ফন্ট সাইজ:
থিম:
Cry EvennBetter IfbYou Beg

১১৫তম পর্ব

লেখক: (সিজন ১)

#Cry_Even_Better_If_You_Beg

#Translator_by_গল্প

#পর্বঃ১১৫

⚠️ সতর্কবার্তাঃ এখানে অনেক ডার্ক সিন রয়েছে, নিজ দায়িত্বে পড়ুন। যারা অতিরিক্ত রোমান্টিকতা পছন্দ করেন না তারা চাইলে এটি স্কিপ করতে পারেন।

Chapter 115

কিছুই বদলায়নি। যতদূর সে বুঝতে পারল, কেবিনের প্রতিটি পৃষ্ঠের ওপর জমে ওঠা ধুলো ছাড়া সবকিছুই আগের মতোই রয়ে গেছে।

সে স্পষ্টই বুঝতে পারছিল, তারা কী ভীষণ তাড়াহুড়োর মধ্যে এই জায়গা ছেড়ে চলে গেছে—রাতের আঁধারে, প্রয়োজনীয় ন্যূনতম জিনিসপত্র ছাড়া আর কিছু না নিয়ে। Matthias-এর বুকের ভেতর থেকে একটা নিঃপ্রাণ হাসি উঠে এল, সে যখন ঘরটা পর্যবেক্ষণ করতে থাকল।

কিন্তু হাসির সঙ্গে সঙ্গে ভেতরের হতাশাটাও ক্রমশ ফুঁসে উঠছিল। সে যত বেশি তাকাচ্ছিল, ততই তার ভেতরটা অশান্ত হয়ে উঠছিল। তারা কীভাবে এত হঠাৎ করে এই জায়গাটা ছেড়ে যেতে পারে? সে খুব ভালো করেই জানত, বৃদ্ধ মালী আর তার Layla-এর কাছে এই জায়গাটা কতটা মূল্যবান ছিল।

কেবিনের চারপাশে অন্ধকার নীরবতার মধ্যে বৃষ্টির ফোঁটার আঘাতের শব্দ প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল। বৃষ্টির তালে তালে তার শ্বাস-প্রশ্বাসও এক অদ্ভুত ছন্দে বাঁধা পড়ল। Matthias ঘুরে দাঁড়িয়ে করিডোর ধরে হাঁটতে শুরু করল। অল্প সময়ের মধ্যেই সে এসে দাঁড়াল Layla-র ঘরের দরজার সামনে।

একবার সে এখানে এসেছিল—তার শরীরের প্রতিটি অনুভূতি নিজের শরীরে ধারণ করে, তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতিতে ডুবে, আনন্দে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিল…

কিন্তু এখন ঘরটা পরিত্যক্ত।

তবু তাতে কী আসে যায়? সে আবার Layla-কে এখানে দেখবে, আর নতুন স্মৃতি তৈরি করবে।

Matthias এসে তার বিছানার ধারে বসে পড়ল। সে দ্রুত পাশের টেবিলের ল্যাম্পটা জ্বালাল, আর ঘরটার চারপাশে তাকাল।

ঘরটা যেন চিৎকার করে বলে দিচ্ছিল—Layla। এক মুহূর্তের জন্য তার মনে হল, শুধু তার নামটা ডাকলেই কি সে আবার তাকে এখানে টেনে আনতে পারবে? ঘরের প্রতিটি কোণায়, প্রতিটি ফাঁকে ফাঁকে সে Layla-র ছায়া দেখতে পাচ্ছিল।

ইদানীং সে প্রায়ই স্বপ্ন দেখত—Layla তার সামনে দিয়ে দৌড়ে যাচ্ছে, তারপর হঠাৎ থেমে পেছনে তাকাচ্ছে। ঠিক যেন সে অপেক্ষা করছে, Matthias তাকে খুঁজে এসে ধরবে বলে। তার চোখে একটা ঝিলিক থাকত, যেন সে এখনই হেসে উঠবে…

তারপর সে আবার দৌড়াত, আবার ফিরে তাকাত।

প্রায়ই Matthias নিজেকে তার ঠোঁটের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখত—মনে হত, যেন সেগুলো কিছু ফিসফিস করে বলছে…

“Please love me.”

তার মধুর কণ্ঠস্বর Matthias-এর মনের গভীরে প্রতিধ্বনিত হতে লাগল। সে সোজা হয়ে বসল। তার শেষ কথাগুলো বারবার তার মাথার ভেতর ঘুরছিল। তার বুকের ভেতর একটা সূক্ষ্ম উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়ল—Layla তার জন্য অপেক্ষা করছে, এই ভাবনাটাই যেন তাকে টেনে আনছিল।

তার ঠোঁট শক্ত হয়ে সরু এক রেখায় পরিণত হল। তার চোখ ঘরের চারদিকে থাকলেও, আসলে সে আর ভাঙাচোরা কেবিনটা দেখছিল না।

হঠাৎ তার শ্বাস ভারী হয়ে উঠল। বুকের উষ্ণতা ধীরে ধীরে বরফশীতল এক আঁকড়ে ধরা অনুভূতিতে বদলে গেল। তার মাথার ভেতর Layla-র মিষ্টি কথাগুলো ঘুরতে থাকলেও, তার অনুপস্থিতি চিৎকার করে বলে দিচ্ছিল—সবই মিথ্যে ছিল!

সে শক্ত করে মুঠো বাঁধল। আঙুলগুলো সাদা হয়ে উঠল, কাঁপুনি থামাতে গিয়ে সে নিজেকে গুটিয়ে ফেলল। চারপাশে উড়তে থাকা ধুলো উপেক্ষা করে সে জীর্ণ গদির ওপর ঘুষি মারতে লাগল।

হঠাৎ সে উঠে দাঁড়িয়ে ঘরে পায়চারি করতে শুরু করল, নিজের শ্বাস নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু বুকের ভেতরের উষ্ণতা আবার ফিরে এল—এবার আগের চেয়েও তীব্র, জ্বালাময়…

ঠিক তখনই সে সেটা অনুভব করল। বুকের ভেতরের আগুন হঠাৎ নিভে গেল, আর সে থেমে তাকাল—সে কীতে লাথি মেরেছে।

বিছানার নিচ থেকে আধখানা বেরিয়ে থাকা একটা বড় কাঠের বাক্স।

তার কৌতূহল জাগল। এর ভেতরে কী? Layla-র আর কোনো গোপন কথা?

এই ভাবনাটাই Matthias-কে নতুন করে প্রাণবন্ত করে তুলল। Layla-র এমন কিছু—যা শুধু সে-ই জানবে। হঠাৎ পাওয়া এই উল্লাস তাকে তাড়াতাড়ি বাক্সটা খুলতে বাধ্য করল। ঢাকনা তুলতেই ধুলোর এক ঝাঁক এলোমেলোভাবে মেঝেতে ঝরে পড়ল।

ভেতরের জিনিসগুলো প্রথমে তার কাছে একেবারেই জঞ্জাল মনে হল। Layla এগুলো রেখে কেনই বা দিত? যদিও সে অস্বীকার করতে পারল না—বাক্সটা তার কাছে কেমন যেন পরিচিত লাগছে।

তারপর হঠাৎই সব পরিষ্কার হয়ে গেল।

এটা একটা উপহার—বিশেষ করে, তার দেওয়া উপহার।

সে আবার বিছানায় বসে পড়ল, আর বাক্সের ভেতরের জিনিসগুলো একে একে দেখতে লাগল। কৌতূহল আরও বেড়ে উঠল এই জেনে যে Layla তার দেওয়া উপহারগুলো রেখে গিয়েছিল।

সে প্রথমে একটা মখমলের বাক্স তুলল, খুলে ফেলল ঢাকনাটা। ভেতরে ছিল একটুকরো সুন্দর খোদাই করা স্ফটিক পাখি। অন্ধকার ঘরে সেটি ঝলমল করে উঠল। তার ডানাগুলো হালকা হলুদ রঙে আঁকা—Layla-র চুলের মতো, সোনালি।

এটাই সে বানিয়েছিল—যেদিন মিউজিয়ামের সেই পথের নিচে ঘুরতে গিয়ে Layla-র চোখে বিস্ময় আর আনন্দ দেখেছিল।

“আমার Layla…” Matthias নিচুস্বরে নিজেকে বলল। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই একটা ক্ষীণ, বিরক্তিকর কণ্ঠ তার ভেতর ফিসফিস করে উঠল—সে কখনোই তাকে নিজের বলতে পারেনি। একটুও না।

সে দ্রুত মখমলের বাক্সটা বন্ধ করল, আর বাক্সের ভেতর আবার তাকাল।

একটার পর একটা—তার দেওয়া আরও উপহার। এমনকি সেই জুতোটাও, যেটা সে Layla-র জন্য কিনেছিল, যেটা তার কালি লাগানো জুতোর বদলে দিয়েছিল।

তাহলে সে সত্যিই তাই করেছে। তার দেওয়া প্রতিটি জিনিস—তার হৃদয়ের ভালোবাসা দিয়ে দেওয়া সবকিছু—সব ফেলে রেখে চলে গেছে। সবকিছু পিছনে রেখে, তাকে পিছনে রেখে।

তার হাসি পেতে চাইল—এই ক্ষুদ্রতার জন্য। রাগও পেতে চাইল—তার উপহারগুলো এভাবে ফেলে যাওয়ার জন্য। কিন্তু লাভ কী? Layla এখানে নেই।

সে এখানে নেই তাকে দেখার জন্য। সে অদৃশ্য হয়ে গেছে, তাকে একা ফেলে রেখে।

তাহলে তার কাছে আর কী আছে?

সে যতক্ষণ ঘরের ভেতর দাঁড়িয়ে রইল, তার নিচে বৃষ্টির জল জমে একটা ছোট পুকুরের মতো হয়ে গেল। কেবিনটা নোংরা হচ্ছে—সে তাতে একটুও গুরুত্ব দিল না। এখানে তো আর কেউ নেই, যত্ন নেওয়ার মতো।

নিশ্চয়ই Layla আরও কিছু রেখে গেছে। শুধু তার উপহারগুলো তো নয়। এমন কিছু নিশ্চয়ই আছে, যেটার জন্য সে ফিরে আসতে পারে। সে তাকে এভাবে ছেড়ে যেতে পারে না।

সে আবার ছোট ঘরটায় ঘোরাঘুরি শুরু করল—প্রতিটি কোণা, প্রতিটি ফাঁক খুঁটিয়ে দেখতে লাগল। বইপত্র ছড়ানো, নানা অপ্রয়োজনীয় জিনিস উল্টেপাল্টে পড়েছে।

কিন্তু কিছুই ব্যক্তিগত মনে হল না। বাইরে বৃষ্টি আরও জোরে নামছিল।

ঠিক তখনই তার চোখের কোণে পড়ল একটা জিনিস। বিছানার পায়ের কাছে মেঝেতে এলোমেলোভাবে পড়ে থাকা একটা ছোট খাতা।

একটা ডায়েরি—বাচ্চাদের মতো ডায়েরি।

তার ফ্যাকাসে, খসখসে হাতে সেটি তুলে নিল। যে পাতাটা খোলা ছিল, সেটার লেখা চোখ বুলিয়েই সে বুঝে গেল—এটা কার।

এটা Layla-র শৈশবের ডায়েরি।

Layla-র মনের ভেতর ঢোকার এক নতুন জানালা। কী দারুণ! সেই মুহূর্তে Matthias নিজের সঙ্গে করা সব প্রতিশ্রুতি ভুলে গেল—সে আর এগিয়ে যাবে না। সে এগোতে চায় না।

কখনোই না।

সে সঙ্গে সঙ্গে শুরু থেকে পড়তে লাগল—Arvis-এ Layla-র প্রথম দিন।

[ আজ আমি Arvis-এ এসেছি। আর Uncle Bill-এর সঙ্গে দেখা হয়েছে। সে খুব বড় আর ভয়ংকর দেখতে, কিন্তু চিন্তা কোরো না, সে একদমই ভয়ংকর না!

সে আমাকে মারেনি পর্যন্ত! খুব বেশি শব্দও করে না। আর আমাকে রাতের খাবার দিয়েছে! একদম একটা।

সে বলল, বাচ্চারা গরুর মতো খেতে দেখলে তার ভালো লাগে, তাই আমি গরুর মতো খাওয়ার চেষ্টা করলাম!

আমি অনেক খেলেও সে রাগ করেনি। আর তার খাবার খুব মজা ছিল!

তো হ্যাঁ, আমি Uncle Bill-কে পছন্দ করি। সে ভয়ংকর না। আমার মনে হয় Arvis-ও সুন্দর।

আশা করি সে আমাকে দত্তক নেবে! তাহলে আমাকে আর সেই এতিমখানায় থাকতে হবে না। আমি খুব ভালো থাকব, কথা দিচ্ছি! শুভকামনা কোরো! ]

ডায়েরির পাতার ভাঁজে ভাঁজে রাখা ছিল শুকনো ঘাস আর নাম না জানা ফুলের পাপড়ি। এখানে-সেখানে ছোট ছোট আঁকিবুঁকি—গাছ, ফুল, পাখি।

সে ধরে নিল, এগুলো Arvis-এ দেখা জিনিসগুলোরই খসড়া রূপ।

সে আরেকটা পাতা উল্টাল।

[ আজ আমি জঙ্গলে গিয়েছিলাম! আর জানো আমি কী দেখেছি? Duke-কে! আর সে আমাকে গুলি করতেও চেয়েছিল! আমি এত ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম যে কাঁদতে শুরু করেছিলাম!

তবে, আমার মনে হয় সে রীইইই-আলি কিউট! আর তার কণ্ঠস্বরও খুব নরম আর মসৃণ! ঠিক সেই পাখির পালকের মতো, যেটা আমি কুড়িয়ে পেয়েছিলাম! যেটা আমি Uncle Bill-কে দিয়েছিলাম!

এই প্রসঙ্গে, আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম—সব noblemen কি Duke-এর মতো সুন্দর? সে বলল, না।

মনে হয় Duke-টা বিশেষ। যদিও আমি বুঝি না, সে কেন খারাপ কাজ করে। ]

স্মৃতিটা তার চোখের সামনে ভেসে উঠল। নদীর ধারে হাঁটতে গিয়ে, সেদিন সে গাছের ডালে বসে থাকা একটা ছোট মেয়েকে দেখেছিল…

শুরুতে সে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছিল—ভেবে নিয়েছিল, সে একটা পাখি। পরে বুঝতে পেরে সে নিজেই বিস্মিত হয়েছিল; সেটা পাখি নয়, একজন মানুষ। আর সেই মুহূর্তের পর থেকেই, তাদের নির্দিষ্ট শিকারের এলাকায় সে প্রায়ই তাকে দেখতে পেত।

তার মতো তরুণ অভিজাতদের সঙ্গে—যেমন সে নিজে কিংবা Riette—মিশলে, সাধারণত মানুষ কিংবা পরিচারকেরা প্রশংসা আর যত্নে ভরিয়ে দিত। কিন্তু Layla ছিল আলাদা। সে নিয়ম করে তাকে সম্ভাষণ জানানো মাত্রই মুখ ফিরিয়ে নিত।

খুব শুরু থেকেই সে পরিষ্কার করে দিয়েছিল—সে তাকে ভয় পায়।

বর্তমানে ফিরে এল Matthias। শিশুর সেই ডায়েরিটার প্রান্ত শক্ত করে দু’হাতে চেপে ধরেছিল সে। তার অর্ধেক মন আর পড়তে চাইছিল না, কিন্তু Layla-কে ছেড়ে দেওয়ার ভাবনাটা তাকে সেটাও করতে দিচ্ছিল না।

তাকে পড়তেই হবে।

আর তাই সে পড়তে থাকল। এক পৃষ্ঠার পর আরেক পৃষ্ঠা। Arvis-এ তার অনুভূতি, তার শিশুসুলভ অভিযান, সেখানে এসে নতুন নতুন জিনিস আবিষ্কার করা, Uncle Bill-এর সঙ্গে তার দৈনন্দিন জীবন। Matthias যত পড়তে লাগল, ততই সে বুঝতে পারল—Layla আসলে কী চাইত।

সে Arvis-এ জন্মানো ফুল আর পাখিদের কথাও জানল—যেগুলো তার কাছে একসময় গুরুত্বহীন ছিল। পড়ল, কীভাবে তার চাচা তাকে প্রশংসা করত, চার ঋতুতে তার অভিজ্ঞতাগুলো…

আর তারপর সে এমন একটা পাতায় এসে থামল—যেখানে Layla জীবনে প্রথমবার আইসক্রিম খাওয়ার কথা লিখেছে। পড়তে পড়তেই সে অনুভব করল, সেই লেখার ফাঁকে ফাঁকে কীভাবে বিষণ্ণতা ঝরে পড়ছে।

[ আজ আমাকে ম্যানশনে ডাকা হয়েছিল! আমি Duke-এর এক আত্মীয়ের সঙ্গেও দেখা করেছি। আমি তার সঙ্গে খেলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু খেলাটা বুঝিনি। সে আমাকে কুকুরছানা বলল, তারপর চলে গেল।

আমি জানি না ওটার মানে কী, কিন্তু কুকুরছানারা তো কিউট, তাই না?

আমি তাকে দেখাতে চেয়েছিলাম আমি আর কী কী ভালো পারি! কিন্তু সে শুধু বলল, সে একজন লেডি। গাছে চড়া আর দৌড়ানো সে একদমই পছন্দ করে না।

তাই আমি শুধু তার পেছনে পেছনে ঘুরছিলাম, আর তখন সে আমাকে টাকা দিল!

ওরা আমাকে নিতে বলল, যদিও আমি বলেছিলাম আমার টাকার দরকার নেই। তবু আমি নিলাম। মনে হয় আমি তখন এত লজ্জা পাচ্ছিলাম যে টাকাগুলো মাটিতে পড়ে গেল, আর তখন সেই ভয়ের Duke এসে গেল!

সে টাকার ওপর পা রাখল! আমি ভীষণ ভয় পেয়ে আর লজ্জায় পড়ে গেলাম। আমাকে তার সামনে হামাগুড়ি দিয়ে গিয়ে টাকাগুলো তুলতে হয়েছিল! সে এখনো সুন্দর, কিন্তু ভয়ংকর। আমি কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরে Uncle-কে সব বললাম!

তিনি আমাকে কাঁদতে মানা করলেন। বললেন, আমি আমার কাজটাই করছিলাম। তাই সৎভাবে টাকা উপার্জন করেছি বলে গর্ব করা উচিত।

এটা অদ্ভুত। তিনি বললেন, আমি বড় হয়ে নাকি দারুণ একজন মানুষ হব। কিন্তু সবাই আমাকে দুর্ভাগা বলে, কারণ আমি একজন orphan… ]

এরপর Layla তার মনের সব কথা উজাড় করে লিখে ফেলেছিল। তার খালার দিকের কাজিনরা কীভাবে তাকে ঠাট্টা করে বলত—সে নাকি বড় হয়ে prostitute হবে। অনেক পরে সে বুঝেছিল, কথাটার মানে কী, আর তখন সে ভীষণ কষ্ট পেয়েছিল। এমনকি তার ভাই যখন কথাটা বলেছিল, তখন তার সঙ্গে মারামারিও করেছিল।

তারপর সে লিখেছিল—প্রতিবাদ করার ফল কী হয়েছিল। কীভাবে তাকে মারা হয়েছিল, না খাইয়ে রাখা হয়েছিল। ক্ষুধায় সে বাগান থেকে কাঁচা শালগম তুলে খেয়েছিল, কিন্তু ধরা পড়ে গিয়ে আবার মার খেয়েছিল—অবাধ্য হওয়ার জন্য।

এরপর তার খালা তাকে চোর বলে ডেকেছিল। বলেছিল, সে একদিন prostitute হবে, মানুষের টাকা ঠকাবে। বাকিরাও একই কথা বারবার বলে গিয়েছিল…

কিন্তু Uncle Bill আলাদা ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সে বড় হয়ে ভালো মানুষ হবে। Layla বুঝত না—ভালো মানুষ মানে কী। তাই সে চুপ করে থাকত। ভাবত, তার চাচা যদি এত জ্ঞানী হন, তবে তিনি যা বলেন সেটাই সত্য। সেও বড় হয়ে তেমনই হবে।

[ …আমি ভালো করে ঘুমোতে পারি না। আমি বারবার স্বপ্ন দেখি—বড় হলে আমি কী হব! Uncle Bill কী দেখেছিলেন, সেটা ভাবি। তিনি খুব বুদ্ধিমান, তাই ভবিষ্যৎও বুঝতে পারেন!

আমি তাড়াতাড়ি বড় হতে চাই, ভালো মানুষ হতে চাই!

তাহলে Uncle Bill খুশি হবেন, আমিও খুশি হব! আমি এটা বললে তিনি হেসেছিলেন কিন্তু তাতে কিছু আসে যায় না, আমি তার হাসি শুনতে ভালোবাসি। ]

Matthias ওই লেখাটা ছাড়িয়ে এগোল অনেক দেরিতে। টাকার ওপর পা দিয়ে তাকে হামাগুড়ি দিতে বাধ্য করা—সেই সময় এটা তার কাছে নিছকই একটা ঠাট্টা ছিল। সে তখন বিষয়টাকে গুরুত্বই দেয়নি, তাই আজ আর ঠিক মনে করতে পারে না—কেন সে ওটা করেছিল।

সে শুধু জানত, Layla তাকে কৌতূহলী করে তুলেছিল। সে তাকে আরও খোঁচাতে চেয়েছিল, আরও উসকাতে চেয়েছিল—দেখতে চেয়েছিল, সে তার কাছ থেকে কতটা সহ্য করতে পারে।

এতদিন পেরিয়ে গেছে। নিজের শৈশবের খুঁটিনাটি সে প্রায় কিছুই মনে করতে পারে না। কিন্তু Layla—তাকে সে স্পষ্টভাবে মনে রাখতে পারে। তার সৌন্দর্য, তার সবুজ চোখ, আর তার উপস্থিতিতে সে কীভাবে ভয়ে সিঁটিয়ে যেত…

বাইরে আকাশ আরও গাঢ় হয়ে উঠল। তবু Matthias পরিত্যক্ত কেবিনেই রয়ে গেল।

Layla তার শৈশবের প্রতিটি ঘটনা লিখে গিয়েছিল। প্রতিটি পাতায়, যেখানে তার নাম এসেছে, সেখানে Matthias-এর স্মৃতিও আরও পরিষ্কার হয়ে উঠেছে। তার লক্ষ্যগুলো বদলাতে বদলাতে এগিয়েছে।

ভালো নম্বর পাওয়া থেকে শুরু করে, সাইকেল চালানো শেখা, তারপর Bill-এর সঙ্গে সুখী জীবন কাটানো। Kyle-ও তার পরিকল্পনার অংশ ছিল। তবে বেশিরভাগ নামই Matthias চিনত না।

সম্ভবত কারণ, সেগুলো তার সঙ্গে থাকার ক্ষেত্রে তার কাছে গুরুত্বহীন ছিল। যদিও সে বারবার লিখেছে—তারা সবাই Arvis-এর আশপাশেই থাকত।

শেষ লেখাটা ছিল শীতকাল নিয়ে। Matthias-এর কাছে সেটা আলাদা করে চোখে পড়ল। কারণ সেই শীতেই সে এমন এক সুন্দর পাখির মালিক হয়েছিল—যে তাকে মনভরে আনন্দ দিত।

সে আরও পড়তে চেয়েছিল। আবার ঘর খুঁজে দেখতে শুরু করল। কিন্তু আর কিছুই পেল না। Layla তার জন্য আর কিছু রেখে যায়নি।

কী অদ্ভুত। সে ভেবেছিল, তার সঙ্গে কাটানো সময়টাই ছিল Layla-র নিরস জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়। কিন্তু মনে হচ্ছে, Layla-র কাছে সে ছিল জীবন্ত দুঃস্বপ্ন।

কী অদ্ভুত। সে কেন এমনভাবে দেখেছিল?

হয়তো কারণ, সে তাকে খুব বেশি দেখত। আসলে সে তো দূর থেকে তার জীবনের এক নীরব দর্শক ছিল। আর যত বেশি দেখত, ততই বিরক্ত হত—সে কীভাবে সবসময় তার নাগালের বাইরে থাকতে চাইত।

কিন্তু ইদানীং, তার আর কিছুতেই মনোযোগ নেই। তার আঙুল কেঁপে উঠল।

সে আবার ঘুমোতে চাইল। নিজের ঘরে থাকলে সে নিশ্চয়ই আবার সেই ঘুমের ওষুধগুলোর দিকে হাত বাড়াত। আর তারপর, অল্প সময়েই ঘুমিয়ে পড়ত।

এখানে তার আর কিছু নেই—এই সিদ্ধান্তে পৌঁছে, সে ল্যাম্পটা নিভিয়ে দিল। ভারী পায়ে কেবিন থেকে বেরিয়ে এল।

এবার তার ম্যানশনে ফেরার সময়।

বাইরে থেকে দেখলে মনে হচ্ছিল—সে শুধু একটু হাঁটতে বেরিয়েছিল। তার পরিচারকেরা অধীর আগ্রহে তার জন্য অপেক্ষা করছিল। সে ফিরতেই তারা তাকে ঘিরে ধরল, তার শরীর আর স্বাস্থ্যের চিন্তায় ব্যস্ত হয়ে পড়ল। বৃষ্টিতে ভিজে গেছে বলে তাকে গরম কিছু নিতে বলছিল…

ঠিকই তো। সে যখন কেবিন ছেড়েছিল, তখনও বৃষ্টি হচ্ছিল। সে কীভাবে সেটা খেয়ালই করেনি?

তবু, তাদের অনুনয় সে উপেক্ষা করল। ধীর পায়ে নিজের ঘরের দিকে এগোতে লাগল। তাদের সব উদ্বিগ্ন কণ্ঠ তার কানে যেন বিরক্তিকর পোকামাকড়ের গুঞ্জনে পরিণত হল।

শোবার ঘরের দরজায় পৌঁছাতেই, Hessen-এর কঠিন মুখভঙ্গি দেখে সে থেমে গেল। বৃদ্ধ বাটলারের ঠোঁট সরু রেখায় চেপে ছিল। তারপর সে পরাজয়ের মতো একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

তার ঠিক পেছনেই দাঁড়িয়ে ছিল এক কাঁদতে থাকা দাসী। মুখটা তার পরিচিত লাগল।

আহ। এই সেই দাসী—যাকে Hessen তাকে দেখিয়েছিল, তার অনুপস্থিতিতে তার পাখির দেখভাল করবে বলে।

Matthias এগিয়ে গেল, আর নিজের বাটলারের দিকে তাকাল।

“আমার পাখিটা কেমন আছে?” সে নিচুস্বরে জিজ্ঞেস করল।

Hessen-এর মুখ আরও গম্ভীর হয়ে উঠল। সে মাথা নত করে ক্ষমাপ্রার্থনার ভঙ্গিতে বলল—

“আমি গভীরভাবে দুঃখিত, my Lord,” সে শুরু করল। দাসীর কান্নার শব্দ আরও বেড়ে গেল। “আমি ভয় পাচ্ছি… canary-টা বাঁচেনি, my Lord।”

Matthias-এর কানে একটা তীক্ষ্ণ গুঞ্জন বেজে উঠল।

“আপনার পাখিটি মারা গেছে, my Lord।”

Hessen কথাটা শেষ করল।

চলবে.....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১১৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন