ফন্ট সাইজ:
থিম:
Crazy Love

পর্ব 6

লেখক: Mafiya Queen

🥀 CRAZY LOVE 🥀

পর্ব ৬: তোমার চোখে লুকানো সত্য

লেখক: Mafiya Queen

রাত তখন প্রায় বারোটা।

BLACKWOOD MANSION-এর বিশাল ঘরটায় একা বসে আছে স্যাম। তার সামনে সেই পুরোনো খামটা পড়ে আছে। খামের ভেতরের ছবিটা বারবার দেখছে সে।

ছবিতে স্যাম আর লুনা।

দুজনের মুখেই হাসি। এমন এক হাসি, যা এখনকার স্যামের মুখে কেউ কল্পনাও করতে পারবে না।

ছবির পেছনে লেখা—

“কিছু গল্প শেষ হয় না, স্যাম। শুধু মানুষগুলো বদলে যায়।”

স্যাম চোখ বন্ধ করল।

— কেন ফিরে এসেছ, লুনা?

ঠিক তখনই ফোনটা বেজে উঠল।

স্ক্রিনে অচেনা নম্বর।

স্যাম কল রিসিভ করল।

— হ্যালো?

ওপাশ থেকে শান্ত একটা কণ্ঠ ভেসে এল।

— মেয়েটাকে সত্যিটা বলেছ?

স্যামের চোখ কঠিন হয়ে গেল।

— তুমি কে?

— পরিচয় জানার আগে নিজের অতীতের দিকে তাকাও, স্যাম। তুমি যাকে ভালোবাসতে শুরু করেছ, তার কাছ থেকে কিছু লুকিয়ে রেখেছ।

— আমার ব্যক্তিগত জীবনে নাক গলানোর সাহস পেয়েছ কোথায়?

ওপাশের মানুষটি হালকা হেসে বলল,

— খুব শিগগিরই দেখা হবে।

কল কেটে গেল।

স্যাম ফোনটা টেবিলে রেখে দিল। তার মনে হলো, কেউ যেন অদৃশ্যভাবে তার প্রতিটি পদক্ষেপ লক্ষ করছে।

পরদিন সকাল

এলোরিয়া আজ অফিসে একটু আগেই এসেছে।

নিজের ডেস্কে বসে কাজ করছিল, এমন সময় তার ফোনে একটা মেসেজ এল।

Sam: Good morning, Miss Mystery.

এলোরিয়া মুচকি হাসল।

Eloria: Good morning, Mr. Serious.

Sam: আজ আমাকে দেখে হাসবে না?

Eloria: আপনি কি প্রতিদিন হাসি পাওয়ার জন্য অফিসে আসেন?

Sam: না। তবে তোমাকে দেখার একটা কারণ আছে।

এলোরিয়া কিছুক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর উত্তর দিল—

Eloria: আপনি দিন দিন অদ্ভুত হয়ে যাচ্ছেন।

Sam: তোমার কারণেই।

মেসেজটা পড়ে এলোরিয়ার গাল লাল হয়ে উঠল।

ঠিক তখনই পেছন থেকে মীরা বলে উঠল,

— কী ব্যাপার? ফোনে এত হাসাহাসি কিসের?

এলোরিয়া তাড়াতাড়ি ফোনটা নামিয়ে রাখল।

— কিছু না!

মীরা চোখ ছোট করে তাকাল।

— কিছু না হলে মুখে এত হাসি কেন?

— মীরা!

দুজনেই হেসে উঠল।

স্যামের কেবিন

স্যাম কেবিনের কাচের দেয়াল দিয়ে বাইরে তাকিয়ে ছিল।

দরজায় নক হলো।

— Come in.

রায়ান ভেতরে ঢুকল।

— স্যার, লুনা ম্যাডাম আবার যোগাযোগ করেছেন।

স্যাম বিরক্ত হয়ে তাকাল।

— আমি কি তোমাকে বলিনি, তার কোনো কল আমার কাছে আসবে না?

— জি স্যার। কিন্তু এবার উনি সরাসরি আপনার সঙ্গে দেখা করতে চান।

— আমি দেখা করতে চাই না।

রায়ান কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,

— স্যার, উনি বলেছেন বিষয়টা এলোরিয়া ম্যাডামকে নিয়েও।

স্যামের মুখের অভিব্যক্তি বদলে গেল।

— কী বলেছেন?

— শুধু বলেছেন, “এলোরিয়ার জানা উচিত, তার চারপাশে কী ঘটছে।”

স্যাম চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল।

— লুনাকে খুঁজে বের করো। আজই।

— জি স্যার।

রায়ান বেরিয়ে গেল।

স্যাম জানালার দিকে তাকিয়ে রইল। তার মনে একটাই প্রশ্ন—

লুনা কীভাবে এলোরিয়ার কথা জানে?

দুপুরের বিরতি

এলোরিয়া ক্যান্টিনে বসে খাবার খাচ্ছিল। পাশে মীরা।

হঠাৎ একজন নারী এসে তাদের টেবিলের সামনে দাঁড়াল।

নারীটির পরনে সাদা পোশাক। চেহারায় অদ্ভুত এক গাম্ভীর্য।

— তুমি কি এলোরিয়া?

এলোরিয়া অবাক হয়ে তাকাল।

— জি। আপনি?

নারীটি চেয়ার টেনে বসে পড়ল।

— আমার নাম লুনা।

নামটা শুনে এলোরিয়া থমকে গেল।

এই নাম সে আগেও শুনেছে। স্যামের পুরোনো ছবিতে, তার নীরবতায়, আর কিছু অদ্ভুত কথায়।

— আপনি... স্যাম স্যারের পরিচিত?

লুনা হালকা হাসল।

— পরিচিত? একসময় হয়তো তার চেয়েও বেশি কিছু ছিলাম।

মীরা পরিস্থিতি বুঝতে না পেরে এলোরিয়ার দিকে তাকাল।

এলোরিয়া শান্ত গলায় বলল,

— আপনি আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন কেন?

লুনা কিছুক্ষণ তার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল।

— তোমাকে একটা কথা বলার জন্য।

— কী কথা?

— স্যামকে যতটা সহজ মনে হচ্ছে, সে ততটা সহজ নয়। তার জীবনে এমন কিছু ঘটনা আছে, যেগুলো সে কাউকে জানাতে চায় না।

এলোরিয়া একটু বিরক্ত হলো।

— সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমাকে কেন বলছেন?

লুনার হাসিটা মিলিয়ে গেল।

— কারণ তুমি তার জীবনের খুব কাছাকাছি চলে যাচ্ছ।

— আপনি কি আমাকে সতর্ক করতে চাইছেন?

— হয়তো।

এলোরিয়া এবার সোজা হয়ে বসল।

— দেখুন, স্যামের অতীত সম্পর্কে আমি সবকিছু জানি না। কিন্তু তার অতীতের জন্য আমি তাকে বিচারও করতে চাই না।

লুনা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।

তারপর ধীরে বলল,

— তুমি তাকে সত্যিই পছন্দ করো?

এলোরিয়া উত্তর দিল না।

লুনা উঠে দাঁড়াল।

— সাবধানে থেকো, এলোরিয়া। সব সত্য জানার পরও মানুষ একইভাবে ভালোবাসতে পারে না।

এই কথা বলে সে চলে গেল।

এলোরিয়া তার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইল।

মীরা ফিসফিস করে বলল,

— মেয়েটা কে ছিল রে?

এলোরিয়া দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

— স্যামের অতীত।

বিকেল

স্যাম নিজের কেবিনে ঢুকেই এলোরিয়াকে দেখতে পেল।

সে দরজার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল।

— তোমার সঙ্গে কথা আছে, স্যাম।

স্যাম থমকে গেল।

এলোরিয়া তাকে সাধারণত স্যার বলেই ডাকে। আজ প্রথমবার নাম ধরে ডাকল।

— বলো।

— আজ লুনা নামের একজন আমার সঙ্গে দেখা করেছে।

স্যামের মুখ মুহূর্তেই গম্ভীর হয়ে গেল।

— সে তোমার সঙ্গে কী কথা বলেছে?

— আপনার অতীত নিয়ে।

— সে তোমাকে কী বলেছে?

— বলেছে, আপনার জীবনে এমন কিছু ঘটনা আছে, যেগুলো আপনি কাউকে জানাতে চান না।

স্যাম চুপ করে রইল।

এলোরিয়া আবার বলল,

— আমি আপনার অতীত জানতে চাই না, স্যাম। কিন্তু আপনি যদি আমাকে বিশ্বাস করতে বলেন, তাহলে আমাকেও বিশ্বাস করতে হবে।

স্যাম ধীরে ধীরে তার কাছে এগিয়ে এল।

— তুমি কি আমাকে বিশ্বাস করো?

এলোরিয়া কিছুক্ষণ তার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,

— করতে চাই।

স্যাম যেন এই ছোট্ট কথাটার মধ্যেই অনেক কিছু খুঁজে পেল।

— তাহলে একটা কথা

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 6 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন