ফন্ট সাইজ:
থিম:
অপরিপক্ক

অপরিপক্ক পর্ব ৩২

লেখক: যাজিবা জাবিন

"মুক্তাগাছা"

দুপুর পেরিয়ে বিকেল হয়ে গেছে। আমেনা বেগম পোঁটলা-পাটলি গুছিয়ে বাড়ি ফেরার জন্য প্রস্তুত হয়ে বসে আছেন। কিন্তু দুপুরের খাওয়ার পর থেকেই মাসুদের কোনো খোঁজ নেই। রাগ আর দুশ্চিন্তায় ভারী হয়ে থাকা মুখে বারবার ঘরের দুয়ারের দিকে তাকাচ্ছেন তিনি।

এতসব নাটক করে শেষ পর্যন্ত লাভটা কী হলো? উল্টো নাটক করতে করতে সত্যি সত্যিই ছোট ভাইয়ের বউকে অনেক কথা শুনিয়ে ফেলেছেন তিনি। তবে তা নিয়ে আমেনা বেগমের তেমন একটা মাথাব্যথা নেই। বরং ঝগড়ার অভিনয় করতে গিয়ে মনের ভেতর জমে থাকা অনেক কথাই বলে ফেলেছেন খাদিজাকে-যে কথাগুলো অনেক দিন ধরেই তাকে বলার ইচ্ছে ছিল।

আজ কোনো একটা উসিলায় সেসব কথা বলাই হয়ে গেল। খাদিজাকে কথা শোনাতে পেরে মনটাও যেন কিছুটা হালকা হয়েছে তার।

এই প্রথম কাউকে কথা শোনাতে গিয়ে আমেনা বেগমের ভেতরে সামান্য সংকোচ কাজ করেছিল। নইলে সচরাচর তিনি তো কারও মুখের ওপর কথা শুনিয়ে দিতে দ্বিধা করেন না। শুধু ছোট ভাইয়ের বউ খাদিজাকেই এত দিন কিছু বলতে পারছিলেন না। আজ মাসুদকে উসিলা করে সেই অপূর্ণ ইচ্ছাটাও যেন পূরণ হয়ে গেল।

এদিকে খাদিজা বাড়ির আঙিনায় এপাশ-ওপাশ পায়চারি করছে। একটু পরপরই থেমে রাস্তার দিকে তাকাচ্ছে। অপেক্ষা করছে মিজান মোল্লার বাড়ি ফেরার।

স্বামী বাড়ি ফিরলেই সকালের ঝগড়ার পুরো ঘটনা খুলে বলবে সে। যদিও মাসুদকে শোনানোর জন্যই পরিকল্পনা করে দুজন নাটকীয়ভাবে ঝগড়া শুরু করেছিল-উদ্দেশ্য ছিল, ঝগড়াঝাঁটি দেখে অপমানিত হয়ে যেন মাসুদ দাদিকে নিয়ে বীরপুরে চলে যায়।

কিন্তু ঝগড়ার একপর্যায়ে ননদ আমেনা বেগম সত্যি সত্যিই তার সঙ্গে রেগে গিয়ে ঝগড়া করেছেন। এমন সব কথা শুনিয়েছেন, যা খাদিজার মনে গভীর আঘাত করেছে।

এখন মিজান মোল্লা বাড়ি ফিরলেই সবকিছু খুলে বলবে সে-কীভাবে, কোন কথায় তার বোন তাকে অপমান করেছে।

গত রাতে মাসুদকে নিয়ে মসজিদে রাত কাটানোর আগে মিজান মোল্লা তাদের বলে গিয়েছিল, দ্রুত কিছু একটা ভাবতে হবে, এমন কিছু করতে হবে যাতে আমেনা বেগমের মাসুদকে নিয়ে বীরপুরে চলে যাওয়াটা সহজ হয়।

সেই কারণেই দুজন অনেক চিন্তাভাবনা করে এই ঝগড়ার বুদ্ধি বের করেছিল।

কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, তাতে লাভের চেয়ে ক্ষতিই হয়েছে বেশি। ঝগড়া করতে গিয়ে খাদিজা আর আমেনা বেগম সত্যিই রেগে গেছে, আর তার ওপর মাসুদও কোথায় যেন হাওয়া হয়ে গেছে!

____________

রাজবাড়ির পেছনে বিশাল আমবাগান। বাগানের একেবারে পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা উঁচু একটি আমগাছের ডালে চুপচাপ বসে আছে মাসুদ।

কিছুক্ষণ আগেই চাঁদনীর ঘরের পেছনে দাঁড়িয়ে সে টের পেয়েছিল, ঘরের ভেতর চাঁদনী একা নয়। সেই মুহূর্ত থেকেই সন্দেহ আর রাগে তার ভেতরটা যেন জ্বলে উঠেছে।

প্রথমে তার উদ্দেশ্য ছিল, চাঁদনীর সঙ্গে দেখা করে ফিরে যাবে। দাদি নিশ্চয়ই তার জন্য অপেক্ষা করছে-এই কথাটাও একসময় মনে পড়েছিল। কিন্তু চাঁদনীর ঘরের ভেতরে অন্য কারও উপস্থিতির সন্দেহ হওয়ার পর সেই সব চিন্তাই মুহূর্তে তুচ্ছ হয়ে গেছে।

