#Cry_Even_Better_If_You_Beg
#Translator_by_গল্প
#পর্বঃ১৪১
⚠️ সতর্কবার্তাঃ এখানে অনেক ডার্ক সিন রয়েছে, নিজ দায়িত্বে পড়ুন। যারা অতিরিক্ত রোমান্টিকতা পছন্দ করেন না তারা চাইলে এটি স্কিপ করতে পারেন।
Chapter 141
যুদ্ধের কালো মেঘ দিগন্তে জমতেই সঙ্গে সঙ্গে একটি অবরোধ জারি করা হয়। সেই আদেশ মুহূর্তের মধ্যেই সব সাধারণ নাগরিকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। শহরের ভেতরে-বাইরে সব ধরনের যাতায়াত সঙ্গে সঙ্গেই স্থগিত করা হয়—ফলে আর কেউ শহরে ঢুকতে পারল না, আবার কেউ পালিয়েও যেতে পারল না।
ব্যারাকের ভেতর হেডকোয়ার্টারের সামনে উদ্বিগ্ন মুখে পায়চারি করছিল Kyle। ঘটনাগুলো এত দ্রুত ঘটে গেল যে সবাই একেবারেই হতভম্ব ও অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছে। এর ফলেই Layla-কে Berg-এ ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনাও থমকে যায়।
অল্প সময়ের মধ্যেই সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেছে।
Ettar—যে বিশ্বাসঘাতক হয়ে পুরো Berg Confederacy-কে সংকটে ফেলেছিল—শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং Lovita-র পক্ষ নেয়। আর Sienna পড়ে যায় সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রের মাঝখানে, কারণ আশপাশের উভয় কনফেডারেশনের অঞ্চলগুলো একে একে নিজেদের পক্ষ বেছে নিতে শুরু করে।
উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অনেকেই আশঙ্কা করছিলেন, খুব শিগগিরই Sienna পুনরুদ্ধারের জন্য আক্রমণ শুরু হতে পারে।
Kyle কবজির ঘড়ির দিকে তাকিয়ে আরও বেশি অস্থির হয়ে পড়ে। Layla পুরোপুরি সেরে ওঠার জন্য অপেক্ষা করার সময় তার আর নেই। এমনকি Berg-এ ফেরার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি নথিগুলো আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করার সুযোগও নেই। কমান্ড থেকে কোনো নতুন খবর না এলেও, শত্রু যে খুব কাছেই রয়েছে—এই সতর্কবার্তাই ব্যারাকের পরিবেশকে ভয়াবহভাবে টানটান করে তুলেছিল। প্রতিটি সৈনিকের গতিবিধিতেই সেই তাড়াহুড়ো আর চাপ স্পষ্ট ছিল।
আগের সেই হালকা, স্বচ্ছন্দ পরিবেশ উধাও হয়ে গেছে। তার জায়গায় এসেছে রুদ্ধশ্বাস টেনশন আর শক্ত হয়ে থাকা ভঙ্গি—যেন এক মুহূর্তের ভুলেই সবকিছু ভেঙে পড়তে পারে।
Sienna আবারও এমন এক বিপজ্জনক যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে, যেকোনো মুহূর্তে গুলির ঝড়ে ডুবে যেতে পারে। তাই Layla-কে এখনই এই শহর থেকে বের করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে। কিন্তু অবরোধ ভেঙে তারা কীভাবে যাবে?
অবশেষে উত্তেজনায় ফুটতে থাকা কমান্ড কিছুটা শান্ত হলে, উচ্চচাপের বৈঠক শেষে কর্মকর্তারা কমান্ড টেন্টের গোপনীয়তা ছেড়ে বেরিয়ে আসেন।
Kyle মুহূর্তের মধ্যেই Matthias-কে খুঁজে পায়।
যেমনটা আশা করা যায়, Matthias একেবারেই স্বাভাবিক—চিরচেনা ভঙ্গিতেই ছিল। তারা মাঝে মাঝে একে অপরের চোখে চোখ রাখছিল, তারপর আবার আলাদা পথে চলে যাচ্ছিল। কিন্তু এবার Kyle-এর তার দরকার।
“বর্ডারগুলোর অবস্থা কী?” দ্রুত পায়ে হাঁটতে হাঁটতে উদ্বিগ্ন কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল Kyle, Major-এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে। সে অন্তত এটুকু আশা করছিল—তাদের হাতে হয়তো এখনও কিছুটা সময় আছে।
কিন্তু Matthias-এর দৃষ্টি শুধু আরও কঠিন হয়ে উঠল। তাকে আর কিছু বলতে হলো না। Kyle বুঝে গেল—এখন আর বের হওয়ার অনুমতি মিলবে না।
“তাহলে Layla…” উদ্বেগে ফিসফিস করে বলতে গিয়েছিল Kyle, কিন্তু Matthias তাকে থামিয়ে দিল।
“Layla খুব শিগগিরই Sienna ছেড়ে যাবে,” আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বলল Matthias। Kyle বিভ্রান্ত হয়ে কপাল কুঁচকে ফেলল।
“কিন্তু সাধারণ নাগরিকদের তো অবরোধ পেরোনো নিষিদ্ধ—”
তার প্রশ্ন উপেক্ষা করে Matthias বলতে থাকল।
“Kyle Etman, তুমি কি গাড়ি চালাতে পারো?”
“কি?” Kyle অবাক হয়ে তাকাল, তারপর দ্বিধাভরে বলল, “হ্যাঁ, পারি। কিন্তু আপনি কেন—”
কথা শেষ হওয়ার আগেই Matthias যে দূরের দিকে কঠোর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, সেটা অনুসরণ করল Kyle।
তার দৃষ্টির শেষ প্রান্তে দেখা যাচ্ছিল সারি সারি অ্যাম্বুলেন্স—একটার পর একটা ক্যাম্পে ঢুকছে আর বের হচ্ছে। অবরোধ জারির পর থেকেই এই দৃশ্য চলছিল।
যতটুকু জানা গেছে, গুরুতর আহত রোগীদের ক্যাম্প থেকে বের করে সামরিক হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে—যা এখান থেকে যথেষ্ট দূরে, শত্রু আক্রমণ থেকে নিরাপদ।
“আপনি কি সত্যিই ভাবছেন—” অবিশ্বাসে Duke-এর দিকে তাকাল Kyle। Matthias শুধু তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল।
নীরবতার মধ্যেই দুই পুরুষের মধ্যে এক শব্দহীন কথোপকথন চলতে থাকল।
Duke যা-ই পরিকল্পনা করে থাকুক, এটা পরিষ্কার—সে তার সিদ্ধান্ত আগেই নিয়ে ফেলেছে।
***************
শেষবারের মতো দেখে নিয়ে Layla লাগেজ ব্যাগটা বন্ধ করল।
তারপর মোটা সোলের জুতো পরল, আর নিজের ভঙ্গুর শরীর জড়িয়ে ধরে মোটা শীতের কোটটা শক্ত করে বোতাম লাগাল। এখন শুধু Kyle যে সময়টা বলে দিয়েছে, সেই সময়ে নির্ধারিত জায়গায় পৌঁছানো বাকি।
সে অনেক আগেই সব গুছিয়ে ফেলেছিল। যাওয়ার আগে এখনও কয়েক ঘণ্টা বাকি ছিল, কিন্তু তার স্নায়ু ক্রমেই ভেঙে পড়ছিল। সবকিছু তার ধারণার চেয়েও অনেক দ্রুত এগোচ্ছে, আর এখন তাকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই Sienna থেকে পালাতে হবে।
সে কখনো ভাবেনি, Sienna ছাড়ার চিন্তায় সে এতটা নার্ভাস হয়ে পড়বে।
Kyle তাকে জানিয়েছিল, সে একটি অ্যাম্বুলেন্স চালানোর দায়িত্ব পেয়েছে—একজন গুরুতর অসুস্থ রোগীকে Sienna থেকে বের করে পিছনের ইউনিটে নিয়ে যাওয়ার জন্য, যেখানে সামরিক হাসপাতাল অবস্থিত।
সে Layla-কে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল—অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর লুকিয়ে থাকতে হবে, তবেই তারা অবরুদ্ধ শহর ছাড়তে পারবে। তাদের সঙ্গে থাকবে Marquis Lindman-ও, যাকে পিছনের ইউনিটে ফেরার জন্য ডাকা হয়েছে।
Matthias-এর নাম সে একবারও বলেনি। কিন্তু Layla জানত—এই ঝুঁকিপূর্ণ পরিকল্পনার পেছনে সেই মানুষটাই আছে। তার নিরাপত্তার জন্য এমন পরিকল্পনা আর কে-ই বা করতে পারে?
সে ভুল ভাবছে না।
কিন্তু মনে হচ্ছে, তার কাছ থেকেও বিদায় নেওয়ার সময় এসে গেছে।
প্রস্তুতির ফাঁকে Layla বারবার সবকিছু ভেবে নিয়েছে। ভাবা ছাড়া আর কিছুই যেন করার ছিল না তার।
সে এই শহর ছেড়ে যাচ্ছে। সেই মানুষটিকে ছেড়ে যাচ্ছে। তার দ্বারা চাপিয়ে দেওয়া দিনগুলো খুব শিগগিরই শুধু স্মৃতি হয়ে থাকবে।
সব ভুলে গিয়ে, নিজের সন্তানকে নিয়ে এক নতুন জীবন শুরু করবে সে। সেই ভবিষ্যতে কোথাও কোনো Duke-এর ছায়া থাকবে না।
হ্যাঁ।
এটাই তাদের দু’জনের জন্য সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।
আর চুপচাপ বসে নিজের চিন্তার ভার সহ্য করতে না পেরে, Layla তাড়াতাড়ি পর্দা একটু সরাল। চাঁদের ফ্যাকাশে উজ্জ্বল আলো সঙ্গে সঙ্গে ঘর ভরিয়ে দিল।
Marquis Lindman বলেছিলেন, তিনি নিজেই এসে এখান থেকে তাকে নিয়ে যাবেন। Kyle তখন নিজের নির্ধারিত অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে নির্দিষ্ট জায়গার দিকে রওনা দেবে। সেখানেই তারা একত্র হবে।
একটা সহজ পরিকল্পনা—কিছু না বাধা দিলে কিছুই ভুল হওয়ার কথা নয়।
আর সবচেয়ে বড় কথা—Matthias আসবে না। বিদায় জানাতেও না।
এই ভাবনাতেই তার বুকটা কেঁপে ওঠে। সে তাকে যেতে দিচ্ছে। সে জানে, সে কথা রাখে—তবু…
অজান্তেই তার হাত গিয়ে পড়ল ফুলে ওঠা পেটের ওপর। তার সন্তান একজন ভালো বাবাকে ছেড়ে যেতে চলেছে।
যে বন্ধন কখনো তৈরি হবে না, তার জন্য সে শোক করতে বাধ্য হয়।
***************
এই বিষয়টা এমন এক গোপনীয়তা হওয়ার কথা ছিল, যা মাত্র তিন–চারজন জানবে। Matthias-এর স্বার্থে Riette নিজের ভাবনাগুলো চেপে রেখেছিল, কিন্তু যারা এই পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত—তারা সবাই বিষয়টা জানত।
যুদ্ধকালীন সময়ে কমান্ডারের দেওয়া সামরিক আদেশ অমান্য করা একটি গুরুতর অপরাধ। এমন অপরাধ কোনো বীরত্বপূর্ণ কৃতিত্ব, কিংবা যেকোনো অলৌকিক সাফল্যের মাধ্যমেও ঢাকা পড়ে না, ক্ষমাও করা যায় না—যাই-ই Matthias যুদ্ধের সময় অর্জন করুক না কেন।
Riette জানতে চেয়েছিল—তার কাজিন কেন এমন এক অপরাধমূলক কাজে এতদূর যেতে রাজি হলো, যা তাকে সরাসরি সামরিক আদালতে দাঁড় করাতে পারে।
আর তার থেকেও বড় প্রশ্ন—সে নিজে কেন এতে সাহায্য করতে রাজি হয়ে গেল!
এক গভীর নিঃশ্বাস ছেড়ে Riette নিজের মুখে পানি ছিটিয়ে ধুয়ে নিল, তারপর মুছে ফেলল। তার সামনে বসে ছিল Matthias।
দু’জন কাজিনই এখন পাশাপাশি বসে, জানালার ওপারের অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে আছে—গভীর চিন্তায় ডুবে। কিছুক্ষণ আগেই যে তীব্র দৃঢ়তা নিয়ে সে Layla-কে অবরোধের মধ্য দিয়ে পাচার করার পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করছিল, সেই রূপটা এখন আর নেই।
“তুমি যেতে পারো।”
Riette-এর অস্থিরতা বুঝে যেন হঠাৎই তাকে ছুটি দিল Matthias।
তাদের চোখাচোখি হলো, কিন্তু Riette সঙ্গে সঙ্গে উঠে গেল না।
“এটা ছাড়া আর কিছুই কি আমি করতে পারি না?”
প্রশ্নটা করতেই হলো Riette-কে।
সে জানত, তার করণীয় কী। তাকে অ্যাম্বুলেন্সের দিকে যেতে হবে, আর ফিরে যেতে হবে পিছনের ইউনিটে—যেখানে তাকে মূলত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
এখন, যদি সে পথে Layla-কে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে ওঠে—তাহলে সেটাকে আদেশ অমান্য বলা যায় না। শেষমেশ, সে তো অ্যাম্বুলেন্সেই Sienna ছাড়ছে।
শুধু পার্থক্য একটাই—এই অ্যাম্বুলেন্সে একজন গোপন যাত্রী থাকবে।
যুদ্ধের সময় ব্যারাক ছেড়ে অফিসারদের বের হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। বরং অবরোধের মধ্যে যুদ্ধের হুমকিতে তাড়াহুড়ো করে বের হওয়া—তা আরও স্বাভাবিক।
তাই তাদের চলে যাওয়া কারও সন্দেহের কারণ হবে না।
যতক্ষণ না কেউ জানতে পারে—Layla তাদের সঙ্গে যাচ্ছে।
“তাহলে এটাকে আমি ঋণ শোধ বলে ধরব,” দীর্ঘশ্বাস ফেলল Riette।
“কিন্তু তোমার সঙ্গে নয়, Duke।”
“ঋণ?”
Matthias-এর চোখ সরু হয়ে এলো। সেই দৃষ্টিতে একধরনের অধিকারবোধ ছিল। Riette হাসি চাপতে পারত—যদি না সে এতটাই স্বস্তি পেত যে এই নির্বিকার মানুষটার মুখে অন্তত সামান্য অভিব্যক্তি ফুটে উঠেছে।
“একটা সময়ে আমি Miss Lewellin-কে নিয়ে ঠাট্টা করেছিলাম,” Riette ব্যাখ্যা করল,
“আর তার কারণেই তার একটা দুর্ঘটনা হয়েছিল। তাই তার জন্য এই একবার ঝুঁকি নেব। আগের সেই ঠাট্টার প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে।”
কিছুক্ষণ নীরবতা রইল, তারপর Matthias বলল—
“আমাদের বাগদানটা আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে যাওয়ার পর, তুমি নিশ্চয়ই এখন শিগগিরই Claudine-কে প্রস্তাব দেবে?”
Riette বিস্ময়ে চোখ পিটপিট করল।
“হ—কীভাবে বুঝলে?”
Matthias কেবল হালকা একটা বাঁকা হাসি দিল।
সত্যি বলতে, Riette ভেবেছিল সে হয়তো একটু নির্মম বা খোঁচা দেওয়া মন্তব্য করবে। কিন্তু না—সে অদ্ভুতভাবে শান্ত। যেন কোনো চিন্তাই নেই তার।
“কতদিন ধরে জানো?”
একটা পরাজিত দীর্ঘশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন করল Riette।
Matthias কাঁধ ঝাঁকাল।
“ঠিক কখন জানতাম সেটা বলা মুশকিল।”
তবে সে অনেক আগেই বুঝে গিয়েছিল—এই দু’জনের মধ্যে কিছু একটা আছে। একদিন হঠাৎ সব টুকরো মিলেই গেল, আর সে বিষয়টা সেভাবেই ছেড়ে দিল।
Claudine যখন তার আর Layla-র মধ্যে সম্পর্কটা বুঝে ফেলল—তখন পুরো ব্যাপারটার নিষ্ঠুর বিদ্রুপে সে হেসে ফেলেছিল।
“তুমি কি জানতে, তখনই? Claudine-এর সঙ্গে বাগদানের আগেই?”
“হ্যাঁ।”
“তবু তুমি রাজি হলে?”
Riette তিক্ততা চেপে রাখতে পারল না।
“আমি সেই বিয়েতে রাজি হইনি কোনো মিলনের জন্য,”
Matthias নির্লিপ্ত কণ্ঠে বলল।
Riette আবার দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তার ভেতরে জমে ওঠা ক্ষোভটুকুও যেন ধুয়ে গেল।
“হ্যাঁ, হ্যাঁ,” শুষ্ক স্বরে বলল সে,
“তখন তুমি একদিকে দুর্ভাগা, আবার অন্যদিকে ভীষণ সফল ছিলে।”
Matthias-এর কাছে বিয়ে মানে ছিল ব্যবসা বাড়ানোর আরেকটা উপায়।
Claudine—একটা সম্মানজনক স্কুলে ভর্তি হওয়ার মতোই ছিল। কিংবা পারিবারিক ব্যবসায় সফল হওয়ার আরেক ধাপ।
যদি তারা একে অপরকে বুঝতে পারত, যদি লালসা আর লোভে অন্ধ না হতো—তাহলে তারা নিখুঁত জুটি হতে পারত, Riette তাচ্ছিল্যের সঙ্গে ভাবল।
সে Matthias-এর সঙ্গে বড় হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তার কাজিন সম্পর্কে এখনও অনেক কিছুই অজানা। তবে একটা ব্যাপারে সে সবসময় নিশ্চিত ছিল—যত সময়ই পেরিয়ে যাক না কেন।
Matthias von Herhardt, Layla Lewellin-কে ভালোবাসে।
আর সেই কারণেই সে তাকে যেতে দিচ্ছে।
“আমি সিদ্ধান্ত বদলেছি,” শক্ত হাসি দিয়ে বলল Riette।
“আমি কখনোই তোমার জন্য দুঃখ করব না।”
Duke উদাসীনভাবে কাঁধ ঝাঁকাল।
“যা ইচ্ছে করো।”
আবারও সময় দেখে কথোপকথনের ইতি টানল Matthias।
Riette তার দিকে তাকিয়ে ছিল—চোখে ক্ষীণ সহানুভূতি। যেন সে একটু ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।
“আমি বরং—”
কথাটা শেষ হওয়ার আগেই গভীর ভোরের নীরবতা ভেঙে এক ভয়ংকর শব্দ গোটা ব্যারাক কাঁপিয়ে দিল।
Matthias ঝটকা দিয়ে উঠে দাঁড়াল। দৌড়ে জানালার কাছে গিয়ে পর্দা ছুড়ে খুলে দিল।
আরেকটা বিকট বিস্ফোরণ। এবার পুরো ভবনটাই কেঁপে উঠল।
শব্দটা আরও কাছাকাছি আসছে।
“AIR RAID! ENEMY AIR RAID IS IN PLACE!”
দূরে চিৎকার শোনা গেল। তারপর আরেকটা বিস্ফোরণ—এবার একটু দূরে, তারপর আবার অন্য দিক থেকে—
“SOUND THE ALARMS!”
“TAKE SHELTER!”
অ্যালার্ম বেজে উঠতেই সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা শোনা গেল। এক মুহূর্তেই শান্ত হোটেলটা বিশৃঙ্খলায় পরিণত হলো।
Kyle Etman যে অ্যাম্বুলেন্স চালিয়ে Sienna ছাড়বে—তার সময় এখনও এক ঘণ্টা বাকি।
কিন্তু আর অপেক্ষা করা যাবে না।
“ধুর! Matthias!”
আরেকটা বিস্ফোরণে আসবাব ধরে রাখতে রাখতে চিৎকার করল Riette।
“Etman-এর কাছে যাও!”
Matthias চেঁচিয়ে উঠল, বিস্ফোরণের ঝাঁকুনি সামলে দাঁড়িয়ে থেকে।
“ওকে বলো—রেন্ডেভু পয়েন্টে এখনই যেতে! সে খুব তাড়াতাড়ি সেখানে পৌঁছবে!”
আরেকটা বিস্ফোরণ—এবার চিৎকার আরও কাছ থেকে!
“সে উঠেই যেন এখান থেকে পুরো গতিতে বেরিয়ে যায়!”
“তাহলে তুমি?!”
Riette চেঁচিয়ে উঠল।
“আমি যদি এখন ওকে এই বার্তা দিতে যাই, তাহলে তার কাছে সময়মতো পৌঁছাতে পারব না!”
কোনো উত্তর না দিয়ে, ভবন কাঁপতে কাঁপতেই Matthias ঘুরে বেরিয়ে গেল।
সময় আর নেই। এক মুহূর্তও নষ্ট করা যাবে না।
“HEY MATTHIAS!”
Riette-এর চিৎকার অ্যালার্ম আর আতঙ্কের কোলাহলে হারিয়ে গেল।
Matthias পেছনে না তাকিয়েই দৌড়াতে লাগল।
ঘন অন্ধকারে, রাস্তায়, আগুন আর ধ্বংসের মধ্যে—যেখানে দখল করা শহরের ওপর একের পর এক গোলা বর্ষণ হচ্ছে।
*************
যে গর্জনটার সঙ্গে সে কোনোদিনই অভ্যস্ত হতে পারেনি, দু’হাত দিয়ে কান চেপে ধরেও সেটা তার কাছে অসহনীয়ভাবে উচ্চই লাগছিল!
প্রথম বোমাটা পড়তেই Layla যেই ব্যাগটা শক্ত করে আঁকড়ে ধরেছিল, সেটা ছুড়ে ফেলে দিল। তারপর হামাগুড়ি দিয়ে বেডরুমের একটা ছোট টেবিলের নিচে ঢুকে পড়ে শরীরটা গুটিয়ে নিল।
‘বেসমেন্ট! আমাকে বেসমেন্টে যেতে হবে!’
তার চোখের সামনে দৃশ্যগুলো পলকে পলকে বদলে যেতে লাগল—এই পরিপাটি ঘরটা, আর তার আগে যে গাদাগাদি করা বেসমেন্টে সে লুকিয়ে ছিল, সেই স্মৃতি।
ওই বেসমেন্টটা ছিল টাউন স্কয়ারে!
Uncle Bill কোথায়?
তাকে নড়তে হবে!
সে কি তখন রাস্তায় ছিল? তার জুতোগুলো তো পিছনে পড়ে গিয়েছিল, আর তার পা—মোজার ভেতরেই রক্তে ভিজে গিয়েছিল, তাই না?
বেসমেন্ট।তাকে বেসমেন্টে পৌঁছাতেই হবে।
আরেকটা বিকট বিস্ফোরণ হলো, আর Layla চিৎকার করে Uncle Bill-কে ডাকল!
সে ফ্ল্যাশব্যাকের মধ্যে ডুবে যাচ্ছিল। তাকে নড়তে হবে—সে জানত, এই মুহূর্তে সে এখনও নিরাপদ। কিন্তু যদি না নড়ে, তাহলে বেশিক্ষণ আর নিরাপদ থাকবে না…
কিন্তু তার শরীরটা কুঁজো হয়ে জমে রইল, টেবিলের নিচে হামাগুড়ি দেওয়া অবস্থাতেই। সে কাঁদতে কাঁদতে তার মৃত চাচাকে ডাকছিল—যেন তিনি এসে তাকে নিয়ে যাবেন।
পরের বিস্ফোরণটা ছিল ভয়ঙ্কর রকম কাছাকাছি।
হঠাৎ করেই চারপাশে কাচ ছিটকে পড়ল, আর Layla আর্তচিৎকার করে উঠল! ধ্বংসস্তূপে ভরা রাস্তা উধাও হয়ে গেল। তার সামনে পড়ে রইল Uncle Bill-এর ব্যান্ডেজে মোড়া, ক্ষতবিক্ষত শরীর।
ডাক্তারের কণ্ঠ তার মাথার ভেতর গুঞ্জন তুলছিল—বলছিল, তিনি মারা যাচ্ছেন। আর সাহায্যের জন্য তার নিজের দূরের চিৎকারগুলো চারপাশে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল—এক উন্মাদ, বধির করা বিভীষিকার মতো!
রাস্তার ওপাশে আগুন জ্বলছিল। যে সুন্দর বাড়িটায় সে আশ্রয় নিয়েছিল, তার ঠিক সামনের বাড়িটা আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছিল। Layla কেবল সামনে-পেছনে দুলতে লাগল, নিজের পেটের ভেতরের অনাগত শিশুটাকে শান্ত করার চেষ্টা করে।
“শান্ত… সব ঠিক হয়ে যাবে… সব ঠিক হয়ে যাবে… সব ঠিক হয়ে যাবে…”
মন্ত্রের মতো বারবার কথাগুলো আওড়াচ্ছিল সে।
চোখ বড় বড় করে আগুন আর ধ্বংসস্তূপের দিকে তাকিয়ে ছিল—একটা সম্মোহিত শূন্যতায়। তার মাথা আপনাআপনি দুলছিল। চোখ সরাতে পারছিল না।
সে শুধু নিজের হাঁটু দুটো যতটা পারে কাছে টেনে ধরল। তার হৃদস্পন্দন বেসামাল হয়ে উঠেছিল।
ভাঙা জানালা দিয়ে ধোঁয়া আর ছাই ভেতরে ঢুকতে শুরু করল।
এভাবে থাকলে খুব শিগগিরই সে দম বন্ধ হয়ে মরবে।
তার গর্ভের শিশুটাও দম বন্ধ হয়ে যাবে। আকাশ থেকে আরও বোমা ঝরতে লাগল। সে প্রতিটা শব্দে কেঁপে উঠছিল, অথচ তার চোখ একবারও পলক ফেলছিল না। তার শীর্ণ আঙুলগুলো নিজের বাহু জড়িয়ে শক্ত করে চেপে ধরল। নখগুলো চামড়ায় গেঁথে যেতে যেতে রক্ত বেরিয়ে এলো।
শান্ত হতে হবে। তাকে শান্ত হতে হবে! পুরো শরীর কাঁপতে থাকলেও, Layla কোনোভাবে নিজের বোধশক্তি আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করল।
টিক। টক। টিক। টক।
ঘড়িটা এখনও চলছিল। তার শব্দ এখন কানের ভেতর অস্বাভাবিকভাবে জোরে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল।
তার বুক চেপে এলো। চারপাশের বাতাস যেন পাতলা হয়ে আসছে। সে শ্বাস নিতে পারছে না! তাকে শ্বাস নিতে হবে!
এই বোমাবর্ষণ কতক্ষণ ধরে চলছে? এটা কি শেষ?
নাকি সবে শুরু? কেউ কি আসছে তাকে বাঁচাতে?
Kyle কোথায়? Marquis Lindman? তাকে কি চলে যেতে হবে? সে একা যেতে পারবে না! সে একা থাকতে চায় না! যদি তারা তাকে একা ফেলে যায়?
আরেকটা বিস্ফোরণে ভবনটা আবার কেঁপে উঠল।
তার মাথার ভেতরের তোলপাড়ের সঙ্গেই যেন মিলিয়ে গেল সবকিছু—আর তখনই তার চিন্তা ফিরে গেল তার দিকে।
Matthias von Herhardt। সে আসবে। সে সবসময়ই আসে। সে তাকে বাঁচাবে। সে সবসময় তার পাশে ছিল—সে চাক বা না চাক। সে ছিল পাখির মতো। সবখানে। সবসময়। নিশ্চয়ই সে আসবে। শেষমেশ, একবার তো সে তার জন্য এখানেই এসেছিল।
যদি কেউ তার সঙ্গে থাকে—তবে সে-ই হবে। সে তার জন্য পুরো একটা যুদ্ধক্ষেত্র পেরিয়ে আসতে পারবে।
“Hi, Leyla.”
ভারী কানে বাজতে থাকা শব্দের ভেতর থেকে ভেসে এলো সেই কণ্ঠস্বর। এই মুহূর্তে ভয় আর হতাশার থেকেও বেশি অসহনীয় ছিল সেই অদ্ভুত ছায়াময় অনুভূতি—যেটার অস্তিত্ব থাকার কথা নয়, থাকা উচিতও নয়। তার অনুভূতিগুলো তার প্রতি ছিল এক মুদ্রার দুই পিঠের মতো।
প্রথম দেখার মুহূর্ত থেকে এখন পর্যন্ত—সবসময়ই এমন ছিল। একটা ভয়ংকর অথচ সুন্দর ছেলে—যে বন্দুক তাক করে দাঁড়িয়েছিল, তার সোনার মুদ্রাগুলোর ওপর পা দিয়ে।
যে মানুষটা তাকে প্রতি মুহূর্তে একটু একটু করে ভেঙে দিয়েছে—যদিও সে আর ফিরে তাকাতে চাইত না, তবু তাকিয়েই যেত। চোখের জল আটকে রেখে Layla টেবিলের নিচ থেকে বেরিয়ে এল, ব্যাগটা জড়িয়ে ধরল। সে জানত, জায়গাটা কোথায়। কিন্তু প্রশ্ন ছিল—এই বোমাবর্ষণের মধ্যে তারা কি সেখানে নিরাপদে পৌঁছাতে পারবে?
‘কাঁদবে না।’
নিজেকে সান্ত্বনা দিয়ে, সে নিজেকে তৈরি করা খোলস থেকে জোর করে বের করে আনল। মেঝে মাঝেমধ্যে কাঁপছিল। Layla দেয়াল আর আসবাব ধরে ধরে টলতে টলতে এগোতে লাগল। তার দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসছিল।
হঠাৎ মনে পড়ে গেল—এক রাতে সে তার দেওয়া একটা ক্যান্ডি কামড়ে ধরে কেঁদেছিল। সেটাই ছিল তার জীবনে খাওয়া প্রথম এত সুস্বাদু কিছু। তাহলে সে কেন তাকে ছেড়ে চলে যেতে চেয়েছিল? তখন তো তার এমন একটা জায়গা ছিল, যেখানে সে ইচ্ছেমতো কাঁদতে পারত। হ্যাঁ, সে তাকে তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে ভয়ংকর কাজ করিয়েছিল। তবু তার বাহু যখন তাকে জড়িয়ে ধরত—সেগুলো ছিল নিরাপদ, আরামদায়ক।
তার কখনোই তাকে ছেড়ে যাওয়া উচিত ছিল না।
যে হাতটা একটু অগোছালোভাবে তাকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দিত—সেটা ছিল উষ্ণ।
এটা হাস্যকর।
এই লজ্জাটাই তার চোখের জল আরও বাড়িয়ে দিল।
দীর্ঘক্ষণ সে তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে একদম স্থির হয়ে বসে ছিল। Layla স্পষ্ট মনে করতে পারছিল—তার গালে লেগে থাকা সোয়েটারের ছোঁয়া, আর জিভে গলে যাওয়া ক্যান্ডির স্বাদ। কান্না কোনোমতে থামিয়ে সে যখন মাথা তুলেছিল, তখন সে তার ভেজা মুখটা মুছে দিয়েছিল।
ধীরে।
নরমভাবে।
যতক্ষণ না সে পুরোপুরি থেমে যায়।
Layla ফাঁকা চোখে তার দিকে তাকিয়েছিল। তার ভেতরের সেই শিশুটি—যে শেষ বাঁচিয়ে রাখা ক্যান্ডিটা কামড়াতে কামড়াতে কেঁদেছিল—মনে হচ্ছিল সে অনেক দিন ধরেই আর কাঁদছে না। ক্যান্ডির স্বাদ আর কাঁচা লাগছিল না—মিষ্টি ছিল।
এই উপলব্ধির মুহূর্তে Duke মৃদু হেসেছিল। সবকিছু খুব অদ্ভুত ছিল। এই দুনিয়ায় কেউই কাঁদতে থাকা এতিমদের পছন্দ করে না। তাই Layla Lewellin সারাজীবন হেসে এসেছে। হেসেই গেছে। এখন সে সবার চেয়েও উজ্জ্বলভাবে হাসতে পারে।
এই অপরিচিত অনুভূতিটাকে অস্বীকার করতে যেন, সে তাড়াতাড়ি তার দৃষ্টি সরিয়ে নিল। আর সে—আগের মতো ভয় না পেয়ে—নিচে নামল। প্রতিবার সে অ্যানেক্স ছেড়ে বেরিয়েছে, মনে হয়েছে যেন সে পালাচ্ছে। তখন বিষয়টা Layla-র কাছে অদ্ভুত লেগেছিল। কারণ সে তো Duke-এর কাছ থেকেই পালাচ্ছিল। ঘন গাছের ছায়া যত গভীর হচ্ছিল, বনপথে চাঁদের আলো ঢেকে যাচ্ছিল—আর সে অজান্তেই ঘুরে তাকিয়েছিল। ফিরে যাওয়ার জন্য।
তার বাহুতে আশ্রয় নেওয়ার জন্য।
কেবিনে ফেরার পথটা সেদিন ভীষণ লম্বা মনে হয়েছিল। অন্ধকার পথে হাঁটতে হাঁটতে সে বারবার পেছনে তাকিয়েছিল। প্রতিবারই মনে হতো—তার ছায়াটা একটু একটু করে বড় হচ্ছে। সে বিষয়টা ভেবে এখন ভীষণ লজ্জা পায়। সে এটা ঘৃণা করত।
এত বড় ছায়া ছিন্ন করার পরও— ছায়াগুলো বেড়েই যাচ্ছিল। তাকে আর তার পথটাকে ঢেকে ফেলছিল।
হয়তো সে এখনও সেই লম্বা ছায়া নিয়েই হাঁটছে?
হয়তো সবকিছুই একটা ভয়াবহ স্বপ্ন?
সে শিগগিরই তার বাহুতে জেগে উঠবে।
হ্যাঁ।
সে খুব শিগগিরই নিরাপদে জেগে উঠবে। Layla শক্ত করে চোখ বন্ধ করে বেডরুমের দরজার দিকে হাত বাড়াল—পালানোর জন্য… কিন্তু দরজা খোলার আগেই, কানে বাজতে থাকা শব্দের ভেতর দিয়ে আরও স্পষ্ট, আরও জোরালো একটা কণ্ঠ ভেসে এলো—
“LEYLA!”
চারপাশের বিভীষিকার মাঝেও, এই কণ্ঠ সে যে কোনো জায়গায় চিনতে পারবে!
Matthias—এটা সে-ই!
সে এসেছিল! সে সত্যিই এসেছিল তার জন্য! সে এখানে—রক্তমাংসের শরীরে তার সামনে—আর Layla অপ্রত্যাশিত আশায় ভরে উঠল!
“এখানে! আমি এখানে!”
Layla সমস্ত শক্তি দিয়ে চিৎকার করল।
“আমি এখানে!”
পরমুহূর্তেই দরজাটা ধাক্কা খেয়ে খুলে গেল! তার দৃষ্টি আবার ঝাপসা হয়ে এল—কিন্তু এবার ভয়ে নয়, স্বস্তিতে। সে কাঁদতে কাঁদতে সামনে দাঁড়ানো মানুষটাকে দেখে ফেলল। দৃষ্টি ঝাপসা হলেও—তাকে সে যে কোনো অবস্থায় চিনতে পারবে।
Matthias এসেছিল তার জন্য।
চলবে......