CRAZY LOVE 🥀
পর্ব ৭: তোমাকে হারানোর ভয়
লেখক: Mafiya Queen 👑
সকালের আলো পর্দার ফাঁক দিয়ে ঘরে ঢুকছিল।
ব্ল্যাকউড ম্যানশনের বিশাল ঘরটায় আজ অনেক দিন পর অন্যরকম একটা পরিবেশ। স্যাম জানালার পাশে দাঁড়িয়ে কফির কাপ হাতে বাইরে তাকিয়ে আছে।
তার হাতে সেই পুরোনো ছবিটা।
ছবিতে লুনা।
আর ছবির পেছনে লেখা কয়েকটি শব্দ—
“কিছু সত্য সময়ের সঙ্গে মুছে যায় না, স্যাম।”
স্যাম চোখ বন্ধ করল।
ঠিক তখনই ফোন বেজে উঠল।
রায়ান: স্যার, আপনার সঙ্গে জরুরি কথা আছে।
স্যাম: বলো।
রায়ান: লুনা ম্যাডাম আবার যোগাযোগ করেছেন। তিনি আজ আপনার সঙ্গে দেখা করতে চান।
স্যাম কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
স্যাম: আমি তাকে আর দেখতে চাই না।
রায়ান: কিন্তু স্যার, তিনি বলেছেন বিষয়টা এলোরিয়া ম্যাডামকে নিয়েও।
স্যামের হাত শক্ত হয়ে গেল।
স্যাম: কী বললে?
রায়ান: তিনি বলেছেন, এলোরিয়া ম্যাডামকে সত্যিটা জানার অধিকার আপনার চেয়েও বেশি।
স্যাম ফোনটা নামিয়ে রাখল।
তারপর এলোরিয়ার নাম্বারে কল করল।
১. অচেনা অনুভূতি
অন্যদিকে এলোরিয়া তখন নিজের ঘরে বসে চুল আঁচড়াচ্ছিল।
ফোনে স্যামের নাম দেখে তার মুখে অজান্তেই হাসি ফুটে উঠল।
এলোরিয়া: হ্যালো, মিস্টার ব্ল্যাকউড!
স্যাম: কী করছ?
এলোরিয়া: সকাল সকাল আমার খোঁজ নেওয়া হচ্ছে কেন?
স্যাম: খোঁজ নিতে পারি না?
এলোরিয়া: পারেন। তবে এত গম্ভীর গলায় কেন?
স্যাম: আজ তোমাকে দেখতে ইচ্ছে করছে।
এলোরিয়া কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থাকল।
এলোরিয়া: আপনি কি সব সময় এমন কথা বলেন?
স্যাম: না। শুধু তোমাকে।
এলোরিয়ার গাল লাল হয়ে উঠল।
এলোরিয়া: আচ্ছা, রাখছি। অফিসে দেখা হবে।
স্যাম: এলোরিয়া?
এলোরিয়া: জি?
স্যাম: আজ আমার কাছ থেকে দূরে থেকো না।
কথাটা শুনে এলোরিয়ার হাসি মিলিয়ে গেল।
এলোরিয়া: কোনো সমস্যা হয়েছে?
স্যাম: জানি না। শুধু তোমাকে কাছে চাই।
কল শেষ হয়ে গেল।
এলোরিয়া ফোনের দিকে তাকিয়ে রইল।
ছেলেটা অদ্ভুত!
কখনো বরফের মতো ঠান্ডা, আবার কখনো এমন কথা বলে যে উত্তর খুঁজে পাওয়া যায় না।
২. একটুখানি অধিকার
অফিসে পৌঁছেই এলোরিয়া দেখল স্যাম লিফটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
তাকে দেখেই স্যাম এগিয়ে এল।
স্যাম: এত দেরি?
এলোরিয়া: মাত্র পাঁচ মিনিট।
স্যাম: আমার কাছে পাঁচ মিনিটও অনেক।
এলোরিয়া: আপনি কি অফিসের সিইও, নাকি আমার সময়ের হিসাবরক্ষক?
স্যামের ঠোঁটে হালকা হাসি ফুটল।
স্যাম: দুটোই হতে পারি।
এলোরিয়া হেসে ফেলল।
ঠিক তখনই আরহাম এসে হাজির হলো।
আরহাম: গুড মর্নিং, এলোরিয়া!
এলোরিয়া: গুড মর্নিং!
আরহাম: আজ লাঞ্চে আমাদের সঙ্গে যাবে তো?
এলোরিয়া উত্তর দেওয়ার আগেই স্যাম বলে উঠল—
স্যাম: আজ ও আমার সঙ্গে লাঞ্চ করবে।
আরহাম একটু অবাক হলো।
আরহাম: ওহ! ঠিক আছে, স্যার।
আরহাম চলে যেতেই এলোরিয়া স্যামের দিকে তাকাল।
এলোরিয়া: আপনি আমার হয়ে উত্তর দিলেন কেন?
স্যাম: কারণ আমি তোমার সঙ্গে লাঞ্চ করতে চাই।
এলোরিয়া: আর যদি আমি না চাই?
স্যাম তার চোখের দিকে তাকাল।
স্যাম: তাহলে তোমাকে আটকাব না।
এলোরিয়া কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে মুচকি হাসল।
এলোরিয়া: ঠিক আছে। আজ আপনার সঙ্গে লাঞ্চ করব।
স্যামের মুখে ছোট্ট একটা স্বস্তির হাসি ফুটে উঠল।
৩. লুনার ফিরে আসা
দুপুরে স্যামের অফিসে একজন নারী এসে দাঁড়াল।
কালো পোশাক, লম্বা চুল, চোখে অদ্ভুত এক শীতলতা।
লুনা।
স্যাম তাকে দেখে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়াল।
স্যাম: তুমি এখানে কেন এসেছ?
লুনা: তোমার সঙ্গে কথা বলতে।
স্যাম: আমার উত্তর তুমি আগেই পেয়েছ।
লুনা: তুমি কি সত্যিই ভাবছ, আমাকে এভাবে দূরে সরিয়ে সবকিছু শেষ করতে পারবে?
স্যাম: আমাদের মধ্যে শেষ হওয়ার মতো কিছু বাকি নেই।
লুনা হালকা হাসল।
লুনা: তাহলে এলোরিয়াকে সব বলছ না কেন?
স্যামের চোখ কঠিন হয়ে উঠল।
স্যাম: ওর নাম তোমার মুখে আনবে না।
লুনা: কেন? ওকে ভালোবেসে ফেলেছ?
স্যাম কোনো উত্তর দিল না।
লুনা টেবিলের ওপর একটা পুরোনো খাম রাখল।
লুনা: এটা তোমার জন্য। এত দিন ধরে যেটা লুকিয়ে রেখেছিলে, তার উত্তর এর ভেতরে আছে।
স্যাম খামটার দিকে তাকাল।
স্যাম: আমি এসব বিশ্বাস করি না।
লুনা: বিশ্বাস না করলেও সত্য বদলাবে না, স্যাম।
লুনা চলে গেল।
স্যাম খামটা খুলল না।
কিন্তু তার চোখে স্পষ্ট অস্থিরতা।
৪. এলোরিয়ার প্রশ্ন
লাঞ্চের সময় এলোরিয়া স্যামের বিপরীতে বসে ছিল।
স্যাম খাবারের দিকে তাকিয়ে আছে, কিন্তু তার মন অন্য কোথাও।
এলোরিয়া: কী হয়েছে আপনার?
স্যাম: কিছু না।
এলোরিয়া: আপনি মিথ্যা বললে আপনার চোখ অন্যরকম হয়ে যায়।
স্যাম তাকাল।
স্যাম: তুমি আমার চোখ এত ভালো করে পড়তে শিখলে কখন?
এলোরিয়া: যেদিন থেকে আপনাকে বুঝতে চেষ্টা করছি।
স্যাম কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল।
তারপর বলল—
স্যাম: এলোরিয়া, তুমি কি কখনো ভেবেছ, কাউকে ভালোবাসা মানে তাকে নিজের জীবনের এমন একটা অংশ করে নেওয়া, যাকে হারানোর কথা ভাবতেও ভয় লাগে?
এলোরিয়া ধীরে ধীরে বলল—
এলোরিয়া: হ্যাঁ। তবে ভালোবাসার মধ্যে বিশ্বাসও থাকা দরকার।
স্যাম: যদি কোনো সত্য জানার পর সেই মানুষটা দূরে চলে যায়?
এলোরিয়া: তাহলে বুঝতে হবে, সত্যটা লুকিয়ে রাখার চেয়ে তাকে বিশ্বাস করাটা বেশি জরুরি ছিল।
স্যাম তার দিকে তাকিয়ে রইল।
এই মেয়েটা জানে না, তার একটা সাধারণ কথাও স্যামের ভেতরের কতগুলো বন্ধ দরজা খুলে দিচ্ছে।
স্যাম: তুমি কি আমাকে বিশ্বাস করো?
এলোরিয়া: করতে চাই।
স্যাম: শুধু চাই?
এলোরিয়া: বিশ্বাস অর্জন করতে হয়, মিস্টার ব্ল্যাকউড।
স্যাম মৃদু হেসে বলল—
স্যাম: তাহলে আমাকে সেই সুযোগটা দাও।
৫. একটি ছোট্ট উপহার
সন্ধ্যায় অফিস শেষ হওয়ার আগে স্যাম এলোরিয়াকে নিজের কেবিনে ডাকল।
টেবিলের ওপর ছোট্ট একটা বাক্স রাখা।
এলোরিয়া: আবার কী?
স্যাম: খুলে দেখো।
বাক্সের ভেতরে একটা ছোট্ট রুপালি লকেট।
লকেটের ওপর খুব সুন্দর করে লেখা—
“S & E”
এলোরিয়া অবাক হয়ে তাকাল।
এলোরিয়া: S মানে Sam, আর E মানে Eloria?
স্যাম: তোমার ধারণা ভুল নয়।
এলোরিয়া: কিন্তু এটা দেওয়ার কারণ?
স্যাম একটু কাছে এসে বলল—
স্যাম: কারণ তুমি আমার জীবনে এমন একটা অনুভূতি নিয়ে এসেছ, যেটার নাম আমি অনেক দিন ভুলে ছিলাম।
এলোরিয়া: কী অনুভূতি?
স্যাম: ভালো থাকা।
এলোরিয়া লকেটটা হাতে নিয়ে মৃদু হাসল।
এলোরিয়া: ধন্যবাদ।
স্যাম: শুধু ধন্যবাদ?
এলোরিয়া: আর কী চান?
স্যাম তার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল—
স্যাম: একদিন তোমার মুখে শুনতে চাই, তুমিও আমাকে ভালোবাসো।
এলোরিয়া কিছু বলল না।
শুধু লকেটটা নিজের ব্যাগে রেখে দিল।
কিন্তু তার মুখের হাসিটা স্যামের অজানা রইল না।
৬. সেই পুরোনো চিঠি
রাত দশটা।
ব্ল্যাকউড ম্যানশনের স্টাডি রুমে একা বসে ছিল স্যাম।
অবশেষে সে লুনার রেখে যাওয়া খামটা খুলল।
ভেতরে ছিল কয়েকটি পুরোনো কাগজ এবং একটি ছবি।
ছবিটা দেখে স্যামের মুখের রং বদলে গেল।
ছবিতে লুনা ছিল না।
ছিলেন একজন মধ্যবয়স্ক নারী।
আর তার পাশে ছোট্ট একটি মেয়ে।
স্যাম ছবিটা হাতে নিয়ে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে রইল।
কাগজের নিচে লেখা—
“ব্ল্যাকউড পরিবারের সঙ্গে এই ঘটনার সম্পর্ক কখনো প্রকাশ পায়নি। কিন্তু সত্য জানার সময় এসে গেছে।”
স্যাম কাগজগুলো আবার পড়ল।
ঠিক তখনই রায়ান ঘরে ঢুকল।
রায়ান: স্যার?
স্যাম: এই ছবির মানুষ দুজনকে খুঁজে বের করো।
রায়ান: জি স্যার।
স্যাম: আর একটা কথা। এলোরিয়ার নাম যেন কোনোভাবেই বাইরে না যায়।
রায়ান মাথা নাড়ল।
স্যাম আবার ছবিটার দিকে তাকাল।
তার মনে শুধু একটা প্রশ্ন—
এলোরিয়া কি সত্যিই এই পুরোনো ঘটনার সঙ্গে জড়িত?
নাকি কেউ ইচ্ছা করে তাদের দুজনকে একে অপরের কাছাকাছি আনছে?
৭. তোমাকে একটু বেশি ভালো লেগে যাচ্ছে
অন্যদিকে এলোরিয়া বিছানায় বসে লকেটটা হাতে নিয়ে দেখছিল।
হঠাৎ ফোনে মেসেজ এল।
Sam: ঘুমিয়েছ?
Eloria: না।
Sam: লকেটটা ভালো লেগেছে?
Eloria: অনেক।
Sam: তাহলে একটা কথা বলো।
Eloria: কী?
Sam: আজ আমাকে দেখে তোমার কেমন লেগেছে?
এলোরিয়া কিছুক্ষণ ভেবে লিখল—
Eloria: আপনাকে আজ একটু কম রাগী মনে হয়েছে।
Sam: শুধু এতটুকু?
Eloria: আর একটু ভালোও।
কয়েক সেকেন্ড পর স্যামের উত্তর এল।
Sam: আমার দিনটা সুন্দর করার জন্য ধন্যবাদ।
এলোরিয়া হাসল।
তারপর লিখল—
Eloria: শুভরাত্রি, স্যাম।
Sam: শুভরাত্রি, আমার এলোরিয়া।
মেসেজটা পড়ে এলোরিয়া ফোনটা বুকে চেপে ধরল।
তারপর নিজেই হেসে ফেলল।
কেন যেন মনে হচ্ছে, এই মানুষটার সঙ্গে তার গল্পটা খুব সাধারণ হবে না।
৮. শেষ দৃশ্য — অজানা পরিচয়
রাত আরও গভীর হলো।
একটি অচেনা ঘরে বসে একজন ব্যক্তি ফোনের স্ক্রিনে এলোরিয়ার ছবি দেখছিল।
ছবির পাশে লেখা—
ELORIA
ফোনে একটি কল এল।
অচেনা কণ্ঠ: সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চলছে?
অন্য ব্যক্তি: হ্যাঁ। স্যাম এখনো কিছুই জানে না।
অচেনা কণ্ঠ: আর লুনা?
অন্য ব্যক্তি: সে নিজের মতো করে সত্য প্রকাশ করতে চাইছে।
কিছুক্ষণ নীরবতা।
তারপর অচেনা কণ্ঠটি বলল—
“স্যাম যদি অতীতের দরজা খুলে ফেলে, তাহলে অনেক হিসাব বদলে যাবে।”
কল কেটে গেল।
টেবিলের ওপর রাখা ছবিটা উল্টে দেওয়া হলো।
ছবির পেছনে লেখা ছিল—
“THE BLACKWOOD SECRET IS NOT OVER.”
আর সেই ছবির এক কোণে ছোট্ট করে লেখা—
ELORIA KNOWS NOTHING.
চলবে... 🥀