দাদির অপেক্ষা, বাড়ি ফেরার তাড়া-সবকিছু ভুলে এখন তার একমাত্র লক্ষ্য চাঁদনীর বাড়ির দিকে নজর রাখা।

তাই বাগানের পেছনের বড় আমগাছটিতে উঠে এমন একটি ডালে বসেছে সে, যেখান থেকে চাঁদনীর পুরো বাড়িটাই স্পষ্ট দেখা যায়।

অতিরিক্ত রাগে মাসুদের কপালের রগগুলো ফুলে উঠেছে। চোখেমুখে ফুটে উঠেছে তীব্র ক্রোধ। একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে চাঁদনীর ঘরের দিকে।

মনে মনে পণ করেছে-চাঁদনীর ঘর থেকে যদি কোনো পুরুষ মানুষ বের হয়, তাহলে আজ চাঁদনীর এই দুনিয়ায় শেষ দিন।

চাঁদনীকে নিজের বলে মনে করে মাসুদ। চাঁদনীর জীবনে অন্য কোনো পুরুষের উপস্থিতি সে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারবে না আর। চাঁদনীর ওপর অন্য কোনো পুরুষের হাত পড়েছে-এই ভাবনাটুকুও তার ভেতরে অসহ্য এক ক্রোধ জাগিয়ে তুলছে।

আমগাছের ডালে নিঃশব্দে বসে থেকে সে শুধু অপেক্ষা করছে।

কখন চাঁদনীর ঘরের দরজা খুলবে, কখন সেখান থেকে বেরিয়ে আসবে সেই অচেনা পুরুষ-সেই মুহূর্তটির অপেক্ষায় স্থির হয়ে আছে তার দৃষ্টি।

দাদির কথা, বাড়ি ফেরার কথা-এই মুহূর্তে তার আর কিছুই মনে নেই।

__________

মাগরিবের নামাজের সময় পেরিয়ে গেছে। দিনের শেষ আলোটুকুও নিভে চারপাশ ধীরে ধীরে অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে আসছে। এমন গা ছমছমে পরিবেশ হলে অন্য সময়ে হয়তো মাসুদের মনে ভয় কিংবা অস্বস্তি জাগত। কিন্তু আজ অতিরিক্ত রাগ আর দুশ্চিন্তায় সেসব অনুভূতি যেন তার মন থেকে একেবারেই মুছে গেছে। চোখের দৃষ্টি এখনও চাঁদনীর ঘরের দুয়ারে নিবদ্ধ।

দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর অবশেষে মাসুদের চোখের সামনে চাঁদনীর ঘরের দুয়ার খুলে গেল। ঘর থেকে বেরিয়ে এলো দুজন মহিলা।

মহিলা দুজনকে দেখে মাসুদ কিছুক্ষণ স্থির হয়ে তাকিয়ে রইল। মুহূর্তেই তার ভেতরের রাগ অনেকটা কমে গেল। কিন্তু পরক্ষণেই সেই জায়গা দখল করল নতুন এক দুশ্চিন্তা।

চাঁদনীর ঘর থেকে অন্য নারীরা বেরিয়ে আসছে কেন? চাঁদনী কোথায়? কিছু কি হয়েছে তার? অসুস্থ হয়ে পড়েছে নাকি?

এমন নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে লাগল তার মাথায়।

এরই মধ্যে মহিলা দুজন বাগানের পথ ধরে রাজবাড়ি দিকে চলে গেল। আর এক মুহূর্তও অপেক্ষা করল না মাসুদ। দ্রুত আমগাছ থেকে নেমে পা বাড়াল চাঁদনীর ঘরের দিকে।

চারপাশ তখন ঘন অন্ধকার। মাটির ঘরের কাঠের দরজাটা ভেজানো। মাসুদ একবার আশপাশে সতর্ক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ধীরে ধীরে দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে পড়ল।

হারিকেনের টিমটিমে আলোয় দেখতে পেল, বিছানায় শুয়ে আছে চাঁদনী।

মাসুদ ধীর পায়ে তার কাছে এগিয়ে গেল। বিছানার এক কোণে বসতেই অসুস্থ গলায় চাঁদনী বিড়বিড় করে বলল-

চাঁদনী: রুপমতীবু, আ আমি কিছু খাইবার পারতাম না। আমার গা গুলাইয়া বমি আয়ে।

চাঁদনীর কথা শুনেই মাসুদ বুঝতে পারল, রুপমতী নামে কেউ কিছুক্ষণ আগেও এ ঘরে ছিল।

সে হাত বাড়িয়ে চাঁদনীর হাত ধরতেই চমকে উঠল। শরীরটা যেন আগুনের মতো গরম।

চাঁদনীর প্রচণ্ড জ্বর এসেছে-বুঝতে তার আর বাকি রইল না।

মাসুদের ভেতরে তখন কী হলো, তা সে নিজেও বলতে পারবে না। শুধু বুকের ভেতর হঠাৎ এক অসহ্য যন্ত্রণা অনুভব করল। চাঁদনীর হাতটা শক্ত করে ধরে তাকে নিজের কাছে টেনে নিল সে।

হঠাৎ এমন আচরণে চাঁদনী ভড়কে গেল। কিন্তু পরক্ষণেই মাসুদের কণ্ঠের আকুলতা আর অনুশোচনা তাকে স্তব্ধ করে দিল। প্রিয় মানুষের সান্নিধ্য পেয়েই চোখের কোণ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে লাগল চাঁদনীর।

মাসুদ অস্থির কণ্ঠে ফিসফিস করে বলতে লাগল-

মাসুদ: চাঁদ, আমার চাঁদ, আমারে মাফ কইরা দে। আমি আর ওরুম (ওমন) কিছু করতাম না। খোদার কসম খাইয়া কইতাছি চাঁদ, তুই খালি আমার লগে লো।

চাঁদনী দম বন্ধ করে কাঁদতে লাগল। মাসুদের সঙ্গে চলে যাওয়ার ইচ্ছা তারও অনেক। কিন্তু কী করে যাবে? তার পায়ে যেন লোহার শিকল বাঁধা। না, শুধু পা নয়-পুরো অঙ্গটাই যেন অদৃশ্য বন্ধনে বাঁধা।

মাসুদ আবার বলল-

মাসুদ: হুন আমার কতা। আমি বাড়িত যাইয়া ভাইজান আর আব্বার কাছতে কিছু টেহা-পয়সা জোগাড় কইরা তিন-চাইর দিন বাদে আ‌ইবাম। তুই প্রস্তুত থাহীছ। আমরা এইনতে (এখান থেকে)সোজা বরিশাল যাইবাম। হেইনো ছুডো বিসকুট-লজেনের দুহান দিবাম। প্রথমে দুইজন বিয়া কইরা ছুডো সংসার পাতবাম।

মাসুদের কথায় চাঁদনীর চোখের জল আরও বেড়ে গেল। কিছুক্ষণ পর সে দুর্বল হাতে মাসুদের গলা জড়িয়ে ধরল। জ্বরের উত্তাপে কাঁপতে কাঁপতে তার চোখ দুটো বুজে এলো। মাসুদের গালে গাল চেপে ধরল, মাসুদও যেন কিছুক্ষণের জন্য সব দুশ্চিন্তা ভুলে গেল। চাঁদনীকে শক্ত করে ধরে ফিসফিস করে বলল-

মাসুদ: আমার লগে যাইতে না চাঁদ?

জ্বরের ঘোরে চাঁদনী আবেগমাখা কণ্ঠে বলল-

চাঁদনী: হ, যাইবাম।

মাসুদ: হাছা কতা তো চাঁদ?

চাঁদনী: একদম।

চাঁদনীর উত্তর শুনে মাসুদের মুখে আনন্দের ছাপ ফুটে উঠল। এতক্ষণ বুকের ভেতর জমে থাকা অস্থিরতা যেন মুহূর্তেই অনেকটা হালকা হয়ে গেল।

মাসুদ: আইজ আমি বিরাট খুশি চাঁদ। তুই আমার হইবি, এক্কেরে আমার। এই দুনিয়ায় একলা আমার। ঐ দিনের লাইগা আমারে মাফ কইরা দে। আমি আর জিন্দেগীতে ওরুম (ওমন) করবাম না।

বিছানায় বসে চাঁদনী উপর ঝুঁকে পরে, আদরে ভরিয়ে দিতে দিতে কথাগুলো বলছিল মাসুদ। তার কণ্ঠে ছিল অপরাধবোধ, আকুলতা আর বহুদিনের জমে থাকা ভালোবাসার উচ্ছ্বাস।

তবে তারা দুজনের কেউই খেয়াল করল না-ঘরের দরজাটা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

দরজার ফাঁক দিয়ে বেশ কিছুক্ষণ ধরে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে তাদের দেখছে রূপমতী আর শালিনী নামের এক নর্তকী।

মূলত রূপমতী গরম ভর্তা-ভাত নিয়ে চাঁদনীর জন্য এসেছিল। শালিনীকে সঙ্গে করে আনার কোনো ইচ্ছাই তার ছিল না। কারণ শালিনী চাঁদনীকে হিংসা করে সবকিছুর জন্য, চাঁদনী তার থেকেও বেশি সুন্দরী, নাচেও এগিয়ে অনেক। এখানকার সকল নর্তকি এবং দাসীরা জানে সেসব।

কিন্তু শালিনী নিজের ইচ্ছাতেই চাঁদনীকে দেখতে চলে এসেছে।

এখন ঘরের ভেতরের দৃশ্য দেখে রূপমতীর বুকটা কেঁপে উঠল।

শালিনীর এখানে আসাটাই যেন বড় বিপদ ডেকে আনল।

মাসুদের ব্যাপারে চাঁদনী গত রাতেই জ্বরের ঘোরে রূপমতীর কাছে সবকিছু খুলে বলেছিল। রূপমতী তখন মায়া-মমতা মেশানো আদুরে দৃষ্টিতে শুনেছিল চাঁদনীর আকুতি, তার ভালোবাসার কথা, মনের গভীরে লুকিয়ে থাকা অনুভূতিগুলো। শুনেছিল তার কান্না আর্তনাদও। চাঁদনীর সেই অসহায় কান্না রূপমতীর হৃদয়কে কোমল করে দিয়েছিল, ব্যথিত করেছিল তার অন্তর।

কিন্তু শালিনী? সে তো প্রথম থেকেই চাঁদনীর প্রতিপক্ষ।

রূপমতী একবার শালিনীর মুখের দিকে তাকাল। অন্ধকার ঘরের দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকা সেই মুখে কী ভাবনা খেলা করছে, তা বোঝার চেষ্টা করল সে। শালিনীর চোখেমুখে কীসের ছায়া-তা বুঝে উঠতে না পারলেও রূপমতীর বুকের ভেতর অজানা এক আশঙ্কা ধীরে ধীরে দানা বাঁধতে শুরু করল।

রূপমতী দ্রুত শালিনীর হাত ধরে হাঁটা ধরল। তার উপস্থিত বুদ্ধিতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটাকে আপাতত ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করল সে। রাগী গলায় বলতে শুরু করল-

রূপমতী: রাজবাড়ির নাচনেওয়ালি হইছে দেইহা কি মানুষ না? ছেমড়িডার জর তার মধ্যেই,রাজবাড়ির বেডা কাম করবার আইয়া পড়ছে!

শালিনী কপাল কুঁচকে সন্দিগ্ধ দৃষ্টিতে বলল-

শালিনী: রূপদিদি, বেডাতো মনে হয় রাজবাড়ির না। পোশাক তো অন্যরহম।

রূপমতী চমকে উঠল। তবে মুহূর্তেই নিজেকে সামলে নিয়ে দ্রুত বলল-

রূপমতী: হারিকেনের আলোয় কিতা দেকছো, তুমি কি জানি? তয় রাজবাড়ির বেডাইন ছাড়া কেডা আইবো? বাদ দাও এইতা এহন। জলসা শুরু হইবো, তোমার নাচুন লাগবো। লও, জলদি চলো। জলসা শেষ হইলে,বাদে (পরে) আবার চাঁদনীর লাইগা ভাত লইয়া আইবাম নে।

কথাগুলো একনাগাড়ে বলে রূপমতী আরও দ্রুত পা বাড়াল। অথচ তার নিজের পা দুটো তখনও ভয়ে কাঁপছিল। কিছুক্ষণ আগের সেই অনাকাঙ্ক্ষিত দৃশ্য যেন তার বুকের ভেতর অস্থিরতা ছড়িয়ে দিয়েছে।

শালিনীও আর কথা বাড়াল না। নাচের কথা মনে পড়তেই আপাতত সবকিছু মন থেকে সরিয়ে রাখল। যা ঘটেছে, তা পরে দেখা যাবে-ই ভেবেই সে নিজের ঘরের দিকে দ্রুত পা বাড়াল।

**************

"বীরপুর"

এশার নামাজ পড়ে হাসমত সওদাগর বাড়ি ফিরতেই খালেদা খাতুন বাবাকে জানাল আসমানীর জ্বর কিছুটা কমেছে। জোর করে তাকে ভাত খাইয়েছেন, তবে ওষুধ খেতে কিছুতেই রাজি হচ্ছে না।

কথাটা শুনে আজ আর অন্যান্য দিনের মতো রাগলেন না হাসমত সওদাগর। বরং নিজেই আসমানীর কাছে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালেন।

আসমানী তখন ঘরের এক পাশে বসে ছিল। তার পাশে ঘষেটি বেগম আর রেবেকা বসে নানা কথা বলছিল।

পাশের ঘরে কলি শুয়ে আছে। ইদানীং বেশিক্ষণ বসে থাকলেই তার মাথা ঘুরে যায়। তাই তাকে শুইয়ে রাখা হয়েছে।

খালেদা খাতুন তখন কলির হাত-পায়ের তালুতে মালিশ করার জন্য রসুন কুচি করে একটি বড় স্টিলের চামচে নিলেন। তাতে সরিষার তেল ঢেলে কেরোসিনের কুপির আগুনের ওপর ধরে তেলটা গরম করে নিচ্ছিলেন।

হাসমত সওদাগর এ ঘর-ও ঘর পায়চারি করতে করতে শান্ত চোখে সবকিছু দেখলেন। তারপর ধীরে ধীরে হেঁটে গিয়ে রেবেকার সামনে দাঁড়ালেন।

এরই মধ্যে এশার নামাজ পড়ে খবিরুন নেসাও এসে স্বামীর পাশে দাঁড়িয়েছে। ঘষেটি বেগম ছেলে-বউকে একবার আগাগোড়া দেখে নিলেন।

তবে ঘষেটি বেগম কিছু বলার আগেই হাসমত সওদাগর রেবেকার দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বললেন-

হাসমত: কী ও নাতবউ, তোমার বেডা (স্বামী) কুনো?

রেবেকা: হেয় হুইতা রইছে। কেন নানা?

হাসমত: হেয় হেইনো এলহা-এলহা

(একা একা) আর তুমি এইনো কী করো নাতবউ? না, তুমি আমার নাতিডারে যত্ন করো না ঠিকঠাক। এইবা (এভাবে) সংসার আগ্গাইবো কুনো দিন? তুমি বেডি থাকবা তুমার বেডার লগে জুকের মতো লাইগা,তা না এইনো আইয়া গপ্পো জুরছো ! না না এরুম (এমন) চলতে থাহলে মিলনরে আরাকখান হাঙ্গা করান লাগবো।

হাসমত সওদাগরের কথা শুনেই রেবেকা বিছানা ছেড়ে লাফিয়ে দাঁড়িয়ে গেল। অবিশ্বাসে ভরা চোখে একে একে সবার মুখের দিকে তাকাল সে।

তার মনে হলো, হয়তো নানা শ্বশুরের এমন কথায় ঘরে কেউ না কেউ আপত্তি করবে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে কেউই কোনো কথা বলল না।

তবে হাসমত সওদাগর তখন রেবেকার দিকে তাকিয়ে ছিলেন না। তাঁর দৃষ্টি স্থির ছিল আসমানীর ওপর। মূলত মিলনের দ্বিতীয় বিয়ের কথা শুনে আসমানীর প্রতিক্রিয়া দেখতেই রেবেকাকে উসিলা করে কথাটা বলা।

কিন্তু আসমানীর মধ্যে কোনো ভাবান্তর দেখা গেল না। সে আগের মতোই নিশ্চুপ হয়ে বসে রইল।

আসমানীর এমন নির্বিকার আচরণে মনে মনে কিছুটা সন্তুষ্ট হলেন হাসমত সওদাগর।

তবে রেবেকা আর নিজেকে সামলাতে পারল না। অস্থির হয়ে মুখ ফসকে বলে ফেলল-

রেবেকা: আমার সোয়ামির তাইন (স্বামীর কাছে) যে নডী হাঙ্গা (বিয়া) বইবার আইবো, হেই গুষকি মা গি র গাঢ়িডা ফাঁডাইয়া চুল ছিঁড়্যা হাগ রাইন্ধা খাওয়া‌ইবাম আন্নেরে! বুঝছুইন, বুইড়া নানা হোর। (নানা শশুর )

কথাটা বলেই রেবেকা দুই হাতে মুখ চেপে ধরে ছুটে বেরিয়ে গেল নিজের ঘরের দিকে।

তার কাণ্ড দেখে সবাই কিছুক্ষণ অবাক হয়ে সেদিকেই তাকিয়ে রইল। খবিরুন নেসা আঁচল দিয়ে মুখ ঢেকে শব্দহীনভাবে হাসতে লাগল। ঘষেটি বেগমও মুখটা অন্যদিকে ঘুরিয়ে বসলেন।

আর মিলন বৌ এর মুখে গালি শুনে হাসমত সওদাগর হো হো করে হেসে উঠলেন।

তবে পরক্ষণেই হাসি থামিয়ে ঘষেটি বেগমের দিকে তাকিয়ে বললেন-

হাসমত: আম্মা, আসমানীরে কইছুইন-কাইল বাদে পরশু ওর নিকা।

আসমানী কথাটা শুনে চমকে উঠল। কিন্তু মুখে কোনো কথা ফুটল না। সে শান্তভাবেই বসে রইল।

ঘষেটি বেগম তখন বললেন-

ঘষেটি: না, তুমিই কও।

হাসমত সওদাগর এবার সরাসরি আসমানীর দিকে তাকালেন।

হাসমত: আসমানী, তুমি ছুডো মানুষ। জীবন এহনো মেলা বাকি। এই ছুডো জীবনে ভুল যা যা করছো, তা তো কইরাই ফেলাইছো। তয় এহন আর কুনো ভুলভাল কিছু কইরো না। হেই রাইতে কই আছিলা, কেন আছিলা-তার জানার কাম নাই। হেইসব অতীত। সব ভুইলা যাওয়াই তোমার লাইগা ভালো।

একটু থেমে নরম স্বরে বললেন-

হাসমত: আমি তোমার লাইগা বিয়া ঠিক করছি। পরশু তোমারে বিয়া দিয়াই আমরা বাইত যাইবাম। কুনো অসুবিধা যেন না হুনি। ঔষধ খাইয়্যা ঘুমাও। বিয়ার কালে সুস্থ থাকন দরকার।দুয়া করি এইবার তুমি সুখী হ‌ইবা।

কথাগুলো বলেই হাসমত সওদাগর স্নেহভরে আসমানীর মাথায় হাত রাখলেন।

আর তখনই আসমানী ঢুকরে কেঁদে উঠল।

কতদিন পর হাসমত সওদাগরের হাতটা আবার আগের মতো স্নেহে তার মাথায় এসে ঠেকেছে! কতদিন পর সেই পরিচিত নরম কণ্ঠে তিনি তাকে ‘তুমি’ বলে ডেকেছেন!

এই সামান্য স্নেহ যেন মুহূর্তেই আসমানীর বুকের ভেতর জমে থাকা সমস্ত অভিমান আর ভয়কে গলিয়ে দিল। এতক্ষণ যে অসুস্থতা তাকে কাবু করে রেখেছিল, মনটা হঠাৎ হালকা হয়ে যেতেই যেন তার অনেকটাই কেটে গেল।

সে আর কোনো প্রশ্ন করল না। জ্যাঠার কথা মেনে নিয়ে ওষুধটুকু খেয়ে নিল।

খবিরুন নেসা এতে সবচেয়ে বেশি খুশি হলো। কিন্তু ঘষেটি বেগমের মনে তখন অন্যরকম একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে লাগল।

হাসমত কেন কিছুই জানতে চাইছে না?

বৃষ্টির সেই রাতে আসমানীর সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল-সেটা জানার কোনো আগ্রহই যেন তাঁর নেই।

এই নীরবতাই ঘষেটি বেগমের মনে নতুন এক সংশয়ের জন্ম দিল।

____________

রেবেকা ঘরে ঢুকে বিছানার কাছে গিয়ে দেখল, মিলন ঘুমিয়ে আছে। অথচ কিছুক্ষণ আগেও যখন সে ঘরে গিয়েছিল, তখন মিলন শুয়ে শুয়েই দোকানের হিসাবের খাতা দেখছিল। কয়েক দিন ধরে দোকানে যাওয়া হচ্ছে না দেখে কর্মচারী হিসাবের খাতাটা দিয়ে গেছে। যাওয়ার সময় বলে গেছে, শরীরটা যদি একটু সুস্থ থাকে, তাহলে কাল যেন কিছু সময়ের জন্য হলেও একবার দোকানে যায়। মালিক ছাড়া দোকান নাকি কেমন খালি খালি লাগে।

কিন্তু এখন সেই হিসাবের খাতা হাতে নিয়েই মিলনের চোখে তন্দ্রা নেমে এসেছে। গভীর ঘুম নয়-কান তখনও সজাগ, শুধু ক্লান্ত শরীরটাকে সামান্য বিশ্রাম দিচ্ছে।

রেবেকা কাছে গিয়ে কিছুক্ষণ কপাল কুঁচকে গভীর মনোযোগে ঘুমন্ত মিলনের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। নানার বলা কথাগুলোর রেশ এখনো তার মনে খচখচ করছে। সেই ভাবনাই তাকে মিলনের পাশে বসিয়ে দিল। মুখের ওপর সামান্য ঝুঁকে সে ডাকল-

রেবেকা: এই, এই যে... হুনতাছুইন?

রেবেকার ডাকে মিলন একই অবস্থায় থেকেই অস্পষ্ট স্বরে বলল-

মিলন: হুম।

রেবেকা: আন্নের নানায় এইতা কিতা কথা কয়?

মিলন: কিতা কয়?

রেবেকা বুঝতে পারল, মিলন চোখ বন্ধ করেই কথা বলছে। সে একটু অভিমানী গলায় বলল-

রেবেকা: কয়, আমি নাহি আন্নেরে যতন করি না। এর লাইগা আন্নেরে হাঙ্গা করাইবো আরেকখান।

তন্দ্রার ঘোরেই মিলন আবার ছোট্ট করে বলল-

মিলন: হুম।

কথাটা শুনে রেবেকা যেন চমকে উঠল।

তার বুকের ভেতরটা কেমন অস্থির হয়ে উঠল। এত দিন ধরে কতজন যে তাকে একই কথা বলেছে! নিজের দাদি, দাদি-শাশুড়ি, শাশুড়ি,সেদিন বড়মা-আর আজ নানা-শ্বশুর। এবার তো তার স্বামীও যেন সেই কথাতেই সায় দিল।

রেবেকার মনে হলো, না-এভাবে আর চলবে না। মিলনের বিবি সে-ই। তার যত্ন নেওয়ার দায়িত্বও তারই। স্বামীরে যতটা মায়া, যতটা যত্ন করা উচিত, এবার থেকে সে সবটাই করবে। অন্য কারও কথায় নয়, নিজের মন থেকেই করবে। তবে সে তো যত্ন করে মিলনের, মিলন যা যা বলে করে,তাইলে কি বাকি করার?

ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ তার দাদির বলা পুরোনো কথাটা মনে পড়ে গেল-পুরুষ মানুষকে একটু আহ্লাদ দিলে নাকি সহজেই আপন করে রাখা যায়, মনে পরে গেলো আমেনা বেগমের স হ বা স সম্পর্কে বলা সব, কিন্তু রেবেকা সেসব কি করে করবে?সে ভাবতে বসলো ,ভাবতে ভাবতেই কলি আর রুহুলের চাঁদ রাতের কথা মনে পরে রেবেকার।

সেবার যখন কলি রোজার ঈদের আগের সন্ধ্যায় কান্নাকাটি করে শ্বশুরের সাথে বাড়িতে চলে আসে, তখন তো মিলনের হাতে থাপ্পড় খেয়ে, সেই রাতেই শশুর বাড়ী ফিরেছিলো, তখন রুহুল প্রচুর ক্ষেপেছিল কথাই বলেছিলো না, তখন রাতে কলি কি কি করেছে সোয়ামির রাগ ভাঙাতে তা পরে বাড়িতে এসে রেবেকার সাথে আড্ডায় বলেছিল,আর কতো কথা বলেছে তাকে, প্রতিবারই রেবেকা আগ্রহ নিয়ে এটা ওটা জানতে চেয়েছে, অবশ্য কলি রেবেকার জ্বর আসার ভয়ে বলতে চাইতো না, কিছু বলেই দিতো।

সেই সবের কিছু দিন পর কলি গর্ভবতী হয়েছে।

ভাবনাটা মাথায় আসতেই লজ্জায় আরোষ্ঠ হলো,তবে পর মুহূর্তে রেবেকার মুখে দুষ্টু মায়াভরা হাসি ফুটে উঠল। সে মিলনের আরও কাছে সরে গেল। নিজের অভিমান, অস্থিরতা আর ভালোবাসার মিশ্র অনুভূতিতে মুহূর্তটাকে যেন নিজের মতো করে সামলে নিতে চাইলো স্বামীকে।

রেবেকা: এই হুনতাছুইন ?

মিলন: হুম বিবিই

রেবেকা: আমি সব বিবিগোর হেইবা (মতো) যতন করলে আন্নের বিবি খালি আমিই থাকবাম তো, অন্য কাউরে হাঙ্গা করবাইন না তো?

মিলন: হুম সোনা

রেবেকা: তাইলে চুমা খায় আন্নেরে ?

মিলন: হুম

তন্দ্রা জড়ানো কন্ঠে বললো মিলন,তা শুনে

রেবেকা আহ্লাদী হয়ে মিলনের বক্ষের উপর শুয়ে পড়ল, মিলনের মতই অস্পষ্ট সুরে "বিসমিল্লাহ" বলেই একের পর এক চুম্বন আঁকতে লাগলো মিলনের মুখমণ্ডল জুড়ে। হুট করে এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটতেই মিলনের তন্দ্রা ভাবটা কেটে গেল, রেবেকার নরম স্পর্শ অনুভব হতেই মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে মিলনের পুরুষসত্তা, রেবেকার কমল ঠোঁট তখন তার গালের খোঁচাখোঁচা দাড়িকে অতিক্রম করে চামড়ার গিয়ে ঠেকছে। মিলন চোখ বন্ধ করে নিলো পূনোরায় নিজে থেকে কিছু করলো না আগবাড়িয়ে, রেবেকা কি করে? কতোটা করে তা দেখার আশায়। তাছাড়া গতবার তার উত্তেজনার পাল্লায় পড়ে ভয়ে বিছানা নষ্ট করে ছিল মেয়েটা,ঐ ঘটনা পুনরাবৃত্তি না ঘটুক এবার,সেই চিন্তা থেকেই মিলন রেবেকার ইচ্ছার উপর ছেড়ে দিলো সব।

তবে রেবেকা একটা মেয়ে মানুষ কি বা করবে কতোটা করবে? অধরের আদর বন্ধ করে সে তাকায় মিলনের মুখে, চোখ বন্ধ মিলনের হতাশা রেবেকা কলির স্বামীর মতো তার স্বামী না,কলির মতো কিছুই হলোনা তার সাথে।তবে তার খুব অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে গোটা অঙ্গে,পেট খারাপ হলে যেমন পেটে ব্যথা করে তেমন অনুভব হচ্ছে, তবে পায়খানার কোনো চাপ নেই! আশ্চর্য হয়ে রেবেকা শরীর ছেড়ে দিয়ে মিলনের উপর,মুখ গুঁজে দিয়ে মিলনের গলায়।

শক্ত হয়ে পরে থাকা মিলন নিজেকে, নিজেই মনে মনে গালি দিলো, অতীতে কি না কি হয়েছে সেই ভয়ে সে বিবিকে নিজের মতো ছেড়ে দিলো কাছে না টেনে,অথচ গোটা দিন বিবিকে গভীর ভাবে পাওয়ার চিন্তায় মশগুল থাকে! সে কিসের অপেক্ষায় আছে? রেবেকা তাকে বলবে আসো আমার কাছে, আমি আর ভয়ে বিছানা ভেজাবো না ! সেই সব কি সম্ভব এখন তার বিবির দ্বারা।

রেবেকা মিলনের গলা -বুকের মধ্যখানে মাথা গুঁজে শুনতে পেলো মিলনের বুকে ঢোল পিটানোর শব্দ, কপাল কুঁচকে আসে রেবেকার,সে আরো একটু মাথা নামিয়ে কান পাতে সেখানে, শব্দ এবার আরো দ্রুত হচ্ছে,যেনো তার কানের লতিতেই হচ্ছে। মিলন চোখ বন্ধ করেই কখন থেকে "বিসমিল্লাহ" পরেই যাচ্ছে ঠোঁটে কামড়ে। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ রাখা খুবই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। রেবেকা

ওভাবে থেকেই আদুরি গলায় বলল-

রেবেকা: হুনতাছুইন ? আন্নের বুহে এরুম আওয়াজ হ‌ইতাছে কে?

মিলন শুকনো ঢোক গিলে বলে-

মিলন: এইতা এইবাই হয় সোনা, তোমার হয় না?

এবার রেবেকা শান্ত হয়ে নিজের হৃদস্পন্দন অনুভব করে দেখে, তারটার ও এক‌ই অবস্থা।সে অবাক হয়ে বলে।

রেবেকা: হ আমারডা তো আওয়াজ করতাছে।

মিলন: তাই ! তাই সোনা, এরুম (এমন )কি আ‌ইজ প্রথম হ‌ইতাছে?

রেবেকার সহজ স্বীকারোক্তি -

রেবেকা:না আন্নের ছোঁয়া পাইলেই হয়, কিন্তু আইজ আমার তো আরো অনেক অসুবিধা হ‌ইতাছে।

মিলন: তা কি আবার?

রেবেকা:পেডে। পেড খারাপ হ‌ইলে যেরুম বেদনা (যেমন ব্যাথা) করে ওরুম বেদনা (তেমন ব্যথা) করতাছে কেন?

মিলন এবার আর নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারলো না,সে চোখ খুলেই রেবেকার ওষ্ঠদ্বয় শক্ত করে আঁকড়ে ধরে নিজের অধর দ্বারা। চুম্বনের সাথে কামড় বাসায় ছোট ছোট। ওভাবেই রেবেকা কে উল্টো করে ঘুরিয়ে দিয়ে রেবেকার উপর নিজের জায়গা তৈরি করে নেয় মিলন। রেবেকাও সমানতালে আস্কারা দিল মিলনকে আজ, দুহাতে গলা জড়িয়ে নিজের দিকে টানতে লাগলো। এবার তার মনে হচ্ছে কলির সোয়ামির মতোই তার সোয়ামিও , কলির সাথে যা হয়েছে তার সাথেও হবে, ভাবনাটা মাথায় আসতে পেটের মধ্যে আরো অদ্ভুত রকমের ব্যথা শুরু হয় রেবেকার,সে আরো শক্ত করে খামচে ধরে মিলনকে।তাতেই মিলন উন্মাদ হলো, রেবেকার শাড়ি এলোমেলো করে দিতেই ছিঁড়ে আসে ব্লাউজের বোতাম, মিলনের স্পর্শ ক্রমশাই বেসামাল হচ্ছে।

রেবেকা: আহ্ ইট্টু ধীরে ধরুইন না, দুক্কু লাগে তো।

ঘোরলাগা ভরাট গলায় মিলন বলে-

মিলন: বিবি আইজ যদি আমি হেইতা (ওগুলো) করবার চাই তোমার লগে তয় কি তোমার অনুমতি আছে সোনা।

সব সময়ের মতো রেবেকার সহজ স্বীকারোক্তি-

রেবেকা: আ‌ইছা করুইন।

মিলনের অঙ্গে কারেন্ট দৌড়ালো তা শুনে, আরেকটু গভীরভাবে চেপে ধরে সে রেবেকা কে বলে-

মিলন: সত্যি সোনা! কান্তানা তো?

রেবেকা: দুক্কু পাইলে কান্দাম।

মিলন হারিকেনের আলো একে বারে কমিয়ে,রেবেকার ব্লাউজ খুলে দিলো,আদরে ভরিয়ে দিতে দিতে বললো-

মিলন: তা দুক্কু পাইলেও আইজ ছাড়তাম না সোনাবিবি। কাইন্দা সাগর বানাইলেও ছাড়তাছিনা, বিছনা ভিজাইলেও ছাড়তাম না।

রেবেকার হাঁসফাঁস অবস্থা, মিলন গভীর থেকে গভীরে যাচ্ছে। তার লুঙ্গি-শার্ট বিছানায় কোনায় ঝুলছে, রেবেকারো এক‌ই অবস্থা, এখন পর্যন্ত যা যা হয়েছে তা রেবেকার খারাপ লাগেনি বরং ভালই লাগছে।

তবে চূড়ান্ত পর্যায় ভালোলাগা- খারাপলাগায় পৌছাবার আগেই দরজা টোকা পড়ে। সাথে হাসমত সওদাগরের রাশভারী গলার ডাক।

হাসমত: ঐ মিলন ঘরতে বাইরা তো, এই এহন কিতা ঘুম ঘুমাছ শালা বাইরে আয় জলদি দরহারি কতা আছে।ঐ মিলন মিলন, ঐ নাতবৌ,,,, মিলনবৌ দুয়ার খুলে দেহি।

রেবেকা ছটফট করে মিলনের নিচে, আতঙ্কিত কন্ঠে বলে।

রেবেকা: আহ্ উফ্ ছাড়ুইন নানায় ডাহে তো আন্নেরে-আমারে।

মিলন বিরক্তি নিয়ে জোরে চুমুতে আঁকড়ে ধরে রেবেকা উদাম বক্ষের মধ্যে খান।

রেবেকা ব্যাথা পেয়েও নানা শশুরের ভয়ে-লজ্জায় শব্দ করেনা, মিলন খুব কষ্টে উঠে বসে ভাবে,কিছু সময় আগে এশারের আজান দিয়েছে এখনো রাতের খাবার খায়নি কেউ, বাড়ির মানুষজন সব জেগে আছে,এই সময় তারা এসব করছে,তা কেউ কিভাবে বুঝবে,যদি বুঝতে পেতো ,তাহলে কখনোই ডাকতো না। সে ক্ষেত্রে নানার তো কোনো দোষ নেই। সময়টা সঠিক না।মিলনের নিজের উপর বিরক্ত লাগে, অতি আকাঙ্ক্ষিত মুহূর্তটা এখনই হওয়ার ছিল। সে রেবেকা কে আদুরি সুরে বলে-

মিলন: এহন থামন লাগবো সোনা, যা বাকি আছে রাইতে হ‌ইবো।

রেবেকা: হুম

মিলন: দিতানা? না তহন ভুইলা যাইবা সব।

রেবেকা: না না দিয়াম তো ।

মিলন টুপ করে রেবেকার ঠোঁটে চুমু খেয়ে উঠে দাঁড়িয়ে বিছানার কোনা থেকে লুঙ্গি-শার্ট নিয়ে পড়তে পড়তে চেঁচিয়ে বলে।

মিলন: আরে বুইড়া আইতাছি তো, ডাহার আর সময় পাইছো না তুমি,ডাহি ডাহি যৌবন আমার তামা তামা বানাই দিছু মাঙ্গের শালা।

কথাটি বলতে বলতে দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে মিলন। পেছনে তাকিয়ে দেখে রেবেকার কাপড় পরা শেষ হয়েছে কিনা, যতক্ষণ পর্যন্ত রেবেকা পরিপূর্ণভাবে কাপড় পড়ে ঠিকঠাক না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত দরজা খোলে না মিলন।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে অপরিপক্ক পর্ব ৩২ শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন