#Cry_Even_Better_If_You_Beg
#Translator_by_গল্প
#পর্বঃ১১৭
⚠️ সতর্কবার্তাঃ এখানে অনেক ডার্ক সিন রয়েছে, নিজ দায়িত্বে পড়ুন। যারা অতিরিক্ত রোমান্টিকতা পছন্দ করেন না তারা চাইলে এটি স্কিপ করতে পারেন।
Chapter 117
Arvis জুড়ে দাবানলের মতো গুজব ছড়িয়ে পড়ল, যখন হঠাৎ করেই Kyle Etman সেখানে এসে হাজির হলো। আর ঠিক তার পরেই, বিনা কোনো পূর্বাভাসে সে আবার দেখা দেওয়ায় সবাই আরও গভীর বিভ্রান্তিতে পড়ে গেল।
আগের গুজবগুলোতে প্রায় সবাই বিশ্বাস করত যে Kyle নাকি মালী আর Layla-কে নিয়ে Arvis ছেড়ে পালিয়ে গেছে। বলা হচ্ছিল, সে তাদের দু’জনকে গোপনে বের করে নিয়ে গেছে। Mrs. Etman জোর গলায় এই অভিযোগ অস্বীকার করলেও, বাস্তবে কেউই তাঁর কথায় বিশ্বাস করেনি।
কারণ সবাই জানত—Kyle Layla-কে কতটা ভালোবাসত। তাদের দু’জনের পালিয়ে যাওয়া মোটেও অসম্ভব কিছু মনে হয়নি। বরং অনেকের কাছেই সেটাই মনে হয়েছিল সবচেয়ে সুন্দর সমাপ্তি—দুটি ভালোবাসার পাখি, সব ঝামেলা আর কোলাহল ছেড়ে, কোথাও দূরে গিয়ে নিজেদের সুখ খুঁজে পাবে…
কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন।
Kyle এখানে ছিল। Arvis-এই।
আর সেই উপস্থিতি মুহূর্তের মধ্যেই ভেঙে চুরমার করে দিল সব রূপকথার স্বপ্ন। কারণ এমনকি Kyle নিজেও জানত না—Layla আর তার আঙ্কেল কোথায় চলে গেছে।
“Kyle!”
একটি পরিচিত কণ্ঠ তার কানে এসে লাগতেই Kyle থেমে গেল।
“Kyle!”
সে ঘুরে তাকিয়ে দেখল Madam Mona রান্নাঘরের দরজা ঠেলে প্রায় দৌড়ে বেরিয়ে আসছেন। তাড়াহুড়ো করে তার দিকে এগিয়ে এসে তিনি একটু থামলেন, হাঁপাতে হাঁপাতে, আর ঠিক তার সামনে এসে দাঁড়ালেন। Kyle ভদ্রভাবে মাথা নিচু করে তাকে অভিবাদন জানাল।
“তুমি কি জানো Layla আর Remmer কোথায়?”
কোনো ভূমিকা ছাড়াই তিনি প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন, তাড়াহুড়োর মধ্যে Kyle-এর হাত চেপে ধরে।
Kyle বিস্ময়ে চোখ মেলল, তারপর ধীরে ধীরে তার মুখ গম্ভীর হয়ে গেল। সে মাথা নাড়ল—সংক্ষিপ্ত, নীরব, স্পষ্ট।
সবাই দেখেই বুঝতে পারছিল—সে সত্যিই কিছুই জানে না।
সে আগেই তার বাবাকে জানিয়েছিল যে Layla আর Uncle Bill-এর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টা খতিয়ে দেখতে সে Arvis-এ ফিরছে। কিন্তু Dr. Etman তার সেই চেষ্টাকে একেবারে অর্থহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। কঠোরভাবে তাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন—এই বোকামিতে না জড়িয়ে, স্কুলে ফিরে যেতে।
কিন্তু Kyle জেদ ধরতে শিখে গেছে।
“আমি দুঃখিত, কিন্তু আমি জানি না তারা কোথায়,”
সে Madam Mona-কে বলল।
তার চোখে গভীর হতাশা ফুটে উঠল, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই তিনি হাত নেড়ে দিলেন।
“ওহ না না, ক্ষমা চাইবে না ছেলে। হঠাৎ করে তোমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য আমিই দুঃখিত,”
তিনি তাড়াতাড়ি বললেন।
Kyle দেখতে পেল—তার চোখে পানি জমছে। তিনি চারপাশে অসহায়ভাবে তাকালেন, আর খুব সাবধানে চোখের কোণ থেকে একটা অশ্রু মুছে ফেললেন।
শেষমেশ তিনি Kyle-কে ছেড়ে দিলেন, আবারও হঠাৎ ধরে ফেলার জন্য ক্ষমা চাইলেন। Kyle তাকে আশ্বস্ত করে হালকা হাসল, বিদায় জানাল, আর বাগান পেরিয়ে দ্রুত হাঁটতে শুরু করল।
শেষ পর্যন্ত সে বনে এসে পৌঁছাল।
দীর্ঘদিন পর আবার এই জায়গায় পা রাখতেই তার ভেতরে অদ্ভুত এক আশার জন্ম নিল। কোথাও না কোথাও, যুক্তিহীন হলেও, সে বিশ্বাস করতে চাইছিল—কেবিনে পৌঁছে দরজা খুললেই… তারা সেখানে থাকবে।
শেষ পর্যন্ত তারা Arvis-এ ফিরে এসেছে…
এই ভঙ্গুর আশাটুকু বুকে আঁকড়ে ধরে সে হাঁটতে থাকল, যেন কোনো অমূল্য ধন। কিন্তু কেবিনের পথের মুখে পৌঁছে, ছোট ঘরটার চারপাশে আগাছায় ভরা দৃশ্য দেখেই তার সমস্ত আশা মুহূর্তে ভেঙে পড়ল।
তারা সত্যিই চলে গেছে।
“Layla…”
Kyle ফিসফিস করে ডাকল।
তার কণ্ঠ শেষের দিকে মিলিয়ে গেল, যখন সে সেই কেবিনটার দিকে তাকিয়ে রইল—যেটা একসময় তার কাছে বাবা-মায়ের বাড়ির বাইরে নিজের ঘর ছিল। যতক্ষণ সে সেখানে দাঁড়িয়ে রইল, ততই তার পা থেকে শক্তি সরে যেতে লাগল…
হঠাৎই সে বনভূমির মাটিতে বসে পড়ল। কান্নায় ভেঙে পড়ে, এলোমেলোভাবে Layla-র নাম ডাকতে লাগল। তার আর্তনাদে পাখিরা উড়ে গেল, ফাঁকা বনে তার কান্না প্রতিধ্বনিত হলো… কিন্তু জবাবে এল কেবল নীরবতা। Layla Arvis-এ নেই।
*************
Matthias নিজেকে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াতে দেখল। তার একাংশ বিশ্বাসই করতে পারছিল না—একটা ব্যবসায়িক বৈঠক বাতিল হওয়ার পর, তার পক্ষে করার মতো এর চেয়ে ভালো কিছু নেই?
আর তাই সে হাসল। হাঁটতে হাঁটতে আবারও হাসল—নিজের এই অযৌক্তিক অবস্থায় অবিশ্বাস আর অস্বীকারে। হয়তো এটা সেই ঘুমের ওষুধগুলোর প্রভাব, যেগুলো সে নিয়মিত খাচ্ছিল। শুধু এটুকুই জানত—সবকিছু খুব বাস্তব লাগছে, অথচ একই সঙ্গে অবাস্তব। সে জেগে আছে, কিন্তু বাস্তবতা যেন কোনো শূন্য স্বপ্নে ভাসছে…
তার মাথা দু’ভাগ হয়ে যাচ্ছে ব্যথায়। শরীর অবশ আর জ্বালায় ভরা—মনে হচ্ছে সে পুড়ে যাচ্ছে, আবার একই সঙ্গে ঠান্ডায় জমে যাচ্ছে। তবু Matthias হাঁটা থামাতে পারছিল না। যুক্তি তাকে বিশ্রাম নিতে বলছিল, কিন্তু তার পা যেন নিজের ইচ্ছেতেই এগিয়ে চলেছে।
এই যন্ত্রণা সে সহ্য করবে।
কারণ যন্ত্রণা—Layla-র স্মৃতির চেয়েও বেশি সহনীয়।
আরও স্মৃতি মানেই—তার সৌন্দর্য, তাদের সময়গুলো, সবকিছুর ভাঙা প্রতিচ্ছবি। আর তাতে সে আরও গভীরে ডুবে যাবে। শেষে কী থাকবে? ধ্বংস ছাড়া কিছুই না। এটাই কি চরম হতাশা?
যদি তাই হয়, তবে এই প্রথম Matthias এমন কিছু অনুভব করল। Layla-কে তার কাছে ফিরে আসতেই হবে। সে ফিরবেই। তার আগের জীবনটা বাঁচার জন্য তাকে Layla দরকার। এই ভাবনায় Matthias আবারও হাঁপাতে হাঁপাতে হেসে উঠল।
‘আমাকে এমন বানাতে তুমি এত কষ্ট করেছ, তাহলে আমাকে এই অবস্থায় দেখার সৌজন্যটুকু দেখাও না কেন?’
Layla-র কথা ভাবতে ভাবতে সে বিষণ্ণভাবে ভাবল।
“ফিরে এসো…”
সে নিঃশ্বাসের সাথে ফিসফিস করে বলল, চারপাশে তাকিয়ে কোনো চিহ্ন খুঁজতে খুঁজতে। কোথাও তাকে না দেখে সে শুষ্কভাবে হেসে ফেলল।
“ফিরে এসো।” সে আবার বলল।
সে চেয়েছিল তাকে আবার নিজের পাশে। চেয়েছিল—নিজেকে ছাড়া তার এই দুর্দশা দেখে Layla হাসুক।
ভাঙা মানুষটাকে দেখে সে যেন একবার অন্তত তাকায়। এমনকি সে যদি তাকে ঘৃণাও করে—তবু তাকে চাই। এই দুঃখের মাঝেও, তাকে একবার দেখতে চাই। সে দাঁত চেপে ধরল, গতি বাড়াল।
হঠাৎ করেই সে পৌঁছে গেল Arvis-এর পথে—চেনা Platanus রোড। সেই জায়গায় পৌঁছেই তার চোখের সামনে ভেসে উঠল Layla-র শেষ চেহারা।
সে তার দিকে কতটা আকুল হয়ে তাকিয়ে ছিল, শুধু একটু ভালোবাসা চাইছিল… সেই স্মৃতি তাকে হোঁচট খাওয়াল।।Layla সবসময়ই তার চুম্বক ছিল। তার কাছে না থাকলে, সে নিজের বিবেকের পথ খুঁজে পেত না। আরও এক পা… তারপর আরেকটা… Layla তাকে উৎসাহ দিয়ে হাসল। সে হাত বাড়াল… আর সে মিলিয়ে গেল। সেখানে কেউ নেই। শুধু তার কল্পনা।
Matthias-এর নিঃশ্বাস ভারী হয়ে এল। ক্লান্ত চোখে সে সেই জায়গার দিকে তাকিয়ে রইল—যেখানে সে শেষবার Layla-কে ছুঁয়েছিল। কিছুই নেই। শুধু তার নিজের ছায়া। সে চলে গেছে। Layla তাকে ছেড়ে গেছে। সে আর কখনো তার হবে না।
হাসি বুকের ভেতর ফেটে বেরোল। সে মাথা পেছনে ছুঁড়ে দিল, দু’হাতে মাথা চেপে ধরল—যেন বাকি থাকা সামান্য বিবেকটুকু আঁকড়ে ধরছে। তার মনে হলো—এখন তার কান্না করা উচিত। কিন্তু কান্না এলো না।
শুধু হাসি।
হাসি থেমে গেলে, সে দীর্ঘশ্বাস ফেলল আর আবার হাঁটতে শুরু করল। Arvis-এর দিকে। তার প্রাসাদে ফেরার কথা ছিল, কিন্তু তার পা তাকে আবার বনের দিকেই নিয়ে গেল। সেই বন—যেখানে Layla-র পুরো পৃথিবী তার ভেতর লুকিয়ে ছিল। অশুভ ছায়ার মতো বনটা দাঁড়িয়ে ছিল, কিন্তু Matthias-এর একটাই চাওয়া— Layla-কে আবার দেখা। তার সঙ্গে আবার থাকা।
বনে ঢুকতেই সব স্মৃতি ফিরে এল। Layla-র শৈশবের ডায়েরির পাতায় লেখা প্রতিটি কথা। তাদের প্রতিটি দেখা, তার প্রতিটি ঠাট্টা, Layla-র প্রতিবার ভয়ে পালিয়ে যাওয়া… একটা ঘটনা তার মনে পড়ল।
ছোটবেলায়, সে এত বিরক্ত হয়ে উঠেছিল—Layla সবসময় তার কাছ থেকে পালাত কেন। একদিন ইচ্ছে করেই সে ঘোড়াটা এমনভাবে চালাল, যেন তার পথ আটকে দেয়। Layla তখন ঘাসের পাশে ছিল। সে যখন তাকে থামিয়ে দিল, Matthias তৃপ্তি পেল—ভয়ে জমে যাওয়া Layla-র মুখ দেখে। শিশুর মতো সে হঠাৎ ঘুরে দৌড়াতে গিয়ে পড়ে গেল, মাটিতে গড়িয়ে পড়ল… তবু উঠে আবার দৌড়াতে লাগল।
সে যখন বুঝল—Matthias আর পিছু নিচ্ছে না, থেমে পেছনে তাকাল। অবাক হয়ে ভাবল—কেন সে আর আসছে না। Matthias হাসল—তার সেই হাস্যকর সাহসে। এরপর Layla কেবিনে ঢুকে গেল।
ভীতু হলেও, সে অদ্ভুতভাবে সাহসী ছিল। আর সেই থেকেই Matthias তার কৌতুক আরও বাড়াল—তার প্রতিক্রিয়া দেখতে দেখতে সে নেশায় পড়ে গেল।
কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সে বুঝল—Layla আসলে হরিণের মতো। এরপর সে তার প্রতি উদাসীন হওয়ার ভান করল… তারপর সে চলে গেল।
আর সেই গ্রীষ্মের দিনে—Layla-কে পূর্ণবয়স্ক নারী হিসেবে দেখে, তার ভেতরে এক নতুন আসক্তি জেগে উঠল।bকেউ যদি জিজ্ঞেস করত—কবে থেকে তার এই আসক্তি, সে বলতে পারত না। হয়তো সে সবসময়ই Layla-তে আচ্ছন্ন ছিল। সে সব দেখেছে—ভীতু মেয়ে থেকে সাহসী সুন্দরী রাণী হয়ে ওঠা পর্যন্ত।
আর সে যা দেখেছে, তা তার ভালো লেগেছে।
কিন্তু সে কখনো দেখেনি—Layla কীভাবে শুরু করেছিল। আর কোনোদিন দেখবেও না—সে কীভাবে শেষ হবে। কারণ সে তাকে ছেড়ে চলে গেছে।
এখন তার হাতে কী রইল? Layla ছাড়া সে কী করবে?
সবকিছু শেষ হয়ে যেতে পারে না। হতে পারে না।
Layla সবসময়ই তার জীবনের অংশ ছিল। প্রথম দেখাতেই সে তাকে ভিতর থেকে নাড়া দিয়েছিল। আর সেটা সে সহ্য করতে পারেনি। তাই সে টেনেছে, ঠেলেছে, ভয় দেখিয়েছে—তারপর উপহার দিয়ে পুষিয়েছে… তার কান্না দেখে যে সন্তুষ্টি পেত, সেটাই তাকে শক্তিশালী আর নিরাপদ মনে করাত।
সে তাকে প্রভাবিত করত। যেমন Layla তাকে করত।
কিন্তু কখনোই—একবারের জন্যও—সে চায়নি Layla তার জীবন থেকে হারিয়ে যাক। কখনো না।
নিজের কাজগুলোর দিকে ফিরে তাকিয়ে Matthias শুধু হেসেই উঠতে পারল—সবকিছু কতটা হাস্যকর ছিল। অনেক আগেই তার উচিত ছিল Layla-কে উপেক্ষা করা, ঠিক যেমন সে সবসময় এমন জিনিস উপেক্ষা করত যা তাকে বিরক্ত করত। তখন সেটুকুই যথেষ্ট ছিল…
কিন্তু Layla-র ক্ষেত্রে Matthias তা করতে চায়নি।
সে তাকে এত সহজে ছেড়ে দিতে রাজি ছিল না। সে তাকে নিজের পাশে চাইত—সে কাঁদুক, মিনতি করুক, তার জন্য ভেঙে পড়ুক—সবই সে নিতে প্রস্তুত ছিল…
শুধু যতক্ষণ Layla চিরকাল তার পাশে থাকে।
তার মানুষ হয়ে। তার Layla।
হঠাৎ চোখের কোণে কিছু নড়াচড়া তার নজর কাড়ল। Matthias থেমে গেল। সে দ্রুত মাথা ঘুরিয়ে সেই দিকে তাকাল, আর সঙ্গে সঙ্গেই বুকের ভেতর জন্ম নেওয়া আশাটুকু নিস্তেজ হয়ে গেল, যখন সে দেখল—রাস্তাটার শেষে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটাকে…
যে মানুষটার হাতে ছিল Layla-র কাছ থেকে তার চাওয়া সবকিছু।
Kyle Etman।
************
নিজের ভেতরে Kyle একটা অদ্ভুত অনুভূতি টের পেল—এই মুহূর্তে Duke-কে সামনে দাঁড়িয়ে দেখতে। একসময় সে ভেবেছিল, যদি আবার কখনো এই মানুষটাকে দেখে, তবে তাকে মেরেই ফেলবে। অথচ এখন, বুকটা দমবন্ধ হয়ে এলেও, সে কেবল ফাঁকা চোখে তাকিয়ে রইল।
নিশ্চয়ই সে তাকে আবার দেখতে চায়নি। কিন্তু এক পা এগোতেই, Layla-র সেই মিনতির স্মৃতি তার হৃদয়ে যন্ত্রণার মতো কেঁপে উঠল—
“আমি তাকে ভালোবাসি!”
Duke-কে উদ্দেশ্য করে Layla-র সেই আর্ত স্বীকারোক্তি তার মাথার ভেতর প্রতিধ্বনিত হলো।
Kyle যতই বিশ্বাস করতে চাইত যে সে কথা Layla বলেছিল শুধু তাকে Duke-এর হাত থেকে বাঁচানোর জন্য—সে অস্বীকার করতে পারল না, তার কণ্ঠে লুকিয়ে থাকা সত্যের সেই ক্ষুদ্র অংশটুকু। সেদিন, যখন সে Layla-র কেবিনে গিয়েছিল—তার হৃদয় জেতার আরেকটা সুযোগ চাইতে—সেই দিনই সে নিশ্চিত হয়েছিল। এমনকি Duke আর Layla-কে একসাথে দেখে রাগে অন্ধ হয়ে গেলেও… সে জানত—Layla Duke-কে ভালোবাসে। তার একাংশ সত্যিই ভালোবাসে।
Duke-এর হাতে কী কৌশল ছিল, কী ব্ল্যাকমেইল ছিল—তা কোনো ব্যাপার না। Kyle জানত, Layla একজন বুদ্ধিমতী নারী। সে যদি সত্যিই চাইত, তবে নিজেকে সেই পরিস্থিতি থেকে বের করে আনতে পারত।
কিন্তু তার একাংশ Duke যা চাইছিল, সেটাই চাইত।
কারণ Layla আসলে এমনই একজন মানুষ। সে যা চায় না—কেউ তাকে সেটা করতে বাধ্য করতে পারে না। মানুষটি যতই ক্ষমতাবান হোক না কেন। আর ঠিক এই কারণেই সেই রাতটা Kyle-এর জন্য এত যন্ত্রণার ছিল।
অসম সম্পর্কের উপলব্ধির চেয়েও বেশি। Layla-র প্রত্যাখ্যানের চেয়েও বেশি। সবচেয়ে কষ্টের ছিল এই সত্যটা— সে কখনোই Layla-র ভালোবাসা পায়নি।
হয়তো Layla নিজেও তা স্বীকার করত না। হয়তো Duke-ও কখনো বুঝতে পারেনি। কিন্তু Kyle দেখেছিল। আর সেই রাতে, তিনজনের মধ্যে একমাত্র Kyle-ই ছিল—যে সত্যটা স্পষ্ট দেখতে পেয়েছিল।
আর সেটা গিলে ফেলা কতটা তিক্ত ছিল। সে তার সবচেয়ে কাছের মানুষটাকে হারিয়েছিল—একজন এমন মানুষের কাছে, যে কখনোই তার পাওয়া জিনিসটার মূল্য বুঝতে পারবে না। আর এখন সেই মানুষটাই Layla-কে আরও ভেঙে চুরমার করে শেষ পর্যন্ত হারিয়ে ফেলেছে। কী ভয়ংকর বিদ্রূপ।
তবু Kyle এগিয়ে গেল। Duke-এর অবহেলিত, এলোমেলো চেহারার সামনে গিয়ে থামল, আর নিজের সমস্ত ঘৃণা দিয়ে তার দিকে তাকাল। Duke-ও তার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল—সে দৃষ্টি কোনো মাতাল মানুষের চোখের মতো ছিল না, যদিও Kyle সেটা পুরোপুরি বাদও দিতে পারল না। Kyle কিছু বলতে চেয়েছিল। তার হৃদয় তাকে চুপ করে চলে যেতে দিল না—এই ভুয়া নিখুঁত Duke-কে নিজের মনের কথাগুলো না শুনিয়ে।
“নিজের ওপর কি খুব গর্ব হচ্ছে, Duke?”
শান্ত অথচ দগদগে রাগে Kyle প্রশ্ন করল,
“Layla-কে এভাবে ধ্বংস করার পর?”
Duke কিছু বলল না।
“এখন কি তোমার কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা হচ্ছে?” Kyle আবার জিজ্ঞেস করল।
“দেখতে পাচ্ছ, কীভাবে তুমি তোমার জীবনের একমাত্র ভালো জিনিসটা নষ্ট করেছ?”
কোনো জবাব এল না।
“নাকি তুমি কোনো অনুশোচনাই করছ না?” Kyle ব্যঙ্গ করে বলল।
“সে চলে গেছে বলে কি তুমি খুশি? তোমার বিশ্বাসঘাতকতার সব প্রমাণ মুছে গেছে, আর নিখুঁত Duke-এর ভাবমূর্তি আর কেউ নষ্ট করবে না—তাই তো?”
নীরবতা আরও ঘনিয়ে এলো। Kyle বুঝল—এমন মানুষের সঙ্গে কথা বলে কোনো লাভ নেই, যে কখনো নিজের দোষ স্বীকার করবে না। সে চলে যেতে ঘুরতেই—অবশেষে Duke কথা বলল।
“তুমি জানো না সে কোথায়, তাই তো?”
কোনো বিদ্রূপ নয়—একটা সত্যিকারের প্রশ্ন।
“Layla কোথায় হারিয়ে গেল?” Duke শান্ত কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল। “তুমিও জানো না, Kyle Etman।”
সে নিচু স্বরে বলল।
Kyle ফিরে তাকাল—নিয়ন্ত্রিত ক্রোধে ঠোঁট কামড়ে ধরে। সে চায়নি Layla-র Duke-এর সঙ্গে সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে আসুক। সে তাকে রক্ষা করতে চেয়েছিল। Duke তৃপ্তির হাসি হাসছিল—যেন Layla-র পরিকল্পনা থেকে Kyle-ও বাদ পড়েছে জেনে সে আনন্দ পাচ্ছে।
Kyle বিরক্তিতে ফোঁস করে উঠল, Duke কতটা পাগল হয়ে গেছে তা নিয়ে ফিসফিস করল। তার বাবার কাছ থেকে সে Duke-এর অবস্থার কথা শুনেছিল। আর স্বীকার করতেই হবে—Layla ছাড়া Duke কতটা বিধ্বস্ত হয়েছে জেনে তার ভেতরে এক অদ্ভুত প্রতিশোধের তৃপ্তি জন্মেছিল।
Duke এখন নিজেই হাসছিল, আর Kyle গভীর হতাশায় তাকিয়ে রইল।
“একটা কথা বলো তো, Duke,” Kyle জিজ্ঞেস করল,
“তুমি কি কখনো তাকে একজন মানুষ হিসেবে দেখেছ?” “শুধু তার সৌন্দর্যের বাইরে?”
“একটা পুরস্কার নয়—সে কোনো বস্তু না, যাকে তুমি মালিকানায় নিতে পারো!”
Kyle চিৎকার করে উঠল, পকেটের ভেতর হাত মুঠো হয়ে গেল।
সে বলতে লাগল—Layla নিজের মানুষ। তার স্বপ্ন আছে, চিন্তা আছে, অনুভূতি আছে, নিজস্ব নীতি আছে।
“জানো, মানুষ কীভাবে তাকে দেখত সেটা বদলাতে সে কতটা চেষ্টা করেছিল?”
“তোমার আগের জীবনটা গড়ে তুলতে সে কতটা পরিশ্রম করেছে—আর তুমি এসে সব ধ্বংস করে দিয়েছ!”
হাসি থেমে গেল, কিন্তু Duke এখনো ফাঁকা চোখে তাকিয়ে রইল।
Kyle তার চোখে কিছুই পড়তে পারল না। প্রাণহীন। শূন্য। সে নিজেকে বোকা মনে করল—এমন একজন মানুষকে বোঝাতে গিয়ে, যে কোনোদিনই বুঝবে না।
রূপোর চামচ মুখে নিয়ে জন্মানো মানুষদের কাছ থেকে আর কীই বা আশা করা যায়?
যারা কখনো সমাজের চোখে নিজেদের অবস্থান নিয়ে ভাবেনি? কিছুই না।
“আমি শুধু জানতে চাই…” Kyle-এর কণ্ঠ ভেঙে গেল,
“তুমি কীভাবে এটা করতে পারলে তার সঙ্গে?”
“ Leyla! যে Layla, —”
কথাগুলো তার গলায় আটকে গেল।
‘যে মানুষটা তোমাকে ভালোবাসত?!’
সে চিৎকার করে বলতে চেয়েছিল, কিন্তু উচ্চারণ করলে সত্যটা আরও বাস্তব হয়ে যাবে।
Layla এমন একজন মানুষকে বেছে নিয়েছিল, যে তাকে ধ্বংস করেছে—আর সেই মানুষটাকেই বেছে নেয়নি, যে নিজের সব ত্রুটি নিয়েও তাকে ভালোবেসেছিল।
সে নিজেকে নির্দোষ ভাবেনি। সে জানত—তাদের বাগদান ভাঙার পেছনে তারও দোষ ছিল। কিন্তু Layla Duke-কে বেছে নিয়েছিল। আর সেই সিদ্ধান্তটাই Duke-এর প্রতি তার ঘৃণাকে আরও গভীর করে তুলেছিল। তার অশ্রু কিছুই বদলাতে পারত না।
সে Layla-কে অনুরোধ করেছিল—এই সম্পর্ক ছেড়ে দিতে। পালিয়ে যেতে সাহায্য করতে চেয়েছিল। কিন্তু Layla তার হাত ধরেনি। সে তাকে উদ্ধার করতে দেয়নি। সে শুধু বলেছিল—সে জানে Duke তাকে ধ্বংস করবে। আর তবুও কাঁদতে কাঁদতে সে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
“তুমি তার যোগ্য নও।”
শেষমেশ Kyle শান্ত কণ্ঠে বলল।
“তুমি কখনোই তার যোগ্য ছিলে না।”
“তাকে আর কখনো খুঁজে পাওয়ার অধিকারও তোমার নেই। এক ঝলক দেখারও না।”
সে Duke-এর চোখের দিকে তাকিয়ে নিজের সত্য বলল।
“আর আমি চাই—তুমি তাকে কখনো খুঁজে না পাও। তোমার জীবন যেমন ছিল, তেমনই চালিয়ে যাও। সেটা তুমি বেশ ভালোই পারো।”
Kyle বিষ ছিটিয়ে বলল।
“আগামী মাসের বিয়ের জন্য শুভকামনা। আশা করি তুমি আর তোমার Duchess দারুণ জীবন কাটাবে।”
ব্যঙ্গাত্মকভাবে মাথা নুইয়ে সে সোজা হয়ে দাঁড়াল।
“একাই দীর্ঘ জীবন কাটাও, হারামজাদা।”
এই বলে Kyle ঘুরে দাঁড়াল—তার জীবনের সবচেয়ে বড় অভিশাপ থেকে দূরে হাঁটতে শুরু করল।
সে আন্তরিকভাবে প্রার্থনা করল—ঈশ্বররা যেন Duke-কে দীর্ঘ জীবন দেন। আর Layla-কে যেন মৃত্যুর আগ পর্যন্তও তার থেকে দূরে রাখেন। আর Layla-র Duke-এর প্রতি অনুভূতিগুলো— চিরকাল যেন গোপনই থেকে যায়। এইভাবেই Kyle চেয়েছিল—Duke তার কৃতকর্মের জন্য কষ্ট পেতে থাকুক।
শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত।
চলবে.....