জীবনকে যদি একটা নদীর সাথে তুলনা করা যায়, তাহলে তার জলে যেমন কখনো শান্ত ঢেউ, কখনো উত্তাল স্রোত—ঠিক তেমনি আমাদের জীবনেও সুখের পাশাপাশি জটিলতা, যন্ত্রণা আর কষ্ট থাকবেই।
যেমন অন্ধকারই আমাদের আলোকে চিনতে শেখায়। অন্ধকার না থাকলে আলোর সৌন্দর্য এতটা স্পষ্ট হয়ে উঠত না। ঠিক তেমনি, কষ্ট ছাড়া সুখের প্রকৃত মূল্যও বোঝা যায় না। জীবনের প্রতিটি দুঃখ, প্রতিটি বাধা আমাদেরকে শক্ত করে, আমাদের উপলব্ধিকে গভীর করে। আর সেই কারণেই, কঠিন সময়গুলোই আমাদের শেখায়—সুখ আসলে কতটা মূল্যবান, আর আলো ঠিক কতটা উজ্জ্বল।
**********************
রেবেকাকে নিয়ে রাতে বাড়ি ফিরলো মিলন,
খালেদা খাতুন কান্না করে দেয় তাদের দেখেই
মিলন:::::: আম্মা গরুর দুধ গরম করে দেন তো রেবেকার পেট ব্যথা, শরীর দুর্বল খাইলে ভাল লাগবো
খালেদা খাতুন রান্না ঘরে ছুটে.... রান্নাঘরে গিয়ে কলিকে পাঠায় রেবেকার কাছে,,, রেবেকার কি হয়েছে সেটা যানতে,,, সে যেটা ধারণা করছে তাই নাকি সেটা জানতে,,,,, কলি অগোচরে রেবেকার কাছ থেকে খবরটা নিয়ে এসে তার মাকে দিলো, খালেদা খাতুন দুহাত তুলে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করলো, অবশেষে তার পরিবারের শান্তি আসবে।
খালেদা খাতুন চাইছিলো রেবেকা কে তার সাথে রাখতে যতোদিন না রেবেকা সুস্থ হচ্ছে, তবে দিনের বেলা ছেলের করা কাণ্ডকর্মের কথা মনে হতেই সে সাহস করল না। যার বৌ সেই ভালো রাখতে পারবে তাকে। আমেনা বেগমের মতো অতিরিক্ত মাতব্বরি করা খালেদা খাতুনের কর্ম না
***********************
রেবেকা আজ মিলনের ঘরে তার সাথেই থাকবে। মিলন অধৈর্য হয়ে বিছানায় ঝাড়লো,বালিশ ঠিক করলো,এই কয়দিন রেবেকার অবর্তমানে ঘরটা এলোমেলো হয়ে আছে,কলিও অন্তঃসত্ত্বা অসুস্থ তাই সে এখন কোনো কাজ করতে পারে না।
মিলন বিছানায় পরিষ্কার করে পাশের কক্ষে ছুটলো, রেবেকা তখনো দাঁড়িয়ে ছিল, মিলন হাতে বড় একটা কালো পলিথিন ব্যাগ নিয়ে পাশের ঘর থেকে বের হয়ে আসলো।
মিলন::::: বিবি আমরা জামাই-বৌ আমগোর ভিত্তরে লজ্জা আর লুকোচুরির যায়গা নাই, একখান কতা মনে রাখবা আমি তোমার লাইগা যা করুম,তা তোমার-আমার, আমাগোর মঙ্গলের লাইগাই করুম।
রেবেকার দাঁড়িয়ে থাকতে অস্বস্তি লাগছে, মিলনের কথা কতটা বুঝলো বোঝা গেলো না, কিন্তু স্বভাবগত ভঙ্গিতে মাথা নেড়ে বললো
রেবেকা::::: আচ্ছা।
মিলন খাটে বসে রেবেকার হাত ধরে টেনে নিয়ে নিজের সামনে দাঁড় করায়, তারপর পাশের ঘর থেকে আনা ,কালো পলিথিন ব্যাগের ভেতর থেকে
টিউব ব্যান্ডেজ,মেডিকেল কটন,গাডার,ফিতা,তুলা দিয়ে তৈরি সেনেটারি ন্যাপকিন বের করে রেবেকার হাতে তুলে দেয়
মিলন:::::: বিবি সরকারি হাসপাতালের থাইকা কিনা আনছিলাম আগেই তোমার লাইগা, হুট কইরা দরকার পরলে, পাইতাম কই তাই ,দেখছো এখন কামে দিলো।
রেবেকা::::: এইতা কি আবার !
মিলন:::::: কাপুড়ের নেকড়া অস্বাস্থ্যকর বিবি,ওতে রোগ জীবাণু থাকবার পারে,তাই এডি ব্যবহার করবা বুজছো
রেবেকা:::::: আচ্ছা কিন্তু কেমনে ?
মিলন বিনা সংকোচে রেবেকা কে স্যানিটারি ন্যাপকিন পড়ার নিয়ম বলে দেয়, রেবেকা হা করে শুধু তাকিয়ে থাকে, রেবেকা কে ঘরে রেখে বাইরে চলে আসে মিলন, রেবেকা কে শিখিয়ে দেওয়া অনুযায়ী সেনেটারি ন্যাপকিন পড়ে নেয়।
রেবেকা দরজা খুলে দিতেই মিলন ঘরে আসে, হাতে খাবারের প্লেট দুধের গ্লাস, নিজের হাতে রেবেকা কে খাবার খাইয়ে দেয় মিলন,
খেতে খেতে রেবেকা প্রশ্ন করে।
রেবেকা::::: এডি পিন্দা (এটা পরে)খুব আরাম লাগতাছে ,আন্নে কেমনে জানুইন মাইয়াগোর এত কিছু ?
মিলন রেবেকার মুখে ভাতের লোকমা তুলে দিয়ে বলে
মিলন::::: শহরে যাতায়াত আছে তো আমার দোকানের কামে, শেষেরবার যখন গেছিলাম তখন দেখছি রাস্তার পাশে মেলায় মাইনষের ভিড়, তা দেইখা আমার খুব কৌতূহল জাগলো, ওইহানে কি হইতাছে দেখবার লাইগা,গিয়া দেহি দুইজন মহিলা একজন পুরুষ মিল্লা,সবাইরে বুঝাইতাছে এই বিষয়ে, গ্রামের মানুষ তো বোঝেনা এডি কতো গুরুত্বপূর্ণ। ওইন থাইকা দেইখা আইছি ,পড়ে জানছি কই পাওয়া যায়, সরকারি হাসপাতাল পাওয়া যায়, আমি কিনা আনছি তোমার লাইগা, ভাবলাম আমার বিবি পরিপক্ক হইলে তো লাগবই।
রেবেকা:::::: ও
মিলন::::: বিবি ডাক্তার বেডির দেওয়া ঔষধ খাইছিলা সবডি ?
রেবেকা::::: হ খাইছি লগে কবিরাজের ঔষধও খাইছি।
কবিরাজের ঔষধ খাওয়ার কথাটা ভালো লাগলো না মিলনের, খুব রাগ লাগলো তার,তবে সে প্রকাশ করলো না,তার বিবি নানান রকম পরিস্থিতির শিকার সাথে কুসংস্কারেরও
খাবার খাওয়ানো শেষ করে মিলন বলে:
মিলন:::::: বিবি শরীর কি বেশি খারাপ লাগছে হুইতা পরো। কিছু লাগলে আমায় কইবা।
রেবেকা ঘাপটি মেরে শুয়ে পরে, এখন সে স্পষ্ট বুঝে পরিপক্ক কোন বিষয়টাকে বোঝায়, রেবেকা আগে যখন কলির বলা কথাগুলো মনে করেতো,নিজেকে আর মিলনকে দিয়ে কল্পনা করেছে তখন লজ্জায় লাল নীল হয়ে যেতো তার দুই গাল।
হুট হাট এ কথা মনে হতেই তো লজ্জায় মিলনের মুখের দিকে তাকাতে পারতো না রেবেকা।
তারপর থেকেই রেবেকা বুঝতে শুরু করল সবাই যার তার স্বামীর সাথে এক ঘরে ঘুমায় কিন্তু তাকে কেন, আলাদা রাখা হচ্ছে? এবং কেনই বা মিলন তাকে আদর করে চুমু খেয়ে বলতো
____জলদি পরিপক্ক হয়ে যাও না বিবি।
বিছানার এক কোনায় রেবেকা শুয়েছে তার দৃষ্টি মিলনের উপর আবদ্ধ , মিলন গায়ের শার্ট খুলে বাঁশের তৈরি হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখল, উজ্জল শ্যামলা মিলনের পেশীবহুল পেটানো শরীর উদাম হয় রেবেকার সামনে, রেবেকা দৃষ্টি ফেরায় না একই ভাবে তাকিয়ে দেখে,আগেও একটু আধটু দেখেছে, যখন মিলন পুকুরে গোসল করে ঘরে ঢুকতো তখন,তবে আজ একেবারে সামনে থেকে দেখছে।
মিলন খাটের দিকটার জানালা খুলে দিয়ে বিড়ি ধরিয়ে ঠোঁটে রাখলো,বিড়ি টানতে টানতে কোনা চোখে রেবেকা কে দেখে,এই নিয়ে দ্বিতীয় বার রেবেকা তার বিছানায় শুয়েছে। সেদিন অসুস্থ রেবেকা , দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত ছিল, বাহিরে দাদীর পাহারা ছিল কিন্তু আজ এসব নেই আর না কখনো থাকবে।
মিলন:::::: বিবি আমি রাইতে উদাম হুতি (শুয়েপরি)খালি লুঙ্গি থাকে,তাও অনেক ক্ষেত্রে গিট খুইলা এদিক সেদিক হয়,যদি কিছু দেহ লজ্জা পাইও না, স্বামীর সব দেখা বিবির অধিকার বুজছো।
রেবেকা:::::: আচ্ছা
মিলন হাসলো রেবেকা কিছু বুঝুক আর না বুঝুক সব কিছুতেই আচ্ছা আচ্ছা বলে, বিষয়টি অবশ্য তার জন্য ভালোই। মিলন বিড়িতে শেষ টান দিয়ে ফেলে দিয়ে জানালা বন্ধ করে, হারিকেনের আলোটা কমিয়ে বিছানায় শুয়ে পরলো, রেবেকা তাতে আরো সাবধান হয়ে যায়,কারন পি রি য় ড এর জন্য নিজের মর্জি মতো শুতে সমস্যা হচ্ছে, মিলন হাত বাড়িয়ে তাকে কাছে টানতেই রেবেকা চমকে গিয়ে চিৎকার করে
রেবেকা::::: আহহহহহহ্
মিলন::::: কি হইলো
রেবেকা::::: নড়াইয়েন না সব খুইলা যাইবো
মিলন রেবেকা কে দুহাতে বুকে চেপে ধরে,আর রেবেকার দুইপা নিজের পায়ের মধ্যে দিয়ে নেয়
মিলন::::: কিছু খুলবোনা সোনা আমি খেয়াল রাখুন।
কথাটা শেষ করে বিসমিল্লাহ বলে রেবেকার গলায় নাক মুখ ঘষে
মিলন::::: আমি ভদ্র সভ্য সাধু পুরুষ না বিবি,যে তোমারে কাছে পাইয়া টিক মাইরা হুইতা থাহুম,হেই সব আমারে দিয়া হইবো না, তোমার ব্লাউজ খুইলা দিলাম।
মিলন সত্যিই তাই করলো, অন্ধকাররে বিছানায় রেবেকা কে জড়িয়ে ধরে, রেবেকার গালে, ঠোঁটে গলায়, গায়ে শব্দ করে চুমু খায়, স্পর্শে-স্পর্শে অনুভব করে তার বিবির নাজুক দেহখান,যা তার পুরুষালী হাতের স্পর্শে কুঁকড়ে উঠে ক্ষণে ক্ষণে, কাঁপতে থাকা গোটা রাত, জীবনে প্রথম নারী সংস্পর্শে গিয়ে মিলন ঘুমাতে পারলো না।
*************
মিলনের বাপ দাদি ফিরেছে পরদিন বিকেলেই, রেবেকা কে ডেকে বাদল মাস্টার, সহজ সাধারণ ভাবেই কথা বলেছে যেমনটা আগে বলতো, আমেনা বেগম তো আগের থেকেও খুব বেশি আহ্লাদ করলো রেবেকার সাথে,তবে রেবেকা শশুরের সাথে সহজ হয়ে গেলেও, আমেনা বেগমের সাথে পারলো না,তিনি যা করেছেন তাতে ছোট রেবেকার কোমল মনে কঠিন দাগ কেটেছে,সেই দাগ মুছতে সময় লাগবেই।
মাঝে কেটেছে গোটা দুইদিন, রেবেকা এখন সহজ ভাবে হাঁটতে চলতে পারে, পেটের ব্যথাটা হয় মাঝে মাঝে তবে সহনীয়, বাপের বাড়ি শশুর বাড়ি মিলিয়ে ছয়দিন হয়ে গেছে রেবেকার (মা সি ক) চলছে। তা শেষ হওয়ার অপেক্ষা মিলনের থেকে আমেনা বেগমের বেশি দেখা যাচ্ছে।
******************
সময়ের সাথে মানুষের চরিত্র ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়। কখনো এই পরিবর্তন আসে নিজের স্বার্থের প্রয়োজনে, আবার কখনো জীবনের অভিজ্ঞতা ও বাস্তবতার চাপেই মানুষ বদলে যায়।আর বিশ্বাসের জায়গায় আসে হিসাব-নিকাশ। তবুও এই পরিবর্তন সবসময় নেতিবাচক নয়—কিছু পরিবর্তন মানুষকে আরও পরিণত, সহনশীল ও বাস্তববাদী করে তোলে। তাই চরিত্রের এই রূপান্তরই আসলে জীবনের স্বাভাবিক ধারার একটি অংশ।
আমেনা বেগম এখন আগের থেকেও বেশি রেবেকার যত্ন নেয়, সবাই বেশি বেশি আদর করে তাকে, বাদল মাস্টার এটা ওটা এনে দেয় এখন, দেবে না ছেলের যেই রুপ দেখেছেন তাতে ভালোই বুঝতে পেরেছে রেবেকার গুরুত্ব।
প্রতিদিনের মতো রাতের খাবার খেয়ে যে যার তার কক্ষে ঘুমাতে গেলো, মিলন রেবেকা কে ডাকলেই আমেনা বেগম বাঁধা দিলো। একটু পরে পাঠাবে বললো
মিলন রেবেকা কে দ্রুত আসতে বলে ঘরে চলে গেল। আমেনা বেগম এখন আদর করলেও রেবেকা তাকে ভয় পায়,তা বুঝতে পারে তিনি,এটা তো তার নিজের অর্জন
আমেনা বেগম রেবেকার হাত ধরে যত্ন সহকারে টেনে এনে তার পাশে বসায় বলে:
আমেনা::::: ডরাইয়ো না নাত বৌ আমি কিছু করতাম না,এনে আও বহো আমার কাছে
রেবেকা ভয়ে ভয়ে বসে
আমেনা::::: হনো নাত বৌ,শইলেরডা তো হইছে আইজ ছয়দিন শেষ,কাইলকার মধ্যেই তুমি ভালা হইবা,তহন তো সোয়ামির লগে থাহুন লাগবো, এমনেই তোমার বিয়ার তিন বছর হইছে , ঠিক সময়ে যদি এডি হইতো তয় এতো দিনে আবুদুবাইন থাকতো তোমার কুলে, কিন্তু হইলো না ,তাই এহন আমি চাই তোমার একখান আবুদুব হইয়া যাক বুঝছো।
রেবেকা::::: না বু
আমেনা::::: আরে একখান আবুদুব থাকলে সংসার মজবুত হয়,আর সোয়ামি আরো বেশি বেশি আদর করে,আপন হয়। তুমি চাও না মিলন তোমারে আরো বেশি ভালা পাক
রেবেকা::::: হ চাই তো
আমেনা বেগম হাসে রেবেকার কথা শুনে, দ্রুত বালিশের নিচে থেকে একটা সুখী বড়ির পাতা বের করে লাল রংয়ের ঔষধ থেকে দুইটা খুলে রেবেকার হাতে দিয়ে বলে:
আমেনা::::: তয় এই ধরো বড়ি দুইডা পানি দিয়া গিইলা হালাও , এমনেই তোমার শইলেরডা আইজ রাইতে ভালা হইবো,কাইল রাইতে স হ বা স হইবো তোমাগো,আইজ খাইলে জলদি পোয়াতি হইয়া যাইবা বুজছো সোয়ামি বেশি বেশি তোমার যত্ন নিবো
রেবেকা আমেনা বেগমের মিঠা কথায় আর মিলনের বেশি আদরের লোভে পরে বড়ি দুটো পানি দিয়ে গিলে নিলো। আমেনা বেগম তা দেখে খুব খুশি
আমেনা::::: হনো নাত বৌ যদি একখান পোলার মা হও তয় আমার সব গহনা তোমার।
আলা যাও তোমার সোয়ামি অপেক্ষা করতাছে যাও যাও।
রেবেকা ঘরে ঢুকতেই মিলন তাকে আষ্টেপিষ্টে জড়িয়ে ধরে ,এক হাতে দরজা লাগিয়ে বিসমিল্লাহ বলে, চুমু খেতে থাকে রেবেকার গোটা মুখে
রেবেকা:::::: আরে আরে কি করতাছুইন আমারে দম নিবার দেইন!
মিলন:::::: না দিতাম না, তুমি আমারে অনেক সময় ধইরা অপেক্ষা করাইছো,ঐ কুটনি বুড়ির লগে এতো কের কতা তোমার,যে আমার কতা ভুইলা গেছো জলদি আইবার কইছিলাম না?
রেবেকা একটু লাজুক হাসে, মিলন তা দেখে কৌতুহ নিয়ে তাকিয়ে থাকে, দুই ভ্রু একসাথে উচিয়ে ইশারা করে, কি বেপার যানতে, রেবেকা তার ইশারা বুঝতে পারে বলে:
রেবেকা::::: বু চায় আমারো কলি আফার মতো আবুদুব হক এইতাই (এগুলো) কইতাছিল (বলছিলো)
মিলন::::: সর্বনাশ কুটনি বুড়ির চাহিদা কতো, আমি এহনো কাঁঢল(কাঁঠাল) গাছ লাগাইলাম না, হেয় কাঁঢল ভাঙার লাইগা প্রস্তুত।
রেবেকা::::: কি কইন আন্নে আমি তো বুঝিনা,কের কাঁঢল গাছ লাগাইতাইন (লাগাবেন) কাঁঢল গাছ তো বহুত আছে বাড়িত!
মিলন:::::এই গাছ হেই গাছ নারে পাগলি,এইডা আমার ব্যক্তিগত বীজের গাছ যা তুমি ছাড়া রোপন হইব না বিবি বুঝছো
রেবেকা::::: না বুঝি নাই
মিলন::::: বুঝামু বুঝামু জলদি বুঝামু বিবি। এইতো আর দুই একটা দিন।
কথাটা বলেই মিলন বাঁকা হেসে, গায়ের শার্ট খুলে রেবেকা কে জড়িয়ে শুয়ে পরে বিছানায়, তার পর শুরু হয় তার বিবির সাথে নতুন নতুন পাগলামী, যা রেবেকা তার সাথে থাকার পর থেকেই সে করছে, যতোটা দিন যাচ্ছে সে আরো বেসামাল হচ্ছে। যতোটা সময় না ক্লান্ত হয়ে ঘুমায় ততো সময় ধরে চলে তার বিবির উপর আদরের জোয়ার। পুরো দিন দোকানে থাকে আর অপেক্ষা করে রাতে বিবিকে কাছে পাওয়ার,এখন তো রেবেকাও অপেক্ষা করে মিলনের বাড়ি ফেরার।
রেবেকা::::: উহ্ আস্তে ধরুইন না দুক্কু লাগে তো।
মিলন:::: উহু বিবি সহ্য করো,এর চেয়েও বড় দুক্কু পাইবা সামনে।
******************
ভোরের ঠিক আগে, আকাশটা যেন নরম নীলের সাথে হালকা সোনালি রঙে ধীরে ধীরে জেগে উঠছিল। গ্রামের পথটা তখনো কুয়াশার চাদরে ঢাকা, গাছের পাতায় জমে থাকা শিশির বিন্দুগুলো প্রথম আলো পেয়ে মৃদু ঝিকিমিকি করছিল।
আজান ভেসে আসছে দূরের মসজিদ থেকে—শান্ত, গভীর, হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া সেই ধ্বনি যেন পুরো প্রকৃতিকে একসাথে জাগিয়ে তুলল। পাখিরা ডানা ঝাপটিয়ে গাছের ডাল থেকে উড়ে উঠল, বাতাসে ছড়িয়ে পড়ল নতুন দিনের সতেজতা।
আমেনা বেগম ফজরের নামাজ পড়বে,সে ঘর থেকে বের হলো, পিতলের বদনা হাতে হাটা ধরল পুকুর পাড়ের দিকে। খালেদা খাতুন গেলো পায়খানায়, মাস্টার টুপি হাতে মসজিদে গেলো,কলি ঘুমাচ্ছে। মিলন তো রেবেকার সঙ্গ পাওয়ার পর থেকে ঠিক সময় ঘুম থেকে উঠতে পারে না আর রেবেকাও আগের তুলনায় দেরি হয়, অবশ্যই এটা নিয়ে আমেনা আর খালেদার কোনো সমস্যা নাই।
খালেদা খাতুন পায়খানার সামনে দাঁড়িয়ে আছে, পায়খানার দরজা ভেতর থেকে আটকানো,তাই সে বদনা হাতে অপেক্ষা করছে, তার প্রস্রাব খুব জোরে চেপেছে , কিন্তু ভেতর থেকে কেউ বের হচ্ছে না।
হঠাৎই খালেদা খাতুনের মনে হলো, তার শাশুড়ি পুকুরে, স্বামী মসজিদে, মেয়ে ঘুমাচ্ছে/মিলন কখনোই এইসময় বাহিরে যায় না আর রেবেকা ভয় পায়,তাহলে ভেতরে কে?
জীন পরী নাতো?
খালেদা খাতুন ভয়ে বদনা ফেলেই দৌড় লাগালো, ঠিক তখনি পেছন থেকে পায়খানার দরজা খোলার শব্দ হয় সাথে ভেতরে থাকা ব্যক্তিটার কণ্ঠ ভেসে আসে
রেবেকা::::: আম্মা
খালেদা খাতুনের পা জোড়া থেমে যায় পেছনে তাকিয়ে দেখে, রেবেকা দুহাত দিয়ে পেট চেপে ধরে পিঠ ঝুঁকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, ঠিকঠাক দাঁড়াতে পারছে না।
খালেদা খাতুন দ্রুত এগিয়ে গিয়ে ধরে রেবেকা কে ততক্ষণে রেবেকা মাটিতে বসে পরেছে। ঘেমে নেয়ে একাকার রেবেকা চোখ মেলে তাকাতেও পারছে না।
হঠাৎ করে প্রচুর পরিমাণে তল পেট ব্যথা করায় রেবেকা ভেবেছিল হয়তো পাতলা পায়খানার চাপ এসেছে, মিলনকে দুবার ডেকেছে, কিন্তু দেরিতে ঘুমানোর কারণে চোখ মেলে তাকাইনি পর্যন্ত, বাধ্য হয়ে রেবেকা একাই ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছে। তবে এত সময় ধরে বসে থাকার পরেও, তার ভাবনা অনুযায়ী কিছুই হয়নি, হয়েছে উল্টো টা।
অনবরত র ক্ত পা ত হচ্ছে তার সঙ্গে ব্যথাটাও দ্বিগুণ বেড়েছে।খালেদা খাতুন চিৎকার করে মিলন কে ডাকলো, কিন্তু মিলন শুনছে না,আমেনা বেগম পুকুরে বদনা ফেলেই এগিয়ে গেলো তাদের দিকে, ততক্ষণে রেবেকার কাপড় ন ষ্ট।
আমেনা:::::: ও মায়া মায়া গো নাত বৌ তুই ফজরের সময় একলা একলা পায়খানাত আইছোস কেন, শয়তানে ধরার ডর ভয় নাই?
খালেদা::::: মায়া এইতা কতা পরে হইবো আগে অন্নের নাতিরে ডাহুন।বৌ খারোইবার (দাঁড়াতে) পারতাছে না।
আমেনা::::: কি সর্বনাশ কি সর্বনাশ, ও মিলন -মিলন রে, এহনো হুইতা আছোস দেখ তোর বৌয়ে সর্বনাশ কইরা হালছে
আমেনা বেগম চিৎকার করে মিলনের ঘরের দিকে দৌড়ায়, তার চেঁচামেচি শুনে মিলির লাফিয়ে উঠে বিছানা থেকে,কি হচ্ছে বুঝতে সময় পায় না, ওভাবেই লুঙ্গি গিট দিতে দিতে দরোজার দিকে ছুটে, ততক্ষণে আমেনা বেগম এর কথা তার কানে স্পষ্ট। মিলন দৌড় লাগায় বাড়ির পশ্চিম দিকের কোনায়, দেখতে পায় রেবেকা কে।
রেবেকা কাপড় ন ষ্ট হয়ে গেছে, মিলনের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো।এই কি অবস্থা হয়েছে তার বিবির,রাতে তো ঠিক ছিলো সব। মায়ের সামনে মিলন লজ্জা পাচ্ছে,কি বলবে কি করবে বুঝতে পারছেনা। ভোঁতা মুখে অস্পষ্ট সুরে শুধু বললো
মিলন:::: আম্মা আমি বালতি দিয়া পানি আইনা দিতাছি
মিলনের হাত কাঁপছে পা দুটো এগোতে চাচ্ছে না,কি হচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছে না, কাঁপা হাতেই বালতি ভরে পানি এনে দিয়ে, বাড়ির দক্ষিণ দিকের কোনায় গিয়ে বিড়ি ধরালো, হঠাৎ করে এমন কেনো হচ্ছে তা বুঝতে পারছে না , এতো দিন তো এসবের কিছুই হয়নি,সে যথেষ্ট যত্ন নেয় তার বিবির তাহলে এতো র ক্ত পা ত কেন ।
ওখানে দাঁড়িয়েই মিলন শুনছে তার বিবির আহাজারি, বিলাপ:
আমেনা:::::কি সর্বনাশ হইলো যে, শ য় তা নে র বাতাস লাগছে রে, বিয়ান্নারাইতে (ভোর সকালে) আজানের ওয়াক্ত একলা একলা ঘরতনে কেন বাইর হইলো রে, উত্তর পাড়ার কাশেমের ছোডো মাইয়াডার লগে এমন হইছিলো রে, শইলের বেক র ক্ত বাইর হইয়া শেষে মরছে যে, আমার বাড়িত কি অলক্ষী লাগলো রে___
মিলন বুক ধরফরিয়ে ওঠে এগুলো শুনে,কি বলছে তার দাদি,তার জীবন্ত বিবিকে মৃ ত বানিয়ে দিচ্ছে, আগের বারো মৃ ত্যু কামনা করেছে,যা ইচ্ছা তাই বলছে,আর অলক্ষী কাকে বোঝাচ্ছে সে।
ঘুম থেকে উঠেই এমন একটা পরিস্থিতির সম্মুখীন হলো, অতিরিক্ত টেনশনে থাকা মিলনের পাগল পাগল লাগছে মাথা কাজ করছে না, তার উপর দাদীর এসব কথা, সহ্য করতে পারেনা মিলন, প্রচুর রাগ উঠে গেলো,রেগে গিয়ে পায়ের কাছে পড়ে থাকা মোটা মান্দার গাছের ডাল হাতে ছুটে বাড়ির ভেতরে,মান্দরের কাটা যে একটা তার হাতের তালুতে বেঁধেছে, সেদিকে তার লক্ষ্য নেই, আমেনা বেগম তখনো আহাজারি করছেন, আশেপাশে দু একটা বাড়ির মানুষের ঘুম ভেঙেছে তারাও উঁকিঝুঁকি মেরে বোঝার চেষ্টা করছে এই বাড়িতে কি হয়েছে। মিলন চাচ্ছে না এইসব ঘটনা বাড়ির বাহিরে যাক, কিন্তু তার দাদী কীর্তিকলাপে সবাই জেনে যাবে, এটা ভেবে মিলন আরো রেগে যায় রেগে গিয়ে, হাতে থাকা মান্দারের ডাল দাদির দিকে ছুড়ে ,যা পায়ের কাছে গিয়ে পরে
আমেনা::::: ও আল্লাহ গো ,ও মায়া মায়া গো
মিলন::::: চু ত মা রা নি বুড়ি চুপ একদম চুপ, কোনো শব্দ করবি না তুই,একটু যদি এদিক সেদিক করছোস তোর ঐ ঝনঝনা বাত্তি ঘাড়ে একটা কোপ মারমু চুপ থাক।
আমেনা বেগম ভয়ে চুপ হয়ে যায়,বুক ধরফর করছে মিলনের লাল চোখ দেখে,সে আর দাঁড়ালো না জলদি নিজের ঘরে ছুটলো।
কিন্তু তার আহাজারিতে পাশের বাড়ির মহিলা দুই এক জন বাড়ির দিকে আসছে, মিলন তা দেখে দ্রুত রেবেকার কাছে যায়, খালেদা ততক্ষণে তাকে গোসল করিয়ে কাপড় পরিয়ে দিয়েছে, মিলন কোনো দিকে তাকালো না, মায়ের দিকেও সোজা রেবেকা কে কোলে নিয়ে বড় বড় পা ফেলে, অন্য কেউ দেখার আগেই নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে রেবেকা কে কোলে নিয়েই, দরজায় পিঠ লাগিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে। রেবেকা গুনগুন করে কান্না করেই যাচ্ছে, মিলনের সহ্য হচ্ছে না তার কান্না, কিছুটা ধমকের সুরে বলে:
মিলন:::: চুপ চুপ করো কান্দ কেন
রেবেকা কান্নারত কন্ঠে বলে
রেবেকা:::: পেডে খুব দুক্কু করতাছে,মাথাডাও ঘুরাইতাছে,চোহে কিছু দেহি না,গলাত তিতা লাগতাছে,হুনুইন না আমি ম ই রা যাইতাছি মনে হয়
মিলনের পা কাঁপছে, রেবেকা কে ধরে রাখা হাত কাঁপছে, মিলন ওভাবেই রেবেকা কে নিয়ে বসে পরে মাটিতে, শক্ত করে তাকে বুকে চেপে ধরে বলে
মিলন:::: এইতা কি কও বিবি, তুমি আমারে ডর দেহাইয়ো না, আমার দম বন্ধ লাগতাছে বিবি, তুমি ছাড়া আমি কি করমু, আমি তো বাঁচতাম না।
রেবেকা কোনো কথা বলেনা।