ্বন্দ্বে সে টানাটানি অনুভব করল। শেষমেশ সে জানত—সে শুধু হারছেই।

এটা এক অর্থহীন খেলা। পুরনো কাঠের সিঁড়িতে পা রাখতেই তার ওজনের নিচে কড়কড় শব্দ হলো।

সে হাত বাড়িয়ে ঠান্ডা দরজার হাতল ধরল।

ভেজা হাতে হাতল ঘুরাতেই, কোনো বাধা ছাড়াই তালাবদ্ধ দরজাটা খুলে গেল—ভেতরের গাঢ় শূন্যতা প্রকাশ পেল।

তার শ্বাস কাঁপতে লাগল। চোখ বন্ধ করে সে হৃদয়ের জোরে ধুকপুকানি শুনল। শেষমেশ নিজেকে সামলে নিয়ে Matthias আবার চোখ খুলল…

আর দোরগোড়া পেরিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ল।

চলবে.....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১১৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন