#Cry_Even_Better_If_You_Beg
#Translator_by_গল্প
#পর্বঃ১৩৯
⚠️ সতর্কবার্তাঃ এখানে অনেক ডার্ক সিন রয়েছে, নিজ দায়িত্বে পড়ুন। যারা অতিরিক্ত রোমান্টিকতা পছন্দ করেন না তারা চাইলে এটি স্কিপ করতে পারেন।
Chapter 139
Leyla জেগে ওঠার পর থেকে একটুও কথা বলেনি। তার সামনে নথিগুলো তুলে দেওয়া হয়েছিল। সে সেগুলো পড়েছিল, বুঝেছিল—তার মুখ শান্ত, সংযত, একেবারে স্থির।
সে জানত না, তার খুশি হওয়া উচিত কি না, কিংবা অবাক হওয়া উচিত কি না। শুধু এটুকুই জানত—সে কোনোটাই নয়। নথিগুলো পড়তে পড়তে তার ভেতরটা ছিল সম্পূর্ণ ফাঁকা, একেবারে শূন্য। সে কেবল শান্তভাবে মাথা নেড়েছিল; শুরু থেকে যেমন ছিল, তেমনই প্রশান্ত।
“Leyla?”
Kyle নরম গলায় তাকে ডাকল। এতক্ষণ ধরে সে এতটাই নিশ্চুপ ছিল যে Kyle সঙ্গে সঙ্গে চিন্তিত হয়ে পড়ে। হয়তো সে না বুঝেই তার অবস্থা আরও খারাপ করে ফেলেছে—এই খবরটা এমন সময় এনে দিয়ে, যখন সে সবে মাত্র একটু সুস্থ হতে শুরু করেছে।
“ও কোথায়?”
অবশেষে সে প্রশ্নটা করল। কণ্ঠস্বর ছিল খসখসে, কিন্তু মুখের অভিব্যক্তি আগের মতোই শান্ত, সংযত। চোখ ঘরের ভেতর ঘুরে বেড়াচ্ছিল, যেন কাউকে খুঁজছে।
“Duke এখানে নেই,” Kyle নরম স্বরে জানাল।
“তাকে অন্য জায়গায় ডাকা হয়েছে।”
“আর তুমি?”
“না, আমাকে নয়,” Kyle সমান শান্ত স্বরে উত্তর দিল, তাকে আর উত্তেজিত করতে না চেয়ে।
“আমি বেরিয়েছিলাম তোমাকে খবরটা দিতে। উনি পেছনের ইউনিটে একটা বার্তা পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পেয়েছেন—যেখানে তাঁর Highness অবস্থান করছেন।”
Leyla চুপ করে থাকায় Kyle আবার বলতে শুরু করল।
“ওরা বলেছে কাজটা শেষ করতে প্রায় তিন দিন লাগবে।”
“তিন… দিন।”
সে ফাঁপা কণ্ঠে শব্দগুলো ফিরিয়ে দিল, ঠিক যেন কথা বলতে শেখা কোনো শিশু।
“কিন্তু এখন সব ঠিক আছে, Leyla, বুঝলে?”
Kyle উচ্ছ্বসিত হাসি নিয়ে বলল।
“উনি না থাকতেই তুমি চলে যেতে পারো। কেউ তোমাকে আটকাবে না। Duke নিজেই আদেশ দিয়েছেন।”
“বুঝলাম,”
সে নিস্তেজ স্বরে বলল।
“তাই এখন আর তোমার চিন্তা করার কিছু নেই, Leyla,”
Kyle সান্ত্বনার সুরে বলল।
“এই নথিগুলোও Duke নিজেই তৈরি করেছেন। তোমার পেছনে আর কখনো না যাওয়ার প্রতিশ্রুতি।”
প্রতিশ্রুতি।
শব্দটা তার মাথার ভেতর প্রতিধ্বনিত হলো, কিন্তু কোনো অর্থ খুঁজে পেল না।
সে আবার নথিগুলোর দিকে তাকাল। আবার পড়ল। কিন্তু তার মন যেন কিছুতেই তা গ্রহণ করতে চাইছিল না।
Duke প্রতিশ্রুতি দিয়েছে—Leyla Lewellin এবং তার সন্তান যেন কোনো অসুবিধা ছাড়াই জীবন কাটাতে পারে, তার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা সে করবে। এটা কোনো সহানুভূতি থেকে নয়, কিংবা তাকে অন্তঃসত্ত্বা করার দায়বদ্ধতা থেকেও নয়। কেবলমাত্র ন্যূনতম দায়িত্ব—যদি Leyla তা মেনে নেয়।
এমনকি সে একটি ধারা যোগ করেছে—Leyla অনুমতি না দিলে কেউ তার জীবনে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না, কিংবা তাকে কোনোভাবে বিরক্ত করতে পারবে না।
সে এটাও নিশ্চিত করেছে যে, Leyla চাইলে তার গর্ভের শিশুকে Matthias von Herhardt-এর বৈধ সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। তবে সে চাইুক বা না চাইুক—সে নিজের ইচ্ছেমতো সন্তানকে বড় করতে সম্পূর্ণ স্বাধীন।
সবশেষে সে লিখেছে—Leyla তার কাছে যা চাইবে, সে নিঃশর্তভাবে তা মেনে নেবে। তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো আপত্তি তোলা হবে না।
তবু এর মাঝেও কিছু শর্ত ছিল, যা Leyla-কে মানতেই হবে। সে যেহেতু এখনো অন্তঃসত্ত্বা, তাই তাকে Berg Empire-এর সবচেয়ে নিরাপদ অঞ্চলে রাখা হবে। পরে সে যদি চলে যেতে চায়, সে স্বাধীন—কিন্তু সন্তান জন্ম দেওয়ার পরেই।
এটাই ছিল তার একমাত্র শর্ত। বাকি সবকিছু ছিল Leyla-র সিদ্ধান্তের ওপর। সে যদি Ratz-এ যেতে চায়, Herhardt পরিবারের আইনজীবীরা তার জন্য সবরকম সহায়তা করতে প্রস্তুত।
পছন্দ।
সম্মান।
স্বাধীনতা।
এই তিনটি বিষয়ই নথিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা ছিল। অথচ সেগুলো পড়তে পড়তে তার ভেতরে কিছু একটা অস্বস্তিকরভাবে মোচড় দিচ্ছিল।
নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা। নিজের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান।
এই জিনিসগুলো তার সঙ্গে কাটানো সময়জুড়ে কখনোই অস্তিত্বশীল ছিল না।
এই নথিতে তার ইচ্ছাকেই সবার ওপরে রাখা হয়েছে।
এটা অবিশ্বাস্যরকম ভালো শোনায়।
তবু… কেন তাকে এত শূন্য লাগছে, এখন যখন সে তাকে ছেড়ে দিচ্ছে?
‘সকালের সেই কথোপকথনটা কোনো স্বপ্ন ছিল না।’
এই একটিমাত্র ভাবনাই তাকে জমিয়ে দিল।
এরপর কী—সে কিছুতেই বুঝতে পারছিল না।
“এখন তো ভ্রমণ করা কঠিন, তাই না?”
Kyle অধৈর্য হয়ে জিজ্ঞেস করল।
“আগামীকাল বের হওয়া কেমন হয়?”
তার চোখের দিকে একবার তাকিয়েই Kyle বুঝে গেল—Leyla এখনো মনোযোগ হারিয়ে ফেলেছে। সে জানত। খবরটা খুব তাড়াতাড়ি, খুব আগ্রহ নিয়ে আনা হয়েছে।
তার উচিত ছিল না এখনই তাকে সিদ্ধান্ত নিতে চাপ দেওয়া—বিশেষ করে যখন সে এখনো পুরোপুরি সেরে ওঠেনি। কিন্তু উত্তেজনায় সে ভুলে গিয়েছিল, Leyla এখনো কতটা ভঙ্গুর।
তার পক্ষেও এটা অবিশ্বাস্য ছিল। Duke-এর কাছ থেকে এমন প্রস্তাব—অলৌকিকের মতো।
Kyle Duke-এর উন্মাদনা দেখেছে। Leyla থাকুক বা না থাকুক—সে কখনোই সহজে তাকে ছাড়তে রাজি ছিল না। এমনকি তার সন্তানকে মেরে ফেলতে হলেও না।
তাহলে এখন কীভাবে সে এত সহজে তাকে ছেড়ে দিচ্ছে? নথি থাকা সত্ত্বেও এটা বিশ্বাস করা কঠিন ছিল। আর এটাই Kyle-এর উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। এর আগেও Duke হঠাৎ করে মত বদলেছে—কে জানে, আবার কবে বদলাবে?
Duke চলে যাওয়ার আগে Kyle-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল—Sienna-য় না থেকে Leyla-র সঙ্গে থাকতে। তারা ইতিমধ্যেই থাকার জন্য একটি নিরাপদ জায়গা প্রস্তুত করছিল, বোমায় ক্ষতিগ্রস্ত কোনো বাড়ি নয়।
Kyle ভেবেছিল—সে আপাতত সেখানে থাকবে, যথেষ্ট সুস্থ হবে, তারপর Berg-এ ফেরার দীর্ঘ যাত্রার জন্য প্রস্তুত হবে। তারপর তারা Ratz-এ স্থায়ী হবে।
Duke চলে যাওয়ার আগে এটাই ছিল তার শেষ আদেশ।
“তুমি ঠিক আছো, Leyla?”
Kyle সাবধানে জিজ্ঞেস করল।
অবশেষে সে তার দিকে তাকাল। চোখের ভেতর কিছুই পড়া যায় না—শূন্য, নিরাবেগ।
“তুমি নিশ্চয়ই এখনো ধাক্কায় আছো,”
Kyle নরম স্বরে বলল, সহানুভূতির হাসি নিয়ে।
“আমি জানি এটা অনেক কিছু একসাথে। আমার কাছেও অবিশ্বাস্য লেগেছিল।”
Kyle তার ভঙ্গুর মুঠিগুলো ধরে নিল। উষ্ণ, কোমল হাতে সেগুলো ঘিরে ধরল।
উল্লাস লুকিয়ে রাখাই তার পক্ষে কঠিন ছিল—সে জানত, এখনই উদযাপন করার সময় নয়।
ভীষণ ঠান্ডা।
তার এখনও ভীষণ ঠান্ডা লাগছে।
তার উষ্ণতা কোথায়?
“কিন্তু আমি কথা দিচ্ছি, এটা সত্যি। এখন আর তোমার ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।”
সে উজ্জ্বল হাসল।
“এখন তুমি Duke-এর কাছ থেকে মুক্ত।”
সে Leyla-কে ফিরে পেয়েছে। তার ভেতরটা আনন্দে নেচে উঠছিল। হৃদয়টা পরিপূর্ণ। তার স্বাধীনতায় সে যেন ফেটে পড়তে চায়।
সবকিছু আবার আগের মতো হতে পারে…
সেই গ্রীষ্ম। যখন তারা দুজনই প্রায় প্রাপ্তবয়স্ক, আর সবকিছু ভেঙে পড়ার আগের সময়।
হঠাৎ Leyla নড়ল। সে তার হাত ছাড়িয়ে নিল, আর নথিগুলো পাশের টেবিলে রেখে দিল। কিছুক্ষণ সেগুলোর দিকে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে, ধীরে ধীরে সে বিছানার কিনারা থেকে পা নামাল, উঠে দাঁড়াল।
Kyle স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাকে সাহায্য করতে হাত বাড়াল। কিন্তু সে সংক্ষিপ্তভাবে মাথা নেড়ে না করল।
সে কোনো সাহায্য চায় না। তবু হারিয়ে যাওয়ার শূন্যতা সে এড়াতে পারল না। Kyle সতর্কভাবে তার পিছু নিল। দরকার হলে সাহায্য করবে—এই ভেবে।
Leyla কয়েক কদম এগোল। শরীর ভারী, পা টলমল করছে। দরজার দিকে।
সেই দরজা। যেটা তাকে বন্দি করে রেখেছিল।
তার ভঙ্গুর আঙুলগুলো ঠান্ডা ধাতব দরজার হাতলে জড়িয়ে ধরল। সে ঘোরাল। দরজাটা খুলে গেল।
দরজার কর্কশ শব্দে তার চোখ ভিজে উঠল।
খোলা দরজা।
একসময় যেসব তালা তাকে আটকে রেখেছিল, সেগুলোর ক্ষতচিহ্নে দরজাটা ক্ষতবিক্ষত ছিল।
কিন্তু এখন—সব তালা উধাও। তার আঙুলগুলো বিস্ময়ে সেই শূন্য দাগগুলো ছুঁয়ে গেল। আর কোনো বাধা নেই। তার সামনে, তার চারপাশে, তার মাঝে—কিছুই নেই। সে পালাতে পেরেছে।
সে সত্যিই তার কাছ থেকে মুক্ত।
*************
গাড়িটা আবার থেমে গেল। চাকা আবার কাদার গর্তে আটকে গেছে। চালক এতবার এমন হওয়ায় এতটাই বিরক্ত হয়ে পড়েছিল যে, নির্ধারিত সময়ে পৌঁছানোর আশা সে প্রায় ছেড়েই দিয়েছে।
“দুঃখিত, Major,”
চালক ক্ষমা চাইল।
Matthias কেবল হালকা মাথা নেড়ে স্বীকৃতি দিল, তারপর গাড়ি থেকে নামল।
টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে কাঁচা রাস্তা একেবারে কাদার সাগরে পরিণত হয়েছে। তবু এটাই ছিল একমাত্র পথ—বাকি পাকা রাস্তা আর সেতুগুলো যুদ্ধের ধ্বংসে নিশ্চিহ্ন।
“সূর্য শিগগিরই অস্ত যাবে,”
Lieutenant উদ্বিগ্ন চোখে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল।
“রাতে চলা খুবই বিপজ্জনক হবে।”
“এই পথেই এগোলে এক ঘণ্টার মধ্যে আমাদের ইউনিটের একটি ঘাঁটিতে পৌঁছে যাব,”
Matthias হিসেব কষে বলল।
“আজ রাতটা ওখানেই থামি।”
“Yes, Major,”
Lieutenant সম্মতি জানাল। তারপর অন্য দুই সৈন্যকে নির্দেশ দিতে দিতে গাড়িটা কাদা থেকে ঠেলতে গেল।
Matthias সময়টা লক্ষ করল। তারপর একটা সিগারেট বের করে ধরাল। কিছুক্ষণ ধোঁয়া ছাড়ল।
তারপর—সে নিজেকেই এমন সব প্রশ্ন করতে শুরু করল, যেগুলোর উত্তর সে কোনোদিনই দেবে না।
সে ফিরে এলে—Matthias জানত—সে আর Leyla-র সঙ্গে থাকবে না। কিন্তু তার মানে এই নয় যে সে এভাবে সময় নষ্ট করতে চায়। তবুও, এটাই তো সত্য।
Leyla-কে পাশে না পেলে তার পুরো সময়, তার পুরো অস্তিত্ব—সবই বৃথা হয়ে যাবে।
ঠোঁটে একরাশ তিক্ত হাসি ফুটে উঠল। নিজের ভেতরে জন্ম নিতে থাকা অস্থিরতাকে সে স্পষ্ট টের পাচ্ছিল।
তার দিনগুলো ঠিক এমনই হয়ে যাবে।
নিরস। একঘেয়ে। অভ্যাসের পুনরাবৃত্তি।
Leyla চলে গেলে তার জীবনে আর কিছুই বদলাবে না।
হয়তো তারও তাড়াতাড়ি উচিত—তাকে ছেড়ে দেওয়া।
এই ফ্রন্ট আপাতত স্থিতিশীল ছিল। গেরিলা বাহিনী সমস্যায় পড়লেও, অগ্রসর হওয়া খুব কঠিন হবে না—কারণ পেছনের সেনা ও রসদ সরবরাহের পথগুলো এখনো মজবুত। তবুও, অতিরিক্ত নীরব Confederate বাহিনী নিয়ে Crown Prince উদ্বিগ্ন ছিলেন।
Matthias-এর মনেও একই আশঙ্কা। যুদ্ধের শুরুতেই তারা বড় ধাক্কা খেয়েছিল। আর এখনো—শত্রুপক্ষের কৌশলগত অবস্থানগুলো আগের চেয়ে দ্রুত ভেঙে পড়ছে। এই ধারা অদ্ভুত। এর কোনো হিসেব মেলেনি।
যখন বাকি সেনারা এটাকে একতরফা বিজয় বলে ধরে নিচ্ছিল, তখন তার মাথার পেছনে এক ক্ষীণ কণ্ঠ বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছিল—এটা Lovitan বাহিনীর পরাজয় নয়, বরং হয়তো এক গভীর কৌশলগত ফাঁদ।
যদি কোনো ফাঁদ পাতা হয়ে থাকে?
যদি এই মুহূর্তেই Berg সেনাবাহিনীর রসদ সরবরাহের পথগুলো কেটে ফেলা হয়ে থাকে, লুট হয়ে থাকে—বিশেষ করে এখন, যখন তারা Lovitan ভূখণ্ডের এত ভেতরে?
Crown Prince সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি ধরে নিয়েই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। অবশ্যই, General Fondelman—যিনি নিশ্চিত ছিলেন যে Confederacy-কে সাহায্য করার মতো আর কোনো দেশ অবশিষ্ট নেই Jin-এর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যাবেন না।
এখানে মূল চাবিকাঠি ছিল Ettar—সমুদ্রপারের সেই রাজ্য। Lovita-র সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য মিত্র হওয়া সত্ত্বেও, তারা মাসের পর মাস ধরে নিষ্ক্রিয়, যুদ্ধ এড়িয়ে চলছিল। বিশ্বাসঘাতক হয়ে থাকলে ভালোই হতো, কিন্তু আশাবাদী হওয়া কঠিন ছিল—কারণ Lovita গলা ধরে হলেও তাদের যুদ্ধের ময়দানে টেনে আনবে।
যদি কোনো পাল্টা আক্রমণ শুরু হয়, Sienna পরিণত হবে দুই অঞ্চলের পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে।
তার আগেই Leyla-কে যত দ্রুত সম্ভব Berg-এ পাঠানোর উপায় খুঁজে বের করতে হবে।
“সব প্রস্তুত, Major!”
রওনা হওয়ার জন্য প্রস্তুত সৈন্যরা জোরে ডেকে উঠল।
ঠান্ডা, কাদামাখা মাটিতে সিগারেটটা চেপে নিভিয়ে ফেলল Matthias। ধূমপান থামিয়ে সে তাদের দিকে এগোতে শুরু করেছিল—হঠাৎ থেমে গেল। ভ্রু কুঁচকে গেল। তার চোখ সরু হয়ে চারপাশ স্ক্যান করতে শুরু করল। এই আকস্মিক পরিবর্তন লক্ষ্য করে এক সৈন্য মুখ খুলতে যাচ্ছিল—
“Major, কোনো সমস্যা—”
Matthias সঙ্গে সঙ্গে হাত তুলে তাকে থামিয়ে দিল।
আর কিছু বলার সুযোগ দিল না। বাকি সবাইও যে যার কাজ থামিয়ে দিল। তারা অপেক্ষা করছিল—Matthias কী দেখছে, তা প্রকাশ পাওয়ার জন্য।
ঘাঁটির খুব কাছেই ছিল তারা। কিন্তু তাতে কিছু যায় আসে না। পেটের ভেতর অশুভ মোচড় ছাড়া কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই—
চারদিক থেকে ছদ্মবেশী পোশাকে লোকজন উঠে এসে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল!
নির্জন পথ জুড়ে গুলির শব্দ প্রতিধ্বনিত হতে লাগল।
গাছে বসে থাকা পাখিরা ভয়ে উড়ে পালাল।
একসময়ের শান্ত গ্রামীণ রাস্তাটা মুহূর্তেই তছনছ হয়ে গেল।
************
তারা চলে যাওয়ার পর তিন দিন কেটে গেছে।
তবুও—তার ফেরার কোনো চিহ্ন নেই। Leyla নিজের অজান্তেই তার অনুপস্থিতি নিয়ে অস্থির হয়ে পড়ছিল।
কোথায় সে—এই না জানা বিষয়টা তার মনকে শান্ত হতে দিচ্ছিল না।
সে জানালার ধারে সতর্ক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকত, এক ঝলক হলেও তাকে দেখার আশায়। হঠাৎ পেছনে দরজার হাতলে ক্লিক শব্দ। তার হৃদয়টা যেন বুক থেকে লাফিয়ে বেরিয়ে এলো— কিন্তু ঘুরে তাকিয়ে দেখল—
Kyle।
Kyle তাকে উৎসাহভরা, কোমল হাসি দিয়ে দেখছিল।
“তুমি কি প্রস্তুত?”
সে সদয়ভাবে জিজ্ঞেস করল।
ভেতরে ভেতরে হতাশা চেপে রাখার চেষ্টা করল সে। Leyla এখনো কতটা আগ্রহ নিয়ে Duke-এর ফেরার অপেক্ষায় আছে—সে বুঝতে পারছিল। এই কারণেই সে জানালার ধারে দাঁড়িয়ে থাকে। সে Duke-কে ফিরে আসতে দেখতে চায়।
“এখন যাওয়ার সময়, Leyla,”
Kyle নরমভাবে তাগাদা দিল।
সে জানত—Leyla এখনো ঠিকমতো হাঁটতেই পারে না, Berg পর্যন্ত যাত্রা তো দূরের কথা।
তবুও—যুদ্ধক্ষেত্রে থাকার চেয়ে যেকোনো জায়গা ভালো। বিশেষ করে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীর জন্য।
“Kyle…”
Leyla আপত্তি তুলতে চাইল।
কিন্তু Kyle এগিয়ে গেল।
“এটার ভিতরে তো সব , তাই না?”
সে শান্তভাবে বলল, বিছানার পায়ের কাছে রাখা তার লাগেজ ব্যাগ তুলে নিয়ে। কণ্ঠটা হালকা আর সদয় রাখার চেষ্টা করছিল।
“আমি… Kyle…”
Leyla আবার বলল।
এবার সে আর নিজেকে সামলাতে পারল না। দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
“তোমাকে তাকে ছেড়ে দিতে হবে, Leyla,”
সে অনুনয়ের সুরে বলল, চোখে চোখ রেখে। মুখের অভিব্যক্তি কঠিন, কিন্তু ভেতরে মিনতি। সে নিজের সঙ্গে বা তার সঙ্গে মিথ্যা বলতে পারবে না। Duke যখন তাকে বলেছিল Leyla-কে ছেড়ে দেবে—ঠিক তখন থেকেই Kyle নিজের কল্পনায় ডুবে গিয়েছিল।
Leyla-কে নিয়ে নিজের স্বপ্নের জীবন।
যুদ্ধটা শিগগিরই শেষ হয়ে যাবে। তারপর তারা Ratz-এ থাকবে—একসঙ্গে বিয়ে করবে, আর সে Layla-র সন্তানকে নিজের সন্তানের মতো বড় করবে। আর হয়তো একসময়, তাদের একসঙ্গে কাটানো বছরগুলোর মধ্যেই, তার নিজের সন্তানও হবে—Layla-র সঙ্গে। তারা হবে সেই সুখী পরিবার, যার স্বপ্ন তারা সবসময় দেখেছিল। এই ভাবনায় সে আকাশে ভাসছিল— যতক্ষণ না সে Layla-র জেগে ওঠার পরের প্রতিক্রিয়াটা দেখল। শেষ পর্যন্ত— সে ছিল না, যা Layla চেয়েছিল।
“আমি তোমাকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনার জন্য জোর করছি না,”
Layla আবার আপত্তি তুলতে শুরু করতেই Kyle তাড়াতাড়ি যোগ করল।
“আমি ভেবেছিলাম তুমি আমাকে এর চেয়ে ভালো চেনো, Layla।” সে বিষণ্ন এক হাসি হাসল। তার এই সব ভাবনাই ছিল— কেবলই কল্পনা।
রূপকথার মতো এক ভবিষ্যৎ, যা চিরকাল তার মাথার ভেতরেই থাকবে, বাস্তবে কখনো আসবে না।
সে এটা আগেই জানত। এ ব্যাপারে সে নিজেকেও মিথ্যা বলবে না। সবশেষে— সে তো আগে ছিল তার সবচেয়ে ভালো বন্ধু। প্রেমিক হিসেবে সে তাকে গ্রহণ করেছিল অনেক পরে।
আর Layla যে Kyle-কে চেয়েছিল—সে ছিল সেই Kyle। যে Kyle-কে সে মিস করত। সে নয়, যে তাকে ভালোবাসে— বরং সে, যে কেবল তার বন্ধু হয়ে থাকতে সন্তুষ্ট। Layla-কে ভালোবেসে অন্ধ বোকা হয়ে থাকতে তার ইচ্ছের শেষ নেই। কিন্তু সে চিরকাল নিজেকে বোকা বানিয়ে রাখতে পারে না। সত্যের দিকে চোখ বন্ধ করেও থাকতে পারে না। Layla কখনোই চাইবে না— সে যেন কোনো সন্তানের বাবা হয়, বিশেষ করে যখন সেই সন্তান তার নিজের নয়।
আর তার চেয়েও বেশি— যখন Layla তাকে ততটা ভালোবাসে না, যতটা সে Layla-কে ভালোবাসে। এটাই ছিল তার অস্বীকারহীন সত্য। তাদের দুজনেরই অস্বীকারহীন সত্য। তবু তার মানে এই নয় যে সে Layla-কে সুখ খুঁজে পেতে দেখতে চায় না, কিংবা সে যেন তার ভেতরের সব ক্ষত সারিয়ে তুলতে পারে—এটা সে চায় না। যতই তার কষ্ট হোক না কেন, সে বন্ধু হিসেবেই সন্তুষ্ট থাকতে শিখবে।
কারণ সে যতই Layla-র সঙ্গে থাকতে চায়—তার চেয়েও বেশি চায়, Layla যেন সুখী হয়।
“আমি শুধু এটুকুই চাই—তুমি সুখী হও,”
সে বলল, কপালে ভাঁজ পড়ে গেল, তার দিকে তাকিয়ে।
“আর এটা বলার জন্য আমাকে ক্ষমা করো, কিন্তু—ও মানুষটা কখনোই তোমাকে আর তোমার সন্তানকে সুখী করতে পারবে না।”
Duke তার সঙ্গে যা যা করেছে— আর যা করতে সে প্রস্তুত ছিল… Kyle যা দেখেছে— Layla কেবল কষ্টই পেয়েছে, শুধু তার পাশে থাকার জন্য। এক মুহূর্তের জন্যও সে নিজের ক্ষত সারানোর সুযোগ পায়নি—তার আগেই নতুন নতুন আঘাত সে দিয়েছে।
এতে যে কেউ ভেঙে পড়বে। Layla-ও তার ব্যতিক্রম নয়।
“এই মুহূর্তে তুমি সঠিক মানসিক অবস্থায় নেই,”
Kyle নরম স্বরে ব্যাখ্যা করল।
“বিশ্বাস করো বা না করো—এই পুরো ঘটনাটা তোমাকে এখন সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থেকে অনেকটাই বঞ্চিত করেছে। তাই অনুগ্রহ করে, আপাতত আমাকে বিশ্বাস করো—ঠিক আছে?”
তার কথার প্রতিবাদ করতে না পেরে Layla চুপ করে গেল। তার মাথা যা বলছে আর Kyle যা বলছে—এই দুয়ের মধ্যে সে দোলাচলে পড়ে গেল। তার তো Kyle-কে বোঝার কথা। শেষ পর্যন্ত, সে তো তাকে মিথ্যা বলছে না। Duke তাকে নির্যাতন করেছে।
ভয় দেখিয়েছে। ব্ল্যাকমেইল করেছে। ধর্ষণ করেছে।
জোর করে, কিংবা কখনো তার সম্মতির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে—তার সঙ্গে থেকেছে।।এটা স্পষ্ট—
সে তাকে ভালোবাসে না।
সবকিছুই ছিল কেবল এক ধরনের আসক্তি। বাসনাকে ভালোবাসা ভেবে নেওয়া। কিন্তু সেটা ভালোবাসা নয়। ভালোবাসা কখনো এমন ব্যথা দেয় না। এটা ভালোবাসা ছিল না— যদিও সে একসময় ভেবেছিল, হতে পারে। Kyle এগিয়ে এসে Layla-র হাত ধরল। ধীরে, কিন্তু দৃঢ়ভাবে তাকে ঘরের দরজার দিকে নিয়ে যেতে লাগল।
Layla যেন ঘোরের মধ্যে ছিল। মেঘের ওপর হাঁটার মতো অনুভূতি— Duke-কে পেছনে ফেলে যাওয়ার চিন্তার বাইরে আর কিছুই সে দেখতে পাচ্ছিল না।
সে তাকে পেছনে ফেলে যাচ্ছে। ঠিক তখনই—
সামনের দরজাটা খুলতেই—
Marquis Lindman তাদের সামনে এসে দাঁড়াল।
তাদের বেরিয়ে যাওয়া সেখানেই থেমে গেল।
“তুমি কি চলে যাচ্ছ?”
সে নির্দ্বিধায় প্রশ্ন করল, দেয়ালে হেলান দিয়ে।
তার চোখ ছিল তীক্ষ্ণ, নির্লিপ্ত—
এমনকি যখন তার দৃষ্টি Layla-র ওপর এসে থামল।
“Miss Lewellin, তুমি কি তাকে এভাবেই ফেলে চলে যাবে?”
“Duke নিজেই তাকে যেতে দিয়েছেন,”
Kyle কঠোর দৃষ্টিতে পাল্টা বলল।
“তাই এতে আপনার কোনো মাথাব্যথার কারণ নেই।”
সে Riette-কে Layla-র কাছে যেতে বাধা দিল।
Lindman-র দৃষ্টি এবার Kyle-এর দিকে ঘুরে গেল।
“তুমি কি মনে করো, তুমি তার থেকে আলাদা?”
সে সমালোচনামূলক সুরে জিজ্ঞেস করল।
Kyle কথাটার ইঙ্গিতে কেঁপে উঠল।
“আমরা তাড়ায় আছি, Marquis Lindman,”
Kyle বিরক্ত হয়ে বলল।
“আপনি যদি অনুমতি দেন, আমাদের যাওয়ার জায়গা আছে।”
সে Layla-কে টেনে নিতে যাচ্ছিল—
কিন্তু Riette থামল না।
“দেখুন, আমি Matthias-এর পক্ষে সাফাই গাইছি না,”
সে তাড়াতাড়ি বলল।
“ও অসুস্থ, পাগল—এই সব করার জন্য। কিন্তু—” সে আকুল দৃষ্টিতে Layla-র দিকে তাকাল। Layla-র চোখ তখন Kyle-এর কাঁধের ফাঁক দিয়ে তার ওপর স্থির।
সে এমনভাবে তাকিয়ে ছিল—
ঠিক যেন থাকার জন্য একটা কারণ খুঁজছে।
“Ms. Lewellin, সে শুধু আপনার জন্যই এতদূর এসেছে।”
“Marquis!”
“Matthias এটা যেকোনো মানুষের জন্য করত না,”
Riette জোর দিয়ে বলল।
“সে নিজের বিয়ে ভাঙত না। নিরাপদ পথ থাকতে এমন ঝুঁকিপূর্ণ মিশনে স্বেচ্ছায় যেত না।”
Layla-র বুকটা মোচড় দিয়ে উঠল।
“আপনাকে ফিরিয়ে আনতে সে এতদূর এসেছে—যদি তার কোনো অনুভূতিই না থাকত।” তার চোখে ছিল আন্তরিকতা। বোঝানোর আকুতি।
কিন্তু Layla নিজেকে আশা করতে দিতে পারল না।
সে কেবল তাকে নিয়ে আচ্ছন্ন। সে তাকে চেয়েছে শুধু তার সৌন্দর্যের জন্য—আর তাকে ভাঙা কতটা সহজ, সেটার জন্য। এর বেশি কিছু নয়।
“আপনি কী বলছেন…?”
সে ফিসফিস করে বলল।
তার হৃদয় ইতিমধ্যেই বিশ্বাসঘাতক আশায় ভরে উঠছে।
“সে তার বাগদান ভেঙেছে,”
Riette জানাল।
“এই ফ্রন্টের নেতৃত্ব নিতে স্বেচ্ছায় নাম লেখানোর ঠিক আগে। যাতে সে Sienna থেকে আপনাকে ফিরিয়ে আনতে পারে।” বলতে গিয়ে সে লজ্জিত হয়ে পড়ল।
আর Layla-র গাল উষ্ণতায় রাঙা হয়ে উঠল—
তার জন্য করা এই প্রচেষ্টার কথা শুনে।
“এতে কিছুই বদলায় না,”
Kyle কঠোর স্বরে বলে উঠল, Riette-এর দিকে তাকিয়ে।
“সে Layla-কে ছেড়ে দিচ্ছে, কারণ সে জানে—এটাই তার জন্য সবচেয়ে ভালো।”
তারপর সে Layla-র দিকে ফিরল।
“আর সে Lady Claudine-কে বিয়ে করছে না বলেই—
তোমার সঙ্গে করা তার সব ভয়ংকর কাজ মুছে যায় না।”
“না, Kyle—”
“আর যদি তুমি মনে করো, এটা সন্তানের ভালোর জন্য,”
Kyle কথা চালিয়ে গেল,
“তাহলে আবার ভাবো, Layla।
এইমাত্র সে যা করতে চেয়েছিল—তারপরও কি তুমি সত্যিই মনে করো, সে ভালো বাবা হতে পারবে?”
তার সন্তান।
ঠিকই তো।
এই কথাটা মনে পড়তেই Layla নিচে তাকাল—
নিজের ফুলে ওঠা পেটের দিকে। তার অনুভূতি—যাই হোক না কেন— সেগুলো স্বাভাবিক নয়।
তার প্রতি, তার সন্তানের প্রতি— সে যা অনুভব করে, তা কখনোই স্বাভাবিক হবে না। হয়তো সে নিজেও এটা জানত। এই কারণেই হয়তো সে অবশেষে তাকে ছেড়ে দিয়েছে। মুক্ত করে দিয়েছে। তাকে— আর তার সন্তানকেও।
“Miss Lewellin—”
Riette আবার বলার চেষ্টা করল—
যুক্তি ছেড়ে অনুভূতির দিকে তাকাতে অনুরোধ করতে।
কিন্তু Kyle দৃঢ়ভাবে তাদের মাঝখানে দাঁড়াল।
তার আহ্বান—হৃদয় নয়, যুক্তি দিয়ে ভাবো।
“অনুগ্রহ করে, তাকে একবার শেষ সুযোগ দিন,”
Riette মিনতি করল।
“তার অলৌকিক ঘটনা হয়ে উঠুন।”
Kyle নরম চোখে তার দিকে তাকাল।
কিন্তু সেই দৃষ্টির ভেতরেও ছিল অনুরোধ।
“চলো,”সে আস্তে বলল।
“এখন যাওয়ার সময়, Layla।”
চলবে.....